কাবির হাতে করে একটা সুটকেস নিয়ে এগিয়ে এসে " বাবা এই যে ব্যাগ টা, "
আনোয়ার সুটকেস টা দিতে ইশারা করলে এই নিন আর এখান থেকে ফোটুন, এমন সুন্দর জায়গায় অসুন্দর মানুষের মানায় না,, আপনাদের টাকা পেয়ে গেছেন, এবার চলে যান"
বেশ কঠোর আর রাগী সুরে কাবির এই কথা গুলো বলে, কাবিরের এমন কথায় মিসা ছেলে উঠে দাঁড়ালে, মিসা তার ছেলেকে থামিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে বলে " ছোট ছোট পোলার এতো রাগ করা ভালো না, বুঝেছেন আনোয়ার সাহেব "
আনোয়ার এবার হেসে বেশ গর্ব ভাব নিয়ে বলে ---"আপনি মনে হয় আমার বড় ছেলে কিরিসের সাথে দেখা করেন নি "
মির্জা উঠে দাড়িয়ে বলে-" আপনি আপনাদের টাকা পেয়ে গেছেন এবার ভালোয় ভালোয় চলে যান, আনারুল আমি ঘরে দিকে গেলাম, "
মির্জা ঘরের দিকে চলে যায়, বাড়ির ভিতরে কিরিস তার খাওয়া শেষ করে, খাওয়া পরে কিরিস বাবার সাথে কথা বলতে যাবে,
আরোবি" ভাইয়া তুই এই ঘাসপাস খেয়ে কি পাশ"
কিরিস কিছু বলেনা , কারণ কিরিস বাড়ির বেশি অয়লি খাবার খেতে পছন্দ করে না, মাঝে মাঝে খেতে হয় জোরা জোরিতে, কিরিস উঠে বাড়ির সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে, মার্ক মেসেজ দিলে সেটা সিন করে,
সুপ্রিয়া " আরে মা আপনি চলে এসেছেন কমলা মাকে এই চা টা দিয়ে আয়, আর জারা তুই যা তো গার্ডেনে গিয়ে বাবা আর বড় আব্বুকে চা দিয়ে আয়, "
জারা " আহা আমি কেন তুমি বরং,,,,,,,, "
তখন লিসি উপর থেকে নিচে নামতে থাকে, পরনে সাদা গাউন মাথা হালকা জরে কাপড় দেওয়া, লিসিকে দেখে জারা " তুমি লিসিকে পাঠাও, "
রিহান " হ্যাঁ তুই যাবি কেন গতোর শুকা "
জারা কিছু বলতে যাবে তার আগে,
প্রিয়া বলে" ওই আবার শুরু করেছিস তোরা সবসময় মারামারি, আচ্ছা তোরা কি বাচ্চা মানুষ, কোনো কথা যেন আমি আর না শুনি"
রিহান " মা আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি এখনো তুমি আমাকে বাচ্চাদের মতো বকা দিচ্ছ "
আরোবি " উুলে বাবারে, শোন তুই এখনো মায়ের কাছে বাচ্চা আর বিয়ে হা হা বিয়ের পরে বউয়ের কাছে বাচ্চা হবি"
রিহান একটু ধীরে সুরে বলে " বাচ্চা হবো কেন! বানাবো তাই না ইশান "
ইশান " yes bro"
এই বলে দুইজন হাসতে থাকে,
কিরিস কারোর পায়ের আওয়াজ পেয়ে সিঁড়ির দিকে তাকালে দেখে লিসি নামছে, নিচে নেমে লিসি কিরিসের মুখ বরাবর গিয়ে মুখ ভাঙিয়ে সুপ্রিয়ার দিকে ঘুরে যায়, লিসির এমন কাজে কিরিস কি বলবে বুঝতে পারছে না, সে এসব বাদ দিয়ে ফোনের দিকে আবার তাকিয়ে মার্কের দেওয়া মেসেজ দেখতে থাকে,।
সুপ্রিয়া " লিসি মা যাও তো গার্ডেনে চাগুলো দিয়ে আসো"
লিসি ভালো মেয়ের মতো বলে " দাও আমি যাচ্ছি "
লিসিকে যেতে দেখে কিরিস ফোনটা রেখে লিসি পিছে পিছে যেতে থাকে,
অন্য দিকে মিসা এখনো যায় নি তার ছেলে বাড়ির ভিতরে সঙ্গে করে 30–40জন মতো মানুষ নিয়ে এসেছে, নির্লজ্জের মতো এখনো বসে আছে, লিসি আসতে দেখে মিসার মাথায় কি কু বুদ্ধি জাগে সে উঠে দাড়িয়ে আনারুলের মুখ বরাবর গিয়ে বলে " তোমার একমাত্র ছেলের বিয়ে তাই না, আর এই দেখো আমার ছেলে এখনো বিয়ে হয় নি, তাই বলছিলাম "
আনোয়ার মিসার মতি গতি বুঝতে পেরে বলে " দেখুন আপনার মাথা কি চলছে তা আমি বেশ বুঝতে পারছি, যা ভাবছেন তা কখনো হবে না "
আনারুল " এতক্ষণ আমরা কিছু বলিনি কিন্তু এবার আপনি বাড়াবাড়ি করছে, চলে যান"
মিসা-" যাব, তার বলো দেখি এই মেয়েটা কে? আগে কোনোদিন দেখিনো তো "
আনোয়ার " সেটা আপনার বলবো কেন "
মিসা---" আ,,হা বলেন না, আপনারদের কিছু হয় না তো মনে হয় "
কাবির আর রাগ ধরে রাখতে পারে না, যতই হোক কিরিসের ভাই, রেগে মিসার মুখের উপরে বলে" এই এখান থেকে যাবি না মেরে পাঠাবো আর ও আমাদের বোন হয় "
মিসা নির্লজ্জের মতো খিলখিল করে হেসে বলে" তোদের আপন বোন না তো তাহলে রায় চৌধুরী সাহেব আমি যদিএই সুন্দরী মেয়েটাকে আমার ছেলের বউ বানতে চাই তাহলে তো আপনাদের কোনো আপত্তি থাকে না "
কাবির"এই কুত্তার বাচ্চা বের হ এখান থেকে আর তোর ছেলে, আয়নার মুখ দেখিছিস কখনো "
মিসার এবার রেগে যায়,সে রেগে কাবির দিকে এগোতে থাকে, এই দেখে আনোয়ার "এইসব বন্ধ করুন দেখুন "
মিসা" খেলা যখন শুরু হয়ে গেছে তখন দেখেই যায়, এই আমার হবু বউ মা এদিকে আসো "
লিসি হত বোম্বের মতো দাঁড়িয়ে আছে, কাউকে দেখে মিসা দাড়িয়ে যায় তাকে দেখে যেনো ভয় পেয়েছে, মনে একটু সাহস সঞ্চয় করে ওর লোক গুলোকে বলে লিসি কে ওর কাছে নিয়ে আসতে,,, ওখানে থাকা ওদের লোকগুলো লিসির দিকে এগোতে থাকে লিসি হাতে চায়ের ট্রে নিয়ে পিছতে থাকে কি একটা অবস্থায় লিসি ফেঁসে গেছে, আনারুল উঠে কিছু বলতে যাবে তখন মিসার ছেলে আনারুলের কলার ধরে, এই দেখে কাবির সজোরে একটা কিল বসিয়ে দেয় মুখ বরাবর,টাল সামলাতে না পেরে নিচে পরে যায়, মিসা এবার রেগে বলে " অনেক ক্ষণ ধরে আপনাদের বদনাম শুনছি, এবার আর না, এই দেখছিস কি মার ওদের,"
লিসি পিছয়ে যেতে যেতে কারোর সাথে ধাক্কা খায়, লিসি ভয়ে পিছনে তাকালে দেখে নিরব দৃষ্টিতে কিরিস ওদের দেখছে, তার চোখে নেই কোনো ভাব কিন্তু তার পরেও চোখে আগুন জ্বালছে,
লিসি গায়ে হাত দিতে গেলে কিরিস ছেলেটি হাত ধরে, কিরিস রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বলে" লিসি পিছনে যাও,, আর কাবির ওখান থেকে সর বাবা তোমরা ও, আজ আমি দেখছি এদের এতো তেজ কিসে"
কিরিস এবার ছেলেটিকে মেরে নিচে ফেলে দেয়, কিরিসের আগমনে কাবির শান্ত হয়ে যায় কারণ কাবির যানে কিরিস কি জিনিস, একে একে বাকি ছেলে গুলো কিরিসের দিকে এগোতে থাকে কিরিস মাথা নিচু করে বলে, ---" যদি তোদের মধ্যে কেউ লিসিকে একবার একটু খানি ছুতে পারে তাহলে লিসি তোদের, "
কিরিসের এমন প্রস্তাবে আনোয়ার সহ সবাই একটু অবাক হয়, বাইরে এতো হইচই শুনে বাকি কাজিনরা এলে দেখে লিসি দাড়িয়ে আছে তার সামনে কিরিস, আর কিরিসের সামনে ছেলেগুলো, এই দেখে ইয়াবি কাবিরকে উদ্দেশ্য করে বলে " এই এইসব কখন শুরু হয়েছে আমরা কিছু মিস করি নি তো "
কাবির রিলাক্সে বলে "আরে না কেবল শুরু হয়েছে"
রিহান " এরা লিসির দিকে যাচ্ছে কেন"
কাবির এই মিসা লিসিকে তার ছেলের বউ বানাতে চাই "
ইয়াবি " এবার তো এরা গায়া কামসে "
ইশান-" আরে বসে দেখি দাঁড়িয়ে দেখতে মজা নেই "
মেয়ে গুলো চুপচাপ কিরিসের যুদ্ধ দেখছে যেন মনে হচ্ছে পাগলু ছবির অংশ দেখছে আরোবি মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে-" এমন লড়াই সিনেমাতে দেখেছি বাস্তবে প্রথমবার দেখছি "
কিরিসের কথা শুনে লোভী ভাবে হেসে মিসা বলে---" আজকে আমার ছেলের বউ তো আমি নিয়ে যাবো আর তোদের যখন আপন বোন না তাহলে এতো তেল কিসের "
লিসি ভয়ে কি করবে বুঝতে পারছে না, মনে একটু সাহস করে ভয়ে ভয়ে বলে ----" ভাইয়া,,, ছুতে পারলে তো আমায় নিয়ে যাবে,আমি যাবো না "
অন্য কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই গার্ডেনের মাঝখানে হালকা হাওয়ায় ভেসে ওঠে এক ধাক্কা।
“ঠাসসস!”
একটা রড কারও মাথায় ভেঙে পড়ে।
"আমার বাবার সম্মানে যদি কেউ চোখ তুলে কথা বলে...
আর আমার মেয়েটার দিকে যদি কেউ চোখ তোলে—
তাহলে আমার হাতে রক্ত লাগতে সময় লাগে না।"
নরম গলায় বলেই, কিরিস এগিয়ে গেল একাই।শুরু হয়ে গেল তাণ্ডব।
তিনজন একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ওর দিকে।
কিন্তু কিরিস যেন আগুন হয়ে ওঠেছে।
একটাকে ঘাড় ধরে আছাড় দিল মাটিতে —
“ধাঁইইইই!”
মাটি কেঁপে উঠলো।
আরেকজন রড নিয়ে হামলা করতে যেতেই কিরিস উল্টো সেই রডটাই কেড়ে নিয়ে—
“ঠক্ক!”
এক ঘায়ে বুকের নিচে ভেঙে দিল।
বাকি লোকগুলো তখন পেছাতে শুরু করেছে।
কিন্তু কিরিস পেছায় না।
হাঁটছে… ধীরে ধীরে… চোখে আগুন, চেহারায় মৃত্যুর ছায়া।
"তোমরা রায় চৌধুরী বাড়ির নাম জানো? জানো না...
তাই আজ ভালো করে জেনে নাও।
এ বাড়ির ছেলেরা আগে গুলি খায়, তারপরও মাথা তুলে দাঁড়ায়।
কিন্তু নারীর সম্মানে আঁচ লাগলে...
আমরা মাটি ফাঁটিয়ে উঠে আসি।"
তারপরের ৩০ মিনিট একেবারে নরক।
৩৮ জন লোক। একা কিরিস।
কেউ কেউ লাঠি নিয়ে, কেউ চেইন, কেউ ইট।
কিন্তু কিরিসের চোখে তখন আগুন।
কারও বুক চিরে হাঁটুর নিচে এক ঘা, কারও কাঁধে গেঁথে যাচ্ছে রড,
আর কারও মুখে কনুই—
"ঠাসস!"
চারপাশে শুধু মানুষের গড়াগড়ি, রক্ত আর চিৎকার।
লিসি ভয়ে কোণার একপাশে দাঁড়িয়ে, কিন্তু কাঁদছে না।
তার চোখে তখন বিস্ময়, ভয়, আর সম্মানের মিশ্র এক চাহনি।
একজন লোক শেষবারের মতো বলতে যায়,
"আমরা ভুল করেছি কিরিস ভাই... প্লিজ..."
কিন্তু কিরিস তার শার্টের কলার ধরে টেনে বলে—
"ভুল নয়,পাপ করেছিস আর এই পাপের শাস্তি শুধু মৃত্যু" ***
এসব কিছুর মধ্যে মিসা ধূর্ত বুদ্ধি করে ধীরে ধীরে লিসির পিছনে গিয়ে ছুঁতে যায়। ঠিক যখন সে লিসির গায়ে হাত দিতে যাবে—
এক পলকের ঝড়ের মতো কিরিস এসে মিসার গলা শক্ত করে চেপে ধরে!
সে মিসার কানের কাছে মুখ নিয়ে ঠান্ডা, হিমশীতল অথচ আগুনে ভরা কণ্ঠে বলে—
"এই কুত্তার বাচ্চা… ও আমার বোন না, আমার বউ।
আমরা আরেক পৃথিবী —
আর তুই তার দিকে হাত তুলেছিস?
তোর কবর আমি খুঁড়ে রেখেছি অনেক আগেই...
এখন শুধু তুই বাকি আছিস সেখানে গিয়ে শুতে।"
এই বলে কিরিস ঠাস করে এক ঘুষি বসায় মিসার মুখে। তারপর শুরু হয় একের পর এক ঘা—
উদ্দাম, নির্মম, নৃশংস!
ধুলো-বালু উড়তে থাকে চারপাশে…
মিসা, তার ছেলেপুলে কেউই রক্ষা পায় না।
শেষমেশ সব মার খেয়ে তারা আতঙ্কে ছুটে পালায়।
ওদের পেছন ফিরে দৌড়াতে দেখে, একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কাবির, ইয়াবি, রিহান, ঈশান আর সঙ্গে থাকা মেয়েগুলো এমনভাবে হেসে পড়ে—
হাসতে হাসতে যেন লুটিয়ে পড়ার জোগাড়।
এদিকে আনোয়ার সব দেখে যান নিঃশব্দে।
একটাও কথা বলেন না— শুধু চুপচাপ তাকিয়ে থাকেন কিরিসের দিকে।
তারপর আনারুলকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান।
তবে যাওয়ার আগে, একবার ফিরে কিরিসকে বলে যান—
“তোর সঙ্গে পরে কথা বলবো, আমার সাথে ঘরে দেখা করবি।”
তারা চলে গেলে দেখা যায়—
কিরিস এখনো রাগে ফুঁসছে।
তার হাতে ধরা দণ্ডাটা ধীরে ধীরে নিচে নামছে,
টুপ…টাপ… রক্তের ফোঁটা পড়ে যাচ্ছে মাটিতে।
কিরিস এবার তার জ্বলন্ত চোখ মেলে তাকায় লিসির দিকে।
তার চোখে ঘূর্ণিঝড়… জিজ্ঞাসা নয়, আদেশ…
এক মুহূর্তও দেরি না করে কিরিস হাতে থাকা দণ্ডা ফেলে দেয় মাটিতে।
তারপর চুপচাপ লিসির হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় উপরের দিকে।
সোজা গার্ডেনে থাকা সিঁড়ি দিয়ে, কোনো কথা না বলে—
মাথা নিচু করে, মুখ কঠিন করে, কিরিস টেনে তোলে লিসিকে…
তারা সোজা উপরের দিকে হারিয়ে যায়।
ওদের যেতে দেখে, আরোবি বলে" এবার কি হবে,,, আমার লিসি,! "
রিহান আরোবির মাথায় মেরে বলে " কিছু হবে না চল, মা পায়েস রান্না করছে "
জারা কি,,,! বাই আমি গেলাম "
ইশান " আমি ও আসি "
সব-কয়টা পায়েস খেতে চলে যায়,
সিঁড়ি দিয়ে টেনে উপরে উঠিয়ে এক ধাক্কায় লিসিকে সামনে থাকা ঘরে টুকিয়ে দেয় কিরিস, ঘরের দরজাটা এক টান দিয়ে বন্ধ করে দেয় সে- "ধাই" করে শব্দ হয়,
দরজা বন্ধ করে লিসির দিকে তেরে আসে কিরিস, লিসির হাত ধরে চেপে ধরে দেওয়ালে কিরিসের শক্ত হাতের সংস্পর্শে লিসি কাতরে ওঠে ---" ভাইয়া লাগছে ছাড়ুন, "
লিসি ব্যথা পাচ্ছে দেখে তাকে ছেরে দেয় কিরিস,
ঘরের মধ্যে থমথমে নীরবতা, লিসি কিছু বুঝে উঠতে পারছে না কি করবে, সে শুধু কেঁপে কেঁপে দাঁড়িয়ে আছে
কিরিস হাঁটছে সামনে পেছনে, তার বুক উঠানামা করছে দ্রুত , হাতের রক ফুলে আছে চোখ লাল হয়ে গেছে,, আচমকা ফিরে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে—
"তুমি দাড়িয়ে ছিলে কেন, মুখ নেই কথা বলতে পারো না, যখন দেখলে তোমার দিকে আসছে, তোমায় নিয়ে বাজে মন্তব্য করছে, ওখান থেকে চলে আসা যায় নি, হা করে দাঁড়িয়ে ছিলে,,,"
একটু থেমে হঠাৎ আবার রাগে ফেটে পরে, রাগে গজগজ করতে করতে বলে------" তোমাকে ছুঁতে এসেছিলো,,,,, "
এরপর আস্তে করে বলে --------" যেখানে তোমার কথা কেউ ভাবলেও কিংবা মনে করলেও তার মৃত্যু আমার হাতে অনিবার্য যেখানে তোমায় ছোঁয়া,,,,,,,,,"
রাগে কিরিস হাত মুট করে কিল বসায় দেওয়ালে, নিস্তব্ধ ঘর বেজে উঠে কিরিসের কিলে,,লিসি কেঁপে উঠে কিরিসের এমন ব্যবহারে, এরপর কিরিস আর কিছু না বলে দরজা খুলে চলে যায়, লিসি দাঁড়িয়ে আছে চোখে পানি নেই, নেই কোনো অভিযোগ, নিজেকে স্বাভাবিক করে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ায় লিসি, চোখের সামনে ভেসে উঠে একটু আগের সেই মুহূর্ত -, কি নৃশংস ভাবে কিরিস সবাই কে মেরেছে, হাতে জড়িয়ে থাকা ওড়না চেপে ধরে সে চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলে -----
" আমি তো কিছু বলিনি,,,,,,,,,কিছু করিনি,শুধু চুপ করে দাড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু তারপরেও আমার দোষ হলো কি করে, আপনি এমন কেন কেউ কিছু বললে আগুন হয়ে যান আর আমি তো কিছু করিনি, তারপরেও কেন আমাকে এত বকেন,"
ঘর জুড়ে আবার সেই চেনা নিস্তব্ধতা।
তবে এবার ভয় নয়, কিছুটা আরাম, কিছুটা অবাক হয়ে থাকা।
লিসি আবার খোলা দরজার দিকে তাকায়, কিরিসের কথা মনে পরতে লিসির মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।বিনা কারণে তাকে বকা দিয়ে গেল,
তারপর একটুখানি নাক সিটকিয়ে, নিচু গলায় বলে—
> "আচ্ছা এই মানুষটার মাথা ঠিক আছে?
রাগ করে, মুখ কালো করে, এসে চোখে গজরায়, তারপর আবার চুপ করে চলে যায়!
কথা কয়টা বলবে না ঠিক মতো, আর আমিই যেন সব অপরাধী!"
সে আবার বিড়বিড় করে ওঠে—
> "সবসময় এমন করে…
নিজে কিচ্ছু বোঝায় না, আমারই দোষ দিয়ে দেয়…
আর আমি? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কুকুরছানার মতো তার দিকে তাকিয়ে থাকি!
উফফফফ… এ তো আসলেই মানসিক রোগী!"
এভাবে কিরিসের নামে বদনাম করে লিসির রাগ কমলে, লিসি ঘরের বাইরে যায়, দেখে বাইরে বারান্দার রেল লিং ধরে দাড়িয়ে বাইরের বড় উদ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে, লিসি পাশে গিয়ে আরোবিকে ডাকে, আরোবি লিসির গলার আওয়াজ শুনে ওর দিকে ঘুরে তাকায়,
— "তো কি হয়েছে ভিতরে, ভাইয়া কি বকেছে "
লিসি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ উত্তর দেয়, তারপর আরোবি আবার বলে —" লিসি একটা কথা জানিস "
লিসি আরোবির কথায় একটু বিভ্রান্ত আর চোখে কৌতুহল নিয়ে বলে, —" না জানি না"
আরোবি — "আমার মনে হয় ভাইয়া তোকে পছন্দ করে, না হলে তোকে কেনো এতো,,,,,, "
কথা শেষ করা আগেই থেমে যায় আরোবি, লিসি দেখে মনে হচ্ছে ওর মাথায় বাচ পরেছে,
আরেবি (চিন্তিত গলায়) —" লিসি,,,, "
লিসি চেচিয়ে উঠে বলে ----" অসম্ভব, ওনি আমায় প,তারপর ছ,এবং ন্দ,, কখোনো না আর এমন কথা মুখে আনবি না, আ,,হ আমি ভাবতেই পারি না,,,,, "
আরোবি কি বলবে বুঝতে পারছে না, একটু শান্ত হয়ে বলে, — "কেনো ভালো তো হবে তুই আমার ভাবি হবি "
লিসি—" এই আমি বলেছি না, তারপরেও "
আরোবি ---" আচ্ছা তোর কিছু হতে হবে না আমি তোর ননদী হবো, এবার খুশি "
লিসি না বুঝে বলে —" হুম,,,,,, দাড়াও এর মানেও "
আরোবি — " আবার মানে খোঁজে!, হ্যাঁ বলেছিস এইটায় অনেক,,,,, যাই হোক সকালে কিছু খেয়েছিস "
লিসি না বলে, আরোবি —" তাহলে চল খেয়ে আসবি "
লিসি—" না আমি খাবো না, খেতে ইচ্ছে করছে না পরে খাবো, "
আরোবি — "তাহলে নিচে গার্ডেনে চল ডেকোরেশন দেখবো, "
আরোবি আর লিসি ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকে। নিচে নেমেই সবার মাঝে একটা হালকা কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। লিসির মুখে কোনো রাগ বা অভিযোগ নেই, তবুও চোখে যেন এক নিঃশব্দ অভিমান লেগে আছে।
সবার মধ্যেই তখন একটু আলোড়ন—বিশেষ করে সুপ্রিয়া, রায় চৌধুরী বাড়ির বড় বউ। চোখে-মুখে একরাশ চিন্তা। তার পাশেই প্রিয়া দাঁড়িয়ে, মুখটা যেন কিছুটা চিন্তায় গম্ভীর।
সুপ্রিয়া হঠাৎ বলে ওঠে:
" আমার লিসির দিকে নজর দিয়েছিল! বেশ করেছে আমার ছেলে মেরেছে, ওরা এইটারি যোগ্য "
তার কথা শুনে যেন চারপাশের পরিবেশ হঠাৎ একটু নরম হয়ে ওঠে। মির্জা বেগম, যিনি একটু আগে কঠোর ছিলেন, এবার তাকিয়ে থাকেন নরম দৃষ্টিতে। লিসির মাথায় হাত বুলিয়ে, পিঠে টোকা দিয়ে তাকে আদর করতে থাকে।মির্জা এগিয়ে এসে বলে —
"কিছু মনে করিস না মা, তোর মনটা খারাপ হয়ে আছে বুঝি…" আরোবি লিসিকে নিয়ে একটু ঘুরে বেড়া, আর বউমা দেখো সব আত্মীয় স্বজনরা আসতে শুরু করেছে, বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখো, চলো আমি ও যাই "
লিসি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, কিছু বলে না। তবে বুঝা যায়, তার বুকের ভেতর কোথাও একটু সান্ত্বনার আলো জ্বলছে।
আরোবি পাশে দাঁড়িয়ে হঠাৎ বলে ওঠে—
আরোবি (চঞ্চল গলায়):
বড় আম্মু দাড়াও তোমার ট্রে থেকে স্যান্ডউইচটা দাও, লিসি সকালে কিছু খায়নি, এই নেনস্যান্ডউইচটা খা।
আরোবি কথায় সুপ্রিয়া ট্রে থেকে এক টুকরো স্যান্ডউইচ লিসির হাতে দেয়,
লিসি এক টুকরো স্যান্ডউইচ হাতে নেয়। তারপর আরোবি তার হাত ধরে বলে—
আরোবি (হাসি মুখে):
— "চল, আমি তোকে গার্ডেনটা দেখাই। তুই তো মনে হয় বারান্দা থেকে কিছুই দেখতে পারিস না, কারণ গার্ডেনের পাশের জারুল ফুল গাছগুলো তো বারান্দা সমান উঁচু!"
[রায় চৌধুরী বাড়ির বাগান]
দুজন একসাথে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যায় রায় চৌধুরী বাড়ির বিশাল উদ্যানের মাঝখানে। জায়গাটা যেন স্বপ্নের মতো সাজানো। চারদিক জুড়ে ছড়িয়ে আছে ফুলের গন্ধ—জারুল, কৃষ্ণচূড়া, কদম ফুল, আর নারায়ণের ফুল গাছ। চারপাশে ঘন গাছপালা, যেন একটি প্রাকৃতিক দুর্গ।
উদ্যানের মাঝখানে বিশাল এক ফাঁকা জায়গা, সেখানে তৈরি করা হয়েছে একটি অপূর্ব স্টেজ। চারপাশে লাগানো হয়েছে রঙ-বেরঙের ঝালর, ছোট ছোট ফেয়ারি লাইট, তার সঙ্গে বড় বড় বেশ কয়েকটা সাউন্ড বক্স আর সাদা ও গোলাপি ফুল দিয়ে সাজানো ব্যাকড্রপ।
চেয়ার-বেঞ্চ আর টেবিল গুলো সাজানো হয়েছে ঝকঝকে কাপড়ে,
এক পাশে রাখা আছে ড্রিংকস কর্নার, আরেক পাশে বিশাল খাবারের টেবিল।
এ যেন কোনো রাজপ্রাসাদের বাগানে পার্টি। আলোয় আলোয় চকচক করছে গোটা জায়গা, যেন কেউ স্বপ্নকে বাস্তবে নামিয়ে এনেছে।
আরোবি লিসির হাত টেনে বলে—
আরোবি (উচ্ছ্বসিত গলায়):
— "দেখলি! কেমন লাগছে? ভাইয়া নিজে দাঁড়িয়ে সব মনিটর করেছে। সকাল থেকে একটানা কাজ করেছে সবাই মিলে।"
লিসির মুখে কিছুটা বিস্ময়, কিছুটা মুগ্ধতা। এমন আয়োজন, এমন ভালোবাসার ছোঁয়া, এতদিনে সে কল্পনাও করেনি।
এই সময় একে একে বাড়ির অতিথিরা আসতে শুরু করে।
রিহানের নানু বাড়ির লোকজন, তাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব—ছেলেরা, মেয়েরা—সবাই একে একে আসতে শুরু করেছে,
হালকা হাসি, গল্প, আড্ডা, আর উৎসবের আলোয় ঘেরা রায় চৌধুরী পরিবারের এই গার্ডেন হয়ে উঠছে এক পরী-কথার রাজ্য।
আর এই রাজ্যের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে লিসি—অচেনা এক আবেগের ভেতর ডুবে।
আরোবি ধীরে বলে:
— "আজকের দিনটা তোর জন্য। দ্যাখ, কে যেন গোপনে তোর জন্যই সব সাজিয়ে রেখেছে…"
লিসি —" পাগল তুমি আমার বিয়ে নাকি যে এসব আমার জন্য সাজানো হচ্ছে, "
লিসির কথায় আরোবি কিছু বলে না, এরপর আরোবি লিসিকে পুরো উদ্যান ঘুরে দেখায়, একটু পরে সব কাজিনরা চলে আসে মেয়েরা তাদের কাজে ব্যস্ত আর ছেলেগুলো তাদের আড্ডায়, রায় চৌধুরী বাড়ি জমে উঠেছে বিয়ের আনন্দে,,,,,
দেখতে দেখতে বিকাল গড়িয়ে আসলো
বিকেলের নরম আলোয় সোনালী রঙ ছড়িয়ে পড়েছে রায় চৌধুরী বাড়ির বিশাল উদ্যানজুড়ে।
ঝিরঝিরে বাতাস, ফুলের ঘ্রাণ আর বক্স স্পিকারে বাজতে থাকা ফোক বিট—সব মিলে এক আনন্দঘন প্রস্তুতির আবহ।
বাড়ির চারপাশে মঞ্চ সাজানো হচ্ছে, খাবারের টেবিল গুছানো হচ্ছে।
বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধব এসে জড়ো হচ্ছে গার্ডেনে।
রং খেলা হবে একটু পরেই, আর রাতে হবে ব্যাচেলার পাটি।
রং খেলা উপলক্ষে সবাই সাজুগুজু করতে ব্যস্ত, অবশ্য ছেলেরা না কারণ তাদের জামার পরলেই হয়ে যায় আর মেয়েদের তো তা না, ছেলেরা ইতিমধ্যে গার্ডেনে চলে এসেছে, একে অপরের সাথে আড্ডা দিতে ব্যস্ত,রং খেলা জন্য জামার বা বলতে পারেন থিম হচ্ছে সাদা জামা, মেয়েরা সাদা কালারের জানা আর ছেলেরাও, ছেলেরা প্রায় সবাই সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরেছে, আত্মীয়-স্বজনের ভরপুর রায় চৌধুরী বাড়ি উপরে ঘরে মেয়েরা সাজতে ব্যস্ত,,
লিসি আরোবিকে সাজিয়ে দিচ্ছে, সবার সাজগোজ শেষে দিকে, এর মধ্যে জারা বিরক্ত নিয়ে বলে —
" এই জামা কি করে পরিস তোরা,, আমার জন্য তো, শার্ট প্যান্ট গেঞ্জি ক্যাজুয়াল ড্রেস গুলোই ভালো,"
সুরভী — " তোর আমি আর কি বলবো, শোন বিয়ের এই কয়দিন এই গুলোই পরবি, বুঝতে পেরেছিস"
জারা—" হ্যাঁ আমাকে তো মারা পুরো বুদ্ধি করে রেখেছিস, এই জামা কাপড় পরে দেখবি আমি অজ্ঞান হয়ে যাবো, "
আরোবি হেঁসে বলে—" তাতে কি তোর ইশান তো আছে, জ্ঞান ফিরিয়ে দেবে "
জারা—" ওই আবার শুরু হলো "
লিসি একটু কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে — " আচ্ছা জারা আপু ইশান ভাইয়া তোমায় এতো ভালোবাসে, আর তাছাড়া বাড়ি সবাই ও তো জানে তাহলে তুমি এমন করো কেন "
জারা কি বলবে বুঝতে পারছে না ভেবে বলে —" জানি না, ও আমায় প্রপোজ করে আর আমার রিজেক্ট করতে ভালো লাগে এতটুকু,আর আমি জানি না যে আমি আদেও ওকে পছন্দ করি কিনা "
আরোবি সাজা শেষ উঠে আয়না দেখে, লিসি চুল বেঁধে দিয়েছে বেশ ভালো লাগছে,
আরোবি —" এই তুই এখনো দাড়িয়ে আছিস কেন যা রেডি হয়ে নে , আর আমাদের ও হয়ে গেছে, "
এত গুলো মেয়ের মাঝে হঠাৎ একজন ছেলে বলে উঠে — " হাই লেডিস, আমি কি একটি জায়গা পাবো! "
সবাই ঘুরে তাকালে দেখে ইয়াবি
লিজা— " ভাইয়া তুমি এখানে কি করতে আইছো আর হাতে কি "
ইয়াবি কিছু না বলে লিসির দিকে এগিয়ে বলে — " ভা,,,,,,,,,"
বলে মুখ এঁটে ধরে, আরোবি—" ভা,,,,,, মানে কি, এই ইয়াবি তুই, "
ইয়াবি কথা কেটে বলে —" আরে বলছি ভালো আছিস, আর লিসি এই যে এগুলো তোমার, কিরিস দিয়েছে "
কিরিসের কথা শুনে শুধু লিসি না মেয়েরা সব কয়টা ৪৪০ ভোল্টের ঝটকা খায় ওদের এই অবস্থা দেখে ইয়াবি তোথো মতো খেয়ে বলে—" আরে এমন এক্সপ্রেশন দেয়া দরকার নেই! নানু কিরিসের কাছে দিয়েছে আর কিরিস আমার কাছে দিয়েছে তাই এনে দিলাম "
আরোবি —" বেঁচে গেছি না হলে এখন আমায় কে হসপিটালের নিয়ে যেত, "
ইয়াবি একটু অবাক হয়ে বলে-
" কেন তোর আবার কি হয়েছে "
তিশা—" শুধু ওর না আমাদেরও, "
সুরভী —" হ্যাঁ কিরিস ভাইয়া আর গিফট "
ইয়াবি একটু রাগ করে, কিরিসের পক্ষ নিয়ে বলে
" এমন করছিস তোরা যেনো কিরিস তোদের কিছু কিনে দেয় না, এই তো বিদেশ থেকে আসা সময় ও তো তোদের জন্য কত কি নিয়ে এলো, "
লিসি — " এতগুলো ব্যাগ নিয়ে কি করবো আমি আর এই,,,"
ইয়াবি—" এখানে আজ থেকে যত অনুষ্ঠান হবে সেইসবের জামা আছে "
আরোবি —" শোন ইয়াবি তুই এখানে দাড়িয়ে আমাদের নামের বদনাম করলি, চারিদিকটা একবার দেখতো, এখানে থাকা মেয়েগুলো যদি তোকে একটা করেও চড় মারে তাহলে তো উগান্ডায় চলে যাবে "
আরোবি কথায় মেয়েরা মুচকি মুচকি হাসতে থাকে,
ইয়াবি একটু ভাব নিয়ে বলে —"আমার এতে কিছু আসে যায় না আমি একজন প্রফেসর ভার্সিটির বুঝেছিস, এসব আমার কাছে সিম্পল বিষয়,, আমি নিচে গেলাম বাই "
সুরভী —" নেওয়া হয়েছে তুই তৈরি হয়ে নে,,, এখান থেকে দেখ কোনটা পড়বে "
তিশা ব্যাগগুলো দেখে,, ওখানে প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানের সিল মারা আছে কোন কোন অনুষ্ঠানে কোন কোন ব্যাগের জামাটা পড়বে,, রং লেখা ব্যাগটার মুখটা খুলে লিসি দিকে দিয়ে বলে —" এই নে এটা পরবি "
লিসি দেখে একটা গাউন, সঙ্গে ওড়না, লিসি জামা নিয়ে চেঞ্জ করতে চলে যায়, জামা পরে লিসি বাইরে আসে সবাই তো লিসির দিকে তাকিয়ে আছে, গাউন একটু ঝুল হওয়ার লিসি দু হাত দিয়ে দুই কানি উঁচু করে ধরে এগোচ্ছে,
লিজা—" আমি জানতাম না, নানির এতো ভালো চয়েজ যাইহোক তোকে বেশ মানিয়েছে, একদম হুরপরী "
আরোবি —" হুম, নে এবার তোরা যেতে লাগ আমি আর লিসি আসছি "
সুরভী —" হুম দ্রুত আয়, চল জারা আয় আস্তে, না হলে পরে যাবি "
সবাই ঘর থেকে চলে যায় লিসি আর আরোবি শুধু ঘরে আছে আরবে ফোন টিপছে আর লিসি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার চুলগুলো ঠিক করে নিচ্ছে, বেশি সাজগোজ করে না হালকা করে মিষ্টি কালারের একটা লিপস্টিক ঠোঁটে দেয়, চোখে হালকা কাজল, কানে দুইটা ঝুমকা তার সঙ্গে টানা আর হাতে চুড়ি, ব্যস এতেই লিসিকে একদম হুর পরী লাগছে। লিসির সাজা হয়ে গেলে আরোবি কে বলে —" আমার হয়ে গেছে চলো"
আরোবি ফোন রেখে লিসি পানে তাকায়, —" Oh my god, এতো সুন্দর লাগছে কি করে, বিশ্বাস কর লিসি আমি ছেলে হলে তোকেই বিয়ে করতাম "
লিসি মুচকি হেসে বলে —" তোমার complement জন্য ধন্যবাদ, আর এজন্য তো তুমি ছেলে হওনি "
দুজনে তাদের কথা শেষ করে, নিচে নামতে থাকে, নিচে গোটা লিভিং রুম জুরে আত্মীয়-স্বজনেরা বসে গল্প করছে আরোবি আর লিসিকে নামতে দেখে আরোবি নানি আরোবিকে বলে—" আরে কোথায় ছিলে আমার নাতনিটা, সবার সাথে দেখা হলো তুই কনে ছিলে "
আরোবি মৃদু হেসে বলে- " উপরে ছিলাম নানি, আমরা গার্ডেনে গেলাম, "
ওরা চলে যাওয়ার পরে সবাই ফিসফিস করে কথা বলতে লাগলো লিসি কে নিয়ে, রিহানের নানির নাম সেলিনা, তিনি মির্জা বেগমের পাশে বসে গল্প করছে, লিসি কে দেখে মির্জার কাছে জিজ্ঞেস করলেন মেয়েটা কে, "
মির্জা—" ও ওতো আমার নাতনি, তোমরা চেনবে না প্রথমবার এসেছে, আমার ছোট মেয়ে আমেনার মেয়ে, "
বসে থাকা সবাই একে অপরের সঙ্গে গল্প করতে ব্যস্ত অন্যদিকে গার্ডেনে চলছে আরেক রকম উত্তেজনা গান-বাজনায়, গার্ডেনের পুরো আবহাওয়া যেন বদলে গেছে, লিসি আর আরোবি গার্ডেনে গিয়ে দেখে সবাই গল্প করছে, লিসির চোখ আটকায় গার্ডেনের সৌন্দর্যে চাইলেও চোখ ফেরানো যাচ্ছে না,, দূরে খেয়াল করেন বেশ কয়েক রকমের রংয়ের থালা রাখা, কম করে,২০-৩০ থালা হবে, আরোবি—" এই লিসি ওদিকে চল, "
এর মধ্যে কাবির হাতে মাইক নিয়ে এগিয়ে এসে দাঁড়ায় সবার মাঝে,

0 Comments