তোমাকে চাই
পর্ব :40
জুড়ে সব কাজিন স্তব্ধ—আরোবি মনে মনে বলে—
আরোবি (মনে) — "এই তো আমার বাঘিনী—দেখিয়ে দে কে এই নিউক্লিয়ার বোমকে সামলাতে পারে!"
কিরিস চোখে রাগ আর বিস্ময়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখে লিসি স্বল্প বিরক্ত স্বরে বলে—
লিসি — "এবার মিষ্টি হয়েছে, নাকি? এবার চুপ করুন।"
তারপর নিশির দিকে চট করে তাকিয়ে বলে—
লিসি — "সব মিষ্টি চিনি হয় না।"
লিসি আবার আগ্রাসী সুরে বলে—
"আর এত কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করছেন কেন? ভুল করেছে। আপনি জানেন না... ও তো নতুন এসেছে—আজ প্রথমবার বানিয়েছে। পরেরবার থেকে ভালো করে বানাবে। সব পাগলের কারখানা... চুপ করে বসে খান।"
কথা শেষে কিরিস মুখ থেকে চামচ বের করে কিছু বলার চেষ্টা করলো—তখন লিসি এক কথায় কড়াভাবে বলে—
"আর একটা কথা বলেন আপনি, আপনাকে আমি ওই ক্ষীরে দেয়া খেজুরের মতো কেটে ফেলবো। চুপ করে বসে খান।"
লিসির কথায় মুহূর্তের জন্য পুরো হলরুমটা নিস্তব্ধ হয়ে যায়।সব কাজিনদের চোখ বড় হয়ে গেছে—অবাক, আবার ভীষণ আনন্দিতও।এই প্রথম কেউ সাহস করে কিরিসকে এমনভাবে কথা শুনালো, সেটাও হুমকি দিয়ে!
ছেলেরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে হা করে—
যেখানে কিরিসের রাগের সামনে তাদের হাওয়া উড়ে যায়, সেখানে লিসির এই আগুনে জবাব শুনে সবাই স্তব্ধ।
ইয়াবি চোখ বড় করে, মুচকি হেসে — "এতো দেখছি বসের লেডি ভার্সন!"
কাবির আস্তে করে, হাসি চাপতে চাপতে বলে — "শুধু পার্থক্যটা এই—ম্যাডাম খেজুর কাটে, আর বস মানুষ!"
সবাই মুখ চেপে হাসে, একে অপরের দিকে তাকায়।
লিসি যেন কিছুই হয়নি, এমন ভঙ্গিতে ফিরে গিয়ে শান্তভাবে বাকিদের মাঝে বসে পড়ে।
আর কিরিস… কিছু না বলে বসে থাকে।
শুধু বাটির চামচ তুলে, ধীরে ধীরে লিসির দেওয়া ক্ষীর খেতে শুরু করে।তার চোখে ক্ষীণ রাগ, কিন্তু ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি লুকানো—যেন সে নিজের মধ্যেই মুগ্ধ হয়ে গেছে।
নিশি পাশে দাঁড়িয়ে রাগে, অপমানে ফুঁসছে।
চোখে পানি জমে গেছে, কিছু না বলে সোজা উপরে উঠে যায়।
ঠিক তখনই, ওপরে সিঁড়ির ধারে দাঁড়িয়ে সবটা।দেখছিলেন সুপ্রিয়া, প্রিয়া আর মির্জা বেগম।
তিনজনের মুখে এক অদ্ভুত হাসি।
প্রিয়া চোখ টিপে সুপ্রিয়াকে বলে — "দেখেছো ভাবী, তোমার বাঘটার সামনে অবশেষে কেউ দাঁড়াতে পারলো?"
সুপ্রিয়া হালকা গর্বের হাসি নিয়ে — "আমি জানতাম... কেবল ও-ই পারবে।"
মির্জা বেগম মৃদু হাসি দিয়ে বলে — " কিরিসের ঘর সামলানোর মতো মেয়ে... !"
তিনজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি দেয়।
তাদের চোখে লিসির প্রতি গর্ব আর অদ্ভুত প্রশান্তি—যেন বহুদিন পর ঘরে নতুন প্রাণ এসেছে।
এদিকে নিচে,
আরোবি মজা করে বলে—
আরোবি — "বাবা লিসি! আজ ফাটিয়ে দিয়েছিস! একটা হাততালি তো দেওয়াই যায়!"
সবাই হাসে, হলরুম আবার জমে ওঠে।
কিন্তু হাসির মাঝেই ছেলেরা কিরিসকে কিছু বলতে যাবে তখন কিরিসের এক ঠান্ডা দৃষ্টি ছুঁয়ে যায় ওদের উপর—সবাই আবার চুপ।
লিসি নিচে বসে নিজের মনে বিড়বিড় করে—
“উফ, আমি এতো কি বললাম রাগের মাথায়… এখন ওর দিকে তাকাবো কেমন করে!”
তার গাল হালকা লাল, চোখ নিচু।আর ওপরে থেকে সুপ্রিয়া, প্রিয়া, মির্জা বেগম।তিনজনের মুখে সন্তুষ্টির ছায়া। মির্জা বেগম আস্তে করে বলে ওঠেন,
"রায় চৌধুরীদের ঘরে অবশেষে আসল বড় বউমার ছোঁয়া লাগলো!"
ওই ঘটনার পর নিশি সোজা উঠে গেছে ঘরে।
দরজা বন্ধ করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ—চোখে লালচে ছায়া, ঠোঁট কামড়ে ধরে ফিসফিস করে,
“লিসি... আজকের অপমান আমি ভুলি না। তুই ভাবিস, শেষ না এটা তো সবে শুরু, তোকে মেরে ও যদি আমাকে কিরিস কে পেতে হয় তাতেও আমি ও পিছু হোটপো না?”
তার মুখে অদ্ভুত একটা দৃষ্টি—মিষ্টি হাসির নিচে ফুটে থাকা বদলার প্রতিজ্ঞা।
রাতের খাওয়ার সময় সবাই একে একে ডাইনিং টেবিলে বসেছে।মেজাজ আবার হাসিখুশি, কোলাহলে ভরা—
কাজিনরা খাওয়া শুরু করে প্রশংসা করতে থাকে।
ইশান হাসতে হাসতে বলে — "আজ তো একদম শেফ মানের রান্না, বলো কাকে ধন্যবাদ দেবো?"
ইয়াবি — "আরে মামিদের কে দে, নানু বাড়ি আসলে খাবারের মান অটোমেটিক বেড়ে যায় !"
সবাই হেসে ওঠে, সুপ্রিয়া মৃদু হাসি দেন, প্রিয়া মুখে হাত দিয়ে হাসি চাপেন, মির্জা বেগমের মুখেও সন্তুষ্টির ছায়া।
এরমধ্যে আনোয়ার মুচকি হেসে বলে —
"আগামীকাল পিকনিকে তোমরা যাচ্ছো, তাই না? নিশিকেও নিয়ে যাও, নাহলে ও তো বাড়িতে একা থামবে তোমাদের সাথে গেলে মজা করবে!"
ওর কথায় এক মুহূর্তের জন্য টেবিলে নিস্তব্ধতা নেমে আসে।সবাই একটু কাচুমাচু করে তাকায়—কেউ সরাসরি কিছু বলে না, কিন্তু পরিবেশে হালকা অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে।
সুরভী ঠোঁটে হাসি এনে বলে —
"হুম... যাও না, মজা হবে সবাই মিলে!"
আরোবি চোখ টিপে বলে — "ঠিক আছে, পিকনিক মানেই পুরো টিম—নিশি বাদ দিলে হবে নাকি!"
সবাই আবার হাসিতে ফিরে আসে।
লিসি কিছু বলে না, শুধু পাশে বসে নিঃশব্দে খাবার তুলে নেয়।খাওয়া দাওয়া শেষ, সবাই ধীরে ধীরে টেবিল ছাড়ছে।নিশি চেয়ার টেনে উঠে পড়তেই কিরিস হঠাৎ থামিয়ে দেয়।
কিরিস ঠান্ডা গলায়, কিন্তু ভদ্র স্বরে বলে —
"এই... নিশি..."
সবাই থেমে যায় এক মুহূর্তের জন্য।নিশি থেমে কিরিসের দিকে তাকায়।
কিরিস হালকা গম্ভীর গলায়—
"আমি ওইভাবে বলেছিলাম... আসলে রাগ উঠে গিয়েছিলো।আমি চিনি পছন্দ করি না, তাই হয়তো একটু বেশি রেগে গেছি।তুমি কিছু মনে করবে না, ঠিক আছে?"
সবাই একে অপরের দিকে তাকায়। লিসির মুখ এক মুহূর্তের জন্য শক্ত হয়ে যায়।
নিশির ঠোঁটে এক মিষ্টি হাসি ফুটে ওঠে—
"না, না, কিছু মনে করিনি কিরিস। আমি ভুল বুঝেছিলাম।"
তার চোখে আবার সেই পরিচিত মিষ্টি চমক ফিরে আসে।কিরিস হালকা মাথা নাড়ায়, তারপর নিজের সিটে ফিরে আসে।ওইদিকে,
লিসি নিঃশব্দে চেয়ার টেনে উঠে দাঁড়ায়, আরোবির হাত ধরে বলে—
"চল, আমরা উঠি..."
তার চোখে কোনও অভিব্যক্তি নেই, কিন্তু ভিতরে যেন আগুন জ্বলছে।আরোবি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে—ওর ভেতরে কিছু একটা কাঁপছে।এক এক করে সবাই ঘরে চলে যায়।বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে আসে।লিসি নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।আলো নিভিয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ।তার চোখে প্রতিফলিত হচ্ছে কিরিসের সেই হাসিমুখ, নিশির সন্তুষ্টির চোখে ছায়া। এরপর বেডে উপর গা এলিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করে।
হলঘর অন্ধকার। সব আলো নিভে গেছে।
শুধু করিডোরের কোণায় একটুখানি ক্ষীণ নীল আলো ধুকপুক করছে— যেন পুরো বাড়ির নিস্তব্ধতার একমাত্র সাক্ষী।
লিসির হঠাৎ পানি পিপাসা পায়।
ও উঠে বসে টেবিলের দিকে তাকায়— গ্লাস ফাঁকা।
জগটা হাতে নিয়ে দেখে— সেটাও শুকনো।
তৃষ্ণা আরও বেড়ে যায়। তাই ভাবে নিচে গিয়ে পানি নিয়ে আসবে।হালকা নরম নীল সালোয়ার কামিজ পরে দরজা খুলে বেরোয় লিসি চোখে তৃষ্ণা আর একটু ঘুমঘুম ভাব।
হাতে খালি গ্লাস।নিচে নেমে আসে ধীরে ধীরে।
ডাইনিং টেবিলের উপর রাখা জগ থেকে একটা গ্লাসে পানি নেয়।ধীরে ধীরে পান করে।
শেষ হলে আরেক গ্লাস তুলতে যাবে—
হঠাৎ পিছন থেকে একটা গভীর, ভারী, ঠান্ডা কণ্ঠ—
কিরিস নরম কিন্তু ভারী গলায়—
"এই সময় নিচে কেন নামলে?"
লিসি চমকে ওঠে।
পেছন ফিরে দেখে সিঁড়ির ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছে কিরিস।
ঢিলেঢালা কালো টি-শার্ট, তীক্ষ্ণ চোখে অদ্ভুত আগুন আর ঠান্ডা ভাবের মিশ্র দৃষ্টি।
লিসি গ্লাস শক্ত করে ধরে —
"পানি নিতে নামছিলাম..."
কিরিস ধীরে ধীরে নামতে থাকে—
একেকটা স্টেপ যেন নিঃশব্দে মেঝে কাঁপিয়ে দেয়।
ওর হাঁটার ভিতরে এক ধরনের রাজকীয় ভীতি—
যা শুধু লিসির বুকের ধড়ফড় বাড়িয়ে দেয়।কাছে এসে
গ্লাসটা আলতো করে লিসির হাত থেকে নেয়।
কিরিস মুচকি হেসে—
"ঘরে পানি নেই নাকি?"
লিসি মুখ ফিরিয়ে নেয়।ঠোঁট কামড়ে চুপ করে থাকে।
লিসি—
"না নেই বলেই তো নিচে নেমেছি। নাহলে কি নামতাম..."
কিরিস আরও কাছে এসে দাঁড়ায়।লিসি চেষ্টা করে চোখ সরাতে, কিরিসের নজর ও টের পায়।
লিসি ভদ্র, শান্ত কণ্ঠে বলে —
"সরুন… আমি উপরে যাবো। ঘুম পাচ্ছে।"
কিরিস না উত্তর দেয়, না সরে।শুধু তাকিয়ে থাকে একদৃষ্টিতে।হঠাৎ— ওর কবজি ধরে জোরে টেনে নেয়।
পাশের ফাঁকা ঘরে নিয়ে যায়।
দরজা — ‘ঠাস’!
অন্ধকারে ডুবে যায় চারপাশ।শুধু জানালার চাঁদের আলো এসে পড়ে কিরিসের তীক্ষ্ণ মুখে।কিরিস কাছে এসে নিচু গলায় বলে—
"তুমি জেলাস নাকি, লিসি শার্মা?"
লিসি চোখ নামিয়ে—
"আমি কেন হবো?"
কিরিস এক পা সামনে আসে—
এবার দুজনের মুখের দূরত্ব মাত্র এক নিঃশ্বাস।
কিরিস—
"কারণ আমি অন্য মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম তাই?"
লিসি —
"একদম না। বলেছি না, আপনি দুনিয়ার সব মেয়ের সঙে কথা বলুন… আমি কি বারণ করেছি? আমার অতো রাগ হয় না।"
কিরিস ঠোঁটে ধীর, গভীর হাসি টানে—
একটা এমন হাসি, যেটা লিসির গা শিহরিয়ে দেয়।
কিরিস—
"তোমার মুখটা সব বলে দেয়, লিসি…
তুমি রাগ করলেই গালটা গোলাপি হয়ে যায়।"
লিসি হালকা ধাক্কা দিয়ে দূরে যেতে চায়—
কিন্তু কিরিস ওর হাত ধরে ফেলে, আরো শক্ত করে।
লিসি রাগ-লজ্জায় ফিসফিস বলে ইঠে —
"ছাড়ো! কেউ দেখবে!"
কিরিস গভীর গলায় বলে —
"সবাই ঘুমিয়ে গেছে।
এখন শুধু আমি… আর তুমি।"
ঘরে নীরবতা।বাইরে হালকা বাতাসে জানালার পর্দা দুলছে।তারপর কিরিস ধীরে, খুব শান্ত গলায়—
কিন্তু অদ্ভুত ভার নিয়ে বলে—
"তুমি যতই পালাও…
তুমি আমার কাছেই ফিরে আসবে, লিসি।"
চাঁদের আলো অন্ধকার ঘরে নরম ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে আছে।লিসির গলা শুকিয়ে গেছে, কিন্তু এবার তৃষ্ণা পানি নয়— পরিস্থিতির। হঠাৎ কিরিস কোনো কথা না বলে
লিসির কোমর জড়িয়ে এক টানে নিজের কাছে টেনে নেয়।লিসি নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে থাকে।
ওর বুক কিরিসের বুক ছুঁইছুঁই।
কিরিস চোখ নামিয়ে, খুব ধীরে, খুব নিচু গলায়—
"আমি কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করি…"
লিসি থমকে যায়।চোখ বড় হয়ে যায় বিস্ময়ে।ওই রাগের মুহূর্তে সে কী বলেছিলো— সে নিজেই বুঝতে পারে।
লিসি আমতা আমতা করে, গলাটা নরম হয়ে—
"ওই সময় অতো চিৎকার করছিলেন কেন?
আর একদিকে আপনি ওই সব করছেন…
আর অন্যদিকে ওই নিশি বেয়াদব মেয়ে আজেবাজে কথা বলা…"
বলে মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে নেয়।
চোখে চাপা রাগ, চাপা লজ্জা। কিরিস শুধু তাকিয়ে থাকে লিসির দিকে— দীর্ঘ, তীক্ষ্ণ, গভীর দৃষ্টিতে।তারপর ঠোঁটের কোণে ধীরে মুচকি হাসি।
কিরিস:
"আমার লিসি শার্মা… জেলাস?"
লিসি দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে—
"না! আমি বলছি নাকি!"
একটু থামার পর কিরিস বলে—
"হাত দেখি।"
লিসি ভুরু কুঁচকে—
"কেনো? কি করবেন!?"
কিরিস কোনো উত্তর দেয় না।
শুধু লিসির বাম হাতটা নিজের হাতে নিয়ে নেয়।
চোখ নিচে নামিয়ে দেখে—সাদা নরম ত্বকে লাল হয়ে ওঠা জায়গা, হালকা ফুটে উঠেছে।গরম ক্ষীর যখন পড়েছিল তখন ধরা লুকাতে চেষ্টা করেছিল— সেটাই।
কিরিসের দৃষ্টি মুহূর্তেই বদলে যায়।কঠোরতা মিলিয়ে গিয়ে থাকে কেবল চিন্তা আর কেয়ার।
কিরিস নরম গলায় —
"ব্যথা করছে নাকি?
ঔষধ লাগিয়েছো?"
লিসি চুপ থাকে কয়েক সেকেন্ড।
ওর গলা দিয়ে কথা বের হয় না— কারণ সে নিজের ভিতর অদ্ভুত সুখের ঢেউ ছড়িয়ে যেতে অনুভব করে।তার ছোট্ট ব্যথাটুকু—কিরিস খেয়াল করেছে।
অবশেষে লিসি আস্তে—
"ব্যথা নেই… ঔষধ লাগিয়েছি।"
কিরিস ধীরে ধীরে লিসির হাতটা নিজের মুখের কাছে নিয়ে যায়।চোখ এক মুহূর্তও লিসির চোখ ছাড়ে না।
তারপর—
আলতো করে ফুঁ দেয় ঠিক সেই লাল জায়গাটায়।
লিসি নিঃশ্বাস আটকে ফেলে।
এইটা সে আশা করেনি।তার চোখে হালকা বিস্ময়, পুরো শরীর কেঁপে ওঠা হরমোনের ঝড়।লিসি দ্রুত নিজের হাতটা সরিয়ে নেয়।
এক পা পিছিয়ে যায়।চোখ নিচে নামিয়ে ফেলে, যেন পালানোর পথ খুঁজছে।কিরিস তাকিয়ে থাকে—
চোখে তীব্র, নরম, দাবি করা এক মিশ্র দৃষ্টি।
যেন বলছে— তুমি পালালেই কি পারবে?
লিসি নিচু, নরম কণ্ঠে বলে—
"আমি… আমি এবার যাই।
যদি কেউ চলে আসে…"
ওর কণ্ঠে ভয় নেই—
বরং সেই পরিচিত কাঁপুনি,যে কাঁপুনি কিরিস খুব ভালো চিনে।লিসি দূরে সরে যেতে চেয়েছিল ঠিকই,
কিন্তু যাওয়ার আগেই কিরিস আবার সেটাকে হতে দেয় না।কিরিস এক দৃষ্টিতে লিসির দিকে তাকায়—
সেই দৃষ্টি এমন, যেন অন্ধকারের ভেতরেও আগুন জ্বলে ওঠে।
এক মুহূর্তে
ও আবার লিসির কোমর ধরে টেনে নেয় নিজের কাছে।
এবার আরও কাছে।এতটাই যে লিসির নিশ্বাস কিরিসের গলায় লেগে যায়।
লিসি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে—
চোখ বড় হয়ে ওঠে, ঠোঁট কেঁপে ওঠে হালকা।
ও কিছু বলতে মুখ খুলতেই—
কিরিস ওর মুখের কাছে ঝুঁকে আসে,
ঠিক কান বরাবর প্রায় ছুঁইছুঁই ফিসফিস করে বলে—
"আর একটু খানি সহ্য কর…
আর মাত্র কয়টা দিন…
তারপর তুমি একটু আগে যতটুকু দূরে গিয়েছিলে—
তার থেকে হাজার গুণ আমার কাছে ফিরে আসবে।
একটু খানি অপেক্ষা মাত্র।"
ওর গলায় এক অদ্ভুত শান্তি,আরেকদিকে নিঃশব্দ এক দাবী।যেন সে যা বলছে—
সেই কথার পিছনে হাজারটা না-বলা কথা লুকিয়ে আছে।
লিসি তাকিয়ে থাকে—
তার টানাটানা চোখে নরম মায়া,অভিমান, আর কোথাও খুব গভীর কোমলতা।নিচু, ভাঙা গলায় সে বলে—
"অপেক্ষা ভালো…যদি সেটা খনিকে জন্য হয়।
কারণ সারাজীবনের অপেক্ষা—
বড্ড বেদনাদায়ক হয়…"
কথাটা হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ার আগেই কিরিস চোখ সরায় না এক সেকেন্ডও।তার চোখে ভাষা আর মুখে ভাষা—দুটোই একই জিনিস বলছে।একই গভীরতা, একই আকর্ষণ।লিসির কথা শেষ হতে না হতেই
কিরিস হঠাৎ এগিয়ে আসে—আলতো করে লিসিকে জড়িয়ে ধরে।একদম বুকের দিকে টেনে নেয়,
যেন পৃথিবী থেকে লিসিকে লুকিয়ে রাখতে চায়।লিসি অবাক হয়ে যায় এভাবে কিরিস জড়িয়ে ধরবে,
তার ছিল না কোনো ধারণা।ওর চোখ এক মুহূর্তের জন্য বড় হয়ে যায়। তারপর খুব ধীরে…
লিসির শরীর ঢলে পড়ে কিরিসের দিকে।কিন্তু কিরিস থামে না।একবার জড়িয়ে ধরার পর—
ও লিসিকে আরও শক্ত করে টেনে নেয় কাছে।
যেন পুরো পৃথিবী থেকে ওকে আলাদা করে ফেলে।
ওর শক্ত, উষ্ণ বুকে মুখ রেখে
লিসি নিঃশ্বাস নিতে ভুলে যায় এক মুহূর্তের জন্য।
কিরিস লিসিকে জড়িয়ে ধরে আছে—
চারদিকের নিস্তব্ধতা যেন দুজনের মধ্যেকার শ্বাস-প্রশ্বাসেই ভেঙে যাচ্ছে।
জড়িয়ে ধরেই কিরিস নিচু গলায়, ক্লান্তি মেশানো আদর নিয়ে বলে—
"আমার ঘাড়ে ব্যথা লাগছে সোনা…"
লিসি একটু ইতস্তত করে, চোখ সরিয়ে নেয়—
"তাতে আমি কি করবো! ছাড়ুন আমায়…"
কিরিস হালকা মুচকি হেসে
হঠাৎ লিসির কোমর জড়িয়ে তাকে উপরে তুলে নেয়।
লিসি ভরকে যায়, হাত দিয়ে কিরিসকে শক্ত করে ধরে—
"আহ! কি করছেন! নামান আমায়!"
কিরিস ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়, লিসিকে বুকে ভর করে ধরে—
"না। আমার এখনো হয়নি।
সারাদিন তুমি আমার সাথে একবারও কথা বলোনি…
রাতে বাড়ি এসেছি— তাও না।
তুমি কি আমায় এখন আর ভালোবাসো না, লিসি শার্মা?"
কথাটি শুনতেই
লিসির চোখ বড় হয়ে যায়—
আশ্চর্য, অবাক, আর ভিতরে ভিতরে তীব্র এক আনন্দের ঢেউ।ও হালকা ধাক্কা দিয়ে নিচে নামে,কিরিসের সামনে দাঁড়িয়ে আস্তে বলে—
"হুম… বাসি।
সারাদিন তো ব্যস্ত থাকেন…
এরপর আমি যদি আবার ডিস্টার্ব করি, তাহলে বিরক্ত হবেন না?"
কিরিসের চোখে তীব্র কোমলতা ফুটে ওঠে।
ও তার কোমরে হাত রেখে লিসিকে পাশের টেবিলের উপর বসায়।তারপর দুই পাশে হাত রেখে লিসির মুখের খুব কাছে ঝুঁকে বলে—
"না। আমি বিরক্ত হবো না।
কারণ তুমি সেই একজন…
যাকে নিয়ে আমার কখনো বিরক্তি আসে না।"
লিসির ঠোঁটে ছোট্ট মুচকি হাসি ফুটে ওঠে।
ওকে হেসে উঠতে দেখে কিরিস একদম কাছে এসে বলে—"হেসেছো তো… মানে ফেঁসেছো, লিসি শার্মা।"
লিসি কিছু বলবে, ঠিক সেই মুহূর্তে কিরিস এগিয়ে এসে
লিসির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ায়।লিসি অবাক, চোখ বড় হয়ে যায়, তারপর নিস্তব্ধতায় দুজনের নিঃশ্বাস ভরে থাকে।চুমুর পর কিরিস ধীরে হাসে—
"তুমি জানো…
এটা ক্ষীরের মিষ্টির থেকেও বেশি মিষ্টি।"
লিসি লজ্জায়, হৃদস্পন্দনে ভর করে হুরুতারা করে টেবিল থেকে নেমে পড়ে এবং নিচে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করে।কিরিস এবার আটকায় না।চোখে সেই অদ্ভুত শান্ত হাসি রেখেও লিসির পিছু পিছু যায়।লিসি দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উঠে নিজের রুমে যাবার জন্য হাঁটে আর কিরিসের দরজার সামনে দিয়ে ঠিক যখন যেতে নেয় কিরিস হাত বাড়িয়ে লিসির কবজি ধরে ফেলে।লিসি পেছনে তাকিয়ে বলে কিছু বলার আগেই ওকে কাছে টেনে নেয় কিরিস।লিসির মুখে পড়ে থাকা কয়েকটা ছোট চুল আঙুল দিয়ে কানে গুঁজে দেয়।এই স্পর্শে লিসির নিঃশ্বাস আটকে যায়।
তারপর
কিরিস লিসির কপালে আলতো করে চুমু দেয়
এবং খুব নিচু গলায় বলে—
"Good night, Lisi Sharma."
লিসি মাথা নিচু করে—
গলায় লাজুক কম্পন—
"হুম… ছাড়ুন এবার…"
কিরিস হাত ছেড়ে দেয়।লিসি খুশিতে ভরা মুখ লুকিয়ে, নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।কিরিসও নিজ রুমে যায়—কিন্তু ঘুমানোর জন্য নয়।ওর মুখে জটিল, গভীর ভাব,হৃদয়ে তীব্র ব্যথা ও প্রেম গুলিয়ে আছে।
ও বিছানায় বসে
ল্যাপটপ খুলে রিহান, ইয়াবি, ইশান, কাবিরকে মেসেজ দেয়—
"স্টাডি রুমে আসো। এখনই।"
এরপর দরজা খোলে—
ধীর পায়ে সোজা স্টাডি রুমে যায়।
সেখানে ঢুকে
এলকোহল কর্নারের সামনে দাঁড়ায়।একটা সিগারেট ধরায়।ধোঁয়া ধীরে ধীরে বাতাসে মিশে যেতে থাকে।কিরিস গভীর নিশ্বাস নেয়—ধোঁয়ার সঙ্গে তার ভাবনাগুলোও ঘুলিয়ে ওঠে।তার চোখে লিসির মুখ,তার কণ্ঠ, তার হাসি, তার “হুম বাসি”— সব একসাথে ভেসে আসে।রাত লম্বা হয়,আর কিরিস আরও গভীরে ডুবে যায় নিজের চিন্তায়—একটা সিদ্ধান্ত,একটা ভয়,একটা তীব্র ভালোবাসা।
স্টাডি রুমের অল্প আলোয় ঘুমে টলমল করতে করতে ঢোকে রিহান, কাবির আর ইশান।
ইয়াবি তখনো জেগে—চোখে ঘুম নেই, টেবিলে ছড়ানো ল্যাপটপ, কিছু ফাইল, গম্ভীর মুখ।
রিহান —
“কি হয়েছে bro… এতো রাতে ডাকলি?”
ইশান চোখ মুছতে মুছতে —
“আহ… ঘুম আসছে।”
ইয়াবি ফাইল বন্ধ করতে করতে —
“আমি ভার্সিটির কিছু কাজ দেখছিলাম। তুই মেসেজ দিলি—ভেবলাম কিছু সিরিয়াস।”
ধীরে ধীরে সবাই নিজেদের জায়গায় বসে।
কিরিস সিগারেটের শেষ টান টেনে ধোঁয়া ছেড়ে ওদের দিকে তাকায়।
চোখে সেই হিসেবি নীরবতা—যা দেখলে যে কারো বুক শুকিয়ে যায়।
কিরিস —
“কালকে আমরা পিকনিকে যাচ্ছি।”
ছেলেরা একে অপরের দিকে তাকায়—
“হুম…”
কিরিস —
“রিহান… তোর ওই চিপটা লাগবে না।”
রিহান হেসে —
“লাগবে তো ভাইয়া… কিন্তু ওটা তো নিশির কাছে আছে !”
কিরিস ধীরে বলে—
“আমাদের ওর কাছ থেকে চিপটা নিতে হবে।
যে কোনো মূল্যে।আর আমি এই কাজটা বেশি দূর গড়াতে চাই না। এই পিকনিকের পর নিশির কোনো খবর থাকবে না।”
ইয়াবি গম্ভীর গলায় —
“বুঝলাম… কিন্তু চিপটা কোথায় রেখেছে—এই তথ্যটাই তো নাই।এটা দেরি করলে সাইড-এফেক্ট পড়বে, ভাইয়া।”
কিরিস —
“নিশি আমাকে পছন্দ করে।এটা ওর দুর্বলতা।ওর ওই দুর্বলতাটা ব্যবহার করতে হবে।”
কাবির অবাক হয়ে তাকিয়ে—
“মানে ভাইয়া… তুই ওর সাথে একটু… প্রেমের নাটক করবি?”
কিরিসের চোখ দুটো ভয়ানক শান্ত।
শীতল।ধরলে হাত কেটে যাবে এমন ধার।
কিরিস —
“হ্যাঁ।ও চোখে যা দেখতে চায় সেটাই দেখাবে।এইটুকুই।”
রিহান হাঁ করে —
“তাই বুঝি নিশি আসার পর থেকে তুই এমন ব্যবহার করছিস…”
ইশান জিজ্ঞেস করে —
“চিপে এমন কি আছে—যে এটা তোর এত দরকার?”
রিহান একটু সোজা হয়ে বসে, ঘুম উধাও।
চোখে এক ধরনের scientist-এর পাগলামি।
রিহান —
“যদি ওই চিপটা আমার হাতে আসে…
তাহলে পৃথিবীর যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আমি হ্যাক করতে পারবো। চিপটার ফাংশন এমন—
আমি যদি কোনো নাম্বার ওতে ডায়াল করি…
ওই নাম্বার মুছে গেলেও, ফোনটা ভেঙে গেলেও অস্তিত্ব না থাকলেও যদি সেই নাম্বার কোথাও সক্রিয় হয়,স্যাটেলাইট সরাসরি লোকেশন ধরে দেবে।ইন্টারনেট না থাকলেও।টাওয়ার না থাকলেও।এক কথায়…
ওটা আমার হাতে এলে কেল্লাফতে। ইতিমধ্যেই আমি নাম্বার ট্র্যাকিংয়ের সবকিছু আয়ত্ব করে ফেলেছি।”
কাবির —
“হুম… কিন্তু এটা কি নিশি আমাদের দেবে?
ও নিজেও তো একজন হ্যাকার।”
ইয়াবি মুচকি হেসে চেয়ার পিছনে ঠেকায়—
“দেবে। কারণ ও এই চিপের আসল মূল্যই জানে না।
ওর বস ওকে চিপটা দিয়েছিল, কিন্তু চিপের ফাংশন, ডিজাইন, সম্ভাব্য পাওয়ার,এসবের জিনিস ছিল সেই ফাইলে,যেটা রুবি চুরি করার সময় আমরা পেয়েছিলাম।
শুধু চিপটাই পাইনি বলে নিশি এখনো বুঝতেই পারেনি
ওর হাতে কি দানব আছে।যদি বাইসেন ভাবে জেনে যায়
তাহলে ওর কাছ থেকে চিপ নেওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে।
এইজন্যই এই কাজটা দ্রুত করতে হবে।ঠিক বললাম না bro?”
কিরিস কাঁধ নেড়ে শান্ত গলায় —
“হুম… একটু care দেখাতে হবে।”
ইশান হেসে উঠে—
“ওটা কোনো বিষয়ই না bro! তুই তো ১৩৪ নম্বর মিশনে প্লেবয় সেজে ছিলি, উফ, তখন কত মেয়েকে প্রেমে ফেলেছিলি! ফাটাফাটি অভিনয় ছিল।এখন সেই স্কিল কাজে লাগবে।কি বলিস, কাবির?”
কাবির —
“হুম, একদম ঠিক কথা।
আর আমরা তো আছিই এখানেই।”
কিরিস ধীরে, গভীর গলায় —
“হুম…এতো গুরুত্বপূর্ণ চিপ…রিহান, তুই এটা কোথায় রাখতিস, যদি চিপটা তোর হাতে থাকতো?”
রিহান —
“সত্যি বলতে… আমি একজন হ্যাকার।তাই চিপটা আমি আমার কাছেই রাখতাম।হয়তো ফোনের ভিতরে…
না হয় ল্যাপটপে।”
কিরিস চোখ সরু করে ভাবে —
“হুম… নিশি সবসময় ফোনটাই ক্যারি করে।
ল্যাপটপ খুব কম সময়েই হাতে থাকে।তাহলে পিকনিকে যাওয়ার পরে, আমি নিশিকে নিয়ে একটু বাইরে যাবো। ওর ফোনটা কোনোভাবে ওর রুমেই ফেলে যাবে সঙ্গে ল্যাপটপও।সেখান থেকে চিপ বের করার দায়িত্ব তোদের।আর ওই চিপের পাসওয়ার্ড খোলার দায়িত্ব আমার।কারণ পাসওয়ার্ডটা নিশিই জানে।ওর কাছ থেকে যে করে হোক জেনে নিতে হবে।”
ইয়াবি ভ্রু তুলে —
“তাহলে এটুকুই? আর কিছু আছে নাকি?”
কিরিস গ্লাস তুলে ড্রিংসে গলা ভিজায়—
“না… আর একটা কাজ আছে।ফ্রান্সে যাওয়ার প্রস্তুতি নিস। এই মিশনের পরই দ্বিতীয় মিশন হ্যান্ডেল করতে ফ্রান্সে যেতে হবে।”
কাবির উঠে দাঁড়িয়ে —
“ওকে… তাহলে গেলাম ঘুমতে।”
রিহান হাত তুলে —
“আমিও… ইশান, চল।”
তিনজন বেরিয়ে গেলে রুমটা থমথমে নীরব।শুধু টেবিল ল্যাম্পের হলদে আলোয় ধোঁয়া ঘুরে বেড়ায়।ইয়াবি এসে কিরিসের পাশে বসে।কিরিস সিগারেটটা অ্যাশট্রেতে চাপা দিচ্ছে চোখে সেই অদ্ভুত হিমশীতল দৃঢ়তা।
ইয়াবি ধীরে বলে—
“শোন… এই প্রেমের অভিনয়ের জন্য লিসি যেন তোকে ভুল না বোঝে।আমি খেয়াল করেছি, লিসি এমনিই একটু রেগে আছে তোর উপর নিশির কারণে।তাই বেশি কিছু করিস না।একবার ভুল বোঝাবুঝি হলে… ঠিক করতে অনেক দেরি লাগে, bro.”
কিরিস চেয়ার পেছনে ঠেকায়।
কিরিস —
“হুম… আমি জানি।আর এটাও জানি, লিসি আমার।ওর মতে হোক বা না হোক…শেষমেশ, লিসি শর্মাকেই এই কিরিস রায় চৌধুরীর কাছে ফিরতে হবে।”
ইয়াবি উঠে দাঁড়ায়, হালকা হেসে —
“হুম… যেটা হলেই ভালো হয়।আমি রুমে গেলাম।আর তুই গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।আর…এইসব একটু কম খা!”
সকাল — ৮:০৩
রাতের অন্ধকার কাটতেই রায় চৌধুরী বাড়ির সকালের রোদ ঝলমল করছে।
হালকা বাতাসে কাশ ফুলের মতো দোলে লিসির লম্বা চুল।মেয়েরা সবাই সকালের জন্য টেবিল সাজাচ্ছে—ফলের প্লেট, চা-কফি, বিস্কুট।ছেলেরা একে একে নিচে নেমে আসছে।কিন্তু আজকে কারো চোখে সাধারণ মর্নিং মুড নেই সবাইয়ের চোখে একই টেনশন।রিহান, ইয়াবি, কাবির—তিনজন তিনদিক থেকে চোখে চোখে ইশারা করে নেয়।স্টাডি রুমের জানালা থেকে কিরিস নীরবে সবকিছু দেখছে। তার মুখে দাড়ি নেই, তবুও চেহারায় ভয়ঙ্কর শার্প লুক।গ্লাসে পানি নিয়ে ধীরে ধীরে নিচে নামে।
চোখে সেই মনোযোগ যেন হাতের ঘড়ির সময়ের থেকেও ওর প্ল্যান বেশি নিখুঁত।লিসি নিচে দাঁড়িয়ে মেয়েদের সাথে কথা বলছে।কিরিস সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতেই লিসির চোখ তার চোখে আটকে যায়।লিসি থেমে যায়—
মনে মনে ভাবে সে কি আজ রাগে আছে নাকি গতরাতের ব্যাপারটা মনে রেখেছে?
কিরিস লিসির পাশ দিয়ে যেতে যেতে খুব স্বাভাবিকভাবে বলে—
“সকাল ভালো তো?”
লিসি একটু থমকে গিয়ে ছোট করে হাসে।
“হুম… ভালো।”
দু’জনের চোখে দুই সেকেন্ডের সেই যোগাযোগ—
কিন্তু আজ সময় অন্য কিছুর।

0 Comments