তোমাকে চাই

 নুসরাত জাহান মিথিলা 

পর্ব :44

হিয়া আর লিজা সিঁড়ির দিকে এগোতেই—
ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে কিরিস নিচে নামছে।
ওরা দুজনই থমকে দাঁড়ায়, নিঃশব্দে একপাশ হয়ে যায়।
কিরিস এক মুহূর্তও ওদের দিকে না তাকিয়ে, চোখ নামিয়ে ধীরে ধীরে নামছে।
তার চোখ দুটো লাল।
সারারাত না ঘুমানোর থকথকে ক্লান্তি মুখে থাকলেও—
পুরো শরীরেই এক অন্যরকম আগুন।
গোছল করে নামছে মনে হয়, চুলগুলো নরম ভেজা, গায়ে একটা হালকা ক্যাজুয়াল শার্ট—
কিন্তু তার ভরাট উপস্থিতি পুরো হলরুমকে থামিয়ে দেয়।
উপর থেকে নামতে নামতে
তার তীক্ষ্ণ চোখ থেমে থাকে লিসির দিকেই—
লিসি যেভাবে ইশানকে হাত ধরতে দিচ্ছে না সেটা সব দেখছে।
তার ভ্রু একটু কুঁচকে যায়।
মাথার ভেতর কিছু একটা যেন শক্ত হয়ে ওঠে—
অদৃশ্যভাবে লিসিকে ঘিরে ফেলা তার protectiveness পরিষ্কার ফুটে ওঠে।
ইশান আবার বলে—
“আররে না খুললে তো ইনফেকশন হয়ে যাবে! এটা খুলে আবার ওখানে ডিসেন করে দেই। ঠিক হয়ে যাবে। পাগলামো করিস না, বোন আমার।”
লিসি দুহাতে নিজের হাত বুকে চেপে ধরে বসে আছে।
ইশান আবার হাত বাড়াতেই সে পিছিয়ে যায়—
লিসি — “না! তুমি ব্যথা দিবে ভাইয়া!”
জারা পাশে বসে হেসে বলে—
“আজকে দেখা যাবে ইশান কেমন ডাক্তার। তার বাদর পেশেন্টকে কিভাবে ট্রিট করে!”
ইশান ভুরু তুলে নাটুকে ভঙ্গিতে—
“এবার তো লিসি, তোমাকে খুলতেই হবে। এবার তো আমার মান–সম্মান নিয়েই কথা উঠছে!”
বলে ইশান সুযোগ বুঝে লিসির হাত ধরে ফেলে।
লিসি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠে—
“আআআআ!!”
কাজিনরা সবাই একসাথে থেমে যায়।
হাসবে নাকি সিরিয়াস হবে—বুঝে উঠতে পারে না কেউ।
তিশা এগিয়ে এসে বলে—
“আরে আরোবি, ওকে ধর! ভয় পাচ্ছে তো!”
ইয়াবি পেট ফাটানো হাসি দিয়ে—
“এত বড় হয়ে ভয়? আজকে লিসিকে ধরে এই ক্যানেলা আমি-ই খুলে দেবো! হাহাহা!”
লিসি কান্না কান্না গলায়—“তোমরা এমন করছো কেনো? আমি কিন্তু নানুকে বলে দিবো! আহ্! আমি খুলব না!”
হলরুমে সবাই ব্যস্ত, এই নিয়ে খুনসুটি কেউই খেয়াল করেনি কিরিস কখন সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসেছে।ধীরে, নিরবে, ভারী পায়ের শব্দ ছাড়াই সে সোজা চলে আসে ওদের দিকে।এক মুহূর্তেই লিসির পিছনে এসে দুটি শক্ত হাত দিয়ে লিসির চোখ ঢেকে দেয়।হঠাৎ স্পর্শে লিসি কেঁপে উঠে—
“আহ্ কে… আ—”
আর বাকিটা বলতে পারে না কারণ এবার কিরিস তার মুখও এটে ধরে।তার কণ্ঠ গম্ভীর, নিচু, হালকা রাগ মেশানো —
“দেখলে? ভয় লাগছে বেশি।চুপ করে থাকো।ইশান খুলে দে।”
লিসি মুখ আটকে রাখতেই গুমরাতে শুরু করে।
কিরিস বিরক্ত হয়ে তাকে টেনে নিজের বুকে জোরে চেপে ধরে—
“আর পাগল! ব্যথা লাগবে না!ইশান, খুলে দে— ব্যথা যেন না লাগে। লাগলে তোকে আফ্রিকায় পাঠিয়ে দেব!”
ইশান ভ্রু তোলে—
“এ কেমন কথা! একটু তো লাগবেই। বাদ দে।”
তাও সে কাজ শুরু করে।হাতের ওপরের টেপগুলো আস্তে আস্তে খুলে…সবশেষে যখন সুঁইটা বের করতে যায়
লিসি ব্যথায় নিজেকে সামলাতে পারে না।হঠাৎ
সে কিরিসের হাতে পুরো শক্ত করে কামড় বসিয়ে দেয়।
কিরিস কোনো শব্দ করে না।শুধু তার চোখ হালকা বড় হয়ে যায় ব্যথার চিহ্ন শুধু চোখে ফুটে ওঠে।যতটা ব্যথা লাগছে,ততটাই জোরে লিসি কামড়ে ধরে আছে কিরিসের হাত।আর কিরিস একটু নড়ে পর্যন্ত না।শুধু লিসিকে আরও কাছে টেনে ধরে রাখে,যেন তার ব্যথা নিজের ভেতরেই চেপে নিচ্ছে।সুঁই বের হওয়া মাত্র—
ইশান ধীরে বলে
— “হয়ে গেল… আর ধরতে হবে না।”
লিসির দাঁত তখনো কিরিসের হাতে গেঁথে আছে।
ব্যথায় মুখ লাল হয়ে আছে তার, কিন্তু তবুও সে ছাড়ছে না।কিরিস নিচে তাকিয়ে লিসিকে শান্ত গলায় বলে—
“ছাড়ো পাগল… হয়ে গেছে।”
লিসি তখনো চোখ পিটপিট করে তাকায় না
কারণ কিছুক্ষণ আগেই সে চোখ এটে ধরেছিল।
শুধু কাঁপা কাঁপা গলায়—
“আহ… ব্যথা লাগছে…”
এবার কিরিস তার হাত ধীরে পেছনে নিয়ে গিয়ে লিসির দাঁতের নিচ থেকে হাত সরিয়ে নেয়।
হাতে স্পষ্ট লাল দাঁতের চিহ্ন চারপাশের কাজিনরা সেটা দেখে অবাক হয়ে ফিসফিস করে ওঠে।
জারা মুখ ঢেকে—
“ওইদিকে তাকিয়ে দেখ… দাঁতের মার্ক পড়াইছে আপি!”
ইয়াবি পাগলের মতো হেসে—
“ওই ব্যথা লাগেনি কিরিস ভাইয়ার? মানে… কামড়ই তো!”
কিরিস ধীরে তাদের দিকে তাকায়—সেই পরিচিত ঠান্ডা, রাজকীয় চাহনি।সবাই মুহূর্তে চুপ।লিসি তখন লজ্জায়, ব্যথায়, আর কিরিসের বুকের কাছাকাছি থাকার কারণে
পুরো গাল লাল হয়ে গেছে।চোখ উপরে তুলে ধীরে বলে—
“আমি… আমি ইচ্ছা করে দিইনি…”
কিরিস তার চিবুকে আঙুল দিয়ে মাথা একটু তুলে—
মৃদু রাগ মেশানো গলায়—
“ Are you dog! কি জোড়ে কামড়াতে পারো কিন্তু আবার ব্যথা পেলে আমাকে নয়—ইশানকে কামড়াবে।”
ইশান—
“ওই! আমাকে কেনো?”
সবাই আবার হাসিতে ফেটে পড়ে।
লিসি মুখ গুটিয়ে—
“আমাকে আর ক্যানেলা দিও না কেউ!”
কিরিস তার মাথায় হালকা ধাক্কা দিয়ে বলে—
কিরিস — “চুপ। আর লাগবে না।”
তারপর সে বসে পড়ে লিসির হাত নিজের হাতে নিয়ে পরীক্ষা করে পুরো বাড়ি চুপচাপ দেখে কিরিস কেমন মনোযোগ দিয়ে লিসির হাত ধরে আছে।
আরোবি ফিসফিস—
“কিরিস ভাইয়া খুব রেগে গেছে মনে হয়…”
জারা—
“রাগ নয়… প্রোটেক্টিং মোডে ঢুকে গেছে।”
ঠিক তখনই উপরের সিঁড়ি থেকে টুংটাং শব্দে নামতে থাকে নিশি। চুলগুলো এলোমেলো, মুখে বিরক্তি চেপে রাখা এক ভঙ্গি।নিচে নেমেই হঠাৎ বলে ওঠে—
“ও মাই গড! সকাল সকাল এত চেঁচাচ্ছে কে?”
তার চোখ সরাসরি গিয়ে পড়ে লিসি আর কিরিস…
যেখানে লিসির ছোট্ট হাতটা এখনো কিরিসের আঙুলে আটকানো।লিসি সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নেয়— দ্রুত, তবু খুব শান্ত দেখানোর চেষ্টা।কিরিস খেয়াল করে।চোখে এক সেকেন্ডের জন্য তীক্ষ্ণ চাহনি ঝলসে ওঠে… কিন্তু সে কিছুই বলে না।ঠিক তখনই ইশান হাই তুলতে তুলতে বলে—“কি বলবো, তোমার কাছে যেটা সকাল মনে হচ্ছে, আমাদের কাছে তো সেটা এখন দুপুর।”
আরোবি মাথা নেড়ে বলে—
“এই তো ঠিক কথা। আর আমাদের সাথে থাকলে এমন চেঁচামেচি সহ্য করা অভ্যাস করে নাও।”
নিশি চোখ ঘুরিয়ে এসে কিরিসের পাশেই বসে পড়ে একেবারে নিজের জায়গা দাবি করার মতো দেমাক নিয়ে।লিসি সেটা দেখে খুব ধীরে, কিন্তু অনেক মর্যাদা নিয়ে উঠে দাঁড়ায়।এবং গিয়ে বসে আরোবির পাশে যেন বোঝাতে চায়,
"আমি কারো পিছু লেগে বসি না।"
কিন্তু ভেতরে ভেতরে বুকটা কেমন খচখচ করছে।
হঠাৎ নিশি নিজের কণ্ঠটা আরো নরম করে বলে—
“কিরিস… আমরা কি কোথাও লংড্রাইভে যেতে পারি এখন?”
ঘর ভর্তি সবাই চমকে তাকায়।এত সরাসরি?
এত সাহস?লিসির চোখ কিরিসের দিকে তীব্র, প্রত্যাশী, একটু কাঁপা…সে জানতে চায়— কিরিস কি বলবে?
কিরিস কয়েক সেকেন্ড ছেলেদের দিকে তাকিয়ে থাকে।
তারপর খুব ঠাণ্ডা, খুব steady স্বরে বলে
—“হুম। এখনই চল যাওয়া যাক।”
সাথে সাথে ছেলেরা চোখ নামিয়ে ফেলে।সবাই বুঝে গেছে এটা কিরিসের ইশারা।এক মিনিটও দেরি করলে রাগ উঠবে।কিরিস উঠে দাঁড়ায় এবং সরাসরি নিশির হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় বাইরে।নিশি তো খুশিতে প্রায় দম আটকে ফেলে।মুখে লজ্জার রং, চোখে উত্তেজনা।
বাইরে পৌঁছাতেই সে থেমে যায়—
“আরে আমার ফোনটা! একটু নিয়ে আসি… আর একটু সাজও—”
কিরিস পাশে দাঁড়িয়ে একেবারে playboy–এর মতো হালকা হাসে—
“কিসের এত সাজগোজ? তুমি এমনিতেই এই ড্রেসে প্রিটি লাগছো।আর কিছু সময় এসব ফোন–টোন থেকে দূরে থাকাই ভালো।চলো, আমার সঙ্গে।”
এটা শোনার পর বাড়ির ভেতরের কোনো মেয়ের মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের হয় না।সবার গলা যেন শুকিয়ে গেছে।আর লিসির…তার চোখ এক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।জ্বলে যাচ্ছে ভেতরটা।হিংসেটা এবার কষ্টকে ছাড়িয়ে গেছে।নিজের মনে মনে সে বলে—
**“বেশি এসেছে শাকচুন্নি।
আমার ভাইয়াকে নিতে নেমেছে যেন আসমান থেকে!
তোকে যদি তোর জায়গাটা না দেখাই। তাহলে আমি লিসি সার্মা না।কিরিস রায় চৌধুরী শুধু আমার।”**
কিরিস আর নিশি দরজা পেরিয়ে বের হয়ে যেতেই লিসির চোখে যে হিংসেটা ফুটে ওঠে, সেটার উত্তাপ পুরো ঘরটাকে থমকে দেয়।সে কিছু বলে না।কিন্তু তার মুখের সেই সামান্য শক্ত টান যেন বলে দিচ্ছে,
“আমি খুশি নই। একদমই না।”
এদিকে ছেলেদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল যেন তারা কোনো জরুরি মিশনে দেরি করে ফেলেছে সোফা থেকে উঠতেই একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিচ্ছে,পা মাড়াচ্ছে,সিঁড়িতে উঠতে গিয়ে সিরিয়াসলি আটকে যাচ্ছে। রিহান প্রায় চিৎকারে—
“আরে আমাকে যেতে দে!”
ইশানের ধমক—
“আরে আল্লাহ! আমাকে ধাক্কা দিছিস কেন!”
ইয়াবি হাপাচ্ছে—
“একটু আস্তে যাও! পড়ে যাবেনা না হলে!”
কাবির তো এরই মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেছে।মেয়েদের মাথায় হাত এমন নাটক যেন প্রতিদিনই দেখে!ঠিক তখন নুসরাত একটু গম্ভীর মুখে বলে
— “এই, চল আমরা সকালের নাস্তা করে নেই।
মরুক এই ছেলেরা গিয়ে!”
তিশা হাসতে হাসতে বলে—
“হুম! মাঝে মাঝে এদের দেখে মনে কি হয় জানিস?
আমরা এদের কিভাবে পছন্দ করি— আল্লাহই জানে কেন!”
নুসরাত চোখ উল্টায়—
“হ্যাঁ, কি আর করবো!চল— তোরা যা ডাইনিং-এ বস।
আমি হিয়া আর লিজাকে ডেকে আনছি।”
সে উপরে যায়।বাকি মেয়েরা ডাইনিং টেবিলে বসে গল্প করছে, হালকা আড্ডা এ সময় লিসি খুব চুপচাপ মুখে বললো—
“আচ্ছা… আমরা এখানে কোথাও আশপাশে ঘুরতে গেলে হয় না?”
আরোবি সঙ্গে সঙ্গে মজা করতে ছাড়ে না—
“বাহ! রোগী এখনো পুরোপুরি সেরে উঠেনি তবুও ঘুরতে যেতে চাইছে!তবে আইডিয়াটা দারুণ!”
সুরভী একটু উত্তেজিত স্বরে—
“হুম!এখানে একদম পাশে একটা পার্ক আছে—
ভীষণ সুন্দর।একটা বড় লেকও আছে।আর জানিস? ওই পার্কের একটু দূরে কিরিস ভাইয়ের একটা বাড়িও আছে।”
সবাই একসাথে বলে—
“কি???”
সুরভী গর্ব নিয়ে—
“হ্যাঁ! বাবা বলছিল এই এলাকায় ওর এক সপ্তাহের একটা মিটিং ছিল নাকি।সেজন্যই বাড়িটা করিয়েছিল।
বড়লোক ভাইয়া!”
জারা তো চেয়ার ঠেলে একটু সামনে আসে—
“আসলেই বড়লোকস!আর এর ফায়দা?যেমন আমাকে নতুন বাইক কিনে দেয়!”
আরোবি নাটুকে ভঙ্গিতে— “হুম! আসলেই বড়লোক!”
লিসি হুট করে মুখ বাঁকিয়ে বলে—
“কিসের বড়লোক?নামে বড়লোক, হৃদয়ে গরিব।
আর ব্যবহারে… বেয়াদবি।”
এক মুহূর্তের জন্য টেবিল স্তব্ধ হয়ে যায়।
তারপর সবাই হো হো করে হেসে ওঠে কারণ কিরিসকে নিয়ে কেউ যদি খারাপ কথা বলে, ছেলেরা রাগ করে
কিন্তু মেয়েরা?মেয়েরা প্রথমে হাসে!
আরোবি হাসতে হাসতে বলে—
“তাহলে ঠিক!আমরা পার্কে ঘুরতে যাবো।সবাই শাড়ি পরবি— ক্লিয়ার। আর একটা কালার সিলেক্ট করবি, যেন সবাই এক রঙের শাড়ি পড়তে পারি!”
লিসি ধীরে ধীরে হাসে এমন একটা হাসি,যেন ভিতরে ভিতরে সে কিছু একটা ঠিক করে ফেলেছে।পার্কে যাওয়ার প্ল্যান ঠিক হয়ে গেছে।এখন রঙ সিলেক্ট করা নিয়ে মেয়েদের হট্টগোল
জারা চেয়ারে হেলে উঠে বলে—
“আমার মতে কালো ভালো।”
সুরভী সাথে সাথেই চোখ বড় করে—
“পাগল নাকি তুই?শোক দিবস পালন করতে যাচ্ছি আমরা?নীল কেমন?”
তিশা মাথা চুলকায়—
“এতোক্ষণ চুপ ছিলাম, কিন্তু নীল তেমন মজার না… অন্য কালার ভাবো।”
লিসি তখন একদম সোজা মুখে কিন্তু ভিতরে ভিতরে একদম অন্য ভাইব— “তাহলে লাল পড়ো। ভালো লাগবে।”
সবাই হঠাৎ একসাথে মাথা তোলে।আরোবি হাত চাপড়ায় — “আররে বাস!এই কালারটা মাথায় আসেনি কেনো আমরা তো লাল পরে কখনো কোথাও যাইনি!
ডান— এইটায় সিলেক্ট!”
সবাই একসাথে “হ্যাঁ, হ্যাঁ” করে মাথা নাড়ল।তখনই নুসরাত, হিয়া, লিজা উপরে থেকে নেমে আসে।
ওদেরকে পুরো প্ল্যান জানানো হয়।তিনজনই খুশিতে লাফ মেরে রাজি হয়ে যায়।কিন্তু হঠাৎই তিশার চোখ বড় হয়ে যায়—
“লাল তো সিলেক্ট করলাম,কিন্তু লাল শাড়ি তো কেউ আনেনি!এবার কি হবে?”
আরোবি হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা করে—
“হা হা!তোদের বয়ফ্রেন্ডের বরকে তো আনছিসই!
আর আমরা তো ভাইদের নিয়ে এসেছি টাকা উড়াবে ওরা, মার্কেটিং করবো আমরা!”
সুরভী উচ্ছ্বসিত—
“এইদিকে একটু দূরে একটা বড় মার্কেট আছে।
ওখানে চল।”
জারা নাটুকে ভঙ্গিতে—
“কিন্তু এসব কঞ্জুস-মার্কা কিপটেদের কাছ থেকে টাকা নিবি কী করে?”
লিজা গম্ভীর হয়ে বলে—
“কথাটা কিন্তু সত্যি।”
তিশা ঠোঁট চেপে হেসে—
“তাহলে… একটু প্রেম-টেম কাজে লাগাতে হবে তাই না?”
হিয়া নাক সিটকিয়ে—
“বাহ, তোমাদের কি সুন্দর আইডিয়া!আমরা সিঙ্গেলরা কি করবো!নিজের কপাল পুড়াবো?”
আরোবি হাসতে হাসতেই বলে—
“শোন, ওরা তো ওদের সঙ্গী। আর আমরা ওদের বোন হই না?”
লিজা এক সেকেন্ড চিন্তা করে—
“হলেও কি হবে?”
আরোবি তালিকা ধরিয়ে দেয়—
“ঠিক শোন! তিশা আর তার সিস্টার যাবে কাবির কাছথেকে টাকা নিতে।নুসরাত আর তার সিস্টার নেবে তার হাজবেন্ড মানে রিহানের কাছ থেকে।জারা আর সুরভী নেবে ইশানের কাছ থেকে। আর আমি আর লিসি… নেবো কিরিসের কাছ থেকে।”
কিরিসের নাম আসতেই
লিসি হঠাৎ কেঁপে ওঠে, মুখ শক্ত হয়—
লিসি — “না! আমি ভাইয়ার কাছ থেকে নেবো।
তুই নে কিরিসের কাছ থেকে।আমি ইয়াবি ভাইয়ার কাছ থেকে নিবো উনি কেন বাদ যাবে সবার মধ্যে?”
তার কথা শুনে মেয়েরা হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।
তারপর সুরভী প্রথমে হাসতে শুরু করে—
“আমরা তো এটা ভাবিইনি!নাইস ডিসিশন!ইয়াবিকে বাদ দেয়া যায় নাকি?ওরও পকেট খসাতে হবে!”
আরোবি হাততালি দেয়—
“তাহলে ঠিক হয়ে গেলো!বিকালে পার্কে যাবো।
এখন সবাই চল, শাড়ি কিনতে।খাওয়া শেষ করে ছেলেদের জন্য একটু রেখে দে, টাকা তো ওদের থেকেই তুলবো!”
ছেলেরা নিজেদের সুযোগ দেখে একে একে সবাই চুপচাপ নিশির রুমে ঢুকে পড়েছে। দরজা বন্ধ হতেই রুমটা যেন স্পেশাল অপারেশন রুমে পরিণত হলো।
ইশান দুই হাত কোমরে রেখে দাঁড়িয়ে—
— "ব্রো, আজকে না পেলে চলবে না! এই চিপটা যদি না পাই কিরিস আজকে আমাদের খুন করে ফেলবে!"
রিহান চোখ নীচু করে ল্যাপটপ ঘাঁটছে—
— "চুপ কর, তোর নাটক কম। আমি একবার সিস্টেমে ঢুকতে পারলে..."
কাবির আড়মোড়া ভেঙে বলল—
— "ভাই, তোর এই হ্যাকারের মাইন্ড কি আসলেই কাজ করে, নাকি শুধু মেয়েদের সামনে ডায়লগ?"
রিহান বিরক্ত—
— "চুপ থাক? মাথা গরম করিস না।"
চারজন মিলে নিশির ল্যাপটপ, ফোন— সবকিছু উল্টে পাল্টে দেখতে দেখতে একসময় হাল ছেড়ে মেঝেতে বসে পড়ল।
রিহান প্রায় কাঁদো কাঁদো—
— "এটা যদি না পাই, নিশি আমার জীবন শেষ করে দেবে।"
ঠিক তখনই কাবির হঠাৎ চেয়ারে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে—
— "পেয়ে গেছি!!"
— "দেখ! দেখ! দেখ! এখানে! নিশির লুকানো জায়গায়!"
রিহান এক ঝটকায় দৌড়ে গিয়ে কাবিরের পেছনে দাঁড়াল—
— "দেখাই দেখি!!"
সত্যি … চিপটা!
নিশির ল্যাপটপের পিছনে একটা সিক্রেট জায়গা থেকে বের হয়ে এসেছে!
রুমে এক সেকেন্ড নীরবতা—
তারপর—
— "ইয়াাাাহ!!"
রিহান আনন্দে কাবিরকে জড়িয়ে ধরল।
আর উত্তেজনার চূড়ান্ত মুহূর্তে—
রিহান ঝপ করে কাবিরের গালে একখান চুমু দিয়ে দিল!
কাবির জমে গেল।চোখ দুটো বড় বড়—
"ভাই… তুই কি করলি আমারে??"
ইশান মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে হাসছে—
— "এতদিন পর বুঝলাম— মিশন সফল হলে রিহানের রিঅ্যাকশন কেমন হয়!"
ইয়াবি —" ওয়াও এতো সুন্দর সেলিব্রেশন কখনো দেখিনি! "
রিহান এখনো লাফাচ্ছে—
— "ব্রো! আমাদের মিশন মিশন সফল! আর নিশি আমাদের লাগবে না!!"
রিহান এতটাই খুশি যে আবার কাবিরকে জড়িয়ে ধরে—
— “ব্রোওও! তুই আমার জীবন বাঁচালি!”
কাবির প্রায় চিৎকার করবে—
— “ভাই! থাম! আমি বাগদত্তা মানুষ! তিশা থাকলে আমাকে কবর দেবে!”
হাসি-তামাশা চলছেই, এমন সময় হঠাৎ দরজা খুলে যায়। হিয়া, লিজা,লিসি,আরোবি,সুরভী,জারা,নুসরাত আর তিশা দাঁড়িয়ে আছে মুখ হা করে অবাকে।
রিহান আর কাবির দুজনই জমে যায়।ইশান চোখ বড় বড় করে পাশে সরে দাঁড়ায়।
নুসরাত ধীরে ধীরে ভ্রু তোলে—
— “রিহান রায় চৌধুরী…? ”
রিহান তোতলাতে তোতলাতে—
— “না–মানে–ওটা—সেলিব্রেশন—চপ—লাগছিল—মানে—কাবির—খুঁজছে—”
তিশা কাবিরের দিকে তাকায়, চোখ কুঁচকে—
— “তুমি তো বলেছিলে তোমার স্ট্যান্ডার্ড শুধু আমাকে ছাড়া আর কেউ টাচ করতে পারে না?”
কাবির হাপাচ্ছে—
— “তিশা! আমি শপথ করছি— এই লোকটা পাগল! আমি চাইনি! এই চুমুটা অ্যাক্সিডেন্টাল!”
জারা হেসে বলে—
— “ওয়াহ্‌! কি রোমাঞ্চ! আমরা ভাবছিলাম টাকা চাইতে আসবো… দেখলাম তো চলচিত্র!”
নুসরাত গম্ভীর গলায়—
— “রিহান, তুমি কি আমাকে ভুলে গেছো? তোমার বউ আমি… কাবির না।”
রিহান এত লজ্জায় লাল—
— “আরে না পাগলী, এটা খুশির চুমু… মানে… ছেলে–ছেলে… মানে…”
তিশা হাত গুটিয়ে দাঁড়ায়—
— “কাবির, তুমি আমার fiancé. অন্য কেউ তোমাকে চুমু দিলে, সেটা সেলিব্রেশন না— সেটা ক্রাইম!”
কাবির কাঁদো কাঁদো গলায় রিহানের দিকে—
— “দেখলে? তোর জন্য আজকে আমি সিঙ্গেল হয়ে যাবো!”
আরোবি হাসি চেপে রাখতে না পেরে বলে—
— “এই দৃশ্য আমি সারাজীবন মনে রাখবো।”
লিসি শুধু মুচকি মুচকি হেসে যাচ্ছে আর বদবাকি সবাইও।
ইশানি হেসে গড়াগড়ি খায়—
“ও মা! আমি কি ঠিক দেখছি?রিহান রায় চৌধুরী চুমু দিচ্ছে?”
ইয়াবি চেয়ার ধরে দাঁড়ায়, হেসে কুঁকড়ে
— “এইটা… এইটা রেকর্ড থাকা উচিৎ ছিল!”
রিহান ছেলেদের দিকে তাকিয়ে গলা চুলকাতে চুলকাতে— “আরে বাল তোরা বল! আমরা এমনি-এমটা করছি!”
হাসি থামাতে না পেরে ইয়াবি সামনে এসে হাত তুলে ভদ্র ভদ্রভাবে বলে— “এই লেডিস… ভুল বোঝো না।
এটা সেলিব্রেশন ছাড়া আর কিছুই না।”
ইয়াবির কথা শেষ হতেই আরোবি মুখ ঘুরিয়ে, চোখ ছোট করে বলে—
“বেশ এসেছে সেলিব্রেশন করতে!আমার তো বেশ সন্দেহ হচ্ছে আমার ভাই কি আদৌ ছেলে!”
রুম ঠাস করে নীরব।রিহান হতবাক হয়ে বলে—
“সেটা নুসরাতের কাছে জিজ্ঞেস করে দেখ!”
এই কথা মুহূর্তে নুসরাতের কানে যেতেই
টুপ!নুসরাত আলতো করে রিহানের হাতে একটা চাটি মেরে দেয়।
— “চুপ পাগল কোথায় কি বলতে হয় জানো না?”
ছেলেরা হাসি থামাতে গিয়ে আবার হেসে ফেলে।আর মেয়েদের মুখে তো হাডি লেগেই আছে।
ঠিক তখন ইশান সামনে এসে গম্ভীর গলায় বলে
— “আমাদের কথা বাদ দে— তোরা এখানে কি করিস?”
ইশানের কথা শুনতেই মেয়েদের মুখের এক্সপ্রেশন কেমন করে হঠাৎ বদলে যায় যেন তারা একসাথে কোনো ক্রাইম সিনে হাতেনাতে ধরা পড়েছে।ছেলেরা তো আগেই কেঁপে আছে।মেয়েদের সেই ভয়ানক সিরিয়াস মুখ দেখে—রিহানের গলা শুকিয়ে যায়।আর সে ধীরে ধীরে চিপটা নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নেয় যেন কিছুই হয়নি!অরোবি মাটি কামড়ে হাসি চেপে থাকে।
সুরভী ফিসফিস করে—
— “আমরা কিছু চাইতে আইছি !”
জারা ধীরে বলে—
— “আর আমাদের সেটা দিতে হবে না হলে এই সিনটা পুরো বাংলাদেশ হয়ে যাবে।”
ছেলেরা চারদিকে ফাঁদে আটকানো খরগোশের মতো তাকায়।
ইশান —" কি চাস কি ভালো করে বল "
ইয়াবি—" হ্যাঁ এঔ রকম রাক্ষসী লুক দেওয়ার তো দরকার নেই "
লিজা —" কি আমরা রাক্ষসী তুই রাক্ষস তোর চৌদ্দ গুষ্টি রাক্ষস! "
ইয়াবি দাঁত বের করে বলে —" আমার চৌদ্দ গুষ্টি মধ্যে তুমিও পরো সোনা! "
এই শুনে ছেলেরা আরেক বার হাসি দেয় আর মেয়েরা চুপচাপ আছে এরমধ্যে আরোবি হালকা কেশে গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
—"চলো রে… শিকার শুরু।"
কাজিনদের মুখে যেই হাসিটা ফুটল, তাতে মনে হয় যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
তিশা একটু গুটিয়ে, চোখ নিচে নামিয়ে, কাবিরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
গলা চিকন, হালকা কাঁপা—
—"কাবির… মানে… তোমার কাছে একটু কাজ ছিল…"
কাবির ভুরু তুলে তাকিয়ে এমন চাহনি দিল, যেন সামনে কোনো অপরাধী দাঁড়ানো।
—"এই হালকা গলা কেন? কি করবা?"
তিশা ঠোঁট কামড়ে, একদম মেয়েলিভাবে বলল,
—"আমরা… লাল শাড়ি আনিনি… তো ভাবছিলাম… একটু টাকা দিলে কিনে নিই…"
সবাই নিঃশ্বাস চেপে রাখলো… কাবিরের রিয়্যাকশন দেখার জন্য।
কাবির কয়েক সেকেন্ড তিশার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো, তারপরই হঠাৎ চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ালো—
—"ওই মেয়ে!! আমার মানিব্যাগ কোথায়?!"
চারপাশে হাসির রোল পড়ে গেল।
তিশা লজ্জায় মুখ ঢেকে আছে—ঠিক তখনই লিজা পাশে এসে দাঁড়ালো, হাত কোমরে
—“আর আমি? আমার শাড়ি?!”
কাবির দুই বোনের দিকে তাকিয়ে একদম বিরক্ত-হতবুদ্ধি চেহারা নিয়ে বলল,
—"দুইজন এসেছে? ঠিক আছে… আমি আজকে ফকির হবো বুঝি…"
তারপর তিশার হাতে নিজের কার্ডটা গুঁজে দিয়ে বললো—"এই নাও… তোমার জন্মদিনের তারিখে পাসওয়ার্ড দেওয়া আছে। হিসাব মিলিয়ে খরচ করো!"
তিশা লাফ দিয়ে খুশি, আর সবাই পেছন থেকে “উফফফ” করে হাসছে।
নুসরাত ধীরে ধীরে রিহানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
রিহান এমনভাবে তাকিয়ে আছে, যেন সে জানেই কিছু একটা খারাপ হতে চলেছে।
নুসরাত ভ্রু নাচিয়ে হালকা হাসি দিয়ে বলল,
—"শোনো… তুমি তো আমাকে খুব ভালোবাসো, তাই না?"
রিহান চশমা ঠিক করে বলল,
—"হ্যাঁ… কেন?"
নুসরাত মিষ্টি গলায় বললো,
—"তাহলে টাকা দাও। আমাদের শাড়ি লাগবে।"
রিহান থমকে গেল।
মুখের রঙ আস্তে আস্তে চা-রঙ হয়ে গেল—
—"দুই বোনের??? তোমার বোনও কি আমার বৌ নাকি?!"
পাশে থাকা মেয়েরা হেসে গড়াগড়ি।
নুসরাত হাত তুলে বলল,
—"আজকে তাই মনে করো। কেমন?"
রিহান মানিব্যাগ বের করতে বের করতে বিড়বিড় করছে—"এই বাড়ির মেয়েগুলা… আমি ভয় পাই সত্যি…"
ইশান আরামে বসে মোবাইলে ভিডিও দেখছিল।
জারা পাশ থেকে এসে কনুই দিয়ে গুঁতো দিল,
—"এই! তোর সাথে সুরভী কি বলবে!"
ইশান মাথা তোলে না, গম্ভীর ভঙ্গিতে—
—"যা, পরে বলিস।"
দুই সেকেন্ডের মধ্যে সুরভী এসে তার হাত থেকে মোবাইলটা টেনে নিল।
ইশান হতবাক—
—"এইটা কি আচরণ??!"
জারা ঠোঁট বাঁকিয়ে, হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে—
—“বেশ করেছে। বেশি ভাব নিতে আসছে আজকাল!"
সুরভী ইশানের সামনে দাঁড়িয়ে বললো,
—"শোনো, তোর বড় শালি আর তোর হবু বউ— দু’জনেই শাড়ি কিনবে। টাকা দে।"
ইশান মুখ শুকিয়ে বলল,
—"তোরা যা বলছিস… তাতে তো আমার ল্যাপটপ বেচে দিতে হবে…"
ইশান তবুও পকেটে হাত দিল…
কারণ মেয়েদের সামনে না বলার সাহস ছেলেদের কারোরই নেই।
কার্ড বের করতে করতে বললো,
—"কিন্তু… যদি জারা ভালো করে ভালোবেসে না বলে, তাহলে দেবো না।"
জারা সঙ্গে সঙ্গে গর্জে উঠলো,
—"এই! তোর ওই ফুটো মার্কা টাকার আমার দরকার নেই!"
এ কথা বলেই জারা ঘুরে চলে যেতে নিলে সুরভী তাড়াতাড়ি হাত ধরে বলল,
—"তোর দরকার নাই ঠিক আছে, কিন্তু আমার তো আছে! আমার জন্য প্লিজ!"
জারা দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর মুখে বলল,
—"ইশান টাকা দেবে না।"
ইশান নাটুকে গলায়,
—"না-আ। তুমি আগে ভালোবেসে বলো জান…"
চারপাশের ছেলেপুলেরা হেসে লুটোপুটি।রিহান গম্ভীর মুখে হুঁশিয়ারি দিল,
—"একটা কথা শুন— আমার বোন কিন্তু ও একমাত্র ছোট বোন। এবার না দিলে… আচ্ছা, দ্যাখ! আমি কিন্তু তোকে"
জারা বিরক্ত এক নিঃশ্বাস ছেড়ে দিল,তারপর খুব খুব মিষ্টি গলায় বললো,
—"শোনো… তুমি আমাকে টাকা দাও… আমি শাড়ি কিনবো… সোনা।"
এই শুনে ইশান তো খুশিতে লাফিয়ে উঠল,
হাতের কার্ডটা তড়িঘড়ি জারার দিকে বাড়িয়ে বলল,
—"এই নাও! কোনো পাসওয়ার্ড নেই! ইচ্ছেমতো খরচ করো!"
সুরভী দুই হাত তুলেই বলল,
—"এই তো! এই না হলে আমার দুলাভাই!"
জারা চোখ কুঁচকে ফোঁস করে বললো,
—"তোর এই 'দুলাভাই-দুলাভাই' এর শাস্তি একদিন তোকেই দিবো… বেয়াদব।"
সবার হাসি আর কথা শেষ হলে,এবার নরম হাওয়ার মতো করে লিসি এগিয়ে এসে দাঁড়ালো ইয়াবির পাশে।
মায়া ভরা সেই বড় চোখ তুলে তাকাতেই ইয়াবি মাথা ঘুরিয়ে বলে উঠল—
—"কি চাইছিস, বল! এইভাবে তাকাস না বোন আমার… আমার বরফের হৃদয় গলে যাবে!"
লিসি মিষ্টি হেসে বললো,
—"তোমার এই ছোট বোনকে একটু টাকা দেবে না?"
ইয়াবি কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল তারপর হঠাৎই লিসির চুলে হাত দিয়ে এলোমেলো করে দিল,
—"কেন দেবো না? আমার সোনার মতো দামি একটা সুন্দর বোনকে!"
লিসি সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নিয়ে অভিযোগ করল,
—"আহ! চুলে হাত দিও না! আমার পছন্দ না!"
ইশাবি ভুরু তোলে,
—"মানে চুলে হাত দিলে—?"
লিসি লজ্জা-মাখা কণ্ঠে, চোখ নামিয়ে বলল,
—"নাহ… একদম না। আমি চুলে হাত দেওয়া পছন্দ করি না।কিন্তু… যেহেতু তুমি আমার ভাইয়া… তাহলে একটু দিতে পারো।......একটু কিন্তু!"
ইয়াবি হেসে খুব আস্তে মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।আরোবি পাশে দাঁড়িয়ে সব দেখে বললো,
—"বাহ! তোকে তো দেখি একদম জোরাজোরিও করতে হলো না!"
ইয়াবি কিছু না বলে মুচকি হাসলো।
কিন্তু মনে মনে বলছে—
“একে না দিলে কিরিস আমাকে ফকির বানিয়ে দেবে…”
ইয়াবি কার্ডটা বের করে দিল,
—"এই নাও লিসি। আর আরোবি— তুই নিবি না?"
আরোবি চোখ তুলে বললো,
—"তুই দিবি?!"
ইয়াবি দম নিয়ে,
—"নিলে দিতে পারি। যা, তোরা দুইজন কিনে নিস।"
আরোবি খুশিতে লিসির হাত ধরে বললো,
—"লিসি তুই আগে কই ছিলি! তোর জন্যই আমি বেঁচে গেলাম, চল!"

সুরভী বলল,
—"আচ্ছা! শোন— যার জন্য এই সব …"