পর্ব :49
সুরভী তখন বলে
—“আচ্ছা হয়েছে বাবা, তোমরা যাও ফ্রেশ হয়ে নাও।অফিস থেকে নিশ্চয়ই এসেছো। আম্মু–আব্বুদের খেতে দাও, আমরা এখানে আছি।”
সুপ্রিয়া আর প্রিয়া নিচে চলে যায় ঘরে তখন শুধু মেয়েরা।লিসি দুইটা ব্যাগ একপাশে রেখে দেয়।আরোবি কিছুক্ষণ চুপ করে সেই ব্যাগগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে।প্রথম ব্যাগটাতাদের বাবারা দিয়েছে।
কিন্তু দ্বিতীয়টা…সে জানে, বাবারা জানে না এই ব্যাগটার কথা। প্যাকেটটা খুব সুন্দর, গোছানো আর সবচেয়ে বড় কথা ব্যাগটার রংটা ঠিক লিসির পছন্দের।আরোবির বুঝতে আর বাকি থাকে না।এই খাবারগুলো কিরিস পাঠিয়েছে।লিসির জন্য রাত গভীর হয়।সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যে যার রুমে চলে যায়।কিন্তু কিরিস এখনো ফেরে না।ছেলের বাড়ি ফেরা নেই।সে ফোন করে মাকে জেগে থাকতে বারণ করেছে।ইশান আর ইয়াবিও রাতের খাবার শেষে চলে গেছে।ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে এগোয়।
রাত ১২টা।
পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ সবাই ঘুমিয়ে আছে।
ঠিক তখনই.....
লিসির ঘরের দরজাটা খুব আস্তে খুলে যায় ভিতরে ঢোকে কিরিস।আরোবি তখন ফোন দেখছিল।
লিসি গভীর ঘুমে।আরোবি কিরিসকে দেখে নিচু গলায় বলে
—“নে, কথা বল। আমি বাইরে ব্যালকনিতে দাঁড়াচ্ছি।কেউ আসলে কিন্তু ভেতরে চলে আসব—বুঝতে পেরেছিস?”
কিরিস ছোট করে বলে
—“হুম। এবার যা।”
আরোবি বেরিয়ে যায় ঘরে তখন শুধু কিরিস আর ঘুমন্ত লিসি।নীরবতা এতটাই ঘন যে,লিসির নিঃশ্বাসের শব্দও শোনা যায়।আর এখান থেকেই শুরু হবে কিরিসের সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে নীরব যুদ্ধ।কিরিস ধীরে ধীরে খাটের পাশে বসে পড়ে লিসি ঘুমাচ্ছে।চুলগুলো বালিশে ছড়িয়ে আছে মুখটা শান্ত, কিন্তু চোখের কোণে এখনো ক্লান্তির ছাপ।কিরিস হাত বাড়ায় না শুধু তাকিয়ে থাকে।
তার গলা ভারী হয়ে আসে খুব নিচু স্বরে বলে—
—“আমার অলকানন্দা…”
শব্দটা উচ্চারণ করতেই তার বুকের ভেতর কিছু ভেঙে পড়ে।
—“তুমি জানো…আমার আশেপাশের নারীরা আমাকে পাওয়ার জন্য ছটফট করে।ক্ষমতা, টাকা, নাম সবকিছুর জন্য।”
একটা তিক্ত হাসি ঠোঁটে আসে।
—“কিন্তু বেহায়া নির্লজ্জ আমি… তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্য মৃত্যুর যন্ত্রণার মতো ছটফট করি।আমার চোখে এই পৃথিবীতে একটাই নারী আছে সে তুমি।......... আমি কখনো কোনো নারীর দিকে ওই নজরে তাকাতে পারিনি।কারণ যখনই তাকিয়েছি…আমার নজরে শুধু তুমিই পড়েছ।”
একটু থামে।
নিঃশ্বাস টেনে নেয়।
—“তুমি যা শুনেছ…সব ভুল।”
তার গলা এবার আরও নিচু, আরও সত্যি।
—“আমি স্বাভাবিক মানুষের মতো অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি না। আমি পারি না বলতে সেই কথাটা…”
একটা দীর্ঘ নীরবতা।
—“কিন্তু এতোটুকু বিশ্বাস করতে পারো…তুমি ছাড়া এই জীবনে আমার কোনো মূল্য নেই।”
…তাহলে এই আমি—জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী শুধু 'তোমার' জন্য বাঁচি।আর আমার বাঁচার উদ্দেশ্য…তুমি।”
কিন্তু ওই যে বললাম আমি বেহায়া নির্লজ্জ, আমি শুধু তোমার উপরে নিজের জোর খাটায়, আমার জীবনে শুধু একটিই নারী আছে যার জন্য আমি পাগল সে হলে তুমি, তুমি আমাকে ঘৃণা করলেও আমি তোমার পিছু ছাড়বো না, তুমি চাইলেও আমার না চাইলেও আমার, তোমার ইচ্ছেতে কিংবা অনিচ্ছেদে তুমি চাও বা না চাও জোর করে হোক কিংবা দখল দিয়ে তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে তুমি শুধু আমার আর একটা শেষ কথা জেনে রাখো আমি শুধু "তোমাকে চাই, তোমাকে চাই তোমাকে চাই " এই জীবনের শুধু "তোমাকে চাই"।
এরপর সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে তারপর উঠে দাঁড়ায়। ঘুমন্ত লিসি জানেও না এই রাতে কেউ একজন নিজের পুরো জীবনটা, তার নিঃশ্বাসের কাছে রেখে গেছে।
কিন্তু এই সমস্ত সময় লিসি ঘুমিয়ে ছিলো না আরোবির কথায় লিসির ঘুম ভেঙে গিয়েছিল।চোখ দুটো খুলে ফেলেছিল সে কিন্তু কিরিসকে আসতে দেখে চোখ বন্ধ করে ফেলে,লিসি সব শুনেছে কিন্তু কোনো শব্দ করেনি।
পলক ফেলেনি।শুধু নিঃশ্বাসটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে যাতে কিরিস বুঝতে না পারে।ঘুমের ভান করে পড়ে ছিল।কিরিসের প্রতিটা কথা তার বুকের ভেতর গিয়ে ধাক্কা দিচ্ছিল।“আমি শুধু তোমার জন্য বাঁচি…”এই কথাটা যেন কানে না সোজা হৃদয়ে লেগেছিল।কিরিস উঠে দাঁড়ায় এক মুহূর্ত থামে।তারপর ধীরে ধীরে ঝুঁকে আসে।
লিসির কপালে একদম আলতো করে একটা চুমু।এতটাই নরম যেন স্পর্শ না,শুধু অনুভব।লিসির চোখের কোণে পানি জমে ওঠে,কিন্তু সে কাঁদে না নড়েও না।কিরিস পিছিয়ে যায়।শেষবারের মতো তাকিয়ে বলে
—“ভালো থেকো, অলকানন্দা…”
তারপর নিঃশব্দে দরজা খুলেঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
দরজার শব্দ হয় না লিসি চোখ বন্ধ করে রাখে।হাতটা বুকে চেপে ধরে এই প্রথম সে বুঝতে পারে কিছু ভালোবাসা শব্দ চায় না,স্পর্শ চায় না শুধু নীরবে সবকিছু দিয়ে দেয়।রাত আরও গভীর হয়।
ঘড়ির কাঁটা এগোয় কিন্তু লিসির চোখে আর ঘুম আসে না।সে এখনো শুয়ে আছে,ঘুমিয়ে থাকার ভান করে।চোখ বন্ধ কিন্তু মন জেগে।
বেশ কিছুক্ষণ ধরে গানের গুনগুন আওয়াজ ভেসে আসছিল আর হঠাৎ করেই এর সঙ্গে এখন
নিস্তব্ধতার ভেতর খুব হালকা একটা শব্দ ভেসে আসে
টুং… টাং…
গিটারের তারে আঙুল ছোঁয়ার আওয়াজ লিসির বুকটা কেঁপে ওঠে।সে ধীরে উঠে বসে শব্দ না করে খাট থেকে নামে পা টিপে টিপে ঘরের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায় রাতের বাতাস ঠান্ডা চাঁদের আলো আধো, লিসি একপলক ঘুমিয়ে থাকা আরোবির দিকে তাকায় সে নিশ্চিন্তাই ঘুমিয়ে আছে আওয়াজটা পাশের ঘর থেকে আসছে,আরোবির ঘরের পাশেই একটা ফাঁকা জায়গা,
তার পরেই কিরিসের ঘর। ব্যালকনিতে দাঁড়াতেই এখন পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে গিটারের সেই বিষণ্ন সুর।লিসি মনোযোগ দিয়ে কিছুক্ষণ শোনে।তারপর সেই সুরের ভেতর কিরিসের গলা মিশে যায়।খুব নিচু,খুব ভাঙা স্বরে
সে গুনগুন করে উঠে—
— “tujhe pyaar kiya to tu hi bata
ham ne kya koi jurm kiya
aur jurm kiya hai to bhi bata
yeh jurm ke jurm ki kya hai saza…”
প্রতিটা শব্দ রাতের বুক চিরে লিসির হৃদয়ে এসে লাগে।
সে দেয়ালের সাথে হেলান দেয় দুই হাত শক্ত করে ধরে রেলিং।কিরিস মাঝে মাঝেই এমন গিটার বাজায় বাড়ির সবাই জানে যখন তার মনটা খুব খারাপ থাকে,সে রাতের নীরবতায় বিষণ্ন সুরে গিটার বাজাতে ভালোবাসে।লিসি দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে চুপচাপ শুনতে থাকে বুকের ভেতরে ধীরে ধীরে একটা কষ্ট জমে ওঠে।এই কষ্ট একা থাকার না এই কষ্ট ভালোবাসা চেপে রাখার কষ্ট।লিসি খুব আস্তে,
দেয়ালের ওপাশে মুখ ঘুরিয়ে,নিজের ভেতরটাকে সীমাবদ্ধ রেখে বলে—
—“আমি আপনাকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি…আমি আপনার মতো রাগী, গম্ভীর, বদমেজাজি, যে শুধু অধিকার ফলাতে পারে এমন একজন মানুষকে ভালোবেসে ফেলেছি।”
গকটু থেমে বুকে হাত দিয়ে বলে
—“মিস্টার জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী…আমি আপনাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমি এই অনুভূতিটা এখনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।আমাকে সময় দিন…”
শেষ কথাটা প্রায় ফিসফিস—
“ভালোবাসি আমি আপনাকে…”
দেয়ালের এই পাশে লিসি ওই পাশে কিরিস।দুজনের মাঝে শুধু একটা দেয়াল কিন্তু কষ্টটা এক।হঠাৎ কিরিস থেমে যায়। গিটারের তারে তার আঙুল আটকে থাকে।
তার বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে আসে।অদ্ভুত একটা অনুভূতি যেন কেউ কষ্ট পাচ্ছে,আবার কোথাও যেন কারো খুশির রেশও আছে।সে মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের মনোযোগ সরিয়ে নেয়।আবার গিটার তুলে নেয় আরও ধীরে আরও নরম করে বাজাতে থাকে।লিসি চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে।
এই প্রথম কোনো কথা ছাড়াই দুজন মানুষ এতো কাছাকাছি আসে।রাতের আকাশ জানে এই ভালোবাসা শব্দে না,অনুভূতিতে মিশে আছে।
ভোরের আলো ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকে পড়ে।পর্দার ফাঁক গলে সূর্যের নরম রোদ লিসির চোখে এসে লাগে সে ঘুম থেকে জেগে ওঠে লিসি উঠে বসে মাথাটা ভারীৃচোখের নিচে হালকা কালো ছায়া খাট থেকে নামে আরোবি এতক্ষণে উঠে নিচে চলে গেছে। লিসি ফ্রেশ হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে নিচে নামে।
ডাইনিং টেবিলে সকালের নাস্তা সাজানো।
ঘরে পরিচিত শব্দ চামচের ঠোকাঠুকি,হালকা কথা।কিন্তু একটা মানুষ নেই কিরিস।
লিসির চোখ অজান্তেই চারপাশে খুঁজে নেয় তাকে।
আরোবি চেয়ারে বসে চা খাচ্ছিল। লিসি খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আরোবির কাছে জিজ্ঞেস করে—
“ ভাইয়া কোথায় ”
আরোবি এক ঝলক তাকায় তার দিকে
—“ভোরেই বেরিয়ে গেছে।”
লিসির বুকটা হালকা কেঁপে ওঠে
—“কোথায়?”
আরোবি একটু থেমে বলে
—“অফিস।”
লিসি আর কিছু বলে না চেয়ারে বসে পড়ে।কাপের চায়ে চুমুক দেয় চা গরম, কিন্তু তার ভেতরটা ঠান্ডা।সুপ্রিয়া টেবিলের পাশে এসে বলে
—“ লিসি রাতে ঘুম ভালো হয়েছে মা ”
লিসি —“ হ্যাঁ মামি ”
প্রিয়া—“ নাও কথা বলা বন্ধ করে সকালের নাস্তা করে নাও, তোরা বোন কয়টা বাকি আছি আর সবাই খেয়ে নিয়েছে ”
নুসরাত —“ লিসি আমি তোমাকে বেরে দিচ্ছি খাবার ”
সুপ্রিয়া—“ খেয়ে ঔষধ খেয়ে নিস মনে করে লিসি ”
লিসি মাথা নাড়ে সবাই একসাথে বসে সকালের নাস্তা খেতে থাকে ছেলেরা আর আনোয়ার আনারুল অফিসে চলে গেছে কিন্তু কিরিস এদের সবার আগে চলে গেছে। খাওয়ার মাঝখানে একটা কাজের লোক এসে বলে—“লিসি মামুনি আপনার ঘরের সামনে একটা প্যাকেট রাখা ছিল।”
লিসি তাকিয়ে নেয় একটা ছোট প্যাকেট সাধারণ কাগজে মোড়া। উপরে লেখা আছে কিরিস মানে এটা কিরিস দিয়েছে লিসিকে। লিসি প্যাকেট খুলে না হাতে নিয়ে রেখে দেয়।
আরোবি —“ কি আছে ওতে! ”
লিসি —“ জানি না, পরে দেখবো, মামি নানু কোথায় ”
সুপ্রিয়া—“ ঘরে আছে মা দেখো ”
লিসি —“ আমার খাওয়া শেষ, আমি একটু নানুর কাছে যাচ্ছি ”
জারা—“ আরোবি তুই আমার জামাটা দিস ”
সুরভী —“ আমি নিয়েছিলাম আমি দিয়ে দিবো ”
লিসি উঠে চলে যায় আর বাকিরা টেবিলে বসে খেতে থাকে। লিসি সোজা মির্জা বেগমের ঘরের দিকে যায় হাতে প্যাকেটা ধরে রেখেছে।ঘরের ভেতর ঢুকতেই দেখে মির্জা বেগম খাটের ওপর বসে আছেন।হাতে তসবি, চোখে ক্লান্তির ছাপ লিসি আর কিছু ভাবে না।সোজা গিয়ে
মির্জা বেগমকে জড়িয়ে ধরে।মির্জা বেগম একটু চমকে উঠে তারপর আদর করে লিসির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।
—“কী হয়েছে রে, মা?এইভাবে জড়িয়ে ধরছিস কেন?”
লিসি কিছু বলে না শুধু আরও শক্ত করে ধরে।মির্জা বেগম তার কপালে চুমু দিয়ে বলেন
—“শরীরটা ঠিক আছে তো?কাল থেকে তোকে খুব ক্লান্ত লাগছে।”
লিসি মাথা নাড়ে —“হুম…”
মির্জা —“খাওয়া ঠিকমতো করেছিস?ওষুধ খেয়েছিস তো?”
লিসি নিচু স্বরে বলে —“হ্যাঁ, নানু।”
মির্জা বেগম একটু থেমে তাকান। —“কিন্তু তোর চোখ বলছে কিছু একটা আছে। আমাকে বলবি কিছু ?”
এই কথাটার জন্যই যেন লিসি অপেক্ষা করছিল সে ধীরে মাথা তোলে।চোখ দুটো শান্ত, কিন্তু ভেতরে ভাঙা খুব আস্তে বলে
—“নানু…আমি বাড়ি যেতে চাই।”
মির্জা বেগম চমকে ওঠেন
—“বাড়ি মানে?এই বাড়ি ছেড়ে?”
লিসি মাথা নাড়ে
—“না নানু…গ্রামের বাড়ি।”
মির্জা বেগম একটু চিন্তায় পড়ে যান
—“কেন মা? কিছু হয়েছে?”
লিসি তাড়াতাড়ি বলে
—“না, না… কিছু হয়নি।”
তারপর একটু থেমে যোগ করে
—“মনটা ভালো লাগছে না।আর অনেকদিন যাই না তো… একটু যেতে ইচ্ছে করছে।”
মির্জা বেগম লিসির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিছুক্ষণ।তিনি বোঝেন এটা জোর করে বলা কথা না।
একটা ক্লান্ত মনের সিদ্ধান্ত।ধীরে বলেন
—“আচ্ছা। যদি তোর মন চায়, তাহলে যা।”
লিসির চোখে হালকা স্বস্তি আসে।মির্জা বেগম সঙ্গে সঙ্গেই বলেন
—“আমি রুমিকে ফোন করে বলে দেবো। ঘরটা ঝাড়ু দিয়ে রাখবে। তুই এখন যাবি?”
লিসি এক মুহূর্তও দেরি করে না
—“হুম নানু, এখনই।”
কারণ লিসি ভালো করেই জানে কিরিস ফিরলে সে আর যেতে পারবে না।কোনো না কোনো অজুহাতে ওকে আটকে দেবে।আর এখন সে এখানে থাকতে চায় না।
কিরিসের অনুপস্থিতিতেই সে চলে যেতে চায়।মির্জা বেগম আর কিছু বলেন না।শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। —“যা মা…মনটা হালকা করে আয়।”
লিসি ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।নিচে নামতেই সবাই অবাক হয়ে তাকায়।
জারা বলে —“এই! কোথায় যাচ্ছিস?”
সুরভী—“এভাবে তাড়াহুড়া কেন?”
লিসি শান্ত স্বরে বলে
—“আমি গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।”
ঘরে একটা হালকা চাঞ্চল্য পড়ে যায়।
আরোবি উঠে দাঁড়ায়—“এখন? হঠাৎ?”
লিসি একটু হাসে
—“মনটা ভালো লাগছে না।একটু গেলে ভালো লাগবে।”
জারা এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে
—“এভাবে হঠাৎ চলে যাবি?আমাদের কিছু বলিস না?”
লিসি ফিসফিস করে
—“বললে পারতাম না।”
কেউ আর জোর করে না সুপ্রিয়া বলে —“ আচ্ছা ঠিক আছে যাক গিয়ে একটু মনটা হালকা করে আসুক, আর দুইদিন পরে চলে আসিস নাহলে কিন্তু লোক পাঠিয়ে তুলে নিয়ে আসবো! ”
লিসি— “ ঠিক আছে মামি আমি ঘরে গেলাম ”
লিসি ঘরে ফিরে গিয়ে দুটো প্রয়োজনীয় ব্যাগ গুছিয়ে নেয়। বেশি কিছু নেয় না শুধু দরকারি জিনিস কারণ এটা পালিয়ে যাওয়া না,এটা নিজেকে বাঁচাতে যাওয়া।
কিছুক্ষণ পর গাড়ির ব্যবস্থা হয়।
জারা আর আরোবি যাবে তাকে রেখে আসতে লিসি শেষবারের মতো বাড়িটার দিকে তাকায়।এই বাড়িতে এই কয়দিনে সে ভালোবাসা পেয়েছে,আদর পেয়েছে কিন্তু এখন এখানে থাকলে তার বুকটা আরও ভারী হয়ে যাবে।
সে গাড়িতে উঠে বসে।আর গাড়ি ধীরে ধীরে গ্রামের পথের দিকে রওনা দেয় কিরিস না জানতেই,কিরিস না ফিরতেই।
গাড়ি চলতে শুরু করে কয়েক ঘন্টা পরে শহরটা ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যায়। উঁচু দালান, কোলাহল, হর্নের শব্দ সব মিলিয়ে যেতে থাকে। গাড়িটা এখন সরু পিচের রাস্তা ধরে চলছে।দুই পাশে সবুজ ধানক্ষেত,হালকা বাতাসে দুলছে শীষ।লিসি জানালার পাশে বসে চুপচাপ।
তার চোখে কোনো তাড়া নেই শুধু শান্তি খোঁজার চেষ্টা।
আরোবি বসে আছে লিসির পাশে আর আরোবির পাশে জারা বসে আছে।
জারা হেসে বলে
—“শহরের হাওয়া ছাড়তেই নিশ্বাসটা কেমন লাগে, না?”
লিসি হালকা হাসে
—“হুম… এখানে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় না।”
আরোবি —“ অনেক দিন পরে আবার গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি”
জারা —“ আমাদের তো আসায় হয় না, আমরা আসতাম দাদির জন্য কিন্তু দাদি তো আমাদের ওখানে যেতো তাই আর এখানে আমাদের পুরনো গ্রামের বাড়ি আসা হয় না”
গাড়ি আরও এগোয় দূরে তালগাছ, নারকেল গাছের সারি পুকুরের জলে আকাশের ছায়া।মাঠে ছেলেরা ফুটবল খেলছে কেউ গামছা গলায়, কেউ খালি পায়ে একটা বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে গাড়ি যায়।পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ ঝিকমিক করে।লিসি চোখ বন্ধ করে একটা গভীর শ্বাস নেয়।এই গন্ধটা কাঁচা মাটি, ঘাস, জল তার শৈশবের।
জারা হঠাৎ বলে
—“এই দেখ, ঐটা কি তোর স্কুলের মাঠ না?”
লিসি জানালার বাইরে তাকায় চেনা জায়গা পুরোনো স্মৃতি।
—“হ্যাঁ…এখানেই খেলতাম। আর নানু বসে পাহারা দিতো ”
আরোবি —“ বাড়ি থেকে তো বেশ দূরে স্কুল আর কলেজ এখানে ”
সত্যি তাই এখানে গ্রামের থেকে বেশ দূরে স্কুল আর কলেজ। গ্রামের সব ছেলে মেয়েরা একসাথে এই জায়গায় পড়তে আসে।
এইবার একটা ছোট ব্রিজ পার হয় গাড়ি।নিচে সরু খাল জলটুকু রোদের আলোয় চকচক করছে। ব্রিজটা পার করেই আরেকটু কিছুদূর যেতে পাকা রাস্তাটা শেষ হয়ে গেল এবার চারিদিকে শুধু মাঠ আর মাঠ আর সেই মাঠের মাঝখানে একটিমাত্র কাঁচা রাস্তা আছে যেটা শুধু যাই লিসির গ্রামের দিকে
রাস্তা কাঁচা হয়ে যায় গাড়ির চাকা ধুলো উড়ায় পাশ দিয়ে হেঁটে যায় গরু, ছাগল দু-একটা বাড়ির সামনে মুরগি ছানা নিয়ে ঘুরছে কেউ গাড়ি দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে,কেউ আবার হাসিমুখে তাকায়। মাঠে মধ্যে সবাই তাকিয়ে আছে গাড়ির দিকে, এই গ্রামে সবাই বেশির ভাগ শাকসবজি লাগায় মাঠটা পার করতেই একটা ছোট সুন্দর গ্রামের দেখা মিলে রায় চৌধুরী বাড়ির গ্রামের বাড়ি। এই গোটা গ্রামে সবচেয়ে পুরনো দালান বাড়ির মধ্যে এটা অন্যতম কিন্তু পুরনো হলেও এই সৌন্দর্য কোন অংশে কম নয় এই গ্রামের সবচেয়ে সুন্দর বাড়িটা অনেকেই তো জমিদার বলে থাকে, মির্জা বেগম চাইলে ছেলেদের সাথে শহরে থাকতে পারতেন কিন্তু তিনি এই বাড়ি ছাড়তে চাননি কখনোই না আর এখনো না কারণ এই বাড়িটাতে জড়িয়ে আছে উনার স্বামীর শেষ স্মৃতি জিহাদ রায়চৌধুরী যিনি বাড়ি নির্মাণ করেন এবং এখান থেকেই শুরু হয় আজকের রায়চৌধুরী পরিবার। মির্জা বেগমের ছোট মেয়ে আমেনা, মির্জা বেগম তার ছোট মেয়েকে সব থেকে বেশি ভালো বাসতেন। আর আমেনা মারা যাওয়ার পর ছোট ৫ বছরের লিসিকে নিজের করে নেয় তিনি। আর সেখান থেকেই লিসি তার নানুর কাছে মানুষ হয়। বাড়িটা ভিতরে গাড়িটা ঢোকে বাড়ির পাশে বড় কাঁঠাল গাছ বারান্দায় দাঁড়িয়ে রুমি।গাড়ি থামতেই
সে ছুটে আসে
—“আহা! লিসি!”
লিসি গাড়ি থেকে নামতেই রুমি তাকে জড়িয়ে ধরে।
—“হঠাৎ এলি?”
লিসি হাসে —“মনটা ভালো লাগছিল না আর এটা বুঝি আমার বাড়ি না ।”
রুমি —“ তোরই তো ”
রুমি কিছু জিজ্ঞেস করে না।কারণ গ্রামে সব প্রশ্নের উত্তর দরকার হয় না।আরোবি আর জারাও নামে।
রুমি বলে —“ভিতরে এসো, তোমরা কতদিন পরে এলে সেই কত ছোট ছোট দেখেছিলাম তোমাদের ঘরটা ঝাড়ু দিয়ে রেখেছি ভিতরে গিয়ে বসো আমি চা আর কিছু বানিয়ে দিচ্ছি ”
লিসি চারপাশে তাকায় এই জায়গাটা কোনো কিছুর দাবি করে না শুধু থাকতে দেয় সে বারান্দার ধাপে বসে পড়ে।
মাঠের দিকে তাকিয়ে।পাখির ডাক,পাতার শব্দ,দূরে কারো হাঁকডাক এই নীরবতার ভেতর লিসির বুকটা একটু হালকা হয়।জারা নিচু গলায় বলে
—“আহ এখন যাবো বা একটু কিছু ক্ষন থাকি আর রুমি আন্টি তেমাকে এতো চিন্তা করতে হবে ।”
লিসি মাথা নেড়ে বলে—“ হুম চাচি তুমি একটা মোরগ ধরে চুলে কুটে বেছে নাও দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে তাই এরা চলে যাবে ঠিক আছে না আরোবি ”
আরোবি —“ একদম! এত দূর থেকে কেউ ফাও ফাও এসেছিস। এমনি তো দুপুর হতে গিয়েছে খাওয়া-দাওয়া করে একটু রেস্ট নিয়ে তারপর বিকালে যাব, আর তাছাড়া একটু গ্রামটা ঘুরে দেখব এতদিন পরে আসলাম, আয় ঘরে আয় ”
লিসি —“ শুনেছো তো চাচি তুমি দেখে নিয়ো আমি ঘরে গিলাম, আই তোরা ”
ওরা তিনজন ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়। দুপুরে রুমি মোরগের গোশ আর ডিম–আলু ভাজি রান্না হয়েছিল। পেট ভরে খেয়ে সবাই ঘরের ভেতর শুয়ে পড়ে। গ্রামের একদম ঠান্ডা, শান্ত পরিবেশ—চারপাশে যেন নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে আছে।
একটু পরে আরোবি আর জারা চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। আরোবি লিসির দিকে তাকিয়ে বলে— —“শোন, ভাইয়া ফোন দিলে ধরবি। আর কিছুদিনের মধ্যেই চলে আসবি, নাহলে আমরা তোকে মিস করতে করতে শেষ হয়ে যাব।”
ওরা তিনজন একটু রেস্ট নেয়। বিকেল গড়িয়ে আসতেই জারা আর আরোবি তৈরি হয়ে নেয়। গাড়িতে উঠে পড়ে ওরা, আর লিসি ওদের বিদায় দিতে এগিয়ে আসে। লিসি এসেছে শুনে আশেপাশের কয়েকজনও সেখানে এসে দাঁড়ায়।
আরোবি বলে —“তাহলে আমরা গেলাম, লিসি। তুই কিন্তু তাড়াতাড়ি চলে আসিস।”
লিসি হালকা হাসি দিয়ে বলে—“হুম। আর ওইগুলো মামির কাছে দিও, আর নানুকেও বলো আমি ভালো আছি।”
জারা বলে—“ওকে, আমরা এবার যাই। না হলে দেরি হয়ে যাবে।”
একটু পরেই গাড়িটা গ্রামের সীমানা পেরিয়ে বেরিয়ে পড়ে। লিসি দাঁড়িয়ে থাকে—যতক্ষণ চোখে পড়ে ততক্ষণ তাকিয়ে থাকে গাড়িটার দিকে। ধীরে ধীরে মনটা কেমন খারাপ হয়ে যায়। কতদিন ধরে ওদের সঙ্গে ছিল… এখন থেকে আর দেখা হবে না।
আর সবচেয়ে বেশি যার কথা মনে খুঁজিয়ে উঠছে, সে হলো কিরিস।
এমন সময় পিছন থেকে কেউ হঠাৎ লিসিকে ধাক্কা দেয়। লিসি চমকে উঠে ভয় পেয়ে পিছনে তাকায় —“আরে তুই! আমি তো ভয় পেয়েছিলাম… তামান্নার বাচ্চা!”
তামান্না আর লিসি ছোটবেলার বান্ধবী। একসাথে পড়াশোনা, একসাথে বেড়ে ওঠা—দুজনের সম্পর্কটা একদম আপন। লিসির সামনে দাঁড়িয়ে তামান্না একটু অভিমানী সুরে বলে —“বাবা, মামার বাড়ি গিয়ে তো আমাকে একেবারে ভুলেই গিয়েছিস! আর কখন এলি, আমার সাথে একবারও দেখা করলি না। যাহ, তোর সাথে আমি কথা বলবো না।”
লিসি চোখ বড় করে তাকিয়ে হেসে বলে —“এই! তোকে কিন্তু মেরে ভূত বানিয়ে দেবো। আমি প্রায় দুপুরের দিকেই এসেছি। আর আমার সাথে ছোট মামার দুই মেয়ে—মানে আমার মামাতো বোন জারা আর আরোবি এসেছিল। ওদের সাথেই ছিলাম, এখন ওরা চলে গেল।”
তামান্না ভ্রু কুঁচকে মজা করে বলে —“তাই বুঝি পরির মন খারাপ! আমি অবশ্য বাড়িতেই ছিলাম না । এখন এসে শুনি—লিসি মানে পেত্নী এসেছে, তাই দেখতে আসলাম।”
লিসি নাক কুঁচকে হাসে —“হ্যাঁ, আমি তো পেত্নী আর তুই ডায়নী। আচ্ছা, কই ছিলি তুই?”
তামান্না স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে —“আব্বা পেঁয়াজ লাগাবে, তাই খেতটা ঠিক করে নিচ্ছিল।”
লিসি মাথা নেড়ে বলে —“ওহ! শীত তো আসতে গেল, তাই বুঝি। এখন একটু মাঠে যাবি?”
তামান্না হাসতে হাসতে—“যাওয়া যায়। তাহলে মাকে বলে আসি।”
লিসি—“হুম, আর আমি বাড়ি থেকে আসি।”
কিছুক্ষণ পর দুজন আবার একসাথে হয়। পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে মাঠের দিকে চলে যায়। মাঠের দিকে যেতেই একে একে লোকজন লিসিকে প্রশ্ন করতে থাকে—কখন এসেছে, কেমন আছে। লিসি সবার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে উত্তর দেয়। এতদিন পর যেন সে আবার নিজের জায়গায় ফিরে এসেছে।
হাঁটতে হাঁটতে তামান্না হেসে বলে —“জানিস কী হয়েছে? ওই মারিয়া আছে না, ও পালিয়ে গেছে একটা ছেলের সাথে।”
লিসি চমকে ওঠে —“হ্যাঁ? কবে! কার সাথে?”
তামান্না
—“জানি না। শুধু শুনেছি। ওই দেখ—সাজু।”
লিসি তাকিয়ে দেখে—দুইপাশে বিস্তীর্ণ মাঠ, মাঝখানে কাঁচা রাস্তা। চারপাশে নানান গাছ, আর তার মধ্যে একটা বেশ বড় পেয়ারা গাছ। সেই গাছের ডালে বসে সাজু নিশ্চিন্তে পেয়ারা খাচ্ছে। লিসিকে দেখে সে চেঁচিয়ে বলে—“ওই লিসি বু! কখন আসলি তুই?”
লিসি —“দুপুরের দিকে।”
সাজু হেসে বলে —“পেয়ারা খাবি?”
লিসি চোখ বড় করে
—“এই শালা, বলতে হবে নাকি! দে, আর বেশ কয়টা দে।”
তামান্না সাথে সাথে যোগ করে
—“হ্যাঁ, আর বেশি দিস!”
দুইজন কিছুক্ষণ মাঠে থাকে। বাতাসে হালকা ঠান্ডা, দূরে দূরে বাঁশগাছের সারি, মাঝখানে কাঁচা রাস্তা আর চারপাশে নানান গাছের ছায়া। মাঠে পাখিদের কিচির-মিচির, দূরে হালকা গরুর ঘেউ ঘেউ—সব মিলিয়ে গ্রাম্য শান্তি ছড়িয়ে আছে। লিসি আর তামান্না ধীরে ধীরে হাঁটে, চারপাশের পরিবেশ দেখার আনন্দে দুজনের মুখে ছোট ছোট হাসি। তারা মাঝে মাঝে হাসি-ঠাট্টা করে, একে অপরের সাথে গল্প চালায়, আর মাঠের মাঝের বড় পেয়ারা গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ বসে থাকেও।
সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে ঝুঁকে আসছে। হালকা সন্ধ্যার সোনালী আলো পুরো মাঠে ছড়িয়ে যাচ্ছে। বাতাসে পাতার ঝরা শব্দ, দূরে দূরে গরুর ডাক—সবকিছু মিলিয়ে যেন গ্রামের প্রকৃতির শান্তি আর সহজ সৌন্দর্য তুলে ধরে। তামান্না আর লিসি হেসে খেলা করে, আবার ধীরে ধীরে উঠে বাড়ির দিকে হাঁটে।
বাড়ি পৌঁছে লিসি ঘরে ঢোকে। আগে হালকা ফ্রেশ হয়ে, পরে বসে চা খায়। আঙিনার জানালা দিয়ে হাওয়া এসে ঘরে প্রবেশ করছে, আর টেবিলের পাশে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে সে টিভিতে গ্রামের নানান দৃশ্য দেখতে থাকে—বৃদ্ধ লোকজনের হাসি, শিশুদের খেলা, পুকুরে কাঁদা মাখানো হালকা জল—সবকিছু মিলিয়ে একদম গ্রামের নিস্তব্ধ, শান্ত পরিবেশ। চায়ের গরম কাপ হাতে নিয়ে লিসি সেই গ্রাম্য শান্তি অনুভব করে, মন হালকা আর শান্ত হয়ে যায়।সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিমে হেলে আসছে।
অন্য দিকে..........
শহরের রায় চৌধুরী বাড়ির জানালা দিয়ে হালকা সোনালি আলো ঢুকছে, আর হলরুমের প্রতিটি কোণকে উজ্জ্বল করে তুলছে। বাতাসে শীতল ছোঁয়া, আর বাইরে গাড়ির হালকা রঙিন আলো শহরের গর্জন তুলে দিচ্ছে, যা ঘরের শান্তি আর উষ্ণতার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।
অফিস থেকে ক্লান্তি নিয়ে কিরিস, কাবির আর রিহান ধীরে ধীরে বাড়ি পৌঁছায়। তারা গেট দিয়ে প্রবেশ করলে চুপচাপ হাসি আর ছোটদের উদ্দীপনা এক সঙ্গে অনুভব করা যায়। হলরুমে তাদের উপস্থিতি হয়তো অল্পই, কিন্তু বাতাসে যেন একটা অদৃশ্য শক্তি নড়ে—ছেলেরা আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাড়ির আবহা হয়ে উঠে আরও প্রাণবন্ত।

0 Comments