তোমাকে চাই
পর্ব :36
ঠিক তখনই দরজার পাশে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ডটা দরজাটা খুলে দেয়।
ভিতরে ঢোকে মার্ক — নিখুঁতভাবে পরা কালো স্যুট, চোখে হালকা ধূসর ফ্রেমের চশমা।
তার হাতে একটা ছোট্ট ট্যাবলেট ডিভাইস, যেখানে কিছু ডেটা খোলা।
মার্ক এগিয়ে এসে ধীরে বলে,
— “Boss, রিপোর্টটা এসে গেছে।”
কিরিস গ্লাস নামিয়ে দিলো,
— “বলো।”
মার্ক গম্ভীর মুখে স্ক্রিনটা সামনে ধরলো,
— “এই এলাকার নতুন কিছু মুভমেন্ট দেখা গেছে। তিনজন লোক — নাম বলছে রাফিন খান, জুবায়ের রশিদ, আর ইমন রায়হান। সবাই নিচের দিকের দুনিয়ায় কাজ করে, কিন্তু এখন... কারও না কারও পেছনে টাকা ঢালছে। শুনেছি, ওদের সঙ্গে নুহানের সম্পর্ক আছে।”
কিরিসের চোখের কোণা সামান্য নড়ল — ঠান্ডা, নির্লিপ্ত দৃষ্টি।
সে গ্লাসটা তুলে আবার একটা চুমুক নিলো। গ্লাস নামিয়ে শান্ত গলায় বলল,
— “নুহান কে?”
মার্ক নিচু গলায় বলল,
— “এই এলাকার নতুন ডন। শহরের পশ্চিম দিকটা এখন পুরো ওর কন্ট্রোলে।”
কিরিস নিঃশব্দে বসে থাকলো কিছুক্ষণ।কাবির হালকা হেসে বলল,
— “এইসব নাম শোনা গেলেই মনে হয় কেউ যেন নিজের কবর খুঁড়তেছে।”
রিহান হেসে যোগ করল,
— “ঠিক বলছিস, ভাই।”
সবাই হাসল। কিন্তু কিরিস হাসলো না।
তার দৃষ্টি একেবারে ফাঁকা — নিস্তব্ধতা যেন ভয়ংকর ভারে ঝুলে আছে চারপাশে।
একটু পর সে ধীরে বলল,
— “মার্ক, ওদের ব্যাকগ্রাউন্ড কাল সকালেই টেবিলে চাই। আর নুহান-এর ডান হাত কে — সেটা আগে খুঁজে বের করো।”
মার্ক মাথা নেড়ে বলল,
— “Yes, Boss.”
মার্ক সরে গেলে কিরিস আবার গ্লাস তুলে নিলো।
দূরে বারের মিউজিক বাজছে — কিন্তু তার চোখে এখন অন্য এক আগুন জ্বলছে।
শান্ত, কিন্তু ভেতরে ভেতরে দাউদাউ করে জ্বলছে কোনো প্রস্তুতির আগুন।
রিহান গতকাল একটা কাজ করার সময় একটা ফুটেজ হ্যাক করে।
রিহান তত দিন ধরে ফোনের সঙ্গে চুম্বনাসহ আচরণ করে—আজও তার ওই আচরণই চলছে, শুধু ফোনটা একটু আলাদা; সে নিজেরাই একহাত ভাঙিয়ে হ্যাক করে ফেলে মিস্টার সৌমের বাড়ির ক্যামেরা। গতকাল রাতের কাজ।
আগের দিনের ফাইলগুলো এখনও রিহানের ফোনে জমে আছে; এবার সে সবার সামনে সেগুলো খুলে বসল, চোখে নেকড়ে সেই পাগলখানার চাহনি। সবাই বারে চায়ের পাতার মতো সরু চেয়ারে বসল—কাবির, ইয়াবি, রিহান তিনজনের মধ্যে রিহানই আজকের কৌতুকের কেন্দ্রবিন্দু।
রিহান হেসে হাতের আঙুল দিয়ে স্ক্রিনে সোয়াইপ করে বলে, “দেখো তো—গতরাতের ফুটেজ। মিস্টার সৌম রান্নাঘরে, আর বউ…” তার কণ্ঠ ওঠা–নামা করে, সবাই আগ্রহে চোখ ফুলিয়ে দেখে।
ফুটেজে দেখা যাচ্ছে—সৌম ঘরের দরজার কাছে সদ্য গোছানো চশমা নিয়ে দাঁড়ানো; পাশ থেকে বউ লাফিয়ে এসে একটুও বাদ দিচ্ছে না, থরথরে হাত! সৌম চুপচাপ গলবাগান করে—কখনো–কখনো হাত তুলে নিজেকে রক্ষা করতে চায়, আবার হাস্যকর ভঙ্গিতে বুকে বেয়ে বের হচ্ছে।
কাবির ইয়াবি লজ্জা-মিশ্রিত হেসে ফাটাফাটি কাটায়—কাবির বলল, “ওরে বাবা, এই তো আমরা বলছিলাম—তাকে একটু ছেড়ে দাও!” ইয়াবি কাঁধ চুলকে, হাসি বাধতে পারে না।
রিহান বুম করে বলে—“আর কি, বউয়ের হাতে মার তো স্বাভাবিক ব্যাপার, কিন্তু দেখো—মিস্টার সৌম ‘ওহ হ্যাঁ’ করে বসে আছেন—একটু রসিকতা করলেন মনে হচ্ছে!” সবাই এক সঙ্গে হেসে উঠল।
কিন্তু ইয়াবি হঠাৎ সেভাবেই জবাব দিলো, ভ্রু চেপে, “এইসব কী রে—লোকের বাড়ির ক্যামেরা হ্যাক করে ছবি দেখছিস? একদিন দেখা গেলো কার বাসর রাতের ফুটেজ হ্যাক করে বসে আছে।”
রিহান শিষ্টাচারের মতো কাঁধ ঝোকায়, “আরে, একটু মজা করে দেখি—কী হলো?”
কাবির রিহান ইয়াবি হাসাহাসি করছে; আড্ডাটা হাল্কা, তামাশায় ভরা। তারপর রিহান কৌতুক ভঙ্গিতে বলে, “তুমি জানো না—বুঝলে মজা পাবে—কদিন পরেই দেখবে বাসর রাতের সিসি ফুটেজ... ওটা বরাবরই মজা হবে।”
কাবির ততক্ষণে কাঁধ তুলে, “হুম, সেটাও দেখি—তখন সব প্লট খুলে যাবে।”
রিহান —“চল ওই পাশে তোকে মিস্টার সৌমের পুরো ফুটেজ দেখাচ্ছি ”
কাবির সহমত করে বলে —“ ইয়াবি বসে থাক আমার ভাইয়ের সাথে আমরা দুইজন গেলাম ওইদিকে ”
বারে একটা বিশেষ নীরবতা নেমে এলো—সবাই হেসেই মুখ ঢাকা দিল, কেউ অস্বস্তি প্রকাশ করলো না। তবে কিরিস চুপচাপ এক কোণায় বসে থেকে সিগারেট টানছে; ধোঁয়া যেন তার মুখের কাছ থেকে বাইরে অচেনা কোনো ছায়া ছেড়ে দিচ্ছে। গ্লাসে থাকা ড্রিঙ্কের বুদবুদগুলো নীরবে উপরের দিকে ছেলছেলে তুলে নেয়, তার চোখে হাসি নেই—একদম শান্ত, কিন্তু সেই শান্তির ভেতরেই কাটা-কাটা ভাব।
অভি তখন কণার দু’পাশে দাঁড়িয়ে—বহুক্ষণ চোখ বেঁধে দেখছে। সে চুপ চাপ বারটেবিলে এগিয়ে এসে কিরিসের সামনে বসে পড়ল। নাকের ওপর বিষাদের একটা লাইন পড়ে—কোনও কথা না বলে শুধু কিরিসের দিকে তাকিয়ে থাকল।
কিরিস ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সঙ্গে ধীরে সস্থান করে এবং শুধু একটি শব্দ বললো, “আয় এখানে বয়।”
অভি মাথা কেঁচে নিল—কথা ছিল না, কিন্তু চোখে সেই হাজারটা প্রশ্ন। তার পাশে রিহান ছিপ দিয়ে আবার একটা মজার কাট চালাতে গেল—কিন্তু কিরিসের মুখে কড়া শাসনীয় দৃষ্টি এসে কাঁধে চাপ দিল।
বিভ্রান্ত হাসি আর নীরব উত্তেজনার মিশ্রণে বারের বায়ুটা ভিজে উঠল—রিহানের কৌতুক ছিল মজা দিতে, ইয়াবির কলরবে হাসি—কিন্তু কিরিসের সেই চুপচাপ উপস্থিতি এবং অভির সামনে এসে বসা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটা হঠাৎ একটু অন্যরকম হয়ে উঠল। মানুষগুলো আবার তাদের গল্পে ঢুকে পড়ল, কিন্তু বারটার কোণে এখন একটা অদ্ভুত ঘন ভাব তৈরী হয়ে আছে—হাস্যকরতা আর গম্ভীরতার এক অদ্ভুত মিশ্রণ।ওয়েটার এক গ্লাস জুস এগিয়ে দিল, অভি গ্লাস টা হাতে নিলো। গ্লাসের দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।
তারপর অভি গ্লাসটা টেবিলের ওপর রাখল, চোখ সরাসরি কিরিসের দিকে।
গলার স্বর ঠান্ডা, কিন্তু কথায় আগুন —
— “তুই আর লিসি… এক ঘরে কী করছিলি?
আর আধঘণ্টা পরে গোসল করছিস কেন?
সোজা কথা বল, কী করেছিস ওর সঙ্গে?”
কিরিসের ঠোঁটে ধীরে ধীরে একধরনের শয়তানি হাসি ফুটে উঠল।
ও মুখটা একটু অভির কাছে নিয়ে এল, চোখের দৃষ্টি ধারালো—
সেই দৃষ্টি যেন বলে, “তুই জানতে চাস?”
এক মুহূর্তে বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
কিরিস ঠান্ডা গলায় বলল,
— “যা করার দরকার ছিল, আমি করেছি। এখন তুই কী করবে, অভি?”
অভি এক ঝটকায় উঠে দাঁড়ায়, রাগে মুখ লাল হয়ে যায়।
হাত বাড়িয়ে কিরিসের শার্টের কলার ধরে ফেলে,
চোখে রক্তচাপা আগুন—
— “তুই পাগল নাকি কিরিস! কী করেছিস তুই!”
পাশেই ইয়াবি চমকে ওঠে।ইয়াবি পরিস্থিতি শান্ত করতে বলে —“ আরে অভি কী করছিস কিরিস তোর বড় হয় ”
ইয়াবির কথা অভি শোনে না কিরিসের শার্টের কলার আরো শক্ত করে ধরে বলে —“ বল কি করেছিস তুই আমরা লিসির সঙ্গে ”
কিরিস শয়তানি একটা হাসি, হাসিটা দেখে মনে হলো যে এটা যমরাজের হাসির থেকেও ভয়ংকর যে দেখবে তার গায়ের লোম সোজা হয়ে যাবে কন্ঠ ঠান্ডা রেখে গম্ভীর গলায় বলে —“ অভি, লিসি আমরা হয়ে গেছে পুরোটা, ”
অভি—“তোকে আমি ”
কিরিস —“ Because i f*** Lisi”
কথাটা অভির কানে যেতেই দেহের সব শক্তি যেন হীম হয়ে গেলো কিরিসের শার্টের কলার ছেরে দিলো,দম করে চেয়ারে বসে পরলো।ইয়াবি তখন একটু Mojito তে চুমুক দিচ্ছিলো কিরিসের কথা শুনে ইয়াবির বিশুম খায়, মোজিতো যেন নাক, কান দিয়ে বের হয়ে যাবে এমন অবস্থা। যে মজা করছিল একটু আগেও, এখন সে পুরো হতভম্ব।
এমন উত্তর কিরিসের কাছ থেকে সে আশা করেনি।
গ্লাসের ভেতরের বুদবুদগুলোও যেন থেমে যায় —
বারের আলো হঠাৎ ভারী হয়ে ওঠে,
সবাই নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে কিরিসের দিকে।
কিরিস তখনও শান্ত।
চোখে শীতল আগুন, ঠোঁটে ঠান্ডা হাসি।
তার সেই নীরবতা যেন শব্দের থেকেও বেশি জোরে বাজে।
কিরিস নিজের শার্টের কলার ঠিক করলো অভির দিকে একটু ঝুকে বললো —“ লিসি তোর কবে থেকে হলো, কোন মুখ দিয়ে বললি '''আমার লিসি'''। আমার খালাতো ভাই বলে তুই এখনো বেঁচে আছিস। অন্য কেউ যদি বলতো লিসি আমার তাহলে আমি তাকে কবরের করে দিতাম ”
বারের ভেতর নরম নীল আলো, হালকা জ্যাজ মিউজিক বাজছে। টেবিলের ওপর দুইটা গ্লাস, একটায় বরফ গলে পড়ছে ধীরে ধীরে।
অভি ও কিরিস মুখোমুখি বসে।
অভি — (চোখ নামিয়ে গ্লাস ঘুরিয়ে)
এটা করলে কেন? এটা তো সত্য না...
তুই তুই.... এমনটা কিভাবে করতে পারলি
কিরিস চুপ, গ্লাসের ভেতর তাকিয়ে, ধোঁয়ার ভেতর হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি
...
অভি — (বিরক্ত কণ্ঠে)
“আমি তোর কথা বিশ্বাস করি না, লিসি এমনটা কখনো করবে না,.... আমি ওকে জানি!”
কিরিস —“অবশ্যই করবে কারণ লিসি শর্মা আমাকে ভালোবাসে বুঝতে পেরেছিস ”
অভি —“ না না এটা... ”
কিরিস হালকা নিঃশ্বাস ছাড়ে, কোন জবাব দেয় না। তার হাতের আঙুলে হালকা করে গ্লাস ঘোরে।
ঠিক তখনই পাশের টেবিল থেকে ভেসে আসে কিছু ছেলেদের কণ্ঠ।
ছেলে ১ —
দেখেছো ওটা? সাদা শাড়িটা পরা মেয়েটা! কসম, চোখ ফেরানো যায় না।
ছেলে ২ —
আর ওই গোলাপি ড্রেসওয়ালীটাকে দেখ, হাঁটা দেখলেই মাথা ঘুরে যায়!
ছেলে ৩ — (হাসতে হাসতে)
আর ওই যে যার এনগেজমেন্ট হতে যাচ্ছে... ওর হাসিটা দেখেছো?
আরে ভাই, এমন হাসি ছুঁয়ে দিতে মন চায়!
তাদের হাসির সঙ্গে সঙ্গে টেবিলের গ্লাসে বরফ কট করে ভেঙে যায়। আরো নানা বাজে বাজে কথা ভেসে আসে ওই টেবিল থেকে। আর কিরিসের বুঝতে বাকি থাকে না ওই তিন মেয়ে কে, সাদা শাড়ি পরা লিসি, গোলাপি শাড়ি পরা আরোবি আর অনু। ওদের কে নিয়ে ওই টেবিলে না মন্তব্য চলছে।
কাবির রিহান ইয়াবি এরা ও ওদের কথা শুনে বেশ খেপে গেছে। তিন জনই শার্টের হাতা গোটাতে শুরু করেছে যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এরমধ্যে অভি কিরিসের দিকে তাকিয়ে
—Kiris...
কিরিস ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। তার চোখে ভয়ানক ঠান্ডা ভাব।চারপাশে নিস্তব্ধতা। বারটেন্ডারও চুপ।সে ধীরে ধীরে হাঁটে ছেলেগুলোর টেবিলের দিকে।ওরা এখনো হাসছে, কিছু বুঝতেই পারছে না।কিরিসের হাতের ড্রিংকসের বোতলটা হঠাৎ উল্টো করে ধরে—
এক মুহূর্তে ঢাসসসসস!
বোতলটা এক ছেলের মাথায় ভেঙে পড়ে।
রক্ত ঝরতে থাকে কাঁচের টুকরোর ফাঁক দিয়ে,
ছেলেটা চেয়ারে বসেই কাতর শব্দ করে নিচে পড়ে যায়।
বারের ভেতর নিস্তব্ধতা। কেউ নড়ছে না।
কিরিস ধীরে ধীরে নিচু হয়ে, ভাঙা বোতলের মাথাটা মাটিতে ফেলে দেয়।
কিরিস — (ঠান্ডা, নিচু গলায়)
“ যাদের হার্ট বড্ড দুর্বল দয়া করে এখান থেকে চলে যান পরবর্তীতে স্টক করলে আমার দোষ নেই। কাবির.... ”
কাবির এর নামটাই যথেষ্ট কাবির কি করবে তা নিয়ে।
সে ঘুরে দাঁড়ায়। অভি স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিখে
বারের নীল আলোতে কিরিসের মুখটা যেন বরফের মতো ঠান্ডা, নিস্তব্ধ, কিন্তু ভেতরে আগুন জ্বলছে।কাবির দ্রুত এগিয়ে এসে অভির হাত ধরে বারের বাইরে নিয়ে যায় ভালোভাবে বুঝিয়ে বলে দেয় এখান থেকে চলে যেতে। প্রথমে অভি না যদি চাইলেও পরবর্তীতে জড়াজড়িতে চলে যায়। কিন্তু এখানেই শেষ নয় অভি আবার আসবে তার চোখের চাউনি বলে দিচ্ছে। অভিকে পাঠিয়ে দিয়ে কাবির বারের ভিতরে ঢোকে।
কিরিস ধীরে ধীরে ওদের টেবিলের দিকে এগিয়ে আসে।
শুধু বুটের টক... টক... টক... আওয়াজ শোনা যায়।
ওরা এখনো হেসে চলছে,
কেউ বুঝতে পারছে না ঠিক কী আসছে সামনে।
ছেলে ২ (অর্ধহাসি) —
কি রে, ভাই! কিছু বলবি নাকি—
ঢাসসস!
এক মুহূর্তে কিরিসের মুষ্টি ওর মুখে!
চেয়ারে বসা অবস্থায় ছেলেটা উল্টে পড়ে যায় মেঝেতে।
বোতল ছিটকে গিয়ে দেয়ালে আঘাত করে ভেঙে যায়।
আর কোনো শব্দ নেই —
শুধু নিঃশব্দ ক্রোধের আগুন।
দ্বিতীয়জন উঠে দাঁড়ায়, চেয়ার তুলে আঘাত করতে যায়।
কিরিস তার হাতের মাঝখান দিয়ে ঢুকে,
চেয়ারটা টেনে নেয়,
আর ঘুরে পেটের মাঝখানে এক হালকা হাঁটু!
ছেলেটা হাঁপাতে হাঁপাতে মেঝেতে পড়ে, মুখ থেকে রক্ত বের হয়।
কিরিস নিচু হয়ে বলে —
“ওদের নাম মুখে এনেছিলি, তাই না?”
তৃতীয়জন ছুটে আসে বোতল নিয়ে,
কিরিস এক পাশে সরে গিয়ে তার কবজি ধরে টান দেয় —
একটা চটাস শব্দ হয়, হাড় বেঁকে যায়।
বোতল মাটিতে পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়,
আর কিরিস সেই ভাঙা কাচের টুকরোটা তুলে নেয়।
চোখে ঠান্ডা আগুন, ঠোঁটে একটুখানি বাঁকা হাসি।
ভাঙা বোতলের চকচকে ধারটা ছেলেটার মুখের সামনে ধরে বলে—
KIRIS:
“ওদের নাম নিলে জিহ্বা কেটে ফেলি,
আর চোখ তুললে... চোখ উপড়ে ফেলি।”
তারপর এক টানে তাকে টেবিলের ওপর ফেলে
ঢাসস!
ঘুষি, হাঁটু, টেবিলের কাচ সব মিশে এক হয়ে যায়।
বাতাসে উড়ে যায় বরফ, ভাঙা কাঠের গন্ধ, আর ভয়।
আর কেউ এগোয় না।
সবাই স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে সেই মানুষটার দিকে—
যে একাই পুরো বারটাকে নীরব করে দিয়েছে।
কাবির ভিতরে ঢোকে—নজরে পড়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়া কয়েকজনের অচল দেহ, কাচের টুকরো আর ভাঙা চেয়ার। সে হঠাৎ চাপে যায়; সেখানে কিরিস এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে একটা ড্রিংসের বোতল।
কিরিস ধীরে ধীরে সেই ছেলেটার দিকে এগোচ্ছে যে ছেলেটি সাদা শাড়ি পরা লিসির সম্পর্কে বাজে কথা বলেছিল। বারটা এখন নিস্তব্ধ, কেবল কিরিসের বুটের আওয়াজ শোনা যায়।
রিহান পাশের একজনকে ধরে কড়া কণ্ঠে বলে—
“শালা, আমার বোনের দিকে নজর দেওয়া? হাঁটা দেখে প্রেমে পড়েছিস কুত্তার বাচ্চা!”
বলেই সে এক লাথি মারে; ছেলেটার মুখ থুবরে পড়ে মেঝেতে।
রিহান আরো একটিকে গমন করতে যাচ্ছিল—তখনই ইয়াবি সামন থেকে এগিয়ে এসে কণ্ঠটা নিচু করে বলে—
“দাড়া। এবার আমাকে ও একটু চান্স দে—আমার ফিউচার বাঁচানোর।”
ইয়াবি ছেলেটিকে ধরা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে; তার কণ্ঠা ঠাট্টা-ভরা, কিন্তু ঝাঁকালানো —
“উলরে বাবা, হেঁটে আসা সুন্দরীকে দেখেছো? তোকে আমি যদি হাসপাতালে না পাঠাই, তাহলে আমি শিক্ষক না! আজ আমি তোকে শিখাবো — কিভাবে টুই কাল টুইঁ কাল, লিটিল স্টার পড়তে হয়।”
ইয়াবি কথা বলতে বলতে মারতে থাকে—চট করে, দক্ষতার সঙ্গে; লাথি, হাত, কাঁধে আঘাত—সবই দ্রুত। ছেলেটা আর দাঁড়াতে পারে না, তার গড্ডালিতে চাপ পড়ে; অন্যরা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে।
কাবির এগিয়ে এসে রিহানের ঘাড়ে হাত রেখে বলে—
“এই, ওই দিকে চল বসে—দেখি দাঁড়িয়ে দেখতে মজা নেই। আমার এখন হাত দিতে ইচ্ছে করছে না।”
রিহান ঠোঁটের কোণে হেসে বলল, কোমল কণ্ঠে—
“চল, আমি যাকে মারতে চাইছিলাম, তাকেই ইয়াবি মারছে। চল, আমরা একটু ওয়াইন খাই।”
তারা ধীরে ধীরে পেছনে সরে এসেছে, কেবিনে বসে ওয়াইন নেয়ার ভান করে—কিন্তু চোখগুলো সবসময় কিরিসের দিকে টিকে আছে।
কিরিস ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় ছেলেটার দিকে ইতিমধ্যে মার খেয়ে ওর অবস্থা খারাপ কোনো মতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে, টেবিলের উপর ভর দিয়ে যেই না দাঁড়িয়েছে কিরিস হাতে থাকা বোতল টা টেবিলে বারি মেরে ভেঙে ফেলেছে হাতে রেখে দিয়েছে বোতলের ভাঙা কাঁচের টুকরা সূচালো ধার কাঁচের টুকুরার, কিরিস এক হাত দিয়ে ছেলেটির মাথার চুল মুষ্টি করে ধরল টেবিলের উপরে একটা আছাড় মেরে ফেলল, গলাটা চেপে রাগে গম্ভীর ও ঠান্ডা গলায় বললো
—“ ওর দিকে এই দুইটি চোখ দিয়ে বাজে নজরে দেখেছিস..তোর এই চোখের অধিকার নেই ওর দিকে তাকানো, এই পৃথিবীরতে কারোর নেই। ওর দিকে সব নজরে তাকানোর অধিকার কেবল মাত্র আমার আছে, এই কিরিসের। জানোয়ারের বাচ্চা তোর কত বড় স্পর্ধা ypu look at my women.। তোর এই দুটি চোখ আজ আমি উপড়ে ফেলবো,, ”
কিরিসের এই ভয়াবহ হুমকিতে একেবারে নীরব হয়ে গেছে বার, রিহানরা জানে আজ এই ছেলের দুটি চোখ আজীবরের মতো অন্ধকার হতে চলেছে কারণ তার সামনে স্বয়ং দাঁড়িয়ে আছে দ্যা মাফিয়া কিং UK,
কিরিস বোতলের এই ভাঙা টুকরোটা ছেলেটার চোখের ভিতরে দিয়ে দেয় আর্তনাদ করে ওঠে ছেলেটা। চারপাশে শুধু তারই আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে, রিহান, কাবির, ইয়াবি কান চুলকানোর ভান করছে ওদের কানে যাচ্ছেনা এই আর্তনাদ, এটা যেন রোজকার ব্যাপার। একটা নয় দুইটা চোখেই নষ্ট করে দেয় কিরিস ছেলেটার। চোখ দিয়ে অঝরে রক্ত ঝরছে হাত দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করছে ছেলেটা পারছে না নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টায় সে ব্যর্থ। চারিদিকে শুধু ভয়ের আবহা একটু আগে কেমন ছিল এই বারটা জনবহুল হাসি ঠাট্টা আর মজার মধ্যে কিন্তু হঠাৎ করেই এটা বদলে নিলে রক্তাক্ত আর ভয়ংকার রূপে।
বারে সাইলেন্স ভেঙ্গে আলোর কথাটা বদলে যায়—কিরিসের আঘাতের পর থেকে সবকিছু দ্রুত ছুটে গেছে।
কেউ চিৎকার করে সাহায্যের ডাক দিল, কেউ বুকে দাঁত গোঁজে দাঁড়িয়ে আছে—প্যানিক, অরাজকতা, এবং একেকজনের মুখে দেখা যায় অনুশোচনা।
প্রথমজন ধীরে ধীরে কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়াল—একটু হাঁটার পরেই পিছু হটে গেল, চোখে অসাম্য, শ্বাসনাল হালকা কাঁপছে। আরেকটু সময় না পেয়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে; আশেপাশের কেউ ছুটে গিয়ে ধাক্কা দিল, কিন্তু সে আর ওঠে না—চেষ্টা করলেও রক্তচাপ কমে, নিঃশ্বাস থেমে যায়। সবাই চরম আতংকে ভেঙে পড়ে—কেউ ফোনে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকছে, কেউ কাগজি বয়ে পড়ছে।
দ্বিতীয়জন তার কুশিন্তায় থেমে থাকতে পারল না—ভয়ে ওদিকে ওদিকে ছুটতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যায়; সে কষ্টে করুণ আর্তনাদ করে মরে যায়, আর তৃতীয়জন—যে এতদিন বচসা করছিল—তার দেহেও হঠাৎ করে জীবন ফেরেনি; লোকেরা তাকে বাঁচাতে চাইলেও সবকিছু অকার্যকর। তিনজনেই লুটিয়ে পড়ে—বারটা একধরনের মকব্বরার মতো নিস্তব্ধতায় ভরে ওঠে।
কিরিস স্থির দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখে কোন আনন্দ নেই—কেবল কঠোর বাস্তবতা। কেউ কেউ কিরিসের দিকে তাকিয়ে জানে যে আজকের ঘটনাটা শুধু এক ন্যায্যবোধের বিচার ছিল না—এটা একটি চরম নজির হয়ে গিয়েছে। ফোনে কেউ পুলিশ ডাকে, কেউ অ্যাম্বুল্যান্স; কিন্তু সবাই বুঝে—এখন থেকে শহরটা আর আগের মতো থাকবে না।
এমন সময় মার্ক এগিয়ে আসে ঠান্ডা কঠোর সুরে বলে
—“ এখানে আপনারা যা দেখেছে ন সেটা নিজেদের মধ্যে রাখবে, এটা আমি ভদ্র ভাবে বলছি, আর যদি এইখানের একটা কথাও বাইরে যায় তাহলে বলে যারা এখানে আছো তারা সবাই কবরে যাবে,তাই সবাই চুপ থাকবেন ”
কথা শেষ করে মার্ক কিরিসের দিকে একটা টাওয়াল এগিয়ে দেয় কিরিস হাতে থাকা রক্তের ফোঁটা গুলো মুছে নেয়। মার্ককের কথার পরে সবাই স্তব্ধ। কেউই আর চোখ তুলতে সাহস পায় না। বারটা এখন শুধু নিঃশব্দ—কেউ চিৎকার করলেই Mark-এর অচেনা থাকা লোকেরা পেছন থেকে বেরিয়ে আসবে, সবাই উপলব্ধি করে যে এখানে বোঝানো হয়েছে: মুখ খুললে ফল ভয়ানক হবে — আইন কিরিসের; প্রয়োগ Mark-এর।
কিরিস এতো নিখুঁতভাবে ওদের শেষ করেছে যে কিরিসের সাদা শার্টে একফোঁটা রক্তের চিহ্নও নেই। নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা তার ভেতরেও যেন ভয়ঙ্কর শান্তি।
কিরিস একবার হাত বাড়াতেই, একজন এসে নিঃশব্দে একটা সিগারেট তার হাতে দেয়। কিরিস সিগারেট ধরিয়ে ঠোঁটে নেয়, ধোঁয়ার ভেতর যেন লুকিয়ে থাকে মৃত্যু আর রাজত্বের গন্ধ।
ঠিক তখন কাবির, রিহান আর ইয়াবি এগিয়ে এসে বলে —
কাবির —“Bro, চল এবার রিসোর্টে যাই।”
কিরিস— “হুম... যা, আমি আসছি। মার্ক, তুমি এসেছো? আমি যেটা আনতে বলেছিলাম?”
মার্ক— “হুম বস, চলেন।”
কাবিররা রিসোর্টের দিকে রওনা দেয়। কিরিস তখন মার্ককে নিয়ে একটু একপাশে যায়।
মার্ক গাড়ির দরজা খুলে একটা কালো বক্স বের করে কিরিসের সামনে ধরে। ভিতরে নানা রকমের চুলের কাটা সাজানো—প্রতিটা যেন কোনো স্মৃতি, কোনো গল্প।
কিরিস একটা চুলের কাটা হাতে নেয়, চোখে হালকা ঠান্ডা হাসি।
কিরিস — “হুম, এটা সুন্দর। মার্ক, তুমি তাহলে যাও। আর রাতে... নুহানের বিষয়ে সমস্ত তথ্য আমার টেবিলে পাঠিয়ে দিও।”
বলে কিরিস চুলের কাটাটা নিজের শার্টের ভেতর পকেটে রাখে। মার্ক গাড়ি নিয়ে চলে যায়, আর কিরিস ধীরে ধীরে রিসোর্টের দিকে হাঁটতে থাকে।
তার পেছনে পড়ে থাকে শুধু রক্তে ভেজা বার আর ধোঁয়ার গন্ধে ভাসা রাত।
ওদিকে কাবিররা সবার মাঝে ফিরে আবার হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে। ওদের দেখলে কেউ বুঝবে না, একটু আগেই মৃত্যুর নাচ দেখেছে ওরা।
ঠিক তখন আরোবির ফোনে একটা মেসেজ আসে। চোখে দুষ্টুমি ঝিলিক নিয়ে সে লিসির হাত ধরে সবার মাঝ থেকে টেনে একপাশে আনে।
আরোবি হাসতে হাসতে বলে
— “এই বাইরে যা, দেখবি বাপ পাশে কিরিস ভাইয়া তোর জন্য দাঁড়িয়ে আছে।”
লিসি অবাক হয়ে
—“আমি কেন? আর কেনই বা যাব?”
আরোবি —“তোর মাথায় গবর পুরা নাকি? যা, তোকে তোর প্রেমিক ডাকছে লিসি।”
লিসি কাচুমাচু করে — “আরোবি, আমি যাব না। যদি উল্টোপাল্টা কিছু করে বসে?”
আরোবি —“আরেহ যা, গেলে চকলেট দেবো।”
আরোবি জোর করে লিসিকে বাইরে পাঠিয়ে দেয়।
ওদিকে অভি ঘরে বসে ভাবছে সারাদিনের অদ্ভুত ঘটনাগুলো—
অভি নিজের সঙ্গে নিজে বলছে— “আমি মানি না... কখনো মানবো না... আমি হাল ছাড়তে পারি না... না!”
অনুষ্ঠানমুখর রিসোর্টে হাসি, খাওয়া-দাওয়া, আলো—সবকিছু জমে উঠেছে।
লিসি বুকের ভেতর হাত রেখে পা টিপে টিপে হেঁটে যাচ্ছে, চারপাশে তাকিয়ে খুঁজছে পথ।
ঠিক তখনই কিরিস এগিয়ে এসে হঠাৎ তার হাত ধরে টেনে নেয় একপাশে।
লিসি চমকে উঠে— “এই! কি করছেন?”
কিরিস নিচু গলায় বলে —“চুপ থাকো।”
সে লিসির কোমর জরিয়ে টেনে নেয় নিজের কাছে।
লিসি কিছু বলার আগেই কিরিস আলতো করে তার মাথা নিজের বুকে রাখে—গলায় একদম শান্ত, গভীর স্বর,
কিরিস —“Sorry... আমি তোমার সম্পর্কে ওটা বলতে চাইনি। ওটা শুধু বলেছি... তোমাকে আমার করে রাখার জন্য।”
লিসি কিছু বুঝতে পারছে না—কোন কথার জন্য এই ক্ষমা?
হঠাৎ কিরিস আবার লিসিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, ফিসফিসিয়ে বলে—
কিরিস— “আমাকে ছেড়ে যাবে না তো... অলকানন্দা?”
লিসির বুক কেঁপে ওঠে।
সে মাথা তুলে তাকায় কিরিসের চোখে—ভেতরে এক বিশাল শান্তি, কিন্তু লুকানো বিষাদও।
ধীরে কিরিসের বুকে মাথা রেখে লিসি বলে—
লিসি —“যাব না... কখনো যাব না... যতদিন না আপনি অনুমতি দিচ্ছেন, ঠিক আছে?”
কিরিসের চোখের কোণে একফোঁটা আলো ঝলসে ওঠে।
রাতের বাতাসে ধোঁয়ার গন্ধ মিলিয়ে যায়—রয়ে যায় শুধু এক অব্যক্ত প্রতিশ্রুতি।কিরিস কিছুক্ষণ লিসিকে আগলে রাখে—তার বুকের ভেতর যেন এক অদ্ভুত শান্তি ছড়িয়ে পড়ে।তারপর ধীরে ধীরে ছেড়ে দেয়।লিসি ছাড়া পেয়ে দ্রুত নিজের ভাঁজ হয়ে যাওয়া শাড়িটা ঠিক করতে থাকে। চোখে লজ্জা, হাতে তাড়াহুড়ো।কিরিসের ঠোঁটের কোণে হালকা একটা মুচকি হাসি ফুটে ওঠে। লিসিকে আবার নিজের কাছে নিয়ে আসে কিরিস এবার মুচকি হেসে বলে
—“খাটো মেয়ে জরিয়ে ধরতে গেলে ঘাড় ব্যাথা করে।”
লিসি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলে
—“কি! আমি খাটো?! আপনি তাহলে তালগাছ—খাম্বার মতো লম্বা! সরেন, আমাকে ছাড়ুন।”
কিরিস (চোখে দুষ্টুমি):
—“আরেহ রাগ করছো কেন? জানো তো, খাটো মেয়েরাই নাকি সবচেয়ে মিষ্টি হয়।”
লিসি (চোখ ঘুরিয়ে):
—“আপনাকে এখন আমি পাম দিতে বলছিনা—ছাড়ুন।”
লিসি যেতে উদ্যত হলে, কিরিস হঠাৎ পকেট থেকে কিছু বের করে।
সে আলতো করে লিসির চুল সরিয়ে, সেই চুলের ভাজে চুপচাপ একটা চুলের কাটা গেঁথে দেয়।
লিসি থমকে যায়।
তার চোখে বিস্ময়—চুলের কাটাটা ঠিক সেইটা, যা কিরিস কিছুক্ষণ আগে নিজের কাছে রেখেছিল।
কিরিস লিসির দিকে তাকিয়ে আবার সেই অদ্ভুত শান্ত, গভীর হাসিটা দেয়।
লিসির গাল লাল হয়ে ওঠে, সে নিজের হাত দিয়ে আলতো করে চুলের কাটা ছুঁয়ে দেখে।
কিরিস নিচু গলায় বলে উঠে
—“তাহলে... লিসি শর্মা, এবার আমাকেও কিছু দাও।”
লিসি একটু চমকে যায়
—“আমি আবার কি দেবো?”
কিরিস (চোখে দুষ্ট আলো):
“যেটা আছে তোমার... তাই দাও।”
লিসি কিছু বলার আগেই হঠাৎ ওদের কথার মাঝখানে আরোবি আর ইয়াবি এসে পড়ে।
আরোবি দু’হাত দিয়ে চোখ ঢেকে ফেলে হাসি চেপে বলে
—“আরে কিছু দেখি নাই আমি!”
ইয়াবি হাসি চাপে রেখে বলে
—“ভুল সময়ে চলে এলাম নাকি! এই আরোবি, তুইই তো টেনে আনলি!”
আরোবি গম্ভীর মুখ করে ইয়াবির দিকে তাকিয়ে বলে
—“বাহ রে! ছেলের পক্ষে তুই জানবি, মেয়ের পক্ষে আমি জানবো না বুঝি?”
ওদের দেখে কিরিস বিরক্তভাবে একটা লম্বা নিশ্বাস ফেলে—মনে হচ্ছিল, একটু নিজের সময়টা আজ আর পেল না।
লিসি লজ্জায় মুখ নিচু করে ফেলে, গাল টকটকে লাল।
কিরিস ঠান্ডা স্বরে
—“এখানে আসার কারণটা জানতে পারি?”
আরোবি চওড়া হাসি দিয়ে
—“আরে ভাবলাম, তোমাদের দুজনের একটা সুন্দর ছবি তুলে দেই!”
ইয়াবি হাসতে হাসতে
—“আমি আসতে চাইনি ভাইয়া, আরোবি জোর করে এনেছে।”
আরোবি নকল রাগ দেখিয়ে বলে
—“এই চুপ! না হলে নিমপাতা খাওয়াবো! ...এই দেখো, তোমরা দুইজন একসাথে দাঁড়াও—ভাইয়া, তোমার ফোন দাও, একটা সুন্দর কাপল ছবি তুলে দিই।”
কিরিস চুপচাপ লিসির দিকে তাকায়।
লিসি চোখ নিচু করে হাসে, কিন্তু মুখে কিছু বলে না।
বাতাসে তখন মিষ্টি লজ্জার গন্ধ, আলোয় মিশে থাকা একটা নিঃশব্দ প্রেমের ছোঁয়া।
লিসি হালকা অস্বস্তিতে হয়ে যায়
—“আরে... না থাক, আমি গেলাম...”
কিন্তু কথাটা শেষ করার আগেই কিরিস তার কোমর ধরে নিজের পাশে টেনে নেয়।
লিসি এতটা অপ্রস্তুত যে নড়তেও পারে না। তার গাল লাল হয়ে উঠছে, বুকের ভেতর হালকা ধুকপুকানি।
কিরিস পকেট থেকে ফোন বের করে শান্তভাবে আরোবির হাতে দেয়।
কিরিস কড়া গলায়
—“তুলে দে।”
আরোবি আর ইয়াবি মিলে হাসতে হাসতে কয়েকটা ছবি তুলে ফেলে—
কিরিসের একহাতে লিসির কোমর বাঁধা, আর লিসি চোখ নিচু করে লজ্জায় পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
লিসি এখন মুসকিলে—না পারছে চলে যেতে, না পারছে লজ্জাটা ধরে রাখতে।
আরোবি একবার হেসে বলে,
আরোবি— “এই ভাইয়া, এই পোজটা দারুণ, আরেকটা দে না?”
কিরিসের ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে ওঠে।
সে ধীরে লিসির পাশে গিয়ে দাঁড়ায়, এক হাত দিয়ে লিসির কোমর আলতো করে টেনে নেয় নিজের কারো কাছের দিকে।
লিসির শ্বাস আটকে যায়, মুখে লজ্জার ছাপ স্পষ্ট।
আরোবি
—“এই! এমন রিয়াল পোজ দিচ্ছো নাকি? ঠিক আছে ঠিক আছে, থামিস না, দারুণ লাগছে!”

0 Comments