তোমাকে চাই
পর্ব :42
গার্ডেনের চারপাশে দিনের আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। সবাই নিজেদের মতো গল্পে মেতে উঠেছে—
হাসি, ঠাট্টা, মজা…
দীর্ঘ জার্নির ক্লান্তি আর নেই।
হিয়া — “আজ রাতে বারবিকিউ করলে কেমন হয়?”
লিজা — “আমার খিদে লেগেছে ভাবতেই!”
জারা — “তুই তো সদা-সময় খিদে নিয়ে ঘুরিস।”
লিসি পাশে চুপচাপ বসে চা খাচ্ছিল।
আরোবি লিসিকে ধাক্কা দিয়ে —
আরোবি — “কিরিস ভাইয়া তো খুব চুপচাপ… দেখছিস?”
লিসি — “আমি কি দেখবো!”
আরোবি — “দেখ না, তুই না দেখলে কে দেখবে?”
লিসি কিছু বলে আর সবাই আবার গল্প করতে শুরু করে
কাবির — “আজ রাতে আমরা হরর স্টোরি বলবো।”
ইশান — “মেয়েরা পালাবে।”
হিয়া — “শুনে নাও! পালাবো না।”
জারা — “তোর মতো কি ভিতু যে ভূতের গল্প শুনে পালাবো!”
সবাই হেসে ওঠে।ইয়াবি ফোন রেখে বলে—
"আমি শুধু খেতে চাই। গল্প তোমরা করো।"
সবচেয়ে কোণে বসে।তার স্বভাবসিদ্ধ শান্ত, সাবধানী, পর্যবেক্ষণশীল ভঙ্গিতে সে সবাইকে দেখছে।হালকা বাতাসে তার ভেজা চুল একটু সামলে পড়ছে।
কিন্তু তার চোখ সবটা বুঝছে, দেখছে, ভাবছে।
ঠিক তখন—
কিরিস — "নুসরাত… কফি আছে?"
তার ভয়েসে খুব শান্ত অথচ কমান্ড মানার মতো একটা টোন।নুসরাত চা খেতে খেতে থেমে গেল।
সে একটু হেসে বললো—
নুসরাত — "আছে… কিন্তু আমি বানাতে পারবো না।"
কাবির — "কেন পারবে না?"
নুসরাত মুচকি হাসলো—
“কিরিস কি সবার হাতের কফি খেতে পারে নাকি ।”
কিরিস নুসরাতের কথা শোনার পরে বলে —“ তাহলে তাকেই বলো যে বানাতে পারে আর দ্রুত কফি বানাতে বলো আমার কিন্তু দেরি পছন্দ নয় ”
কিরিসের কথায় সবাই চুপ হয়ে যায় তখন হঠাৎ নুসরাতের মনে পরে সুপ্রিয়া কথা নুসরাত রিহানের পাশ থেকে উঠে লিসির কাছে গিয়ে বলে —“ তুই কফি বানা লিসি, বড় শাশুড়ী বলেছে তার পরে একমাত্র তোর হাতের কফিই কিরিসের গলা দিয়ে নামে ”
লিসি একটু অবাক হয় এমন আবদারে তখন তিশা বলে —“ শোন তুই তো সেই দিনও কফি বানাইছি তাহলে আজকে বানাতে অসুবিধা কি, আর তাছাড়া বড় মামি বলে দিয়েছে কিরিসের খেয়াল তোকে রাখতে ”
তিশার কথা শুনে সবাই — “ওহ্হ্হ্!”
মেয়েরা চাপা হাসি দিল।
আরোবি তো পেট চেপে হাসছে—
"আহারে! কফির থেকেও বড় ব্যাপার!"
হিয়া — "লিসি! তোর ভাগ্য খুলে গেছে!"
লিসি তো লজ্জায় একদম অবাক,
মুখ গরম হয়ে গেছে।
লিসি — "আরে আমি কেন?!"
নুসরাত — "কারণ আমরা কফি বানিয়ে দিলে আমার বড় ভাসুরের গলা দিয়ে কফি নামবে না ।"
কিরিস কিছু বলছে না।
শুধু লিসির দিকে একবার তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিল।লিসির বুক ধুকধুক…এখন আর না গেলেও চলবে না।আরোবি হাত টেনে বলে—
"চল! বানিয়ে দে। সবাই অপেক্ষা করছে!"
লিসি দাঁড়াতে দাঁড়াতে কিরিসের দিকে তাকালো—
এক সেকেন্ডের জন্য চোখে চোখ পড়লো।
কিরিস ধীরে মাথা নাড়ল—
"হুম।"
এটা ছিল permission…
আর লিসির প্রতি তার আলাদা বিশ্বাসের ছোট্ট ইঙ্গিত।লিসি লজ্জায় মাথা নিচু করে রান্নাঘরের দিকের পথ ধরলো।রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিল লিসি। ঠিক তখনই সামনে থেকে নিশি এসে দাঁড়াতেই লিসি রেগে উঠল—
"শোনেন, একে রাস্তা থেকে সরতে বলেন! নাহলে কফি বানিয়ে আপনার মাথায় টালবো কিন্তু!"
এই কথা শুনে চারপাশে খিলখিল হাসির শব্দ। মেয়েরা মুখ চেপে হাসি লুকোচ্ছে, কিন্তু ছেলেদের চোয়াল খসে পড়ার জোগাড়!
বেচারা ইয়াবি তো গরম চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে ভয় পেয়ে—“হুশ!” করে জিহ্বা পুড়িয়ে ফেলল।
কিরিস ল্যাপটপ থেকে চোখ তুলে তাকাল নিশির দিকে।
সেই এক চোখের চাউনি—ঠান্ডা, ধারালো, অদ্ভুত অস্থির।
নিশি ঘাবড়ে গিয়ে দু’পা পিছিয়ে গেল।লিসি মুখ ভাঙিয়ে, হাঁটার সাথে খটখট শব্দ করে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
নিশি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল… তারপর ধীরে ধীরে এসে কিরিসের সামনে চেয়ারে বসল। কিরিস তখনো পুরো মনোযোগ দিয়ে ল্যাপটপে কিছু হিসাব কষছে।
একসময় কিরিস হঠাৎ মাথা তুলে জিজ্ঞেস করল—
"তুমি এতক্ষণ কি করছিলে ঘরে?"
এত মানুষের মাঝে তাকে খোঁজ করেছে—এই ভেবে নিশির গাল লাল।সে খুশি গলায় বলল—
"ল্যাপটপে কিছু কাজ ছিলো।"
কিরিস ঠান্ডাভাবে কথা ঘোরাল—
"ওহ… তা তুমি কোনটা বেশি ব্যবহার করো?"
নিশি —
"মোবাইল। তোমাকে একটা কথা বলবো?"
কিরিস —
"হুম?"
নিশি —
"আমার ফোনটা সব জায়গায় ব্যবহার করি। আর ফোনটার চেয়েও ল্যাপটপের গুরুত্ব বেশি… কারণ ওতে কিছু বিশেষ আছে। আচ্ছা বাদ দাও… পরে বলবো, এখানে সবাই আছে।"
কিরিস হালকা মাথা নাড়ল… তারপর আবার কাজে মন দিল।কিন্তু তার কাজ ল্যাপটপে নয়—তার মাথায়।
নিশির বলা প্রতিটা শব্দ, প্রতিটা বিরতি—সব বিশ্লেষণ, গণনা, হিসাব।চিপটা কোথায়—কিভাবে লুকানো—সব মেলাতে তার বেশি সময় লাগল না।ওদিকে রান্নাঘরে লিসি কিরিসের কফি বানাতে বানাতে নিশিকে মনে মনে একের পর এক খিস্তি দিচ্ছে।কফি প্রস্তুত।
তবে লিসির মুখে রাগ এখনও টগবগে ফুটছে।লিসি কফির ট্রে নিয়ে গার্ডেনে এগোতেই দেখে নিশি আর কিরিস একসাথে বসে কথা বলছে।
লিসির মনে ঝড়—
"মন চাচ্ছে এই কফিতে থুতু দিয়ে দিই… তার থেকেও বেশি মন চাচ্ছে নিশি-পিশিকে চুল ধরে টানি!"
তবুও হাসি-রাগ সব চাপা দিয়ে এগিয়ে এল কিরিসের দিকে।কিরিস লিসিকে আসতে দেখল।
লিসির চোখ-ঠোঁট-পায়ের শব্দ—সব স্ক্যান করল কয়েক সেকেন্ডে।লিসি ঠিক তার পাশেই দাঁড়াতেই—
সে একটুও দেরি করল না—মগটা জোরে টক্! করে টেবিলে রাখল।শব্দে পুরো গার্ডেন থমকে গেল।
নিশি, ছেলেরা, মেয়েরা—সবাই তাকিয়ে লিসির দিকে।কিরিসও তাকাল। ঠান্ডা, কিন্তু কিছুটা অস্থির।লিসি মুখ অন্য দিকে ফিরিয়ে, ভ্রু কুঁচকে বলল—
"নিন! এবার কফি খেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন!"
কিরিস কিছু বলতে যাচ্ছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে লিসি তার দিকে না তাকিয়ে সোজা ঘুরে সামনে হাঁটতে লাগল।কিরিস হতভম্ব হয়ে বসে থাকতে দেখে ইয়াবি হেসে বলে উঠল—
"Bro… এবার তুমি শেষ!"
কিরিস মাথা ঘুরিয়ে তাকাতেই ইয়াবি চুপ।
কিন্তু মুখের কোণে চাপা হাসিটা কিছুতেই থামছে না।
লিসি গিয়ে মেয়েদের মাঝে বসতেই কিরিস ধীরে মগটা তুলে প্রথম চুমুক নিল।পরিচিত স্বাদ—লিসির হাতের কফি।তার কঠিন মুখে এক সেকেন্ডের জন্য খুব নরম, খুব লুকানো একটা হাসি ফুটে উঠল।পাশের কাজিনরা লিসির রাগী মুখ দেখে জিজ্ঞেস করল—
"কি হয়েছে রে লিসি তোর?"
লিসি —
"কিছু না।"
আরোবি মুখ নিচু করে লিসির কান কাছে এসে বলল—
"এটা রাগ না… ঈর্ষা লিসি, ঈর্ষা।"
লিসি ফোঁস করে তাকাল—
"তুই চুপ করবি—নাহলে আজ তোকে আমি নিছি!"
সুরভী ভুরু তুলল—
"এমন কি হলো? তোকে দেখে তো মনে হচ্ছে তুই কফিতে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিস!"
লিসি মিথ্যে হাসি ফেলল—
"হুম, কফিতে বিষ দিয়েছি। একটা চুমুক খেয়েই সোজা উপরে চলে যাবে।"
সবাই হা করে তাকিয়ে রইল।নিশি ভয়ে কিরিসের দিকে তাকাচ্ছে। আর ছেলেরা তো বোঝেই পারছে না কি প্রতিক্রিয়া দেবে।কিরিস তখন ঠিক সেই সময় কফির আরেকটা চুমুক দিতে যাচ্ছিল।লিসির কথা শুনে কফি একদম গলা দিয়ে নামল না। বিশুম খেয়ে উঠলো
মগটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল লিসির দিকে।লিসি ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে বলল—
"যদি পারতাম, সত্যি করতাম এমনটা।"
তিশা আস্তে জিজ্ঞেস করল—
"মানে… কিছু করিস নি তো?"
লিসি —
"না, কিছু দিইনি। আরে আপনি থেমে গেছেন কেন? খান কফিটা—আমি বিষ দিইনি।"
কিরিস শুধু লিসির দিকে তাকিয়ে আছে।
যে মানুষটাকে মারার জন্য হাজার হাজার মানুষ চেষ্টা করেও তার চুল পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি আজ সেখানে নাকি এই মেয়েটি তাকে মারার পথে টেনে নিয়ে গেছে, তাও আবার না মেরে।নিশি আর চুপ করে থাকতে পারলো না। লিসির দিকে তাকিয়ে বলে—
"এই তুমি কি পাগল নাকি! তোমার চিন্তা–ভাবনা তো জঘন্য লেভেলের! তুমি কিরিসকে বিষ চাইছো? বেয়াদব মেয়ে!"
লিসি ঘুরে তাকিয়ে বলে—
"দেইনি তো তাই না! বলেছি শুধু। আর তোমার যদি এতই জ্বলে—তাহলে তুমি কফি বানিয়ে দিতে পারোনি। আর বেশি বাড়াবাড়ি করবে না ঠিক আছে? নাহলে কোন খাবারের ভিতর তোমাকে বিষ খাবিয়ে দিবো—তুমি নিজেও টের পাবে না।"
নিশি এবার রেগে গেল—
"তুমি—! তুমি বেয়াদব মেয়ে! তোমাকে আমি—"
ঠিক তখন কিরিস কড়া গলায় বলে উঠল—
"Oh shut up! তোমাদের কথা শেষ হয় না তাই না? একটা কথা বললে আর একটা কথা বলতেই হবে! চুপ থাকতে পারো না? আর যেন কোন কথা না হয় এ বিষয়ে!"
নিশি সঙ্গে সঙ্গে চুপ হয়ে গেল।সব কাজিনও একবারে থেমে গেছে কিন্তু হাসি থামছে না কারও।আরোবি হেসে বলে—
"এতো তিতা কথা কোথা থেকে শেখেছিস রে?"
লিসি তাকিয়ে বলে—
"আরো জানি। পরে শোনাবো তোকে। এখন চুপ কর।"
গার্ডেনের চারপাশে সবার হাসাহাসি, খুনসুটি, গল্প—সব মিলিয়ে সন্ধ্যার আগের সেই গোলাপি আলোটা একদম উৎসবমুখর লাগছিলো। লিসির কথায় সবাই একদম হেসে লুটোপুটি, মেয়েরা নিজেদের মতো গল্প, ছেলেরা নিজেদের মতো ঠিক করছে—সন্ধ্যায় কি করা যায়। নিশি দূর থেকে একবার তাকিয়েই কোনো কথা না বলে ধীর পায়ে সোজা ঘরে চলে গেল।
কিরিসও আবার টেবিলের সামনে বসে ল্যাপটপে মন দিলো—তীক্ষ্ণ চোখে স্ক্রিনে কিছু হিসেব দেখছে, মাঝে মাঝে আঙুলের গাঁটে টোকা দিচ্ছে।
দেখতে দেখতে সূর্য পুরোটা পশ্চিমে ঢলে পড়লো। চারিদিকে হালকা নীল-কালো অন্ধকার নেমে এল। গার্ডেনের চারপাশে ছোট ছোট ফেরারি লাইট জ্বলে উঠতেই পুরো জায়গাটা যেন অন্য রকম হয়ে গেল—ঝিলমিল করে উঠলো মিউজিকের তালে। বাতাসে হালকা ঠান্ডা শিহরণ।
মেয়েরা তখনো গার্ডেনেই ছিলো, কিন্তু ঠান্ডা বাতাসে একে একে ভেতরে ঢুকে যেতে লাগলো।
নুসরাত —" তোমরা গিয়ে বসো, আমি রান্নাঘরে যাচ্ছি। রাতে কি বানাবো দেখে নেই… তিশা আয় তো আমার সাথে।"
তিশা আর নুসরাত রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
এদিকে মেয়েরা হলরুমে বসে যে যার কাজে মেতে আছে—
হিয়া, লিজা, জারা তিনজন আবার ফোনে ব্যস্ত। নাকি একসাথে কোনো কাজ করছে!
আরোরবি আর লিসি জমিয়ে গল্পে বসে আছে কোণের সোফায়।
সুরভী কোলে বই নিয়ে একদম ডুবে গেছে—উপন্যাস পড়ছে।
একটু পরে ছেলেরা একসাথে ঘর থেকে বের হলো। মনে হয় ভেতরে বসে কোনো আলোচনা করছিলো।
ইশান —" আরে তোরা সব এখানে! আমি তো ভেবেছিলাম বাইরে বসে থাকবি সারা রাত!"
ইয়াবি —" বাদ দে ভাই… পেটের ভেতর মনে হচ্ছে ইঁদুরে ফুটবল খেলছে। তিশা কিছু বানা তো, খিদে লেগেছে!"
কাবির —" নিজে বানিয়ে খা। আমার হবু বউ বানিয়ে দেবে আর তুই খাবে?"
ইয়াবি —" এই! তোর বউ হওয়ার আগে, আমার বোন!"
রিহান —" আরে বাবা! শালা আর দুলাভাইয়ে মিলে আবার শুরু করিস না!"
ছেলেরা হেসে হেসে মেয়েদের মাঝে গিয়ে বসল।
ইশান পাশের সোফায় বসে জারাকে ডাক দিলো—
" জারা… চেপে যা!"
জারা —" বেয়াদব!"
ইশান —" শুধু তোমারই জন্যে।"
জারা চোখ ঘুরিয়ে ফোনে তাকানোর ভান করলো, আর বাকিরা হাসতে হাসতে কথায় মেতে উঠলো।
এভাবেই সন্ধ্যার শুরুটা আরো জমজমাট হয়ে উঠলো।
ঠিক তখনই সিঁড়ির দিক থেকে দু’জনের পদশব্দ শোনা গেল। ধীর, ভারী, আত্মবিশ্বাসী পায়ের ছাপ—কিরিস।
তার পাশে একদম হালকা পায়ের শব্দ—নিশি।
দু’জন পাশাপাশি নিচে নামছে, যেন কোনো কথায় ডুবে আছে।নিশি মাথা নিচু করে কিছু একটা বলছে, আর কিরিস খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছে—মুখটা স্থির, কিন্তু চোখে হালকা নরম ভাব।হলরুমে বসা সবাই প্রথমে থমকে গেল।
ইশান ফিসফিস করে বললো —
"উফ্ফ! কিরিস আর নিশি… একসাথে?"
লিজা চোখ বড় করে জারাকে কনুই ঠুকে দিলো —
"এরা কি…… আলাপ জুড়লো?"
জারা — "হুঁহ্… বিশ্বাসই হচ্ছে না।"
ছেলেরা মুখ চেপে হাসি চাপল।
রিহান তো কাবিরের কানে কানে বলেও ফেললো—
"দেখেছিস? আমাদের ডন ভাই এখন মিষ্টি মিষ্টি গল্পও শোনে!"
ইয়াবি পাশ থেকে বলে —" এটা কি নতুন নাকি! কত মিশনে এমন হয়েছে কিন্তু এই গ্যাংস্টারের মন কেউ চুরি করতে পারিনি, জায়গার গুটি জায়গাই আছে। শুধু দেখে মনে হচ্ছে নড়েছে। "
ওদিকে লিসি…
লিসির হাত থেমে গেল, যে গ্লাসটা ধরে ছিলো তা আস্তে করে নামিয়ে রাখলো।চোখে এক অদ্ভুত টান।
মুখে কিছু বলেনি, কিন্তু বুকের ভেতরে খচখচে একটা অনুভূতি হালকা হিংসা,নিজেও বুঝতে পারার আগেই মনে হলো…কিরিস কেন ওর সাথে এত কথা বলছে? ও তো কখনো এমন করে কারো সাথে কথা বলে না…
আরোরবি পাশে বসে লিসির চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝে গেলো—
"কি হলো? মুখটা কেন এমন?"
লিসি দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিলো —
"কিছু হয়নি।"
কিন্তু চোখের কোণে সেই হালকা অস্বস্তি, বুকের ভেতরের চাপা টান—সবই ধরা যাচ্ছিলো।এই সময় কিরিস আর নিশি পুরো সিঁড়ি নামিয়ে হলরুমে ঢুকলো।
কিরিস চারপাশে একবার চোখ বুলালো—তার দৃষ্টি সবার ওপরে গিয়ে থামলো ঠিক লিসির মুখে।
এক মুহূর্ত।
খুব ছোট্ট, খুব গভীর।
কিরিস এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল—
তারপর মুখ শক্ত করে সবার মাঝে গিয়ে দাঁড়ালো।
নিশি কিন্তু লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিলো।
সুরভী বই বন্ধ করে বললো —
"তোমরা দু’জন কি গল্প করছিলে?"
নিশি কিছু বলার আগেই কিরিস ঠান্ডা গলায় বললো —
"কাজের কথা।"
এখনো তার চোখ লিসির দিকেই।
লিসি চোখ সরিয়ে ফেললো…
কিন্তু বুকের ভেতরে অদ্ভুত একটা হালকা টান রয়ে গেল সে কেন বিরক্ত হচ্ছে? কেন খারাপ লাগছে?
উত্তর সে নিজেও জানে না।
ঠিক তখন—
নিশি হঠাৎ সবার সামনে এগিয়ে এসে কিরিসের হাত ধরলো।হাতটা ছোট, নরম—কিন্তু আচরণটা ছিলো স্পষ্ট, সাহসী ও সবাই দেখতে পায় এমনভাবে।
নিশি —
"কিরিস … একটু কথা আছে। এখনই বলতে হবে।"
হলরুমের সবাই এক মুহূর্তে শুকনো গলা নিয়ে তাকিয়ে রইলো।ইশান তো মুখ ঢেকে হাসি চেপে রাখলো।
কিরিস ভ্রু তুললো—
এই স্পর্শ সে পছন্দ করছে না, তা তার চোখেই বোঝা যাচ্ছিলো।তার দৃষ্টি সেকেন্ডের ভগ্নাংশে আবার ঘুরে গেল লিসির দিকে সে কি দেখছে? সে কি অনুভব করছে?
আর লিসি…
মাথা নিচু করে বসে থাকা লিসির চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
বিরক্তি?না, ওটা বিরক্তি নয়।সে অনুভূতি আরও গভীর, আরও তীক্ষ্ণ হালকা হিংসা।তারও অজান্তে মনে কেঁপে উঠলো।সে আর বসে রইলো না।চুপচাপ উঠে দাঁড়ালো।
কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোজা রান্নাঘরের দিকে হাঁটতে লাগলো।
নুসরাত রান্নাঘরে সবজি কাটছে। লিসিকে দেখে অবাক—
"এই এলে? হঠাৎ?"
লিসি মৃদু হেসে বললো—
"আমি… তোমাদের সাহায্য করি।"
তিশা চোখ বড় করে বললো—
"কিরিস ভাইদের সঙ্গে বসে ছিলি না?"
লিসি দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিলো।
"না… এখানে-ই ভালো লাগছে।"
আর রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে রইলো কিরিস…
দূরত্বটা কয়েকটা পদক্ষেপের,
কিন্তু ভিতরের দূরত্ব—সে তা সহ্য করতে পারছে না।
রান্নাঘরে তখন লিসি আর নুসরাত একসাথে সব প্লেট সাজাচ্ছে।
নুসরাত —
"এইটুকু আমি নিলাম… আর তুই ভাজিটা সার্ভ কর।"
লিসি —
"হুম, দাও।"
তার চোখে একটু শান্ত ভাব, মুখে নরম হাসি—
কিন্তু ভিতরে এখনো চাপা টান আছে।তবুও সে কাজেই মন দিলো, কারণ কাজ করলেই মনটা একটু স্থির থাকে।
তিশা ঢুকে বললো —
"ওফফ! কি সুন্দর গন্ধ… তোমরা দু’জন নাকি সব বানালে?"
নুসরাত হেসে —
"হুঁ, রান্না তো আমি। আর সার্ভিং-এর দায়িত্ব লিসির।"
লিসি একটু লজ্জা পেলেও মৃদু হাসলো।ডাইনিং টেবিলে সবাই ইতিমধ্যে বসে পড়েছে। ছেলেদের হাসাহাসি, মেয়েদের গল্প—সব মিলিয়ে টেবিলটা জমে উঠেছে।
ইশান —
"খিদে তো এমন লেগেছে, সামনে যা আসবে তাই খেয়ে ফেলবো!"
ইয়াবি —
"তিশা! তুই সার্ভ করলি না কেন?"
তিশা —
"দেখ, আজ লিসি আর নুসরাত করছে। আমি স্পেশালি বসে শখ করে খাবো।"
সবাই হেসে ফেলে।ঠিক এই সময় লিসি ধীর পায়ে প্লেট নিয়ে বের হলো।তার হাতে বাসন, গলায় নরম ও স্নিগ্ধ ভাব কিন্তু চোখের কোণে লুকানো একটা অস্থিরতা।
কিরিস টেবিলের মাথায় বসে আছে।তার আচরণ এখনো শক্ত, ঠান্ডা…কিন্তু দৃষ্টি লুকাতে পারছে না।লিসি প্রথমে প্লেট দিলো কাবিরকে, তারপর রিহান, ইশান…
কিরিসের কাছে যেতে গেলে তার বুক ধুকপুক করে উঠলো।হাত কাঁপছে না, কিন্তু মন কেঁপে যাচ্ছে।
কিরিস তাকিয়ে দেখে লিসির মুখ শান্ত, কিন্তু চোখে যেন অদৃশ্য ছায়া।লিসি কিছু না বলে স্বভাবিক ভাবে প্লেটটা ধরিয়ে দিলো।দু’জনের আঙুল এক সেকেন্ডের জন্য ছুঁয়ে গেল একটুখানি, প্রায় অজান্তে কিন্তু সেই স্পর্শটা পুরো শরীরে ঢেউ তুললো দু’জনেরই।লিসি দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলো।কিরিস আবার চোংকার হয়ে গেল, যেন সেই ছোট্ট স্পর্শটাকে আড়াল করতে চাইছে।কিন্তু তার ভেতরে যে আগুনটা জ্বলছে, সেটা কেউ দেখে না শুধু সে নিজেই অনুভব করে।
নুসরাত পাশেই এসে দাঁড়ালো লিসির পাশে—
"চল, বাকি সার্ভ করি।"
টেবিলটা এখন হাসি, গল্প, খাওয়া—সবকিছুতে ভরপুর।
তবে কিরিস মাঝে মাঝে চোখ তোলে লিসির দিকে তাকাচ্ছে…
ডাইনিং টেবিলের চারপাশে সবাই খেতে বসেছে।
লিসি আর নুসরাত সার্ভ করছে।
গরম খাবারের গন্ধে পুরো ঘরটা ভরে আছে।লিসি ধীরে ধীরে প্লেট নিয়ে এগিয়ে এলো নিশির দিকে।
নিশি মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে প্লেট বাড়ালো কিন্তু চোখে লুকোনো একটা ঝলক ছিলো।চারপাশে সবাই আছে, আর কিরিস ঠিক সামনেই দেখছে…
এটাই তার সুযোগ।
লিসি প্লেটে ভাজি দিতে যাবে—
ঠিক সেই মুহূর্তে নিশি হঠাৎ নিজের হাতটা প্লেটের ঠিক নিচে এনে ধাক্কা দিলো,একটা হালকা "আহ্" শব্দ করে হাতটা খাবারের মধ্যে ডুবিয়ে দিলো।
টক্!
ভাজির তেল লেগে গেল তার আঙুলে।
প্লেটের কিছু খাবার মেঝেতে পড়ে গেল।
নিশি নাটকীয় ভাবে চেঁচিয়ে উঠলো—
"আহ্! লিসি! তুমি কি দেখছো না? হাতটা আমার পুড়ে গেলো ?"
পুরো টেবিল থমকে গেল।
সবাই একসাথে তাকালো লিসির দিকে আর লিসি তো একদম হতবাক, কী হলো সে নিজেই বুঝতে পারছে না।
আরোরবি চোখ বড় করে—
“এটা লিসি করলো?”—এমন ভাবেই তাকিয়ে রইলো।
লিসির মুখ ফ্যাকাসে—
"আমি… ইচ্ছে করে তো… করি নাই… তুমি প্লেট—"
নিশি সাথে সাথেই কথাটা কেটে দিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো—
"তাহলে কি? আমার হাত নিজে নিজে গিয়ে খাবারে পড়লো?"
নাটকটা এমনভাবে করলো, যেন দুনিয়ার বড় ক্ষতি হয়ে গেল।কিরিস চেয়ার থেকে একটু উঠে দাঁড়ালো, কপালে ভাঁজ—
"লিসি… কি করলে এটা, একটু সাবধানে দিতে পারোনি?"
একটা বাক্য।তা-ও খুব নরম নয়।
লিসির হৃদয় ঠিক সেই মুহূর্তে এক সেকেন্ড থেমে গেল।
তার চোখ কিরিসের দিকে যায়,সেখানে কোনো রাগ নেই,
কিন্তু একটা ভুল বোঝা…যা তাকে ভিতর থেকে কেটে গেল।
লিসি নিচু গলায়—
"আমি সত্যি… কিছু করিনি…"
কিরিস নিশির হাতটা নিজের কাছে টেনে নিলো—
"দেখাও হাতটা।"
নিশি একটু নাটকীয় কাঁপুনি দিলো।
আর সবাই নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে।
কিরিস টিস্যু নিয়ে খুব শান্ত, খুব ধীর হাতে নিশির আঙুল থেকে তেলটা মুছে দিচ্ছে এমন আচরণ কিরিস কারোর সাথে কখনো করে না।এটা দেখেই পুরো টেবিল অবাক হয়ে গেল।
জারা ইশানকে ফিসফিস করে—
"ওফফ… আজ তো সিন জমছে!"
তিশা তো নিশির নাটক বুঝেই ফেলেছে—
"নাটকবাজ…"—মুখে খুব নিচু স্বরে বললো।
আরোরবি শুধু তাকিয়ে আছে লিসির দিকে—
লিসির মুখে দুঃখ, লজ্জা আর একটা চুপচাপ কষ্টের ছাপ।নিসর্গের মতো নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লিসি ধীরে বললো—
"আমি… আর খাবার সার্ভ করবো না।"
নুসরাত লিসির হাত চেপে ধরলো—
"থাম। আমি বুঝেছি। তুই কিছু করিস নাই।"
কিন্তু লিসির গলা ভারী হয়ে গেছে।
সে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
খাবার শেষে ধীরে ধীরে সবাই টেবিল থেকে উঠলো।
ছেলেরা গল্প করতে করতে বাইরে চলে গেল, হাসাহাসি করছে—কেউই লিসির ভেতরটা দেখলো না।
কিন্তু মেয়েরা দেখলো, খুব ভালোভাবেই দেখলো।
লিসি চুপচাপ থালা গুছাচ্ছিলো।
মুখে যেন কিছু লাগেনি, কিন্তু চোখে সেই গভীর দুঃখের ছাপ আটকে ছিলো।
তিশা সামনে এসে তার হাত ধরে—
"শোন… তুই কিছু ভুল করিস নাই, লিসি।"
হিয়া লিসির কাঁধে হাত রাখলো—
"ওটা ইচ্ছে করেই করেছে নিশি। তুই ওর ফাঁদে পড়বি না।"
জারা বিরক্ত হয়ে বললো—
"সত্যি বলতে কিরিস ভাইও খানিকটা ভুল বুঝেছে। কিন্তু আমরা তো জানি তুই এমন নস না।"
লিসি মৃদু হাসলো, যেন কিছু হয়নি—
"ঠিক আছে… আমি ঠিক আছি।"
তবে সেই হাসিটা এতটাই কৃত্রিম ছিলো যে, মেয়েরা বুঝে ফেললো তার ভিতরে আগুন জ্বলছে, আর মুখে সে কেবল মুখোশ লাগিয়ে আছে।
নুসরাত ওর পাশে এসে নরম গলায় বললো—
"লিসি… কষ্ট পাস না। খাবার খেয়েছিস এবার যা একটু ঘরে গিয়ে বিশ্রাম কর আমি আর তিশা বাকিটা করে নেবো।"
লিসি মাথা নাড়লো।
"হুম, যাবো।"
সবাই তাকে হালকা জড়িয়ে ধরলো, সান্ত্বনা দিলো।
লিসি সবার সামনে নিজেকে শক্ত দেখালো কিন্তু ভিতরে ভিতরে গলা ধরে আসছিলো।ঘরে ঢুকতেই দরজা বন্ধ করার সাথে সাথে তার ভেতরের বাঁধ ভেঙে গেল।
বিছানার ধারে বসে সে অজোরে কাঁদতে লাগলো।
নিঃশব্দ কান্না না গলা চেপে চেপে, বুক ভেঙে যাওয়া কান্না।তার মনে কেবল একটাই দৃশ্য ঘুরছে
নিশির হাতের উপরে ঝুঁকে কিরিসের মুছিয়ে দেওয়া…
যে মানুষটা তাকে সবসময় রক্ষা করে, যার চোখে সে সবসময় অন্য রকম …
আজ সেই মানুষটাই ভুল বুঝলো।
এইটাই তাকে ভিতর থেকে ভেঙে দিচ্ছিলো।
তার কান্নার শব্দ ঘরের নরম অন্ধকারে প্রতিধ্বনি হচ্ছিলো বুকের ভেতরের ব্যথা বেরিয়ে আসছিলো চোখের পানির সাথে।
ঠিক তখন—
ধীরে ধীরে দরজায় টোকা।লিসি আঁতকে উঠে চোখের পানি মুছতে লাগলো দ্রুত।হাতের পেছন দিয়ে, তারপর ওড়নায়কিন্তু চোখের লালচে ভাব ঢাকতে পারলো না।
আরোবি দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো।দরজা আধখোলা রেখেই থেমে গেল তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লিসিকে দেখে মুহূর্তেই মুখের ভাব পাল্টে গেল।
আরোবি —
"এই… লিসি? তুই কাঁদছিস?"
লিসি তড়িঘড়ি করে নাক মুছলো, মুখ ফিরিয়ে নিলো—
"না… কিছু না। চোখে… একটু ধুলো চলে গিয়েছিলো।"
আরোবি ধীরে ভিতরে এসে তার সামনে দাঁড়ালো।
কথা বলার আগেই তার চোখ পড়ে লিসির লালচে চোখে,
গাল ভেজা দাগে।
আরোবির হৃদয়টা কেঁপে উঠলো—
"মিথ্যে বলিস না। তুই কাঁদেছিস। কে কিছু বলেছে?"
লিসি চোখ নামিয়ে ফেললো।
"কেউ না। কিচ্ছু না।"
তার গলায় কান্না লুকানোর সেই ভারী কম্পন…
আরোবি খুব স্পষ্টই টের পেলো।আরোবি ধীরে বললো—
"লিসি… তুই একা কাঁদার মেয়ে নস। যা হয়েছে তা আমি দেখেছি। আর তুই কিছু ভুল করিস নি।"
লিসির চোখ আবার ভিজে উঠলো।
সে চেয়েও দেখলো না কে দাঁড়িয়ে আছে—
কারণ তার বুকটা এতটাই ভারী,
চোখে পানি আটকানো মুশকিল।
আরোবি একটু কাছে এসে বললো—
"চল, বস। একটু পানি খা।"
লিসি কিছু না বলে মাথা নিচু করে বসে রইলো।
আরোবি তার সামনে দাঁড়িয়ে একটুকু সমবেদনা,
একটুকু বুঝে নেওয়া যেটা এখন তার সবচেয়ে প্রয়োজন ছিলো।রাতটা নিঃশব্দ,কিন্তু লিসির চোখের লালচে ভাব সব বলে দিচ্ছে এই কষ্টটা তুচ্ছ নয়।এটা গভীর, খুব গভীর…
ঘরে তখনো হালকা আলো।
লিসির চোখ লাল, কান্নায় ভেজা… গাল দুটো ফুলে আছে।
আরোবি উঠে দাড়িয়ে একদম নাটকের মতো দু’হাত কোমরে দিয়ে বলল,
“এই যে! বাঙালি নাটকের রানী!
এত চোখ লাল কেন?
দুঃখ? নাকি কিরিস-ফোবিয়া?”
লিসি চোখ মুছতে মুছতে বলল—
“চুপ করো। কিছু না…”
আরোবি নাটকীয়ভাবে আকাশের দিকে তাকাল,
একদম ট্র্যাজেডি ডায়লগ মারে—
“হায় রে আল্লা!
নিষ্পাপ লিসি চোখ ভিজিয়ে রাখছে,
আর সেই চশমাধারী নিশি মুচকি মুচকি হাসছে!”
লিসি একটু হেসে ফেলল।
আরোবি সেটা দেখেই আরও সিরিয়াস মুখ করল—
“মানে একেই বলে উইচক্রাফ্ট!
একদম ডাইনি! একটু খানি খাবার হাতে পরেছে তাতে মনে হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়ে যাবে !”
লিসি—
“আরোবি চুপ কর !”
আরোবি নাক উঁচু করে বলল—
“মানে, কে খায় কার মাথায় খাবার? এটাই বা কেমন সংস্কৃতি?
জানি, নিশির ডিএনএ রিপোর্টে লেখা আছে—
‘অল্প একটু হিংসে + অল্প একটু চালাকি + বেশি একটু নাটক’ ”
লিসি এবার হাসিটা চেপেও রাখতে পারল না।
হাসতে হাসতে কাশতে লাগল।
আরোবি খুশি হয়ে বলল—
“এই তো!এবার ঠিক আছে।হাসি ফেরানোর নম্বর ওয়ান স্পেশালিস্ট—ডক্টর আরোবি!”
লিসি—
“তোট মাথায় সমস্যা আছে, জানিস?”
আরোবি চেয়ার টেনে বসল, পা দুটো ক্রস করে বলল—
“মাথায় সমস্যা থাকলেই তো মানুষ ভালো কমেডি করে।
আর দেখ—আজ এমন একটা বানান বলো যার মানে হয়নি!”
লিসি মুচকি হাসল—
“কোনটা?”
আরোবি গলা নামিয়ে বলল—
“নিশিকে দেখে মনে হলো ওর মনের নাম ‘হিংসাল্যান্ড’।
ওখানে দিন-রাত কিরিস -কিরিস- কিরিস ।
আমি ভাবছি ওর জন্য একটা নাটক লিখব—
‘আমি হলাম কিরিস পাগল ডায়নি ’। ”
লিসি হেসে কুঁকড়ে গেল।
আরোবি আবার বলল—
“এটা তুমি কি করলে, এমন ভাবে বলছে যেন জীবনে ওর হাতে কখনো খাবারে পড়িনি আর আমরা মনে হয় কখনো এরকম সিন দেখিনি শালার ডাইনি কোথাকার আমার লিসিকে কান্না করানো তুই আজকে সারারাত যেন বাথরুম ঘর থেকে বের হোস না। যাবে আর আসবে’।”
লিসি—
“আরোবি থামো, প্লিজ! পেট ব্যথা করছে!”
আরোবি গর্বের হাসি দিয়ে বলল—
“এই যে!
মিশন লিসিকে হাসানো—সাফল্য।”
লিসি লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিল।
আরোবি আবার বলল—
“ওরে লিসি, ভয় পাস না—
নিশি যত চালাকি করুক,
কিরিস ভাইয়ের নাসারন্ধ্রে শুধু তোর ঘ্রাণই যায়।”
লিসি—
“চুপ! কীসব বলো!”
আরোবি আবার গলা উঁচু করে নাটকীয়ভাবে—
“ওহ! লেডি লিসি… শুনেছি তুমি এখনো বুঝো না কিরিস ভাইয়ের সিম্পটম—
‘লিসি + পজেসিভনেস + লাভ মিক্সড’।”
লিসি আর হেসে থামতেই পারছে না।আরোবি দু’হাত জোড় করে বলল—
“চলো, এবার বিশ্রাম নাও।
আমি তো আছি।
আর ভয় নেই—নিশি আবার কিছু বলতে আসলে আমি মার্শাল আর্ট করে তাকে পিছনে ফেলে দেব।

0 Comments