পর্ব :65
ঠিক তখনই—
সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে নিচে নামে কিরিস।
পরিপাটি, গোছানো… চোখে সেই চিরচেনা দৃঢ়তা ফিরে এসেছে। হলরুমে ঢুকতেই স্বাভাবিকভাবেই চারপাশের পরিবেশ একটু স্থির হয়ে যায়।
সে সরাসরি গিয়ে বসে বড়দের পাশে—বাবাদের সঙ্গে।
আনোয়ার তাকিয়ে হালকা হেসে বললেন — “কি বাবা, সব ঠিকঠাক চলছে তো?”
কিরিস মাথা নাড়িয়ে শান্ত গলায় বলল —“জি, বাবা। কোনো সমস্যা নেই। তোমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে?”
আনারুল বললেন — “না না, সব খুব ভালো। তোমার ব্যবস্থাপনা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
কিরিস একটুও বাড়াবাড়ি না করে, খুব সংক্ষিপ্তভাবে বলে — “এটা আমার দায়িত্ব।”
কিরিস তার ফুফুর স্বামীদের দিকে তাকিয়ে বলে —
“ ভালো হয়েছে আপনারা এসেছেন জামাইবাবু ”
ওরাও মাথা নেয়ে সম্মতি জানায় তারপর কিরিস একটু সোজা হয়ে বসে, গলার স্বরটা আরও দৃঢ় করে বলল—
“শুনো সবাই, বিয়ের বাকি কাজগুলো আমি একটু ক্লিয়ার করে দিচ্ছি।”
চারপাশে নীরবতা নেমে আসে।
“গাড়িগুলো যেগুলো বুক করা হয়েছে—সব কনফার্মড। ড্রাইভারদের সঙ্গে কথা বলা আছে। কেউ যেন আলাদা করে কিছু নিয়ে চিন্তা না করে।”
একটু থেমে—
“ক্যাটারিং, ডেকোরেশন, লাইটিং—সব ফাইনাল। ওরা ঠিক সময়েই এসে সেটআপ করে যাবে। আমাদের শুধু উপস্থিত থাকতে হবে।”
তার গলায় এমন এক আত্মবিশ্বাস, যেন কোনো কিছুই ভুল হওয়ার সুযোগ নেই।
— “আমরা এখানে শুধু অনুষ্ঠানটা উপভোগ করবো… বিয়ে পড়িয়ে … আর বউকে নিয়ে বাড়ি ফিরবো। বাকি সব আমি দেখছি।”
কথাগুলো এতটাই স্পষ্ট, গোছানো—সবাই নিশ্চিন্ত হয়ে যায়। এরপর সে কাজিনদের দিকে তাকায় বিশেষ করে মেয়েদের দিকে।
— “তোমরা কাল সকালে মার্কেটে যাবে। যার যা কেনার আছে—সব লিস্ট করে নিয়ে নিও। একবারে শেষ করে ফেলবে।”
হিয়া মাথা নাড়িয়ে বলে — “ওকে।”
কিরিস আবার বলে—
— “আর একটা জিনিস—কে কোন অনুষ্ঠানে কোন রঙের শাড়ি পরবে, সেটা আজ রাতেই ডিসাইড করে আমাকে জানাবে।”
সবাই একটু অবাক হয়ে তাকায়। সে ব্যাখ্যা করে—
“আমি মার্ককে বলে রাখবো। ও দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে সবগুলো শাড়ি কাস্টমাইজ করে একসাথে রেডি করে রাখবে।”
নুসরাত মুগ্ধ হয়ে বলে — “ওয়াও… এই নাহলে বড় ভাসুর!”
কিরিস থামে না আবার ও বলতে থাকে—
“কোনো কালার নিয়ে ঝামেলা চাই না। পরে যেন না হয়—একজনের শাড়ি অন্যজনের সাথে ম্যাচ করছে না, বা শেড আলাদা হয়ে গেছে।”
জারা হেসে বলে — “এইটা কিন্তু সত্যি!”
কিরিস হালকা মাথা নাড়ে। এরপর কাবিরের দিকে তাকায় চোখে হালকা নরম ভাব।
— “বউয়ের বেনারসি—লালই থাকবে।”
কাবিরের চোখ চকচক করে ওঠে। কিরিস বলে — “এইটা ওর ইচ্ছা। আর আমি চাই, ওর বউকে ঠিক যেমনটা সে ভেবেছে… তেমনভাবেই নিয়ে আসুক।”
এক মুহূর্তের জন্য পরিবেশটা নরম হয়ে যায়। তারপর আবার স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে—
— “গয়না নিয়ে কারো চিন্তা নেই। যা আছে, যথেষ্ট। তবুও কাল মার্কেটে গিয়ে যার যা প্রয়োজন—সেটা নিয়ে নেবে।”
সবাই মন দিয়ে শুনছে। শেষে সে পুরো প্ল্যানটা সাজিয়ে দেয়—
“কাল সকালে—মার্কেটিং। বিকেলে—রেস্ট আর সাজগোজ। সন্ধ্যায়—একটা সুন্দর ফ্যামিলি ফাংশন।”
তার গলায় একটুও দ্বিধা নেই সব কিছু নির্দিষ্ট, পরিষ্কার।
হলরুমে এক ধরনের স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ে। তারপর সবাই একসাথে হাতে তালি দিয়ে মুগ্ধতা প্রমাণ করে।
রিহান ধীরে বলে — “ভাই থাকলে টেনশন বলে কিছু থাকে না…”
ইশান মুচকি হেসে যোগ করে — “আমাদের CEO নিজে যখন আছে!”
সবাই হেসে ওঠে। লিসি চুপচাপ তাকিয়ে থাকে কিরিসের দিকে তার চোখে স্পষ্ট গর্ব… আর এক অদ্ভুত নিশ্চিন্ততা।
এই মানুষটা থাকলে সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে। আর বিয়েবাড়ির সেই উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত রাতটা আরও গভীর হয়ে ওঠে হাসি, পরিকল্পনা আর ভালোবাসার উষ্ণতায়।
ছাদের ঝাড়বাতির নরম সোনালি আলো পুরো ঘরটাকে এক অন্যরকম উষ্ণতায় ভরে তুলেছে। একপাশে বড়রা বসে চা, নাস্তা, হাসি-আড্ডায় মেতে উঠেছেন।
আর ঠিক মাঝখানে কার্পেটের উপর গোল হয়ে বসে আছে বাড়ির সব মেয়েরা লিসি, হিয়া, জারা, নুসরাত, সুরভী, আরোবি… সবার সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শাড়ির ছবি, রঙের নমুনা, মোবাইল। কিরিস ওদের অনুষ্ঠানের থিম ঠিক করতে বলার পর থেকে মেয়েরা সেই কাজে মেতে আছে। আরেক পাশে একটু দূরে— সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে কিরিস।
কোলের উপর ল্যাপটপ, চোখ স্ক্রিনে… কিন্তু মাঝেমধ্যে ওর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি অজান্তেই ঘুরে আসছে।লিসির দিকেই।
হিয়া হাত তালি দিয়ে
— “ শোন, আর দেরি না। আজকেই সব ফাইনাল করতে হবে। ”
জারা হাসতে হাসতে — “ হ্যাঁ, না হলে বিয়ের দিন সবাই যে যার মতো রঙ পরে হাজির হবে! ”
নুসরাত ভ্রু কুঁচকে — “ কেউ যদি আলাদা কিছু পরে… আমি কিন্তু ঢুকতেই দিবো না! ”
সুরভী — “ ঠিক কথা! দরজা থেকেই বিদায় ”
সবাই হেসে উঠলো। লিসি চুপচাপ বসে ছিল। তার সামনে রাখা শাড়ির একটা ছবি ধীরে হাতে তুলে নিলো।
লিসি নরম গলায় বলে
— “ মেহেদীর দিন… এই কচি পাতার মতো হালকা সবুজটা কেমন হবে? ”
এক মুহূর্তের জন্য সবাই থেমে গেল। তারপর সবাই একসাথে:
—“ দারুণ!!! ”
আরোবি মুগ্ধ হয়ে বলে — “ একদম fresh লাগবে! ছবি তুললেও সুন্দর আসবে! ”
হিয়া —“ তাহলে ঠিক—মেহেদীতে সবাই এই রঙের শাড়ি।”
জারা — “ আর গায়ে হলুদে? শুধু হলুদ হলে একটু বেশি চড়া লাগে না? ”
নুসরাত — “ হ্যাঁ, একটু অন্যরকম কিছু দরকার। ”
লিসি একটু ভেবে বললো—
— “ হলুদের সাথে যদি একটু গাঢ় সোনালি মিশে… মানে সরিষা রঙের মতো? ”
সুরভী চোখ বড় করে বলে
— “ এইটা! একদম ঠিক! ”
হিয়া — “ তাহলে গায়ে হলুদে সরিষা রঙ—না বেশি উজ্জ্বল, না একদম ফ্যাকাশে। ”
নুসরাত লিখতে লিখতে বলে — ” ঠিক আছে…
মেহেদী—হালকা সবুজ, হলুদ—সরিষা রঙ ”
জারা মুচকি হেসে — “ আর বিয়ের দিন? ”
হিয়া — “ বউ তো লাল বেনারসি পরবেই। ”
সবাই একসাথে মাথা নাড়লো সুরভী একটু ভেবে বলে
— “ আমরা সাদা শাড়ি পরবো, মেরুন কাজ থাকবে তার মাঝে। ”
আরোবি — “ ছেলেরা সাদা পাঞ্জাবি বা সাদা পোশাক আর পাঞ্জাবির সাথে ছেলেরা মেরুন রঙের ওড়না নেবে ”
নুসরাত হাসি চেপে — “আর যে এই নিয়ম মানবে না… ”
জারা — ” তাকে বিয়েতে আসার দরকার নেই ”
সুরভী — “ সোজা বাজারে পাঠিয়ে দিবো! ”
সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। ওদের হাসির শব্দে পাশের বড়রাও একবার তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। হিয়া কাগজটা গুছিয়ে নিলো।
হিয়া —“ চল, এখন এইটা কিরিস ভাইকে দেখাই। ”
সবাই একটু সাহস জোগাড় করে কিরিসের দিকে তাকালো। কিরিস তখনও ল্যাপটপে কাজ করছে
মুখে কোনো ভাব নেই… কিন্তু ওর চারপাশে সেই ভয় ধরানো স্থিরতা। নুসরাত ধীরে গিয়ে একটু মজার সুরে বলে — “ এই যে বড় ভাসুর শুনছেন … ”
কিরিস চোখ না তুলে বললো—“ বলো। ”
হিয়া কাগজটা সামনে ধরলো — “ আমরা বিয়ের সব অনুষ্ঠানের জামাকাপড়ের রঙ ঠিক করেছি। ”
কিরিস ধীরে ল্যাপটপ বন্ধ করলো। চোখ তুলে একবার সবার দিকে তাকালো শেষে এসে থামলো লিসির মুখে।
তারপর কাগজটা নিলো। চুপচাপ পড়ছে… ঘরের মধ্যে হালকা চাপা নীরবতা।
নুসরাত হাসতে হাসতে — “ আর একটা কথা…
যে এই নিয়ম মানবে না, তাকে কিন্তু আমরা ঢুকতে দিবো না!”
কিরিসের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটলো।
— “ তাই নাকি? ”
জারা —“ হ্যাঁ। দরজা থেকেই ফেরত। ”
কিরিস কাগজটা ভাঁজ করলো। ধীরে উঠে দাঁড়ালো।
সবাই একটু চুপ।
— “ সব ঠিক আছে। আমি দেখে নেবো, তার মানে ছেলেদের ও তোদের পছন্দের রঙের জামা পরতে হবে …”
আরোবি হেসে বলে — “ হুম, আর আমরা তো খারাপ রঙ ঠিক করছি না যে তোমাদের পছন্দ হবে না ”
সুরভী —” হুম তাই আহে থেকে বলে দিচ্ছি ”
কিরিস আবার স্বাভাবিক হয়ে
— “ বাকিটা ঠিক আছে। ”
কাগজটা টেবিলে রেখে ল্যাপটপ তুলে নিলো। যাওয়ার আগে একবার থেমে
— ” আর কেউ নিয়ম ভাঙলে… তোমাদের কষ্ট করতে হবে না। আমি আছি। ”
কিরিস চলে গেল এক সেকেন্ড চুপ… তারপর—
জারা ফিসফিস করে
— “ আমি শপথ করে বলছি… এই বিয়েটা সিনেমা হবে, আর নায়ক নায়িকা কিন্তু বর বউ না, ”
হিয়া বিস্মিত হয়ে বলে —“ তাহলে কে? ”
আরোবি লিসির দিকে তাকিয়ে —“ লিসি আর কিরিস! ”
সবাই আবার হেসে উঠলো...আর লিসি চুপচাপ বসে
মুখে লাজুক হাসি, চোখে অদ্ভুত কাঁপন কি বলবে সে কিছুই বুঝতে পারছেনা। কিরিস উপরে চলে গেছে কিন্তু যাওয়ার পরপরই ছেলেরা রিহান কাবির ইশান এরা তিনজন ও উপরে চলে যায় কিরিস কিছু ডিসকাসড করবে তাই, বাড়ির উপরের অপিস রুমে গিয়ে বসে ছেলেরা কিরিস গ্লাসে ওয়াইন ঢেলে খাচ্ছে আর বাকি কয়টা বসে আছে কিরিসের কথার জন্য।
কিন্তু রায় চৌধুরী বাড়ির একদিকে যেমন আনন্দ আর খুশির আবহাওয়া ছড়িয়ে আছে। ঠিক তখনই এই আনন্দের জগত থেকে বহু দূরে… অন্ধকারে ডুবে থাকা এক নির্জন জায়গা। পুরনো, ভাঙাচোরা একটা গুদামঘর… চারপাশে ঝুলে থাকা হলুদ আলো, দেয়ালে ছায়া পড়ে বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। বাতাস ভারী—নিঃশব্দ, কিন্তু ভেতরে যেন লুকিয়ে আছে অশুভ কিছু। একটা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে একজন চোখে আগুন, ঠোঁটে বিষাক্ত হাসি। তার নাম—রাহভান। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন লোক, মাথা নিচু করে।
একজন কাঁপা গলায় বলে — “ বস… খবর কনফার্ম। রায়চৌধুরীদের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন শুরু হয়ে গেছে।”
রাহভান ধীরে ধীরে মাথা তোলে। চোখ দুটো অস্বাভাবিক শান্ত… কিন্তু সেই শান্তির ভেতরে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর ঝড়।
— “বিয়ে…”
সে শব্দটা টেনে টেনে উচ্চারণ করে। তারপর হঠাৎ হেসে ওঠে—একটা শীতল, কাঁপিয়ে দেওয়া হাসি।
— “কিরিস… বিয়ে করেছে, তাই না?”
আরেকজন বলে — “জি বস। ওতো করেছে কিন্তু মেয়টাকে কেউ চেনে আর বাড়িতে ওর ছোট ভাইয়ের বিয়ে… পুরো বাড়ি আলোয় ভরে গেছে, ।”
রাহভানের আঙুলগুলো শক্ত হয়ে যায়। তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা দৃশ্য রক্ত… চিৎকার… তার ছোট ভাইয়ের নিথর দেহ… সে দাঁত চেপে ফিসফিস করে— “আমার ভাই… কেমন করে মরেছিল জানিস?”
চারপাশে নীরবতা। কেউ উত্তর দেয় না। সে নিজেই বলে
—“ওকে কুকুরের মতো মেরে ফেলা হয়েছিল… আর সেইটার পেছনে ছিল—কিরিস।”
তার চোখ লাল হয়ে ওঠে।
— “আজ পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করেছি…”
ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। তার কণ্ঠস্বর ঠান্ডা, কিন্তু প্রতিটা শব্দে বিষ ঝরে—
— “এবার ওর পালা। আমার ভাইকে বিষ দেয়েছিলে না এবার দেখ আমি কি করি ”
একজন লোক সাবধানে জিজ্ঞেস করে — “বস… কি প্ল্যান?”
রাহভান ধীরে ধীরে হাঁটতে থাকে… তার ঠোঁটে এক বিকৃত হাসি।
— “বিয়েবাড়ি…!! ”
সে চারপাশে তাকিয়ে বলে—
— “সবাই খুশি… আলো, গান, হাসি…”
হঠাৎ তার চোখ জ্বলে ওঠে— “কেমন হবে যদি—সেই বিয়েবাড়িটা… শোকের বাড়িতে পরিণত হয়?”
লোকগুলো চুপ। কেউ যেন শ্বাস নিতে সাহস পাচ্ছে না।
রাহভান থেমে যায়। তারপর খুব নিচু গলায় বলে
— “ভাব তো… যদি বরই মারা যায়?”
একজন কেঁপে ওঠে।
“অথবা…”
সে একটু ঝুঁকে আসে—“এই বাড়ির সবচেয়ে প্রিয় ছেলে… যদি শেষ হয়ে যায়?”
তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ভয়ংকর হাসি ফুটে ওঠে।
— “কিরিস…”
সে নামটা উচ্চারণ করে যেন বিষ ঢালছে—
“তুই আমার ভাইকে নিয়েছিস… এবার আমি তোর বাড়ি থেকে শোক নিয়ে যাবো।”
একজন সাহস করে বলে — “বস… তাহলে আমরা কি বিয়ের দিনেই—?”
রাহভান হাত তুলে থামিয়ে দেয়।
— “না… শুধু মারা গেলে হবে না।”
তার চোখ জ্বলজ্বল করছে—
— “ওদের আনন্দ… ওদের হাসি… সবকিছু আমি নিজের হাতে ভেঙে দেবো।”
একটা গভীর নিঃশ্বাস নেয়।
— “বিয়ের দিন… সবাই যখন সবচেয়ে খুশি থাকবে…ঠিক তখনই—সবচেয়ে বড় আঘাতটা আসবে।”
তার কণ্ঠে নিখাদ অন্ধকার—
“যাতে সারাজীবন ওরা ভুলতে না পারে—এই দিনটা।”
চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। দূরে কোথাও কুকুরের ডাক শোনা যায়। রাহভান ধীরে ধীরে বলে—
“প্রস্তুতি নাও… এই বিয়ে… বিয়ে হয়ে শেষ হবে না।”
তার চোখে ভয়ংকর প্রতিজ্ঞা—
“এই বিয়ে… ইতিহাস হবে। রক্তের ইতিহাস।”
আর ঠিক সেই সময়… দূরে, আলোয় ভরা রায়চৌধুরী বাড়িতে হাসি, গান, ভালোবাসায় ভরা রাতটা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে… কেউ জানেই না অন্ধকার ইতিমধ্যেই তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
❝এই বিয়ে কি সত্যিই আনন্দে শেষ হবে…
নাকি—এক ভয়ংকর শোকের শুরু হতে যাচ্ছে?❞
নিচে সবাই গল্প আড্ডায় ব্যস্ত বাড়ির কোলাহল ধীরে ধীরে স্তিমিত—গানের সুর দূরে মিলিয়ে গেছে, শুধু আলো জ্বলছে নরমভাবে। কিন্তু বাড়ির ভেতরের এক কোণে—
অফিস রুম। ভারী কাঠের দরজা বন্ধ। ভেতরে আলো কম, পরিবেশ চাপা। বড় টেবিলের চারপাশে বসে আছে—কিরিস, রিহান, কাবির, ইশান।টেবিলের উপর কাঁচের গ্লাস… গাঢ় লাল ওয়াইন ঝিলমিল করছে আলোয়।
কিরিস চুপচাপ গ্লাসটা হাতে নিয়ে বসে আছে। তার চোখ।শীতল, হিসেবি। হঠাৎ সে ধীরে বলে ওঠে— “ওরা মুভ করছে।”
রিহান ভ্রু কুঁচকে তাকায় — “কনফার্ম?”
কিরিস মাথা নাড়ে — “আমাদের আশেপাশে দেখা গেছে। আজ দুপুরে আমার গাড়ি ফলো করেছে।”
ঘরের ভেতরটা আরও ভারী হয়ে ওঠে।
ইশান চেয়ারে হেলান দিয়ে বলে — “কে?”
এক সেকেন্ড থেমে কিরিস গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলে,
— “রাহভান!! ”
নামটা উচ্চারণ হতেই ছেলেরা একটু ভাবনায় পরে কারণ এতগুলো কাজের মাঝে সবার নাম মনে রাখা তো সম্ভব হয়ে উঠে না, ওদের এমন ভাবতে দেখে কিরিস বলে —
“ রায়হানের বড় ভাই রানভান।
রিহান এবার বলে উঠে — “ ওহ্ এটা না সেই মিশন টা যেখানে ও ড্রাগ পাচার করতো ”
কাবিরও বলে —“ ওরে এ তো দেখছি ওই বেয়াদব ছেলেটা যে মেয়েদেরকে নিয়ে ব্যবসা করব তাই না ”
কিরিস —“ হুম। আমরা যখন মেশিনটা কমপ্লিট করেছিলাম তখন আমি জানতাম না ওর বড় ভাই আছে। আমি খোঁজোও নেয় নি, পরবর্তীতে শুনি ওর একটা বড় ভাই আছে। কিন্তু যেহেতু আমার কাজে কোন নাক গলায় নি আমিও ওর কাজে কোন নাক গলায়নি কিন্তু এখন মনে হচ্ছে নাক গলাতেই হবে । ”
তার কণ্ঠে কোনো রাগ নেই শুধু নিশ্চিততা।
ইশান —“ কিন্তু ব্রো ও কি এমন করেছে যে এখন ওকে নিয়ে ডিসকাস হচ্ছে এখানে নিশ্চয়ই বড় কিছু করেছে, হলে তুই তো আমাদের সঙ্গে বলবি না ”
কিরিস এবার ওয়াইনের গ্লাস টা উপরে তুলে হালকা ঘুরিয়ে বলে —“ ওর কিছু কাজ নজর করা ওর লোকদের আমার বাড়ির আশপাশে দেখা গিয়েছিল, আর তাছাড়াও
আমার গাড়িও ফলো করছে,, সব অংক হিসেবে একসঙ্গে মিলিয়ে উত্তর এটাই আসে এখনো ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে। ”
ইশান নিচু স্বরে বলে— “ওর ভাইয়ের জন্য?”
কিরিস এবার চোখ তুলে তাকায়। চোখে অদ্ভুত অন্ধকার।
— “ওর ভাইকে… আমি নিজের হাতে মেরেছি।”
নীরবতা। কাবির হালকা হেসে গ্লাসটা টেবিলে ঠুকে বলে — “তুই যখন নিজের হাতে মেরেছিস… তখন কুত্তার চেয়েও খারাপভাবে মরেছে।”
রিহান মাথা নাড়িয়ে যোগ করে — “ওটা মৃত্যু না… ওটা ছিল হিসাব।”
কিরিস ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি টানে।
— “হিসাবই ছিল।”
তারপর গলার স্বরটা একটু ভারী হয়—
“আর এখন… ওর টার্গেট আমরা।”
ইশান সোজা হয়ে বসে — “ডিটেইলস বল।”
কিরিস ধীরে ধীরে গ্লাসটা নামিয়ে রাখে। তার চোখ এবার একেবারে ঠান্ডা— যেহেতু আমি ওকে ভাইকে মেরেছি তাই ওর টার্গেট আমি কিন্তু এছাড়াও আছে মোট ৩ জন। প্রথমে—আমি। কারণ আমি ওর ভাইকে শেষ করেছি।”
তারপর কাবিরের দিকে তাকায়—
“দ্বিতীয়—কাবির।”
কাবির চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তারপর বলে —“ আমি! আমি আবার কি করলাম ? ”
কিরিস বলে—
“কারণ তুই আমার আদরের ছোট ভাই। আমাকে আঘাত করতে চাইলে—তোকে টার্গেট করবেই।”
এতো সিরিয়াস কথার মধ্যেও ইশান কাবির কে গুতা।দিয়ে বলে —“ আদরের ছোট ভাই, ”
কাবিরও একটু বাব নিয়ে বলে — “ তা হবো না, তুই জানিস না আমার ভাই আমাকে কতটা ভালোবাসে ”
ওদের দুজনের এই কথায় রিহান আর কিরিস তাকিয়ে থাকলে ওরা চুপ হয়ে যায় তখন রিহান গম্ভীর হয়ে যায়।
—“আর তৃতীয়?”
কিরিসের চোখ ধীরে ধীরে বদলে যায়। সেই ঠান্ডা দৃষ্টি হঠাৎ ভয়ংকর হয়ে ওঠে সে ধীরে বলে—
“ লিসি।”
এক মুহূর্তে ঘরের বাতাস জমে যায়। রিহান তীক্ষ্ণ গলায় বলে — “ ও আমাদের ছোট বোনকে কেন টার্গেট করবে?”
কাবির —“ নাও হয়েছে! ”
কিরিস সাথে সাথে তাকায় তার দিকে। চোখে স্পষ্ট অধিকার— “ কারণ ও এখন তোদের শুধু ছোট বোন না।”
এক সেকেন্ড থামে। তারপর খুব নিচু, ভারী গলায় বলে—
“ আমার বউও ”
কথাটা এমনভাবে বলে যেন এ নিয়ে কোনো বিতর্কের জায়গা নেই। কাবির আর ইশান চুপ হয়ে যায়। রিহানও কিছু বলে না আর।কিরিস ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। হেঁটে গিয়ে জানালার সামনে দাঁড়ায়। বাইরে অন্ধকার। তার কণ্ঠ আবার ভেসে আসে—
— “ওর ভাইয়ের মৃত্যুটা সহজ ছিল না।”
সবাই তাকিয়ে থাকে তার দিকে। কিরিস ধীরে বলে—
“Green Pit Viper…”
ইশান ফিসফিস করে — “তোর সাপের কালেকশনের মধ্যে একটা ?”
কিরিস হালকা মাথা নাড়ে।
— “হ্যাঁ… আমার সাপ।”
তার চোখে হালকা নিষ্ঠুর ঝিলিক—
“পাতার মতো সবুজ… এতটাই নিঃশব্দে কামড় দেয়—বোঝার আগেই বিষ শরীরে ছড়িয়ে যায়।”
কাবির ঠোঁট চেপে ধরে — “ওকে সেভাবেই শেষ করেছিলি? কিন্তু কোন সুবজটা? ”
কিরিস না ঘুরে বলে —“ লুয়া আর লুকা আমার কাছে থাকে ওদের বিষ নেই কিন্তু... এই সবুজ সাপটার আছে ”
কিরিস ঘুরে দাঁড়ায়। তার গলায় কোনো আবেগ নেই—
শুধু ঠান্ডা হিসাব।
“ডোজটা ক্যালকুলেটেড ছিল। এক ফোঁটা কম না… এক ফোঁটা বেশি না।”
রিহান গভীর শ্বাস নেয়। ঘরের পরিবেশটা এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডা থেকে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতি। কিরিস টেবিলের উপর হাত রেখে ঝুঁকে পড়ে।
— “ ও ভাবছে—বিয়ের সময় আঘাত করবে।”
তার চোখ জ্বলজ্বল করছে—
“ কিন্তু আমার সব ঠিক করা আছে শুধু ওর চলাফেরা দেখবো। ”
কিরিস সোজা হয়ে দাঁড়ায়। তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে এক ভয়ংকর, নিয়ন্ত্রিত হাসি—
“ও আমাদের খুঁজছে… আমরা ওকে সুযোগ দেবো আমাদের খুঁজে পাওয়ার।”
এক সেকেন্ড থামে—
“তারপর…”
তার চোখ একদম অন্ধকার হয়ে যায়—
“ও নিজেই বুঝবে—শিকার কে, আর শিকারি কে।”
ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা। চারজনের চোখে একই আগুন একই সিদ্ধান্ত। এই বিয়ে শুধু বিয়ে না এটা হতে যাচ্ছে এক যুদ্ধের মঞ্চ।
কিরিস এবার ইশানের দিকে তাকিয়ে বলে —“ ওই বিষটার Antidote আছে তোর কাছে ”
ইশান নিশ্চিত হয়ে বলে —“ নাহ, ছিলো কিন্তু শেষ হয়ে গেছে তুই কি করবি antidote নিয়ে ”
কিরিস শান্ত ভাবে হিসাবের গলায় বলে —“ ওর ভাইকে যেহেতু বিষ দেওয়া হয়েছিলো তাই ও ওর প্রতিশোধের খাতায় এই বিষটা রাখবেই তাই আগে থেকে antidote নিয়ে রাখা ভালো, ”
ইশান —“ হুম ঠিক কথা আর চিন্তা করিস না আমি দেখবো, কিন্তু এখন ওই দামি antidote কই পাবো ”
কিরিস —“ আমি মার্ককে আগে থেকে বলেছিলাম ও অ্যান্টিডোটা ইমপোর্ট করে এনে দেবে। গতকালকে পেয়ে যাবি মনে হয় ভালো করে দেখে নিস। ”
ইশান মাথায় নাড়ায় তখন ঘরে ভিতরে মার্ক ঢুকে। মার্ক আসার পরে রিহান হেসে —“ আরে গোটা একমাস পর আবার দোখলাম, কেমন আছেন ”
মার্ক —“ ভালো আছি, বস ফাইলগুলো যেটা বলেছিলেন”
কিরিস ফাইলগুলো নেয় তারপর ঠান্ডা গলায় বলে —
“ ওদের লোকের মধ্যে আমাদের লোক ঢুকিয়ে দাও। ওরা কি করতে চাচ্ছে সেটা যেন ভালোভাবে বোঝা যায়। ”
মার্ক একটা নিশ্চিত হাসি দিয়ে বলে —“ কোন চিন্তা নেবেন না বস। ওদের লোকের মধ্যে ইতিমধ্যে আমাদের লোক চলে গেছে ফাইল নাম্বার ৩ এ ওদের মোমেন্ট গুলো সব আছে। দেখে নেবেন। ”
কিরিস কিছু বলে না কারণ সে জানে মার্কের কাজ কেমন কিন্তু কাবিন সন্তুষ্টি নিয়ে বলে —“ বাঁচিয়ে নিয়েছো আমাকে, তাহলে আমার বাঁচার চান্স আছে ”
ইশান উঠে দাঁড়িয়ে বলে —“ আচ্ছা ওরা যদি তোকে বা কিরিসকে টার্গেট না করে সরাসরি লিসিকে করে! ”
কিরিস শান্ত গলায় বলে —“ তাহলে ওরা বুঝবে পৃথিবীটা কেন গোল ”
কাবির হেসে বলে —“ তাহলে আমাকে টার্গেট করলে কি করবি! ”
কিরিস একটু নিচু গলায় বলে —“ আই ডোন্ট কেয়ার, তোর কি হবে তা কে জানে ? তুই তো পুরুষ মানুষ নিজের সাবধানতা নিজে দেখে নিবি ”
কাবির এবার একটু কান্না মাখা গলায় নাটকীয় সুরে বলে —“ এটা কিন্তু ঠিক হলো না।নিজের বউয়ের সময় ষোল আনা, নিজের ভাইয়ের সময় এক আনাও না। তুই তো আমাকে একটুও ভালবাসিস না। ”
তখন কিরিস হঠাৎ একটু হেলে বসে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল— “তুই তো আমার নিজের ভাই না… আমি তো শুনেছিলাম, আম্মু নাকি তোকে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিল!”
এক সেকেন্ড নীরবতা… তারপর—
“হাহাহাহাহা—!”
রিহান আর ইশান একসাথে হেসে ওঠে।
মার্কও মুখ চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করে, কিন্তু চোখের কোণে হাসি লুকাতে পারে না। কাবির থমকে যায়। ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে কিরিসের দিকে
—“কি বললি তুই…?”
কিরিস এবার একদম সিরিয়াস ফেস করে বসে থাকে, যেন কিছুই হয়নি।
রিহান হেসে বলে — “না না, আমরা তো অনেক আগেই জানতাম!”
ইশান যোগ করে — “তাই তো ভাবি—এত আলাদা কেন!”
মার্ক মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে, কিন্তু কাঁধ কাঁপছে—হাসি চেপে রাখতে পারছে না। কাবির এবার একদম রেগে যাওয়ার অভিনয় করে বলে— “দাঁড়া! আমি এখনই আম্মুর কাছে যাচ্ছি!”
আঙুল তুলে কিরিসের দিকে দেখিয়ে বলে
— “তুই আমাকে এইসব বলছিস! আমি তোর সাথে কথা বলবো না! একদম না!”
কিরিস হালকা হেসে বলে — “যা… গিয়ে বল।”
কাবির নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে — “দেখিস! আজকে বিচার হবেই!”
বলে কাবির গটগট করতে করতে চলে যায় ওকে যেতে দেখে রিহান বলে —“ আরে ভাই আস্তে আমিও আসছি ”
ইশান —“ আমিও ”
কাবির কিরিসের চোখের আড়াল হওয়ার আগে কিরিস বলে — “আরে তোর বয়স কত হতে চললো, যে তুই এখনও আম্মুর কাছে নালিশ করতে যাচ্ছিস? বিয়ে করতে যাবি আজ বাদে কাল… বোকা ছেলে!”
কথাটা বলেই নিজেই হেসে ফেলে। কিরিস কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ তাকিয়ে থাকে… তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা, নরম একটা হাসি ফুটে ওঠে। সে কিছু বলে না কিন্তু সেই হাসির ভেতরেই বোঝা যায়, ছোটবেলার সেই টানটা এখনো একটুও কমেনি। ইশান আর রিহান হালকা খুনসুটি করতে করতে দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে যায়।
মার্কও সম্মানের সাথে মাথা নিচু করে বলে — “গুড নাইট, বস।”
কিরিস শুধু হালকা মাথা নাড়িয়ে ইশারা করে। দরজাটা বন্ধ হয়ে যায়। ঘরটা আবার নিঃশব্দ। কিরিস একা বসে থাকে—চেয়ারটায় হেলান দিয়ে।টেবিলের উপর রাখা গ্লাসে আঙুল ছুঁইয়ে দেয়… কিন্তু আর ছোঁয় না। চোখ দুটো গভীর হয়ে আসে।
ওইদিকে হলরুমে ঢুকেই কাবির সরাসরি সুপ্রিয়ার পাশে গিয়ে বসে পড়ে।
— “আম্মু!!”
সুপ্রিয়া চমকে তাকায় — “কি হয়েছে আবার?”
কাবির প্রায় কান্নার সুরে বলে— “তোমার বড় ছেলে আমাকে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া বলছে! বলেছে তুমি নাকি আমাকে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিলে?”
এক সেকেন্ড চুপ— তারপর পুরো হলরুম ফেটে পড়ে হাসিতে! সুরভী সোফায় লুটিয়ে পড়ে — “না, না—এইটা আমি সহ্য করতে পারছি না!”
জারা হেসে চোখ মুছতে মুছতে বলে— “ বড়আম্মু, আগে কনফার্ম করো—এইটা সত্যি নাকি!”
রিহান এসে যোগ দেয় — “আমরা তো অনেক আগেই সন্দেহ করতাম!”
ইশান বলে — “আজকে অফিসিয়ালি প্রমাণ হয়ে গেল!”
কাবির ক্ষেপে গিয়ে বলে — “তোরা সবাই একসাথে! ঠিক আছে—আমি কারো সাথে কথা বলবো না!”
লিসি হেসে ফেলেও মুখ চাপা দেয়। সুপ্রিয়া হাসি থামিয়ে কাবিরের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে — “আরে পাগল ছেলে… ও তো মজা করেছে!”
কাবির ঠোঁট ফুলিয়ে বলে —“আমার সাথে সবসময় এই মজাই করে!”
সুপ্রিয়া মুচকি হেসে বলে —“কারণ তুই ওর সবচেয়ে প্রিয়,ওর একমাত্র আদরের ছোট ভাই তুই।”
কাবির একটু থেমে যায়। রাগটা অর্ধেক গলে যায়।
তবুও মুখ ঘুরিয়ে বলে — “তবুও… আমি বিচার চাই!”
সবাই আবার হেসে ওঠে। এই হাসি, এই খুনসুটি—
এই পরিবারটার আসল রঙ।

0 Comments