রিহান —“ বলেই হলো! আমি কি উড়ে এসেছি ডিমান্ড আছে আমার। “
সবাই হেসে গড়ায়।
সুরভী—
“তুই যদি বর হোস, তাহলে কনে তোকে চা বানাতে বলেই divorce দিয়ে দেবে!”
তূর্য —" এতটাও খারাপ না আমি,,, "
এই সময়ে আরোবি হঠাৎ তূর্যের দিকে তাকিয়ে কাশ দিয়ে বলে —
“এই তোরা কেউ কনেকে ডাকিস না? এতক্ষণ ঘুমাচ্ছে… এত রূপ তো কারোর থাকা উচিত না। ঘুমিয়েও ট্যানফ্রি থাকে!”
ফের একদফা হো হো করে হেসে ওঠে সবাই।
কাবির হঠাৎ—
“এই রিহার্সাল শুরু করবি না? সন্ধ্যায় মঞ্চে উঠবি কোন মুখে?”
ইশান— “নাচতে পারিস না তাও যাবি?”
তূর্য ঘুরে — “আমি স্টাইল নিয়ে যাব। নাচ না পারলেও লুক দেখে হাততালি আসবে!”
সবাই আবার হেসে গড়ায়।
এই ফাঁকে লিসি চুপিচুপি তূর্যের দিকে তাকিয়ে—
“আচ্ছা তূর্য ভাইয়া, তুমি তো ভাইয়া মানে বড় ভাইয়ার বন্ধু। কিন্তু তোমাদের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাই না। তুমি সবার সঙ্গে কেমন মিশে যাও, সবার কথা শোনো… আর…”
তূর্য একটু হেসে—
“আর কি?”
লিসি মুখ নিচু করে—
“আর উনি কেমন…?”
এই শুনে সবার মাঝে আবার হাসির রোল পড়ে।
তূর্য হেসে বলে —
"লিসি, একটা কথা শোনো।
বন্ধুত্ব কখনো নিজের মতো লোকদের সাথে করতে নেই।
আর কখনো কাউকে দেখে—স্বভাব, অভ্যাস, রূপ দেখে বন্ধুত্ব করলে সেটা বন্ধুত্ব থাকে না, চুক্তি হয়ে যায়।
বন্ধুত্ব হলো খোদার দেওয়া উপহার।
আমি আর কিরিস একেবারেই আলাদা—এটা ঠিক।
কিন্তু যখন স্কুলে প্রথম ওকে দেখেছিলাম, কেমন যেন ইন্টারেস্টিং লেগেছিল।
আমি আর আরিয়ান তখন খুব ক্লোজ ছিলাম। আমরা দুজন মিলে এক সপ্তাহ ওর পেছনে লেগেছিলাম, শুধু আমাদের সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য।
আর তারপরে...
উনি রাজি হলেন।
সেখান থেকেই শুরু আমাদের তিনজনের বন্ধুত্ব—আজও টিকে আছে।"
লিসি একটু দ্বিধা ভরা কণ্ঠে —
"এত বড় করে না বলে, ছোট করে বললেই তো হতো..."
লিজা —
"আচ্ছা, এসব বাদ দে।
সন্ধ্যায় রিসেপশনের নাচের জন্য কারোর কোনো প্রস্তুতি আছে?
না থাকলে বল, বিকাল থেকে শুরু করতে হবে।"
তিশা — "কথাটা ঠিক বলেছিস। কাবির, তুই কি বলিস?"
কাবির — "হুম। ইয়াবি, দুপুরে খাওয়ার পর ছাদে চলে যাবো, রেডি হয়ে!"
সুরভী — "তা নয় তো কি!
যে গানগুলো নাচার জন্য রেখেছে, ওগুলো তো এখনই প্র্যাকটিস করা উচিত!"
সবাই নাচের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখনই উপর থেকে নামে জারা—
ওর প্রিয় কমফোর্ট লুক: ওভারসাইজ শার্ট আর জিন্স। একটা কফি মগ হাতে।
এদিকে রিহান পাশে বসে থাকা সুরভীকে হালকা করে চিমটি কাটে। সুরভী চমকে উঠে —
"কি চাস?"
রিহান — "সকাল তো অনেক হলো, এবার নুসরাতকে ডেকে নিয়ে আয়।"
ইশান — "ওহো! ভাই আমার ভাবিকে মিস করছে!"
সুপ্রিয়া — "সত্যি তো!
সুরভী, যা! নুসরাতকে নিয়ে আয়। ওই লাল শাড়িটা আছে না, সেটাই পড়া দে।
আর কফিটাও নিয়ে যা।
আর কিরিসকেও ডেকে দে… এখন না ডাকলে পরে বলবে, মা তুমি ডাকোনি কেন!"
প্রিয়াও বলে —
"হ্যাঁ, ঠিক কথা। একটু পরেই পাড়ার বয়স্করা আসবে ওকে দেখতে!"
আরোবি একটু বিরক্ত মুখে —
"বুঝি না, বিয়েটা কি আমার ভাই করছে?
না চাচিরা বারবার ওকেই দেখতে চায়?
কাল রাতেও তো দেখেছে!"
প্রিয়া মুচকি হেসে —
"রাতে যারা দেখেছে, তারা দেখতে চেয়েছিল বলেই তো জেগে ছিল।
এখন যারা আসবে তারা তো বয়স্ক মানুষ—জেগে ছিল না।
তাদের জন্যই তো আবার দেখতে হবে!"
জারা সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই বলে —
"তাহলে আমি নিচে নামছি না। সবাই মিলে একসাথে যাই!"
সুপ্রিয়া কফির মগটা লিসির হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়।
লিসি একটু অবাক—
সে কেন? আরও তো লোক আছে!
মুখ ফুলিয়ে কিছু বলতে যাবে, তখন তিশা বলে —
"আহা! কিছু বলিস না।কিরিসের ঘরে কফি নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ করেছিল প্রথম দিনেই!
তুই শুরু করেছিলি, এখন দায়িত্বও তোর!"
লিসি —
"হ্যাঁ, সব দোষ তখন আমারই।
যত জ্বালা! চলো তো, ভালো লাগে না আর!"
সবাই হেসে ফেলে।
সুরভী, জারা আর লিসি একসাথে উপরে ওঠে।
আর নিচে বসে থাকা তিশা, লিজা আর আরোবি গল্পে মেতে ওঠে।
ছেলেরা সরে গিয়ে একটু দূরে নিজেদের মতো আলোচনা করে।
ইয়াবি —
"তূর্য, আমাদের সেই on-short girl টা কেমন আছে?"
তূর্য —
"ভালোই আছে।
মনে হয় ফিনল্যান্ডে ওর মিশন শেষ করে আসবে কিছুদিন পরেই।
উপরে তারা তিনজন পৌঁছাতেই,
জারা — "লিসি, এবার তুই গিয়ে দিয়ে আয়…"
সুরভী আর জারা ঘরে ঢুকল, আর লিসি হাতে কফির কাপ নিয়ে সামনের দিকে এগোতে লাগল। মনে মনে কিরিসকে নিয়ে গালাগালির হালকা ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার ভেতরে।
সুরভী ঘরে গিয়ে দেখে, নুসরাত তখনই ফ্রেশ হয়ে বসে আছে।
সুরভী — "আমি তো ভেবেছিলাম এখনো ঘুমিয়ে আছিস!"
নুসরাত — "না না, আর ঘুমালে চলে! তাছাড়া আমি তো নিচেই যাচ্ছিলাম।"
জারা ডিভানে বসে হেসে বলে—
জারা — "দেখেছিস, নিজেদের মধ্যে বিয়ে করেছিস বলে তোর বউ-বউ অনুভব একটু কম হচ্ছে, তাই না? নিজেরই তো বাড়ি!"
নুসরাত — "তাতো একটু… কিন্তু ভালোই হয়েছে।"
সুরভী ঠোঁটে হালকা হাসি এনে বলে—
সুরভী — "হুম… এবার নিচে যাওয়ার জন্য তোকে এই লাল শাড়িটা পরতে হবে।"
নুসরাত হাত বাড়িয়ে শাড়িটা নিল, আর জারা বলল — "যা, গিয়ে পরে আয়… আমরা বসছি।"
নুসরাত শাড়িটা নিয়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল।
করিডোরে পায়ের শব্দ যেন মৃদু প্রতিধ্বনির মতো ভেসে আসছে। হাতের কফির কাপটা এখনো সামান্য গরম—ভাপ উঠে আসছে, কিন্তু তার বুকের ভেতরের উত্তাপ যেন কফির থেকেও বেশি।
লিসি কফির কাপ হাতে সামনের দিকে এগোতে থাকে, ঠোঁট কামড়ে মনে মনে কিরিসকে হাজারো গালি দিচ্ছে।
সামনের দরজাটা আধখোলা। ভারী কাঠের গন্ধ, সঙ্গে হালকা পারফিউমের এক গভীর, পুরুষালি গন্ধ ভেসে আসছে। লিসির বুকের ভেতর হালকা কাঁপুনি খেল।
—আবার এই লোকের ঘরে যাচ্ছি! আজকে কফি দিলেই শান্তি হবে তো?
ঘরটা নিঃস্তব্ধ। জানালার পাশ দিয়ে সোনালি রোদ হালকা পর্দা গলে ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে পড়েছে।
লিসি পা টিপে টিপে দরজা খুলে ঢুকে আসে। তার মুখে একধরনের সংকোচ, একরাশ অপরাধবোধ।
টেবিলের কফিটা একপাশে রেখে ফিসফিস করে ডাকে—
— “ভাইয়া… কিরিস ভাইয়া…”
কোনো সাড়া নেই।
সে আবারও ধীরে ধীরে কাছে এসে ডাকে—
— “ভাইয়া… শুনছেন?”
এইবারও কোনো নড়াচড়া নেই।
সে একটু সাহস নিয়ে গায়ে হাত দিয়ে হালকা করে স্পর্শ করতেই…
আচমকা কিরিস শক্ত হাতে তার হাত চেপে ধরে তাকে এক ঝটকায় খাটে ফেলে দেয়!
— “আআহ্… কিরিস ভাইয়া…!”
লিসির চোখ ছানাবড়া। ভয় আর লজ্জায় গলা শুকিয়ে আসে।
সে ছটফট করে ওঠে, নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে—
— “ছাড়ুন… ছাড়ুন আমি শুধু ডাকতে এসেছি… প্লিজ…!”
কিন্তু কিরিস তখনও আধো ঘুম ঘোরে। সে আষ্টেপৃষ্ঠে ওকে জড়িয়ে ধরে আছে। যেন কোনো মরণভয় তাকে আটকে রেখেছে।
লিসি এবার ভয়ে আর রাগে জড়িয়ে থাকা হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে গিয়ে তার হাতে থাকা মোটা নখে কিরিসের গলার ওপর খামচে দেয়!
— “আআহ্…”
এক ফোঁটা, দু'ফোঁটা… তারপর পুরো গলার পাশ বেয়ে রক্ত পড়তে থাকে।
কিরিস চমকে উঠে বসে পড়ে।
লিসি থ হয়ে যায়। হঠাৎ এই কাজটা সে করল কীভাবে!
— “আমি তো… আমি ব্যথা দিতে চাইনি…”
— “আপনি… আপনি এমন করে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন কেন…? এটা কি ঠিক ছিল?”
লিসির গলা কাঁপছে।
কিরিস চোখে হাত বুলিয়ে ধীরে ধীরে বুঝে ওঠে পুরোটা… তার ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি খেলে যায়…
এই মাফিয়া টাইপ মানুষটা আজ এতটা অচেতন কীভাবে হলো!
সে গলার রক্তে হাত রেখে দেখে—
“আঁচড়…! আমায় কে এমনভাবে…?”
এক মুহূর্তে তার ভাবনায় আসে… ‘আমার মতো সজাগ লোকটা আজ এতটা অচেতন কীভাবে হয়ে গেল?’
লিসি কিছু না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।
কিরিস নিজের গলা থেকে হাত নামিয়ে বাঁকা হেঁসে
হঠাৎ লিসির হাতের কব্জা শক্ত করে ধরে নিজের টেনে নেয় এমন সময় আবার দরজাটা জোরে বাতাসের কারণে ধপ করে বন্ধ হয়ে যায়।
লিসি আঁতকে ওঠে—
"ভাইয়া...!"
কিরিস একদম কাছে, এত কাছে যে তার তীব্র নিঃশ্বাস লিসির কানে গায়ে লাগছে। এক হাতে কোমর চেপে ধরে রেখেছে, আরেক হাতে লিসির কাঁধ—চোখে যেনো ঝড়।
"তুমি ভেবেছো, আমাকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়া এত সহজ?" কণ্ঠস্বর নিচু, ভারী, অথচ রাগ আর অধিকার মেশানো।
লিসি হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে, "ছাড়ুন... সবাই আছে..."
কিরিসের আঙুলগুলো আরও শক্ত হয়ে ওঠে, কোমরের দিকে আলগোছে খামচে ধরে। লিসির নিশ্বাস গলা বেয়ে আটকে যায়।
সে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকায়, ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু কিরিসের চোখের গভীর দৃষ্টি তাকে এক মুহূর্তে গলিয়ে দেয়।
"ভাইয়া..." — শব্দটা ফিসফিস করে বের হয়, তাতেই কিরিসের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে।
লিসি সুযোগ বুঝে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যায়—দরজা খুলে দৌড়ে চলে যায় করিডোরের দিকে।
পেছনে বসে থাকা কিরিস একচুলও নড়েনি, কিন্তু ঠোঁটের কোণে হালকা এক বাঁকা হাসি, যেনো ওর হাত থেকে কেউই পালাতে পারে না—আজ নয়, কাল নয়, কোনোদিনই না।
লিসি করিডোরে মিলিয়ে যেতেই কিরিস ধীরে ধীরে উঠে দরজার পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়। চোখ এখনও সেই দিকে, যেদিক দিয়ে ও পালিয়েছে।
হাত দুটো আলগোছে মুঠো করে—ওর কোমরের নরম স্পর্শ এখনও আঙুলে লেগে আছে, আর সেই হঠাৎ শ্বাসের উষ্ণতা যেন বুকের ভেতরে জমে গেছে।
ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি টেনে নিয়ে নিজের মনে ফিসফিস করে,
"পালাবে? পালাতে থাকো... আমি কিন্তু তোমাকে ধরা না পড়া পর্যন্ত ছাড়বো না।"
তারপর কিরিস নিজের কপাল ঠেকিয়ে রাখে দরজায়, গভীর শ্বাস নেয়। চোখে এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি—রাগ, অধিকার, আর এক ধরনের মিষ্টি বিরক্তি।
মনে মনে ভাবে, ভাইয়া... এখন ডেকে বাঁচলি, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি সেই ডাকার মানে বদলে যাবে।
কিরিস ধীরে ধীরে উঠে গিয়ে জামা বদলায়।
আইনফোর্সের মতো নির্ভুলভাবে গলার জায়গাটা ফার্স্ট এইড করে, রক্ত মুছে, একটা মেডিকেটেড টেপ লাগায়।
ঘরে কেউ কিছু না বললেও— চোখে মুখে সবাই বুঝে গেছে কিছু একটা ঘটেছে।
এদিকে লিসি নিজেকে সামলে, ভেতরে একরাশ ভয় আর অপরাধবোধ চেপে নিচে নেমে আসে।
সবার সামনে কিছু না জানিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখে।
ফ্রেশ হয়ে কিরিস ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে। চুলে হালকা ভেজাভাব, সাদা শার্টের কলার খুলে রাখা—যেন এক অদৃশ্য রাজকীয়তা নিয়ে হাঁটছে।
লিসি তখন ডাইনিং টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু সাজাচ্ছিল। কিরিসকে দেখতে পেয়ে এক মুহূর্ত থেমে যায়, কিন্তু চোখ তুলে কিছু বলে না—মুখে কেমন যেন চুপচাপ, গম্ভীর ভাব।
কিরিস ওর এই নীরবতা লক্ষ করে হালকা ভুরু তোলে। চোখ সরু করে লিসির দিকে তাকিয়ে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকে, যেন ওর মনের কথা পড়ার চেষ্টা করছে।
তারপর ধীরে ধীরে হেঁটে যায় পাশ দিয়ে, কিন্তু একেবারে কাছে আসার সময় কণ্ঠস্বর নিচু করে বলে যায়—
"চুপ হয়ে গেলে মানে এই না যে আমি কিছু বুঝবো না, লিসি।"
লিসি মাথা নিচু করে থাকে, কিছু বলে না। কিরিস হাঁটা থামায় না, কিন্তু ঠোঁটের কোণে এক চেনা, রহস্যময় হাসি রেখে চলে যায় সোফার দিকে।
এই সময় নুসরাত নীচে নামে — লাল শাড়ি পড়া, চোখে কাজল, ঠোঁটে একচিলতে আত্মবিশ্বাস।
নুসরাত নিচে নেমে একপাশে গিয়ে বসেছে। পাশে বসে আছে জারা।
হঠাৎ রিহান উঠে দাঁড়িয়ে নুসরাতের দিকে এগিয়ে এসে জারাকে বলে—
— "এই জারা, একটু সর তো… নুসরাত, এদিকে আসো।"
সবাই একসাথে তাকিয়ে রিহানের দিকে। রিহানের এমন হঠাৎ ডাকে নুসরাতের গাল লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে। সে মাথা নিচু করে, হালকা কাঁপা কণ্ঠে বলে—
— "আস্তে বলো… সবাই আছে… আর কোথায় যাবো?"
রিহান আবার বলে—
— "আসো তো…"
নুসরাত ধীরে ধীরে উঠে গিয়ে রিহানের সঙ্গে একপাশে চলে যায়। দু’জন নিজেদের মধ্যে কিছু কথা বলতে থাকে।
ওদিকে লিসি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, চোখে কোনো অভিব্যক্তি নেই।
হঠাৎ কিরিস চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়—
— "মা, দ্রুত খেতে দাও… আমার জরুরি মিটিং আছে, যেতে হবে।"
সুপ্রিয়া অবাক হয়ে তাকায়—
— "এখন? এই অনুষ্ঠানের মধ্যে কোথায় যাবি?"
কিরিস গম্ভীর গলায়—
— "দরকার আছে… আর এদের সব কাজ এখন আমাকেই করতে হচ্ছে। আমি একেবারে সন্ধ্যার সময় ফিরবো।"
কাবির কৌতূহলী মুখে—
— "এই ভাই, তুই তো বললি…"
কিরিস কথার মাঝে কেটে দেয়—
— "কাল থেকে কাজে লাগবে।"
এই কথা শুনে পাশে বসা ছেলেরা একসাথে বলে ওঠে—
— "কি?… আবার না!"
কিরিস ডেকে ওঠে—
— "ইয়াবি, এদিকে আয়।"
ইয়াবি এগিয়ে এসে—
— "কি হয়েছে?"
কিরিস নিচু স্বরে কিছু বলে। ইয়াবি অবাক হয়ে তাকায়—
— "আমি কেন? আর এটা তো…"
কিরিস ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে—
— "আমার কাছে তুই বেশি নিরাপদ। মনে রাখিস।"
এসময় রান্নাঘর থেকে প্রিয়ার গলা—
— "অনেক হয়েছে, এবার সকালের নাস্তা করে নে। নুসরাত, আয়!"
সবাই খেতে বসে। লিসি কিন্তু বসে না, রান্নাঘরের পাশে দাঁড়িয়ে বলে— "পরে খাবো।"
লিসির চোখ হঠাৎ কিরিসের ঘাড়ে যায়—সেখানে ব্যান্ডেজ বাঁধা। এই দৃশ্য দেখে তার বুক হালকা কেঁপে ওঠে, মন খারাপ হয়ে যায়।
সুপ্রিয়া প্লেটে খাবার তুলে দিলে কিরিস তাড়াহুড়ো করে শেষ করে চেয়ার থেকে উঠে যায়।
সবাই খাওয়া শেষ করে গল্পে মেতে আছে, এমন সময় বাইরে থেকে কয়েকজন মহিলা আসে—নুসরাতকে দেখতে। নুসরাত তাদের সালাম দেয়।
ঠিক তখনই সিঁড়ির মাথায় দেখা যায়—কালো শার্টের ওপর কালো কোর্ট, নিখুঁত ফিট, মুখে শীতল গাম্ভীর্য—কিরিস ধীর পায়ে নামছে।
তার চোখ কারও দিকে একবারও যায় না, সোজা দরজার দিকে এগিয়ে যায়।এক মুহূর্তের জন্য চারপাশের কথা থেমে যায়—শুধু কিরিসের জুতার শব্দ ঘরে প্রতিধ্বনিত হয়।দরজার বাইরে মার্ক অপেক্ষা করছে। কাজের বিষয়ে নিচু স্বরে কিছু বলে কিরিসকে। কিরিস কিছু না বলে কেবল মাথা হেলে সাড়া দেয়।তারপর Rolls Royce-এর চকচকে কালো দেহরেখা সকালে সূর্যের আলোয় ঝলসে ওঠে। দরজা বন্ধ হয়, আর ধীর কিন্তু প্রভাবশালী গতিতে গাড়ি এগিয়ে যায়।
কালো Rolls Royce গেট পেরিয়ে বেরিয়ে আসতেই, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন প্রহরী একসাথে মাথা নিচু করল।
ড্রাইভারের আসনে মার্ক, আর পেছনের সিটে কিরিস—কালো কোর্টের ভিতরে হালকা খোলা শার্ট, হাতে সোনালি ঘড়ির ফিকে আলো ঝলসে উঠছে।
গাড়ির ভিতর নীরবতা—শুধু হালকা ইঞ্জিনের গর্জন।
মার্ক ধীরে ধীরে কথা শুরু করল—
— "আজ দুপুরে ফোরেনারের সাথে ডিল ফাইনাল, লোকেশন—রিভারসাইড ওয়্যারহাউজ। কিন্তু..."
সে একটু থামল, তারপর কণ্ঠ নিচু করে বলল—
— "শুনেছি শহরে ফিরেছে আসিফ মির্জা, তুমি যাকে দুই বছর আগে নামিয়ে দিয়েছিলে… মনে হচ্ছে সে আবার কিছু পরিকল্পনা করছে।"
কিরিস জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল—রাস্তার দুই পাশে দোকানপাট, কিন্তু গাড়ি যাওয়ার সময় কেউ রাস্তা ক্রস করছে না। পুলিশি সিগন্যাল সবুজ থাকলেও অন্য গাড়িগুলো যেন অদৃশ্য নির্দেশে থেমে আছে।
কিরিস ঠান্ডা স্বরে বলল—
— "আসিফ মির্জা বেঁচে থাকলে, সে এই শহরে শ্বাসও নিতে পারবে না…।"
মার্ক—
— "তাহলে অর্ডার দিচ্ছো?"
কিরিস হালকা হাসল—হাসি নয়, যেন মৃত্যুর সই।
— "না, এখনো নয়… তাকে ভাবতে দাও আমি ভুলে গেছি।"
গাড়ি শহরের ভিড় ছাড়িয়ে নদীর ধারে ঢুকল।
দূরে দেখা গেল পুরনো ওয়্যারহাউজ—চারপাশে কালো কাচের জানালাওয়ালা SUV, হাতে বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ড।
গেট খুলে গেলে, গাড়ি ঢুকে গেল ভেতরে—সেখানে দাঁড়িয়ে আছে দু’জন বিদেশি, স্যুট-পরা, হাতে ডকুমেন্টের ফাইল।
মার্ক দরজা খুলে দিলে কিরিস ধীর পায়ে নামল—কালো জুতার শব্দ কংক্রিটে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
তাদের দিকে এগোতে এগোতে কিরিস মনে মনে ভাবল—
"আজকের ডিলটা শেষ হলে… পরের শিকার আসিফ মির্জা।"
ওয়্যারহাউজের ভেতর মৃদু আলো, চারপাশে লোহার তাক আর ক্রেটের স্তূপ।
দূরে দাঁড়িয়ে দু’জন বিদেশি—একজন টাক মাথার, অন্যজনের চোখে কালো চশমা। তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা দোভাষী ঘামছে, যেন জানে এক ভুল শব্দ মানেই মৃত্যুদণ্ড।
কিরিস ধীর পায়ে হাঁটছে—প্রতি পদক্ষেপের সঙ্গে কালো কোর্টের কাপড় হালকা দুলছে, আর সেই শব্দ যেন ঘরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
তার পেছনে মার্ক, হাতে চামড়ার ফাইল।
বিদেশি ব্যক্তি (টাক মাথা) এগিয়ে এসে ভাঙা ইংরেজিতে বলল—
— "Mr. Kiris, we came for business, not for threats."
কিরিস থামল, মুখে এক চিলতে হাসি টেনে—
— "In my world… business and threat are the same thing."
মার্ক ফাইল খুলে টেবিলে রাখল—ভিতরে কাগজ, শিপমেন্ট ডকুমেন্ট, আর এক কোণে কালো রঙের পিস্তলের ম্যাগাজিন যেন হঠাৎ ইঙ্গিত দিয়ে রাখল—“চুক্তি মানলে ভালো, না মানলে কী হবে”।
বিদেশিরা একে অপরের দিকে তাকাল। চশমা-পরা ব্যক্তি ধীরে ধীরে বলল—
— "Fifty percent advance… rest after delivery."
কিরিসের ঠোঁট বাঁকা হয়ে গেল—
— "You don’t make the rules here… I do. Full payment now, or you walk out without your cargo."
হঠাৎ এক প্রহরী দৌড়ে এসে মার্কের কানে কিছু ফিসফিস করল। মার্ক কিরিসের দিকে তাকিয়ে বলল—
— "Boss… আসিফ মির্জার লোকজন ওয়্যারহাউজের বাইরে দেখা গেছে।"
কিরিসের চোখে মুহূর্তের জন্য ঠান্ডা আগুন জ্বলে উঠল।
সে বিদেশিদের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল—
— "Five minutes. Transfer the money. My men will handle the rest."
বিদেশিরা আর কোনো কথা না বলে ফোন বের করে ট্রান্সফার শুরু করল।
এদিকে বাইরে গেটের সামনে কয়েকটা মোটরবাইক থামছে, সাথে কালো স্কার্ফ বাঁধা মুখ।
কিরিস ধীরে ধীরে ঘড়ির দিকে তাকাল, তারপর মার্ককে বলল—
— "Let them come closer… then shut the gates."
ঘরের ভেতর যেন সময় ধীর হয়ে গেল—একদিকে মিলিয়ন-ডলারের ডিল, অন্যদিকে শত্রুর আগমন।
কিরিসের চোখে এক অদ্ভুত শান্তি—যেন সে যুদ্ধ উপভোগ করে।
গেটের বাইরে মোটরবাইকের ইঞ্জিনের গর্জন থেমে গেছে। কালো স্কার্ফ বাঁধা মুখগুলো একে একে নামছে, হাতে লম্বা ছুরি আর পিস্তল।
তাদের মধ্যে একজন মোবাইল কানে নিয়ে কিছু বলতেই গেটের ওপরের পাহারাদার হাত উঁচু করে ইশারা দিল।
ভিতরের প্রহরীরা ধীরে ধীরে গেটের দিক থেকে সরে এলো—যেন কিছুটা জায়গা দিতে যাচ্ছে…
হঠাৎ—
ঠাস!
মার্কের ইশারায় ভারী লোহার গেট প্রচণ্ড শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। বাইরের লোকজন বুঝে ওঠার আগেই দুইপাশ থেকে কিরিসের মানুষদের গুলি চালু হয়ে গেল।
ধোঁয়া, গুলির শব্দ, চিৎকার—চারপাশে বিশৃঙ্খলা।
কিরিস ধীর পায়ে এগিয়ে এল, হাতে নিজের সিগনেচার সাইলেন্সার-পিস্তল।
সে গুলি করছে না, শুধু হাঁটছে—যেন শিকারি শিকার বেছে নিচ্ছে।
মিনিট পাঁচের মধ্যে বাইরের সব চিৎকার স্তব্ধ হয়ে গেল।
শুধু একজন—মুখে রক্ত, হাত বাঁধা অবস্থায়—দুই প্রহরী টেনে নিয়ে এলো কিরিসের সামনে।
কিরিস ধীরে ধীরে হাঁটু গেড়ে বসল তার সামনে।
তার চোখে ভয়, কিন্তু কিরিসের চোখে ঠান্ডা শূন্যতা।
— "কে পাঠিয়েছে তোমাকে?"
লোকটি চুপ।
কিরিস তার চোয়াল ধরে মাথা পেছনে ঠেলে দিল—
— "আমি শেষবার জিজ্ঞেস করছি…"
চুপ।
হঠাৎ কিরিস পকেট থেকে ছোট্ট ব্লেড বের করল।
মার্ক অবাক নয়—সে জানে এর মানে কী।
কিরিস ব্লেড দিয়ে লোকটার কান বরাবর হালকা কেটে দিল, যেন অনুভব করাতে চায় “এখনও কেবল শুরু”।
— "তুমি জানো… আমার কাছে মরা সবচেয়ে সহজ শাস্তি। বেঁচে থাকার শাস্তি অনেক কঠিন।"
সে প্রহরীদের বলল—
— "পানি দাও।"
প্রহরীরা এক বালতি বরফঠান্ডা পানি ঢেলে দিল লোকটার মাথায়।
তারপর কিরিস ফিসফিস করে বলল—
— "এখন বলবে… নাহলে তোর প্রতিটা হাড় ভাঙব… কিন্তু মরণ আসতে দেব না।"
লোকটা কাঁপতে কাঁপতে বলে উঠল—
— "আসিফ মির্জা… সে বলেছে আজ তোমাকে মেরে ফেলতে…"
কিরিস দাঁড়িয়ে পড়ল, ঠান্ডা স্বরে—
— "ভালো… তাকে বলবি—তুই তার উপহার হয়ে ফিরছিস।"
দুই প্রহরী লোকটাকে টেনে নিয়ে গেল। কেউ জানে না তার কী হবে, কিন্তু সবাই জানে—এভাবে বেঁচে ফেরা মানেই প্রতিদিন মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করা।
কিরিস মার্কের দিকে তাকাল—
— "ডিল শেষ কর…,,,, এবার অফিসের দিকে চলো,, "
নিজেদের অফিসে ফিরে এখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সাইন করতে হবে কিরিসকে। পাশাপাশি টুকিটাকি কিছু কাজ বাকি আছে, যেগুলো বাবা আগে থেকেই বলে দিয়েছেন মিটিয়ে আসতে। দুপুরে অফিসের কর্মীরা খাওয়াদাওয়া সেরে বিকেলের হালকা আলস্য কাটিয়ে কাজে ব্যস্ত। আজ বিকেলেই সিইও কিরিস আসবেন—এ খবরেই সবার মধ্যে একধরনের অদ্ভুত উত্তেজনা।
সবার জানা, কিরিস অলসতা একদম পছন্দ করে না। ঠিক ৪:৪৫—এই সময়েই তাঁর গাড়ি অফিস প্রাঙ্গণে ঢোকে। সচরাচর বাইরে থেকে কিরিস অফিসে আসেন না, তাই আজকের আগমন যেন আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
নিজের চেয়ারে বসেই কিরিস ফাইল খুলে কাজে ডুবে গেলেন। এক বয়স্ক কর্মচারী, যিনি বহুদিন ধরে অফিসে আছেন, নীরবে এক কাপ কফি এনে দিলেন। কিরিস কফি নিয়ে খুঁতখুঁতে—মায়ের হাতের কফি ছাড়া আর একমাত্র অফিসের ব্র্যান্ডিং মেশিনের কফি খান, তাও শর্ত হলো দুধ, চিনি আর কফির পরিমাণ নিখুঁত হতে হবে। আজও ঠিক তেমন করেই বানানো হয়েছে।
ফাইলের পাতায় কলমের ছোঁয়া চলতে থাকে—
তার আন্ডারওয়ার্ল্ডের রক্তাক্ত নৃশংসতা আর বাস্তব জীবনের এই সুসংগঠিত, ঠাণ্ডা মাথার ব্যবসায়ী দিক—দুটি যেন দুই বিপরীত মেরু, অথচ একই মানুষ।
রায়চৌধুরী বাড়ির ছাদে
অন্যদিকে, রায়চৌধুরী বাড়িতে ছাদে বসে এখন উৎসবের রিহার্সাল জমে উঠেছে। সবার গায়ে ঘাম, নাচের প্র্যাকটিসে ক্লান্তি, তবু মুখে উচ্ছ্বাস—কারণ একটু পরেই সবাই সাজগোজে মেতে উঠবে।
ঠিক তখনই কোথা থেকে হিয়া চলে এল—
হিয়া—"আহ… সারপ্রাইজ! আরে আমার বোন তো দেখছি এখানে বসেই আছে!"
লিজা—"তুই কখন এলি?"
হিয়া—"এইমাত্র। আর সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে বসে কী করবো, তাই চলে এলাম। তাছাড়া নিচে মেকআপ আর্টিস্ট চলে এসেছে—তোরা তো সাজগোজ শুরু করবি!"
হিয়াকে পেয়ে সবাই খুশি, লিসির মনও ফুরফুরে হয়ে উঠল। ঠিক তখনই নিচ থেকে কমলা উঠে এসে বলল—
কমলা—"ও বউমা, তোমারে শাশুড়ি ডাকছে। কেউ আইছে দেখা করতে।"
নুসরাত দাঁড়িয়ে উঠল—"আমি নিচে যাচ্ছি।"
হিয়া—"এই, একা যাবি নাকি? লিজা আয় সঙ্গে!"
তিনজন—লিজা, হিয়া আর নুসরাত—একসঙ্গে নিচে নামল।
এদিকে উপরে ইয়াবি লিসির দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলে উঠল—
ইয়াবি—"আচ্ছা লিসি, যদি তোমার পার্টনার বদলে যায় তাহলেও কি আমরা এখন যে ডান্সগুলো প্র্যাকটিস করছি, সেগুলো তুমি ঠিকমতো পারবে?"
লিসি ভুরু কুঁচকে বলল—"মানে?"
ইয়াবি—"মানে ধরো, আমরা এখন যে ডান্সগুলো করলাম, ওই একই গানে যদি তোমাকে অন্য কারো সঙ্গে নাচতে হয়, তাহলে কি ঠিকমতো পারবে?"
লিসি একটু ভেবে—"হুম… পারব তো। কিন্তু হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন করছো, ভাইয়া?"
আরোবি কথার মধ্যে ঢুকে—"আমারও একই প্রশ্ন ছিল। হঠাৎ তুই কপল ডান্স করতে চাইছিস শুনে কেমন যেন পেটের মধ্যে গিঁট পাকাচ্ছে।"
ইয়াবি—"কেন? আমি কপল ডান্স করতে পারি না নাকি?"
আরোবি—"না, সেটা না…"
তূর্য হেসে—"আরে বাদ দে তো!"
লিসি—"এবার আমি প্রশ্ন করি—তুমি আর ভাইয়া তো সমবয়সী, তাই না? মানে অনেক বড় হয়ে গেছো। তাহলে এখনো বিয়ে করোনি কেন?"
তূর্য কপাল চেপে ধরে—"আহারে… এমন জায়গায় আঘাত করলে! কি আর বলব দুঃখের কথা!"
ইশান হেসে—"ওরে রে! বেশ লাগছে তোকে দেখতে। এখন বল তো করলি না কেন, যাতে আমরা একটু শুনি। আর আমার জারা—তুইও শোন, যেন তোর মাথায় একটু হুঁশ আসে!"
জারা চোখ রাঙিয়ে—"আমি বলেছি আমাকে শোনাতে! আমার পেছনে পড়ে থাকিস কেন বল তো?"
তিশা বিরক্ত হয়ে—"উফ! তোরা সবসময় এমন সময় ঝগড়া করিস। চুপ কর তো। এই তূর্য ভাইয়া, তুমি বলো!"

0 Comments