তোমাকে চাই
গল্প করতে করতে এক দেড় ঘন্টা কেটে যায়। সবাই নিজেদের মতো গল্পে মগ্ন। হঠাৎই উপরতলা থেকে বজ্রপাতের মতো গর্জে ওঠে কিরিসের কণ্ঠ—
"মা! আমার কফি লাগবে… কফি দাও!"
সবার আলাপ হঠাৎ থেমে যায়। হালকা অস্বস্তি নেমে আসে ঘরে। কিরিসের ডাক মানেই সবার মনোযোগ এক ঝটকায় সেদিকে ঘুরে যায়।
সুপ্রিয়া এক মুহূর্ত থমকে যায়। দুপুরের রান্না চলছে রান্নাঘরে। হাঁড়ি-পাতিলের ভেতরে তরকারির গন্ধ ভেসে আসছে। সুপ্রিয়া একদিকে কাটাকুটি করছে, অন্যদিকে হাঁড়ির ঢাকনা খুলে-বন্ধ করে চলছে। কিরিসের কফির কথা বলতেই গ্যাসে রাখা হাঁড়ির পাশে এক কাপ কফিও বানিয়ে রাখলো সে।কফি বানানো শেষে হলরুমে এসে দাঁড়ায় সুপ্রিয়া,
সামান্য নিশ্বাস ফেলে বলে উঠলো—
"এই সময় কে নিয়ে যাবে ওর কাছে, আমি তো এখন হাত গুটাতেই পারছি না।"
ঠিক তখনই লিসি পানি খেয়ে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। সুপ্রিয়াকে দেখে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে বলল—
"মামি, এটা দিন আমাকে। আমি নিয়ে যাচ্ছি।"
সুপ্রিয়া হালকা অবাক হলেও, মুখে মিষ্টি হাসি এনে কফির কাপটা এগিয়ে দিল।
তখনই সোফায় বসা আরবি খোঁচা মারতে ছাড়লো না—
"আরে বাবা! তুই-ই নিয়ে যাচ্ছিস? তোকে বলা লাগলো না তো? কেমন ব্যাপার রে! হুমম…"
কথাটা শুনে সবাই হেসে ফেললো।
লিসি একটুও বিচলিত হলো না। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, গম্ভীর-মিষ্টি গলায় বলল—
"এতো রিঅ্যাক্ট করার তো কোনো কথা না। তোমরাই তো সবসময় নেড়ে নেড়ে আমাকেই পাঠাতে, না চাইলেও,,তাই আগে থেকে যাচ্ছি..........."
বাকিটুকু বলার আগেই হাসির রোল উঠলো হলঘরে। যেন কথাটাই একদম সত্যি।
হাতের কফির কাপটা শক্ত করে ধরে লিসি আস্তে আস্তে সিঁড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলো। পায়ের মৃদু শব্দে যেন এক অদ্ভুত সুর ছড়িয়ে পড়লো পরিবেশে। সবার চোখে-মুখে একরকম মজা, কিন্তু তার ভেতরে কোথাও অচেনা এক কাঁপুনি কাজ করছিল—কারণ কফিটা কার জন্য, তা সে খুব ভালো করেই জানে।
উপরে রুমের দরজাটা আধখোলা রেখেই কিরিস দাঁড়িয়ে ছিলো। বাইরে দুপুরের আলো একটু কড়া হলেও ঘরের ভেতরে হালকা অন্ধকার, পর্দার ফাঁক দিয়ে আসা আলোয় তার গাঢ় মুখাবয়ব যেন আরো কঠিন হয়ে উঠেছিল।
হঠাৎই করিডোরে ঝনঝন—ঝনঝন শব্দ ভেসে এলো। পায়ের নুপুরের টুংটাং শব্দ।
কিরিসের ভ্রু কেঁপে উঠলো। ঠোঁটের কোণে অল্প একটা তাচ্ছিল্য মিশ্রিত হাসি।শব্দগুলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিল, প্রতিটি ধাপে ধাপে যেন কিরিসের কানে বাজছিল সেই চেনা সুর। এক হাতে সিগারেট ধরেছিল, কিন্তু টান দিলো না। শুধু মনোযোগ দিয়ে শোনছিলো—কফির কাপের ভেতরের হালকা তরল দুলছে, আর সাথে সাথে নুপুরের ঝনঝনি।তার বুকের ভেতরে এক অদ্ভুত টান কাজ করছিল।
কারণ, সে জানতো—একটু পরেই দরজার ফাঁক গলে দেখা যাবে লিসিকে।
আর ঠিক তাই হলো একটু পরেই কিরিসের দরজার সামনে লিসি এসে দাঁড়িয়ে পরে। কিন্তু এই মুহূর্তে লিসির ভীষণ ভয় করছিল, যদি কিরিস তাকে কিছু বলে বা করে, আর কি কি করতে পারে এই সব ভাবতে থাকে লিসি, মিনিট খানি এসব ভাববার পরে একটু সাহস যোগিয়ে কিরিসের রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁপা হাতে নক করে—
"আপনার কফি…"
ভেতর থেকে কর্কশ গলায় উত্তর আসে—
"ভিতরে আসো।"
লিসি আস্তে করে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকে। বিশাল রুমটা আধো অন্ধকার, কেবল জানালা দিয়ে আলো এসে কিরিসের মুখটাকে আরও ভয়ংকর লাগাচ্ছে।
সে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে, চোখ দুটো লালচে, ঠোঁট শক্ত করে চেপে রেখেছে। লিসির দিকে তাকিয়ে হঠাৎই হালকা হাসি দেয়—কিন্তু সেটা কোনো স্বাভাবিক হাসি নয়, বরং ভয়ংকর একরকম ব্যঙ্গাত্মক মিশ্রণ।
লিসি কাপটা সামনে টেবিলে রাখতে গেলে কিরিস হঠাৎ হাত বাড়িয়ে কাপটা নেয় না—বরং লিসির কব্জি ধরে থামিয়ে দেয়। গলার স্বর নিচু হলেও গমগম করছে—
কোনো কথা না বাড়িয়ে লিসি সোজা ঘরে ঢোকে টেবিলের উপর কাপ রাখার জন্য, লিসির মনে শুধু একটা ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে যেটা হলো কফি রেখে এখান থেকে দ্রুত চলে যেতে হবে কিন্তু কিরিসের মনে চলছে এক অন্য ভাবনা.........
লিসি কাপটা টেবিলে রাখতে যাচ্ছিল, কিন্তু কিরিস এবার হাত বাড়িয়ে কাপটা তুলে নিল। চোখ সরু করে তাকালো তার দিকে।
কিরিস —
"তুমি নিচে ওর সাথে কী নিয়ে কথা বলছিলে?! তুমি না বুঝো বন্ধুত্ব বলতে কি হয়?"
লিসি হতভম্ব হয়ে যায়, ঠোঁট কাঁপতে থাকে—
“কই, কোনো কথা বলিনি তো। আর সত্যি বলতে, ও তো শুধু আমার বন্ধু, এর বেশি কিছু না।”
কিরিস—
“বন্ধু? তা কেমন বন্ধু, ওই বন্ধু নাকি যার সাথে ঢলাঢলি করতে হয়?”
কিরিসের কথায় লিসি যে কতোটা অবাক হয়েছে , তার থেকে একটু বেশি খারাপ লাগেছে। কী করে কিরিস এভাবে বললো? সে কি তাকে চেনে না? সে কেমন মেয়ে! লিসি একটু অভিমান নিয়ে ফিসফিস করে—
“কি সব বলছেন ভাইয়া, আপনি বুঝি আমাকে ওইরকম মেয়ে ভাবেন। আর অভি আমার শুধু ভালো বন্ধু, আর কিছুই না। আমি ওকে আমার ভাইয়ের মতোই দেখি।”
কিরিস চুপ থাকে। শাস্ত্রস্বর মতো তার চোখ লিসির চোখে আটকে থাকে। বেশ কঠিন ভঙ্গিতে, গম্ভীর গলায় সে আবার প্রশ্ন করে—
“তাহলে অভি তোমাকে ‘জানু’ বলে ডেকেছিল কেন? কেন ডেকে ছিল বলো।”
প্রশ্ন শুনে লিসি একটু ঘাবড়ে পড়ে, পরে স্বাভাবিকভাবে বলে—
“ও তো আমাকে ‘জানু’ বলেই ডাকে—কলেজ থেকেই, আর এখনোও। এতে আমি কিছুই মনে করি না।”
কিরিসের চোখে যেন আগুন জ্বলে ওঠে। দাঁড়িয়ে, কণ্ঠ গম্ভীর হয়ে বলে—
“‘জানু’? ওই শব্দটা আমার কানে যাবে, আর আমি চুপ করে থাকব? সে তোমার জাস্ট ফ্রেন্ড হতে পারে, তাই বলে সে তোমাকে ‘জানু’ বলে ডাকবে আর আমি সেটা শুনবো—সেটা কখনোই হবে না। আর তুমি অভির সাথে কথা বলবে না!”
লিসি ভয় আর অভিমানের মিশ্রণে কণ্ঠ কমিয়ে বলে—
“আপনি সব সময় এমন কেন? সবাইকে ভুল বোঝেন… আমি কি কারো সাথে কথা বলতেও পারবো না?”
কথাটা শেষ হতেই কিরিসের মুঠো শক্ত হয়ে যায়। টেবিলের উপর রাখা কাচের গ্লাস হঠাৎই তার হাতে ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে। টিং-টাং শব্দে লিসি চমকে উঠে, কেঁপে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে বসে পড়ে ফ্লোরে। চারিদিকে কাঁচের ছোট ছোট টুকরা ছড়িয়ে পড়ে। লিসি ভয়ে কাঁদতে বসে—এমন কোনো কঠোর বচন বা এমন পরিস্থিতি সে আগে কখনোই পায়নি।
মির্জা বেগমের আহ্লাদে, আদরে বড় হওয়া লিসির জন্য এই রকম রাগ আর কড়া বাক্য একেবারেই অচেনা। লিসির মা নেই—কিন্তু মাকে যেন তার জীবন থেকে কখনোই অপসৃত হতে দেয়নি মির্জা বেগম; মা না থাকার অনুভূতি যেন কখনোই লিসির উপর জড়িয়ে না ওঠে, সেজন্য সব ব্যবস্থা রেখেছেন। মির্জা কোনো দিন তাকে কড়া কথায় বলেননি, যত্ন আর কোমলতায় লালন করেছেন—তাই আজ কিরিসের কঠোর রাগ লিসির হৃদয়ে আলাদা ধরনের ব্যথা জাগায়।তার কোমল হৃদয় টা আঘাত পায়।
কিরিস রাগে ফুসে উঠে গর্জে ওঠে—
“ডাকবে না কেউ তোমাকে ওই নামে।“শুনে রাখো লিসি! তোমাকে ‘জানু’ বলে ডাকবার অধিকার এই দুনিয়ায় কারও নেই—একটিও ছেলেমানুষের সাহস নেই। তুমি আমার, একান্তই আমার। সমস্ত নামে, সমস্তভাবে, তোমাকে ডাকতে পারবে শুধু আমি। শুধু আমার ঠোঁটেই শোভা পাবে তোমার জন্য ভালোবাসার শব্দগুলো। বুঝতে পেরেছ? অন্য কারোর মুখে ওই শব্দ আমি সহ্য করবো না।"
লিসি আর নিজেকে সামলাতে পারে না; চোখের কোণে নোনতা পানি জ্বলে ওঠে। তখনই তার নজরে পড়ে টেবিলের উপরে রাখা কফির কাপটা—হালকা কাঁপছে, এবং বোঝা যায় এটা পড়ে তার গায়ের উপর পড়বে। বসার সময়ে টেবিলে আসা ধাক্কার ফলে কফির কাপটি হেলে যাচ্ছে; তার মধ্যে ধোঁয়া ওঠা গরম কফি সরাসরি লিসির উপর নামতে যাচ্ছে। লিসির প্রাণ কেঁপে ওঠে—ভয় ও আতঙ্ক তার গা জুড়ে ছায়া ফেলে। লিসির মুখের সাদা হয়ে আসে, চোখ বড় হয়ে যায়।
কিন্তু কিরিসও সে দৃশ্য দেখে সামলাতে পারে না। লিসির যে কোনো ক্ষত তার সহ্য হবে না। যতটা না লিসি ভয় পেয়েছিল, তার থেকে হাজার গুণ বেশি ভয় চেপে বসে কিরিসের বুকের ভেতর। এক ঝটকায় তার মাথায় যেন বজ্রপাত হলো—গরম কফিটা যদি লিসির গায়ে পড়ে? যদি ওই নরম ত্বকটা পুড়ে যায়? কিরিসের বুকের ভেতর হঠাৎই ধক করে উঠলো, শিরা-উপশিরা অবশ হয়ে গেল।—সে মুহূর্তে বিদ্যুৎগতিতে লিসি আঁকড়ে ধরে টেনে নেয় নিজের বুকে। ঝপাৎ!
লিসি কিরিসের বুকের সঙ্গে সেঁধিয়ে পড়ে, আর গরম কফিটা ছলকে গিয়ে কিরিসের পিঠে পড়ে। কিরিস তীব্র যন্ত্রণায় মুখ বিকৃত হলেও সে একটাও ছাড়ে না; দুই বাহু আরও শক্ত করে লিসিকে জড়িয়ে ধরে—
“শান্ত থাকো… কিছু হয়নি… তোমাকে আমি কিছু হতে দেবো না।”
লিসি কেঁপে উঠে কাঁদতে থাকে—
“আহ,,,,,আপনি,,কফি "
কিরিস স্বাভাবিক গলায় বলে—
“কিছু হয়নি, লিসি কিছু হয় নি ভয় পেয়ো না, ঠিক আছি আমি, সব ঠিক আছে "
লিসি কাঁপা হাতে কিরিসের জামার ভেজা অংশ ছুঁয়ে দেখে; চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। কিরিস ধীরে ধীরে তার মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে বলে—
“আমি থাকতে তোমার কিছু হবে, চুপ করো আমার জান, চুপ করো,তোমার ওই চোখের অশ্রুকে আমি যে বড্ড ভয় পাই, সহ্য হয় না আমার তোমার চোখের পানি "
লিসি শুধু ফুফিয়ে যাচ্ছে কি হচ্ছে কি না হচ্ছে বুঝতে পারছে না সে। লিসি এখনো কিরিসের বুকে লেপ্টে আছে। কান্না করতে করতে একসময় থেমে যায়। পুরো ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। হঠাৎ তার মনে পড়ে— কফিটা তো কিরিসের গায়েই পড়েছিলো!
মুখ তুলে তাকাতেই অবাক হয়, কিরিসের মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, নিশ্চুপ বসে আছে।
লিসি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। কিরিসও ওকে দেখে উঠে বসে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে অপরাধী সুরে লিসি বলে—
—“আপনার গায়ে তো কফি পড়েছে…”
কোনো উত্তর নেই।
লিসি আবার তাড়াহুড়ো কণ্ঠে বলে—
—“কি হলো, কিছু বলছেন না কেন? দেখি কোথায় লেগেছে।”
একপা এগোতেই চোখে পড়ে কিরিসের পিঠের বেশ কিছুটা জায়গা ভিজে গেছে। লিসির মুখে চিন্তার ছাপ।
—“এভাবে থাকলে অনেক ক্ষতি হবে। মলম লাগাতে হবে… আচ্ছা, দাঁড়ান, আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।”
টেবিল থেকে ফার্স্ট-এইড বক্স তুলে এনে কিরিসের দিকে তাকায় লিসি।
—“শার্ট খুলুন।”
কিরিস ভুরু কুঁচকে তাকায়।
লিসি চোখ রাঙিয়ে বলে—
—“এভাবে তাকানোর কিছু নেই। মলম লাগাবে তো, তাই বলছি। খুলুন দ্রুত।”
একটু থেমে, কিরিস শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে। কাপড় সরাতেই তার বুকটা চওড়া, পাথরের মতো শক্ত, প্রতিটি মাংসপেশি স্পষ্টভাবে কেটে বেরিয়ে আসে। সিক্স প্যাক নয়—পুরোপুরি নিখুঁত আট ভাগে ভাগ করা এবস, যেন ভাস্করের ছেনির কাজ। বুক থেকে শুরু করে পেট পর্যন্ত মসৃণ লাইন টেনে নেমে গেছে, মাঝে মাঝে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে হালকা ওঠানামা হয়।
কাঁধ দুটো প্রশস্ত আর ভরাট, নিচে নামতে নামতে পিঠের প্রতিটি শিরা-মাংসপেশি কেটে কেটে ফুটে ওঠে। হাত দুটো লম্বা, শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে আছে, আঙুলগুলোও শক্ত অথচ পরিপাটি।
চোখ যেখানেই যাক—বুক, পেট, কাঁধ, পিঠ কিংবা বাহু—সবকিছুতেই একটাই কথা মনে আসে,
“মাশাল্লাহ…! এ যেন নিখুঁত পুরুষত্বের প্রতিচ্ছবি।”
লিসি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে,যেন মুহূর্তের জন্য নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে।
লিসি—“উফ্… কি বডি! হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেখি মনে হয়, একেবারে হাটতে থাকা মডেল—মনে হচ্ছে দমই বন্ধ হয়ে যাবে। একটা মানুষ এতো সুন্দর কিভাবে হয়! ”
লিসিকে তার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে
কিরিস ঠোঁটে হালকা হাসি টেনে বলে—
—“আমার এই বডি দেখা হলো, মিস? এখন মলমটা লাগাবেন?”
কিরিসের কথায় হুশ ফেরে লিসির। গাল টমেটোর মতো লাল হয়ে যায়।
কোনো কথা না বলে তাড়াতাড়ি গিয়ে বসে পড়ে ওর পেছনে।
আলতো করে মলম মাখতে থাকে লিসি। কিরিস নির্বিকার হয়ে আছে, কিন্তু লিসির নরম আঙুলের ছোঁয়া, আর মাঝে মাঝে আলতো করে ফুঁ দেওয়ার উষ্ণতা তার ভেতর অদ্ভুত ঝড় তুলছে। শরীর শিরশির করে উঠলেও নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে কিরিস।
মলম লাগানো শেষে লিসি অবাক হয়— এমন পোড়া জায়গাতেও কিরিসের মুখে কিঞ্চিৎ যন্ত্রণার ছাপ নেই! কেমন মানুষ রে বাবা…
ভাবনায় ডুবে থাকতে থাকতে দরজার দিকে এগোয় লিসি। ঠিক তখনই কিরিসের গম্ভীর কণ্ঠ শোনা যায়—
—“কি বলেছি মনে আছে তো? আর হ্যাঁ… sorry, আর কখনো বকবো না। তবে যদি আমার কথা না শোনো, তাহলে কিন্তু…”
কথা শেষ হওয়ার আগেই লিসি হালকা হাসি দিয়ে ঘুরে তাকায়—
—“ঠিক আছে মিস্টার রায় চৌধুরী। অভিকে আমি নিজেই বারণ করে দেবো। আর হ্যাঁ, আমি নিচে গিয়ে কাউকে পাঠিয়ে দিচ্ছি ঘরটা পরিষ্কার করার জন্য।”
কিরিস মাথা নেড়ে বলে—
—“আর শোনো, নিচে কাউকে বলো না কফি আমার গায়ে পড়েছে। অযথা সবাই চিন্তা করবে।”
লিসি কথাটা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। কিরিস এক মুহূর্ত ওর চলে যাওয়া দিকে তাকিয়ে রইলো, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠলো। লিসির কথায় সত্যিই খুশি হয়েছে সে। তারপর ধীরে ধীরে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।লিসি সোজা নিচে নেমে এলো। কমলাকে ডেকে বললো ঘর থেকে ভাঙা টুকরোগুলো পরিষ্কার করে নিয়ে আসতে। কেউ জিজ্ঞেস করলে সে সহজভাবে বলে দিল—
—“হাত লেগে ফেলে দিয়েছি ভাইয়া।”
এড়ানো দরকার ছিল, না হলে তো বড়সড় কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। কোনোভাবে বাড়ির লোকজনকে বুঝিয়ে সামলে নিলো লিসি।
দুপুরে রান্না-বান্না শেষ, এবার খাওয়ার পালা। সবাই তখন নিজ নিজ ঘরে বিশ্রামে ছিল। আজ বিকেলে রিহানদা চলে আসবে, তাছাড়া ওদের আবার অভিদের বাড়িতেও যেতে হবে অনুর এনগেজমেন্টের কারণে। ঠিক হয়েছে, কালকে সকালেই সবাই রওনা দেবে। একদিন সেখানে থেকে পরের দিন এনগেজমেন্ট হলে আবার ফিরবে।
দুপুরের খাওয়ার জন্য সবাই একে একে নিচের ডাইনিং এরিয়াতে চলে এলো। খাবার রাখা হয়েছে একেবারে সিম্পলভাবে—যেমন থাকে বাড়ির রান্না। চেয়ারে বসে সবাই খেতে মন দিচ্ছে। কাবির অবশ্য কারও অপেক্ষা না করে আগেই খাওয়া শুরু করে দিয়েছে, ওর যায়-আসে না এসব নিয়ে। মির্জা বেগমও ধীরে ধীরে খাচ্ছেন।
অবশেষে কিরিসও নেমে এলো খাওয়ার জন্য। সুপ্রিয়া এর জন্য আলাদা করে ওর জন্য রান্না করা হয়েছে। সবার মতো তেল-ঝাল ভরপুর খাবার কিরিস খেতে পারে না। ঝাল তো মোটেও না।
খাবার পরিবেশন করার সময় একটা সেদ্ধ ডিম এসে পড়লো কিরিসের প্লেটে। সবাইকে অবাক না করে একদম স্বাভাবিকভাবে খেতে শুরু করলো কিরিস। এই দৃশ্য দেখে খানিকটা বিস্মিত হলো লিসি।
মনে মনে ভাবলো—
“এ মানুষ নাকি রোবট! এতটুকু ব্যথা অনুভূতি হয় না নাকি? রান্না করতে গেলে হাতটা সামান্য ছুঁয়ে গেলেই তো জ্বলে ওঠে, আর এ সারা দিন গরম কফি সহ্য করে গেল, কোন টু-শব্দ নেই। মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়, মানুষ নাকি অন্য কিছু!”
ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে লিসিও খাওয়া শুরু করলো।বিকেলের রোদটা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছিল। বারান্দার গায়ে ছায়া এসে পড়েছে। হালকা বাতাস বইছে, সেই বাতাসে শাড়ির আঁচল কিংবা কুর্তার প্রান্ত নরমভাবে উড়ে উঠছে। বারান্দার একপাশে বসে লিসি নুপুরের ঝঙ্কার নিয়ে হেসে হেসে গল্প করছিল জারা আর সুরভীদের সঙ্গে। রিহান আর নুসরাত ও চলে এসেছে তাই তাদের কাছ থেকে সবাই জানতে চাচ্ছে তারা কি কি করেছিলো নুসরাতদের বাড়িতে গিয়ে।
মাঝে মাঝে ভেতর থেকে রান্নাঘরের গন্ধ এসে ভেসে আসছিল—মশলার ভাজা, চায়ের গন্ধ, আর দূর থেকে শোনা যাচ্ছিল কলের জলের টুপটাপ শব্দ।
একটু পর ভেতর থেকে ডাক এলো,
—“চা রেডি, সবাই আসো।”
একসাথে চা খাওয়া হলো। হাসাহাসি, ঠাট্টা—মুহূর্তগুলো যেন হালকা আনন্দে ভরে উঠেছিল। লিসি মাঝে মাঝে অজান্তে কারো দিকে চোখ তুলে তাকায়, তারপর তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে ফেলে।
সন্ধ্যা নামতেই বাড়ির ভেতর আলো জ্বলে উঠলো। মির্জা বেগম নিজের ছেলেমেয়েদের নিয়ে গল্প করছেন, ছোটরা খেলাধুলায় ব্যস্ত। কারো হাতে মোবাইল, কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে আছে—সব মিলিয়ে বাড়িটা যেন একসাথে অনেকগুলো পৃথিবীকে ধারণ করছে। রাতে ছেলেরাও অফিস থেকে বাড়ি ফিরে।
রাতের খাবারের সময় এসে গেল। বড় ডাইনিং টেবিলে ভাত, মাছ, মুরগি আর ডাল সাজানো হলো। সবাই গুছিয়ে বসল। খাওয়ার টেবিলে কারো ঠাট্টা, কারো সিরিয়াস কথোপকথন—সবকিছুই মিশে ছিল। লিসি নীরব থেকেও সবটুকু উপভোগ করছিল নিঃশব্দে।
খাওয়া শেষ হতেই ধীরে ধীরে সবাই নিজ নিজ ঘরে চলে গেল। কেউ ফোনে কথা বলছে, কেউ আবার টিভিতে খবর দেখছে। ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসছিলো হালকা হাসির শব্দ।
অবশেষে রাত গভীর হলো।
চারপাশে নেমে এলো নিস্তব্ধতা। বাড়ির ভেতর থেকে শুধু ফ্যানের শব্দ, আর মাঝে মাঝে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছিল দূরে কোথাও।একেকজন একেক ঘরে বিছানায় শুয়ে পড়লো। চোখ ধীরে ধীরে ভারী হয়ে এলো সবার।
দিনটা শেষ হলো একেবারে সাধারণ কিন্তু তৃপ্তির মতো এক প্রশান্তির মধ্যে দিয়ে।
বাতাসে উঠোন জুড়ে হালকা রোদ খেলা করছে। ঘরের ভেতর কাজের লোকদের আনাগোনা, ছেলেমেয়েদের হাসি-ঠাট্টা—সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ।
কিন্তু আজকের সকালটা সবার জন্য আনন্দের হলেও, একজনের জন্য তা কষ্টকর।
সুপ্রিয়া সারারাত মাথা ব্যথায় ছটফট করেছে, এখন আবার জ্বর এসেছে। তাই আজ সে কারো সঙ্গে যেতে পারবে না। ঠিক হলো, কাল সরাসরি এনগেজমেন্টে যোগ দেবে।
মির্জা বেগম—যিনি কখনো বউদের বউ হিসেবে দেখেননি, বরং নিজের মেয়ের মতো আগলে রেখেছেন—তিনি নিজে বললেন, “বউ ঘরে রেখে উৎসবে যাওয়া যায় নাকি? কাল একসাথেই যাব।”সুপ্রিয়া যাবে না জেনে প্রিয়াও যেতে রাজি হলো না।
তাহলে আজ শুধু বাড়ির ছেলেমেয়েরাই যাবে রিসোর্টে, আর কাল সকালে বড়রা একসাথে যাবে।
সকালের নাশতায় সবাই মিলে হাসি-আড্ডায় বসলেও, কিরিস নেই।সে নিচে নামেনি।ঘরের ভেতর বসে আছে সে, নিজের মতো সবকিছু গুছিয়ে।
কিরিস অলসতাকে ঘৃণা করে। প্রতিটি কাজ পরিপাটি করে রাখতে ভালোবাসে। তার কাছে একদিন ফাঁকা যাওয়া মানেই বিশৃঙ্খলা—যা কোনোভাবেই সহ্য হয় না।কালকে সমস্ত কাজ সে আজ করে রেখেছে আর কালকে তো সে আর অফিসে যেতে পারবে, তাই আগের কাজ সব করে রেখেছ। কিছুক্ষণ পরেই সে ইয়াবিকে ফোন দিল—
—“শুনছিস? ইউনিভার্সিটির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবি। আমরা তোকে পিক আপ করব।”
ইয়াবি প্রথমে আপত্তি জানালো, “আমি আসছি না, তুই বাদ দে।”
কিন্তু কিরিসের কথার জোরাজুরি যেন কারো অমান্য করার নয়। তার একবার বলা মানেই শেষ।
আর সব শেষে ইয়াবি রাজি হলো।
যেহেতু এনগেজমেন্টটা রিসোর্টে হচ্ছে, তাই ঠিক করা হলো—সবাই আজই গিয়ে থাকবে।
পুরো দুদিনের জন্য রিসোর্ট ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
ছেলেমেয়েরা যে যার ঘরে ঢুকে ব্যাগ গোছাতে ব্যস্ত। কারো হাসি, কারো গান, কারো আবার টুকটাক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে বাড়ির ভেতর যেন উৎসবের স্রোত।
লিসি আর আরোবি নিজেদের ঘরে বসে গল্প করছিল, ঠিক তখনই টুং করে লিসির ফোনে মেসেজ এল।
চোখ রাখতেই গা শিউরে উঠল।
স্ক্রিনে স্পষ্ট লেখা—
“আমার ঘরে মলম লাগাতে আসো। না এলে জানো তো কি হবে।”
হ্যাঁ, এই মেসেজ অন্য কারো নয়—সরাসরি কিরিসের।
সুরে হুমকি পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।
লিসি প্রথমে থতমত খেয়ে গেল, ফোনটা কাঁপা হাতে শক্ত করে ধরল।
তারপর নিঃশ্বাস ছেড়ে নিজেকে সামলে নিল।
সে খুব ভালো করেই জানে—কিরিসের ডাকে না গেলে এর ফল কী হতে পারে। চুপচাপ, নিঃশব্দে পা টিপে এগোতে লাগল কিরিসের ঘরের দিকে।
হৃদস্পন্দন যেন কান পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে।
কিরিসের ঘরের দরজায় হাত তুলে নক করার আগেই ভেতর থেকে গম্ভীর, কর্তৃত্বভরা কণ্ঠ ভেসে এলো—
—“ভিতরে আসো।”
লিসি ঘরের বাইরের কোরিডোরে দাঁড়িয়ে প্রথমে আড়চোখে শুনে—সে কি করে বুঝবে কে এসেছে। কিছুক্ষণের লিসির মাথায় এলো সে তো নুপুর পরে আছে, তারই আওয়াজ শোনা গেল—নূপুরের ঝণঝণান। তাই সহজেই শনাক্ত হয়ে গেল কে এসেছে।
ধীরে ধীরে লিসি দরজার দিকে এগোলো; কিরিস ল্যাপটপে টাইপিং ছেড়ে চেয়ারটা ঘুরিয়ে লিসির দিকে তাকাল। তার চোখ ঠান্ডা, ঠোঁটের কোনে কেবল হালকা মুচকি।
—“এবার থেকে ঘরে আসলে নক করে আসতে হবে না। যখন যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবে এসো,” —কিরিস বলল কণ্ঠে এমন একটুখানি আদেশ মিশে, কিন্তু তা বলে প্রত্যাখ্যান জায়গা রাখে না।
লিসি খানিকটা অবাক হয়ে দাঁড়াল—এই ধরনের কথা কী...অন্য কেউ যদি কিরিসের ঘরের আশপাশে ঘুরঘুর করে তাহলে তাকে বকা হয় কিংবা কিরিস সেটা সহ্য করে না আর সেখানে উইদাউট নক ছাড়া তার ঘরে ঢুকতে বলছে ভাবা যায়? মনে মিশে গেল অদ্ভুত এক দ্বিধা।
তবে লিসি ততক্ষণে ভেতরে ঢুকেই গিয়েছিল। কিরিস চেয়ার থেকে উঠে সরাসরি লিসির সামনে দাঁড়িয়ে রইল। লিসি একটু পিছু হটল, চোখ ছোট করে বলল—
—“কি ব্যাপার? আজ একবার বলাতেই চলে এলে?”
লিসি লাজুক কণ্ঠে বেড়িয়ে বলল—
—“শুনুন, মলম লাগিয়ে চলে যাবো, তাই বেশি ঝামেলা করবো না।”
কিরিস লিসির দিকে তাকিয়ে হালকা মুচকি হেসে বলল। সে গেঞ্জি খুলতে এগোয়—কিন্তু লিসি এক নিশ্বাসে চোখ বন্ধ করে বলল—
—“গেঞ্জি খুলতে হবে না। আমি পিঠে লাগিয়ে দিচ্ছি।”
কিরিস থামল, লিসির দিকে গভীর এক মুহূর্তে তাকালো; মুখে মুচকি হাসি ধরে রাখল। লিসি ধীরেশি কিরিসের পেছনে গিয়ে হাত বাড়িয়ে গেঞ্জির পেছন অংশ উঁচু করে দিলো এবং মলম আর ফার্স্ট-এইড বক্স নিয়ে কাজটা শুরু করলো।
আলতো হাতে মলম ছড়াতে থাকল—তার স্পর্শে কিরিস অচেতন নীরবতা বজায় রেখেছিল, শুধু মাঝে মাঝে কণ্ঠস্বরহীন শ্বাসচিন্তা ছিল। মলম লাগানো শেষে কিরিস ধীরে ধীরে বলল—
—“তাহা, যাওয়ার জন্য সব গোছানো শেষ।”
লিসি আনন্দের সুরে উত্তর দিল—
—“হুম, অবশ্যই—আমার সব গোছানো।”
কিরিস লিসির কথায় তীক্ষ্ণভাবে তাকালো; লিসি খেয়াল করে সামান্য আমতা আমতা স্বরে বলল—
—“না, মানে ওই—এবার আমি যাই।”
কিরিস একটু শক্ত কণ্ঠে বলল—
—“আমি বলেছি যেতে!”
লিসি টলমল হয়ে—
—“না।”
কিরিস আবার বলল—ভয় করে, কিন্তুকথা কঠোর—
—“শোনো, ওখানে যাচ্ছো, মজা করবে, বেড়াবে; কিন্তু যদি আমার কথা অমান্য করো তাহলে কিন্তু খারাপ হয়ে যাবে। আমি যেটা বলব, তুমি ঠিক সেইটাই করবে—বেশি বাড়াবাড়ি করবে না, লিসি শর্মা।”
লিসি কণ্ঠে প্রশান্তি ও সম্মতি মিশিয়ে বলল—
—“ঠিক আছে।”
কিরিস গম্ভীর গলায় বলল—
—“ওখানে গিয়ে তোমার কিছু দায়িত্ব থাকবে। প্রথমত—আমি যখনই ডাকবো তোমাকে, তখনই আসতে হবে। কোনো অজুহাত চলবে না, যেখানেই থাকো না কেন তুমি। দ্বিতীয়ত—আমি যেটা করতে বারণ করব, সেটা মনের ভুলেও করবে না। আর শেষ কথা—আমি যেন তোমাকে অভির সঙ্গে বেশি চিপকে থাকতে না দেখি। আমার ওখানে যা যা লাগবে—কফি, খাবার, সবকিছু—তুমি এগিয়ে দেবে। বুঝতে পেরেছ, লিসি শর্মা?”
কিরিসের প্রতিটি শব্দ যেন শীতল অথচ অদৃশ্য শিকলের মতো লিসিকে বেঁধে ফেলল। লিসির বুকের ভেতর তখন উথালপাথাল রাগ—“এটা কেমন কথা? আমি কি তবে কোনো পুতুল? যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে নাচাবে? আমার কোনো মতামত, কোনো স্বাধীনতা নেই?”
হাতে মুঠি শক্ত করে, বুকের ভেতরের অভিমান গিলে নিয়ে অবশেষে সে ঠান্ডা গলায় বলে উঠল—
—“জো হুকুম, মেরে আঁকা।”
লিসির কণ্ঠে বিদ্রূপের ঝাঁজ থাকলেও সুর ছিল ভদ্র।
কিরিস দীর্ঘক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল, চোখে একরকম অনড় দৃঢ়তা। কিছু বলল না আর।
লিসি মুখ ফিরিয়ে নিল, যত দ্রুত পারে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। ভেতরে ভেতরে জ্বলছিল, কিন্তু বাইরে নিস্তব্ধ।
এদিকে কিরিসও নিজের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র গুছিয়ে নিল। পরক্ষণেই নিচে নামল।
ধীরে ধীরে একে একে সবাই প্রস্তুত হয়ে নিচে নামতে শুরু করল। মেয়েদের অবশ্য একটু বেশি সময় লেগেগেল—পোশাক, গয়না, সাজগোজ মিলিয়ে।
বাড়ির সামনে দাঁড় করানো হলো দুটি গাড়ি।
একটি গাড়িতে যাবে কাবির, নুসরাত, রিহান, আরোবি, জারা ও সুরভী।
আরেকটি—কিরিসের নিজস্ব গাড়ি। ওখানেই বসবে আনারুল, ইয়াবি… আর শেষ পর্যন্ত যেতে হবে লিসিকেও।
দ্রুত দিতে পারি নাই, ইনশাআল্লাহ বৃহস্পতিবারের আরেকটা পর্ব পাবেন ]

0 Comments