উপন্যাস : তোমাকে চাই

লেখিকা : নুসরাত জাহান মিথিলা
পর্ব:১৮

তূর্য গাড়ির পাশ ঘুরে সিটে বসে। গাড়িটা একদম নিঃশব্দ, বিলাসী। হঠাৎই তূর্য খেয়াল করে সিটের নিচে কয়েকটা কটন ক্যান্ডির খোসা পড়ে আছে। চোখ সরু করে কিরিসের দিকে তাকিয়ে বলে—
তূর্য: “তুই তো এসব নোংরা জিনিস গাড়িতে রাখতে পছন্দ করিস না! এগুলো এখানে কী করছে?”
কিরিস: “লিসি খেয়েছে। আমি না। ও নরম কিছু খেতে চায়। আর তুই একটু চুপ কর। রিহানের মতো লাগছে তোর বকবকানি।”

তূর্য হেসে ফেলে।
তূর্য: “তাতো করবোই! আমি তোর বন্ধু কম, রিহানের ভাই বেশি, বুঝেছিস?”
গাড়ি চলতে থাকে। জানালার কাঁচে আলো ভেসে আসে। তূর্য এবার গম্ভীরভাবে বলে—
তূর্য: “যেটা বলছিলাম—আমার মনে হচ্ছে ‘রেড ডোম ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ শিগগিরই রেইড হবে। আর্মিরা করবে, আর তুই তো জানিস, ফ্রান্সের আর্মিরা কতটা নির্দয়।”
কিরিস হালকা মাথা নাড়ে।
কিরিস: “একটা কথা বল, তুই সরকারের গোয়েন্দা হয়ে আমার হয়ে কাজ করিস কেন?”
তূর্য: “Don’t know. কিন্তু একটা কথা বলতে পারি—তোর এসব কাজে আমি অদ্ভুত মজা পাই।”
কিরিসের ঠোঁটে মুচকি হাসি খেলে যায়।
কিরিস: “তুই সরকারী গোয়েন্দা হয়ে আমার বন্ধু হোস কিভাবে—মাঝে মাঝে আমিও ভাবি এটা।”
তূর্য: “আচ্ছা তাইলে তুই গ্যাংস্টার-মাফিয়া হয়ে আমার বন্ধু হোস কিভাবে বল, বল?”
কিরিস এবার একটু হেসে বলে—
কিরিস: “লজিক আছে কথায়। বাদ দে, পরেরটা বল।”
তূর্য: (গম্ভীর হয়ে)
“এই মনোযোগ দিয়ে শুন, একবারে সব বলছি।
‘উইন রেস্ট্রি’ তে অনেকগুলো বুড়ো ধান্দাবাজ বেটা আছে, যারা কালো টাকার হোন্ডা-ঘোন্ডা করে।
সে যাই হোক, যদি রেইড পড়ে—
মিস্টার লুম হবে প্রথম পালানো মানুষটা।
আর আমি ১০০% শিওর, পালানোর সময় সে সঙ্গে করে নিয়ে যাবে তার অমূল্য Red Beryl।
ভাব, কোটি কোটি টাকার সেই ক্রিস্টাল যদি আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে 'পুটুস' করে তুলে ফেলি—
তাহলে সব টাকাটা আমাদের।
আর তুইতো জানিস, তুই ইনভেস্টমেন্টে কতটা শার্প।
তাই আমি বলছি, এই জিনিসটা সিরিয়াসলি দেখা উচিত।
আর তোরে আমার তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকারই হয় না…
ছ্যাঁ! জঘন্য একটা লোক।”
কিরিস: (ঠোঁটে শয়তানি হাসি, চোখে আগুন)
“Don't worry. Everything will be fine.
And the most important thing is…
This Red Beryl is OURS.
আর অপারেশনের তারিখ ১৮-ই নিশ্চিত, তাই তো?
তো আমরা সেই তারিখেই যাচ্ছি ফ্রান্স।”
তূর্য:
“হ্যাঁ, একদম।
আচ্ছা, একটা কথা বলবো… একটু উঁচু কর তো।”
কিরিস: (ভুরু কুঁচকে)
“কি উঁচু করবো?”
তূর্য: (হালকা হাসি দিয়ে)
“আরে তোর ওই লিসি… হ্যাঁ, ওর মুখটা দেখবো একটু… কেমন করে শুয়ে আছে দেখি তো!”
কিরিস: (রুক্ষ গলায়)
“বাড়ি গিয়ে দেখিস। আর এই ‘ভাবি ভাবি’ করবি না তো ভালো হয়।
আর একটা কথা বললে, এই রাস্তাতেই নামিয়ে দেব।”
তূর্য:
(জিভ কেটে চুপ করে যায়, জানে কিরিস মজা করছে না।)
আর এই পুরো পথজুড়ে নিঃশব্দ, শান্ত একটা ঘুমন্ত চরিত্র—
লিসি।
নীরব দর্শকের মতো সারা পথ ঘুমিয়ে ছিলো কিরিসের বুকের ওপর।
তাকে এক মুহূর্তের জন্যও নামিয়ে দেয়নি কিরিস।
সে যেন নিজের অস্তিত্ব দিয়ে আগলে রেখেছে লিসিকে।
রাত তখন জমে উঠেছে।
রায়চৌধুরী বাড়ি আলোয় ঝলমল করছে।
দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছে—এই বাড়িতে আজও উৎসবের রেশ রয়ে গেছে।
বিয়ের পরে প্রথম রাত, সেই বাড়িতে ঢুকছে কিরিস, বুকের মাঝে ঘুমন্ত লিসিকে নিয়ে।
বাড়ির ভিতরে সব গাড়ি একে একে ঢুকে গেছে।
আত্মীয়-স্বজনেরা অনেকে ক্লান্ত হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে।
হলরুমে বসানো হয়েছে নুসরাতকে—শাড়ি পরা নতুন বউ, পাশে শাশুড়ি প্রিয়া,
যিনি নুসরাতকে পাশে পেয়ে যেন মনভরে হাসছেন।
প্রিয়া:
“এইতো আমার ঘর আলো করে এল আমার বউমা!”
যারা বিয়েতে উপস্থিত হতে পারেনি, তারা এক এক করে এসে দেখছে নতুন বউকে।
বাড়ির মেয়েরা তো খুশিতে আত্মহারা।
রিহান ভাইদের সঙ্গে বসে গল্প করছে, চোখে ক্লান্তি থাকলেও মুখে প্রশান্তি।
এই মুহূর্তেই, বাড়ির প্রবেশপথে কিরিসের কালো ল্যাম্বরগিনি ঢুকে পড়ে।
সবাই তখন বাড়ির ভেতরে। বাইরে হাতে গোনা কয়েকজন।
পার্কিং এরিয়ায় গাড়িটা দাঁড় করায় কিরিস।
সেখানে কিছু গাছ থাকায় গাড়িটা কিছুটা আড়ালে পড়ে যায়।কোনো ঘোষণা নেই, আলো নেই, শব্দ নেই—
শুধু একটা নীরব কিন্তু রাজকীয় আগমন।
গাড়িটা হঠাৎ ব্রেক কষে থেমে যায়।
তূর্য দরজা খুলে এক দৌড়ে ভিতরে ঢুকে যায়।
এই রায় চৌধুরী বাড়ির ছেলেমেয়েরা সবাই বয়সে হয়তো বড়,
কিন্তু মনের দিক থেকে সবাই যেন আজও ছোট্ট সেই হাসিখুশি দিনগুলোয় আটকে আছে।
গাড়ির ভেতরে তখনও লিসি, কিরিসের বুকের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায়।
কিরিস তাকিয়ে থাকে লিসির মুখের দিকে —
কি শান্তিতে ঘুমুচ্ছে মেয়েটা। যেন কোনো শিশু।
সে ধীরে ধীরে ওকে ডাকতে শুরু করে —
— “লিসি... উঠো... বাড়ি চলে এসেছি লিসি... লিসি…”
লিসি একটু নড়ে উঠে চোখ কচলায়, আধো ঘুমের স্বরে বলে —
— “কোথায়... আমি...?”
— “বাড়িতে... লিসি...”, কিরিস ধীরে ধীরে উত্তর দেয়।
কিন্তু কিরিসের ডাকে বিরক্ত হয়ে হঠাৎ লিসি চোখ বড় করে চিৎকার করে —
— “কোন শালারে আমার ঘুম ভাঙায়! ওরে মাথার চুল ছিঁড়ে দেব!”
কিরিস এক চিলতে মুচকি হাসি হেসে বলে —
— “আহা... একটু ভুল হয়ে গেছে... শালা নয়, প্রেমিক হই আমি... লিসি শর্মা।”
এইবার লিসির ঘুম একেবারে উড়েই যায়।
লিসি হতবাক হয়ে তাকায় তার দিকে, তারপর রীতিমতো চমকে উঠে —
— “আ... হ... আমি আপনার কোলে আবার কী করে...?”
কিরিস শান্ত, গম্ভীর গলায় বলে —
— “যেভাবে আগেও ছিলে, এবারও তাই।”
লিসি উঠে যেতে চায়, কিন্তু কিরিস ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে —
— “আহ... সিট বেল খুলতে দাও। না হলে তুমি যে ঝাঁকুনি দেবে, তাতে আমি এবার আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবো না... আগেরবার খুব কষ্টে নিজেকে থামিয়েছিলাম, এবার কিন্তু পারবো না। তাই চুপচাপ বসে থাকো।”
লিসি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। কিরিসের চোখের ভাষা স্পষ্ট—
সে জানে সে কী বলছে।
লিসির মন চায় কিরিসকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে ফেলে দিক,
কিন্তু মুখে বলে —
— “আপনি... আপনি বেয়াদব! সিট বেল খুলুন!”
কিরিস সিট বেল খুলে দিলে
লিসি এক লাফে উঠে দাঁড়ায়, কিরিসের দিকে তেড়ে তাকিয়ে বলে —
— “এর প্রতিশোধ আমি নিয়ে ছারবো! শুনে রাখলেন...!”
বলে গটগট করে গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দরজার দিকে হাঁটতে থাকে।
সামনেই দরজায় দেখা হয়ে যায় তূর্যর সাথে।
তূর্য থমকে দাঁড়িয়ে লিসির পুরো চেহারাটা দেখে ফেলে —
মাথার চুল এলোমেলো, চোখে রাগে আগুন,
তবু সেই চোখের মধ্যেই কি এক অপূর্ব সৌন্দর্য।
তূর্য মুখে হাত দিয়ে বলে —
— “ও মাই গড! কী সুন্দর তুমি...!”
লিসির মেজাজ এমনিতেই সপ্তমে,
এই কথা শুনে রাগে ফুসে উঠে চিৎকার করে —
— “এই শালা গাদা! তুই কে রে? সর সামনে থেকে!
একেতেই মেজাজ খারাপ, তারপর আবার এত সুন্দর বলছিস?
সর! বাল!”
তূর্য দাঁড়িয়ে আছে চোখ বড় বড় করে।
লিসির সেই রাগী চেহারা দেখে শুধু সে নয়, বাড়ির ভেতরে থাকা সবাই তাকিয়ে থাকে তার দিকেই।
লিসি কারও দিকে না তাকিয়ে সোজা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে যায়।
তূর্য ফিসফিস করে নিজের মনেই বলে—
— “যাক বাবা... যাকে আনতে গেছে তাকেই চিনতে পারছে না!”
ঠিক তখনই কিরিস দরজার ভিতর দিয়ে ঢোকে।
তূর্য কিছু বলতে যাবে,
কিন্তু কিরিস আগে রেগে উঠে বলে —
— “এই শোন... সারা রাস্তা তোর বকবকানি শুনেছি, এবার চুপ কর।”
বলে কিরিসও সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে যায়।
তূর্য হা করে দাঁড়িয়ে থাকে—
সে তো রাগ করার মতো কিছু বলেনি!
তাকে এমন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইয়াবি এগিয়ে এসে ঠোঁটে চাপা হাসি দিয়ে বলে —
— “তুই মনে হয় দেখে ফেইলছিস রে ভাই...! আচ্ছা বাদ দে, চল ওইদিকে।”
ইয়াবি তূর্যকে নিয়ে গিয়ে ভিড়ের মাঝে নিয়ে যায়।
এই বাড়িতে তূর্যকে সবাই নিজের ছেলের মতোই দেখে।
তবে তূর্য শুধু রায় চৌধুরী বাড়ির ‘ভাসুরের ভাইপো’ নয়...
সে হলো কিরিসের শৈশবের সবচেয়ে আপন বন্ধু।
জিয়ান কিরিস।
শুধু একটা নাম নয় —
রাগ, রাজত্ব, বদমেজাজ আর ভয়— সব মিশে থাকা একটা চরিত্র।
তবে তার জীবনে মাত্র দুজন মানুষ ছিল
যাদের সাথে কখনো অভিনয় করতে হয়নি,
যাদের সামনে কিরিস আসল "জিয়ান" হয়ে উঠতে পারত।
তাদের নাম— তূর্য আর আরিয়ান।
তিনজন ছিল স্কুলজীবনের এক অদ্ভুত ত্রিভুজ,
যাদের মাঝে কোনো মুখোশ ছিল না, ছিল কেবল বন্ধুত্ব।
কিরিস রেগে গেলে তূর্য ঠাট্টা করত,
আরিয়ান তখন চুপচাপ হয়ে যেত।
তবু দুজনই জানত—
এই রাগের ভেতর লুকিয়ে থাকা ছেলেটার মনটা ঠিক কেমন।
মাধ্যমিকের পরে তিনজন তিনদিকে ছড়িয়ে যায়।
কিরিস ইংল্যান্ডে পাড়ি দেয় পড়াশোনার জন্য,
একদম একা।
নতুন শহর, নতুন জীবন —
তবুও সে কখনো ভুলে যায়নি তার সেই দুই বন্ধু।
আরিয়ান চলে যায় অস্ট্রেলিয়ায়,
আইন পড়তে।
আর তূর্য থেকে যায় দেশে,
পরে সে-ও চলে যায় কিরিসের কাছে।
তারা আলাদা হয়ে গেলেও...
একটা বন্ধন ছিন্ন হয়নি।
তূর্য মাঝে মাঝেই লন্ডনের কিরিসের অ্যাপার্টমেন্টে হাজির হতো
চোখে চোখ রাখত আর বলত—
"রাগ করিস, ঠিক আছে। কিন্তু ভুলে যাবি না।"
আর কিরিস?
সে ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি টেনে বলত—
"তুই গাধা... এখনো তোর হেব্বি কুৎসিত জুতো পরে ঘুরিস?"
তারা হাসত,
কখনো ঝগড়া করত,
তবু কখনোই বিচ্ছিন্ন হতো না।আর এখন...
বড় হয়ে গেছে সবাই।
কিরিস হয়েছে বিজনেস টাইকুন,তূর্য হয়েছে স্পাই,আর আরিয়ান একেবারে ক্রিমিনাল কোর্টের শিকারি উকিল।তবু কোথাও গিয়ে,তিনজনই একে অপরের ছায়া হয়ে আছে —একটা রাজত্বের নীরব প্রহরী হয়ে।
লিসি ধীরে পা ফেলে ঘরের দিকে আসে। চোখেমুখে অদ্ভুত একটা ছাপ… যেন তার ভিতরে কিছু একটা উথালপাথাল হয়ে গেছে। ঘরে ঢুকেই দেখে—আরোবি আর সুরভী সোফায় বসে গল্প করছে।
আরোবি চোখ বড় করে বলে উঠল,
—"ওমাগো! তোকে কতক্ষণ পর দেখলাম! কী হয়েছে? এমন করে মুখ করে আছিস কেন?"
লিসি একটানে বলে ফেলে,
—"কি আর হবে! যা হবার তা হয়েই গেছে... ইস্... কি খারাপ উনি!"
সুরভী অবাক হয়ে মুখ তুলে তাকায়,
—"মানে! কাকে খারাপ বলছিস তুই... কিরিসকে?!"
লিসি মুখটা ঘুরিয়ে হালকা গলায় বলে,
—"না... আমার নানাকে!"
আরোবি যেন হাসতে হাসতে লুটোপুটি খায়,
—"এই রে! শেষমেশ দাদাকেই ভাসিয়ে দিলি!"
সুরভী রাগ মেশানো হালকা মমতায় বলে,
—"আহ চুপ কর তো! লিসি, যা আগে ফ্রেশ হয়ে আয়।"
লিসি কিছু না বলে চুপচাপ কাবাট থেকে একটা জামা বের করে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাত-মুখ ধুয়ে নেয়। হালকা করে চোখে-মুখে পানি দেয়। নিজেকে একটু গোছায়... যেন নিজেকেই বোঝাচ্ছে—"সব ঠিক হয়ে যাবে।"
বাইরে এসে দেখে, আরোবি একটা হাসি মিশিয়ে বলে,
—"এই তো আমার লিসি! দেখ, এখন মুখটা আগের মতোই সুন্দর লাগছে।"
সুরভী গম্ভীর সুরে বলে,
—"হুম… কিন্তু এবার নিচে চল। নুসরাতকে আবার ঘরে নিয়ে যেতে হবে। বেচারীটা কখন থেকে সেজে বসে আছে…!"
ওরা তিনজন ঠিক বেরুবে তখনই হঠাৎ—
টক টক…
ঘরের দরজায় কারও পদচারণা। দরজা খোলে—
দাঁড়িয়ে কিরিস। চোখেমুখে কোনো বিশেষ অভিব্যক্তি নেই। একদম স্বাভাবিক গলায় বলে,
—"এই যে ব্যাগ... নিতে ভুলে গিয়েছিলে।"
লিসি কিছু বলবে ভাবছিল, ঠিক তখনই আরোবি লিসির কাঁধে হাত দিয়ে বলে,
—"ভাইয়া, আমার কাছে দে… যা তুই!"
আরোবি ব্যাগ আর একটা গোলাপ ফুল হাতে নেয়। কিরিস আর কিছু না বলে ঘুরে চলে যায়।
আরোবি ব্যাগটা একপাশে রেখে ফুলটা নিয়ে টেবিলের ফুলদানির কাছে আসে। ভেতরে থাকা কিছু ফুল সরিয়ে ফেলে—তারপর গোলাপটা আলতো করে রেখে দেয় ঠান্ডা পানির মধ্যে।
আলতো হেসে বলল,
—"হয়েছে... আর রাগ করতে হবে না। তোর সঙ্গে আমার রাতে কথা আছে… চল, এখন সুরভী… চল।"
লিসি চুপচাপ নিচে নামে। নিচে এসে দেখে—নুসরাত এখনো লেহেঙ্গা পরে একপাশে চুপ করে বসে আছে।
সুরভী মায়াভরা কণ্ঠে বলে,
—"চল, এই ভারি লেহেঙ্গাটা খুলে একটা শাড়ি পর,। আমি তোকে উপরে নিয়ে যাচ্ছি।"
প্রিয়া তখন পাশে থেকে বলে ওঠে,
—"হুম, নিয়ে যাও। কখন থেকে এই ভারি লেহেঙ্গা পরে বসে আছে… যাও গিয়ে বলো নিচে আসতে, না হলে আসতেই হবে না। ক্লান্ত হয়ে গেছে অনেক। সুরভী, ওকে তোর কাছে রাখ। আর খাবার আমি ঘরে পাঠিয়ে দিচ্ছি।"
সুরভী মাথা নেড়ে সায় দেয়। নুসরাতকে নিয়ে ওপরে চলে যায় সুরভী আর সঙ্গে তিশা।
নিচে এখন শুধু আরোবি আর লিসি। দুজনেই একসঙ্গে ধপাস করে বসে পড়ে সোফায়।
এই দুর্ধর্ষ বিয়ের যাত্রায় সবাই ক্লান্ত। একটু করে গা এলিয়ে দিয়েছে সবাই। এখনো বাড়িতে কোলাহল আছে বটে, কিন্তু সেটা ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে। রাত প্রায় তিনটা বাজে...
আরোবি হাই তুলে বলে,
—"লিসি... যা তো, ফ্রিজ থেকে কিছু বের করে নিয়ে আয় তো দেখি, কোনো কোলড্রিংস আছে কিনা…!"
লিসি ফ্রিজের দিকে এগোয়। দরজা খুলে কোলড্রিংস বের করছে, এমন সময় পাশে চেয়ারে বসে থাকা কাউকে দেখে চমকে উঠে—
তূর্য!
চোখে মুখে একরাশ ক্লান্তি, কিন্তু দৃষ্টি মায়াভরা। অসহায় গলায় বলে—
—"বলছি... আমাকে ও যদি একটা…"
লিসি তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলে,
—"আচ্ছা আপনি কে? তখন ওই আবাল মার্কা প্রশ্নটা করেছিলেন না?!"
তূর্য একটু ভয় পেয়ে যায়, তবু হেসে বলে,
—"আরে বাবা, আমাকে আনতো গেলা... আর আমাকেই চিনো না!"
লিসি অবাক, চোখ কুঁচকে বলে—
—"আপনি ভাইয়ার বন্ধু... মানে..."
তূর্য মাথা নেড়ে হাসে,
—"হ্যাঁ, এবার বুঝতে পারছো।"
লিসি গলায় একটু লজ্জার সুর টেনে বলল,
—"মানে... মানে সরি... আসলে ওই সময় একটু রেগে ছিলাম... তাই..."
তূর্য হালকা হেসে বলে,
—"আরে ভয় পেয়ো না, আমি কিছু মনে করিনি... ওই রাগের কথা আমি কিরিসের মুখে কতবার শুনেছি!"
লিসি একটু ভেবে হঠাৎ বলে ওঠে,
—"আচ্ছা শুনুন, আপনি যখন এসেছিলেন, তখন কি আমি..."
তূর্য কথা শেষ করতে না দিয়ে এক নিশ্বাসে বলে ফেলে,
—"তখন তুমি কিরিসের কোলে ঘুমিয়ে ছিলে... আমি তো একেবারে চমকে গেছিলাম!"
লিসি লাল হয়ে পড়ে, ফিসফিস করে বলে,
—"আরে আস্তে বলুন! কেউ শুনে ফেললে! প্লিজ ভাইয়া, কাউকে বলবেন না..."
তূর্য কানে হাত দিয়ে বলে,
—"এই তো ফাঁসিয়ে দিলে!"
লিসি কপাল কুঁচকে বলে,
—"মানে?"
তূর্য মুচকি হেসে, দুষ্টু সুরে বলে,
—"ভাইয়া যখন বলেছো, তখন তো বোনের কথা মরার আগ পর্যন্ত কাউকে বলবো না... তাহলে এখন একটা কোলড্রিংস পাবে তো?"
লিসি হেসে ফ্রিজ থেকে একটা কোক বের করে বলে,
—"অবশ্যই ভাইয়া! এই নিন…"
ঠিক তখনই আরোবির গলা ভেসে আসে,
—"আর রে হারিয়ে গেলি নাকি! আয়!"
লিসি —"আসছি…!"
লিসি আর আরোবি একসাথে বসে কোক খাচ্ছে। পাশে সুরভী আর তিশা নিচে নেমে আসে। রিহান নুসরাতকে না দেখে কিছু বলতে যাবে, তখন—
মির্জা বেগম গম্ভীর সুরে বলেন,
—"অনেক রাত হয়ে গেছে। সবাই ঘুমিয়ে পড়ো। কাল রিসেপশনের জন্য অনেক কাজ বাকি…"
সবাই সম্মতিতে মাথা নাড়ে। ক্লান্ত শরীর, দীর্ঘ পথ, তার উপর বিয়ের আয়োজন—সব মিলিয়ে সবাই হালকা ধকলেই।
প্রিয়া বলেন,
—"তাহলে আজ নুসরাত সুরভীর সাথেই থাকুক।"
সুরভী হেসে সায় দেয়,
—"হুম মা, আমার ঘরেই আছে। এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে।"
সুপ্রিয়া বলেন,
—"তাতো হবেই! এত দূরের পথ পার করে আজ সারা দিন ওর ওপর দিয়ে যা গেছে…!"
সবাই খুশি… কিন্তু রিহান মুখ ভার করে হঠাৎ বলে বসে—
—"এটা অন্যায়! বিয়ে আমি করলাম আর বউ ঘুমাবে আমার বোনের ঘরে?! এই যদি হয় বিয়ের রাত!"
এই কথা শুনে সবার হাসির দমক উঠে যায়। রীতিমতো হলরুমে হেসে কাত সবাই।
বড়রা আস্তে করে ঘরের দিকে চলে যান, শুধু প্রিয়া আর সুপ্রিয়া রান্নাঘরে হাতে কিছু কাজ গুছিয়ে নিচ্ছেন।
প্রিয়া তো রিহানের এই বাচ্চা-মুখো মুখভঙ্গি দেখে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ার দশা। সুপ্রিয়াও পাশ থেকে নিজের হাসি লুকাতে পারছে না!
সুরভী এবার একেবারে বড় বোনি স্টাইলে বলল,
—"শোন, কয় ঘন্টা পরেই সকাল হয়ে যাবে! ফাও ফাও করে কষ্ট করে এসে এখন যদি তোদের জন্য আবার বাসরঘর সাজাই, দরজায় দাড়াই—তাহলে আমরা একেবারে শেষ হয়ে যাব!
তুই তো কিপটা কিপটা... তোকে দিয়ে টাকা বের করাতে করাতে ফজরের আজান পড়ে যাবে!
তাই আজ বাদে কাল রাতে তোর বাসর হবে!"
রিহান মুখ কালো করে বলে,
—"নিজেদের ক্লান্তি তো আমার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছিস! এটা অন্যায়!"
সুরভী একটু রাগী গলায় বলে,
—"শোন, আমি তো তোর বোন হই, এজন্য বেশি কিছু বলছি না…
তবে আমি যা বলতে চাচ্ছি, তুই ভালোমতো বুঝতে পারছিস… এবার চুপ কর, আল্লাহর রাস্তায় শান্ত থাক!"
সুরভীর কথায় এমন দারুণ মেজাজ যে, আরোবি তো হেসে পুরো সোপা থেকে নিচে গড়িয়ে পড়ে!
তূর্য আর ইয়াবি এসে রিহানের পাশে দাঁড়িয়ে হেসে লুটোপুটি খায়।
কাবির আর ঈশান তো হেসে হেসে দাঁড়াতেই পারছে না!
তূর্য মুচকি হেসে বলে,
—"আররে ভাই, এই ক্লান্ত শরীর নিয়ে ছক্কা মারতে পারবি না… তাই একদিন ওয়েট করাই ভালো!"
ইয়াবি হাত তালি দিয়ে বলে,
—"দেখ, কাল রিসেপশনের পরে সন্ধ্যায় তোর চমকালো ঘর সাজাবো! তোর শরীরে এনার্জি থাকবে তার মানে তুই ছক্কা মারতে পারবি , !"
রিহান মাথা নাড়ে, হালকা দুঃখের অভিনয় করে,
—"ঠিক আছে, যাক আজকে কম্প্রোমাইজ করেই দিলাম… কিন্তু মনে রাখিস, আমার দিল ভেঙে গেছে!"
ইয়াবি নাটকীয় সুরে বলে,
—"আহা... কি কষ্ট…!"
রিহান আর কিছু না বলে হেঁটে গিয়ে কাবির পাশে দাঁড়ায়। কাবির তাকিয়ে দেখে, রিহান বলে,
—"এই শোন, তোর বিয়ের সময় আমি ভোরবেলা গাড়ি নিয়ে বেরোবো, যাতে বাসরটা করতে পারিস!"
কাবির হেসে বলে,
—"আররে, তিশাদের বাড়ি তো দূরে না! চিন্তা করিস না, আমি সামলে নেব।"
রিহান —"তাহলেই ভালো।"
ইয়াবি ঠাট্টা করে বলে,
—"কাবির, মাঝে মাঝে তোকে আমার এমন মার মারতে ইচ্ছে করে… সেটা বলার মতো না। তুই বেঁচে গেছিস যে আমার ভাই হোস, না হলে খুলে রেখে দিতাম!"
কাবির মুচকি হেসে বলে,
—"তাতো জানি হবু শালা ভাই বাবু…!"
হাসির রোল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
ঠিক তখনই…
ধাপে ধাপে শব্দ...
সবার হাসি থেমে যায়।
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে কিরিস। পড়নে কালো ট্রাউজার, সাদা গেঞ্জি, গলায় একটা তোয়ালে ঝুলে আছে। চোখেমুখে তাজা ঘুম নেই, কিন্তু ক্লান্তিও না... বরং একধরনের জেগে থাকা রাজসিকতা!
এক মুহূর্তে চারপাশটা থমকে যায়। হাসির মাঝেও একটা নিস্তব্ধতা।
সোজা সুপ্রিয়ার কাছে গিয়ে দাঁড়ায় কিরিস। চোখে চোখ রেখে বলে,
—"মা, আমার রেডবুলের ক্যানটা দাও।"
সুপ্রিয়া ভুরু কুঁচকে বলেন,
—"এই রাতে তুই এটা খাবি?!"
কিরিস গলা নিচু করে বলে,
—"বেশি কথা বলোনা, দাও তো। ভালো লাগছে না আমার।"
কাবির অবাক হয়ে বলে,
—"ভাইয়া, কোথায় যাবি এত রাতে?"
কিরিস:
—"জিমে। গা ম্যাজ ম্যাজ করছে…"
সবাই থমকে যায়।
তবুও কেউ কিছু বলে না।
কিরিস ক্যানটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে যায়, অন্ধকার গলিপথের মতো নীরবতায়।
সবাই ধীরে ধীরে নিজ নিজ ঘরে চলে যায়।
ঘড়িতে সময় প্রায় সাড়ে চারটা।
চমকালো বাড়ির এক একটা ঘর নিভে যেতে থাকে। বাতি গুলো নিঃশব্দে জানিয়ে দেয়, একটা রাত শেষের পথে।
আরোবি আর লিসি একই বিছানায় শুয়ে।
আরোবি হাই তুলে চোখ মুছে বলে,
—"এই! আমরা সবাই কত্তো ক্লান্ত, ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে… আর তুই এখনো ফোন টিপছিস কেন?!"
লিসি চোখ না তুলে বলে,
—"যাওয়ার সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, আসার সময়ও ঘুমিয়েই এলাম… তাই ঘুম আসছে না। তুমি ঘুমাও।"
আরোবি কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ বলে,
—"একটা কথা বল… তোকে গোলাপ কে দিয়েছিল রে?"
লিসি চট করে বলে,
—"আরে কেউ না! আমি কিনেছিলাম… তুমি ঘুমাও তো, বকবক করো কেন? তুমি না ক্লান্ত?!"
আরোবি হালকা হাসে,
—"বুঝেছি… বলতে হবে না…"
আরোবি চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাসে ঢলে পড়ে ঘুমে।
যেখানে গোটা বাড়ি গভীর ঘুমে—
সেখানেই এক কোণে চলছে জিমের আলোতে ঘাম ঝরানো যুদ্ধ।
কিরিস একা জিমে। টপটপ ঘাম গড়িয়ে পড়ছে বুকে-পিঠে। শক্ত হাতে ডাম্বেল তুলছে, আবার ফেলে দিচ্ছে। ঘামের সাথে যেন ঝরছে তার মনের অস্থিরতা।
এক ঘণ্টা ধরে চলা শরীরচর্চার পরে ক্লান্ত মুখে টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে সে ঘরে ফেরে। কারো দিকে না তাকিয়ে সোজা চলে যায় বাথরুমে।
একটা দীর্ঘ ঠান্ডা শাওয়ার।
শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুকে হাত রাখে কিরিস।
হঠাৎ—
একটা অদ্ভুত মুচকি হাসি তার ঠোঁটে খেলে যায়। যেন কাউকে মনে পড়ছে… অথবা কাউকে অনুভব করছে।
স্নান শেষে সে বেডে গিয়ে বসে। ক্লান্ত শরীর এবার আর লড়তে পারে না। চোখে ঘুম ঘুম ভাব।
শেষবারের মতো মাথা বালিশে রাখতেই চোখ বুজে আসে…
খোদার কী অদ্ভুত মিলন…
যেখানে একজনের ঘুম শত্রু,
সেখানে আরেকজনের ঘুম প্রিয়।
শান্ত, ধোঁয়াটে ঠান্ডা হাওয়ায় ভরা একটা সকাল।
বিয়েবাড়ির আশেপাশে এখনো শিশির জমে আছে পাতার কোণায় কোণায়। হাওয়ার সঙ্গে মিশে আছে আগের রাতের গানের আওয়াজের রেশ—একটা আবেশ যেন... যে বলে দেয়, আজও এই বাড়িতে উৎসব থামেনি।
ঘড়িতে তখনো মাত্র সাড়ে আটটা।
তবুও যে বাড়িতে বিয়ে হয়, সেখানে আর কতক্ষণ থাকে নিঃশব্দতা?
বাইরের বারান্দা দিয়ে রোদের নরম আলো মেঝেতে পড়ে ছায়ার খেলা করছে, গাছের পাতাগুলোর মাঝে আলো যেন নিজের মতো করে সাজিয়ে নিচ্ছে সকালটাকে।
ভেতরে রান্নাঘরের দিক থেকে একটানা চায়ের খুসখুসে গন্ধ ভেসে আসছে। হয়তো কোনো কাজিন গুনগুন করে গাইছে—
“আজ মঙ্গলময় সকালটা, বউয়ের হাসিতে ভরে থাকুক আলোটা…”
ড্রইংরুমে সোফায় বসে আরোবি চুপচাপ ভিডিও কাটছে — হয়তো রিসেপশনের রিল বানাবে বলে। পাশে সুরভী, হাতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা, অন্য হাতে লুকানো চিপসের প্যাকেট।
আরোবি মুখ কুঁচকে —
“এই সকাল সকাল কেউ চিপস খায়? চা খা, আর বল! রিসেপশনের নাচের প্র্যাকটিস করতে চাস, না শুধু খালি হাসবি?”
সুরভী ঠোঁট উল্টে —
“ওই আরোবি! আমি যদি নাচে ভুল করি, কসম করে বলছি মাইক নিয়ে পালাবো!”
আরোবি হেসে গড়ায় —
“তুই পালাবি, নাকি ‘DJ Wali Babu’ চালিয়ে পুরা বাড়ি নাচাবি — আগে সেটা ঠিক কর!”
এই সময় বাকিরাও এসে যোগ দেয় হলরুমে।
বাইরের গার্ডেনে বড়রা সকালের রোদে চা-আলাপে ব্যস্ত। ভেতরে পুরো গ্যাং এখন একসঙ্গে।
লিজা— “বুঝলাম না আপু, তুমি চিপস খাচ্ছো কেন সকালে?”
সুরভী— “আর খেতে পারি না নাকি!”
লিসি— “আচ্ছা তোমরা না বলছিলে, সন্ধ্যার রিসেপশনের জন্য প্র্যাকটিস করবে?”
তিশা— “ভালো কথা মনে করিয়ে দিলি।”
লিজা— “আচ্ছা হিয়া আমাদের সাথে আসলো না কেন?”
ইয়াবি— “পাগল! ওরা তো অনেক বেশি ক্লান্ত, আম্মু বলেছিল—সবাই একসাথে রিসেপশনে আসবে।”
প্রিয়া গরম চা আর বিস্কুট নিয়ে এসে— “হ্যাঁ, ইয়াবি ঠিক বলেছে।”
ইশান— “ও শাশুমা! আমার চা কই?”
প্রিয়া হেসে— “এই নাও তোমার স্পেশাল চা!”
তূর্য— “আচ্ছা আমার দোস্ত তো এত সকাল পর্যন্ত ঘুমায় না?”
সুপ্রিয়া— “ঘুমিয়েছে তো রাত ৪টার পরে।”
লিজা— “আচ্ছা বাদ দে, বল এখন কী করবো?”
তূর্য হাসে—
“আমি কালো পাঞ্জাবি পরে প্র্যাকটিসে যাবো। রিসেপশনে নাচের পর কনের পাশে বসলে, কনেও confused হয়ে যাবে—আমি বর না আসল বর!”
সবাই হেসে গড়ায়।