তোমাকে চাই

 নুসরাত জাহান মিথিলা 

পর্ব :45

বলে সুরভী ওদের কে পার্কে ঘুরতে যাওয়ার সব কথা বললো।ছেলেরা তো এমনিতেই খুশি এটা শুনে আরও উচ্ছ্বসিত।
কাবির চেয়ারে হাত চাপড়ে বলল,
—"ঠিক আছে, তাহলে আমরা সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি। তোরা যা!"
ইয়াবি চায়ের কাপ নামিয়ে বলল,
—"যখন যেতে হবে তখন বিকালে খাওয়ার আইটেম আমরা ছেলে করবো। তোরা ঘুরিস।"
এই কথাটা শুনে মেয়েরা এক মুহূর্ত থমকে গেল—
ছেলেরা রান্না করবে?এটা আশা করেনি কেউই।
তারপরই একসাথে মুখে হাসি ফুটে উঠল।কারণ ছেলেরা রান্না করলে ঝামেলা নেই = মজা করা যাবে।
মেয়েরা আর দাঁড়িয়ে রইলো না।যে যার রুমের দিকে দৌড়।যাওয়ার আগে নুসরাত দরজায় দাঁড়িয়ে বলল,
—"টেবিলে খাবার গরম করে রাখা আছে। গিয়ে খেয়ে নিয়ো সবাই।না হলে কিন্তু ঠান্ডা হয়ে যাবে— তখন তোমরাই কাঁদবে।"
বলে সে হেসে চলে গেল।ঘরে ঢুকতেই মেয়েরা হালকা সাজগোজে ব্যস্ত। হাসি-ঠাট্টা, পারফিউমের গন্ধ, ব্যাগ-জুতো খোঁজা— পুরো রুম উৎসবমুখর।
ওই আরোবির ঘরে,, আরোবি আর লিসি দু’জনেই বিছানায় বসে আছে।আরোবি আয়নার সামনে হালকা বিলাসার লাগাচ্ছে।লিসির সাজগোজ প্রায় শেষ— চুল গুছানো, লালচে ঠোঁট, গলায় হালকা সোনালি চেইন।
হঠাৎ লিসি চুপ করে তাকিয়ে বলল,
একটু হিংসেভরা কণ্ঠে—
—"আচ্ছা… কি করলে ভাইয়া আর নিশির দিকে তাকাবে না?"
আরোবি থমকে গিয়ে লিসির দিকে তাকিয়ে রইল।
কয়েক সেকেন্ড কিছু বলতেই পারল না।তারপর ভুরু তুলে, চোখ বড় করে—
—"কি ব্যাপার লিসি! কি জেলাস নাকি?কিরিস রায় চৌধুরী কে নিয়ে?"
লিসি ঠোঁট কামড়ে লাজুক স্বরে বলল,
—"তাতো… একটু হবোই।যেভাবেই হোক… এখন তো ভাইয়া আমার বয়ফ্রেন্ড হয়েছে।!"
আরোবি হেসে পাশে এসে বসলো।তার কণ্ঠে একেবারে কাজিনদের সেই দুষ্টু ভাব—
"হুম ঠিক আছে মিস লিসি শর্মা…
তাহলে তুমি কি এখন তোমার এই সৌন্দর্য দিয়ে কিরিস রায় চৌধুরীকে পাগল করতে চাও?"
লিসি হতভম্ব চোখে তাকিয়ে বলল,
—"কি করে?"
আরোবি হেসে মাথা নেড়ে বলল,
—"আরে পাগলী! ছেলেরা সবসময় উত্তেজিত থাকে।
কেউ প্রকাশ করে, কেউ করে না।কিন্তু তাদের ধারণার বাইরে কিছু চলে গেলে? তখন ওদের থামানো যায় না পুরো পাগল হয়ে যায় বুঝলি? আর কিরিস ভাইয়াকে তোর রুপে এমন পাগল করবো যে বেচারা যেন হার্ড স্টোক করে "
লিসি বুকের কাছে হাত চেপে ধরে চোখ বড় করে বলল,
—"না বাবা! ওই সবের দরকার নেই।যেমন আছি, তেমনই ঠিক আছি…আর তুমি এত কি করে জানো গো ছেলেদের ব্যাপারে?"
আরোবি ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,
—"আহা! ওসব আমি এমনিতেই জানি।এমনি এমনি কি আর তোর থেকে বড় আমি ? আচ্ছা বাদ দে… আজকে মার্কেটে গিয়ে তোকে এমন একটা লাল শাড়ি কিনিয়ে দেবো, যেটা পরে ভাইয়া তোকে দেখে পুরোপুরি উড়েই যাবে।"
লিসি ঠোঁট বের করে মিষ্টি অভিযোগে বললো,
—"উনি তো আগেই পাগল…সে কখন নিশিকে নিয়ে বের হয়েছে?এখনো ফিরেন নি, গাধা মার্কা কোথাকার।
আচ্ছা চলো— নিচে হয়তো সবাই চলে এসেছে।
তারপরই বের হবো মার্কেটে।"
আরোবি হেসে ব্যাগটা তুলে বললো,
—"চল! আজ তোকে আমি এমন রূপ দেবো…
যা দেখে কিরিস রায় চৌধুরী টার্গেট লক হয়ে যাবে!"
লিসি কানে হাত দিয়ে—
—"এই বাদ দাও!
চলো, নাহলে দেরি হয়ে যাবে।"
ওরা নিচে নামতেই দেখে ছেলেরা পুরো রিল্যাক্স মুডে গা ছড়িয়ে বসে আছে।কেউ সোফায় কোল্ড ড্রিংকস খাচ্ছে,কেউ গেম খেলছে,কেউ আবার চেয়ারে আধশোয়া হয়ে ভিডিও দেখছে।এমন মেজাজ তাদের খুব কম দিনেই দেখা যায়।আজ মনে হচ্ছে ছেলেদেরও ফ্রি-ডে সবাই জমে গেছে আড্ডায়।মেয়েরা একে অপরের দিকে তাকাতেই বুঝে গেল, এরা নিজেরাই তাড়িয়ে এসেছে, যেন মেয়েরা ভালো করে শপিং করতে পারে।ছেলেদের চেহারায় সেই নিরুপায় কিন্তু ভালোবাসামাখা অভিব্যক্তি।এক এক করে মেয়েরা গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।ছেলেরা কেউ বিশেষ কিছু বললো না, শুধু খুশি চোখে তাকিয়ে রইলো।ওরা গাড়িতে উঠে বসল ড্রাইভার স্টিয়ারিং ধরতেই গাড়িটা বেরিয়ে গেল মার্কেটের দিকে। তারা একেবারে খুশিতে ফেটে পড়ছে।কারণ আজ
ছেলেদের টাকা উড়ানোর দিন।
মেয়েরা একসাথে গাড়ি থেকে নেমে মার্কেটের ভেতরে ঢুকতেই রঙিন আলো, নতুন কাপড়ের গন্ধ আর দোকানিদের ডাকাডাকি ভেসে আসে। লিসি আর আরোবি দুজন সামনে, বাকিরা পেছনে হেসে–খেলে ঢোকে বড় একটা শাড়ির শোরুমে।
দোকানদার সবাইকে দেখে হাসিমুখে এগিয়ে আসে—
“আপুরা, লাল শাড়ি চান? একটু প্রিমিয়াম কালেকশন দেখাই?”
আরোবি তৎক্ষণাৎ বলে—
“হ্যাঁ লালই দেখান, কিন্তু খুব পাতলা না। একটু ভালো মেটেরিয়াল দিন।”
দোকানদার টেবিলে একের পর এক উজ্জ্বল লাল পাতলা শাড়ি খুলে দেখাতে থাকে।শাড়িগুলো এতই পাতলা যে লিসি চোখ বড় করে বলে—
লিসি— “এইটা কিভাবে পরব! বাতাসে উড়ে যাবে দেখছি!”
সবাই হেসে ওঠে।নুসরাত বলে—
“হাসাহাসি কইরা লাভ নাই, দেখে পছন্দ কর ।”
লিসি লজ্জায় কান লাল করে ফেলে।
“এইসব বাদ দাও! এত পাতলা শাড়ি আমি নেব না।”
আরোবি দোকানদারকে বলে—
“ভাই, একটু কম পাতলা দিন। খুব পাতলা হলে আমাদের ম্যাডাম মানবে না।”
দোকানদার বুঝে হালকা হাসে। এবার সে একটু বেশি মেটেরিয়ালের, নরম জর্জেটের একটা শাড়ি খুলে দেখায় কালারটা একদম রক্তলাল, ওপর দিয়ে হালকা গোল্ড জরি, না খুব ভারী, না খুব পাতলা একদম পারফেক্ট।
সবাই একসাথে—
“এটাই নেব!”
লিসি মুখ কুঁচকে—
“আরে না! আমার পছন্দ না… ওটা নাও না…”
আরোবি হাত নেড়ে—
“চুপ। এটা তোর উপর অসাধারণ লাগবে।”
ঠিক তখন দোকানের একজন স্টাফ এগিয়ে এসে নরম গলায় বলে—
“আপু, চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন। আপনার গায়ে কেমন মানাবে দেখে নিতে পারবেন।”
মেয়েরা একসাথে লাফ দিয়ে ওঠে—
“হ্যাঁ হ্যাঁ! লিসি, ট্রাই কর!!”
লিসি—
“না গো! না না… দরকার নাই…”
সুরভী—
“চুপ! এত সুন্দর মুখ, এত সুন্দর ফিগার… পাতলা শাড়ি তোকে আগুন বানাইয়া দিবে।”
তিশা—
“চল যা, ট্রাই করলেই বুঝবি। তোকে ঠিককত সুন্দর লাগবে ।”
আরোবি হাসতে হাসতে লিসির হাত ধরে—
“লাজুক নাটক বাদ দে। চল ভিতরে। তুই ট্রাই করলে তোদের মধ্যেই সেরা লাগবে।”
লিসি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফিটিং রুমের দিকে যায়।
লিসি যখন পর্দার ভেতরে ঢোকে, মেয়েরা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে।আরোবি হাসে—
“দেখিস, বের হলে চিনতেই পারবি না…”
ভেতরে লিসি শাড়ি কোমরে আটাতে আটাতে নিজেই অবাক—শাড়িটা তার গায়ে যেন পানির মতো লেগে যাচ্ছে, পাশের মিররে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে লজ্জায় একদম গোলাপি হয়ে যায়।
বাইরে থেকে সবাই বলে—
“হয়েছে? বের হ!”
লিসি—
“না না… একটু… আরেকটু…”
আরোবি—
“বের হ না হলে দরজা ফাটাইয়া ফেলব!”
তখন ধীরে ধীরে লিসি পর্দা সরিয়ে বের হয়।মেয়েরা তাকিয়ে এক সেকেন্ড চুপ।
হিয়া —“ও মাই গড!!”
লিজা—“লিসি!! তুই তো আইটেম বোম !”
তিশা —“এই শাড়ি ছাড়া আর কিছু নেব না!”
আরোবি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে হাসে—
“দেখেছিস? তাই বলেছিলাম… পাতলা শাড়িতে তুই একদম সেক্সি হট লাগছিস।”
লিসি লজ্জায় মাথা নিচু করে—
“চুপ! এমন বলো না…”
আরোবি ফিসফিস করে—
“ভাইয়া তোকে দেখে আজ রাতে ঘুমাতে পারবে না।”
মেয়েরা আবার হেসে ওঠে।
সবাই মিলে শাড়িটাই প্যাক করিয়ে নেয়—লিসি না চাইলে ওরাই জোর করে নেয়।মেয়েরা আর কোনো কথা বাড়ালো না। শাড়ির পেমেন্ট করে বেরিয়ে পড়ল গাড়ির দিকে। আজকে সবাই বড্ড খুশি—নিজেদের ইচ্ছামতো শপিং, তার ওপর জুয়েলারি পাওয়া… মুখে সেই আনন্দের আলো নিয়ে মেয়েরা গাড়িতে ওঠে। গাড়ি রওনা দেয় বাড়ির দিকে।প্রায় আধা ঘণ্টা পরে বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে একটা অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে—বাইরের দরজা খুলতেই দেখে ছেলেরা সেই একই ভঙ্গিতে বসে আছে। যেভাবে বেরোনোর সময় দেখেছিল ঠিক সেভাবেই।
মানে এতক্ষণে তারা একবারও নড়েনি!
মেয়েরা একে একে ক্লান্ত শরীর নিয়ে যার যার ঘরের দিকে উঠতে শুরু করল। শপিংয়ের আনন্দে ক্লান্তি আছে, কিন্তু তাও মিষ্টি।লিসি ঠিক তখনই খেয়াল করল—নিশি আর কিরিস ইতোমধ্যেই ফিরে এসেছে।
নিশি কিরিসের একেবারে পাশটায় বসে, ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে তার দিকে…
মাঝে মাঝে ঘাড় ঘুরিয়ে বাড়ির অন্যদের দিকে তাকাচ্ছে।
এই দৃশ্যটা দেখতেই লিসির সুন্দর মুডটা একদম ভেঙে গেল।মুখে থাকা হাসিটা উড়ে গেল যেন।সে আরোবির সাথে ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে উঠতে শুরু করছে, ঠিক তখন কিরিস নরম গলায়, কিন্তু যেন আদেশ নিয়ে বলে
— "ফ্রেশ হয়ে এসে আমার জন্য কফি বানিয়ে দাও।"
লিসি থমকে দাঁড়ায়।আজকে মেজাজ এমনিতেই খারাপ, তার ওপর এই ধরনের কথা…
সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে কিরিসের দিকে।
কিরিস কিন্তু বিন্দাস মনে নিশির পাশে বসে আছে, তাকে পাত্তাও দিচ্ছে না।রেগে দাঁত চেপে লিসি বলে—
"আমি আপনার চাকর নাকি? নিজে বানিয়ে খান।
এখন বাইরে থেকে এসেছি, ক্লান্ত আমি পারব না।
খেতে হলে কয়েক ঘণ্টা পরে খান।"
বলে লিসি আরোবির হাত ধরে টেনে উপরে নিয়ে যেতে থাকে।কিরিস কিছুই বলে না চুপচাপ, শুধু গভীর দৃষ্টিতে লিসিকে তাকিয়ে দেখে।ছেলেরা নিজেদের হাসি চেপে মরছে।কিরিসকে কেউ এমন করে এক লাইনে থামিয়ে দিয়েছে…জীবনে কখনো দেখেনি!
ঠিক তখন
নিশি হালকা ঠোঁট কোঁচকে, মিষ্টি বিরক্তিকরে বলে উঠে
— "দেখেছো কিরিস?এইসব গ্রামের মেয়েদের কোনো ম্যানারস নেই।তুমি কত ভালো করে বললে, আর দেখলে? কীভাবে ঝাড়ি দিয়ে চলে গেল!ইস… যদি তুমি আমার হাতের কফি খেতে,আমি তো বলার আগেই বানিয়ে দিতাম…"
নিশির কথায় ছেলেদের আবার হাসি চেপে আসে।
ইতিমধ্যে তাদের ভেতর excitement। এতদিন ধরে যে জিনিসটার জন্য নিশিকে এত পাত্তা দেয়া হয়েছে সেই জিনিসটা এখন তাদের হাতে। আর তারা আগেই কিরিসকে জানিয়েছে তাদের মিশন সাকসেসফুল আর মেয়েরা আজ পার্কে ঘুরতে যাচ্ছে,আর ছেলেরা কী প্ল্যান করেছে তাও বলে দিয়েছে।এই কথাগুলো শুনেই নিশি নিজের জন্য একটা লাল ড্রেস রেখে দিয়েছে,
যেটা সে ঠিক করেছে পার্কে যাবে কিরিসের সঙ্গে
মনে করে সে যেন আজ তার হাতে হাত রেখেই ঘুরবে।
কিন্তু…
কিরিস কোনো উত্তর না দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকে।
তারপর উঠে ধীরে ধীরে সিঁড়ি ধরে উপরে চলে যায়।
কথা নেই, রাগ নেই, নীরব চোখে।
কিরিস উঠতেই ছেলেরা আর চুপ থাকতে পারে না।
তারা নড়ে চড়ে বসে,নিজেরাই নিজেদের হাসি চেপে রাখতে পারছে না।তারাও এবার উঠে নিজেদের রুমে চলে যায়।আজ বিকেলে তো সবাই পার্কে যাবে।
আজ celebration Doubl। Mission Successful.
তার ওপর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সন্ধ্যে কাটানোর excitemen এর থেকে সুন্দর আর কি হয়!
কয়েক মিনিট পরে মেয়েরা গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিয়েছে।শরীরের ক্লান্তি হালকা, মুখে excitement।
আরোবি আর লিসি রুমে বসে আরোবি শাড়ির সাথে কোন জুয়েলারি পরবে সেটা ঠিক করছে।
লিসি হেসে বলে
— "আরেহ বাবা, বলছি বড় ঝুমকো পরো।হাতের চুরি পরবে…গলায় কিছু লাগবে না।আর চুল খোলা রাখো।এতেই তো অসাধারণ লাগবে! আমি তো এভাবেই সাজবো।"
আরোবি হাসে, তারপর লিসির দিকে তাকিয়ে বলে
— "বাবা! তুই তো একেবারে ফ্যাশন গুরু!
শোন, তোর সাজে একটা জিনিস কম আছে।"
বলে সে আলমারি থেকে কোমরের বিছা বের করে লিসির হাতে দিয়ে দেয়। একে বারে চেনের সিম্পল এলিগ্যান্ট একটা বিছা কিন্তু কোমড়ে পরলেই সেটা মারাত্মক সুন্দর লাগবে সেটা বিছার কাটনি আর সৌন্দর্য বলে দিচ্ছে।
লিসি আশ্চর্য হয়ে
— "এটা কেন? আর পরলে কি হবে?"
আরোবি ঠোঁট কামড়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে—
— "কি হবে!?তোকে হট লাগবে!হঠাৎ যদি বাতাসে শাড়ি উড়ে যায়,ঠিক ‘কুছ কুছ হোতা হে’ মুভির নায়কা কাজলের মতো! তাহলে ভাইয়াটা যেন তোর ওই সেক্সি কোমর দেখে অজ্ঞান হয়ে যায়!"
লিসি একদম চোখ বড় করে তাকিয়ে থাকে।
ওর মুখে একটাই এক্সপ্রেশন—
"এই আরোবি কে কেউ থামাও "
ছোট্ট মুখে শুধুই লজ্জা অবাক গম্ভীর হাসি চেপে রাখা।আরোবির রোমান্টিক কথা তো লিসির মাথার ওপর দিয়েই যাচ্ছে।
সবাই হলরুমে বসে গল্প করছে এমন সময়, কিরিস ধীরে ধীরে সিঁড়ি নেমে আসে। তার চলার ভঙ্গি, কণ্ঠস্বরের স্পর্শ, সবকিছুতেই এক ধরনের শক্তি আর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের ছাপ। তার দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত ধ্রুবতা, যেন সবাই তার চলাফেরার প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।
ইয়াবি, কিরিসকে পুরো প্রস্তুত হয়ে নামতে দেখে, হঠাৎ হাসি মিশ্রিত বিস্ময়ে বলে,
—"ওই! তুই কি এখনই চলে যাচ্ছিস?"
কিরিস একবার চোখ মেলে তাকায়, অল্প হেসে, আর ধীরে ধীরে সিঁড়ি শেষে দাঁড়ায়
কিরিস গম্ভীর কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে বলে
— “আমার অফিসের একটা জরুরি কাজ আছে।
এখনই যেতে হবে।তোমরা পার্কে যাও, আমি সরাসরি সেখানেই চলে যাব।একসাথে যাওয়া হবে না।”
ইয়াবি —" সোজা ঢাকায় নাকি এখানে! "
কিরিস —" নাহ আমার এখানে যে বাড়িটা আছে ওখানে "
কাবির —" রাতে কিন্তু কথা আছে "
ছেলেরা কথা বলছে ঠিক তখনই—
নিশি হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়
— “ও তাহলে আমার জন্য ওয়েট করো!
আমি এখনই গুছিয়ে আসছি।আমরা দু’জনে একসাথে যাব, ঠিক আছে?”
পুরো রুম তাকিয়ে থাকে নিশির দিকে।
ছেলে-মেয়েরা হতবাক এতটা সরাসরি?এতটা আত্মবিশ্বাস?কিরিস কোনো উত্তর দেয় না।
ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে একবার তাকায় লিসির দিকে।
লিসির চোখে তখন সরাসরি জেলাসি একদম স্পষ্ট হিংসা। চোয়াল শক্ত, ঠোঁট চেপে এসেছে।লিসির ওই চোখের রাগ দেখে,
কিরিস নরম গলায় বলে:
— “হ্যাঁ। যাও।আমি ওয়েট করছি।”
এই ‘হ্যাঁ’টা ছেলেরা খুব ভালো বুঝল
এটা নিশিকে বলা হলেও এর আসল ওজন গেছে লিসির ওপর।
নিশি খুশিতে ঝলমল করে উঠে বলে,
— “এক মিনিটে আসছি!”
আর ছুটে উপরের দিকে চলে যায় ড্রেস চেঞ্জ করতে।
নিচে নেমে আসে নীরবতাকাজিনরা চোখাচোখি করে
সবাই জানে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।
কেউই মুখ খুলছে না।এদিকে লিসির বুকের ভেতরে শুধু চাপা রাগ চোখে লাল আগুনের ঝিলিক।সে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে,কিন্তু ভেতরে ভেতরে স্পষ্ট বোঝা যায়
নিশিকে নিয়ে কিরিস কোথাও যাবে এটা লিসি সহ্য করতে পারছে না।নিচের হলরুমে সবাই অপেক্ষা করছে।
হঠাৎ ওপরের দিক থেকে হাইহিলের হালকা শব্দ…
সবাই স্বাভাবিকভাবেই মাথা ঘুরিয়ে তাকায়।
নিশি ধীরে ধীরে সিঁড়ি ধরে নামছে গায়ে সেই গাঢ় লাল গাউনটা। সিম্পল কিন্তু একদম ক্লাসি।চুল এক পাশে, হালকা লিপস্টিক ফরমাল, ক্লিন, চোখে পড়ার মতো।
নামার সঙ্গে সঙ্গে পুরো হলরুম এক সেকেন্ড থমকে যায়।
ছেলেরা প্রথমে একেবারে তাকিয়ে থাকে।
মুখে নীরব বিস্ময়।অন্যরকম লাগছে নিশিকে আজ।
মনের অজান্তেই তাদের চোখ আটকে যায়।
ইশান ফিসফিস করে—
— “ওহ… আজ তো নিশি জাস্ট অন্য লেভেল।”
ইয়াবি
— “একটু আস্তে তোদের গুলোও আছে এখানে।”
ওদিকে মেয়েরা ছেলেদের এভাবে তাকানো দেখে নিজেরাই একটু বিরক্ত হয়।
জারা রাগাম্বির হাসিতে
— “ওরে বাবা, চোখ ঘুরিয়ে নে!
একটা ড্রেস দেখেই অমন চাউনিতে তাকাতে হয়?”
তিশা
— “হ্যাঁ, পার্কে যাচ্ছি—বিউটি কনটেস্টে না!”
ছেলেরা লজ্জা চেপে হাসে।
কেউ সোজা তাকাতে পারছে না।
নিশি সোজা কিরিসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
কিরিস একটু মাথা তোলে চোখে দু’সেকেন্ড থেমে যায়।
নিশি নিচে নেমে বলে —" কেমন লাগছে আমায়! "
কিরিস লিসির দিকে একটু তাকিয়ে আবার নিশির দিকে তাকিয়ে বলে —" You looking so gorgeous beautiful and wonderful, যত প্রশংসা করবো ততো কম হবে "
নিশির মুখে সাথে সাথেই হালকা হাসি ছড়িয়ে পড়ে—
আত্মবিশ্বাস, খুশি, একটু বাড়তি উচ্ছ্বাস।
লিসি শুধু কিরিসের দিকে তাকিয়ে আছে কোনো কথা এবার মনে হচ্ছে লিসি মুখে নয় কাজে করে দেখাবে কে কত সুন্দর, কিরিস আর লিসি একসাথে চলে যায় লিসি শুধু তাকিয়ে আছে আর ছেলেরাও নিশির দিকে তাকিয়ে আছে তখন নুসরাত রিহানকে বলে —" হ্যাঁ তাকায়ো তারপর তোমার চোখ কি করে উপরে ফেলতে হয় সেটা দেখবে "
রিহান —" এই না মানে শোনো! "
মেয়েরা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে উপরে চলে যায়,কারণ এখন তারা সাজগোছ করবে যেহেতু বিকেলে যাবে, মেয়েরা যে যার রুমে গোছাতে ব্যস্ত কিন্তু লিসি চুপচাপ বসে আছে কোনো কথা নেই ওর মুখে না চোখে আরোবি একপ্রকার গুছিয়ে লিসির দিকে তাকিয়ে বলে —" কি হলো নে গুছিয়ে,"
লিসি —" হুম নিচ্ছি "
আরোবি লিসির পাশে বসে বলে —" শোন আজকে তুই ভাইয়াকে একদম পাত্তা দিবি না একটুও না "
লিসি —" কে বলেছে আমি পাত্তা দেবো, ওনি বেয়াদব বেডা "
আরোবি —" এই তো নে শাড়ি পরে। আজ তোকে এমন করে সাজাবো যে জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী শুধু আপসোস করবে "
লিসি —" হুম হয়েছে এবার সরো গুছিয়ে নেই "
কয়েক ঘন্টা মেয়েরা সাজগোজ করছে ছেলেরা নিচে বসে বসে মাছি গুনছে একটুখানি নিশির দিকে তাকানোই প্রায় চার পাঁচ ঘন্টা ধরে তাদেরকে এভাবে বসিয়ে রেখে দিয়েছে এইটা কোন কাজের কথা হল ছেলেরা বিরক্ত নিয়ে, গা এলিয়ে দিয়ে বসে আছে ঠিক এমন সময় ছাত্র জনতা যেমন দলে দলে নামে মেয়েরাও ঠিক দলে দলে নামছে তাদের সবাইকে একই রকম লাল শাড়িতে দেখে ছেলের হাতের বেহুশ হওয়ার অবস্থা নিশিত নিশি এ মেয়েদেরকে এত সুন্দর লাগছে ছেলেরা চোখ ফেরতই পারছে না। যার যেটা সে তার দিকে তাকাচ্ছে, এমন সময় আরোবি উপরে ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বলে —"এই তোরা আগে যা আমি আর লিসি একটু পরে আসছি লিসির এখনো গোছানো হয়নি এইজন্য। আমি চিনি পার্ক, তোরা যা। ড্রাইভার আঙ্কেলকে রেখে তার জন্য নিয়ে যাস না। "
কাবির —" তাহলে চল আমরা যাই তিশা ডার্লিং চলো আমার লাল পরী "
তিশা—" দূরে থাকো ওই নিশির কাছে যাও "
কাবির —" এই এমন করে না! "
জারা, —" এই নেট শাড়ি যদি খুলে যায়! "
ইশান —" আমি আছি কি করতে পরিয়ে দিবো জান চলো"
জারা—" তার পর তোর জান আমি নিয়ে নেবো "
সুরভী —" আচ্ছা হয়েছে এবার চল না হলে আমাদের যেতে যেতেই সন্ধ্যা হয়ে যাবে "
বাদবাকি কাজিনরা সবাই রওনা দিল পার্কের দিকে বাড়িতে শুধু এখন লিসি আর আরোবি আছে একটু পরে লিসি নিচে নামে আরোবি তো লিসিকে দেখে হা করে তাকিয়ে আছে একটা মেয়ে কিভাবে এত সুন্দর হতে পারে। নরম আলোর ভেতর দিয়ে সে ধীরে ধীরে হাঁটছিল তাঁর শরীরে আজ এক অসাধারণ, হৃদয়কাঁপানো সৌন্দর্য।গায়ে হালকা সোনালি আভা মেশানো নেট শাড়ি,
যেটা আলোর নিচে পড়ে ওর কোমরের কার্ভগুলোকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলছিল যেন আঁকা।মোলায়েম সিল্কের ভেতরের কাপড় আর স্বচ্ছ নেটের বাইরের স্তর
হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে দুলে দুলে ওর দেহরেখায় এক মাদকতা এনে দিচ্ছিল।কোমরের জরিয়ে আটকানো সোনালি বিছাটা,হালকা আলোয় ঝিকমিক করছিল এমনভাবে যে চোখ না গিয়ে উপায় নেই।ওর পেছনের ব্লাউজটা ছিল লো-কাট,কিন্তু ভদ্র, মার্জিত।পিঠের মাঝ বরাবর বাঁধা চিকন ফিতা,আর তার নিচে ঝুলে থাকা গোছা গোছা ছোট গুড়গুড়ি,যা চললেই নরম টুংটাং শব্দ করে উঠে
এমন শব্দ, যেটা শুনলে মনে হয় কারো হৃদস্পন্দন একটু থেমে গেছে।চুলগুলো খোলা,মসৃণ কালো চুল পিঠ বেয়ে কোমর ছাড়িয়ে নেমে এসেছে শাড়ির নেটের ওপর চালচলনে এক ধরনের নিষ্পাপ ভদ্রতা,
কিন্তু রূপ অসহ্য রকমের সুন্দর।
আর কান দুটোতে দুলছে বড় বড় ঝুমকা তার সাথে টানা,যা ওর মুখটাকে আরও শার্প, আরও আকর্ষণীয় করে তুলছিল।হাতে শুধু দুটো চুড়ি কম, কিন্তু এতটাই মানানসই যে দেখলে মনে হয় এটাই যথেষ্ট।
আরোবি হা করে তাকিয়ে বলে —" তোকে দেখে আজকে বড্ড বলতে ইচ্ছা করছে,, আল্লাহ তুমি আমাকে কেন ছেলে বানাওনি! কি হোয়াট মাই রি তুই? "
লিসি —" তুমি এই সব কথা বাদ দেবে এমনিতে আমার জন্য তোমার দেরী হয়েছে এবার চলো না আমাদের বাদে ওরা পার্টি শুরু করে দেবে "
লিসি আর আরোবি এবার গাড়িতে করে পার্কের দিকে রওনা দেয়। সারা রাস্তা আরোবি তো লিসির প্রশংসা করতেই আছে। কিন্তু যার প্রশংসা পাওয়ার জন্য এত সাজ সে কি বলবে সেইটা শোনার বড্ড আগ্রহ লিসির বুকের বাম পাশের ছোট্ট হৃদয় খানার,
মেয়েরা, ছেলেরা সবাই অনেক আগেই পার্কে গিয়ে ইনজয় করছে।হাসাহাসি, ছবি তোলা, খাওয়া-দাওয়া—পুরো পরিবেশটাই উজ্জ্বল, রঙিন, মজার।
লিসি আর আরোবি একটু দেরিতে বেরোল।
রোদ নামতে শুরু করেছে, হালকা বাতাস বইছে…
নেটের শাড়িটা বাতাসে দুলে দুলে ওর পুরো শরীরের কার্ভগুলোকে আরও বেশি স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
পার্কের গেট দিয়ে লিসি ঢুকতেই
যেন কারও আড্ডার মধ্যেই হঠাৎ ব্রেক পড়ে গেল।
একবারে চারপাশ নিস্তব্ধ।সে শুধু ধীরে ধীরে হাঁটছে
কিন্তু মনে হচ্ছে পুরো পার্কটাই যেন ওর প্রতিটা পদক্ষেপে থমকে আছে।
পার্কের বাদবাকি ছেলেরা যারা একটু আগেও নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছিল,এখন সবাই চুপচাপ ওর দিকে তাকিয়ে রইল।কারো চোখ সরছে না।কারো হাতে ধরা কোক খেতে খেতে থেমে গেছে।কিছু ছেলেরা তো একদম ঘাড় ঘোরানো ভুলে গেছে,এতটাই অবাক।
মেয়েরা তাকিয়ে তাকিয়ে বলে উঠল—
তিশা—“ওফফ… লিসি আজ… কী লাগছে রে!”
নুসরাত —“সত্যি বলছি, এমন তোকে আগে দেখিনি!”
সুরভী —“মেয়েদের লুকও আজ কাবু হল…”
সবাই লিসির প্রশংসা করছে ছেলেরা তো গর্ব করছে লিসিকে নিয়ে, যে তাদের এতো সুন্দর একটা বোন আছে। বেশ কিছুক্ষণ সবার সঙ্গে সময় কাটানোর পরে আরবের একটু পানি খেতে ইচ্ছা করল কিন্তু পানিটা গাড়িতে আছে এখন গাড়িতে দেওয়ার মোটেও ইচ্ছা নেই কারো।এর জন্য লিসি আরোবির দিকে তাকিয়ে বলে —" আমি এনে দিচ্ছি দোকান থেকে তোমরা গল্প করতে লাগো"
লিসি পানি কিনতে স্টলের দিকে যেতেই ওই স্টলের তিনজন ছেলে এমনভাবে তাকিয়ে রইল, যেন পৃথিবীতে ও ছাড়া আর কেউ নেই।একজন নিচু গলায় বলে উঠল—
“ওকে দেখলে কেউ কি নিজের চোখ ফিরিয়ে নিতে পারে?”
আরোবি হেসে বলল,
“দেখতে দে, আজ তোকে নিয়েই কাহিনী…”

মেয়েরা লিসিকে ঘিরে প্রতিযোগীসুলভ প্রশংসা করতে লাগল কারণ আজ সত্যিই সে এমন এক সৌন্দর্যেয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যা মানুষকে স্তব্ধ করে দেয়।
কাজিনরা নিজেদের ঘন্টাখানেক ধরে পার্কের সুন্দর নির্মল পরিবেশে গল্প আড্ডা মজা করতে থাকার পর কিরিসের আগমন ঘটে।
দূর থেকে একটা কালো গাড়ি ঢুকল।
তার দরজা খুলে নামল কিরিস আর নিশি নামলো।
নিশি বেশ খুশি, সাজগোজ করা,হাঁটছে পাশে পাশে…
তখন নিশি ছেলেদের ওখানে কিছু দেখে ওদের দিকে গেলো আর কিরিস নিজের শার্টের হাতা গোটাতে থাকে ঠিক এমন সময় ওর চোখ যায় সোজা সামনে দাঁড়ানো লিসির ওপর। পা থেকে মাথা পর্যন্ত লিসিকে একবার ভালো করে দেখে নিলো।তার মুখে এক মুহূর্তে সম্পূর্ণ পরিবর্তন।চোখ কেমন যেন গাঢ় হয়ে উঠল…গলার কাছে শিরা টনটন করছে.....একবারে থেমে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকে শুধু।
লিসির নেট শাড়ি,লো-কাট ব্যাক, ফিতার দুলুনি,
কোমরের বিছাটা আলোয় ঝিকমিক করছে আর এগুলো দেখে কিরিসের ভিতরের পুরুষালি হিংস্র আকর্ষণটা
আটকে রাখা অসম্ভব হয়ে গেল।হঠাৎ তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।এক ফোঁটা ঘাম কপালের পাশে জমে গেলই—
যা কিরিসের জন্য অবিশ্বাস্য।সে সাধারণত এতটা নিয়ন্ত্রণ হারায় না কখনো।লিসি একটু মাথা নিচু করে
অন্যমনস্ক ভাবে চুলটা কানে সরাতেই কিরিসের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।তার চোখে এক ভয়ঙ্কর মিশ্র অনুভূতি
কাম, রাগ, টান, অধিকার, হিংসা—সব একসাথে আগুন হয়ে জ্বলছে।
এরপর কিরিস সেই সব ছেলেদের দিকে একবার করে তাকায় যারা লিসির দিকে হা করে তাকিয়ে আছে
ছেলেরা যারা একদম আগে লিসিকে দেখে তাকিয়ে ছিল,
এখন তারা কিরিসের দৃষ্টি দেখে ধীরে ধীরে নিচে তাকিয়ে যায়। কারণ সেই দৃশ্যই ভয় পাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আরোবি হেসে বলল,
“লিসি, আজকে কে বাঁচাবে তোরে…”
যা শুনে লিসি আরোবির দিকে তাকিয়ে বলে—" তুই চুপ কর,ভাইয়ার দিকে তাকাস না! "
কিন্তু তারপরেও লিসি চোখ তুলে কিরিসের দিকে তাকায় এক সেকেন্ডের জন্য। আর সেই এক সেকেন্ডে কিরিসের ভিতরের পুরুষত্ব একদম পাগল হয়ে উঠল।
লিসি সবার সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছে মাঝে মাঝে মুচকি মুচকি হাসছে মেয়েরা নিজেদের মতো মজাটাই ব্যস্ত ছেলেরা ঐদিকে রান্নার সামলাচ্ছে অবশ্য তারা বাড়ি থেকে রান্না করে এনেছে এখানে এসে যতটুকু আর কি করতে হয়। পার্ক টাই বড্ড বাতাস যেটা মেয়েদের জন্য একটু অসুবিধা কারন এই মিষ্টি বাতাসে তাদের পাতলা শাড়ি গুলো উড়ে যাচ্ছে সবাই ধরে বসে আছে গুছিয়ে বসে গল্প করছে যেন বাতাসে উড়ে গেল খারাপ না দেখায়, লিসিও যত সম্ভব শাড়িটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে কিন্তু কখন কোথা থেকে বাতাস লাগছে বোঝা যাচ্ছে না
লিসি — “বলেছিলাম এই পাতলা শাড়ি নিও না! দেখো এখনো কেমন বাতাসে উড়ে যাচ্ছে ”
লিজা—“ ধরে বসে থাকো আর এমনি তেই আজ তেমন লোক নেই পার্কে ”
হিয়া—“ চিপস খাবি ”
আরোবি —“ এই লিসি এই নে কোক ”
এইভাবে নিজেদের মতো গল্প করছে মেয়েটা টুকটাক খুনসুটি আর হাসি ঠাট্টা কিন্তু লিসি কি জানে তাকে দূর থেকে দেখে একদম পাগল হয়ে যাচ্ছে। নিশি একপাশে দাঁড়িয়ে কার সাথে মনোযোগে কথা বলছে যেন এই ফোন কল টা ওর জন্য অনেক জরুরী এজন্য কোন দিকে মন নেই ওর, এক পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছে,