তোমাকে চাই
পর্ব :34
মানুষজন মুচকি হেসে তাকায়,
কারো কাছে এই দৃশ্য এক মিষ্টি ভালোবাসার,
আবার কারো কাছে— এক দহনময় পাগলামির।
কারোর দিকে নজর না দিয়ে কিরিস সোজা রিসোর্টের ভিতরে ঢুকে পরে আর লিসি কিরিসের পিছু পিছু যায় ওদের কে এভাবে দেখে সবাই কিছু বলতে চাইলেও বলতে পারে না, পাপড়ি এগিয়ে এসে কিরিসকে টাওয়াল দিয়ে বলে—
— " কি করে ভিজলি, "
কিরিস কিছু না বলে লিসির দিকে তাকায় লিসি চুপ করে দাড়িয়ে আছে যেন সে কিছুই করি নি, কিরিস কিছু না বলায় পাপড়ি বলে
—" আচ্ছা বাদ দে গিয়ে জামা বদলে আয়, আর লিসি তুমি ও যাও নাহলে ঠান্ডা লেগে যাবে "
লিসি চুপচাপ ঘরের দিকে গেলো নিচে একটা রুমে, আরোবি উঠে লিসির জন্য একটা সালোয়ার নিয়ে গেলো লিসির ঘরের দিকে আর কিরিস উপরে তার নিজের রুমে চলে গেছে,
মিনিট খানিক পরে লিসি আর আরোবি একসাথে হলরুমে আসে।
রিসোর্টের বিশাল হলরুমে তখন সবার হাসাহাসি, নাস্তা-চা-কফির গন্ধে ভরে গেছে চারপাশ।
কাবির, রিহান, নুসরাত, সুরভী,জারা — সবাই এক টেবিলে বসে গল্পে মশগুল।
লিসি আসতেই সবার চোখ গেল ওদিকে।লিসির আর আরোবি সবার মাঝে বসলো।
সুরভী চোখ টিপে বলল —
“এই লিসি, বৃষ্টিতে ভিজলে নাকি সিনেমা শ্যুট হচ্ছিল? তোমাদের দেখে মনে হচ্ছিল রবিবারের রোম্যান্স উইথ রেইন!”
কাবির হাসতে হাসতে —
“হ্যাঁরে! কে ভিজে কে শুকালো, দেখা যায় না, কিন্তু দুজনেই এমন সাজে নেমেছো মনে হচ্ছে ফটোশুট শেষ করে এসেছো!”
রিহান চা হাতে হেসে বলে —
“লিসি, একটু বলো না কেমন লাগে ভিজতে? আমার তো মনে হচ্ছিল কিরিস ভাই তোকে ছাতার বদলে নিজের কোটে মুড়িয়ে নিচ্ছে, তাই না?”
আরোবি লিসির পাশে বসে টিপ্পনী কেটে বলে —
“আর কিরিস ভাইর কোডের ভাগ তো আমরা পাইনি! ভাগ্যিস আমারও একটা গার্লফ্রেন্ড নেই, না হলে ওকেও বৃষ্টিতে ভিজিয়ে কোট পরিয়ে দিতাম!”
সুরভী —" তোর ও আবার গার্লফ্রেন্ড থাকবে পাগলী,, বয়ফ্রেন্ড হবে... "
সবাই হেসে গড়িয়ে পড়ল।
লিসি লজ্জায় মুখ নিচু করে হাসিটা চেপে রাখে।
ওর গালে হালকা লালচে আভা ফুটে ওঠে, চোখের কোণে জমে থাকা একফোঁটা পানি ঝরে পড়ে গালে।
ঠিক তখনই পেছন থেকে শোনা গেল এক ভারী কিন্তু শীতল গলার শব্দ —
“কিসের ভাগাভাগি হচ্ছে এখানে?”
সবাই থেমে গেল।
কিরিস ধীরে ধীরে এগিয়ে এল, হালকা ভেজা চুলে সাদা শার্ট, চোখে সেই ধোঁয়া-ঢাকা দৃষ্টি —
যে দৃষ্টি এক মুহূর্তেই রুমের হাসি স্তব্ধ করে দেয়।
আরবির মুখের হাসি জমে গেল ঠোঁটে, রিহান চুপ করে গেল, সুরভী একপাশে মুখ ফিরিয়ে চা ধরল।
কিরিস টেবিলের কাছে গিয়ে চুপচাপ লিসির পাশে দাঁড়াল।
একটা হালকা কিন্তু গভীর হাসি ফুটে উঠল তার ঠোঁটে —
সেই হাসি, যা একদিকে স্নেহে ভরা আবার অন্যদিকে ভয়ঙ্কর রকমের কর্তৃত্বে পূর্ণ।
—“তোমরা গল্প করো,”
নরম গলায় বলল কিরিস,
—“তবে যার নিয়ে গল্প করছো, সে যেন বুঝে না ফেলে কার চোখে কেমন দৃষ্টি পড়ছে।”
সবাই মৃদু হেসে মাথা নাড়ল, কিন্তু ভিতরে ভিতরে একধরনের কাঁপুনি রয়ে গেল।
লিসি তখনো চুপ করে থাকে।
কিরিসের সেই নরম অথচ কঠিন গলার পর সবাই চুপ।
হঠাৎ করেই প্রবেশদ্বার থেকে কারও হাঁটার শব্দ শোনা গেল— ভারি, ধীর।
সবাই তাকাতেই দেখা গেল অভি আসছে।
হাতে একটা কালো বক্স, পরনে জিন্স আর হালকা গ্রে শার্ট, মুখে আগের মতোই গম্ভীরতা।সবার সামনে এসে থেমে গেল ও।দৃষ্টি একবারেই গিয়ে পড়লো লিসির ওপর।
একটু থেমে, একরাশ জোরে নিজের রাগ ঢেকে রেখে বলল —
“এই লিসি, এটা তোমার জন্য।”
লিসি হকচকিয়ে তাকায় —
“আমার জন্য? কিন্তু... কেন?”
অভি ঠোঁট চেপে হাসে, তেমন উষ্ণতা নেই হাসিটায় —
“কেন আবার, কেউ কি কিছু না চাইলেও দিতে পারি না?কলেজ থেকে যেভাবে দিতাম, ঠিক সেভাবেই।”
বলেই বক্সটা লিসির দিকে বাড়িয়ে ধরে।
লিসি একটু পিছু হটে —
“না অভি, প্রয়োজন নেই... আমি কিছু চাইনি।”
অভি একটু কাঁধ ঝাঁকায়, গলার সুর শক্ত হয় —
“চাওয়া না চাওয়ার ওপর সব হয় না, কিছু সম্পর্ক থাকে যেখানে জোর করেও দিতে হয়।”
বলেই বক্সটা লিসির হাতে জোর করে ধরিয়ে দেয়।
লিসির আঙুলে হালকা কাঁপুনি লাগে, চোখ নামিয়ে নেয় নিচে।
লিসি —“ কিন্তু এটা তো!”
অভির —“ এটা তোর আর আমার টাকা তো তোরই জন্য”
পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল কিরিস।
তার চোখের দৃষ্টি তখন এতটাই স্থির, এতটাই ঠান্ডা —
যেন রিসোর্টের পুরো বাতাস জমে বরফ হয়ে গেছে।
সবাই বুঝতে পারছিল, কিরিসের চোখে রাগ আস্তে আস্তে তীক্ষ্ণ আগুনে পরিণত হচ্ছে।
ওর আঙুলের ভেতর রোলেক্স ঘড়ির মেটাল স্ট্র্যাপটা হালকা কট করে বাজলো।
অভি তখনো দাঁড়িয়ে, মুখে নির্লিপ্ত ভাব, কিন্তু চোখে চ্যালেঞ্জের রেখা স্পষ্ট।
কিরিস খুব আস্তে বলল —
“গিফট দেওয়ার সময়টা তুমি ভুল বেছেছিস, অভি।”
অভি সামান্য ঘাড় কাত করে তাকায়, ঠোঁটে হালকা বাঁকা হাসি —
“সময় নয় ভাই, এই কথা বলার মানুষটাই ভুল, বুঝছো।”
লিসি তৎক্ষণাৎ বলে উঠল —
“থামো তোমরা, এখন এটা নিয়ে নয়... সবাই দেখছে।”
কিরিস লিসির হাত থেকে বক্সটা নিয়ে একপাশে টেবিলে রাখল, ঠান্ডা গলায় বলল —
“যা নিজের নয়, সেটা ছুঁয়ে রাখলে নষ্ট হয়ে যায়... নোংরা লাগে।”
পর মুহুর্তে অভি আবার লিসির কাছে গেলো বক্সটা আবারো লিসির হাতে দিল
অভি — “এর মধ্যে একটা শাড়ি আছে... আজকের অনুষ্ঠানে এটা পরবি।”
তার কথা শুনেই আশেপাশের সবাই এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
ইয়াবি, রিহান, সুরভী, জারা, কাবির,আরোবি, নুসরাত— সবাই চোখ কপালে।
অভির মা আড় চোখে তাকালেন লিসির দিকে, মুখে অদ্ভুত হাসি, যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না কিন্তু সন্তুষ্টও নন।
কিরিস তখনও দাঁড়িয়ে আছে এক পাশে —
চোখে একনিষ্ঠ দৃষ্টি, ঠোঁটের কোনায় টান, কিন্তু মুখে কোনো শব্দ নেই।
তার সেই নীরব দৃষ্টি যেন অভির প্রতিটা শব্দকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
লিসি ছোট্ট কণ্ঠে বলে —
“এই না মানে… থাক না।”
এই কথাটা বলার আগেই অভি এগিয়ে এসে লিসির ডান হাত নিজের হাতে মুঠো করে নিল।
সবাই থমকে যায়।
অভি নিচু গলায় বলে —
“আমি কিছু জানি না, আজ তোকে শুধু এই শাড়িতেই দেখতে চাই। আমি দেখি, ঠিক আছে?”
তারপর হাতটা ছেড়ে দিয়ে মুখে হালকা একটা ছোঁয়া দিয়ে, মুচকি হেসে বলে —
“প্লিজ পরিস, লিসি।”
এক মুহূর্তের জন্য সবাই চুপ।
অভি হাত নামিয়ে ঘুরে চলে গেল।
কিরিস স্থির দাঁড়িয়ে ছিল, চোখ একদম অভির পেছনে গেঁথে আছে।
তার দৃষ্টি এতটাই গভীর, যে রিহান আর ইয়াবি পর্যন্ত নিঃশব্দ হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
ইয়াবি আস্তে করে বলে —
“ভাই, এটা ঠিক হলো না…”
কিরিস কিছু না বলে সোজা উপরে উঠে গেল, ধীর পায়ে, কিন্তু প্রতিটা পা যেন শব্দ করে রিসোর্টের মেঝেতে পড়ছে — ভারি, ঠান্ডা, রাগে ভেজা।
পাপড়ি তখন লিসির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কাঁধে হাত রেখে হেসে বলে —
“ছেলেটা এতো করে যখন বলল, তখন পরো লিসি। হয়তো সত্যিই তোমায় মানাবে।”
লিসি ধপ করে বসে পড়ে সোফায়, মুখে কষ্টের হাসি।
মনে মনে বলে —
“আহ আল্লাহ, কোথায় ফাঁসিয়ে দিলে আমায়…”
সূর্যটা পশ্চিমে হেলে পড়েছে।
রিসোর্টের আশেপাশে একটা সোনালি আলোর ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে, বাতাসে হালকা ঠান্ডা আমেজ।
দূরে সাজসজ্জার আলো জ্বলতে শুরু করেছে, সাউন্ড সিস্টেম টেস্ট হচ্ছে।
ভিতরে মেয়েরা একে একে সাজগোজে ব্যস্ত।
অনুকে সাজানো হচ্ছে বিয়ের পোশাকে, ঘরে হাসি আর গল্পের শব্দ ভেসে আসছে।
এদিকে ছেলেরা লাউঞ্জে বসে গল্পে মেতে আছে —
কাবির, রিহান, ইয়াবি তিনজনই সোফায় আধশোয়া।
কাবির —
“Bro, পাশে একটা বার আছে। যাবি নাকি?”
রিহান হেসে বলে —
“হুম, যাওয়া যেতেই পারে। এখানে তো একদম বোরিং হয়ে গেল।”
ইয়াবি ভ্রু কুঁচকে বলে —
“আহ, সারাদিন ওইসবের খোঁজে থাকতে থাকতে ক্লান্ত! বাদ দে তোরা, আমি আছি তোদের সঙ্গে, no tension.”
তিনজন হেসে ফেলে।
হাসির শব্দ রুম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু তবুও কোথাও যেন একটা অস্বস্তি লেগে আছে —
সেই উপরের রুমে, কিরিসের দরজার ওপাশে। উপরে কিরিস অফিসের কিছু দরকারি কাজ করছে ল্যাপটপে।
কিরিস ল্যাপটপে হারিয়ে গেছে—কোড আর ইমেইলের একরাশ তাগাদা। ঠিক সেই সময়েই সেই পরিচিত নুপুরের ধাতব সুর ভেতরে ভেসে এলো। কিরিস হালকা মাথা ঘেঁষল, চেয়ে দেখল—লিসি কালো শাড়ি পরে দরজার পাশে দাড়িয়ে আছড়ে পড়েছেন; আলো-অন্ধকারে ওর কাঁধ, আঁচল, চুল—সবই যেন একসাথে ফেড হয়ে যাচ্ছে।কিরিসের মনে পড়ল, এই শাড়িটি তো অভি দিয়েছে—ভাবতেই অর্দ্ধহাসি আর অস্বস্তির মধ্যে রাগটা জেগে উঠল। সে উঠে দাঁড়ালো, ধীরভাবে দরজার দিকে এগোতে লাগলো।
লিসি শাড়ির আচল ঠিক করতে না পারেই সামনের দিকে কাঁদামাখা মনোযোগে বিভ্রান্ত—হঠাৎই কেউ খপ করে তার কবজি জোরে ধরল। কিছু বুঝবার আগেই এক ঝটকায় তাকে ধরে ঘরের ভিতরে টেনে আনা হলো। লিসির নিশ্বাস থমকে গেল; সামনে যে ব্যক্তিটা—কিরিস—তাকে দেখে মনে হলো দেহ থেকে প্রাণটা ঠাহরে গেল। কিরিসের চোখে যে তীব্রতা, ওর চেহারায় যে নির্ধারিত গাম্ভীর্য—সব মিলিয়ে লিসির ভয়ে ওকে দেখলেই রক্ত জমাট হয়ে গেল।
কিরিস — “বেশ মানিয়েছে, দেখছি।”
লিসি — “ভাইয়া, না মানে...”
কিরিস — “ওয়াশরুম—চলো!”
লিসি — “কেন?!”
কিরিস কোনো উত্তর না দিয়ে লিসির হাত কঠোরভাবে ধরে টেনে নিল। বেসিনের সামনে দাঁড় করিয়ে, কিরিস বলল—তার শব্দে হাওয়া থমকি গেল:
কিরিস — “যে গালে অভি হাত দিয়েছে, সেখানে পুরনো স্পর্শ মুছে ফেলো—ফ্রেশওয়াশ নিয়ে ধুয়ে ফেলো। তোমার হাতটাও ধুয়ে ফেলো। আমি চাই না কারোর ছোঁয়া তোমার গায়ে থেকে যাক।”
লিসি — “অ্যাঁ... এ কেমন কথা...”
কিরিস — (চোখে অপ্রকাশিত হুঁশিয়ারি, কণ্ঠে নরম গোঁজ) “তুমি কি বাংলা ভাষা বুঝো না? আমি বলছি—এই পৃথিবীতে তুমি শুধু আমার ছোঁয়া পেতে এসেছো, অন্য কারোর নয়। এখনই তা মুছে ফেলো, আমি চাই না কোনো অপরিচিত স্পর্শ তোমার গায়ে থেকে গন্ধ ধরে রাখুক। নাহলে—শাস্তি তো থাকবেই আগে দ্রুত ধুয়ে ফেলো লিসি শর্মা। নাহলে আমি এভাবে ছাড়ব না তোমায় শেষ করে দেবো,। ”
কথাগুলো গম্ভীর, প্রায় হুমকিস্বর—কিন্তু কিরিসের চোখে যে ভয়ে-ভরা আবেগ, তা লিসি অনুধাবন করলো। বেসিনের ঠাণ্ডা পানির ধারা লিসির কক্ষকাঠামোকে কেটে দিয়ে গেল—হাতে হাত রাখলো, মনের ভাঙন ধীরে ধীরে মিলতে লাগলো।
এমন প্রকাশ্য হুমকিতে লিসির গলা যেন শুষ্ক হয়ে এলো।
কথা বাড়িয়ে আর লাভ নেই— যত উচ্চারিত হবে, ততই বাড়বে আগুন।
তাই দ্রুত মুখ ধোয়ার কাজে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলল সে।কিরিস নিঃশব্দে টাওয়েলটা এগিয়ে দিলো।
লিসি ধীরে মুখ মুছে নিলো, তার চোখে একরাশ দ্বিধা।
লিসি —
"এবার যাই... আর তো ছোঁয়া নেই।"
বলে ঘটকট শব্দে পাশ কাটিয়ে দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
কিন্তু চৌকাঠের গণ্ডি পেরোনোর আগেই—
পিছন থেকে কিরিসের দৃঢ় হাত তার কব্জি চেপে ধরল।
লিসি অবাক হয়ে পেছনে তাকাতেই কিরিসের ঠোঁটে সেই চেনা, শয়তানি হাসি—
কিরিস —
"কই পালাচ্ছো? দাঁড়াও... এখনো তো সবটুকু বাকি রয়েছে।"
লিসি —
"না মানে... আমাকে ছেড়ে... আহ!"
বাক্য অসমাপ্ত রেখেই কিরিস লিসির কোমর শক্ত করে ধরে টেনে নিল,
পাশে থাকা টেবিলের ওপর বসিয়ে ফেলল তাকে।
তারপর একদম মুখোমুখি এসে, কোমরটা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল—
কিরিস —
"লিসি শর্মা... আমার মন চায় তোমাকে গিলে ফেলি!"
লিসি —
"এই কেমন কথা! আমাকে ছেড়ে দিন, কেউ যদি দেখে ফেলে!"
কিরিস —
"দেখুক না... এখনো তোমার গালে ওর ছোঁয়া আছে—
সেটা মুছতে তো হবে, তাই না?"
লিসি —
"মানে কি! এখনে..."
বাক্য শেষ করতে না দিয়েই কিরিস তার চিবুক আঙুলে তুলে নিল।
লিসির ঠোঁট কেঁপে উঠল, চোখে আতঙ্ক আর অদ্ভুত এক টান।কিরিস মুচকি হেসে তার মুখ বাম দিকে ফিরিয়ে
লিসির ডান গালে নরম অথচ দাবিদার এক চুমু এঁকে দিল।
লিসি নিঃশব্দে স্তব্ধ হয়ে গেল—
কিরিস থামল না, বাম গালেও রেখে গেল নিজের অধিকারী ছাপ।
লিসি —
"এই আপনি কি করছেন! সরুন!"
কিরিস —
"এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো—
আমার ছোঁয়া এখন শুধু তোমার শরীরেই রয়ে গেছে, লিসি শর্মা!"
বলে সে আবারও কোমর টেনে নিল নিজের দিকে, যেন শেষ সীমানাটুকু মুছে ফেলতে চায়।
লিসি —
"আপনার মতো সাইকো আমি দেখিনি!
এবার সরুন! এই শাড়ির জন্য আবার কিনা করবেন!"
কিরিস —
"হুম... মন তো চায় এই শাড়িটা তোমার গা থেকে ছিঁড়ে ফেলি...
কিন্তু না—
এ মুহূর্তটি উপযুক্ত নয়।
Just wait, baby...
I’ll make here what happened next."
লিসি ধাক্কা মেরে নিচে নেমে এল, চোখে রাগের আগুন।
লিসি —
"কি বেয়াদব লোক!"
কিরিস শুধু মৃদু মুচকি হেসে রইল—
তার চোখে সেই একই আগুন,যা বলে দিচ্ছে—
এই গল্পের শেষ এখানেই নয়,
বরং এই মুহূর্তেই সবকিছুর শুরু।
সন্ধ্যা নেমেছে রিসোর্টের প্রতিটি কোণায় ছিল উৎসবের রঙ।ঘরের বাতাসে মিষ্টি ফুলের সুবাস,অনুর এনগেজমেন্টের জন্য পুরো রিসোর্ট সাজানো।
প্রতিটি দেয়াল, ঝোলানো লাইট, এবং টেবিলের ফ্লাওয়ার—সবই যেন অনুর জন্য আলাদা এক রাজকীয় মুহূর্ত তৈরি করেছে।
উপর থেকে ঝুলানো রঙিন পতাকা ও গম্ভীর আলো,
আর মৃদু ঝলমল করে উঠা ক্যান্ডেল—
সব মিলিয়ে যেন একটি স্বপ্নিল জগৎ।
নিচে আসনগুলো সাজানো,
প্রতিটি চেয়ার এবং সোফার পাশে রাখা ছোট ফুলদানি।
অতিথিরা একে একে আসে,
সবাই হালকা হাসি আর মৃদু উত্তেজনায় ভরা।
মেয়েরা, যারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে,
তারা একে একে নামছে, সাজ-গুজো করে, রঙিন শাড়িতে,
চুলে মণিপুরী ফুল আর হাতে ছোট ছোট ব্যাগ।
চোখে সেই ঝিলিক—সন্ধ্যার আলোয় যেন তারা আরও উজ্জ্বল।সবাই একে একে নিচে নামছে।
কিছু কিছু মেয়ে হাসি ছড়িয়ে দিচ্ছে একে অপরের দিকে,
কিছু কিছু ছায়া দিয়ে নিজের ছন্দে পা ফেলে।
প্রতিটি মুভমেন্টে লুকানো এক রোমান্টিক সৌন্দর্য,
যা কেবল কিরিসের চোখে দেখা যেত।
নিচের আসনে বসা অতিথিরা হালকা চুম্বকীয় দৃষ্টি ছড়িয়ে দিচ্ছে,
যেন সবকিছুই একটি নিখুঁত গল্পের অংশ।
নিচে হলরুমে ইতিমধ্যেই ভিড় জমে গেছে।
দেয়ালে ঝুলছে ফেয়ারি লাইট,
ফুলের মালায় ঘিরে আছে “Anu’s Engagement Ceremony” লেখা বোর্ড।মেয়েরা একে একে নামছে সিঁড়ি বেয়ে—
রঙিন শাড়িতে ঝলমল করছে তারা,কানে দুলছে ছোট মুক্তোর দুল,চোখে কাজলরেখা, ঠোঁটে নরম লাল রঙ।
ঠিক তখনই,
সবার নজর ঘুরে গেল একদিকের সিঁড়ির দিকে।
লিসি নামছে—
কালো শাড়িতে মোড়ানো, তার গায়ের দুধে-আলো ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
চুলটা খোলা, হাঁটু ছোঁয়া সেই লম্বা চুলে ছোট্ট ফুল গোঁজা।
চোখে কালো কাজল, ঠোঁটে হালকা রোজগোলাপি আভা।
অভিও তখন পাশে— নিজেও কালো পোশাকে।
ওদের দু’জনকে একসাথে দেখে
মুহূর্তেই নিচে ফিসফিস শুরু হয়ে যায়—
সবাই মনে মনে ভাবে,
"এই দু’জনকে দেখে তো মনে হয় কাপল!"
ইয়াবি তো একদম মুখ হা করে তাকিয়ে,
কাবির হালকা গলায় বলে উঠল—
“এই ছেলে, পোশাকটা কে দিলো রে! দুজনকে দেখে তো মনে হচ্ছে প্ল্যান করেই এসেছে।”
রিহান ঠোঁট কামড়ে হাসল—
“Bro, এইটা কিন্তু কিরিস ভাই দেখলে বিপদ হবে!”
কিন্তু কিরিসের মুখে তখন এক ফোঁটা শব্দও নেই।
সে একপাশে দাঁড়িয়ে,
হাতে ওয়াইনের গ্লাস, চোখে এক অদ্ভুত নীরবতা।
তার চোখে লিসির উপর এক স্থির দৃষ্টি—
না রাগ, না ঈর্ষা—
শুধু অদ্ভুত একটা প্রশান্ত আগুন,যেন এখন নয়, ঠিক সময়মতো আগুন জ্বালাতে জানে সে।
তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি,
চোখের গভীরে জমে থাকা পরিকল্পনা।
সে জানে— এখন চুপ থাকা-ই বুদ্ধিমানের কাজ।
ওদিকে ইয়াবি ফিসফিস করে কাবিরকে বলে—
“এই শান্ত কিরিস ভাইয়ের চুপ থাকা মানেই কিছু গোপনে জগাখিচুরি পাকানো হচ্ছে!”
কাবির হালকা সিগনেচার হাসিতে বলে—
“দেখ, আজ না হোক, আগামীকাল বুঝবি আগুন কোথায় লাগবে।”
ঠিক তখনই, বাইরে গাড়ির হর্ণ—
সবাই একটু থেমে তাকালো দরজার দিকে।
অনুর হবু বর, শাওন গাড়ি থেকে নেমে এল।
পরনে ক্রিম রঙা শেরওয়ানি, মুখে ভদ্র হাসি,
তার সঙ্গে বাবা-মা, আর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
দরজার কাছে ইয়াবি, কাবির ও রিহান এগিয়ে গিয়ে তাদের স্বাগত জানালো।
মেয়েরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দিল—
হালকা ঢাক বাজতে লাগল, যেন আসল আনন্দের শুরু হলো এখনই।
সবাই একে একে ড্রয়িংরুমে এসে বসল।
কিছুক্ষণ পর পরিচয়পর্ব শুরু হলো।
অনু হালকা হাসি মুখে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে সবাইকে—
অনু —
"এই হচ্ছে আমার ভাই অভি... আর এ হচ্ছে লিসি শর্মা, সুরভী, আরোবি, জারা আমার কাজিন আর এই নুসরাত আমার সম্পর্কে এখন ভাবি ।"
শাওন (হাসতে হাসতে):
"ও আচ্ছা! অভি নামটা অনেকবার শুনেছি, আজ সরাসরি দেখা হলো।"
অভি ভদ্রভাবে মাথা নত করল,
অভির কালো পোশাকের সঙ্গে লিসির কালো শাড়ির মেলবন্ধন দেখেকিছু মেয়ে পাশ থেকে চাপা গলায় বলল—
—“ওদের দুজনকে দেখে মনে হচ্ছে প্ল্যান করেই এসেছে।”
— “হ্যাঁ, দেখো না—রঙের কম্বিনেশনটাই এমন, যেন কপালেই লেখা!”
ওদের হাসি লুকিয়ে গেল, কিন্তু চোখের কোণে কৌতূহল থেকেই গেল।
একে একে বাড়ির সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন অনুর বরের বাড়ির লোকের সঙ্গে।
এবার শাওনের বাবা বললেন—
"তাহলে সবার সঙ্গে তো দেখা হলো, এখন কেবল বাকি রইলো রায় চৌধুরী পরিবারের প্রধানের সঙ্গে পরিচয়।"
সবাই এক মুহূর্তে তাকালো দরজার দিকে।
নরম আলোয় ভেসে এল এক রাজকীয় অবয়ব—
কালো স্যুটে মোড়া, চোখে ধূসর গভীরতা,
সামনে এগিয়ে আসছে সেই মানুষ—
জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী।
মুহূর্তের মধ্যেই ফিসফিস শুরু হলো চারপাশে।
কারো ঠোঁট থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে এলো—
“উনি কিরিস রায় চৌধুরী ...”
অনু একটু গর্বিত হাসিতে পরিচয় করিয়ে দিল—
অনু —
"আর এইজন—ইনাকে চেনে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
ইনি হলেন বিখ্যাত বিজনেসম্যান এবং
বিশ্বখ্যাত RC Group of Industries-এর চেয়ারম্যান—
Mr. Jiyan Kiris Ray Chowdhury."
( RC মানে RayCrest Group of Industries —
এক আন্তর্জাতিক বিজনেস এম্পায়ার, যার নামেই ক্ষমতার গন্ধ লুকিয়ে থাকে।)
সবাই একযোগে তালি দিল।
শাওন উঠে দাঁড়াল,
হাসি মুখে কিরিসের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।
শাওন —
"Sir, it’s an honour to finally meet you."
কিরিস হালকা ঠোঁটে হাসি এনে বলল—
"Pleasure’s mine."
শাওন —“স্যার, আপনার নাম অনেক শুনেছি। RC Group-এর নাম এখন সবার মুখে।”
কিরিস হালকা এক চাহনি দিয়ে বলে—
“শুনলে ভালো, বুঝলে আরও ভালো।”
তারপরে শক্ত এক হ্যান্ডশেক—
যেখানে শাওনের মুখে সৌজন্য,
আর কিরিসের চোখে নীরব কর্তৃত্ব।মুহূর্তের মধ্যেই বোঝা যায়—কে আসলে এই ঘরের রাজা।
লিসি তখন পাশে বসে ছিল,
তার চোখের কোণে কিরিসের দিকটা বারবার ধরা দিচ্ছিল।
অভি পাশেই, কিছুটা উত্তেজিত, কিছুটা গর্বিত।
এদিকে মেয়েদের মধ্যে আবার হালকা গুঞ্জন—
—"ওই যে দেখছো, ওটাই কিরিস রায় চৌধুরী—সবচেয়ে কম বয়সে RC Group-এর হেড!"
—"এই লোকটার সামনে কথা জড়ায় আমার! একদম movie villain vibe!"
আর ঠিক তখনই,
এক মেয়ে চা দিতে গিয়ে হঠাৎ ট্রেতে হালকা ধাক্কা খেয়ে
কাপের চা ফোঁটা টেবিলক্লথে পড়ে গেল।
সবাই মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
কিরিস শুধু তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে—
না রাগ, না কথা—
শুধু সেই তীক্ষ্ণ, ভয়ংকর নীরব দৃষ্টি।
মেয়েটা কাঁপা হাতে ক্ষমা চাইল—
"সরি স্যার..."
কিরিস শুধু বলল—
"It’s fine."
তার গলায় এমন শীতল শান্তি,
যা শুনে ইয়াবি নিচু গলায় বলল কাবিরকে—
“এই শান্ত কথাটার পেছনে কতটা আগুন আছে, জানিস?”
কাবির ধীরে মাথা নেড়ে বলল—
“আজ না হোক, কাল বুঝবি।”
আর সেই ভেতরকার নিস্তব্ধ আগুনেই,
এনগেজমেন্টের কোলাহল গলে গলে এক অজানা অপেক্ষার সূচনা করে দিল।
সবার হাসি, মজা আর আনন্দের ভেতর দিয়ে অবশেষে অনুর এনগেজমেন্ট শুরু হলো।
দুই পরিবার একসাথে স্টেজে দাঁড়ালো— আলো ঝলমলে মঞ্চ, চারপাশে ফুলের সাজ, আর মৃদু সুরে বাজছে নরম গানের তান।
অনু আর শাওন একে অপরের দিকে তাকিয়ে আঙুলে আংটি পরিয়ে দিলো।
চারদিক হাততালির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠলো—
আত্মীয়রা হাসছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে।
পাপড়ি পাশে দাঁড়িয়ে হাসছে, তার হাত শক্ত করে ধরে আছে সুপ্রিয়া।
সুপ্রিয়া হেসে বলে উঠলো —
“বাড়ির মেয়ে এখন অর্ধেকটা পর হয়ে গেল রে!”
পাশেই প্রিয়া, মির্জা বেগমও দাঁড়িয়ে; ওরা আজ সন্ধ্যাতেই এসেছে অনুষ্ঠানে।
অন্যদিকে একটু দূরে লিসি, আরোবি, সুরভী, জারা আর নুসরাত একসাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছে—
মঞ্চের আলো তাদের মুখে নরম ঝিলিক ফেলে যাচ্ছে।
লিসি হেসে বলে —
"তাহলে এবার অনু আপুর বিয়ের সুর বাজতে যাচ্ছে!"
সুরভী —
"হুম, আর কয়েকদিনের অপেক্ষা শুধু।"
জারা মুচকি হেসে তাকায় লিসির দিকে —
"লিসি, আজ তোকে কালো শাড়িতে ভয়ংকর সুন্দর লাগছে, একেবারে নজর কাড়ার মতো!"
এই কথা শুনে আরোবির মুখের অভিব্যক্তি একটু বদলে যায়।
তার চোখে যেন হালকা বিরক্তি —
"হুম... লাগছে তো, যেন পূর্ণিমার চাঁদকে কালো মেঘ ঢেকে দিয়েছে।"
নুসরাত মজা করে বলে —
"ওমা, কেন জানি মনে হলো আরোবির পছন্দ হয়নি ব্যাপারটা!"
আরোবি ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে —
"হতেও পারে।"
সুরভী সঙ্গে সঙ্গে হেসে বলে —
"এই এই, বাদ দে এখন— এনগেজমেন্টের দিন, ঝগড়ার নয়!"
অনুষ্ঠান শেষ হতেই হঠাৎই অভি স্টেজে উঠে আসে—
হাতে মাইক নেই, কিন্তু মুখে আত্মবিশ্বাসী হাসি।
চারদিকে কোলাহল একটু থেমে যায়, সবার চোখ এখন তার দিকে।
অভি —
"আচ্ছা, এত হাসাহাসির ভেতর একটা কথা বলিই না— আমি অভি। এই পরিবারের এক সদস্য, আর আজকের এই আনন্দে সবাইকে অভিনন্দন জানাতে এসেছি!"
তার কণ্ঠে হাসির ছোঁয়া, সবাই তালি দেয়।
পাপড়ি, সুপ্রিয়া, প্রিয়া— সবাই খুশিতে মুখ ভরে তাকিয়ে আছে।
মির্জা বেগম হেসে বলেন —
"এই ছেলেটা তো পুরো অনুষ্ঠান জমিয়ে দিল!"
এরপর হঠাৎই সাউন্ড সিস্টেমে গান বেজে ওঠে 
ঝলমলে আলো নড়ে ওঠে, আর ঘোষণায় ভেসে আসে—
“সবাই প্রস্তুত হন, শুরু হচ্ছে ছোট্ট একটা নাচ-গানের আয়োজন!”
মঞ্চের সামনে এখন ছোট্ট এক দুনিয়া—
কেউ তালে তালে পা মেলাচ্ছে, কেউ নিচে নেমে নাচে যোগ দিচ্ছে।
মেয়েরা হাতের ভঙ্গিতে গানের তালে সাড়া দিচ্ছে,
আর ছেলেরা একপাশে দাঁড়িয়ে হইহুল্লোড় করছে, তালি দিচ্ছে, মজা নিচ্ছে।
গানের বিটে মিশে গেছে হাসি, আলো, আর রঙিন সাউন্ডের ঢেউ।
সুরভী, জারা, নুসরাত, আরোবি— সবাই নাচের দলে।
অনুও তালে তালে ঘুরছে, ওর মুখে এখন একদম তৃপ্তি আর আনন্দের হাসি।
আরেকপাশে—
লিসি দাঁড়িয়ে আছে নীরবে,
চোখে মিষ্টি এক প্রশান্তি, ঠোঁটে অচেনা এক হাসি।
ওর থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে কিরিস।
কিরিস চুপচাপ।
চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে এক জায়গায়—
ঠিক লিসির উপর।
তার দৃষ্টিতে যেন অদ্ভুত নীরবতা,
যেন আকাশের ঘন কালো মেঘের ভেতর দিয়ে চাঁদ উঁকি দিচ্ছে।
লিসি আজ সেই চাঁদ— কালো শাড়িতে দীপ্ত, শান্ত অথচ মোহময়।
হঠাৎই অভি এগিয়ে আসে।
হাসিমুখে বলে —
"এই যে লিসি! তুইও একটু নাচবি আয় না, সবাই তো মজা নিচ্ছে!"
লিসি —
"না, না... আমি এসব পারব না..."
কিন্তু অভি কোনো কথা শোনে না—
তার হাত ধরে টেনে নেয় মাঝখানে।
লিসি একদম প্রস্তুত ছিল না,
অস্বস্তিতে পড়ে যায়, মুখে হালকা ভয় মিশে থাকে।
ওর নাচার কোনো ইচ্ছাই ছিল না— তবুও সবাই তাকিয়ে, চারদিকে আলো, হাসি।
আর ঠিক তখনই—
আরোবির চোখে আগুন জ্বলে ওঠে।
এক ঝটকায় ও এগিয়ে গিয়ে লিসির হাত ধরে টেনে বের করে আনে ভিড়ের মাঝখান থেকে।
গান চলতে থাকে,
কিন্তু আশেপাশের কিছু মুখ হঠাৎ থমকে যায়।
অভি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে—
লিসি হাত ছুঁড়ে বলে —
"থাম অভি, প্লিজ... এভাবে টেনে নিস না। আমি ঠিক আছি।"
অভি আর কিছু বলে না,
তার চোখে এখন অনুশোচনার ছায়া।
লিসি একপাশে এসে দাঁড়ায়—
হৃদস্পন্দন যেন এখনও বেড়ে আছে,
চোখে অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি— রাগ, ভয় আর একটা অব্যক্ত দৃষ্টি,
যেটা এবার ধীরে ধীরে গিয়ে থামে কিরিসের চোখে।
অভি চলে যাওয়ার পর পরিবেশটা কিছুটা শান্ত হয়ে এসেছে।
ঠিক সেই সময়—
আনোয়ার এগিয়ে আসে একটু তাড়াহুড়ো করে।
আনোয়ার —
"কি হয়েছে মা এখানে এভাবে?"
লিসি মুখ তুলে তাকায়, মুখে মিষ্টি এক হাসি এনে বলে —
"কিছু না মামা, তুমি ভিতরে যাও, সবাই ওখানেই আছে।"
আরোবি সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসে, মুখে চিন্তার ছাপ —
"লিসি, তুই ঠিক আছিস?"

0 Comments