তোমাকে চাই
পর্ব :46
হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া সবাই বসে আছে। লিসি শাড়ি সামলাবে না তার লম্বা চুল চুলগুলো, বারবার মাটিতে পড়ে যাচ্ছে যার জন্য হাত দিয়ে গুছিয়ে নিচ্ছে। ঠিক এমন সময়, লিসির নেট শাড়িটা বাতাসে একবার উড়ে ওঠে এমনভাবে, যেন ইচ্ছে করেই ওর কোমরের গাঢ় নরম জায়গাটাকে একফোঁটা শাড়ির আঁচল ছাড়া পুরো খোলা রেখে দিল।সেই জায়গায় বাঁধা বিছার ডায়মন্ড ঝিকিমিকি করল,আর কিরিস দূর থেকে দাঁড়িয়ে,
এক সেকেন্ডে নিজের নিঃশ্বাস হারিয়ে ফেলল।
তার গলা শুকিয়ে কাঠ।চোখ লালচে।মনে হচ্ছে জ্বরের মতো কাঁপছে ভেতরটা।মেয়েরা চারদিকে হাসছে, কথা বলছে,কেউ বুঝছেই না।কেউ টেরও পায় না। যে তাদের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা, বাড়ির সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষটা এখন নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হাতে থাকা গাড়ির চাবিটা শক্ত করে চেপে ধরছে।
কিরিসের এমন রিয়েকশন ইয়াবি খুব ভালো করে বুঝতে পারছে কারণ টা কি সে শুধু লিসির দিকে একবার তাকাচ্ছে আর কিরিস দিকে একবার, আরোবিও খেয়াল করেছে কিরিস কিভাবে লিসির দিকে তাকাচ্ছে এই দেখে আরোবি লিসির কানে কাছে বলে —“ আজ তোকে সত্যি খেয়ে ফেলে দেবে কিরিস ভাইয়া এতো হট লাগছে ”
লিসি না বুঝে বলে —" চুপ করো তো এই শাড়ি সামলাতে আমি শেষ, শুধু সরে যাচ্ছে তারপর আবার আমার এই লম্বা চুল ' উফ '!
বলে লিসি পাশ ফিরতেই নেট শাড়িটার নরম কাপড়টা
হঠাৎ কোমর থেকে আরও একটু উঠে গেল…
একটুখানি কিন্তু ওই “একটুখানি” কিরিসের মাথায় আগুন ধরানোর জন্য যথেষ্ট।তার বুকের ভেতরটা
ধপধপ শব্দে বাজছে।শ্বাস ভারী হয়ে উঠল।চোখের মণি কেঁপে উঠল।হঠাৎ তার কণ্ঠে হালকা খসখস ধরা পড়ল
যেন গলা ব্যথা না,পুরুষালি জ্বালা।
একবার ফিসফিস করে বলল—
“Lisi…”
কিন্তু সেটা এত নিচু গলায় যে কেউ শোনেনি।
শুনলে বুঝত এটা কারও নাম ডাকা নয়,এটা একটা শিকারী পুরুষের ডাক। যা সে শিকার করার সময় বলে।
আজ যেন তার চোখ দুটো বড্ড বেহায়া হয়ে গেছে কিছুতেই চোখ সরাতে পারছে না লিসির উপর থেকে
তার চোখ শুধু লিসির পিঠের ফিতার দুলুনি,
ওর পিঠের মসৃণ খোলা অংশ,কোমরের বিছা,
আর নেট শাড়ির ভেতর দেখা দিচ্ছে ফর্সা কোমল ত্বকে।
ওকে এমন দেখে কিরিসের মনে হচ্ছে—
“যদি এখনই কাছে না পাই… আমি পাগল হয়ে যাব।”
তার গলার আওয়াজ যেন আটকে আছে।
ঘাড়ের পাশ দিয়ে নেমে যাচ্ছে একফোঁটা ঘাম।
এটা তার শরীরের উত্তাপে,না রাগে তা বোঝা কঠিন।
ইয়াবি সব দেখছিল দূর থেকে।
সে বুঝল এটা শুধু হিংসা না। এটা pure পুরুষালি তৃষ্ণা।
সে ধীরে ধীরে কিরিসের কাছে এসে বলল—
“ভাই, শান্ত হন… এত দেখছেন যে অন্যরাও বুঝে ফেলবে…”
কিরিস ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল।চোখ একদম লাল।
জবাব দিল না। শুধু দাঁত চেপে ফিসফিস করল—
“শিকারী সামনে শিকার দিয়ে যদি বলিস শিকার না করতে তাহলে ঠিক কেমন লাগে …”
ইয়াবি হতবাক।এতোটা কন্ট্রোল লস সে কিরিসের মধ্যে কখনো দেখেনি।
ইয়াবি —“ তুই আসলেই অন্য লেভেলে দেখেই তোর...... হয়ে যাচ্ছে...! ”
কিরিস মাথা নিচু করল…দু’মুঠো শক্ত করে চেপে ধরল…
চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিল গভীর, ভারী, তীব্র।
“ওকে কাছে চাই…এখনই…”
তার চুল বাতাসে উড়ে ঘাড়ের পাশে পড়ে গেল…
গলার হালকা অংশ উন্মুক্ত।কিরিস সেই মুহূর্তেই
ঝড়ের মতো চোখ খুলল।তার শরীরের ভিতরটা
এক সেকেন্ডে মৃদু, বিপজ্জনক কাঁপুনিতে ঢেকে গেল
যা দমন করতে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
রাজচৌধুরী বংশের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছেলে
এখন একটাই জিনিস চায়
—“ Lisi কে কাছে।তার সামনে।তার নাগালে।”
এটা আর প্রেম নয়,এটা pure অদম্য পুরুষালি টান।
যেটা থামানোর ক্ষমতা কারোর নেই।
পার্কের ভিড় থেকে একটু দূরে এক কোণায় বড় বড় গাছের পাশে একটা শান্ত, নিঃশব্দ জায়গা।মানুষ নেই বললেই চলে।শুধু পাতার শব্দ…আর হালকা বাতাস।
হঠাৎ লিসির ফোন বেজে উঠে
হিয়া—“ এখন আবার কে ফোন দেছে ”
লিসি ফোন রিসিভ করে বলে —“ নানু দেছে আমি একটু কথা বলে আসি ”
ফোন নিয়ে লিসি একটা ফাঁকা জায়গা খোঁজে কারণ এখানে সবাই কথা বলছে ভালো শোনা যাবে না। তাই পার্কের ফাঁকা জায়গা টায় যেতে থাকে। ওকে যেতে দেখে আরোবি বলে — “ এই দ্রুত আসিস, যেন কথা বলতে বলতে হারিয়ে না যাস!”
লিসি পিছন দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ে। মির্জা বেগমের সাথে লিসি কথা বলতে থাকে।লিসি মাথা নিচু করে কথা বলছে,এক হাতে শাড়িটা একটু ধরে রেখেছে যেন বাতাসে উড়ে না যায়।কিন্তু যতই লিসি ধরে রাখুক নেটের শাড়িটা এত পাতলা বাতাসে উড়ে তার কোমর আর পিঠের খোলা অংশ বারবার উন্মুক্ত করে দিচ্ছে।
এদিকে ঠিক পিছনের ঝোপের ছায়ায়… দাঁড়িয়ে আছে কিরিস। কাজিনদের ভিড় থেকে বের হয়ে এসেছে
কেউ টেরও পায়নি।তার চোখ লালচে…শ্বাস ভারী…কন্ট্রোল পুরো ভেঙে পড়েছে।দূর থেকে লিসিকে দেখে
তার ভেতরের আগুন আর সহ্য করা যাচ্ছে না।
লিসির পিঠের খোলা অংশেরোদ পড়ে চকচক করছে,
ফিতাগুলো বাতাসে নড়া–চড়ায় ঘাড়ের কাছে আলতো দোল খাচ্ছে।আর বিছাটা ওর কোমরে ঠিক যেখানে বাতাস লাগছে প্রতিটা মুভমেন্টে কিরিসের মাথার ভেতর
ঝড় তুলছে।
সে আর দাঁড়িয়ে থাকার অবস্থায় নেই।ধীরে, ভারী পায়ে
চলতে শুরু করল…লিসির দিকে।তার চোখ শুধু এক জায়গায়,ওর কোমর…, ওর পিঠ…, ওর চুল…, আর সেই নরম শ্বাস… যত এগিয়ে আসে তত তার নিঃশ্বাস আরও জোরে বাজছে। লিসি কিছুই টের পায় না।
ফোনেই বলছে—
“নানু ঠিক আছে… আমরা সবাই একসাথে আছি…৷ তাহলে এবার রাখছি ”
ঠিক তখনই ওর পিছনে একটা গভীর নিঃশ্বাস পড়ে
“ লিসি শার্মা ”
লিসি চমকে ঘুরে দাঁড়ায় আর কিরিস ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে।খুব কাছে এত কাছে যে লিসির শ্বাস থেমে যায়।
তার চোখ এত গাঢ়, এত লালচে, এত গভীর যে মনে হয়
কেউ তাকে থামাতে পারবে না।
লিসি ফিসফিস করে—
“আপনি… এখানে?”
কথা শেষ করার আগেই বাতাসে শাড়িটা আবার উড়ে যায় এবার একটু বেশি এভাবে যে ওর কোমরের পাশটা পুরোই দেখা গেল।লিসি দ্রুত শাড়ি ঠিক করে নিলো তারপর কিরিসের দিকে তাকালো।
কিন্তু এটা দেখা মাত্রই কিরিস আর এক সেকেন্ডও ধরে রাখতে পারল না।একদম সামনে গিয়ে হাতে শক্ত করে
লিসির কোমর ধরে টেনে নিল নিজের দিকে এমনভাবে যে লিসি নিশ্বাস আটকে গেল।ফোনটা হাত থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
লিসির চোখ বড় হয়ে গেল—
“কি… কি করছেন আপনি—”
কিরিসের কণ্ঠ নিচু, ভারী, থরথর যেন ভিতরে আগুন জ্বলছে—
“তুমি জানো না…তোমাকে এভাবে দেখে…
আমি…কতটা পাগল হয়ে যাচ্ছি…”
লিসি অবাক, বিভ্রান্ত, ভয়–মিশ্রিত লাজুক কিছুই বলতে পারছে না।তার নিঃশ্বাস লিসির গালে লাগছে
আর তার হাতের চাপ এত শক্ত যেন ভয় আছে লিসি যদি একটু দূরে যায় সে নিজেই ভেঙে পড়বে।
কিরিস তাকে আরও কাছে টেনে নিল এক শ্বাসে।
এত কাছে যে তাদের মাঝে একটা পাতাও ঢুকবে না।
লিসি ফিসফিস করে—
“কিরিস ভাইয়া… ছাড়ুন…”
সে ঠোঁটে একটু হাসল,দৃষ্টি আরও গভীর—“আমি আর ছাড়তে পারছি না।”
তার চোখ এমন যেন আজ যদি কেউ ডাকে সে যাবে না।
আজ সে শুধু এই মেয়েটাকে চাইছে। পুরোপুরি। শ্বাস নেওয়ার মতো।এভাবে তাকে আঁকড়ে ধরে কিরিস যেন নিজের ভিতরকার সব আগ্রাসন,সব প্রেম,সব তৃষ্ণা
একসাথে বের করে দিচ্ছে।
তারপরেও লিসি কিরিসকে ধাক্কা দিয়ে ওর বুকের কাছ থেকে সরে আসে খানিক দূরত্বে এসে বলে —“ আমার কাছে এসেছেন কেনো? আপনার নিশি কই ! ওর কাছে যান, আমাকে সংস্পর্শ করবেন না ”
কথাটা শোনা মাত্র কিরিস ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসে। লিসির পেছনে গাছ—সরে যাওয়ার জায়গাও নেই। ওর দুই হাত লিসির দু’পাশে গাছের গায়ে রেখে ফ্রেম করে ফেলে। লিসির গায়ে তার শ্বাস পড়তে থাকে—গরম, অস্থির, কাঁপা।
—“আরেকবার… আমার থেকে দূরে যাওয়ার চেষ্টা করো তো দেখো।”
স্বরে এতটা নিচু, কর্কশ, আর কামড়ে ধরা রাগ-মেশানো আবেগ যে লিসির হাঁটু কেঁপে ওঠে।লিসি কিছু বলার আগেই…
কিরিস এক ঝটকায় ওকে কাছে টেনে নেয়।
ওর কোমরের পাশে কিরিসের আঙুল শক্ত হয়ে বসে
লিসির এতটাই কাছে যে ওর নিঃশ্বাসও কিরিসের ঠোঁটে লেগে যায়।
—“তুমি জানো না লিসি… তোমাকে দেখলে আমি কেমন হয়ে যাই…”
গলার স্বর ভারী—ঝড়ের মতো।
লিসির হৃদস্পন্দন কানে বাজছে।
হঠাৎ লিসির চোখের কোণে আঁচলটা সরে থাকা দেখে কিরিসের চোখ আরও অন্ধকার হয়ে যায়।
সে নিচু হয়ে লিসির কাছে আসে…
লিসি ফিসফিস করে—
“ভাইয়া… প্লিজ…”
কিন্তু দুজনের মাঝের দূরত্ব তখন শেষ।
কিরিস ধীরে, কিন্তু থামানো যায় না এমন দৃঢ়তায়
লিসির ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়।
প্রথম স্পর্শটা নরম—ভয়ংকর নরম।
তারপরই তার ভিতরের পুরুষত্ব যেন বেরিয়ে আসে।
কিরিসের হাত লিসির কোমর থেকে একটু ওপরে উঠে শক্ত করে ধরে।লিসির নিঃশ্বাস আটকে আসে।
কিরিস আরও গভীর হয়ে আসে লিসি তো অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, শুধু বুক ওঠানামা করছে।
লিসি হাত তুলে ওর বুকে ঠেলে দূরে সরাতে গেলেও
কিরিস কাজ করেনি। এক হাত দিয়ে লিসির হাত থামিয়ে ওর কব্জি আলতো কিন্তু পাগল করা শক্তিতে চেপে ধরে।
আরেকবার…
কিরিস লিসির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়।
এইবার আরও গভীর, আরও তীব্র, নিজের সব দমচাপা পাগলামি ঢেলে। কিরিসের এবার ছাড়ার নাম নেই অনবরত কিস করছে লিসির নরম ঠোঁটে লিসি নিশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম কিন্তু এতেও কিরিস থামছে না। লিসি কিছু বুঝতে না পেরে কিরিসের ঠোঁটে কামড় বসিয়ে দেয় হঠাৎ এমন করাই কিরিস একটু সরে আসে আর লিসির ঠোঁট ছেড়ে ওর দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকাতে থাকে যেন এই বুঝি ওকে খেয়ে ফেলে দেবে, হালকা গোলাপির রং এর ন্যায় ঠোঁট কিরিসের। কেটে যাওয়ার রক্ত পড়ছে অনবরত ঠোঁটের একপাশ দিয়ে।
লিসি কোনরকমে কিরিসের বুক সরিয়ে এক ধাপ পিছিয়ে যেতেই ওর চোখ দুটো ছলছল হাঁপাচ্ছে, শাড়িটা এলোমেলো, ঠোঁট কাঁপছে…লিসি একটা কথাও না বলে হঠাৎ দৌড় দেয় ভিড়ের দিকে।পেছন থেকে কিরিস শুধু তাকিয়ে থাকে, চোখে বন্য, অন্ধকার, জ্বলন্ত আকাঙ্ক্ষা।
লিসি দৌড়ে গিয়ে আরবির সামনে থামতেই প্রায় কেঁপে কেঁপে বলে—
—“আরবি… কি সব হয়ে গেল রে… আমি তো… আমি তো…”
আরবি হতবাক—
—“কি? কি হয়েছে? শ্বাস নিচ্ছিস কেন এভাবে?”
লিসি লজ্জায়, ভয়ে, অস্থিরতায় ভাষা খুঁজে পায় না—
এমন লিসিকে দেখে আরবির মাথা ঝিম ধরে যায়।
সে শুধু বলে—
—“এক মিনিট ভাইয়া কি তোকে.... ”
লিসি —“ চুপ করো এখানে লোক আছে ”
আরোবি ফিসফিস করে বলে —" কাছে আসতে দিলি কেন? ”
লিসি বুকে হাত রেখে বলে — “ আমি দিয়েছি নাকি উনি জোর করে এসেছেন, কেমন ব্যবহার করছে আজকে! দেখলেই তো আমার কেমন লাগছে ”
আরোবি একটু হেসে মজার সুরে বলে —" মনে হয় ভাইয়া তোরে এই হট লুক দেখে,তোর সাথে বাসর করতে ইচ্ছে করছে ”
লিসি চোখ বড় বড় করে বলে — “ কি বেয়াদব তুৃমি! এইসব কিছু না..... ”
কিন্তু তারা জানে না তারা যেটা ভাবছে সেটা সত্যি আমি
কিরিস এখনো দাড়িয়ে আছে ওখানে ওর দুই হাত গাছের গায়ে ঠেকানো…ঠোঁট কামড়ানো…
চোখ লালচে…শ্বাস ভারী…
ঠোঁটে লিসির রঙ লেগে আছে।আর এইটুকুই তাকে আরও উন্মত্ত করছে। নিজের বুক নিজেই দু’বার মেরে ফেলে, যেন ভেতরের আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।
কিন্তু হচ্ছিল না।
—“… আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি… কেন তুমি এমন করে এলে এতো বছরের অপেক্ষা, এতবছরের চাওয়াটাকে দমিয়ে রেখেছি কিন্তু আজকে সেটা কি তুমি আবার উত্তপ্ত করলে, লিসি শার্মা তুমি আমাকে পাগল করে দিচ্ছো ”
নিজের সুরে নিজেই ভয় পায়।
এমন কিরিসকে কেউ কোনোদিন দেখেনি।
ঠিক তখনই পিছন থেকে ইয়াবি এসে দেখে তার অবস্থা
ওর শার্টের বোতাম খুলে গেছে,গলা লাল,
ঠোঁট যেন একটু ফুলে আছে, চোখে অদ্ভুত চাউনি।
ইয়াবি হতচকিত—
—“কি হয়েছে ? তুই তো—”
কিরিস তাকিয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড।
তারপর ভয়ংকর, গর্জে ওঠা নিচু স্বরে বলে—
—“লিসিকে খুঁজে বের করো।”
ইয়াবি থমকে যায়।
—“কি? কেন? এখন? ও তো—”
কিরিস দ্রুত এগিয়ে আসে, এত কাছে এসে দাঁড়ায় যে ইয়াবি গিলতে থাকে—
—“ওকে কিডন্যাপ করতে হবে।”
ইয়াবি তো পুরো থতমত—
—“কি?! কিরিস! কি বলছেন এসব—”
কিরিস মাটিতে থুতু ফেলে, চুলে হাত বুলিয়ে বলে—
—“আমি আর সহ্য করতে পারছি না।
ওকে আজ রাতে আমি আমার কাছে চাই।
এখনই। বুঝেছ?”
ইয়াবি গিলে ফেলে, হাত কাঁপে—
—“কিরিস… এটা তো,আরে তোর এখন সেই অধিকার হয়নি, বিয়েও তো......”
কিরিস এক ঝটকায় ইয়াবির কলার চেপে ধরে বুকের কাছে টেনে আনে।
—“চুপ। তোমার কাজ শুধু এটুকু দুই-তিন ঘণ্টা ধরে সব কাজিনদের ব্যস্ত রাখবে।কেউ যেন লিসিকে খুঁজতে না পারে।বাকিটা আমি সামলে নেব। বুঝেছ?”
ইয়াবি মাথা নাড়ে ভয়ে।
—“ঠিক আছে… কিন্তু তুই ভেবে দেখছিস তো লিসির কিন্তু এতে খারাপ লাগতে পারে! ”
—“আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি পাশে আমার বাড়িতে।
এক মিনিটও দেরি চাই না।”
ইয়াবি — “ যেটা বুঝিস, আমি এতোটুকু তো জানি তুই ভুল কিছু করবি যাতে লিসির মান সম্মান যায়! ”
কিরিস ইয়াবির দিকে তাকায় তারপর বলে —" ৭০৮ নাম্বার মিশনে যেটা করেছিলি ”
ইয়াবি কিরিসের দিকে একবার তাকায়, চোখে হালকা দুষ্টু-ভঙ্গি, তারপর বলে—
—"ঠিক আছে,"
বলেই সে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
কিরিস নিচে দাঁড়িয়ে থাকে অল্পক্ষণ। পকেট থেকে ফোন বের করে কানে তোলে—
—"মার্ক, আমি লিসিকে নিয়ে আসছি। তুমি বাড়িটা দেখো।"
তার কণ্ঠ ছিল ঠান্ডা, স্থির, একেবারে নির্দেশের সুরে।
কল কেটে কিরিস সোজা সামনে এগিয়ে যায়।
ওদিকে মেয়েরা সবাই নিজেদের মধ্যে গল্প করছে, হাসছে, হালকা নাস্তা খাচ্ছে। লিসি আর আরোবিও এক পাশে বসে কথা বলছিল। লিসির মুখে হাসি থাকলেও তার বুকের ভেতর তখনও কিরিসের করা কাজগুলো ঢেউয়ের মতো উঠানামা করছে—
ভয়, লজ্জা, গোপন উত্তাপ—সব মিলেমিশে এক অদ্ভুত কাঁপুনি।
ঠিক তখনই ইয়াবি এক ট্রে ভর্তি রঙিন জুস নিয়ে ঢোকে—"হেই লেডিস গন, তোমাদের জন্য ফ্রেশ জুস!"
সে হাসিমুখে সবার হাতে একে একে জুস দিতে থাকে।
সবাই নেওয়ার পরে সে লিসির সামনে আসে।
লিসি আপন মনে ট্রে থেকে একটা গ্লাস তুলতে যাবে
হঠাৎ ইয়াবি লিসির হাতটা সরিয়ে দেয়।লিসি অবাক হয়ে তাকায়।আরোবিও চোখ বড় করে বলে
—"কি ব্যাপার? তুই এমন করলি কেন?"
ইয়াবি সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে নরম গলায় বলে
—"আরে, সবাইকে আমি নিজের হাতে দিচ্ছি। তুই কেন নিজের হাতে নিবি? নে, আমি দিচ্ছি।"
বলে সে বেছে লিসির হাতে এক গ্লাস জুস এগিয়ে দেয়।
লিসি মুচকি হেসে নেয়।আরোবিও আরেকটা নিয়ে চুষে চুষে খাচ্ছিল।সবাই জুস খেতে থাকে।ঠিক তখনই ইয়াবি পাশ থেকে চোখ টিপে আরোবিকে ডাকে
—"আরেবি, এদিকে আয় তো।"
আরোবি এগিয়ে যায়।ইয়াবি নিচু গলায় বলে—
—"কিরিস কি করতে চাইছে জানিস?"
শুনতেই আরোবির গলা দিয়ে জুস নামা বন্ধ।
সে কাশতে কাশতে বলে
—"তুই কি পাগল? কিরিস ভাইয়া এমন করলে লিসি কিন্তু…"
ইয়াবি শান্ত স্বরে ফিসফিস করে
—"আরে, কিরিস কেমন তুই জানিস না? আর চিন্তা করিস না।কিরিস এমন কিছু করবে না যাতে লিসির কিছু হয়।"
আরোবি দীর্ঘশ্বাস ফেলে
—"জানি তো… আচ্ছা ঠিক আছে। আমরা এই দিকটা দেখে নিবো।"
ইয়াবি মাথা নাড়ে
—"হ্যাঁ। কিরিস আর লিসিকে একটু নিজেদের মধ্যে সময় কাটাতে দে।"
আরোবি ঠোঁট বাঁকিয়ে মজা করে বলে
—"হুম! তুই আর কি করবি? সিঙ্গেল মানুষ—নিজে নিজে একা সময় কাটাস!"
ইয়াবি ভুরু কুঁচকে বলে
—"Are you অপমান me?!"
আরোবি দুই হাত তুলে
—"না! Why I অপমান you? আমার কি খেয়ে কোনো work নেই?!"
ইয়াবি মুখ শক্ত করে থাকে কয়েক সেকেন্ড, তারপর হেসে হেসে চলে যায় সামনের দিকে।আরোবি হাঁটতে হাঁটতে আবার লিসির কাছে ফিরে আসে।
কাছে এসে বলে
—"লিসি, তোকে ইয়াবি ডাকছে। রান্নার কি যেন দেখতে ওই দিকে?"
লিসি একটু ভ্রু তোলে—
—"কোথাও… ও আচ্ছা, যাচ্ছি।"
লিসি নরম পদক্ষেপে উঠে দাঁড়ায় এবং সামনে এগিয়ে যায়, আর আরোবি তার পেছনে তাকিয়ে থাকে, মনে মনে জানে এখনই কিরিস আসবে। আর আজ কিছু একটা ঘটবেই।
লিসি আপন মনে সামনে দিকে হাঁটছিল। তার মাথার মধ্যে হঠাৎ করে একটা শক্ত জোরে জিম ধরে, চোখের সামনে সবকিছু ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসে।
চারপাশের শব্দ, আলো—সব যেন দূরে সরে যাচ্ছে।
লিসি টাল সামলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, হাত দেয় কাছের দেয়ালে…
কিন্তু মাথা ঘোরা একদম থামছে না।তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুনিয়াটা পুরোপুরি কালো হয়ে আসতে থাকে।দূর থেকে এই দৃশ্যটা দেখে আরোবি ভয় পেয়ে ইয়াবির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে
—"তুই বেশি দিসনি তো ওই অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঔষধ জুসে?"
ইয়াবি ঠোঁট কামড়ে বলে—
—"আরে না! কিছু হবে না।
শুধু কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকবে, ব্যস!"
আরোবির চোখ বড় হয়ে যায় কিছু বলার আগেই
লিসির শরীর পুরোপুরি ঢুলে পড়ে।
সে আর দাঁড়ানোর অবস্থায় নেই।
মিনিটের ভগ্নাংশে সে অচেতন হয়ে যেতে থাকে, দেহটা নিচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্ত—
ঠিক তখনই কিরিস।মৃত্যুর আগমনের মতো নীরবে, কিন্তু ঠিক সময়ে এসেদ্রুত হাত বাড়িয়ে লিসিকে নিজের বুকে তুলে নেয়।
কোনো দেরি নেই।কোনো দ্বিধা নেই।এ যেন ঠিক অপেক্ষা করছিল, কখন সে আসে।তার শক্ত বাহুতে লিসি সম্পূর্ণ নিস্তেজ।কিরিস গভীরভাবে তার মুখের দিকে তাকায়
চোখে এক ধরনের আদিম অধিকার আর বন্য ভালোবাসা।
ধীরে, খুব ধীরে বলে—
—"তুমি শুধু আমার… লিসি শর্মা।"
এ যেন প্রতিজ্ঞা নয় একটা ঘোষণা।একটা দখল।
বুকের সাথে চেপে ধরে কিরিস সোজা বাইরে পার্কের দিক দিয়ে হাঁটতে থাকে।হাওয়ার শব্দ থেমে যায়।
কেউ সাহস করে তাকে থামায় না।বাইরে বড় এক ছায়া দিয়ে ঢাকা জায়গায় কিরিসের কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল।যেন আগে থেকেই প্রস্তুত।
ড্রাইভারের দরজা খোলার পরে, কিরিস সরাসরি গাড়ির পিছনের সিটে বসে পড়ে কিন্তু লিসিকে কোলে থেকে নামায় না।বরং তাকে আগের চেয়ে আরও শক্ত করে, আরও কাছে টেনে নেয় যেন এই মেয়েটাকে একটু শিথিল করলেই হারিয়ে ফেলবে।লিসির লম্বা, ঘন, কালো চুল তার হাতে এসে পড়ে।কিরিস সেই চুলে আলতো করে আঙুল ছড়িয়েতার নাকের কাছে তোলে, চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেয় এমনভাবে, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধি সে পেয়েছে।যে সুগন্ধি তার নিজের।গাড়ি ধীর গতিতে সামনে এগোতে শুরু করে।বাইরের দুনিয়া হারিয়ে যায়, কিরিসের বাহুকে জড়িয়ে থাকা অচেতন লিসি ছাড়া আর কিছুই থাকে না।কিরিস, তার মেয়েটাকে ধরে, যেন একটা যুদ্ধ জিতে ফেলা রাজা।
কয়েক মিনিট পরে.....
গাড়ি পার্ক থেকে বেরিয়ে শহরের আলো পেরিয়ে যখন ঢুকে যায় আরও নির্জন, অভিজাত এলাকায়—
সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে কিরিসের ব্যক্তিগত ডুপ্লেক্স বাড়ি।বাহিরে উচ্চ গেট, আধুনিক সিকিউরিটি, এবং পুরো বাড়িটা অন্ধকারে ডুবে থাকা সোনালি আলোয় আলোকিত।কিরিস গাড়ি থামায়।মার্ক আগেই সব সাজিয়ে চলে গেছে।বাড়িটা এখন সম্পূর্ণ নিঃশব্দ,
একেবারে কিরিস আর লিসির জন্য।কিরিস গাড়ির দরজা খুলে লিসিকে আগের মতোই কোলে করে নেয়।
তার দু’হাতের শক্ত গ্রিপে লিসি যেন আরও ছোট, আরও কোমল লাগে।তার একশোটা ক্রোধও তখন গলে গিয়ে থাকে শুধু থাকে দখলের অনুভূতি।
সে বাড়ির ভেতরে ঢোকে।
ভিতর ঢুকতেই যেন এক রাজ্যের হলরুম।দুই তলা ফাঁকা জায়গা, বিশাল ঝাড়বাতি,মার্বেল ফ্লোরে আলো প্রতিফলিত হচ্ছে।হলরুমের একেবারে সোজা সামনে
বিশাল কাচের ওয়াল।দরজা খোলা মাত্র সামনেই দেখা যায় অসাধারণ বড় একটি সুইমিং পুল।পানিতে হালকা নীল আলো ঝিলমিল করছে যেন স্বপ্নের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটা দৃশ্য।জলের গায়ে প্রতিফলিত আলো কিরিসের মুখে এসে পড়ে,আর তার বুকে নিস্পন্দ পড়ে থাকা লিসিকে আরও পরীর মতো দেখায়।এ দৃশ্যটা একাই হাজার গল্পের মতো গভীর।কিরিস সোজা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠে।ঘরের দোরগোড়ায় দাঁড়ায় এবং থেমে যায় এক মুহূর্ত।ঘরের ভেতর গাঢ় গোলাপি আর সোনালি আলো।হালকা সুগন্ধির ঘ্রাণ।বিছানার ওপর নরম সাদা চাদর, তার ওপর ছড়িয়ে থাকা লাল গোলাপের পাপড়ি।
মেঝেতে মোমের আলো এমনভাবে সাজানো যেন পুরো রুমটা স্বপ্নের মতো ভাসছে।
দেখলে মনে হয়
এই ঘরে কোনো পরী ঘুমিয়ে থাকবে।আর সত্যিই
আজ সেই পরীটাকেই কিরিস কোলে ধরে এনেছে।
বেডের সামনে দাঁড়িয়ে সে খুব ধীরে লিসিকে নামিয়ে শোয়ায়।
তারপর…
কিরিস স্থির হয়ে যায়।তার নিঃশ্বাস কেঁপে উঠছে।
তার আঙুল থেমে আছে লিসির গালের ঠিক পাশে।
লিসির বুক ওঠা-নামা করছে ধীরে, অচেতন ঘুমে।
তার কপালের ভেজা চুল গাল বেয়ে নামছে।
ঠোঁট দুটো একটু খোলা…একদম অসহায়, শিশুর মতো।
কিরিসের গলার কাছে শব্দ আটকে যায়।
তার চোখে সেই পুরুষের দহন, যা সে সারাজীবন চাপা দিয়ে রেখেছে।আজ আর চেপে রাখতে পারছে না।
সে নিচু হয় তার ঠোঁট লিসির ঠোঁটের কাছে।
আর ঠিক স্পর্শ করার আগ মুহূর্তে সে চোখ বন্ধ করে…
নিজেকে ধরে রাখার শেষ চেষ্টা।কিন্তু পারে না।
সে লিসির ঠোঁটে একটা আলতো, কাঁপা চুমু দেয়।
এতটাই নরম, যেন সে ভয় পাচ্ছে এক ফোঁটা ব্যথাও যেন না লাগে। চুমুর পরেও লিসির চোখ খুলে না।
আর এটাই কিরিসের ভেতর পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেয়।
সে ফিসফিস করে—
"…Lisi … please wake up. আমি নিজেকে থামাতে পারছি না…"
তার আঙুল লিসির ঠোঁট ছুঁয়ে যায়—
তারপর নিজের চুলে হাত চালায়, শ্বাস ভারী হয়ে ওঠে।
সে লিসির দিকে তাকিয়ে থাকে…নিজের ভেতরের পুরুষত্বকে, সেই তীব্র আকর্ষণকে, পাগলামিকে নিয়ন্ত্রণ করার লড়াই চালাতে থাকে।কিন্তু লড়াইটা হেরে যাচ্ছে
দেখেই বোঝা যাচ্ছে।তার চোখ আরও গাঢ় হয়
অন্ধকার, দাবিদার, অধিকার খোঁজে।বেডের কিনারায় বসে কিরিস দুহাতে লিসির মুখ ধরে।
তার কণ্ঠ ভাঙা—
"তুমি কেন আমার উপর এমন পাওয়ার রাখো, Lisi …?"
ঘরের নরম গোলাপি আলো লিসির ঘুমন্ত মুখের ওপর পড়ে আছে।এমন একটা মুখ, যেটার জন্য একজন মানুষ তার পুরো পৃথিবী পুড়িয়ে দিতে পারে।কিরিস চুপচাপ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে।তার বুক ধুকপুক করছে অস্বাভাবিকভাবে।তার ভিতরের পুরুষ—যে সারাজীবন নিজেকে থামিয়ে রেখেছে,আজ আর থামছে না।
সে এক পা পিছিয়ে যায়…বুকে গভীর শ্বাস নিতে চেষ্টা করে…কিন্তু হয় না।ধীরে… খুব ধীরে…সে নিজের শার্টের বাটন খুলতে শুরু করে।হাত কাঁপছে।শার্টটা খুলে মেঝেতে ফেলে দেয়।তার গায়ের পেশি উত্তেজনায় শক্ত হয়ে আছে।চোখে জমাট অন্ধকার, দাবি, আর যন্ত্রণা।
সে আবার লিসির কাছে ফিরে আসে।বেডের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে।লিসি নিঃশব্দে শুয়ে আছে,
চুল গাল বেয়ে নেমে গেছে,ঠোঁটের কোণা নরম… অসহায়… স্বপ্নের মতো শান্ত।
এ দৃশ্য কিরিসকে একদম ভেঙে ফেলে।আঙুল বাড়িয়ে সে খুব আলতো করে লিসির চিবুক ছুঁয়ে ধরে
একদম শিশুর মতো।
“আমি তোমাকে ছাড়া আর কিছুই দেখি না… কিছুই চাই না…”
কণ্ঠে তীব্র যন্ত্রণা। ধীরে… এতটাই ধীরে যে বাতাসও শব্দ পায় না…সে এগিয়ে আসে।তার ঠোঁট লিসির ঠোঁটের খুব কাছে থেমে যায় মুহূর্তটা জমে থাকে।
তারপর…কিরিস চোখ বন্ধ করে
ঘুমন্ত লিসির ঠোঁটে একটা গভীর, কাঁপা চুমু দেয়।
চুমুতে কোনো জোর নেই কিন্তু তীব্রতা আছে,
দাবি আছে,বছরের পর বছর চাপা রাখা পাগল প্রেমের বিস্ফোরণ আছে।চুমুর পরও সে সরে না কপাল লিসির ঠোঁটের কাছে রাখে,ভারি শ্বাস ফেলে,নিজেকে জোর করে আটকে রাখে—
“আমি তোমাকে ছোঁব না… আজ না… তুমি জাগবে যখন… তখন তুমি নিজে আমার কাছে আসবে।”
তার কণ্ঠ ভেঙে যায়।এমনভাবে বসে থাকে,
যেন পৃথিবীর শেষ আশ্রয়টা তার সামনে শুয়ে আছে।
ঘরের নরম আলোতে লিসি যেন কোনো দেবীর মতো শুয়ে আছে শাড়ির আঁচল একপাশে সরে গেছে,
গলার পাশে চুল এলোমেলো,ঠোঁট একটু ফাঁকা,চোখ দুটো শান্ত, নিষ্পাপ, অসহায়।এ দৃশ্য দেখেই কিরিসের শরীর শক্ত হয়ে যায়।তার গলা শুকিয়ে ওঠে।
চোখের ভেতরে ডুবে যায় সেই অসহায় সুন্দর মুখটা।
আর এক মুহূর্তও দূরে থাকতে পারে না।
ধীরে… অসহায়ভাবে…সে লিসিকে আবার কোলে তুলে নেয়।লিসি দুলে ওঠে তার বুকে,
মাথা সরে গিয়ে কিরিসের কলারবোনে এসে লাগে।
কিরিসের নিঃশ্বাস থমকে যায়।সে লিসির কোমরটা করে নিজের কাছে আরও টেনে নেয়,আঙুল দিয়ে লিসির পিঠে নরম করে আদর করতে থাকে আর হাতের আঙুলের ফাঁক দিয়ে ফিতা খুলে দিচ্ছে, যেন ভয় পাচ্ছে, হাতটা উঠলে লিসি হারিয়ে যাবে।তারপর খুব ধীরে…
সে লিসির কপালে একটা চুমু দেয়।
হালকা, কিন্তু সেই চুমুতেই কিরিসের ভিতরের বাঁধ ভেঙে যায়।সে আরেকটু নিচে নামে…
তার ঠোঁট এবার লিসির গালের পাশে থামে।
একটা গভীর নিঃশ্বাস নেয় লিসির গায়ের গন্ধে যেন থেমে যায় পৃথিবী।
—“তুমি কেন এতো সুন্দর… কেন আমাকে এইভাবে পাগল করে দাও…”
তার গলা কাঁপে।সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না।
এবার কিরিস ধীরে মুখ নামিয়ে
লিসির গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়।তার গলা, চুলের গন্ধ,শাড়ির ছোঁয়া,সব মিলিয়ে কিরিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।সে চোখ বন্ধ করে লিসির গলার ত্বকে
নরম, দীর্ঘ একটা চুমু এঁকে দেয়,যেন বছরের পর বছর ধরে এই মুহূর্তটার অপেক্ষায় ছিল।তার শ্বাস ভারী হয়ে যায়।বুকে দোল খায় উন্মত্ততা আর যন্ত্রণা।
লিসির শাড়ি একটু সরে গিয়ে গলার হাড়ের ওপর আলো পড়ে ওটুকু দৃশ্যেই কিরিস পাগল হয়ে ওঠে।
সে আবার লিসিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে,
মুখ গলার পাশে গুঁজে রেখে নিঃশ্বাস নেয়
গভীর… কাঁপা… দখলভরা—
“তুমি আমার… শুধু আমার…”
ফিসফিস করে বলে সে।তার ভয়, তার আকাঙ্ক্ষা, তার দখল সব মিলিয়ে যেন অন্ধকার ঢেউয়ের মতো উঠছে কিরিসের ভেতরে।

0 Comments