পর্ব :55
চুলার উপর কেটলি বসানো, কাপ বের করা—সব কিছুই করছে, কিন্তু মনটা পড়ে আছে বাইরে।
এইদিকে হলরুমে সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। সুরভীরা বসে মুভি দেখছে।
এমন সময় আবার সিঁড়ির শব্দ।
কাবির আর রিহান নিচে নামে।
রিহান সোজা গিয়ে নুসরাতের পাশে বসে পড়ে। আর কাবির এসে জারার মাথায় হালকা করে একটা চাটি মেরে বলে—
—“কম করে খা। মোটা হয়ে যাবি। সর, আমি বসবো।”
বলে সুরভী আর জারার মাঝখানে গা ঠেসে বসে পড়ে।
রিহান মুভির দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলে—
—“আরে বাহ! রোমান্টিক মুভি! ভালো বউ আছে পাশে!”
ঠিক তখনই আনারুল গলা খাঁকারি দিয়ে বলে—
—“এখানে বড়রাও আছে, রিহান।”
রিহান তাকিয়ে দেখে—বাবা-চাচারা সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। কেউ কেউ হালকা হাসছে। নুসরাত একটু অস্বস্তিতে রিহানের থেকে সরে বসে।হলরুমে আবার হাসি-ঠাট্টা শুরু হয়।
আর সেই হাসির মাঝেই, লিসি ট্রেতে করে কফি আর বাদাম নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। তার চোখ কেবল একটাই মানুষ খুঁজছে।
লিসি ধীরে এগিয়ে এসে বলে—
—“ভাইয়া, আপনার কফি।”
কিরিস চোখ তুলে তাকায়। সেই তাকানোটা খুব ছোট, কিন্তু গভীর। লিসির হাত থেকে কফির মগটা নেয়। লিসি কিরিসের পাশেই বাদামের বাটিটা রেখে দেয়।
এক মুহূর্তের নীরবতা।
লিসি আস্তে করে, যেন কেবল কিরিসই শুনতে পায়—
—“পরে… আমার সঙ্গে একটু দেখা করবেন?”
কিরিস হালকা ভ্রু তুলে তাকায়। ঠোঁটের কোণে একটা চাপা হাসি খেলতে থাকে।
—“কি ব্যাপার!”
একটু থেমে যোগ করে—
—“লিসি শর্মা আমাকে একা ডাকছে?”
লিসি সঙ্গে সঙ্গে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। গলায় হালকা রাগ আর লজ্জা মিশে যায়—
—“তাহলে আপনাকে আসতে হবে না।”
কিরিস সঙ্গে সঙ্গে বলে—
—“এই না না!”
হালকা নরম স্বরে—
—“আমি যাবো। একটু পরে তো ঠিক আছে।”
একটু ভেবে নিয়ে ধীর গলায় বলে—
—“কোথায় কথা বলবে…”
তারপর চোখে একরাশ দুষ্টুমি নিয়ে—
—“হুম, তুমি আমার ঘরে এসো।”
লিসি চোখ বড় করে তাকায়।
—“আপনার ঘরে? আপনি এখন পাগল…!”
আর কিছু বলার আগেই পেছন থেকে আরোবির ডাক—
—“এই লিসি! আয়, তোর জন্য বানানো গরম গরম চপ ঠান্ডা হয়ে গেলো!”
লিসি বাধ্য হয়ে কিরিসের দিকে তাকায়। চোখে একফোঁটা অনুরোধ—
—“খাবেন, ভাইয়া?”
কিরিস কফি থেকে এক চুমুক নেয়। তারপর একদম স্বাভাবিক গলায় বলে—
—“ওইসব ভাজা খাবার আমি খাই না। ওতে প্রচুর তেল থাকে।”
লিসির মুখটা একটু শান্ত, একটু ভেঙে যায়। সে আর কিছু না বলে সোজা গিয়ে সবার মাঝে বসে পড়ে।
কিরিস চুপচাপ কফির কাপটা হাতে ধরে থাকে। চোখ তার মুভির দিকে না, কথার দিকেও না তার চোখ আটকে আছে লিসির দিকে। আর লিসি… সবার মাঝখানে বসে থেকেও, তার মনটা কিরিসের কথাতেই আটকে আছে—
“তুমি আমার ঘরে এসো…” এই লাইনটা তার কানে বারবার বাজছে। লিসি আরোবির কাছে গিয়ে কানে এই কথাটা বলে আরোবি তো শুনে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে। এই দেখে রিহান বলে —“ বাবা তোমার মেঝো মেয়ে মুচকি মুচকি হাসছে তারমানে কিছু একটা খেঁচুনি পাকাচ্ছে ”
আরোবি হেসে —“ হ্যাঁ তোর বিয়ের খেঁচুনি পাকাচ্ছি, পাগল, বাবা তুমি ওর কথায় বিশ্বাস করবে না। ”
আনারুল শুধু হাসতে থাকে।
মুভি চলতে থাকে। হাসি–ঠাট্টার মাঝেই কিরিস ধীরে উঠে দাঁড়ায়। কারো দিকে তাকায় না। নিঃশব্দে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর লিসির পাশে এসে আরোবি ফিসফিস করে বলে—
—“যা, তুইও যা। আমি সামলে নেবো।”
লিসি এক মুহূর্ত থমকে যায়। বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে ওঠে। তারপর মাথা নেড়ে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। সবাই মুভিতে ব্যস্ত—কেউ খেয়ালও করে না।
সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে লিসির পা কাঁপছে। বুকের ভেতর এক অদ্ভুত উত্তেজনা, ভয় আর ভালোবাসা একসাথে জমে আছে। কিরিসের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায় সে। দরজা খোলা। ভেতরে কিরিস দাঁড়িয়ে আছে। আলোটা নরম। ছায়া–আলোয় তার মুখটা আরও গম্ভীর, আরও আকর্ষণীয় লাগছে। লিসিকে দেখামাত্রই কিরিস এক পা এগিয়ে আসে। কোনো কথা না বলে, হঠাৎই লিসির হাত ধরে তাকে ভেতরে টেনে নেয় দরজা বন্ধ।
এক মুহূর্তের জন্য চারপাশ নিঃশব্দ। লিসির নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে। কিরিস খুব কাছে দাঁড়িয়ে। এতটাই কাছে যে লিসি তার বুকের উষ্ণতা অনুভব করতে পারে।
কিরিস হালকা হাসে—
—“এত সাহস কবে থেকে এলো?”
লিসি চোখ নামিয়ে বলে—
—“আপনি তো… আমাকে ডাকলেন।”
কিরিস একটু ঝুঁকে আসে—
—“ডাকলে কি সব কথা শোনা লাগে?”
লিসি কিছু বলার আগেই থেমে যায়। তারপর খুব আস্তে, প্রায় কাঁপা গলায় বলে—
—“আমি… আপনাকে একটু জড়িয়ে ধরতে চাই।”
এই কথাটা শুনে কিরিসের চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। সব দুষ্টুমি মিলিয়ে গিয়ে সেখানে শুধু গভীর মমতা আর টান।
সে মুচকি হেসে বলে—
—“এসো।”
লিসি আর দেরি করে না। ধীরে ধীরে কিরিসকে জড়িয়ে ধরে। তার মাথা কিরিসের বুকে ঠেকে যায়। কিরিস দু’হাত দিয়ে লিসিকে নিজের মধ্যে টেনে নেয়। খুব শক্ত করে না—বরং এমনভাবে, যেন সে নিরাপদ।
লিসি চোখ বন্ধ করে ফেলে। এই আলিঙ্গনে কোনো তাড়া নেই। শুধু শান্তি। কিছুক্ষণ পর কিরিস ফিসফিস করে বলে—
—“একটা আবদার করি?”
লিসি মাথা নাড়ায়, এখনো চোখ বন্ধ।
—“কি?”
কিরিস খুব আস্তে বলে—
—“আমাকে… কিস করো।”
লিসি চমকে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে মাথা সরিয়ে নেয়। গাল লাল হয়ে যায়।
—“আপনি… আপনি এসব বলেন কিভাবে!”
কিরিস হালকা হাসে—
—“তাহলে করবে না ?”
লিসি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর খুব লাজুক গলায় বলে—
—“একটু…”
ধীরে ধীরে সে কিরিসের দিকে ঝুঁকে আসে। পা দুটো হালকা উঁচু করে যা দেখে কিরিস নিজে মাথা হালকা নিচে নামিয়ে নেয়।এই দেখে লিসি মুচকি হাসে। এরপর চোখ বন্ধ করে কিরিসের গালে একটা নরম, কাঁপা কিস দেয়।
কিরিস থমকে যায়। তারপর খুব আস্তে লিসির কপালে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ায়।
—“এইটুকুই… আমার জন্য অনেক।”
লিসি আবার কিরিসের বুকে মাথা রাখে। লিসি এখনো কিরিসের বুকে মাথা রেখে আছে। নিঃশ্বাস দুটো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। কিরিস তার চুলে আঙুল বুলিয়ে খুব নরম স্বরে বলে—
—“আরেকটা আবদার করি?”
লিসি নড়ে না। শুধু মাথাটা একটু নামিয়ে নেয়।
—“আবার কী?”
কিরিস একটু দুষ্টু হাসি হাসে।
—“আমি কি… তোমাকে ঠোঁটে কিস করতে পারি?”
এই কথাটা শুনেই লিসির শরীরটা একেবারে শক্ত হয়ে যায়। সে ধীরে ধীরে কিরিসের বুক থেকে সরে আসে। চোখ নামানো, গাল টকটকে লাল।
—“আপনি… আপনি চুপ থাকেন।”
কিরিস তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। লিসি কিছু বলে না। না-ও বলে না, হ্যাঁ-ও বলে না। শুধু সেই চুপ থাকা।
কিরিস খুব শান্ত গলায় বলে—
—“এই চুপ থাকাটাকেই আমি হ্যাঁ ভাবছি।”
লিসি কিছু বলার আগেই কিরিস খুব ধীরে এগিয়ে আসে। কোনো তাড়া নেই। খুব নরমভাবে, অল্প সময়ের জন্য লিসির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ায়।
একটা ছোট, কোমল লিপ কিস। তারপর ১ মিনিট মতো লিসির ঠোঁটে রাজত্ব চলে কিরিসের। তারপর কিরিস তার মাথা উঁচু করে নেয় লিসির ঠোঁট ছেড়ে। সে লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলে। বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে। কিরিস আর কিছু করে না—শুধু তাকে আবার নিজের মধ্যে জড়িয়ে ধরে। এইবার শক্ত করে নয়, রক্ষার মতো, ভরসার মতো। লিসি কিরিসের বুকের ভেতর মুখ লুকিয়ে ফেলে।
—“আপনি খুব দুষ্ট…”
কিরিস ফিসফিস করে হাসে—
—“তোমার জন্যই।”
ঠিক তখনই দরজার বাইরে হালকা শব্দ।
—“এই এই!”
আরোবির চাপা হাসির গলা—
—“আমি কিন্তু বাইরে দাঁড়িয়ে আছি, ঘরের ভেতরে ঢুকিনি! তবে এত চুপচাপ থাকলে সন্দেহ হয় কিন্তু!”
লিসি আঁতকে ওঠে।
—“আরোবি!”
কিরিস হেসে দরজার দিকে তাকিয়ে বলে—
—“কি রে, পাহারা দিচ্ছিস?”
আরোবি দুষ্টুমি করে বলে—
—“তা না দিলে তো চলবে না! নইলে কেউ দেখে ফেললে আমারই দোষ দেবে সবাই।”
একটু থেমে যোগ করে—
—“আচ্ছা আচ্ছা, বেশি সময় নিও না। নিচে সবাই আছে।”
লিসি লজ্জায় কিরিসকে হালকা ঠেলে বলে—
—“দেখলেন! এখন তো যেতে হবে।”
কিরিস আবার তাকে কাছে টেনে নেয়।
—“যাও। আমি এখানেই আছি।”
লিসি দরজার দিকে যাওয়ার আগে একবার পিছনে তাকায়। কিরিস তখনো দাঁড়িয়ে—চোখে শুধু একটাই কথা লেখা—
“এই মুহূর্তটা আমার।”
লিসি চলে যাওয়ার পর দরজাটা ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘরটা আবার নিঃশব্দ। কিরিস একা দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষণ নড়াচড়া করে না। তারপর ধীরে গিয়ে দরজার পাশে হেলান দেয়। চোখ বন্ধ করে গভীর নিশ্বাস নেয়।
এই প্রথম…
সে নিজেকে একটু দুর্বল অনুভব করে। লিসির সেই লাজুক মুখ, কাঁপা চোখ, বুকের মধ্যে মাথা লুকিয়ে রাখা—সব একের পর এক তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি আসে, আবার মিলিয়ে যায়।
—“তুমি জানো না, লিসি…”
নিজের মনেই বলে সে,
—“তোমাকে কতটা দূরে রেখে কতটা আগলে রাখতে হচ্ছে।”
তার চোখ ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে ওঠে।
এই ভালোবাসা সহজ না। এই ভালোবাসার পথে রক্ত, শত্রুতা, অতীত—সব দাঁড়িয়ে আছে। কিরিস জানে—
আজ যদি সে সব খুলে বলে, আজ যদি সে সব দাবি করে, তাহলে লিসির এই শান্ত হাসিটা হারিয়ে যাবে।
সে সেটা চায় না। তাই সে থেমে আছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও। কিরিস জানালার দিকে এগিয়ে যায়। বাইরে অন্ধকার নেমেছে। নিচের হলরুম থেকে ভেসে আসছে হাসির শব্দ। নিচে তখন পুরো আলাদা পৃথিবী। মুভি চলছে। সুরভী আর জারা কখনো হাসছে, কখনো ডায়লগ মুখস্থ বলছে। কাবির আর রিহান মুভির মাঝেই নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করছে। রিহান হঠাৎ বলে—
—“এই মুভিতে বউটা অনেক ভালো রে।”
কাবির সঙ্গে সঙ্গে বলে—
—“তোর বউ তো এর থেকেও ভালো।”
রিহান দ্রুত উত্তর দেয় —“ নাহ! আমার বউ ওর থেকে ভালো, আমার সোনা বউ না। ”
নুসরাত পাশে বসে চোখ রাঙায়—
—“চুপ করো তো দু’জন!”
আরোবি দূর থেকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। মির্জা বেগম চুপচাপ বসে আছে। মাঝে মাঝে লিসির দিকে তাকাচ্ছে। লিসি এখনো একটু লাজুক, একটু চুপচাপ। কিন্তু চোখে শান্তি। মির্জা বেগম নিজের মনেই বলে—
—“আল্লাহ, এই মেয়েটাকে সুখে রেখো।”
সুপ্রিয়া চা ঢালতে ঢালতে বলে—
—“আজকে ঘরটা কেমন যেন ভরা ভরা লাগছে।”
আনোয়ার হেসে বলে—
—“বাড়িতে সবাই থাকলে এমনই হয়।”
হাসি, কথা, টিভির শব্দ—সব মিলিয়ে ঘরটা উষ্ণ।
উপরে কিরিস বাইরে এসে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে।
এই পরিবার… এই মানুষগুলো… আর মাঝখানে লিসি।
কিরিস খুব নিচু স্বরে বলে—
—“তোমাদের দিকে কোনো আঁচ আসতে দেবো না।”
তার হাত ধীরে মুঠো হয়। ভালোবাসা আর দায়িত্ব দুটোই তার কাঁধে। আর এই গল্প… এখনো অনেক বাকি।
রাত ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকে, রান্নাঘরে প্রিয়া আর সুপ্রিয়া এইমাত্র রান্না শেষ করেছে। সবকিছু টেবিলে সাজিয়ে রাখতে থাকে। আর অন্য দিকে সবাই বসে বসে নিজেদের মধ্যে হাসি ঠাট্টায় ব্যস্ত। রাতের খাওয়ার সময় হলেই সুপ্রিয়া সবাইকে খেতে ডাকে, সবাই যে যার মতো বসে পরেছে। ডাইনিং স্পেসে আজ আলাদা একটা গন্ধ—ঘরভরা খিচুড়ির উষ্ণ ঘ্রাণ। বড় টেবিলটা ভর্তি হয়ে গেছে। গরম গরম খিচুড়ি, মচমচে বেগুন ভাজা, টক-ঝাল আচার, সোনালি করে ভাজা ডিম, আর আলাদা প্লেটে ইলিশ মাছ ভাজা—সব মিলিয়ে একদম বাঙালি রাত। সুপ্রিয়া নিজের হাতে খিচুড়ি দিচ্ছে সবার প্লেটে।
—“এই নাও, গরম থাকতে থাকতে খাও।”
প্রিয়া হেসে বলে—
—“আজকে ঝাল একটু বেশি হয়ে গেছে কিন্তু!”
জারা সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে—
—“এইটাই তো মজা!”
আরোবি ইলিশের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় করে বলে—
—“আল্লাহ! আজকে তো রাজকীয় খাওয়া!”
সবাই হেসে ওঠে।
ডাইনিং টেবিলে সবাই যখন গরম গরম খিচুড়ি, ইলিশ ভাজা আর বেগুন ভাজায় মগ্ন, তখন কিরিসের সামনে আলাদা করে সাজানো থাকে একটা ট্রে। সুপ্রিয়া নিজে হাতে ট্রেটা নামিয়ে দেয়। ট্রেতে আছে— গ্রিলড চিকেন ব্রেস্ট, হালকা হার্বস আর অলিভ অয়েলে মাখানো।
পাশে সটেড ভেজিটেবল—ব্রোকলি, গাজর, বিনস।
একটু ম্যাশড পটেটো, একদম নরম, কোনো ঝাল নেই।
আর সঙ্গে লেমন-গার্লিক সস আর এক গ্লাস ডিটক্স ওয়াটার। রিহান খাওয়া থামিয়ে তাকিয়ে বলে—
—“এইটা আবার কী রে! আমরা খিচুড়ি খাচ্ছি আর ভাই সাহেব Five-star !”
কাবির হেসে যোগ করে—
—“এইটা তো পুরো বিদেশি প্লেট! ইলিশের গন্ধও নাই।”
আরোবি চোখ পাকিয়ে বলে—
—“ভাই, একদিন খিচুড়ি খেলে কি গ্যাংস্টার স্ট্যাটাস নষ্ট হয়ে যাবে নাকি?”
কিরিস খুব শান্তভাবে কাটলারি হাতে নেয়।
—“খিচুড়িতে তেল আর ঝাল বেশি। এটা আমার জন্য ঠিক না।”
জারা মুচকি হেসে বলে—
—“মানে আপনি বাঙালি, কিন্তু ডায়েটটা বিদেশি?”
সবাই হেসে ওঠে।
সুপ্রিয়া মৃদু গলায় বলে—
—“ও এমনই। ছোটবেলা থেকেই খাবার নিয়ে খুব স্ট্রিক্ট আর এই খাবারের খুঁতখুত এর জন্য আমার মরতে হয়।”
কিরিস একটু লেমন সস ডিপ করে চিকেনের এক টুকরো নেয়। একদম স্বাভাবিক, রুচিশীল ভঙ্গি। যেন এই টেবিলে খিচুড়ি-ইলিশ থাকুক বা না থাকুক—তার নিজের একটা আলাদা জগত আছে।
আরোবি হালকা খোঁচা দেয়—
—“ভিআইপি পারপোর্টটা খাবারের সাথেই আসে নাকি আলাদা?”
কিরিস চোখ তুলে তাকিয়ে একফোঁটা ঠান্ডা হাসি দেয়—
—“চেষ্টা করিস, একদিন তোরও লাগতে পারে।”
হাসির রোল পড়ে যায় টেবিলে।
এই সবের মাঝেও লিসি একবার চোখ তুলে কিরিসের প্লেটটা দেখে। কিছু বলে না। শুধু আগের মতোই স্বাভাবিক থাকে।লিসি চুপচাপ খাচ্ছে। আজ তার মুখে কোনো অস্বস্তি নেই, কোনো লজ্জা নেই। সে আগের মতোই স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে সুরভীর কথায় হেসে উঠছে, কখনো আচারটা বাড়িয়ে দিচ্ছে কাবিরের দিকে।
মির্জা বেগম লিসির প্লেটের দিকে তাকিয়ে বলে—
—“আরেকটু নে মা।”
লিসি হাসিমুখে বলে—
—“হয়ে গেছে নানু।”
ডাইনিং টেবিলটা ভরে থাকে গল্পে, হাসিতে, চামচের শব্দে। খাওয়া শেষে সবাই একে একে উঠে পড়ে।
সুরভী হাই তুলে বলে—
—“আমি ঘুমাতে যাচ্ছি, আজ খুব পেট ভরে গেছে।”
রিহান বলে—
—“আমিও, কাল অফিস আছে।”
একজন একজন করে যে যার ঘরের দিকে চলে যায়।
লিসিও উঠে দাঁড়ায়। একবার চারপাশে তাকায়—সবকিছু ঠিক আগের মতো। কোনো ভারী ভাব নেই। যেন দিনটা একদম সাধারণ একটা দিন। সে ধীরে ধীরে নিজের ঘরের দিকে চলে যায়।
রাত ১২টার পর — কিরিসের ঘর
রায় চৌধুরী বাড়িটা গভীর ঘুমে ডুবে গেছে। হলরুমেওয়ের লাইটগুলো ডিম হয়ে আছে, শুধু নিরাপত্তার লোকদের নীরব চলাফেরা।
কিরিসের ঘরে অন্ধকার। শুধু জানালার ফাঁক দিয়ে ঢোকা শহরের আলো, আর টেবিল ল্যাম্পের নরম সোনালি আভা। কিরিস সোফায় বসে।
কালো টি-শার্ট, হাতায় ভাঁজ, হাতে এক গ্লাস ওয়াইন সঙ্গে সিগারেট তো আছেই। চোখে ঘুম নেই—ওর চোখে কখনোই ঘুম নামে না সহজে। ঠিক তখনই ফোন ভাইব্রেশন। একবার, দুবার। স্ক্রিনে নাম ভেসে ওঠে—
MARK.
কিরিস কলটা রিসিভ করে, কণ্ঠ শান্ত… কিন্তু ভয়ংকর ঠান্ডা।
—“ Speak.”
ওপাশে মার্কের কণ্ঠ—নিচু, হিসেবি।
—“ বস, খবরটা কনফার্মড। লিসির নামটা আন্ডাররোল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। কিরিসের চোখের পাতা একবারও নড়ে না। শুধু গ্লাসটা টেবিলে রেখে দেয়।”
কিরিস — “ কে কে জানে?”
মার্ক — “ যারা জানে… ওরা আর সাধারণ মানুষ না।
পুরোনো রুট, পুরোনো রক্ত। দু’জন ইউরোপ সাইডে, একজন ইন্ডিয়ান বর্ডার টাচে।”
এক সেকেন্ড নীরবতা তারপর কিরিসের গলা আরও নিচু হয়।
—“ ডিটেইলস।”
মার্ক থামে না।
— “ নাম, বয়স, কোথায় কখন গেছে—সব। কেউ কেউ ভাবছে… তোমার দুর্বল জায়গা পেয়েছে।”
কিরিস হালকা হাসে। সে হাসিতে কোনো আনন্দ নেই—শুধু মৃত্যু।
— দুর্বলতা? আমি দুর্বলতা রাখি না, মার্ক।
আমি ফাঁদ রাখি। এই পৃথিবীতে UK কের কোন দুর্বলতা নেই। ”
মার্ক জানে—এই টোন মানেই রক্ত পড়বে।
মার্ক:
— “ লোকজন রেডি আছে। আপনি চাইলে আজ রাতেই…”
কিরিস (কাট করে):
— “ চাই না আমি যাব।”
মার্ক এক সেকেন্ড চুপ।
— “ বুঝেছি। ”
কিরিস উঠে দাঁড়ায় জানালার দিকে তাকিয়ে, শহরের দিকে।
— “ গাড়ি প্রস্তুত কর। কারো শেষ বিচারে আমার যেতে হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছ।”
মার্কের গলায় কোনো প্রশ্ন নেই।
মার্ক — “ রিহান, ইয়াবি, কাবির, ইশান সবাইকে ফোন দিচ্ছি। গোপন জায়গায় এক ঘন্টার মধ্যে।”
কিরিস — “ কাউকে দেরি করতে দিও না।
আজ ভুলের কোনো সুযোগ নেই।”
একটু থেমে কিরিস আবার বলে—
— “ আর মার্ক…”
মার্ক —“ Yes Boss ”
কিরিস — “ যারা লিসির নাম মুখে এনেছে…
ওরা যেন আর কোনো নাম উচ্চারণ করতে না পারে।”
ওপাশে শুধু একটাই উত্তর আসে—
— “ Done.”
কল কেটে যায়। ঘরে আবার নীরবতা।
চোখে তখন একটাই ছায়া নির্মম রাজা, যে ভালোবাসে এক মেয়েকে… আর তার জন্য পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে দিতে পারে। বাড়ির সবাই ঘুমাচ্ছে। কেউ জানে না এই রাতেই শহরের এক কোণে কিছু মানুষের নিশ্বাস চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
শহরের বাইরে মানচিত্রে নেই এমন একটা জায়গা।
চারদিক কংক্রিট আর লোহার দেয়াল—উপরে কোনো আলো নেই, শুধু নিচে নীল-সাদা ফ্লোর লাইট। একটার পর একটা কালো গাড়ি ঢুকে থামে। প্রথমে নামে—
রিহান তারপর ইয়াবি, কাবির, ইশান। সবার মুখে একটাই এক্সপ্রেশন আজকের রাতটা হালকা না। সবশেষে আসে কালো BMW। ডোর খুলতেই চারপাশ নিঃশব্দ হয়ে যায়।
কিরিস পরনে তার কালো নয়—
ডিপ চারকোল ব্ল্যাক, প্রায় ছায়ার মতো।
ভেতরে হাই-নেক ডার্ক গ্রে শার্ট,
গলায় কোনো টাই নেই—কারণ তাকে শৃঙ্খলে বাঁধার মতো কিছু দরকার হয় না।
উপরে লং কোট টাইপ ব্লেজার—
শোল্ডারটা একটু চওড়া, কাট একদম শার্প।
হাঁটুর নিচ পর্যন্ত লম্বা, যেন পুরনো ইউরোপিয়ান ডনদের স্টাইল। হাতের কবজিতে ম্যাট ব্ল্যাক রোলেক্স।
কোনো ঝকঝকে কিছু না—সবকিছুই নীরব অথচ ভয়ংকর।
আঙুলে একটাই রিং সাধারণ নয়, ভারী।
যেন সেটা শুধু অলংকার না, ক্ষমতার চিহ্ন।
বুট চকচকে না, কিন্তু পরিষ্কার।
মাটিতে পড়লেই শব্দ করে—
টক… টক…
নুহান সেই শব্দে কেঁপে ওঠে।
কিরিস ধীরে ধীরে তার সামনে এসে দাঁড়ায়।
উচ্চতা, গড়ন, উপস্থিতি—সব মিলিয়ে সে একাই একটা চাপ।
ভেতরের ঘরটা বড়। মাঝখানে একটাই চেয়ারে—
নুহান। হাত বাঁধা। মুখে ক্লথ টেপ। চোখে আতঙ্ক জমে আছে। সে চিৎকারও করতে পারে না। কিরিস তার দিকে একবার তাকায়। এক সেকেন্ডের জন্যও থামে না।
চেয়ারে বসে, পা উপর পা তুলে।
কিরিস ঠান্ডা কণ্ঠ — “ শুরু করো।”
ইশান সামনে এগিয়ে যায়। একজন গার্ড টেপটা খুলে দেয়। নুহান শ্বাস নিতে নিতে কাঁপছে। কিরিস উঠে দাঁড়ায়।
হেঁটে হেঁটে ঠিক তার সামনে। নুহানের থুতনির নিচে আঙুল ছুঁইয়ে মুখটা উপরে তোলে।
— “ তুমি কথা বলবে না।”
দু’জন লোক নুহানকে টেনে তুলে পাশের কংক্রিট পোস্টে বেঁধে ফেলে। ঘরে শুধু নুহানের শ্বাস আর চেইনের শব্দ।
কিরিস মার্কের দিকে তাকিয়ে
— “ যারা লিসির নাম ছড়িয়েছে?”
মার্ক —“ তিনজন। ”
একজন আজই ধরা পড়েছে।
বাকি দু’জন সীমান্ত পার করার চেষ্টা করছিল—কাট অফ করা হয়েছে। কিরিসের চোখে কোনো পরিবর্তন নেই।
কিরিস — “ ভালো। ”
সে নুহানের দিকে আবার তাকায়।
কিরিস —“ তুমি একটা উদাহরণ। ওকে আমাদের ঘরে নিয়ে আসো ”
এরপর কিরিস সহ সবাই আরেকটা ঘরে ঢোকে আর সঙ্গে করে নুহানকেও টেনে আনা হয়। একটা বিশাল ঘর, রাজসভা আর আন্ডারগ্রাউন্ড লাউঞ্জ—দুটোর মাঝামাঝি। লম্বা কাঠের টেবিল। চারপাশে ছড়িয়ে বসে আছে কিরিসের লোকজন। আর ঠিক মাঝখানে—
কিরিস বসে আছে চুল একটু এলোমেলো, চোখে সেই ধোঁয়াটে দৃষ্টি—যেটা একবার যে দেখেছে, সে হয় পালিয়েছে নয়তো আর ফেরেনি। রিহান একটা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে, হাতে পানির বোতল।
রিহান — “ ভাই, আজকে তো রাজসভা বসেছে দেখছি।”
কাবির হেসে বলে—
— “ আরে চুপ কর, রাজা এখন মুডে আছে।”
ইশান একটা চিপস ছুড়ে দেয় রিহানের দিকে।
— “ বেশি কথা বলিস না, নাইলে রাজা ট্যাক্স বসাবে।”
সবাই হেসে ওঠে। কিন্তু কিরিস হাসে না। সে টেবিলের উপর হাত রাখে। হাসি থেমে যায়। কিরিস ঠান্ডা গলায়
— “ খেলাটা শেষ করেছিস তোরা?”
রিহান সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসে।
— “ ইয়েস, বস। ”
কিরিস চোখ তুলে তাকায়। এক সেকেন্ড। এই এক সেকেন্ডেই বোঝা যায় এই লোকটা হাসলেও ভয়ংকর,
আর চুপ থাকলে… আরও ভয়ংকর। সে হালকা করে মার্কের দিকে তাকায়।
— “ মার্ক নুহানকে আমার পায়ের কাছে নিয়ে আসো আর নুতন কয়েক টা ফাইল ও নিয়ে আসো। আমার রাজ্যে কী চলছে সেটা দেখি। ”
মার্ক হালকা হাসে।
— “ অ্যাজ ইউ কমান্ড, বস।”
সে বাইরে যায়। কাবির ফিসফিস করে—
— “ ভাই, আমরা তো এসব দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেছি।”
ইশান যোগ করে—
—“ তাও তোর লুকটা আজ একটু বেশি… ডেডলি আর ডেভিল ”
এইবার কিরিস মুচকি হাসে কিন্তু সেটা হাসি না—
এটা সতর্কতা।
— “ ভয়টা থাকা দরকার। না থাকলে রাজত্ব থাকে না।”
নুহানকে ঘরে আনা হয়। লোহার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে মার্ক হাতে গ্লাভস পরা। নুহান বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে বসে। চোখে ভয়, মুখে অহংকারের শেষ চিহ্ন।
মার্ক এক পা এগোয় ঠিক তখনই—
কিরিস ঠান্ডা, কিন্তু ধারালো গলায়
— “ লেট মি হ্যান্ডেল দিস। ”
মার্ক থেমে যায়।এক পা পিছিয়ে দাঁড়ায়। এরপর কিরিসের দিকে হাতের গ্লাভস এগিয়ে দেয় কিরিস গ্লাভস হাতে পরে নেয়। ইয়াবি রিহান, কাবির, ইশান—চার জনই সোজা হয়ে বসে। কারণ তারা জানে কিরিস নিজে নামলে ব্যাপারটা আর সাধারণ থাকে না। হয় সেই ব্যক্তি বাঁচতে ভুলে যাবে না হলে সাদা কাফনে কবরে যাবে। কিরিস ধীরে ধীরে নুহানের সামনে আসে। চোখে কোনো রাগ নেই এইটা আরও ভয়ংকর।
কিরিস — “ বল তো… লিসি আমার কী হয়, জানিস?”
নুহান চুপ। কিরিস একটু ঝুঁকে পড়ে।
কিরিস
— “ ঠিক কথাটা জানা খুব ইম্পরট্যান্ট। কারণ তুই শুধু একটা মানুষকে ছুঁয়েছিস না… তুই আমার সীমা ছুঁয়েছিস।”
কাবির ফিসফিস করে বলে—
— “ শেষ! ”
কিরিস সোজা হয়ে দাঁড়ায় স্পষ্ট গলায় বলে
— “ ওর দিকে হাত বাড়িয়েছিস। ওর গালে আঘাত করেছিস। আরে যে মেয়ের গায়ে একটা পিঁপড়া ও কামড়ালে আমি সেই পিঁপড়া সহ তার গোটা বাসস্থান ধ্বংস করে দিই। সেখানে তুই ওর গায়ে হাত তুলেছিস ওকে চড় মেরেছিস। তাহলে তোর অবস্থা কি হওয়া দরকার সেটা ভেবে দেখেছিস!। ”
এই কথাটা শুনে রিহান কাবির আর ইশান একসাথে তাকায়।
কাবির — “ তার মানে ব্রো তুই লিসিকে....... ওহ সেই চয়েজ তোর আমি আমার বড় ভাবি হিসেবে মেনে নিলাম”
ইশান হালকা অবাক, হালকা হাসি
— “ ব্রো… তুই সত্যিই লিসিকে খুব… খুব… ভালোবাসিস। ”
রিহান —“ আমি তো ওকে এখন অফিসিয়ালি বড় ভাবি হিসেবে অ্যাকসেপ্ট করলাম। ”
ইয়াবি এদের কথা হাসছে তখন ইশান বলে —“ আরে তুই তে অবাক হসনি তার মানে তুই আগে থেকেই জানতিস ”
ইয়াবি — “ আমি লিসিকে কবেই বড় ভাবির আসনে বসিয়ে রেখেছি ”
রিহান — “ ছুপার উস্তাম ”
ঘরের ভেতর এক সেকেন্ডের জন্য হালকা হাসি।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই—
ঠাস!
কিরিসের হাত নুহানের গালে। যেখানে কেউ কিরিসের হাতের একটা চড় খেলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে সেখানে নুহানের গালে একটা নয়, দুইটা নয়, পরপর কয়েকটা চড়।
কোনো তাড়া নেই। প্রতিটা আঘাত হিসাব করে।
কিরিস গর্জে ওঠে
—“ ওর গায়ে হাত তুলেছিলিস! তোর সাহস হয় কী করে?! ”
সে নুহানের চুলের মুঠি ধরে। টেনে তোলে।
—“ জানিস ওর চুলে হাত দেওয়ার অধিকার কার?
শুধু আমার। কারণ ওই চুল আমার প্রিয় লিসির।”
একটা ধাক্কা। দেয়ালে ঠেসে ধরে। এরপর ওর মাথা টেনে দেওয়ালে জোরে আঘাত করে মাথা ফেটে রক্ত পরছে নুহানের রক্তের ছিটিয়ে গেছে দেওয়ালে।
কিরিস — ” আর তুই সেই চুল টেনেছিস… কেটেছিস…”
কিরিসের গলা এবার নিচু আরও ভয়ংকর। তারপর সিংহের মতো হুংকার দিয়ে বলে উঠে
— “ জানোয়ারের বাচ্চা… তোকে তো আমার ইচ্ছে করছে কাচা চিবিয়ে খায়। আজ যদি তোর মাথায় একটাও চুল থাকে,তাহলে আমি UK না।
সে নুহানকে ছেড়ে দেয়।
কয়েক কদম পিছিয়ে যায়।
কাবির হেলান দিয়ে বলে—
— “ আজকে একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না? ”
ইশান হাসে।
— “ আরে, যখন কিরিসের জিনিসে হাত দেয়…
তারপর তো আর সেটা ভালো থাকে না।”
রিহান যোগ করে—
— “ আমরা মারলে লোকে কমেন্ট করে।
আর কিরিস বললে “আমি হ্যান্ডেল করবো”—
তখন সবাই ধরে নেয় লোকটা কবরে পৌঁছে গেছে।”
মার্ক একপাশে দাঁড়িয়ে, একদম শান্ত। কারণ সে জানে এই রূপটাই আসল কিরিস। কিরিস শেষবারের মতো নুহানের দিকে তাকায়।
কিরিস (নির্লিপ্ত):
—“ আমার জিনিসে হাত দেওয়া হয় না।
বিশেষ করে…লিসির গায়ে। লিসি আমার কোনো জিনিস নয় সে আমার আত্মা। ”
নুহানের নিশ্বাস নেই বললেই চলে, চিৎকার করে করে গলার আওয়াজ শেষ তারউপর আবার কিরিস গলা টিপে ধরেছিলো নুহান এখন একদম মৃত্যু দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। শুধু অপেক্ষা আছে আজরাইল আসার এবং তার জান কবজ করার । কিরিস পিছনে শুধু একটা কথা ভেসে আসে—
“ শেষ করো আর হ্যাঁ ওর মাথায় যেন একটা চুলও না থাকে মাথার চামড়ার টেনে ছিঁড়ে ফেলে দাও আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা ওর উপর যতগুলো অত্যাচার করা হবে সব যেন বেঁচে থাকা অবস্থায় করা হয় মরার পরে ওকে আমার পোষা কুকুরগুলোর কাছে ছেড়ে দিও, অনেক দিন তারা কোনো মানুষের গোশের স্বাদ পায়নি। ”
কিরিস এসে নিজের গ্লাভস হাতের থেকে খুলে মার্কেট এর কাছে দেয় এরপরে হাতটাকে টিস্যু দিয়ে ভালো করে মুছে টিস্যুটা ডাস্টবিনের চেলে দেয় মার্ক নুহানকে টানতে টানতে ঘরের বাইরে নিয়ে যাই তার শেষ শাস্তির জন্য।অন্য ঘরের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় একটুখানি মধ্যে একটা মৃতপ্রায় মানুষের আর্তনাদ ভেসে আসে প্রত্যেকটা আঘাত তাকে জীবিত থাকতে করা হচ্ছে, কতটা ভয়ংকর ভাবে। এই শাস্তি টা একমাত্র প্রমাণ যে কিরিস রায় চৌধুরীর জিনিসের দিকে হাত বাড়ালে তার পরিনাম ঠিক কতটা ভয়ংকর হতে পারে। কিরিস এসে নিজের জায়গায় আবার বসে। কিছুক্ষণ পরে মার্ক ফিরে আসে
ঘরটা ভারী হয়ে আছে নুহানের ঘটনার পর সবাই একটু চুপচাপ। কিরিস চেয়ারে বসে আছে—হাত জোড়া, চোখ নিচু। মার্ক একপাশে দাঁড়িয়ে, ট্যাবলেট হাতে।
মার্ক হঠাৎ বলে ওঠে—
“ বস… একটা ব্যাপার আছে। সত্যি কথা বলতে গেলে…
লিসিকে টার্গেট করা হচ্ছে। ”

0 Comments