পর্ব :58
রিহান পরে বলে —“ হ্যাঁ কিরিস যাওয়ার আগে ১ মাসের কাজ শেষ করে গেছে, তাই ও যদি একমাস অফিসে নাও আসে তাহলেও অফিস বিন্দাছ চলবে ”
কাবির —“ হুম বাবা আমরা গেলাম ”
ওরা দুইজন বের হয়ে গেলো, মেয়েরাও আর খেলো না উঠে উপরে চলে গেলো, উপরে যেতে নুসরাত বলে — “ তোমরা একটা কাজ করো, ছাদে চলো সবাই আর আমি কিছু খাবার নিয়ে আসছি ”
পরিস্থিতি টা একটু ভালো করার জন্য সুরভী বলে —“ এই জারা তুই নুসরাতের সাথে খাবার নিয়ে মনে রাখিস, কোল্ড ড্রিংক নিয়ে আসবি আর লিসি, আরোবি তোরা চল উপরে ”
ওরা সব-কয়টা আর কিছু বলবো না সবাই উপরে চলে গেলো। বড়রা নিচে বসে আছে বর্তমানের কিরিসের চলে যাওয়ার কথা নিয়ে ভাবছে।
অন্য দিকে নুসরাত হালকা কিছু খাবার নিয়ে ছাঁদের উপর যায়। ছাঁদের উপর লিসি, জারা, আরোবি, সুরভী বসে আছে একটু পরে নুসরাত খাবার নিয়ে হাজির হয়,
আরোবি —“ আচ্ছা লিসি ভাইয়া তোকে কিছু বলে নি ”
লিসি শান্ত ভাবে মাথা নাড়িয়ে না উত্তর দিলো।
সুরভী —” দুঃখের বিষয়, ভাইয়ার কাছে ফোন দিও লাভ নাই, ও নিশ্চিত ফোনের সিম খুলে রেখেছে ”
লিসি একটু শান্ত গলায় বললো — “ আচ্ছা হঠাৎ চলে যাওয়ার কোনো কারণ আছে কি? ”
জারা—“ নাহ,, কিন্তু মনে হয় ভাইয়া এবার আসলে নিশ্চয় বড় কিছু করবে, ”
আরোবি —“ হুম হয়তো এটা সিনেমার আগের ট্রেলার ”
এরমধ্যে নুসরাত বলে —“ আচ্ছা বাদ দাও, ভাইয়া দেখবে চলে আসবে ”
এরমধ্যে বাড়ির কাজের লোক উপরে চলে এসেছে, এসে লিসির দিকে তাকিয়ে বলে —“ তোমাকে তোমার নানু ডাকছে দ্রুত নিচে যেতে বললো, কি নাকি জরুরি কথা বলবে! ”
লিসির বুকটা একটু ভারি হয়ে উঠলো তারপরেও চুপচাপ উঠে দাঁড়ালো। আরোবি একটু বিস্মিত হয়ে বললো —“ এখন বার দাদি লিসির সাথে কি কথা বলবে! ”
লিসি এগিয়ে গিয়ে বলে —“ জানি আমি নিচে যাচ্ছি ”
লিসি সোজা নিচে চলে যায় মির্জা বেগমের ঘরে যেখানে বড়রা আছে এবার লিসির একটু ভয় লাগতে শুরু করে, কেউ আবার তার আর কিরিসের সম্পর্কে কিছু জানতে পারিনি তো, তারপর বুকে একটু সাহস নিয়ে এগিয়ে যায়।
ঘরের ভেতর এক অদ্ভুত চুপচাপ ভাব। মির্জা বেগমের বড় ঘরে আজ সবাই বসে আছে—প্রিয়া, সুপ্রিয়া, আনোয়ার, আনারুল। কারো মুখেই হাসি নেই। এমন সময় ধীরে ধীরে দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় লিসি।
তার চোখদুটো কেমন ক্লান্ত… কিরিস বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে যেন পুরো বাড়িটার রংই ফিকে হয়ে গেছে।
মির্জা বেগম গম্ভীর মুখে তাকালেন তার দিকে।
— “এই যে লিসি, এখানে আয় মা।”
লিসি চুপচাপ ভেতরে এসে বসল।
মির্জা বেগম ধীরে ধীরে বললেন—
— “তোমার দাদু আমার কাছে ফোন দিয়েছে। তোমাকে রেশমপুরে যেতে বলেছে। আর আমিও হ্যাঁ বলেছি।”
ঘরে হালকা নীরবতা নেমে এল।
তিনি আবার বললেন—
— “তুই তো জানিস, তোর দাদু জানতে পেরেছে তোর এখানে কোন কাজ নেই, শুধু শুধু বসে আছিস। তাই তোকে পাঠিয়ে দিতে বলেছে।”
লিসির বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।
‘কোন কাজ নেই?’ — কথাটা কানে বাজল।
পাশ থেকে প্রিয়া নরম গলায় বলল—
— “হ্যাঁ লিসি, যাও না। তোমার দাদু যেতে বলেছে, অনেকদিন দেখা করেনি। দেখা করে আসো।”
সুপ্রিয়াও মাথা নাড়লেন—
— “যাও মা, একটু ঘুরেও আসবে। মনটাও ফ্রেশ হবে।”
আনারুল বলল—
— “রেশমপুর তো তোমার নিজের বাড়ি। গেলে খারাপ কী?”
মির্জা বেগম এবার একটু নরম স্বরে বললেন—
— “দাড়া, আমার আলমারি থেকে তোর শাড়িটা নিয়ে যা। দেখ, গয়না আছে—ওগুলো পড়ে যাস। তোর দাদু তোকে শাড়ি ছাড়া দেখলে আমাকে আস্তো রাখবে না।”
কথার ভেতরে হাসির সুর থাকলেও লিসির কাছে সবকিছু কেমন ভারী লাগছে। এই সময় আনোয়ার গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন—
— “তোমাকে দিতে কাবির যাবে। ওর সঙ্গে কথা বলেছি। ও অফিস থেকে একটু পরে আসছে। তুমি গুছিয়ে নাও, তোমাকে ছেড়ে আসবে।”
ঘরে সবাই যেন বিষয়টা একেবারে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে।
কিন্তু লিসির ভেতরে ঝড়। কিরিস বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে…
সেই দিন থেকে তার মনে হচ্ছে বাড়িটা যেন ফাঁকা।
এখন সেও চলে যাবে?মকেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি…
যেন কেউ তাকে আলতো করে সরিয়ে দিচ্ছে এখান থেকে। তার গলা শুকিয়ে গেল। কিছু বলতে চাইল… কিন্তু বলল না। শুধু মাথা নিচু করে ধীরে বলল—
— “ঠিক আছে… ।”
মির্জা বেগম আলমারির চাবিটা তার হাতে দিলেন।
লিসি চুপচাপ আলমারি খুলে একটা গাঢ় রঙের শাড়ি আর গয়নার বাক্সটা হাতে নিল। সবাইয়ের সামনে আর দাঁড়াল না। ধীরে ধীরে ঘর থেকে বের হয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল। তার পায়ের শব্দটাও আজ কেমন ভারী শোনাচ্ছে… উপরে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় সে। শাড়িটা বিছানার উপর রেখে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে।উপরে নিজের ঘরে শাড়ি বিছিয়ে বসে আছে লিসি। নিচে ইতিমধ্যে খবর ছড়িয়ে গেছে—লিসি রেশমপুর যাচ্ছে। ঘরে একে একে ঢুকে পড়ল মেয়েরা—আরোবি,জারা, সুরভী, নুসরাত… সবার মুখ কেমন ভারী।
আরোবি তো ঢুকেই লিসিকে জড়িয়ে ধরল।
— “তুই চলে যাবি? এখনই?”
তার গলাটা কেঁপে উঠল। চোখ ভিজে গেল মুহূর্তেই। লিসি হালকা হেসে তার চোখ মুছে দিল।
— “আরেহ পাগলি, আমি কি চিরদিনের জন্য যাচ্ছি? আবার তো আসবো। একটু গিয়ে ঘুরে আসি, দাদুকে দেখে আসি।”
জারা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল—
— “তোর ছাড়া বাড়িটা একদম ফাঁকা লাগবে।”
লিসি মজা করে বলল—
— “বাড়ি ফাঁকা হবে কেন? তোমরা তো আছো! আর আমি তো ফোনে সারাক্ষণ বিরক্ত করবো।”
তার হাসিটা সুন্দর… কিন্তু চোখের কোণে লুকানো কষ্ট কেউ দেখল না।
সুরভী —“ যাবি ঠিক কথা কিন্তু এই শাড়ি পরার কি দরকার! ”
নুসরাত —“ হয়তো কোনো কারণ আছে, আমরা নিচে যাচ্ছি। লিসি তুমি গুছিয়ে আসো। ”
কথাটা বলার পরে ওরা নিচে চলে গেলো।
ধীরে ধীরে শাড়ি পরে নিল সে। গয়নাগুলোও পড়ল—একটা নরম, রাজকীয় আভা যেন ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে। খোলা চুলগুলো আরো যেন তার সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর নিচে নামল।
মির্জা বেগম সোফায় বসে আছেন। প্রিয়া, সুপ্রিয়া পাশে।
লিসিকে শাড়িতে দেখে যেন সবাই মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। আরোবি হঠাৎ বলেই ফেলল—
— “দাদি, ওকে শাড়ি পরে পাঠাচ্ছেন কেন? বিয়ে দিচ্ছেন নাকি?”
ঘরে হালকা হাসির ঢেউ উঠল। মির্জা বেগম চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন—
— “আরে না রে! রেসমপুর,ওখানে মেয়েরাই প্রায় শাড়ি পরে। আর প্রসঙ্গ যখন খান বাড়ির মেয়েদের…”
তিনি একটু গলা সোজা করলেন। কণ্ঠে গর্ব স্পষ্ট।
— “খান বাড়ির মেয়েরা শাড়ি আর গয়না ছাড়া ঘর থেকে বেরই হয় না। এটা আকবর খানের আদর্শ।”
সবাই চুপ হয়ে শুনছে।
— “ওখানে এখনো জমিদারি শুধু নামেই না, মানসিকতায় চলে। আকবর খান আজও রেশমপুরে জমিদারি করেন—মান, মর্যাদা, নিয়ম, ঐতিহ্য সব আগের মতোই আছে।”
তার কণ্ঠে যেন ইতিহাসের ভার।
— “ওই গ্রামাঞ্চলে এখনো মানুষের সম্পর্কের দাম আছে। বড়দের সামনে মাথা নিচু করে কথা বলে, মেয়েরা শালীনতা নিয়ে চলে। খান বাড়ির মেয়েরা সেখানে শুধু পরিবারের না—ওরা ঐতিহ্যের প্রতীক।”
আরোবি চুপচাপ শুনছে। মির্জা বেগম এবার নরম স্বরে বললেন—
— “লিসি শুধু আমাদের বাড়ির মেয়ে না। ও খান বাড়ির একমাত্র আদরে মেয়ে। ওখানে এখনো সন্ধ্যা হলে জমিদার বাড়ির সামনে লোকজন সালাম দিতে আসে। উৎসব হলে পুরো গ্রাম একসাথে দাঁড়ায়। সেই আবেগ এখনো মরে যায়নি।”
সুরভী মুগ্ধ গলায় বলল—
— “সত্যি বলতে কি, তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে রেশমপুরে গেলে মনে হয় সময় থেমে আছে।”
মির্জা বেগম মাথা নাড়লেন।
— “তাই বলছি, লিসি শাড়ি গয়না পড়েই যাবে। কারণ ও শুধু মেয়ে না—ও একটা ঐতিহ্য বহন করে।”
ঘরের পরিবেশটা গম্ভীর অথচ গর্বে ভরা। ঠিক তখন বাইরে গাড়ির শব্দ শোনা গেল। আনোয়ার উঠে জানালার দিকে তাকালেন।
— “কাবির এসে গেছে।”
আরোবি আবার লিসিকে জড়িয়ে ধরল।
— “তুই কিন্তু তাড়াতাড়ি ফিরে আসবি।”
লিসি হেসে বলল—
— “হ্যাঁ রে, খুব তাড়াতাড়ি।”
কিন্তু তার চোখ একবার অকারণে সিঁড়ির দিকে গেল…
মনে হলো—কেউ কি থামাবে না তাকে?
কেউ না। কাবির ইতিমধ্যে নিচে দাঁড়িয়ে আছে।
তার চোখেও কেমন এক অদ্ভুত গম্ভীরতা।
লিসি ধীরে ধীরে দরজার দিকে হাঁটতে লাগল—
শাড়ির আঁচল মাটিতে হালকা ছুঁয়ে যাচ্ছে। আর এই দিকে আরোবি বাচ্চাদের মতো কান্না করছে ফুফিয়ে ফুফিয়ে লিসি দরজার থেকে বের হওয়ার আগে আরোবি বলে —“ ওখানে পৌঁছে আমার কাছে ফোন দিবি ”
সূর্য তখন পশ্চিমে হেলে পড়েছে। সোনালি আলো ধানক্ষেতের ওপর ঝিলিক দিচ্ছে। কাঁচা রাস্তা ধরে কালো রঙের গাড়িটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। গ্রামের মানুষজন দূর থেকেই বুঝে গেছে খান বাড়িতে যাবে এই গাড়ি। রাস্তার দুপাশে কৌতূহলী চোখ। বয়স্ক মানুষজন লাঠি ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে, ছোট ছেলেরা দৌড়ে খবর দিচ্ছে—
— “বড় সাহেবের নাতনি আইতাছে!”
খান বাড়ির বিশাল ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে আগেই।
লোহার ভারী গেটের ওপরে খোদাই করা—
“খান মঞ্জিল”
গাড়ি ঢুকতেই ভেতরের উঠান যেন এক মুহূর্তে স্থির হয়ে গেল। সামনে বিশাল দোতলা পুরনো জমিদার বাড়ি—
উঁচু বারান্দা, বড় বড় স্তম্ভ, সাদা দেওয়াল, লাল টালির ছাদ। দরজার সামনে কয়েকজন কর্মচারী সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে। গাড়ি থামল। কাবির আগে নামল। চারপাশে একবার তাকাল—তার চোখে সম্মান, কিন্তু এই পরিবেশ তার নিজের না। তারপর গাড়ির দরজা খুলল। ধীরে ধীরে নামল লিসি। গাঢ় রঙের শাড়ি, হালকা গয়না, হাতে আঁচল টেনে। মাটিতে পা রাখার মুহূর্তে যেন পুরো উঠান নিঃশব্দ। গ্রামের এক বৃদ্ধ ফিসফিস করে বলল—
— “একদম আকবর খানের মেয়ের মতন চেহারা…”
আরেকজন বলল—
— “রক্ত চিনতে ভুল হয় না।”
বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন আকবর খান। সাদা পাঞ্জাবি, চাদর কাঁধে, হাতে লাঠি— চোখে সেই পুরনো জমিদারি কঠোরতা, কিন্তু ভেতরে নরম স্নেহ। লিসি মাথা নিচু করে এগিয়ে গেল। তার পায়ের নূপুরের শব্দ উঠানে প্রতিধ্বনি তুলছে। সামনে গিয়ে ধীরে ঝুঁকে সালাম করল—
— “দাদু…”
আকবর খানের কঠিন মুখটা কাঁপল সামান্য।
— “আয় মা।”
তার গলায় গাম্ভীর্য, কিন্তু চোখে গর্ব।
— “খান বাড়ির মেয়ে হয়ে এসেছিস… ভালো লাগলো।”
চারপাশের লোকজন মাথা নিচু করে সালাম দিল।
— “আসসালামু আলাইকুম, বুবুজান।”
এই একটা সম্বোধনেই বোঝা যায় এখানে লিসি শুধু মেয়ে না, সে খান বাড়ির উত্তরাধিকার। আকবর খান ধীরে বললেন—
— “মনে রাখিস, এই বাড়িতে মেয়েরা শুধু সংসার না, মান-মর্যাদা সামলায়।”
লিসি মাথা নাড়ল। তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি গর্ব, দায়িত্ব, আর কোথাও একটা শূন্যতা।
কারণ এই রাজকীয় অভ্যর্থনার মাঝেও তার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—“ কিরিস কে তাকে মনে করছে না ”
দূরে আকাশে হালকা মেঘ জমছে।
আকবর খানের সাথে দেখা শেষ করে লিসি যখন ভেতরের সিঁড়ির দিকে উঠতে যাবে, তখন হালকা বাতাসে তার লম্বা চুল পেছনে উড়ে গেল। শাড়ির আঁচল ঠিক করতে গিয়ে হঠাৎ— চুলের এক গোছা গিয়ে আটকে গেল তার কানের পাশের ঝুমকা গয়নায়।
— “উফ্…”
সে হাত দিয়ে টান দিতে গিয়ে থেমে গেল।
চুল এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে টান দিলেই মাথায় ব্যথা লাগছে। কাবির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। লিসি একটু অস্বস্তি নিয়ে তাকাল তার দিকে।
— “এই… একটু দেখো তো ভাইয়া, আটকে গেছে।”
কাবির এগিয়ে এসে চোখ ছোট করে দেখল।
— “তোরা মেয়েরা এই চুল কি করে এমন বাঁধিয়ে ফেলিস বল তো?”
সে হাসল।
— “তোর ভাগ্য ভালো, আমি ট্রেনিং প্রাপ্ত। এইরকম কাজ আমি বহুবার করেছি।”
লিসি ভ্রু তুলল। কাবির গুনে গুনে বলতে লাগল—
— “কখনো আরোবির, কখনো সুরভীর… আর তিশার কথা তো বলাই লাগবে না! ওদের চুল ছাড়াতে ছাড়াতে আমার ডিগ্রি হয়ে গেছে।”
লিসি মুচকি হেসে বলল—
— “হুম, জানি। নাও, এবার ছাড়িয়ে দাও।”
কাবির সাবধানে তার চুল হাতে নিল।
— “একটু ব্যথা পাবি মনে হয় মাথায়… দাঁড়া…”
সে আস্তে আস্তে গয়নার ফাঁক থেকে চুল বের করতে লাগল। কিন্তু শেষ অংশটা শক্ত হয়ে জড়িয়ে গেছে।
— “এইবার একটু টান দিতে হবে।”
বলেই হালকা জোরে টান দিল।
— “আহ্!”
লিসি হালকা চিৎকার করে উঠল। ঠিক সেই মুহূর্তে—
বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা আকবর খানের কান খাড়া হয়ে গেল। তিনি চোখ লাল করে ঘুরে দাঁড়ালেন।
— “কে?”
পরের মুহূর্তেই তার চাদরের নিচ থেকে বের হলো চকচকে বন্দুক। দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে সোজা কাবিরের মাথায় ঠেকিয়ে দিলেন।
— “খান বাড়ির মেয়ের গায়ে হাত দিস কে?”
পুরো উঠান নিঃশব্দ। কাবির জমে গেল।
দুই হাত উপরে তুলে বলল—
— “আ… আঙ্কেল! না না না! ভুল বুঝছেন!”
তার মুখ শুকিয়ে গেছে।
— “আমি কিছু করি নাই! চুল… চুলের সাথে গয়না… মানে… আটকে গেছিল!”
সে তোতলাতে লাগল।
— “আমি তো রেসকিউ মিশনে ছিলাম!”
চারপাশে কর্মচারীরা থমকে দাঁড়িয়ে। লিসি ব্যথা ভুলে দ্রুত বলল—
— “দাদু! না না, ও কিছু করেনি। আমার চুল আটকে গেছিল। ও শুধু ছাড়াচ্ছিল।”
আকবর খানের চোখ তখনো কঠোর।
— “খান বাড়ির মেয়ে মানে শুধু নাতনি না… ও আমার সম্মান।”
তার কণ্ঠ গর্জে উঠল।
— “এই বাড়িতে কেউ ওর চোখের জল দেখলে তার জবাব দিতে হবে।”
কাবির গিলল।
— “আল্লাহ কসম, আমি তো শুধু হেল্প করতেছিলাম! উপর থেকে মির্জা দাদীও বলছে—নিয়ে—নিয়ে যা, দিয়ে যা… এখন যদি গুলি খাই তাহলে কিন্তু অন্যায় হবে!”
একজন পুরনো কর্মচারী কষ্টে হাসি চেপে আছে। লিসি এবার মৃদু হেসে দাদুর হাত ধরে বলল—
— “দাদু, সত্যি বলছি, ও দোষী না। আমি নিজেই বলেছি ছাড়াতে।”
আকবর খান কয়েক সেকেন্ড কাবিরের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে বন্দুক নামালেন।
— “খেয়াল রাখবি। ও এই বাড়ির মেয়ে। ওর মাথায় একটা চুলও যদি কষ্ট পায়…”
কাবির দ্রুত মাথা নাড়ল—
— “না না! আর না! এখন থেকে তিন ফুট দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলব!”
উঠানে চাপা হাসির শব্দ ছড়িয়ে পড়ল। লিসি নিচু হয়ে হাসল। কাবির ধীরে ফিসফিস করে বলল—
— “তোর জন্য একদিন গুলিই খাইতাম বুঝলি!”
লিসি চোখ টিপে বলল—
— “ট্রেনিং প্রাপ্ত তো, সামলে নিও।”
দূরে দাঁড়িয়ে আকবর খান সব দেখছেন। তার চোখে কঠোরতা আছে, কিন্তু ভেতরে গোপন হাসি— কারণ আজ তিনি নিশ্চিত হলেন তার নাতনি শুধু সুন্দর না,
তার জন্য কেউ ভয় পেতেও রাজি।
লিসি আর কিছু বলে না সোজা উপরে উঠে গেছে।
আকবর খান লাঠি ঠুকতে ঠুকতে দাঁড়িয়ে আছেন উঠানের মাঝখানে। আর কাবির?
সে পুরো অবাক। এই বিশাল দোতলা জমিদার বাড়ি… পুরনো খোদাই করা স্তম্ভ… বারান্দার কারুকাজ… উঠানে পুরনো আমগাছ… তার চোখ চকচক করছে।
— “ও মা… সিনেমার সেট নাকি?”
পকেট থেকে ফোন বের করল। ক্লিক। ক্লিক। ক্লিক।
— “এইটা তো রিল বানানোর মতো জায়গা!”
ঠিক তখনই গম্ভীর গলা—
— “তুমি কে?”
কাবির জমে গেল। ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল।
আকবর খান ভুরু কুঁচকে দাঁড়িয়ে।
— “মুরগির বাচ্চার মতো.. আমার বাড়িতে ঘুরঘুর করছো কেন?”
কাবিরের মুখ শুকিয়ে গেল।
— “জি?”
— “আমার সোনা লিসিকে রাখতে এসেছো, গাড়ি চালক নাকি! নাকি আমার নাতনির উপর তোমার নজর আছে ?”
কাবির দুই হাত নেড়ে বলল—
— “না না না! আল্লাহ বাঁচাও! আমি তো এসেছি রেখে যেতে!”
তারপর মনে মনে ফিসফিসিয়ে বলে —“ লিসির উপর নজর দিলে আপনার আগে আমার ভাই আমাকে কবরে পাঠিয়ে দিবে ”
চারপাশের লোকজন মুখ নিচু করে হাসি চাপছে।
এবার আকবর খান আবার কাবিরের দিকে ফিরলেন।
— “তুমি কে?”
কাবির এবার সোজা হয়ে দাঁড়াল।
— “আমি… ওর মামাতো ভাই।”
— “কেমন?”
— “আপনার না মানে, মির্জা বেগমের বড় ছেলে আনোয়ারের ছোট ছেলে কাবির। মা সুপ্রিয়া। আর বমার বড় ভাইয়া জিয়ান.....”
শব্দটা শোনা মাত্র কাবিরকে আর পরের কথা বলতে দিলো না আকবর খান তিনিই বলে উঠে —
“জিয়ান ?”
আকবর খানের মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল। চোখে বিস্ময়। তারপর ধীরে ধীরে কঠোরতা নরম হলো।
— “তুমি জিয়ানের ভাই?”
— “জি… হ্যাঁ।”
হঠাৎ আকবর খান এগিয়ে এসে কাবিরকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। উঠান আবার অবাক।
— “আরে! জিয়ানের ভাই!”
কাবির তো হতবাক।
— “এইটা তো স্ক্রিপ্টে ছিল না…” সে ফিসফিস করল।
আকবর খান গম্ভীর গলায় বললেন—
— “তোমার ভাই কেন আসেনি? আমি ওর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”
কাবির চোখ বড় বড় করল।
— “আপনি… ভাইয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন?”
— “ওকে আমি চিনি। নাম শুনেছি। ছেলে শক্ত, মাথা ঠান্ডা না… কিন্তু মান রাখে।”
কাবির হালকা হেসে বলল—
— “ঠান্ডা? ভাইয়া? দাদু, ওর মাথায় বরফ রাখলেও পাঁচ মিনিটে ফুটে যাবে।”
উঠানে চাপা হাসি। কাবির আবার বলল—
— “কিন্তু একটা কথা বলি, ভাইয়া যেখানে দাঁড়ায়, ওখানে লোকজন নিজে থেকেই সোজা হয়ে যায়।”
— “আর রাগলে?” আকবর খান ভুরু তুললেন।
— “রাগলে… আমরা ছোট ভাইয়েরা দূরে সরে যাই। সেফ ডিস্ট্যান্স।”
একজন পুরনো কর্মচারী হেসে ফেলল। আকবর খান মুচকি হাসলেন।
— “জিয়ান … নামটা রেশমপুরেও শোনা যায়।”
কাবির ভেতরে ভেতরে ভাবল ভাইয়া তো এখানে না এসেও সেলিব্রিটি!
দেখতে দেখতে দুপুর হলে গেলো, কাবির ভিতরে গিয়ে প্রথম ফ্রেশ হয়ে নিছে তারপর নিচে খাবার ঘরে গিয়ে বসে।
দুপুরে বিশাল ডাইনিং হল সাজানো হলো।
লম্বা কাঠের টেবিল রূপার থালা। সাদা ভাত, ঘি, খাসির রেজালা, গরুর কালিয়া, মুরগির রোস্ট, কোরমা, শুটকি ভর্তা, ডাল, পাঁচরকম ভাজি… শেষে মিষ্টি দই, ক্ষীর, জিলাপি। আকবর খান নিজে বসে খাওয়াচ্ছেন।
— “খাও বাবা। খান বাড়িতে অতিথি না, আত্মীয় এলে কমতি হয় না।”
কাবির তো চোখ বড় বড় করে খাচ্ছে।
— “দাদু, এভাবে যদি আর দুইদিন থাকি, বাড়ি গিয়ে জিমে ডাবল টাইম দিতে হবে।”
লিসি পাশে বসে মুচকি হাসছে। আকবর খান বললেন—
— “জিয়ান এলে বলো, আমি ডেকেছি। অনেক কথা আছে।”
কাবির মাথা নাড়ল।
— “জি। বলব।”
বিকেলের আলো নরম হয়ে এসেছে।
গাড়ি প্রস্তুত লিসি বারান্দায় দাঁড়িয়ে।
কাবির নিচে দাঁড়িয়ে বলল—
— “সাবধানে থাকিস। আর দাদুকে কষ্ট দিবি না।”
লিসি হেসে বলল—
— “তুমি গিয়ে বলবে না কিন্তু আমি আহ্ করে চিৎকার করেছিলাম।”
— “ওইটা আমি ভুলেই গেছি! আজকে আমার জীবন প্রায় শেষ হয়ে গেছিল।”
দুজনেই হেসে ফেলল। আকবর খান গম্ভীর গলায় বললেন—
— “সাবধানে যেও। আর জিয়ানকে বলো—রেশমপুরে তার জন্য দরজা খোলা।”
কাবির সোজা হয়ে সালাম দিল। গাড়ি ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল খান মঞ্জিল থেকে। দূরে দাঁড়িয়ে লিসি দেখছে।
রেশমপুরে আজ একটা অদ্ভুত সেতু তৈরি হলো খান বাড়ি আর রায় চৌধুরী বাড়ির মাঝে। আর কোথাও… জিয়ান নাম আজও ভারী হয়ে বাজছে।
অন্য দিকে ফ্রান্স......
জেট ধীরে ধীরে রানওয়ে ছুঁলো। বাইরে ঠান্ডা হাওয়া।
আকাশ ধূসর। দরজা খুলতেই কালো কোট উড়িয়ে নামলো কিরিস। তার পা মাটিতে পড়তেই চারপাশের লোকেরা এক ধাপ পেছালো। এটা সম্মান না। এটা ভয়।
মার্ক পাশে এসে বললো—
— “লোকেশন কনফার্ম। ডেলাক্রোয়ার সেকেন্ড লাইন আজ রাতে মিটিং করবে।”
কিরিস চারপাশে তাকালো। প্যারিস শহর দূরে, শান্ত।
কিন্তু তার চোখে শহরটা এখন একটা দাবার বোর্ড।
— “তারা ভাবে আমি শুধু কনট্রাক্ট সাইন করতে এসেছি।”
তার ঠোঁটে শীতল হাসি।
— “ভুল বোর্ডে খেলছে।”
কিরিস সোজা গিয়ে গাড়িতে উঠলো। তিনটা কালো গাড়ি দ্রুত এগোচ্ছে। ভেতরে বসে কিরিস ফাইল দেখছে না।
সে জানালার বাইরে তাকিয়ে। মার্ক বললো—
— “ফাইন্যান্স রুট কেটে দিলে ওদের তিন দিনের মধ্যে হাঁটু গেড়ে বসতে হবে।”
কিরিস মাথা নাড়লো না।
— “না। প্রথমে ওদের বিশ্বাস কেটে দাও।”
মার্ক চুপ।
— “ওরা ভেবেছে আমার পেছনে কেউ নেই।
আজ দেখাবে— আমার ছায়াই যথেষ্টে। ”
গাড়ি আপন গতিতে চলতে থাকে রাস্তায়।
অন্যদিকে আবার পুরনো ওয়্যারহাউস ভেতরে কয়েকজন ফরাসি লোক অপেক্ষা করছে। একজন সিগার খাচ্ছে, হাসছে।
— “ বাংলাদেশি বিজনেসম্যান নিজে এসেছে ইন্টারেস্টিং।”
দরজা খুললো। শব্দটা ধাতব সবাই ঘুরে তাকালো।
কিরিস ঢুকলো ধীরে। কালো স্যুট। হাতে গ্লাভস চোখে সেই ধোঁয়াটে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। সে কারও দিকে তাকালো না।
সোজা গিয়ে টেবিলের সামনে দাঁড়ালো।
— “ You know my name??।”
কেউ উত্তর দিলো না।
সে টেবিলে একটা ফাইল ছুঁড়ে দিলো।
— “ You have double-crossed this contract।”
ফরাসি লোকটা হেসে বললো—
— “Business is business।”
এক সেকেন্ড। পরের মুহূর্তে—
ধাপ!
কিরিস টেবিলের ওপর হাত রাখতেই পাশে থাকা তার লোক একজনকে চেয়ারে চেপে ধরলো। ঘরে নিস্তব্ধতা।
কিরিস নিচু হয়ে লোকটার মুখের কাছে বললো—
— “ No. Business is Trust. And if you break the trust... I break the you।”
তার চোখে রক্তহীন শীতলতা মার্ক ধীরে বললো—
— “বস, সিগন্যাল দিলেই ফাইন্যান্স লাইন অফ।”
কিরিস সোজা হয়ে দাঁড়ালো।
— “না। প্রথমে ওদের বুঝতে দাও আমি এসেছি।”
সে ধীরে ধীরে বললো—
— “আজ রাত থেকে প্যারিসে নতুন নিয়ম চলবে।”
ঘরের সবাই নিঃশ্বাস আটকে আছে।
— “আমার নিয়ম।”
কাট জানালার বাইরে আইফেল টাওয়ার দূরে দাঁড়িয়ে।
কিরিস আর কিছু বললো না শুধু মার্কের দিকে তাকিয়ে হাতার ইশারা কিছু বুঝিয়ে দিল মার্ক মাথা নিচু করে সাই জানালো। কিরিস উঠে দাঁড়ালো কাল থেকে কোন টাকা নেই লম্বা লম্বা পায়ে এগিয়ে গেল সামনের দিকে যেন কারোর পরও করেনা সে পিছনে পিছনে বডিগার্ড রাউট চলছে। একটা নিখুঁত চলাফেরা মানুষ যাকে দেখলে নিখুঁতের বর্ণনা পাওয়া যায়। এরপরে বিল্ডিং এর নিচে নামলো সোজা নিজের গাড়িতে উঠলো।
...........The Next Destination is K.L Villa...........
কালো কনভয় ধীরে ধীরে ঢুকলো বিশাল আয়রন গেটের সামনে। গেটের ওপর খোদাই করা সোনালি চিহ্ন— K.L.
সিকিউরিটি স্ক্যান ফেস রিকগনিশন। গেট নিঃশব্দে খুলে গেল। ভেতরে ঢুকতেই যেন অন্য জগৎ। বিশাল লন, মার্বেল ফোয়ারা সাদা পাথরের তৈরি আধুনিক রাজপ্রাসাদ গ্লাস আর স্টোনের নিখুঁত মিশ্রণ।
আলো এমনভাবে বসানো যেন পুরো বাড়িটা রাতেও রাজকীয় দীপ্তিতে জ্বলছে। গাড়ি থামলো মূল প্রবেশদ্বারে। দুই সারি স্টাফ নীরবে দাঁড়িয়ে। কিরিস গাড়ি থেকে নামলো কালো কোট কাঁধে। চোখে ঠান্ডা স্থিরতা।
ম্যানশনটা যেন তাকে চিনে নেয়। এটা শুধু বাড়ি না—
এটা তার সাম্রাজ্যের ইউরোপিয়ান সদর দফতর।
দরজা খুলতেই বিশাল ডাবল-হাইট লবি।ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি ছাদ থেকে ঝুলছে। ইটালিয়ান মার্বেল ফ্লোরে তার জুতোর শব্দ প্রতিধ্বনি তুললো। একপাশে গ্র্যান্ড পিয়ানো। অন্যপাশে কালো-সোনালি আর্ট ইনস্টলেশন।
মার্ক পাশে এসে বললো—
— “সব সিকিউর। আপনার স্যুট প্রস্তুত।”
কিরিস হালকা মাথা নেড়ে সোজা সিঁড়ির দিকে হাঁটলো।
তার হাঁটার ভঙ্গিতেই বোঝা যায় এখানে সে অতিথি না।
এখানে সে রাজা। সোজা নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো। দরজা খুলতেই বিশাল প্যানোরামিক গ্লাস ওয়াল। দূরে প্যারিস শহরের আলো। আইফেল টাওয়ার ঝলমল করছে। ঘরের ভেতরে ডার্ক টোন কালো, ধূসর, সোনালি। কিং সাইজ বেড। ইটালিয়ান লেদার সোফা।
ওয়াক-ইন ক্লোজেট যেন আলাদা একটা রুম। কিরিস ধীরে কোট খুলে রাখলো। টাই খুললো। তার চোখ এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল বেডের পাশে রাখা একটা ছোট কাঁচের বাক্সে। ভেতরে একটা সোনালি চুলের ক্লিপ।
তার ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি এলো।
— “দূরে থেকেও তুমি এখানে আছো…”
সে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। হাত পকেটে।
শহরের দিকে তাকিয়ে রইলো। মার্ক ভেতরে এসে বললো— “আজ রাতেই প্রথম মুভ?”
কিরিস চোখ না সরিয়েই বললো—
— “হ্যাঁ। আজ শুধু ওদের বুঝিয়ে দেবো আমি প্যারিসে আছি।”
এক সেকেন্ড থেমে—
— “Now the chair of the king of the mafia kingdom of France has to be changed because now I'm here contract and remove him within the next day I want the whole of France to know UK. ”
মার্ক মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল। ঘরে একা কিরিস। দূরের আলো তার চোখে প্রতিফলিত। তার কণ্ঠ খুব আস্তে ফিসফিস করলো—
— “লিসি… শার্মা আর একটু অপেক্ষা.......!”
...........বাংলাদেশ রায় চৌধুরী বাড়ি.............
বাড়িটা আজ অদ্ভুত নিরব এত বড় প্রাসাদসম বাড়ি…
তবুও যেন শব্দ নেই। ড্রয়িংরুমে সুপ্রিয়া চুপচাপ বসে আছেন তার সামনে চায়ের কাপ ঠান্ডা হয়ে গেছে।
মির্জা বেগম তসবিহ পড়ছেন ধীরে ধীরে। কিন্তু তার চোখও বারবার দরজার দিকে চলে যাচ্ছে। আনোয়ার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফোনে কারও সাথে কথা বলছেন—
গলা নিচু, কিন্তু চাপা টেনশন স্পষ্ট।
— “ও কোথায় গেছে সেটা এখন জিজ্ঞেস করো না…
সে নিজে যোগাযোগ করবে।”
এই কথাটা বললেও তার কণ্ঠে বাবার দুশ্চিন্তা লুকানো না।সবাই চুপ থাকলো।

0 Comments