তোমাকে চাই

লেখিকা : নুসরাত জাহান মিথিলা

পর্ব:০৮

গার্ডেন রঙে রঙিন—একটা বিশাল আয়োজন চলছে রিহান ভাইয়ার বিয়ের আনন্দে। সবাই ব্যস্ত, হাসিমুখে মজা করছে। হঠাৎ কাবির হাতে মাইক তুলে নেয়।
কাবির —
"সবাই একটু আমার দিকে তাকান! আজ আমার ভাই রিহানের বিয়ের উপলক্ষে এই রঙ খেলার আয়োজন করেছি আমরা। তার আগে কিছু স্পেশাল ভিডিও শুট হবে। আমি ক্যামেরার পেছনে আছি আর ক্যামেরাম্যানও তৈরি।
এবার ভিডিওর মডেলিং করবে—none of them—লিসি!"
কাবিরের মুখে লিসির নাম শুনে সবাই একসাথে ঘুরে তাকায়। সাদা গাউন পরা লিসি যেন দাঁড়িয়ে থাকা এক হুরপরী। হঠাৎ এত নজর, এত দৃষ্টি দেখে লিসি একটু থমকে যায়। কী বলবে বুঝে উঠতে পারে না।
কাবির কাছে এসে বলে—
"চল, বোন আমার।"
লিসি একটু থতমত খেয়ে, আমতা আমতা করে—
"আমি কেন? আরও তো অনেকেই আছে… আমি এসব মডেলিং পারবো না..."
আরোবি হেসে বলে—
"কে বলেছে তুই পারবি না?"
লিজা জোড়ে বলে—
"আমাদের মাঝে তোকেই সবচেয়ে সুন্দর লাগছে!"

কাবির মজা করে বোঝায়—
"আরে তোকে সিনেমায় মডেলিং করতে বলছি না! শুধু রঙের থালাটা হাতে নিয়ে একটু হাঁটবি। আর একটা শট নেব রিহান যখন তোর হাতে আলপনা নিচ্ছে। ব্যাস! চল এবার!"
রিহান নিজেই এসে বলে—
"চল না! তুই যদি আমার বোন হস, তাহলে আমার বিয়েতে কিছু না করলে খারাপ লাগবে…"
তিশাও বলে—
"আরে চল! শুধু তুই না, আমরা সবাই আছি!"
শেষমেশ লিসি রাজি হয়। ক্যামেরা রেডি। সবাই ভিডিও শুটে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কেউ রঙ ছুঁড়ছে, কেউ হেসে কুলাচ্ছে না। রঙ, আলো আর আনন্দে ভেসে যাচ্ছে পুরো গার্ডেন।
ঠিক তখন…
গার্ডেনের এক কোণায় ধীরে ধীরে প্রবেশ করেন— জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী।
চারপাশের হাসি, মজা, কোলাহলের মাঝে হঠাৎ এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে আসে। যেন সময় থেমে গেল কয়েক সেকেন্ডের জন্য।
সাদা কটন শার্টের হাতা গুটানো, ক্যাজুয়াল ট্রাউজার, হাতে ঘড়ি, এলোমেলো চুল… অথচ অপূর্ব।
যেন কেউ রাফ অ্যান্ড রিয়েল হ্যান্ডসাম লুকের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে।
তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে মার্ক। হাতে একটা ফাইল।
মার্ক নিচু গলায় বলে—
"বস, এখানে মোট ১৪৫৭ জনের তথ্য আছে।"
কিরিস ফাইল হাতে নেয়, কিন্তু চোখ যায় সোজা সামনে—
যেখানে সবাই রঙে মেতে আছে। তার ভাইয়েরা মজা করছে, হাসছে, কেউ কারো গালে রঙ মাখাচ্ছে।
তাঁর ঠোঁটের কোণে হালকা এক মুচকি হাসি।
দূর থেকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখছে এই পরিবার, এই আনন্দ, এই নিরাপত্তার বলয়।
মার্ক ফিসফিসিয়ে বলে—
"যার জন্য আপনি এত কিছু করেন, সে... আজকে যেন বেশি হাসছে।"
কিরিস কিছু না বলে, চোখ রাখে গার্ডেনের একপাশে—
যেখানে রঙের গানের মাঝখানে সাদা গাউনে দাঁড়িয়ে আছে লিসি।
হাতের থালায় রঙ, মুখে ভয়-ভয় কিন্তু মিষ্টি হাসি…
এক ঝলকে তাকানো যায় না।
কিরিসের চোখ মুহূর্তেই আটকে যায় সেখানে।
কিছু না বলেই দাঁড়িয়ে থাকে। চুপচাপ, কারও চোখে না পড়ে, শুধু দেখছে—
লিসির প্রতিটি ভঙ্গিমা, হাঁটা, কথা…
যেন এক অজানা অভ্যাসের মতো সব নজরবন্দি করে রাখে সে।
গার্ডেনের বাকি লোকজন কিরিসকে এখনো খেয়াল করেনি।
ক্যামেরার লেন্স, মোবাইলের ফ্রেম, আর আলো সব এখন লিসির দিকে।
আর ঠিক লেন্সের বাইরের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছেন…
তাদের সবার ছায়ার মতো, এক ভয়ংকর সুন্দর—জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী।
ভিডিও শুটিং শেষ হয়েছে মাত্র।
চারপাশে এখন শুধুই রঙের উচ্ছ্বাস।
যে যাকে পাচ্ছে, রঙ মাখাতে ব্যস্ত সবাই!
চারদিকে হইচই, হাসাহাসি, আনন্দের রোল—
এমন সময় এক কোণায় দাঁড়িয়ে ওড়না ঠিক করছিল জারা।
ওর রূপ যেন রঙের ভিড়েও আলাদা করে চোখে পড়ে।
ঠিক সেই মুহূর্তে, ওদের এলাকার একটা ছেলে জারার দিকে এগিয়ে আসে, হাতে রঙ।
তবে, সে রঙ মাখাতে পারল না।
পিছন থেকে শক্ত হাতে তার কবজি চেপে ধরে ইশান।
সাদা পাঞ্জাবি পরে থাকা ইশানের চোখে তখন আগুন।
ইশান—
"না না, ওদিকে একদম নজর দিবি না... ওটা আমার।"
ছেলে (হতভম্ব হয়ে)—
"আরেহ! জাস্ট রঙ মাখাতে যাচ্ছিলাম!"
ইশান গম্ভীর গলায় বলে—
"আমি এখনো আমার হবু বউকে রঙ মাখাইনি... তুই কোথা থেকে উদয় হলি রে ভাই? চেপে দাঁড়া!"
এই বলে ইশান ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় জারার দিকে।
জারা ঘাবড়ে গিয়ে বলে—
"ইশান! দেখ না আমি এসব পছন্দ করি না... এই জামাটা পরেই তো আমি ঝামেলায় আছি!"
ইশান থামে। একবার তার দিকে তাকায়।
চোখে প্রেম, কণ্ঠে ভয়ংকর নরম সুর...
ইশান (ধীরে, রোমান্টিক ভয়ে)—
"বিশ্বাস কর, আমার সোনা... তোকে আজকে এত সুন্দর লাগছে, আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি তোকে দেখতে দেখতে।"
জারার বুকের ভেতর যেন কিছু একটার কম্পন শুরু হয়।
শরীরে কাঁপন। মনের ভেতর ঝড়।
ইশান ধীর পায়ে এগিয়ে আসে…
তার হাতে থাকা আবিরের রঙ দিয়ে জারার দুই গাল আলতো করে রাঙিয়ে দেয়।
জারা থেমে যায়।
চোখের কোণে লুকানো কিছু অনুভূতি
আর ঠোঁটের কোণে অদৃশ্য এক হাসি...
সেই মুহূর্তে, পেছন থেকে আরোবির চিৎকার—
"আরে! দেখ দেখি আমার ছোট বোন কি করছে!"
এক এক করে সবাই জড়ো হয়ে যায়!
আশেপাশের কাজিনদের কণ্ঠে মজা, হাসি আর টিপ্পনী!
জারা আর ইশান দুজনই লজ্জা পেয়ে আলাদা হয়ে যায়।
এদিকে কাবির তখন হাঁটু গেড়ে বসে তিশার পায়ের কাছে।
তিশার পায়েলের গিঁট ঠিক করছে সে।
রঙ মেখে সাদা জামা লাল হয়ে গেছে।
আরোবি হেসে লিসির ঘাড়ে মাথা রেখে বলে—
"চারিদিকে শুধু প্রেম প্রেম প্রেম... ওই দেখ! আমার ভাই বিয়ে করছে পোরশু... এখনো নুসরাতের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে!"
সুরভী পাশ থেকে বলে—
"চল তো, নুসরাতের সাথে কথা বলে আসি!"
লিসি—
"সত্যি! আমি তো নুসরাত আপুকে দেখিইনি!"
তিনজন মিলে যায় রিহানের কাছে।
ওর ফোনটা নিয়ে কথা বলতে থাকে নুসরাতের সাথে।
ওদিকে জারা রেগে গিয়ে ইশানকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে—
"কে বলছে তোকে আমাকে রঙ মাখাতে!"
পুরো উঠোন, ফুলের গাছ, জানালার কার্নিশ...
সব কিছু যেন আবির আর হাসির রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে।
পেছনে বাজছে হালকা গানের মিউজিক:
🎶 "রং বরসে... ভিগে ছুনরিওয়ালি রং বরসে..." 🎶
এ যেন এক রাজপরিবারের হোলির সকাল,
যেখানে প্রেমের রঙ আর শালীন আনন্দ মিলে এক অবিস্মরণীয় উৎসব হয়ে উঠেছে।
হোলির মাঠ তখন রঙে রঙে মাতোয়ারা।
কে ভাই, কে বোন—বোঝা দায়!
এক রঙে, এক উল্লাসে সবাই মেতে উঠেছে।
ঠিক তখন মেয়েরা হই হই করে এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়—
“এইবার যদি কারোর সাহস থাকে তো কিরিস ভাইয়ার গায়ে রং মাখাও দেখি!”
“তা-ও যদি পারিস তো বুঝি সাহস আছে!”
“এই সুযোগে ভাইয়ার গায়ে রং লাগালে তো ভালোই হতো!”
“উফ্ দেখ না, কি কুল লাগছে ওনাকে! সাদা শার্টে ঠিক যেন রাজপুত্র! আমি যদি পেতাম এই চান্সটা…”
“পাওয়াও কঠিন! উনি শুধু হ্যান্ডসাম না, ভয়ানক রাগীও…”
আরোবি হেসে লিসির কানে কানে বলে উঠল—
“তুই পারবি রে… তোকে দেখলেই তোর ভাইয়া তো গলে যায়। চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট কর?”
লিসি থমকে দাঁড়ায়। চোখ নামিয়ে বলে—
“গলে না, বরং আরও শক্ত হয়… আমি পারবো না। নিজে খাল কেটে কুমির ডাকতে যাবো না!”
পাশ থেকে ইয়াবি বলে উঠে—
“শোন, যদি পারিস... তুই যা চাস, আমরা ভাইয়েরা সব দিয়ে দেবো।”
কাবিরও বলে ওঠে—
“হ্যাঁ, যা চাস তাই পাবি! আর ভাইয়াকে রং মাখাতে পারলে—পুরো দশ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিবি!”
লিজা হেসে বলে—
“না, আগে প্রমিজ কর– না পারলে ট্রিট তুই দিবি!”
সবার কথায় লিসি ভেসে যায়, ঘিরে ধরে উচ্ছ্বাস আর উত্তেজনার ঢেউ।
অবশেষে, গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলে—
“ঠিক আছে... আমি যাবো। কিন্তু মনে থাকবে তো? আমি যা চাইবো, তা-ই পেতে হবে!”
“হ্যাঁ হ্যাঁ! আগে যা!”
সবাই যেন নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে থাকে।
ক্যামেরার লেন্স ঘুরে যায় লিসির দিকে।
সে এগিয়ে যায় ধীর পায়ে।
তার পরনে সাদা কালারের ফ্লেয়ার্ড গাউন। কাঁচা রঙে দুলছে তার সাদা রূপ,
হাঁটু ছাড়িয়ে নামা খোলা কালো চুলে বাতাস খেলা করছে।
তার হাতে গাঢ় লাল আবির… সে এগিয়ে যায় নিঃশব্দে।
অন্যদিকে, কিরিস দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে গার্ডের সঙ্গে।
সাদা শার্ট আর প্যান্ট, চোখে কালো সানগ্লাস,
কাঁধে রাজপুত্রের মতো রোদ ছায়ার আঁচড়।
তার গায়ের রং এক বিন্দুও বদলায়নি — চকচকে, ক্লিন, আগুনের মতো ভয়ানক!
কিরিস ফোনে বলছিল—
“আজ বাইরের কেউ যেন ভিতরে ঢুকতে না পারে। সিকিউরিটি বাড়াও। আমি পরে কথা বলছি…”
ফোন রেখে ফাইল দেখছিল কিরিস, মার্কের আনা ফাইলে সাইন করতে হবে তার জন্য কিরিস ফাইল দেখছিল, যে সব ঠিক আছে কিনা,,
ঠিক তখনই—
লিসি এসে দাঁড়ায় পেছনে।
পেছন থেকে সবার চাপা উত্তেজনা, বোনদের ফিসফাস—
“যা! যা রে! এখনই সময়…”
লিসি ধীরে হাতে রং নিয়ে কিরিসের পেছন দিক থেকে হাত বাড়ায়…
কিন্তু ঠিক তখনই—
চ্যাঁচ করে কিরিস তার কব্জি ধরে ফেলে!
একমুহূর্তে জন্য পরিবেশ পুরো ঠান্ডা হয়ে যায়
তার চোখে তীব্র আগুন।
“তুমি কী ভেবেছো? আমি কিছু টের পাচ্ছিলাম না?”
তার কণ্ঠে হালকা ধমক, গলায় ঝরে অদ্ভুত আবেগ…
“রঙ খেলতে এসেছো?
তা হলে সত্যিকারের রঙে খেলো।”
লিসি চমকে উঠে হাত ছাড়াতে চেষ্টা করে।
কিন্তু তখনই তার ডান হাত কিরিসের কপজায়।
সে বাম হাতে আবার রঙ মাখাতে যায়—
কিরিস এবার লিসির আরেক হাতও চেপে ধরে।
তারপর ধীরে মুখটা লিসির কানের খুব কাছে নিয়ে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে—
“তুমি যদি চাও আমাকে রঙে রাঙাতে,
তাহলে আগে নিজেকে রাঙাতে হবে… আমার রঙে।”
পেছন থেকে কাজিনদের হইচই—
“উউউউউফফফফফফফ!!!”
আরোবি ক্যামেরার ফ্রেম তখন জমে থাকে ঠিক এই দৃশ্যেই।
ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক ইতিহাসের মুহূর্ত।
কিরিস শক্তভাবে লিসির দুই কব্জি ধরে রেখেছে।
চারপাশে নিস্তব্ধতা।
হাতদুটি বাঁধা, কিন্তু লিসির হৃদয় এখন চ্যালেঞ্জে জিতে যাওয়ার জন্য বেপরোয়া।
চোখে খেলছে এক নিষ্পাপ, দুষ্টু-মিষ্টি হাসি।
হাসিটা এতটাই নির্ভেজাল, যে কিরিস কিছু মুহূর্তের জন্য একদৃষ্টে চেয়ে থাকে লিসির মুখের দিকে…
ঠিক তখনই!লিসি ধীরে দুপা এগিয়ে আসে…
এবং একেবারে কিরিসের বুক ঘেঁষে দাঁড়ায়!
কিরিস থমকে যায়।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মার্ক তো একেবারে স্তব্ধ!
হাত থেকে ফাইল পড়ে যাবার মতো অবস্থা!
সে কোনোমতে ফাইল দিয়ে নিজের চোখ মুখ ঢেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়ায়…
চারপাশে চাপা উত্তেজনা…
সবার চোখ এখন ওই দুই চোখে আটকে আছে।
লিসি মুখটা কিরিসের মুখের কাছে নিয়ে আসে।
তার ডান গালে লেগে থাকা গাঢ় লাল আবির—
সে সেটাকে আলতো করে কিরিসের ডান গালে ঘষে দেয়।
কিরিস স্তব্ধ। চোখের পলক পড়ে না। সে ঘার ঘুরিয়ে কিছু বলতে যাবে এরমধ্যে
লিসি আবার তার বাম গাল কিরিসের বাম গালে ঘষে দেয়।
সাদা রাজপুত্রের মতো কিরিসের মুখ এখন রাঙা, লিসির স্পর্শে…
কিরিস কিছু বলার আগেই হালকা অবাক হয়ে হাতের গ্রিপ হালকা করে দেয়…
আর সেই সুযোগে—
লিসি তার হাত ছাড়িয়ে, হাতে থাকা অবশিষ্ট লাল রঙ কিরিসের বুক জুড়ে ছড়িয়ে দেয়!
সবাই হইচই করে উঠে!
মাঠ যেন একসাথে হাসে, চমকে যায়, অবাক হয়!
কিরিসের বুকজুড়ে এখন গাঢ় লাল ছোঁয়া…
লিসি বিজয়ের হাসি হেসে এক দৌড়ে ফিরে যায় ভাইবোনদের কাছে—
— “আমি চ্যালেঞ্জ জিতে গিয়েছি! এখন বলো, কে কী দেবে আমাকে?”
কিরিস এতক্ষণ কিছু না বুঝলেও এবার সব পরিষ্কার।
সে বুঝে গেছে, তাকে রং মাখানোর পেছনে এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়—এটা একপ্রকার চ্যালেঞ্জ!
লিসি ইচ্ছা করেই তাকে ফাঁদে ফেলে দিয়েছে।
তার চোখের রঙ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে।
চোয়াল শক্ত হয়ে যায়, কপালের শিরাগুলো যেন রাগে ফুলে উঠেছে।
সাদা শার্টের বোতাম যেনো খুলে যাচ্ছে রাগের তাপে!
লিসি তখন ব্যস্ত আরোবিদের সঙ্গে হাসছে, বুঝতেই পারেনি পেছনে দাঁড়িয়ে আছে এক ভয়ংকর ঝড়—কিরিস!
চুপচাপ পেছনে এসে দাঁড়ায় কিরিস।
তীব্র একটা চোখে তাকায় লিসির দিকে—যা কারো হৃদস্পন্দন থামিয়ে দিতে পারে।
লিসির পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াবি এক ঝলকে বুঝে ফেলে ভয়াবহ কিছু ঘটতে চলেছে।
ইয়াবি একটু ভয়পাওয়া কণ্ঠে বলে—
— “তা না হয় তুই জিতলি! কিন্তু... বোন আমার... এবার তোর কি হবে! পিছনে দেখ!”
লিসি গর্বভরে বলে—
— “জিতার পরে পিছনে দেখতে নেই!”
রিহান হেসে বলে—
— “দেখ না হলে...!”
লিসি ফিরে তাকায়…আর দেখতে পায়—
কিরিস দাঁড়িয়ে আছে—পেছনে।
চোখে সেই পুরনো রাগী চাহনি…
কাঁধ টান করে দাঁড়িয়ে আছেন—মাটি কাঁপিয়ে ফেলার মতো!
লিসি এবার সত্যিই ভয় পায়।
সে তাড়াতাড়ি নিজের গাউনের নিচের অংশ তুলে ধরে দৌড়ানোর ভঙ্গি করে—
— “ও মাগো... পালা লিসি পালা! ছেরে দেন না গো!”
এক নিঃশ্বাসে সে দৌড় মারে!
আর পিছনে?
কিরিস ধীরে থালায় রাখা রঙ তুলে নেয়…
এক চোখে হালকা রাগ, এক চোখে ভয়ঙ্কর মজা!
— এবং সে-ও দৌড় মারে লিসির পেছনে!
আরোবি এই মুহূর্তে ক্যামেরা হাতে ক্যাপচার করতে থাকে
এই সিনেমাটিক দৌড় —
একটা রাজপুত্র, এক দুষ্টু রাজকন্যা, আর প্রেমের রঙে বোনা যুদ্ধ!
উপরে বাড়ির মুরুব্বিরাও তাকিয়ে আছে।
সবাই দেখতে ব্যস্ত… কে কার পিছে দৌড়ায়?”
বাতাসে লিসির খোলা চুল উড়ছে…
সে দৌড়াতে দৌড়াতে বারবার পেছনে তাকায়, কিরিস যেন আরো কাছে চলে আসছে।
এক পর্যায়ে হাপিয়ে যায় লিসি।
থেমে দাঁড়িয়ে বলে—
— “মাফ করে দেন, আমি আর কোনোদিন এমন করবো না…”
ঠিক তখনই—
সাউন্ড বক্সে গান বেজে ওঠে:
🎵
“Itna maza kyun aa raha hai
Tu ne hawaa mehi bhaang milaaya…(ll)
Duguna nashaa Kun ho rahaa Hai.....
Aankhon se meethaa tu ne khilaayaa…”
🎵
গানের তালে তালে… কিরিস ধীরে লিসির দিকে এগিয়ে আসে।চোখে ধরা পড়ে সেই গাঢ়-ভালোবাসা-ভরা রাগ।
লিসির একদম সামনে এসে কিরিস তার হাতে থাকা রঙ লিসির পুরো মুখে মেখে দেয়।লিসির চেহারা এখন সত্যিকারের "ভূত"!লাল-নীল রঙে পুরো মুখ ঢাকা। কোনো মতে লিসি তার চোখ খোলে,
আর কিরিস? সে লিসির এই রুপ দেখে,,,
হেসে ফেলে।
অসাধারণ এক হাসি।
চোখ ভরে ওঠে।লিসি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিরিসের দিকে।
লিসির মনের কথা:
“(যাই বলো, বেডা হাসলে সেই লাগে… যদি একটু রাগী না হতো, তাহলে তো পুরাই জোস হতো!)”
কিছুক্ষণ পর…
গানের তালে তালে সবাই নাচতে শুরু করে।
চারদিকে নাচ, রঙ, হাসি, ভালোবাসা।
কাজিনরাও সেই হোলির আনন্দে মেতে ওঠে।
কিরিস আবার একপাশে চলে যায়।
মার্কের আনা ফাইলে সাইন করে কাজ শেষ করে।
আর লিসি?
সে পাশের পানির বালতি থেকে পানি নিয়ে মুখ ধুয়ে নেয়।
— “আমি কত কষ্ট করে একটা গালে রং লাগিয়েছিলাম… আর ওনি আমাকে পুরো ভূত বানিয়ে দিল!”
ক্লান্ত লিসি একপাশে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে,
তবুও চোখে লেগে আছে সেই মুহূর্তের মিষ্টি-মিষ্টি হাসির ছোঁয়া।গার্ডেন রঙে রঙিন—একটা বিশাল আয়োজন চলছে রিহান ভাইয়ার বিয়ের আনন্দে। সবাই ব্যস্ত, হাসিমুখে মজা করছে।