তোমাকে চাই
পর্ব :47
কিরিস লিসির গলায় মুখ ডুবিয়ে ছিল শ্বাস ভারী, শরীর উত্তেজনায় শক্ত হয়ে আছে,লিসির শাড়ির এলোমেলো রূপে তার ভেতরের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে।
ঠিক তখন
লিসির ভ্রু একটু কুঁচকে ওঠে।চোখের কোণে অল্প চাপ পড়ে আর হঠাৎ এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে
তার কোলের ওপর। কিরিস হঠাৎই লিসির গালে সেই অশ্রু দেখেই থমকে যায়,মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য তার ভিতরের আগুন থেমে যায়,তারপর সে কাঁপা শ্বাস নিয়ে লিসিকে আবার কোলে তোলে খুব শক্ত করে, এমনভাবে যেন পুরো দুনিয়াই লিসির শরীরের বাইরে পড়ে আছে।
সে লিসিকে নিজের বুকে চেপে ধরেমুখটা এনে দেয় লিসির ঠিক মুখের সামনে এক নিঃশ্বাস দূরত্বে,
আর তার কণ্ঠ দমবন্ধ, গভীর, আঘাত করা মতো নিচু
**“Lisi … শোনো…
এভাবে নয়… আমি চাই না তুমি অজ্ঞান থেকে কিছু অনুভব করো…বিশ্বাস কর, আমি চাই আমার দেওয়া যন্ত্রণায় তুমি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠো…
আমার নাম ধরে… আমার দিকে তাকিয়ে…
কিন্তু সেটা তুমি বুঝে… সজ্ঞানে…কারণ তোমার একটাও অনুভূতি আমি চাই না অচেতন অবস্থায় হারিয়ে যাক…”**
সে লিসির মুখের খুব কাছে আসে,
এত কাছে যে কিরিসের নিঃশ্বাস লিসির ঠোঁটে লাগে
কিন্তু সে ঠোঁট ছোঁয়ায় না নিজেকে থামিয়ে রাখে।
এক নিঃশ্বাসে সে বলে যায় কোনো বিরতি নয়, কোনো থেমে যাওয়া নয়—
**“Lisi Sharma… তুমি শুধু আমার…
তোমার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি… মাথা থেকে পা পর্যন্ত…
পুরোটাই আমার অধিকার…আর আমি সেটা নেবো
যেদিন তুমি জেগে থাকবে…আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকবে…আমাকে অনুভব করবে…আমার ছোঁয়ায় কেঁপে উঠবে…আমার দেওয়া যন্ত্রণায় ভেঙে পড়বে…
আমার ভালোবাসার প্রতিটা স্পর্শ তুমি বুঝবে…শুনবে… অনুভব করবে… এবং কাঁদবে…কিন্তু আজ নয়…
এভাবে নয়…অজ্ঞান অবস্থায় নয়…”**
তার কণ্ঠে আগুন, দখল, পাগলামি, ভয়—সব এক নিঃশ্বাসে মিশে যায়।কিরিস লিসিকে কোলে চেপে ধরে রাখে,তারপর মুখটা লিসির কপালের ওপর নামিয়ে ফিসফিস করে—
**“তুমি আমার… পুরোটা…আর তোমাকে আমি হারাবো না… কখনও না…”**
কিরিস লিসিকে কোলে নিয়ে সেই দখলভরা কথা বলার পর এক মুহূর্তও নিজেকে ছাড়তে পারে না।
সে লিসির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে অচেতন, নরম, অসহায়…আর সেই রূপ কিরিসের বুকের ভেতরে আবার আগুন ধরিয়ে দেয়।ধীরে…
সে মুখ নামিয়েলিসির ঠোঁটের পাশে—একদম হালকা,
নরম, দীর্ঘ একটি শেষ চুমু এঁকে দেয়।যেন নিজের সমস্ত দখল,সমস্ত ব্যথা,সমস্ত ভালোবাসা সেই এক স্পর্শে ঢেলে দিল।তারপর গভীর শ্বাস নিয়ে লিসিকে খুব আস্তে বুকে থেকে আলাদা করে বিছানায় শুইয়ে দেয়। শাড়ির এলোমেলো আঁচল ঠিক করে বুকে নামিয়ে দেয়
একটা অদ্ভুত যত্ন,একটা ভয়ংকর অধিকার।তারপর ব্ল্যাঙ্কেট টেনে লিসির গা ঢেকে দেয় যেন কোনো মানুষ তাকে ছুঁতেও না পারে।লিসির কপালে একবার হাত রেখে
মনে মনে বলে—
“ঘুমাও… আমি আছি…”
তারপর কিরিস ঘুরে দাঁড়ায়।তার শরীর জ্বলছে আগুনে, টেনশনে, দখলে।সে washroom-এর দিকে যায় এবং পানির নল ঘুরিয়ে দেয়।বরফের মতো ঠান্ডা পানি
মাইনাসের টান নিয়ে সোজা তার শরীরে পড়ে।পানির ঠান্ডায় তার শরীর কেঁপে ওঠে একটা শ্বাস ছুটে যায়।
কিন্তু সে দাঁড়িয়ে থাকে।এক মিনিট নয়,
পাঁচ মিনিট নয়,পুরো এক ঘণ্টা।প্রতিটা ঠান্ডা ফোঁটা
তার উত্তেজনা, তার দখলের পাগলামী,তার ভিতরের আগুনকে জোর করে দমন করে।এক ঘণ্টা পর
সে ধীরে পানি বন্ধ করে চোখ লাল, চুল ভেজা,
শরীর শক্ত।তারপর ধীরে পায়চারি করে ঘরে ফিরে আসে শুধু একটা কালো ট্রাউজার পরা অবস্থায়।
চুলগুলো টাওয়েল দিয়ে আলতো করে মুছতে মুছতে
সে বিছানার পাশে আসে।লিসি আগের মতোই অচেতন
শান্ত, নরম, অদ্ভুত সুন্দর।কিরিসের বুকের ভেতর আবার নরম হয়ে যায়।সে আস্তে বিছানায় উঠে বসে
ধীরে…লিসির কোমড় জরিয়ে নিজের দিকে টেনে নেয়।
লিসির মাথা তার বুকে এসে থামে।সে দু’হাতে লিসিকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে যেন লিসিকে বুকের ভেতর ঢুকিয়ে নিতে চাইছে।তার চোখ বন্ধ হয়ে আসে…
ঠান্ডা পানির পরে,আগুনের পরে,দখলের পরে তার শরীর ধীরে ধীরে শিথিল হয়।সে লিসির চুলে মুখ রাখে,
গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে এবং ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ে।লিসিকে শক্ত করে বুকে চেপে।যেন পৃথিবীতে তার কাছে থাকার জায়গা শুধু এই বুকটাই।
ঘন্টা খানিক পরে...
ধীরে ধীরে লিসির চোখ খুলে আসে।মাথাটা ভারী…
মাথার ভেতর যেন শব্দ হচ্ছে ঝিমঝিম… ঘোর… অস্থিরতা…সে প্রথমে বিছানার সাদা চাদর দেখে।
তারপর বুঝতে পারে, এটা তার ঘর না।চারপাশ অচেনা।
অতিরিক্ত নিস্তব্ধ।হালকা সুগন্ধ ছড়িয়ে আছে—ফুলের, ধূপের, আর কোথাও যেন পুরুষালি কোলোনের মিশ্রণ।
লিসি ধীরে ধীরে উঠে বসে।এক মুহূর্তেই তার নিঃশ্বাস কেঁপে ওঠে তার শাড়ি!শাড়িটা অর্ধেক গায়ের ওপর,
বাকি অংশ বিছানা বেয়ে ঝুলে আছে।আঁচলটা পুরোপুরি সরে গিয়ে পায়ের নিচে চাপা পড়েছে।
লিসির বুক ধড়ে ওঠে—
“এ… এ কীভাবে…?”
সে কাঁপা হাতে আঁচলটা গায়ে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে,
কিন্তু হাতটা কাঁপছে,তার চোখ ভয় আর বিভ্রান্তিতে ভরে যাচ্ছে।ঘরটা দেখে মনে হয় যেন হাজারটা গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।নরম আলো, পর্দা বাতাসে নড়ে হালকা শব্দ করছে।দেয়ালের ল্যাম্পগুলো যেন অস্বাভাবিক নরম আলোর আভা ছড়াচ্ছে।লিসি ধীরে ধীরে পা নামায় বিছানা থেকে তার হাঁটুগুলো দুর্বল,
একটু দুলে ওঠে।জানালার পাশটায় পর্দা হাওয়ায় নড়ে
সেই ফাঁক দিয়েদ দেখা যায় রাতের মধ্যে অদ্ভুত শান্ত আলো।বাইরে কি কোন জায়গা সে কিছুই বুঝতে পারে না।
—“আমি কোথায়?”
তার ঠোঁট কাঁপে।একটা ঠান্ডা ভয় তার পিঠ বেয়ে নেমে যায়।চুপচাপ… নিঃশব্দে…লিসি দরজার দিকে হাঁটে।
মেঝেটা ঠান্ডা,ঘরের নীরবতা তার কানে ধাক্কা দেয়।
দরজার কাছে পৌঁছতেই তার বুক আবার জোরে ধড়ফড় করতে শুরু করে।
অন্যদিকে......
বাইরে সুইমিং পুলের পাশের সাইটে তখন গুটি গুটি হাসাহাসি আর কথা বলার শব্দ মেয়েরা পানির ছিটে দেখে খিলখিল,ছেলেরা চেয়ারে আধশোয়া হয়ে গল্প,
আর মাঝে মাঝে ইয়াবির উচ্চস্বরে আড্ডা টেনে নেওয়া।
ঘরের ভেতর লিসির মাথা তখনও একটু ঝিমঝিম করছে।কথা বলতে ভয় লাগছে, শরীরে দুর্বলতা—কিন্তু মনটা আবার কৌতূহলী।
“বাইরে কি হচ্ছে?”
সেই শব্দ যেন তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।ধীরে ধীরে সে দরজার দিকে এগিয়ে যায়।চুলের ঝাঁক ঝাঁকানি, কানের পাশে শ্বাসের হালকা কাঁপুনি
তারপর…
হাত বাড়িয়ে নরম করে দরজার হ্যান্ডেলটা ঘোরাতে যাবে ঠিক তখনই…
টক্! করে দরজা খুলে যায়…
এমন ভাবে দরজা খুলে গেল, যেন কেউ ওর হাতের উপর বল প্রয়োগ করলো।লিসি থমকে যায়।কিন্তু পরের মুহূর্তেই ইশান দরজা খুলে সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে।তার মুখে পুরো আশা—
“এই দরজা দিয়ে নিশ্চয়ই কেউ ঢুকবে না…”
ঠিক সেই ভুলটাই করেছে।
ইশান যখন দরজা খুলে দিল,লিসি এতটাই চমকে উঠল যে কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না।
এক সেকেন্ড…
দুই সেকেন্ড…
তারপর
লিসি জোরে চিৎকার—
—"আআআআআআআআআআ!!"
চিৎকার এত জোরে যে ঘর কেঁপে ওঠে।
শরীরের সব ভয়, চমক, দুর্বলতা—একসাথে ঝড়ের মতো বেরিয়ে এল।
ইশানও বুঝতে পারলো না কি হলো।
হঠাৎ সামনে লিসির চিৎকার শুনে সে নিজেও লাফ দিয়ে ইশানও জোরে চিৎকার করে ওঠে—
—"আআআআআআআআআা!!"
দুজনের চিৎকারে মুহূর্তটা এমন হয়ে গেল,
যেন দুজনই দুজনকে ভূত ভেবেছে।বাইরে সাইটে বসা সব কাজিনরা চিৎকার শুনেই উঠে দাঁড়ায় জারা হাঁ করে তাকিয়ে সুরভী পানির গ্লাস ফেলে ইয়াবি চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে
—"কি হচ্ছে ভিতরে??!"
ইশান আর লিসির একসাথে চিৎকারে পুরো বাড়িটাই কাঁপানো পড়ল।
বাইরে সাইট থেকে প্রথমই ছুটে আসে জারা—
চুল উড়ে যাচ্ছে, হাতে এখনও পানির গ্লাসের ভেজা দাগ।
হিয়া —"এই এই! কে মরল? কে ভূত দেখলো?"
তার পিছনেই ইয়াবি দৌড়াতে দৌড়াতে এসে থেমে যায় দরজায়।
দৃশ্য দেখে সে দুই হাত কোমরে দিয়ে বলে
—"আমি কি বলেছিলাম?এই যোগাযোগবিহীন দুইটা মানুষকে একসাথে রাখলে এইটাই হবে!"
আরোবি পেছন থেকে এসে চোখ কুঁচকে বলে
—"চিৎকার প্রতিযোগিতা হচ্ছিল নাকি?"
ইশান তখনো বুক ধুকপুক করছে।
সে হাঁফাতে হাঁফাতে লিসির দিকে আঙুল তুলে বলে—
—"ও… ও আগে চিৎকার করেছে!"
লিসি হতভম্ব, বুক হাত দিয়ে চেপে ধরে—
—"না-না, তুমি আগে দরজা খুলেছো! ভয় পাইছি!"
দুজনে আবার একসাথে বলতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলে।
মেয়েরা হাসতে হাসতে দুমড়ে পড়ে।
জারা তো হেসে বলতে বলতে দম বন্ধ—
—"এরা দুইজন একসাথে থাকলে ড্রামা সিরিয়ালের নতুন এপিসোড বের হবে!"
কাজিনরা হাসাহাসি শেষ করে। একটু পরে লিসির চিৎকারের গোলমাল কমতেই কাজিনরা আবার সাইটে চলে গেল। লিসি তখনো শ্বাস ঠিক করার চেষ্টা করছে।
আরোবি একটু জোরে ফিসফিস করে বলে—
—"চল তো, ওইদিকে চল ।"
দু’জনে ধীরে ধীরে সুইমিং পুলের পাশে যেতেই
লিসির চোখ এক জায়গায় গিয়ে আটকে যায়।
পুলের ধারে কিরিস বসে আছে।শরীরে শুধু একটা কালো ট্রাউজার।বুক থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে…
অর্ধেক হালকা ভেজা চুল এক পাশে পড়ে আছে…দিকে থেকে লাইট এসে পড়ে তার কাঁধে পুরো বডিটা যেন পাথরের মতো শার্প, কড়া, অবিশ্বাস্য হট।আরো ভয়ানক ব্যাপার সে এক হাতে ল্যাপটপে কাজ করছে,আর অন্য হাতে একটা ফাইল উল্টাচ্ছে।পুরো মুখে ঠান্ডা, শীতল এক্সপ্রেশন
কোনো হইচই, চিৎকার—কিছুই যেন তার রাডারে নেই।
মেয়েরা স্বভাবিক আছি কারণ এমন দৃশ্য তারা দেখে অভ্যস্ত কিন্তু লিসি...
কিরিসের পাশের দিকে নিশি বসে আছে। নিশি এতক্ষণ ধরে হাঁ করে তাকিয়ে আছে যে জারা ধাক্কা দিয়ে বলে—
—"মুখ বন্ধ কর! মাছ ঢুকে যাবে।"
নিশি কিছু না বলে শুধু তাকিয়ে আছে। লিসি আরোবির দিকে তাকিয়ে কানে কানে ফিসফিস—
—"এ মানুষটা… আসলে… মানুষ নাকি?
কীভাবে এতো সুন্দর শরীর হতে পারে… আমি… আমি তো"
আরোবি তার মাথায় ধাক্কা দেয়—
—"তাইলে তুই বিয়ে করে ফেল তোর ডন-জ্বিন বয়ফ্রেন্ড কে !"
লিসি গিলে ফেলে।
তার চোখ স্বাভাবিকভাবে কিরিসের দিকে যায়…
তারপরই নিজের শাড়ির দিকে এক সেকেন্ড তাকিয়ে
"আমি শেষ… ও যদি কিছু দেখে থাকে…"
লিসির বুক ঠকঠক।গলা শুকিয়ে আসে।ঠিক তখনই কিরিস হালকা মাথা তুলে তাকায়।এক সেকেন্ডের চোখাচোখি।তার চোখে কোনো রাগ নেই।
কোনো প্রশ্ন নেই।শান্ত… ঠান্ডা…কিন্তু ভয়ংকর গভীর।
সেই দৃষ্টিতেই লিসি বুঝে যায়—
“উনি কিছু করেননি…আমি পুরো বেঁচে গেছি…”
সে প্রায় নিঃশ্বাস ছাড়ে।নিজেই বুঝতে পারে না কতটা টেনশন ধরে ছিল।আরোবি তার কানে কানে বলে—
—"দেখেছিস? ওরে বাবা তোর শাড়ির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল তুই নিশ্চিত শেষ।"
লিসি ফোঁস ফোঁস—
—"চুপ কর…"
আরোবি আরেকটু কাছে এসে বলে—
—"চল, যা চেঞ্জ করে নে।আজকে আমরা এখানেই থাকবো। ওই যে পাশের ঘর— ওখানে তোকে রাখছিল ভাইয়া,তোর দুর্বলতার জন্যই অজ্ঞান হয়েছিস।ভাইয়া তোকে কোলে এনে এখানে রেখেছে।আমরা তাই সবাই চলে এসেছি।আর তোর জন্য একটা কালো ড্রেস রেখে এসেছি— ওইটা পড়ে নে।"
লিসির ভয় তখনো কাটেনি। ও শুধু ভাবছে—
“এর আগে মাথার মধ্যে কী কি চলছিল…
আমি… আমি তো ভাবছিলাম…”
শড়শড় করে তার মুখ লাল হয়ে যায়।
আরোবি হাসে
—"চল তাড়াতাড়ি… আর চিন্তা করিস না।
তুই খুব বেশি ভাবিস।"
লিসি হাঁফ ছেড়ে বলে—
—"বেঁচে গেলাম …"
লিসি ধীরে ধীরে পাশের ঘরের দিকে যায়।
ঘরটা ঢুকতেই একটু থেমে যায়।ঘরটা খুবই সুন্দর।
মাটির রঙের দেয়াল, বড় বড় জানালা,
মোলায়েম সাদা লাইট সবকিছু royal, clean, elegant।
বিছানায় ভাঁজ করে রাখা কালো ড্রেস। মনে হচ্ছে কারো বিশেষভাবে বেছে দেওয়া।লিসি ড্রেসটা হাতে নিয়ে একটু থমকে দাঁড়ায়।তারপর শাড়িটা খুলে ধীরে ধীরে ড্রেস পরে নেয়।চুল একবার ঠিক করে।ঘরের দরজা খোলার সময় তার মনে হয়—“এই বাড়িটাই যেন আরেকটা রহস্য…
কি সুন্দর… কী শান্ত…”
কালো ড্রেস পরে লিসি ঘর থেকে বের হতেই
পুরো বাড়িটা আরও একটু পরিষ্কার দেখা যায় উঁচু সিলিং, সাদা দেয়াল,দূরে বড় কাঁচের দরজা, আর সেই দরজার ঠিক পাশে কিচেন।ওখানেই কিরিস দাঁড়িয়ে আছে,শার্ট নেই, ভেজা চুল গলা ছুঁয়ে আছে,
বুক আর কাঁধে পানি গড়িয়ে একটা ঠান্ডা শিহরণ তুলে দিচ্ছে।এক হাতে গ্লাস, অন্য হাতে বরফ উনি উইস্কি ঢালছেন…কাঁধের পেশি টানলে যে ছায়া পড়ে।লিসি কাছে আসতেই কিরিস ধীরে মাথা তোলে।তার চোখ লিসির ঠোঁটে গিয়ে আটকে যায়।জ্বালা ধরানো চোখ।
এমনভাবে তাকায় যেন ওই ঠোঁটের অধিকার আজীবন তার।লিসির বুক ধকধক সে মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে চলে যেতে যায়।হঠাৎ কিরিস ঠান্ডা গলায় বলে
—“শেলফটা থেকে ফাইলটা দাও তো।”
কন্ঠে আদেশ।কোনো রাগ নেই, কিন্তু ভয়ংকর গম্ভীরতা।
লিসি গলা শুকিয়ে ফেলে,তারপর সাহস সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে শেলফের দিকে যায়।ফাইলটা হাতে নিয়ে কিরিসের দিকে এগিয়ে দেয়।কিরিস ফাইল না নিয়ে এক হাত দিয়ে লিসির কোমরের পাশ ধরে এক ঝটকায় তাকে কিচেনের থামের পাশে বসিয়ে দেয়।লিসির নিশ্বাস একদম থেমে যায়।তার হাঁটু কেঁপে ওঠে।আর ওই শার্টলেস কিরিস এত কাছে তার শরীরের গরম নিঃশ্বাস লিসির গালে লাগছে।
কিরিস নিচু গলায় বলে—
“জানো, লাল শাড়িটায়…তোমাকে দেখে আমার ধৈর্য শেষ হয়ে গেছিল।এতো সুন্দর… এতো নিষ্পাপ…এতো আমার…”
লিসির গলা শুকিয়ে যায়।মুখ পুরো লাল হয়ে ওঠে,
চোখ নিচু হয়ে যায়।ঠিক তখনই কিরিস এক হাতে লিসির কোমর জড়িয়ে তার ঠোঁটে একটা হঠাৎ, দমবন্ধ করা কিস করে দেয়,নরম নয়।আবদ্ধ করার মতো।নিজের কাছে টেনে নেওয়ার মতো।লিসির হাত কাঁপতে থাকে।
কোনোমতে দু’হাত দিয়ে কিরিসের বুক ঠেলে দূরে সরে বলে
—“কি করছেন…!”
তার ঠোঁট লাল, ফুলে গেছে, চোখ বিস্ময়ে ভরা।
কিরিস ধীরে, ভয়ানক শান্ত স্বরে মুখটা লিসির কানের কাছে আনে
—“আমি ভাবছিলাম…তুমি কি জানো…তুমি ব্রা পরনি।”
লিসির নিশ্বাস থেমে যায়।তার কাঁধ থেকে শুরু করে গলা পর্যন্ত এক শটে লাল হয়ে ওঠে।এক মুহূর্তের জন্য সে কথা হারিয়ে ফেলে।একটা শব্দও বের হয় না।কিরিস ধীরে তার চোখের দিকে তাকিয়ে হাসে চোখের সেই দৃষ্টিটা যেন বলে—
“আমি সব দেখি,সব বুঝি।আর তুমি শুধু আমার।”
লিসি লজ্জায় পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা হাত দিয়ে গলা ঢাকে, চোখ নিচুর নিচু… এক সেকেন্ডও আর দাঁড়াতে পারে না, দ্রুত থাম থেকে নেমে চলে যায়।লিসি যেই না থামের উপর থেকে নেমে দ্রুত পা চালিয়ে বের হতে গেল,
তার গাল তখনও কিরিসের কিসের আগুনে জ্বলছে,
ঠোঁট ফুলে উঠেছে,শ্বাস ধরা ধরা।ও পারছে না এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াতে পারছে না।সে দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে বলে ওঠে—
—“আমি… আমি যাচ্ছি…”
একটু টলতে থাকা পায়ের শব্দে সে হেঁটে দূরে সরে যেতে থাকে।তার পিঠের দিকে তাকিয়ে কিরিস গ্লাসের বরফটা ধীরে ঘুরায়।মুখে সেই হালকা, দুষ্টু, ঠান্ডা হাসি।সে ঠিকই জানে—সে কিস লিসিকে কোথায় আঘাত করেছে।
কোন জায়গাটা লাল হয়েছে।কোন জায়গায় লিসির নিঃশ্বাস আটকে গিয়েছে।লিসি তাড়াহুড়ো করে হলরুমে ঢুকে যায়।হাঁটু নরম হয়ে আসছে…হৃদপিণ্ড এত জোরে ধুকপুক করছে যে মনে হয় সবাই শুনতে পাচ্ছে।
তার মাথায় চারদিকে প্রশ্ন ঘুরছে।
বিশেষ করে সে যখন শুনলো কিরিস ওইভাবে বলেছে—
“তুমি ব্রা পরনি”…
তখন তো মনে হলো মাটির নিচে গর্ত হলে ঢুকে পড়ে।ওর মুখ লাল, কান লাল, গলা লাল।লিসি দরজা ধরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে—
“এই মানুষটার সামনে থাকি কিভাবে…!”
ঠিক তখনই…ধীরে, খুব ধীরে,পদক্ষেপের ভারী শব্দ।
টক… টক…
লিসির বুক আবার ধক করে ওঠে।সে চোখ খুলে পেছনে তাকায় কিরিস শার্টলেস অবস্থায় কিচেন থেকে বের হচ্ছে।হাতে হুইস্কির গ্লাস,কাঁধে ভেজা শাওয়ারের পানি এখনও গড়িয়ে পড়ছে,চোখ তার উপর আটকে আছে
যেন লিসি ছাড়া আর কিছুই পৃথিবীতে নাই।লিসি গাল কামড়ে নিচু চোখে দাঁড়িয়ে থাকে।কিরিস কাছে এসে থামে।একটাও শব্দ নেই।শুধু তার গভীর শ্বাস আর লিসির দ্রুত শ্বাস এক মুহূর্তে মিশে যায়।
কিরিস নিচু গলায় বলে—
—“তুমি পালিয়ে যাচ্ছো কেন?”
লিসির কণ্ঠ আটকে যায়—
—“ওটা… ওটা ভুল হয়ে গেছে… আমি—”
কিরিস গ্লাসটা পাশে টেবিলে রেখে
একদম কাছে এগিয়ে আসে এত কাছে,
যে তার বুকে ভেজা তাপ লিসির কাঁধে লাগে।
সে লিসির মুখের দিকে তাকিয়ে ধীরে,অস্বাভাবিক শান্ত কিন্তু ভয়ংকর দখলদারী সুরে বলে—
—“ভুলটা তুমি করোনি।ভুলটা আমি করেছি।”
লিসির চোখ বড় হয়ে যায়।কিরিস আরও নিচু হয়ে—
—“কারণ আমি ভাবি…তোমাকে ছুঁতে কতটা চাই আর তোমাকে একবার ছুঁলে সেটা আমি সামলাতে পারি না।”
লিসির গলা শুকিয়ে যায়।তার আঙুল কেঁপে ওঠে।
হঠাৎ কিরিস তার চুলের কাছে মুখ এনে খুব ধীরে বলে—
—“আর একটা কথা…”
লিসি চোখ তুলে তাকায় ধুকপুক, ধুকপুক…
কিরিসের কণ্ঠ গা ছমছম করা নিম্ন স্বর—
—“তুমি ব্রা পরোনি…তাই দৌড়ানোর সময়… আমি সবটাই দেখেছি।”
লিসি শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।
তার কাঁধ সম্পূর্ণ লাল হয়ে ওঠে।সে দু’হাত দিয়ে বুকে হাত রাখে যেন ঢাকতে চায়, লুকাতে চায়, হারিয়ে যেতে চায়।
লিসি মুখ ঘুরিয়ে ফিসফিস করে—
—“এভাবে বলবেন না…”
কিরিস চোখ নামায়,
তার বুকের ওঠা-নামা এক সেকেন্ড চুপচাপ দেখে,
তারপর ঠান্ডা, কাঁপানো স্বরে বলে
—“কেন?তুমি জানো না তোমাকে কতটা সুন্দর লাগছিল সেই অবস্থায়?”
লিসি আর থাকতে পারে না। কিরিসের এমন লাগামহীন কথা শুনে লজ্জায় পাগল হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে লিসি।
কিরিসের শেষ কথা—
“তুমি ব্রা পরোনি… সবটাই দেখেছি।”এই লাইনটাই লিসির মাথায় বাজতে থাকে।তার কান পর্যন্ত লাল হয়ে ওঠে।
সে দুই হাত দিয়ে শরীর সামলে আস্তে আস্তে পিছিয়ে আসে,তারপর কিরিসের দিকে তাকিয়ে,লজ্জায় ঢলে পড়তে পড়তে কিরিসের কাছে এসে বকুনি শুরু করে।
—“আপনি… আপনি একদমই ভাল না!এভাবে কেউ কথা বলে নাকি?মেয়েদের সামনে এসব বলার, কোনো শিক্ষা আছে আপনার?চোখ আছে মানি… কিন্তু চোখ কি ঠিক জায়গায় রাখতে পারেন না?”
কথা বলতে বলতে তার কণ্ঠ লজ্জায় কাঁপছে,
কিন্তু তবু একটা মিষ্টি রাগের ঝড় বের হচ্ছে।কিরিস ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলে না কিছুই
শুধু তাকিয়ে থাকে। আর নির্লজ্জের মতো হাসছে।
লিসি আবার গলার কাছে কালো ড্রেসটা ঠিক করে বলে—“উঃহ, বদমাইশ বেটা মানুষ…সব সময় এগুলোই বলেন…কোনোদিন নরমালি কথা বলতে পারেন না!”
তারপর চোখ না তুলে দ্রুত পাশ কাটিয়ে বলে
—“আমি… আমি যাচ্ছি।
আর কিছু শুনবো না আপনার কাছ থেকে।”
মুখ লাল, কান লাল, চোখ চকচক…পুরো ফ্যান্সি-মিষ্টি ঝড় তুলেই হাঁটা দেয়।কিরিস ধীরে মাথা নামিয়ে হাসে
আস্তে বলে
—“অভিযোগ করছে… কিন্তু কতটা কিউট লাগছে সেটা কি জানে?”
লিসি বাইরে বের হতেই
সব কাজিনরা ওকে ডাকাডাকি শুরু করে
জারা—“এই, লিসি! পুলে আসিস!”
সুরভী—“দেখ দেখ, ইয়াবি তো সাঁতার শিখাতে নামছে!”
ইশান—“চোখ বাঁচিয়ে এসো! আজকে কেউ কেউ খুব শার্টলেস হয়ে ঘুরছে!”
লিসি লজ্জায় গলা টেনে বলে—
—“তোমাদেরও মাথা খারাপ…”
কাজিনরা—“কি বললি? জোরে বল!”
লিসি আরও লাল হয়ে—
—“কিছু না!!”
তারপর সবাই লিসিকে টেনে পুলের পাশে বসায়।
হালকা পানি ছিটানো, হাসি টিটকারি,ইয়াবির বেশি বাড়াবাড়ি,সুরভীর ঠাট্টা—সব মিলিয়ে পরিবেশ আবার মজা ভরে ওঠে।পানি ছুঁতেই লিসির মন হালকা হয়ে যায়।
হাসতে শুরু করে।মনে মনে ভাবে—
“উফ… এই মানুষটার থেকে একটু দূরে থাকলেও শান্তি নেই…কে জানে আবার কখন সামনে এসে দাঁড়ায়…”
এদিকে দূর থেকে কিরিস কাচের দরজার আড়াল থেকে দাঁড়িয়ে দেখছে হাতে গ্লাস, চোখ শুধু লিসির উপর স্থির।
তার ঠোঁটে সেই বিপজ্জনক,পুরুষালী, সন্তুষ্ট হাসি
“হাসুক…থাকুক…শেষমেশ কিন্তু আমার জন্যই হাসুক আর আমার কাছে থাকুক।”
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে।
বাড়ির বাইরে সবাই যে যার মতো হাসি–ঠাট্টা, আড্ডা, ইনজয়ে মেতে আছে।কিন্তু এই পুরো বিকেলটায় কিরিস একবারের জন্যও নিশির দিকে ফিরে তাকায়নিএকবারও না।এই অবহেলাটাই নিশির ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।যখন সবাই হাসি–ঠাট্টায় মসগুল, তখন নিশি ইচ্ছে করেই কিরিসের পাশে এসে দাঁড়ায়।হাতে ফোন, অফিসের কারো সাথে কথা বলার ভান।
নিশি —“তুমি আমাকে avoid করছো কেন?”
কিরিস চোখ না ফিরিয়েই ঠান্ডা গলায় বলে—
“মানে?”
একটু থেমে যোগ করে—
“আর হ্যাঁ, তুমি কালকে বাড়ি যাচ্ছো।”
নিশি চমকে ওঠে—
“কি…? কি করে তুমি এমন করছো?”
গলা ভেঙে আসে—
“আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
কিরিস এবার তাকায়।চোখে কোনো দ্বিধা নেই।
—“আমি জানি। আর হ্যাঁ, আমি তোমাকে ভালোবাসি না।”
নিশির বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে।
কাঁপা গলায় বলে—
“তাহলে এই সবটা কি ছিল?”
কিরিস ঠোঁটের কোণে ঠান্ডা, নির্মম একটা হাসি টানে—
—“মিসেস নিশি, গেম খেলতে আপনি বড্ড কাঁচা।যার জন্য আজ আপনি এই অবস্থায়।”
নিশির চোখে আতঙ্ক জমে।কিরিস ধীরে, স্পষ্ট করে বলে—“আমার যা দরকার ছিল, তা হয়ে গেছে।এখন এখান থেকে যান।”
চোখ আরও ঠান্ডা হয়ে যায়—
—“না হলে আপনাকে সাদা কাফন পরিয়ে কবরে পাঠাতে আমার এক সেকেন্ডও দেরি হবে না।”
নিশি পুরোপুরি ভয়ে জমে যায়।
এমন হুমকি… কিরিস?কয়েক সেকেন্ড চুপ।
তারপর হঠাৎ যেন মাথার ভেতর কিছু ক্লিক করে।
চোখ বড় বড় করে কিরিসের দিকে তাকায়—
“তাহলে সবটা ওই চিপটার জন্য ছিল?”আমার সব নিয়ে নিলে… আমাকে এতটাই হালকা ভাবো?”
চোয়াল শক্ত করে বলে
—“আমি এর প্রতিশোধ নেব।”
কিরিস কোনো উত্তর দেয় না।
মুখ ঘুরিয়ে নিঃশব্দে সেখান থেকে চলে যায়।আর পেছনে নিশি রাগে, অপমানে, ঘৃণায় জ্বলছে।চোখ দুটো লাল।
এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে।আর ঠিক তখনই তার চোখ যায় লিসির দিকে।আর বুঝতে বাকি থাকে না এত কিছুর, এত সব ঘটনার পেছনের কারণটা কে।শয়তানি এক হাসি ঠোঁটে এনে চোখের জল মুছে ফেলে।ফিসফিস করে বলে—“এমন প্রতিশোধ নেব আমি…
তুমি কান্না করে কুল পাবে না, কিরিস।কিরিসকে পাওয়ার জন্য যদি তোকে মরতে হয়, লিসি, তুই মরবি।আর আমার প্রতিশোধের ব্যথাটা তোকে নিয়েই নেব।”
নিজের শয়তানি মস্তিষ্কে কিছু একটা পরিকল্পনা করে নেয়।কিছুক্ষণ পর সবাই সন্ধ্যার হালকা নাস্তা শেষ করে।
নিশি শেষবারের মতো কিছু বলার অজুহাতে কিরিসকে এক পাশে ডেকে নেয়।ঠিক তখনই আরোবিদের সাথে কথা বলতে বলতে লিসি বলে—
“আমি একটু উপরে যাচ্ছি।”
সুরভী —“কি করতে?”
লিসি হালকা হেসে—
“এমনি, এখুনি আসছি।”
বলে সে সিঁড়ির দিকে যায়।উপরে উঠতে উঠতে হঠাৎ ওড়নাটা একটা ফুলদানিতে আটকে যায়।লিসি থেমে ওড়নাটা ছাড়ানোর চেষ্টা করে।ঠিক তখনই পেছনে কারো পদচিহ্নের শব্দ।লিসি চমকে পিছনে তাকায়।নিশি আর কিরিস।দুজন সোজা এসে পাশের দেয়ালের কাছে দাঁড়ায়।লিসির কৌতূহল জাগে এরা কি কথা বলবে?
সে কোনো শব্দ না করে, দেয়ালের আড়ালে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।আর এইদিকে ওদের কথোপকথন শুরু হয়…
দেয়ালের এই পাশে নিশি আর কিরিস।
আর ঠিক ওপাশে—এক নিঃশ্বাস চেপে দাঁড়িয়ে আছে লিসি।নিশি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।তারপর হঠাৎ গলা ভারী করে বলে—
“তুমি আমার সব নিয়ে নিয়েছো, কিরিস।আমার দেহ… আমার বিশ্বাস…এইগুলিই তো তুমি চাও, তাই না?”
কিরিস কোনো উত্তর দেয় না। কারণ নিশির দেহ তো দূরে থাক ওর কথাও কখনো ভাবিনি মনে। কিরিস কোল্ড ফেস নিয়ে দাঁড়িয়ে নিশির বকবক শুনছে।দেয়ালের ওপারে লিসির বুক ধুকপুক করে ওঠে।তার চোখ কিরিসের দিকে স্থির একটা উত্তর… একটা শব্দ।যেন জীবন-মরণ আটকে আছে ওই এক লাইনে।
নিশি আবার বলে—
—“লিসিকে তুমি ভালোবাসো, তাই না?ওর রূপের জন্য, তাই না?”
কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা। লিসি অধীর আগ্রহে আছে উত্তরের জন্য সে শুনতে চায় সত্যি টা কিরিসের মুখ থেকে। কিন্তু এই নীরবতাই লিসির বুকের ভেতর ছুরি চালায়।ঠিক তখনই কিরিস নিচু, স্পষ্ট কণ্ঠে বলে—
—“না।আমি লিসিকে ভালোবাসি না।”
শব্দগুলো যেন দেয়াল ভেঙে লিসির বুকে এসে লাগে।তার চোখে জল টলমল করে ওঠে।হৃদয়টা মুহূর্তে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।নিশি জানে ওই পাশেই লিসি দাঁড়িয়ে আছে।যখন কিরিসকে নিয়ে এই দিকে আসছিলো নিশি খেয়াল করে লিসি ওখানে দাঁড়িয়ে নিজের ওড়নাটা ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। আর তাই সে ইচ্ছে করেই আগুনে ঘি ঢালে।
নিশি —
“তাহলে তুমিও রূপের জন্যই ভালোবেসেছো?ওর দেহের জন্য?”শুধু বেড পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাও, তাই না?”
নিশি আরও নিচু স্বরে, নির্মম—
—“আরে তোমার পেছনে তো কত মেয়ে ঘোরে।সবার সাথেই তো এসব করেছো।তখন মিস লিসি কেন বাদ যাবে?”
একটু থেমে—
—“ও তো রূপবতী।এই জন্যই হয়তো… একটু বেশি দিন তোমার নজরে আছে, তাই না?”
আর কোনো কথা শোনার অবস্থায় নেই লিসি।তার চোখ বেয়ে জল ঝরঝর করে পড়ছে।মুখটা ওড়না দিয়ে চেপে ধরে সে হঠাৎ ঘুরে দৌড় দেয়।পায়ের নুপুর দুটো—
কিরিসের দেওয়া ঝনঝন করে বেজে ওঠে।সে শব্দ যেন চিৎকার করে বলে দিচ্ছে সে কষ্ট পেয়েছে।ভীষণ কষ্ট পেয়েছে।দেয়ালের এই পাশে কিরিসের শরীর এক মুহূর্তের জন্য জমে যায়।এই নুপুরের শব্দ সে ভুল করতে পারে না।চোখ দুটো রক্তিম হয়ে ওঠে।ধীরে নিচের দিকে তাকায়।আর তখনই তার বুঝতে বাকি থাকে না এতক্ষণ
দেয়ালের ওপাশে কে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু লিসি তো পুরো কথা শুনিনি যেটা শুনেছে র্যেটা সত্য নয়। সেটা দেখানো।

0 Comments