পর্ব :62
হলরুমে তখনো গল্পের আসর জমে আছে।
লিসিকে ঘিরে সবাই বসে আছে—নুসরাত, সুরভী, জারা, আরোবি, রিহান, কাবির…
যেন নতুন কোনো অতিথি এসেছে, সবাই একসাথে প্রশ্নের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। নুসরাত একটু সামনে ঝুঁকে বলল—
“বল তো, সত্যি করে বল… ভাইয়া কি সত্যি কিডন্যাপ করে বিয়ে করল?”
লিসি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। কিছু বলতেও পারছে না।
জারা হেসে বলল—
“এই চুপ থাকা মানে কিন্তু সব সত্যি!”
সুরভী মজা করে বলল—
“আমাদের তো মনে হচ্ছে ভাইয়া অনেক দিন ধরে প্ল্যান করে এটা করেছি, আহ বিশ্বাস হচ্ছে ভাইয়া বিয়ে করছে তাও আবার আমাদের সবার পছন্দের সবথেকে মিষ্টি বোন কে, ”
লিসি শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে…
গাল লাল, চোখে লজ্জা আর অস্বস্তি। এদিকে বড়রা বারবার বলছে—
“ঠিক আছে ঠিক আছে, মেয়েটাকে আর বিরক্ত করো না।”
কিছুক্ষণ পরে কাজের লোকেরা হালকা খাবার নিয়ে এলো। সুপ্রিয়া উঠে সবাইকে রাতের খাবারের জন্য ঢাকলো, কিরিস আজ রাতে খাবে এটা তার মা ভালো করে জানে তাই সে আর কিরিসকে ডাকে না। লিসি এখমো বসে আছে, মির্জা বেগম তার কাছে গিয়ে বললেন—
“লিসি মা, আগে একটু খেয়ে নাও। এত কিছু হয়েছে আজ।”
আরোবি নিজে হাতে প্লেট এগিয়ে দিল।
“এই নাও… একটু খাও।”
লিসি লজ্জা লজ্জা মুখে একটু করে খেল। আরোবি নিজ দায়িত্বে লিসিকে খাওয়ায়ে দিতে থাকে, আর লিসির সঙ্গে কথা বলতে থাকে, একে একে সবাই ডাইনিং টেবিলের কাছে গিয়ে বসে। এরপর ধীরে ধীরে পুরো বাড়িতে রাতের খাবারের আয়োজন হলো। সবাই একসাথে খাওয়া-দাওয়া শেষ করল।
রাত তখন বেশ গভীর। সবাই এবার ঘুমাতে যাবে, মির্জা বেগম আকবর খানের সাথে কথা বলে সব ঠিক করে, সব কথা বলে নিয়েছে। কাজিনরা এখনো বসে আছে লিসিকে ঘীরে। সবাই লিসি আর কিরিসের সম্পর্কে কথা বলছে, আগে যেটা ভাই বোন ছিলো এখন সেটা স্বামী স্ত্রী,
আরোবি লিসির গায়ে হালকা ঘসা দিয়ে বলে —“ কি, মিল তাই না, বাড়ির সবথেকে বড় ছেলে কিরিস আর সবথেকে ছোট মেয়ে লিসি, কাজিনদের ভিতরেও কিরিস বড় লিসি ছোট কিন্তু শেষ-মেষ তারাই ভালোবাসার পাখি,স্বামী স্ত্রী হয়ে গেছে ”
ঠিক তখনই নুসরাত দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল—
“তো… এখন কিন্তু আসল অনুষ্ঠান বাকি আছে। এই সব কথা এখন থাক ।”
লিসি অবাক হয়ে তাকাল। সুরভী হেসে বলল—
“বাসর ঘর!”
এই কথাটা শুনেই লিসির শরীর যেন শিউরে উঠল।
তার মাথায় সঙ্গে সঙ্গে কিরিসের সেই ঠান্ডা চোখের দৃষ্টি ভেসে উঠল। মনে মনে বলল—
“না না না… আমি ওখানে যাব না!”
কাবির আবার বলল—
“চলো চলো, নতুন বউকে উপরে নিয়ে যাই!”
এটা শুনেই লিসি হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। তারপর সোজা দৌড়ে গেল মির্জা বেগমের দিকে।
“নানু!”
সে গিয়ে শক্ত করে মির্জা বেগমকে জড়িয়ে ধরল।
সবাই অবাক।
রিহান —“ এই বউ পালাচ্ছে মানে দৌড় দিয়েছে কেন? ”
লিসি প্রায় মিনতির গলায় বলল—
“নানু… আজকে আমি তোমার কাছেই থাকি না?”
সবাই একসাথে—
“ওহহহহ!”
রিহান হাসতে হাসতে বলল—
“বউমা ভয় পেয়েছে!”
নুসরাত বলল—
“এইটা তো নতুন বউদের ক্লাসিক ডায়ালগ!”
লিসি লজ্জায় মুখ লুকিয়ে বলল—
“না… মানে… আজকে খুব ভয় করছে… আমি আজকে নানুর কাছেই থাকব।”
মির্জা বেগম একটু হাসলেন। তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন—
কিন্তু মা এটা তোমার বাসর রাত, আজকে তো তোমাকে দাদুভাইর কাছে থাকতে হবে ”
লিসি ছলছল চোখে তাকিয়ে বলে —“ না নানু না, আজকে না, বাসর রাতের জন্যই তো ভয় করছে, আমি যাবো না, ওনি গেলে...... না, যাবো না, নানু গো আজকের জন্য থাকতে দাও কালকে কালকে ভাইয়ার কাছে থাকবো ”
মির্জা বেগম এবার হেসে ফেললেন তিনি বুঝতে পেরেছেন লিসি ভয় পেয়েছে জোর করে পাঠালে কিছু হতে পারে তাই লিসির মাথায় হাত রেখে বলে —
“আচ্ছা আচ্ছা… ঠিক আছে।”
তারপর মজা করে বললেন—
“আজকের জন্য থাক। আমি দাদুভাইকে বলে দেব।”
এটা শুনে লিসির চোখ চকচক করে উঠল। এদিকে কাবির মুখ বাঁকিয়ে বলল—
“এইটা কি হলো!”
নাটকীয় গলায় বলল—
“আমরা এত কষ্ট করে বাসর ঘর সাজালাম… সাদা ফুল, মোমবাতি…”
রিহান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
“সব পরিশ্রম পানিতে গেল।”
নুসরাত হাসতে হাসতে বলল—
“চুপ কর! কাল আবার সাজাবি।”
জারা হতাশ গলায় বলে—“ আরে কিরিস ভাইয়ার বাসর ঘরের সাজানোর টাকা তাহলে আমাদের কপালে সত্যিই নেই ”
সুরভী —“ আচ্ছা ঠিক আছে, লিসিকে এমন ভাবে বিয়ে করেছে তারজন্য ও একটু ভয় পেয়েছে তারউপর আবার কনফিউজডও আছে , তাই আজকে থাক, লিসি তুই যা, আমরাও তাহলে ঘুমাতে গেলাম ”
আরোবি —“ হুম, যা কালকে সকালে তোর সাথে কথা হচ্ছে ”
সবাই আবার একটু হাসাহাসি করল।তারপর ধীরে ধীরে সবাই যার যার ঘরের দিকে চলে যেতে লাগল। বাড়ি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে গেল। এদিকে লিসি মির্জা বেগমের পাশে বসে আছে। তার মুখে একটা ছোট্ট চুপচাপ হাসি।
মনে মনে ভাবছে—
“ইয়েস! আমার প্ল্যান সাকসেসফুল!”
এখন তাকে আজ রাতে কিরিসের কাছে থাকতে হবে না।
এই ভেবে তার বুকটা হালকা হয়ে গেল। কিন্তু সে জানে না উপরে নিজের ঘরে দাঁড়িয়ে কিরিস সবকিছুই জেনে গেছে। আর তার চোখে তখন এক অদ্ভুত রহস্যময় হাসি…
রাত তখন অনেকটাই গভীর।
রায় চৌধুরী বাড়ির চারপাশে ধীরে ধীরে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। মির্জা বেগমের ঘরে লিসি বসে আছে।
বিয়ের ভারী লেহেঙ্গাটা খুলে ফেলেছে সে। সারাদিনের এত ঘটনা, এত লোকজন—শরীরটাও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
ঠিক তখনই তার মনে পড়ল— উপরে যাওয়ার আগে নুসরাত তার হাতে একটা শাড়ি দিয়ে বলেছিল—
“এইটা পরে ঘুমিও,কিরিস দিয়েছে। হালকা, আর খুব সুন্দর।”
লিসি ব্যাগ থেকে শাড়িটা বের করল। নরম লাল একটা শাড়ি। একদম সিম্পল… কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর। সে ধীরে ধীরে শাড়িটা পরে নিল। তারপর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লম্বা চুলগুলো ভালো করে আঁচড়ে নিল।চুলগুলো পিঠ বেয়ে প্রায় হাঁটু ছুঁয়ে নেমে এসেছে। মুখ ধুয়ে একদম ফ্রেশ হয়ে গেল সে। তারপর মির্জা বেগমের পাশে এসে বসল।
মির্জা বেগম মুচকি হেসে বললেন—
“কি রে, ঘুমাবি?”
লিসি মাথা নেড়ে বলল—
“হুম… ঘুম পাচ্ছে নানু ।”
তারপর দুজনেই খাটে উঠে বসল। কিছুক্ষণ গল্প করতে করতে লিসি ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ল। মির্জা বেগমের হাতটা ধরে। যেন ছোটবেলার মতো। কিছুক্ষণ পরেই—
লিসি ঘুমিয়ে পড়ল। তার নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে এল। ঘরটা একদম চুপচাপ। লিসি ঘুমিয়ে আছে খাটে মির্জা বেগম তজমি গুনতে গুনতে লিসির দিকে তাকিয়ে আছে, সেই ছোট ৫ বছরের লিসিকে যখন তার কাছে এনেছিলো তখন তার কাছে এমন করে লিসি ঘুমাতো, আর আজ সেই লিসি এতো বড় হয়ে গেছে, তার বিয়ে হয়ে গেছে, কতদ্রত সময় চলে গেলো তখনকার ৫ বছরের লিসি আর আজকের ১৯ বছরের লিসি। মির্জা বেগম যখন এই সব ভাবনায় মগ্ন ঠিক তখনই…
ধীরে দরজাটায় টোকা পরলো। মির্জা হেসে উত্তর দিল —“ দরজা খুলা আছে ভিতরে আসো দাদুভাই ”
দরজা খুলে সামনে দাঁড়িয়ে আছে কিরিস।
সাদা শার্ট এখনও পরা, চোখে সেই গভীর দৃষ্টি।
সে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকল। মির্জা বেগম তাকে দেখে মুচকি হাসলেন। তিনি খুব ভালো করে জানেন কিরিস লিসিকে ছেড়ে থাকবে না, আর এখন তো বিয়ে হয়ে গেছে, তাহলে তো লিসিকে একা রাখার প্রশ্নই উঠে না। মির্জা নিচু গলায় বললেন— “ঘুমিয়ে গেছে।”
কিরিস কয়েক সেকেন্ড চুপ করে লিসির দিকে তাকিয়ে রইল। লাল শাড়িতে, খোলা চুলে… সে একদম শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে। তার চোখে অদ্ভুত একটা কোমলতা ভেসে উঠল।কিরিস ধীরে বলল— “দাদী…”
মির্জা — “হুম?”
কিরিস নিচু গলায় বলল— “ওকে নিয়ে যাচ্ছি।”
মির্জা বেগম ভ্রু তুলে তাকালেন। কিরিস মৃদু হেসে বলল—
“বিয়ে করেছি কি বউ ছাড়া থাকার জন্য?”
তারপর আরও নিচু গলায় বলল—
“আর বাসর রাতে যদি বউ দাদীর কাছে ঘুমায়…
তাহলে বর কি একা ঘুমাবে?”
মির্জা বেগম হাসি চাপলেন।
— “তোর সাথে পারা যায় না।”
তিনি মাথা নেড়ে বললেন—
“আচ্ছা… নিয়ে যা।”
কিরিস ধীরে খাটের পাশে এগিয়ে গেল। এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে লিসির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর খুব সাবধানে লিসিকে কোলে তুলে নিল। লিসি ঘুমের মধ্যেই একটু নড়ল… কিন্তু পুরোটা জেগে উঠল না। তার লম্বা চুলগুলো কিরিসের হাতের উপর নেমে এল। কিরিস একবার মির্জা বেগমের দিকে তাকাল। মির্জা বেগম মুচকি হেসে বললেন—
“সাবধানে নিয়ে যা আর ভয় দেখাবি না, তোর ভয়ে কিন্তু আমার কাছে এসে ঘুমিয়েছে।”
কিরিস হালকা মাথা নেড়ে দরজার দিকে হাঁটা দিল। তার কোলে গভীর ঘুমে ডুবে থাকা লিসি। আর করিডোরের নরম আলোয় মনে হচ্ছে যেন সত্যিই একটা গল্পের ভিলেন তার নায়িকাকে নিয়ে যাচ্ছে। নরম আলোয় ভরা করিডোর পেরিয়ে কিরিস ধীরে ধীরে নিজের ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল। তার কোলে গভীর ঘুমে ডুবে আছে লিসি। লাল শাড়ির আঁচলটা তার হাতের ওপর নেমে আছে, আর লম্বা চুলগুলো কিরিসের বাহু বেয়ে প্রায় নিচে ছুঁয়ে আছে। কিরিস পা দিয়ে আস্তে দরজাটা খুলল।
দরজা খোলার সাথে সাথে ভেতরের দৃশ্যটা যেন এক মুহূর্তে চোখে পড়ে গেল। পুরো ঘরটা সাদা ফুলে সাজানো।
ছাদের চারপাশে ঝুলছে সাদা গন্ধরাজ আর টিউব রোজের মালা। বিছানার চারদিকে পাতলা সাদা নেট ঝুলছে। বড় কিংসাইজ বেডটার উপর ছড়িয়ে আছে সাদা গোলাপের পাপড়ি। ঘরের একপাশে ছোট ছোট মোমবাতির আলো, আর হালকা ফুলের গন্ধে পুরো ঘরটা ভরে গেছে। রিহান আর কাবির সত্যিই বেশ কষ্ট করে সাজিয়েছে। কিরিস কয়েক সেকেন্ড চারপাশে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বিছানার দিকে এগিয়ে গেল।
সে খুব সাবধানে লিসিকে বিছানার উপর শুইয়ে দিল।
লিসি একটু নড়ল… কিন্তু পুরোটা জাগল না।
ঘুমের ঘোরেই একবার ফিসফিস করে বলল—
“নানু…”
কিরিসের ঠোঁটে হালকা একটা হাসি ফুটে উঠল।
সে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে লিসির দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে নিজের শার্ট খুলে পাশে রাখল এবং ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে ওয়াশরুমের দরজা আবার খুলল। কিরিস এখন একদম ফ্রেশ।
চুল একটু ভেজা, মুখে সেই শান্ত অথচ গভীর ভাব।
সে ধীরে ধীরে এসে বিছানার পাশে বসল। লিসি এখনও ঘুমিয়ে আছে। তার নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে উঠানামা করছে।
কিরিস ধীরে শুয়ে পড়ল তার পাশে। এক মুহূর্ত চুপ করে তাকিয়ে রইল তার দিকে। তারপর খুব আস্তে করে হাত বাড়িয়ে লিসিকে নিজের দিকে টেনে নিল। লিসির শরীরটা হালকা করে তার বুকে এসে লাগল। ঘুমের মধ্যেই লিসি একটু নড়ল… কিন্তু কিছু বলল না।
বরং অবচেতনভাবেই মাথাটা কিরিসের বুকে ঠেকিয়ে দিল। কিরিসের হাত তখন তার পিঠের উপর আলতো করে জড়িয়ে আছে। যেন অনেকদিনের খোঁজা কিছু অবশেষে তার কাছে এসেছে। তার চোখ ধীরে বন্ধ হয়ে এল। মনে হচ্ছিল— এই মুহূর্তে তার পুরো দুনিয়ার শান্তি যেন এখানেই। তার বুকের কাছে ঘুমিয়ে আছে লিসি।
আর সেই নিস্তব্ধ ফুলে ভরা ঘরে শুধু দুজন মানুষের শান্ত নিঃশ্বাসের শব্দ ভেসে আসছে।
রাতের নিস্তব্ধতা ধীরে ধীরে আরও গভীর হয়ে উঠেছে।
সাদা ফুলে ভরা ঘরটায় হালকা গন্ধরাজের সুবাস ছড়িয়ে আছে। বিছানার উপর কিরিস আর লিসি পাশাপাশি শুয়ে আছে। কিরিসের হাত এখনও আলতো করে জড়িয়ে আছে লিসির চারপাশে। তার বুকের কাছে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে লিসি। কিরিসের চোখ বন্ধ…
কিন্তু ঘুম আসছে না। সে ধীরে চোখ খুলে লিসির দিকে তাকাল। মৃদু আলোয় লিসির মুখটা আরও কোমল লাগছে। খোলা চুলগুলো বালিশের উপর ছড়িয়ে আছে।
লাল শাড়ির আঁচলটা একটু সরে গিয়ে তার কাঁধের উপর নেমে আছে। কিরিস কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব আস্তে হাত তুলে লিসির কপালের উপর পড়ে থাকা কয়েকটা চুল সরিয়ে দিল। তার ঠোঁটে একটা অদ্ভুত শান্ত হাসি। নিচু গলায় ফিসফিস করে বলল—
“শেষ পর্যন্ত… তোমাকে আমার কাছেই আনলাম।”
লিসি ঘুমের মধ্যেই একটু নড়ল। মনে হলো যেন কিছু শুনেছে। কিন্তু পুরোটা জাগল না। সে উল্টো হয়ে আরও একটু কিরিসের দিকে সরে এল। এবার তার হাতটা আলতো করে কিরিসের শার্ট আঁকড়ে ধরল।
যেন অবচেতনভাবেই ধরে রেখেছে। কিরিস কয়েক সেকেন্ড থেমে গেল। তার চোখে তখন এমন একটা অনুভূতি যেটা সে কারও সামনে কখনও দেখায় না।
সে খুব আস্তে বলল—
“এভাবে ধরলে… ছাড়তে পারব না কিন্তু।”
লিসি আবার ঘুমের মধ্যেই অস্পষ্ট গলায় বলল—
“নানু… কোথাও যেও না…”
এই কথা শুনে কিরিসের চোখে এক ঝলক দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল। সে ধীরে লিসিকে আরও কাছে টেনে নিল।
তার কপালে খুব হালকা একটা চুমু দিল।
“আমি নানু না…”
নিচু গলায় বলল—
“আমি তোমার স্বামী।”
এরপর একটা বড় শ্বাস নিয়ে বলে —“ সব কপাল, বাসর রাতে বউ আমার নানুর খোঁজ করে, কোথায় বাসর করবো আর কোথায় বউ আমার ঘুমের রাজ্যে।”
তারপর আবার চোখ বন্ধ করল। ঘরের বাইরে রাত আরও গভীর হয়ে উঠল। সাদা ফুলে সাজানো সেই বাসর ঘরে— একজন ঘুমিয়ে আছে নির্ভয়ে। আর আরেকজন অনেকদিনের অপেক্ষার মানুষকে বুকের কাছে পেয়ে অবশেষে শান্ত।
সকাল ৮:৩৫......
সকালের নরম আলো ধীরে ধীরে জানালার পর্দা পেরিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকছে। সাদা ফুলে সাজানো সেই বাসর ঘরটা এখন অনেক শান্ত। রাতের মোমবাতিগুলো নিভে গেছে, কিন্তু ফুলের মিষ্টি গন্ধ এখনও ছড়িয়ে আছে।
বিছানার উপর লিসি গভীর ঘুমে আছে। কিছুক্ষণ পরে তার চোখের পাতা একটু নড়ল। ধীরে ধীরে সে চোখ খুলল। প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না। চারপাশে তাকাল।
তারপর হঠাৎ বুঝল এটা তো নানুর ঘর না!
তার ভ্রু কুঁচকে গেল।
“আমি… এখানে এলাম কিভাবে?”
ঠিক তখনই সে টের পেল তার মাথা কারও বুকের উপর রাখা। লিসির চোখ এক মুহূর্তে বড় হয়ে গেল। ধীরে ধীরে উপরে তাকাতেই দেখল কিরিস। সে একদম শান্তভাবে ঘুমিয়ে আছে। তার এক হাত শক্ত করে লিসিকে জড়িয়ে আছে। লিসির মুখ মুহূর্তেই লাল হয়ে গেল। মনে মনে চিৎকার করতে ইচ্ছে করল—
“আল্লাহ!! আমি এখানে কিভাবে এলাম!”
সে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু কিরিসের হাত এতটাই শক্ত করে জড়িয়ে আছে যে নড়তেই পারছে না। লিসি ফিসফিস করে বলল—
“এইটা কি হলো, আমাকে ছাড়ুন …”
সে আলতো করে কিরিসের হাত সরাতে গেল।
ঠিক তখনই কিরিস চোখ না খুলেই আরও শক্ত করে তাকে কাছে টেনে নিল। লিসি একদম স্থির হয়ে গেল।
তার বুক ধড়ফড় করছে। কিরিস ঘুম ঘুম গলায় বলল—
“এত সকালে পালানোর চেষ্টা?”
লিসির চোখ আবার বড় হয়ে গেল।
“আপনি… জেগে আছেন?!”
কিরিস ধীরে চোখ খুলল। তার ঠোঁটে হালকা একটা দুষ্টু হাসি।
—“অনেকক্ষণ ধরে।”
লিসি তো লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে চায়।
“আমি… আমি তো নানুর ঘরে ঘুমিয়েছিলাম…”
কিরিস শান্ত গলায় বলল—“জানি।”
লিসি —“তাহলে আমি এখানে—”
কিরিস মাঝেই বলল— “আমি এনেছি।”
লিসি অবাক হয়ে তাকাল।
—“আপনি আমাকে ঘুমের মধ্যে…!”
কিরিস ভ্রু তুলে বলল—
“বিয়ে করেছি কি বউকে দাদীর কাছে রেখে দেওয়ার জন্য?”
লিসির মুখ আবার লাল। সে তাড়াতাড়ি উঠে বসতে গেল।
কিন্তু কিরিস তার হাত ধরে ফেলল।
“কোথায় যাচ্ছ?”
লিসি তোতলাতে লাগল—
“আমি… আমি বাইরে যাবো …”
লিসি খুব সাবধানে কিরিসের হাত সরিয়ে বিছানা থেকে নামতে চাইলো। কিন্তু ঠিক তখনই হঠাৎ কিরিসের হাত আবার তাকে টেনে নিল। লিসি আবার ধপ করে তার বুকে পড়ে গেল। পরের মুহূর্তেই কিরিস ঘুরে তাকে নিজের নিচে আটকে ফেলল। লিসি একদম স্থির হয়ে গেল।
কিরিস তার দুই পাশে হাত রেখে ঝুঁকে আছে। চোখে সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। নিচু গলায় বলল—
“কোথায় যাচ্ছ?”
লিসি তোতলাতে লাগল—
“আমি… আমি বাইরে যাচ্ছিলাম…”
কিরিস হালকা ভ্রু তুলল।
“এত সকালে পালানো?”
লিসি মুখ ফিরিয়ে বলল—
“আমি পালাচ্ছি না…”
কিরিস একটু ঝুঁকে এল।
তার কণ্ঠস্বর নিচু কিন্তু স্পষ্ট—
“বিয়ের আগে যত অজুহাত ছিল…
সব শুনেছি।”
তার চোখ তখন একদম লিসির চোখে।
“কিন্তু এখন আর না।”
লিসির গাল লাল হয়ে গেল। সে কিছু বলার আগেই কিরিস ধীরে তার মুখের দিকে ঝুঁকে এল। বিছানার উপর কিরিস লিসিকে নিজের নিচে আটকে রেখেছে। তার দুই হাত লিসির দুই পাশে। লিসির বুক দ্রুত উঠানামা করছে। সে লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে বলল—
“আপনি… একটু সরে দাঁড়ান।”
কিরিস নড়ল না। বরং আরও একটু ঝুঁকে এল।
তার চোখে সেই গভীর, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। নিচু গলায় বলল—
“কাল রাত থেকে পালাচ্ছো।”
লিসি চোখ বড় করে তাকাল।
“আমি পালাচ্ছি না…”
কিরিস ধীরে তার চিবুকটা আঙুল দিয়ে তুলে দিল।
“দাদীর কাছে গিয়ে লুকানোকে কি বলে?”
লিসি কিছু বলল না। তার গাল লাল হয়ে গেছে।
কিরিস কয়েক সেকেন্ড শুধু তাকিয়ে রইল তার দিকে।
তারপর খুব আস্তে বলল—
“জানো… আমি কত বছর অপেক্ষা করেছি?”
লিসি অবাক হয়ে তাকাল। কিরিসের চোখ তখন অদ্ভুত শান্ত।
— “তুমি যখন ছোট ছিলে তখন থেকেই…”
সে হালকা হেসে বলল—
“কিন্তু তোমার জন্য আমি সবসময় দূরে ছিলাম। নাহলে এতদিনে আমি বাচ্চার বাবা হয়ে যেতাম ।”
লিসির চোখ বড় হয়ে গেলো, কি কথা বলছে সে, সে বাবা হয়ে যেতো তার মানে লিসি মা হয়ে যেতো, ভাবতেই লিসি নিজের ঠোঁটে কামড় বসিয়ে দিলো। কিরিস আবার ঝুঁকে এল। তার কণ্ঠস্বর আরও নিচু।
“আজ তুমি আমার সামনে… আমার ঘরে… আমার স্ত্রী হয়ে আছো।”
সে ধীরে লিসির কপালে পড়ে থাকা চুল সরিয়ে দিল।
“এটা কি আমি সহজে ছাড়ব?”
লিসি কিছু বলার আগেই কিরিস তার কপালে খুব আলতো করে একটা চুমু দিল। তারপর চোখের পাশে।
তারপর গালের কাছে থেমে গেল। লিসির শ্বাস তখন দ্রুত হয়ে গেছে। সে আস্তে বলল—
“ভাইয়া…”
কিরিস ফিসফিস করে বলল—
“হুম?”
লিসি আবার বলল—
“আমি সত্যি দাঁত ব্রাশ করিনি…”
এক সেকেন্ড চুপ…
তারপর কিরিস হেসে ফেলল।
“তুমি সত্যিই এখন এই কথা ভাবছ?”
লিসি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। কিরিস ধীরে তাকে জড়িয়ে নিজের বুকে টেনে নিল। এবার আর তাকে আটকে রাখল না। বরং তার মাথাটা নিজের বুকের কাছে রেখে বলল—
“এত ভয় পাও কেন?”
লিসি আস্তে বলল—
“আমি ভয় পাইনি…”
কিরিস মুচকি হাসল।
“মিথ্যা।”
তার হাতটা আলতো করে লিসির পিঠে ঘুরে গেল।
“কিন্তু একটা কথা মনে রাখো…”
লিসি চোখ তুলে তাকাল। কিরিস খুব শান্ত গলায় বলল—
“আমি তোমাকে কখনও এমন কিছু করতে বাধ্য করব না… যেটা তুমি চাইবে না।”
তারপর একটু দুষ্টু হাসল।
“কিন্তু…”
লিসি ভ্রু কুঁচকাল।
“কিন্তু কি?”
কিরিস ধীরে তার কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করল—
“তোমাকে কাছে রাখার অধিকারটা… আমি ছাড়ব না। অন্য কিছু না করতে পারলেও কিস, আর তোমাকে বিরক্ত করা ছাড়তে পারবো, এখন থেকে আমার যখন ইচ্ছা তখন কিস করবো ।”
লিসির গাল আবার লাল হয়ে গেল। সে লজ্জায় মাথা নামিয়ে ফেলল। আর কিরিস তাকে নিজের বুকে জড়িয়ে রেখে চোখ বন্ধ করল। মনে হচ্ছিল যেন এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব শান্তি তাদের দুজনের মাঝেই আছে।
কিরিস লিসিকে নিজের কাছে টেনে রেখেছে। লিসির চুলগুলো ছড়িয়ে আছে বালিশে। কিরিস নিজের বুকের থেকে লিসিকে সরিয়ে ধীরে তার মুখের কাছে ঝুঁকে এল।
লিসি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। পরের মুহূর্তেই কিরিস তার ঠোঁটে আলতো করে চুমু খেল। লিসি একটু থমকে গেল… কিন্তু পুরোটা সরে গেল না।
বরং ধীরে ধীরে শ্বাসটা ভারী হয়ে উঠল। কিরিস আবার তাকে কাছে টেনে নিয়ে হালকা করে আবার চুমু দিল।
তারপর লিসির দিকে তাকালো —“ এটা হবে না ”
লিসি চোখ খুলেই বলে —“ কি হবে না! ”
কিরিস লিসির ঠোঁট আঙুল ছুঁয়ে দিয়ে বলে —“ আমি কিস করছি তুমি করছো না, এটা হবে না, আমাকে কিস করো ..... মিসেস কিরিস নাহলে কিন্তু.... ”
কিরিস লিসির কানের কাছে মুখ নিয়ে ভারী গলায় বলে —” আমি যদি এবার কিস করি তাহলে kiss এর সাথে সাথে অন্য কিছুও করে ফেলতে পারি, যেমন ধরো যেটা বাসর রাতে হওয়ায় কথা, আর এখন তুমি বারণ করলেও আমি শুনবো না , আমার পুরো অধিকার আছে, আর চিৎকার করলে বাড়ির লোক ভাববে কিরিস তার বউকে একটুও ছেড়ে দেয় না, রাতে করে হয়নি তাই এখনও আবার করছে, বুঝতে পেরেছো মিসেস কিরিস। ”
লিসি একটা শুকনো ঢোক গেলে কিরিস একটানা কথা গুলো বলেছে, আর যা বলেছে সবটাই সে করতে পারবে। লিসি পরেছে মুসকিলে কি করবে ভেবে পারছে না , একটু ভেবে ঠিক করলো করবে সে কিস, এমনিতেই এটা তো প্রথম না, কিরিস এইদিকে লিসির ঠোঁটে দিকে তাকিয়ে আছে অদ্ভুত দৃষ্টিতে, কিরিস ঠান্ডা গলায় বলে —“ তাহলে লিসি শার্মা ওহ্হ না লিসি রায় চৌধুরী নিজেকে আমার করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত..... ”
কথা শেষ করার আগে লিসি তার নরম গোলাপের ন্যায় ঠোঁট দুটি কিরিসের ঠোঁটে মিশিয়ে দেয় কিরিস মুচকি হেসে লিসির ঠোঁটে কিস করতে থাকে, প্রতি সেকেন্ড যেন কিস টা আরো গভীর হচ্ছে। কিরিস তাকে আরও কাছে টেনে নিল। তাদের মুখ এতটাই কাছাকাছি গাল দুটো প্রায় একে অপরের সাথে মিশে গেছে। কিরিসের হাত আলতো করে লিসির গালের পাশে। আর লিসির আঙুলগুলো অজান্তেই কিরিসের শার্ট আঁকড়ে ধরেছে।
চুমুর মাঝে তাদের নিঃশ্বাস এক হয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতরে তখন এক অদ্ভুত নরম নীরবতা শুধু দুজন মানুষের খুব কাছাকাছি থাকার উষ্ণতা। মনে হচ্ছে যেন এই মুহূর্তে পৃথিবীতে আর কেউ নেই… শুধু কিরিস আর লিসি।
ঠিক তখনই—
টক টক টক!
দরজায় জোরে নক পড়ল।
বাইরে থেকে আরোবির গলা।
“ভাইয়া! ভাইয়া দরজা খোল!”
বিছানার উপরেই লিসি এক ঝটকায় সোজা হয়ে গেল।
কিন্তু কিরিস বিরক্ত হয়ে চোখ বন্ধ করল।
আস্তে করে লিসির ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে নিচু গলায় বলল—
“এই মেয়েটা সকাল সকাল শুরু করল…”
বাইরে আবার নক।
“ভাইয়া! শুনছো? দাদির ঘরে লিসি নেই!”
কিরিস বিরক্ত গলায় জোরে বলল—
“দাদির ঘরে থাকবে কেন?”
এক সেকেন্ড থেমে খুব স্বাভাবিক গলায় বলল—
“আমার বউ আমার ঘরে…আমার বিছানায়…
আমার সঙ্গে, আমার নিচে শুয়ে আছে।”
এই কথা শুনে লিসির চোখ একদম গোল।
মনে মনে—
“আমার নিচে শুয়ে আছে—এটা বলার দরকার ছিলো নাকি !”
লিসি অবাক হয়ে কিরিসের দিকে তাকিয়ে আছে।
ওদিকে দরজার বাইরে পুরো নীরবতা। মনে হচ্ছে আরোবি একদম থেমে গেছে। কিরিস ভ্রু কুঁচকে দরজার দিকে তাকিয়ে আবার বলল—
“কি হলো? চুপ কেন?”
কোনো উত্তর নেই। কিরিস এবার একটু জোরে বলল
— “এই! গালের হা টা বন্ধ করে দরজার সামনে থেকে সরে যা।”
লিসি হতবাক।
— “আপনি কিভাবে জানলেন ও গাল হা করে আছে?”
কিরিস তখন লিসির দিকে তাকিয়ে হালকা একটা দুষ্টু হাসি দিল। তার চোখে সেই আত্মবিশ্বাসী এক্সপ্রেশন—
যেন সে সবকিছু আগেই বুঝে ফেলে।
— “ওকে আমি চিনি।”
বাইরে তখন আরোবির আস্তে আস্তে হাঁটার শব্দ।
নিজে নিজে বিড়বিড় করছে—
“না করছি না… না করছি না… আমি কিছুই শুনিনি…”
তারপর একটু দূরে গিয়ে আবার থামল। আর জোরে বলল—
“লিসি... ভাবি!”
লিসি তো আরও লজ্জায় লাল। আরোবি আবার বলল—
“বড় আম্মু নিচে ডাকছে!”
একটু থেমে দুষ্টু গলায় যোগ করল—
“তোমরা… মানে… সময় পেলে নিচে আসো!”
লিসি সঙ্গে সঙ্গে কিরিসের বুক চাপড়ে বলল—
“সব আপনার জন্য হয়েছে!”
কিরিস হাসি চেপে বলল—
“আমার জন্য?”
লিসি লজ্জা আর রাগে বলল—
“হ্যাঁ!”
কিরিস ধীরে আবার তার দিকে ঝুঁকে এল। তার চোখে দুষ্টু ঝিলিক। নিচু গলায় বলল—
“তাহলে শাস্তি হিসেবে… আরেকটা চুমু তো পাওনা।”
লিসি দ্রুত বলে —“ না একদম না,, আমি এবার নিচে যাবো ”
বলে লিসি কোনো মতে কিরিস কে সরিয়ে বিছানা থেকে উঠে আসে, কিরিস বিছানায় আধশোয়া হয়ে আছে, লিসির দিকে তাকিয়ে আছে এক নজরে, লিসি ওয়াশরুমের দিকে যেতে যাবে তখন কিরিস বলে —
“ গোসলও করে নিও ”
লিসি ভুরু কুঁচকে বলে —“ মানে! গোসল করতে যাবো কেন? ”
কিরিস মুখে দুষ্ট হাসির ছাপ রেখে বলে —“ বাহ,বাসর রাত করবে গোসল করবে না ”
লিসি লজ্জা মাখা কন্ঠে বলে —” কিছু করিনি যখন, তখন গোসল করবো কেন? ”
কিরিস বিছানা থেকে উঠে বসে লিসির দিকে ঘোর নজরে তাকিয়ে বলে —“ তাহলে চলো কিছু করি তারপর গোসল করো ”
লিসি চোখ বড় করে —“ কি.....,,না দরকার নেই, আমি গোসল করবো, আপনাকে কিছু করতে হবে না ”
বলে লিসি দৌড়ে ওয়াশরুম চলে যায় কিরিস হেসে আবার বিছানায় সুয়ে পরে চারপাশের পরিবেশ টা দেখে সব কেমন যেন স্বপ্নের মতে লাগছে কিরিসের কাছে, হঠাৎ লিসি বের হয়ে আসে কিরিস ওর দিকে তাকায় লিসি বাইরে যেতে যাবে তখন কিরিস আবার বলে —
“ গোসল করো নি ”
লিসি কথা ঘুরিয়ে বল—“ আমার তো জামা এখানে নেই তাই আরোবি ...... ”
কিরিস কথা কেটে বলে —“ কে বলেছে? তোমার যা যা লাগে সব আছে, তেমার সাইজের, তোমার প্রয়োজনীয় সব জিনিস থেকে শুরু করে দাঁত ব্রাশ করার ব্রাশ পর্যন্ত সবকিছু আছে তাই চুপচাপ ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে গোসল করে বেরিয়ে আসো ”
লিসি আর কথা বাড়ালো না সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলো। কিরিস আবার সুয়ে পরে। বেশ কিছুক্ষণ পরে ওয়াশরুমের দরজা আস্তে খুলে—
লিসি বের হলো। তার গায়ে হালকা শাড়ি, একদম সিম্পল… কিন্তু ভেজা শরীরের উপর শাড়িটা যেন আরও কোমল হয়ে লেগে আছে। চুলগুলো পুরো ভেজা, আর সে টাওয়াল দিয়ে ধীরে ধীরে মুছছে। জলবিন্দুগুলো চুল বেয়ে গড়িয়ে গলায় এসে থামছে। সে একটু মাথা নিচু করে চুল মুছতে মুছতে সামনে এগোল। ঠিক তখনই—
খাটে শুয়ে থাকা কিরিস চোখ খুলল। তার দৃষ্টি সোজা গিয়ে থামল লিসির উপর। কয়েক সেকেন্ড…
সে একদম স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল। তার চোখে সেই চেনা কঠোরতা নেই বরং এক অদ্ভুত, গভীর নরমতা। যেন এই দৃশ্যটা সে বহুদিন ধরে কল্পনা করেছে। ধীরে উঠে বসল কিরিস। লিসি তাকাতেই একটু থমকে গেল।
দুজনের চোখ এক মুহূর্তের জন্য আটকে গেল।
তারপর কিরিস কিছু না বলে উঠে দাঁড়াল…
এবং সরাসরি ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। লিসিও নিজের মতো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে থাকে।
ওয়াশরুমের ভেতর চারপাশে এখনও পানির ছিটে, আয়নায় হালকা কুয়াশা। কিরিস ভেতরে ঢুকে থেমে গেল। তার চোখ ধীরে ধীরে ঘুরে দেখল চারপাশ। ধীরে ধীরে সে চোখ নামাল চারপাশে।
বেসিনের পাশে দুটি টুথব্রাশ। একটা তার, আরেকটা নতুন… লিসির। পাশেই পাশাপাশি রাখা দুটো তোয়ালে—
একই সেট, একসাথে ঝুলছে। পাশে রাখা বডি ওয়াশ—
ঢাকনাটা একটু খোলা।

0 Comments