কিরিস তার কাজ শেষ করে ধীর পায়ে পিছনে হাঁটছিল। হঠাৎ থেমে গিয়ে নিজের চোয়াল শক্ত করে বলে উঠ
কিরিস (চোখ না সরিয়েই হঠাৎ করে)—
"মার্ক, আমি পেছনের দিকে যাচ্ছি। যেন একটা মাছিও না ঢুকে ওদিকটায়। বুঝেছো?"
মার্ক (শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে)—
"Don’t worry Boss. আপনি নিশ্চিন্তে যান। কেউ আসবে না।"
এদিকে সবাই গানে, নাচে, হাসিতে মত্ত। কারও খেয়াল নেই আশেপাশে কি হচ্ছে। এই সুযোগেই কিরিস চোখের ইশারায় সামনে থাকা লিসির কাছে এগিয়ে আসে। এক ঝটকায় তার কোমল হাতটা শক্ত করে ধরে নেয়।
লিসি (হকচকিয়ে)—
"কি করছেন আপনি—"
চারপাশে শুধু সবুজ ঘাস, হালকা ঠাণ্ডা বাতাস, আর দূর থেকে আসা মৃদু গান— যেন এক মুহূর্তে এক অন্য জগতে চলে এলো তারা।
লিসি হাঁপিয়ে উঠেছে। কষ্টে শ্বাস নিচ্ছে। ছুটতে ছুটতে এক সময় হুমড়ি খেয়ে লুটিয়ে পড়ে ঘাসের উপর। এক হাতে বুক চেপে ধরে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে।
কিরিস কিছু না বলে কিছুটা দূরে কদম গাছের নিচে বসে তাকে দেখছিল।
তার চোখ আটকে যায়—
লিসির উঁচু-নিচু বুকের ওঠানামায়।
প্রতিটি শ্বাস যেন কিরিসের হৃদয় কাঁপিয়ে দিচ্ছে। সে চোখ সরাতে চায়, কিন্তু পারছে না।
একটু পর নিজের স্বর নরম রেখে বলে—
কিরিস (ঠাণ্ডা গলায়)—
"আমাকে রং মাখানোর জন্য কত টাকা দিয়েছে বলো দেখি?"
লিসি (বিস্মিত হয়ে উঠে বসে)—
"আপনার এত জানতে ইচ্ছে করছে কেনো?"
কিরিস—
"বল বল, কত টাকা দিয়েছে?"
লিসি (লজ্জায় মাথা নিচু করে)—
"...১৫ হাজার টাকা।"
কিরিস এবার পকেট থেকে একটা কালো American Express কার্ড বের করে লিসির দিকে ধরে—
কিরিস—
"এটায় যা আছে সব তোমার। যদি আবার সেই সিনটা রিপিট করতে পারো। যেটা তুমি একটু আগে করেছিলে— আমার সঙ্গে।"
লিসি (চোখ বড় করে তাকিয়ে, রাগে ফুঁসে ওঠে)—
"মগের মুল্লুক পেয়েছেন নাকি আপনি?! আমি পাগল নাকি যে আবার পাঙ্গা নেবো আপনার সঙ্গে! দরকার নেই এইসব, এমনিতেই কষ্ট হচ্ছে আমার। আমি যাচ্ছি!"
লিসি উঠে দাঁড়াতে যাবে ঠিক তখনই কিরিস ঠাণ্ডা গলায় বলে—
কিরিস—
"যদি তুমি না করো তাহলে আমি সবাই কে বলে দেবো তুমি আমাকে জোর করে এখানে এনেছো? এই ফাঁকা বাগানে টেনে এনেছো?"
লিসি (চোখ কুঁচকে রেগে)—
"আপনি এনেছেন! আমি না!"
কিরিস (চোখে শয়তানি হাসি)—
"তুমি জানো সেটা, বাকিরা জানে না। আমি যদি মাকে বলি, পুরো পরিবারকে বলি... ঐ রাতের কথা! তারপর বলি, আমার সম্মানহানি করার পরও তোমার শান্তি হয়নি বলে তুমি আবার আজ আমাকে এই ফাঁকা জায়গায় ডেকে এনেছো— ব্ল্যাকমেল করছো!"
লিসি (অবিশ্বাসে হতবাক, ফিসফিস করে)—
"এই ব্যাটা কয় কী?!"
লিসি (রেগে ওঠে)—
"আপনি আমার সাথে এরকম করছেন কেন? আমি পারব না!"
কিরিস (ঠাণ্ডা স্বরে)—
"তাহলে ঠিক আছে, আমি ডাক দিচ্ছি।"
লিসি (চ্যালেঞ্জিং ভঙ্গিতে)—
"দিন! দিননা ডাক! আমি এমনিতেই ক্লান্ত!"
কিরিস (ঘন হয়ে এগিয়ে এসে চোখে চোখ রেখে)—
"আমার গোলাম! ভেবে দেখো— ডাক দিলে কে ফাঁসবে? আমি না তুমি?"
লিসির গলা শুকিয়ে যায়, চোখ ফাঁকা। মুখে কথা এসে আটকে যায়।
সে জানে, ডাক পড়লে... কথায় নয়, পুরো পরিবারের সামনে সম্মানে আগুন জ্বলবে।
কারণ সে যতই হোক একজন মেয়ে মানুষ…
তাই সবাই, সবসময়, আগে তার দিকেই আঙুল তুলবে।
লিসির বুকের ভেতরে ভয়, লজ্জা আর অপমানের ছায়া ঘুরপাক খাচ্ছে।
তারই মধ্যে, পিছন ফিরে কিরিসের গলা পেছনে এসে ফিসফিস করে বলে—
কিরিস (ঠাণ্ডা গলায়)—
"তাহলে বলবো নাকি তুমি...?"
কথা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ...
"আমি করছি!" — বলে লিসি এক ঝটকায় কিরিসকে ধাক্কা দেয়।
কিরিস টাল সামলাতে না পেরে পেছনে পড়ে যায়।
সব কিছু যেন এক মুহূর্তে থেমে যায়...
কিরিস চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকে ঘাসের ওপরে।
চোখ খুলতেই তার দৃষ্টিতে এক মোহময় দৃশ্য—
লিসি তার উপর বসে আছে। খোলা গাউনের ভাঁজে কিরিসের বুক পর্যন্ত ঢেকে গেলেও, তার দীর্ঘ পা-গুলো এখনো দেখা যাচ্ছে।
কিরিস নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে...
লিসির খোলা চুলগুলো কিরিসের মুখের চারপাশে ঝুলে আছে, যেন কোনও পর্দা টেনে দুজনকে গোপন করে রেখেছে পুরো পৃথিবী থেকে।
কিরিস একটুও চোখ না সরিয়ে, নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে থাকে।
লিসি কিছু না বলে ধীরে ধীরে দুহাত কিরিসের মাথার দু’পাশে রাখে।
সে নিচু হয়ে কিরিসের গালে আঙুল ছোঁয়াতে গেলে...
হঠাৎ কিরিস তার কোমরে শক্ত করে দুই হাত রাখে—
এক মুহূর্তে তাকে নিজের বুকের সঙ্গে চেপে ধরে ফেলে।
লিসি (কেঁপে উঠে)—
"ক...কি করছেন আপনি?!"
কিরিস কিছু বলে না, শুধু চোখ বন্ধ করে, নিঃশ্বাস ধরে রাখে।
তার হাত লিসির কোমর আর পিঠ জড়িয়ে রেখেছে— এমনভাবে যেন সে লিসিকে হারানোর ভয় পাচ্ছে।
লিসি ছাড়াতে গেলে কিরিস খুব ঠান্ডা, ভাঙা গলায় বলে—
কিরিস—
"প্লিজ... এভাবে থাকো... শুধু ২ মিনিট?"
একটা অসাধারণ মুহূর্ত...
চারপাশে কেবল সবুজ ঘাস, ঠাণ্ডা বাতাস আর তাদের দুজনের স্পন্দন...
লিসি হতবাক হয়ে চুপ করে যায়। তার শরীর থেমে যায়।
সে কিরিসের বুকের উপর মাথা রাখে... তার জীবনে সে কখনো কোনো পুরুষের এতো কাছে যায় নি, সে প্রথমবারের মতো— কোনো পুরুষের বুকের স্পন্দন সে এভাবে শুনতে পাচ্ছে।
আর সেই বুকের ধ্বনি... ধক ধক ধক...
অস্বাভাবিক দ্রুত। যেন ভিতরে কিছু একটা লুকানো আছে...
লিসি (কাঁপা গলায়)—
"কেউ চলে এলে...? তাহলে কি ভাববে?"
কিরিস (শ্বাস ধরে)—
"কেউ আসবে না... কেউ না।
তুমি শুধু থাকো... আমার বুকের মাঝে।"
লিসির চোখ বন্ধ হয়ে আসে। যেন সময়টা থেমে যায়।
সে জানে না—
এই মুহূর্তটা ঠিক কী...
তবে এটা নিশ্চিত,
এই অনুভব—
সে আর কখনো ভুলতে পারবে না।
লিসি কিরিসের বুকে মাথা দিয়ে আছে,,নিরবে
তার নাকের ডগায় ভেসে আসছে কিরিসের সুগন্ধ।
এভাবে কিছুক্ষণ কাটে।
হঠাৎ লিসি ধীরে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করে—
"ভাইয়া... আপনার হার্টবিট এতো দ্রুত চলে কেনো?"
প্রশ্নটা শুনেই কিরিস একটু চমকে ওঠে।
তার শরীরটা যেন কেঁপে ওঠে এক অজানা ভয়ে আর অপরাধবোধে—সে উঠে বসে পড়ে।
কিন্তু কিরিসের বুকেই হেলান দিয়ে থাকা লিসি তো তখনও কিরিসে ভর করে ছিল।
কিরিস উঠে পড়তেই, লিসি ব্যালান্স হারিয়ে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল...
ঠিক তখনই—
একদম স্বভাবগত প্রতিক্রিয়ায়,
কিরিস এক হাতে তার কোমর জড়িয়ে ধরে!
টেনে তুলে নেয়,
আর লিসি এসে বসে পড়ে তার কোলে—একদম থমকে যায়!
লিসির মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।
একটা অদ্ভুত নীরবতা...
চোখে চোখ পড়ে...
কিছুক্ষণের জন্য তারা একদম স্তব্ধ।
লিসি তার নিজের অবস্থান বুঝে মুখে কথা হারিয়ে ফেলে।
কিরিস কিছু না বলে ধীরে করে তার কাঁধের নিচে হাত রেখে,
একদম বাচ্চাদের মতোভাবে পাশের ঘাসে বসিয়ে দেয় লিসিকে—
নরমভাবে, যেন কিছুই হয়নি।
তাদের চারপাশে হাওয়া বয়, কিন্তু তারা দু’জনেই নীরব।
লিসি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়।
জামার ভাঁজ ঠিক করে নিতে নিতে মুখে একটু গাম্ভীর্য এনে পেছন ফিরেই হাঁটা শুরু করতে যায়।
ঠিক তখন কিরিস তার পকেট থেকে "আমেরিকান এক্সপ্রেস" বিলাক কার্ড বের করে এগিয়ে দিয়ে বলে—
"টাকা নিবে না?"
লিসি থেমে যায়।
একটা তীব্র চাহনি ছুঁড়ে দিয়ে বলে—
"আমি ছুঁচো না, ফকিরও না...
যে আপনার কাছ থেকে টাকা নেব!
রাখুন আপনার বিলাক কার্ড আপনার কাছেই!"
বলেই রাগে, অপমানের জ্বালায়
পায়ের নিচে ধুলো ওড়াতে ওড়াতে চলে যায় লিসি।
আর কিরিস?
সে চুপচাপ বসে থাকে,
কোনো কথা বলে না।
শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে লিসির চলে যাওয়া পথের দিকে।
সকালের রং খেলা চলতে চলতে দুপুর পেরিয়ে যায়।
যে যার মতো রঙে ভিজে, হেসে, দৌড়ে—শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত।
সবাই নিজ নিজ ঘরে ফিরে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ রেস্ট নেয়।
তারপর বিকেলের আলো পড়তেই আবার সবাই মিলে ছাদে চলে আসে।
আজ সন্ধ্যায় ব্যাচেলর পার্টি—
তাই ছাদে হচ্ছে গানের তালে তালে নাচের প্র্যাকটিস।
ছাদে একপাশে ছেলেরা ডেকোরেশন আর লাইটস নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে মেয়েরা নাচের স্টেপ প্র্যাকটিস করছে।
সবাই মিলে একটা দারুণ এনভায়রনমেন্ট!
এই সময় ছাদে উপরে এসে হাজির হন—
সুপ্রিয়া, তার সঙ্গে মির্জা বেগম, আর মির্জা বেগমকে ধরে ধরে নিয়ে আসছে প্রিয়া।
আরোবি খুশি হয়ে বলে—
"মা, একদম রাইট টাইমে এসেছো! ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম!"
আরোবি মায়ের হাত থেকে কোল্ড ড্রিংক নিয়ে সবাইকে দেয়।
এই ফাঁকে সুরভী ঘুরে তাকিয়ে বলে—
"আচ্ছা বল তো, তুই কোন নাচটা সবচেয়ে ভালো পারিস?"
লিসি একটু মুচকি হেসে উত্তর দেয়—
"ক্লাসিক।"
এই কথা শুনে সুরভী বলে ওঠে—
"কী বলিস! ক্লাসিক যে কত হার্ড জানিস? আমি একবার শিখতে গিয়ে হাত-পা ভেঙে ফেলেছিলাম!"
লিজাও হেসে বলে—
"একদম! আমি তো এক মাস শিখেই ছেড়ে দিলাম, আমার পায়ে ব্লু মার্ক পড়ে গিয়েছিল!"
লিসি এবার হেসে বলে—
"আসলে অতটা কঠিন না। আমি শিখেছি ছোটবেলা থেকেই।"
তখন তিশা বলে—
"তুই কোথা থেকে শিখেছিস রে? কার কাছে?"
লিসি একটু গর্বের হাসি দিয়ে বলে—
"আমাদের বাড়ির ঐতিহ্যই এমন! জানো না, খান বাড়ির মেয়েরা সব সময়ই নাচে পারদর্শী ছিল। আর এখনো আছে আমি খান বাড়ির মেয়ে বলে কথা তাই আমিও নাচ পারি "
এই কথা শুনে সবাই চুপচাপ তাকিয়ে থাকে।
মির্জা বেগম একটু এগিয়ে এসে গম্ভীর স্বরে বলেন—
"ও ঠিক বলেছে। খান বাড়িতে নাচ এক ঐতিহ্য। আর এটা ওদের ছোটবেলা থেকেই শেখাই। ওকে ওর দাদু ক্লাসিক ডান্স শিখেয়েছে আর আমি ওয়েস্টার্ন ডান্স শিখিয়েছি।"
সুরভী একটু চমকে বলে—
—"সত্যি নাকি, দাদি?"
মির্জা বেগম হেসে বলেন—
—"একদম সত্যি। লিসি শুধু ক্লাসিক না, ওয়েস্টার্নও দুর্দান্ত পারে। একবার দেখলেই বিশ্বাস করবে।"
এই কথা শুনে লিজা একটু হেসে বলে—
"তাহলে এখন পরীক্ষা নিতেই হয়। কী গান দিব, বলো?"
সুরভী বলে—
"একটা ক্লাসিক বিট দে, যেটায় মুভমেন্টস দেখা যাবে!"
আরোবি বলে—
"আমার ফোনে একটা গান আছে, চালাচ্ছি!"
এরপর ছোট একটা স্পিকারে গান চালানো হয়—
Nazrein Bole Duniya Bole
Dil Ki Zaban Hayyy...!
Dil Ki Zaban
Ishq Maange Ishq Chahe
গান শুরু হতেই লিসি তার ওড়না সামলে নাচতে শুরু করে—
তার প্রতিটা মুভমেন্ট যেন চোখে ধাঁধা লাগায়।
ঘুরে যাওয়া, মাটিতে বসে মুদ্রা, তারপর হঠাৎ হাফ-স্পিন—
সব যেন রক্তে মিশে আছে তার।
চারপাশে ছাদে উপস্থিত সবাই চুপচাপ তাকিয়ে থাকে।
যেন কোনো রাজকীয় নর্তকী পারফর্ম করছে।
ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল কিরিস, রিহান,ইশান, কাবির আর ইয়াবি।
ওরা কথা বলছিলো নিজেদের মধ্যে, কিন্তু হঠাৎ চুপ হয়ে যায়…
ইশানএকটু নিচু স্বরে বলে—
"উপরে তাকা, ওই যে ছায়াটা পড়েছে…"
কিরিস ধীরে ধীরে চোখ তোলে—
ছাদের লাইটে পড়ে থাকা লিসির ছায়া, একদম নিখুঁত ভাবে স্পষ্ট।
এক নজরে তাকিয়ে থাকে কিরিস।
তার চোখে তখন শুধু একটাই দৃশ্য—
লিসি।
একটা মিষ্টি সুর, একটা রাজকীয় দুলুনি, একটা ঘোর লাগা নাচ…
আর ছায়ার ভেতরে লুকিয়ে থাকা তাকে।
গান শেষ হতেই সবাই তালি দেয়।
সুরভী হেসে বলে—
"তোর কাছে হার মেনে গেলাম রে লিসি!"
জারা একটু অপ্রস্তুত হেসে বলে—
"আসলে সত্যি বলতে কি, এতটা পারবি ভাবিনি!"
লিসি হেসে মাথা নাড়ে।
এরপর আরেকটু প্র্যাকটিস করে সবাই।
এক সময় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে।
তিশা বলে—
"চলো সবাই, গুছিয়ে নিই। ব্যাচেলর পার্টি তো শুরু হবে একটু পরেই!"
সুরভী বলে—
"মেয়েরা তো! গুছাতে টাইম লাগবেই।"
সবাই হেসে ছাদ থেকে নামতে শুরু করে, নিজেদের মতো গুছিয়ে নিতে।
বাড়িতে হইচই শুরু হয়ে গেছে। ব্যাচেলর পার্টির সাজসজ্জা, গুছানো, জামাকাপড় ঠিক করা—সবাই ব্যস্ত যার যার মতো।
মেয়েরা একে একে সাজতে বসেছে, আজকের জন্য কোনও নির্দিষ্ট থিম নেই। যে যেটা ভালো লাগছে, সেটা পরছে।
লিসি ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে ইয়াবির দেওয়া ব্যাগ থেকে একটা লেহেঙ্গা বের করলো।
সাদা রঙের লেহেঙ্গা—একদম হালকা কাজ করা, দেখতে নরম-স্নিগ্ধ, যেন নিস্তব্ধ কোনো সকালবেলার কুয়াশা।
সে বসে পড়ে লেহেঙ্গাটা কোলে নিয়ে বলে—
—"সকালেও তো সাদা রঙ পরলাম, এখন আবার সাদা?"
তিশা হেসে বলে—
—"হুম, তো কি হয়েছে শুনি? দেখ তো কেমন সুন্দর! একদম সফট ফ্যাব্রিক, ঘেরও আছে, কম্ফোর্টেবলও মনে হচ্ছে। অত ভাবিস না, পরে ফেল!"
লিসি আর দ্বিধা করে না।
লেহেঙ্গাটাই পরে, আর সঙ্গে দেওয়া ওড়নাটা শাড়ির মতো করে গলায় জড়িয়ে নেয়।
ফলাফল? এক কথায় — "শাড়ি লেহেঙ্গা স্টাইল!"
অতিরিক্ত গর্জিয়াস না হলেও, এই সাদামাটা সাজেই লিসিকে লাগছে অপূর্ব।
সবাই সাজুগুজু করে নিচে নামে।
ছেলেরা তো জামা পরে সোজা দৌড় দেয় গার্ডেনে।
রাতের বেলায় গার্ডেনটা যেন স্বপ্নপুরী—চারিদিকে রঙিন লাইট, বিশাল একটা স্টেজ যেখানে অনায়াসে পঞ্চাশজন দাঁড়াতে পারবে।
একদিকে বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি ও স্ন্যাকস রাখা, অন্যদিকে ছেলেদের জন্য স্পেশাল ড্রিঙ্কস কর্নার—যেটা না থাকলে নাকি পার্টি চলেই না!
সময় তখন প্রায় সন্ধ্যা ৭:৩০।
একেকজন আসছে, কেউ গান গাইছে, কেউ খাচ্ছে, কেউ নাচছে, কেউ গল্পে ডুবে গেছে।
ঠিক তখনই গার্ডেনের একপাশ দিয়ে একদল হ্যান্ডসাম ছেলেরা ঢুকে পড়ে।
ইয়াবি, কাবির, ইশান, কিরিস—আর তাদের মাঝে আজকের পার্টির স্পেশাল গেস্ট, রিহান।
ছেলেরা সবাই শার্ট-প্যান্ট পরে এসেছে। সবারই দারুণ সাজ, কিন্তু সবচেয়ে আলাদা নজর কাড়ে কিরিস।
আজকে সে পরেছে একদম ক্রিম রঙের প্যান্ট, সেই পুরোনো দিনের ক্লাসিক স্টাইলে, যেটা এখনকার ছেলেরা আর পরে না।
তবুও তার শরীরের উপর এমনভাবে মানিয়ে গেছে যে মনে হচ্ছে, সাল্ট অব দ্য আর্থ, অভিজাতদের রাজপুত্র এসে দাঁড়িয়ে আছে।
উপরে পরেছে ব্ল্যাক শার্ট, ওপরে দু-তিনটা বোতাম খোলা—যার ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে হালকা বুকের রেখা, আর সেই confident posture, যা মেয়ে-দর্শকদের নিশ্বাস আটকে দেয়।
আর আজ কিরিসের চোখে একটা স্পেশাল চশমা।
না, তার চোখ খারাপ না।
সারাদিনের অফিশিয়াল স্ক্রিন টাইম, ডেটা অ্যানালাইসিস, ট্যাকটিকাল রিপোর্ট — এসব কাজের মধ্যে চোখে যাতে বেশি চাপ না পড়ে, তাই সে মাঝেমধ্যে এই হালকা সিলভার ফ্রেমের চশমা পরে।
চশমার ফ্রেমটা পাতলা,
একটা অলস অথচ এলিট প্রেসেন্স তৈরি করে।
চোখের পাতা বরাবর বসে থাকা সেই গ্লাসের কাঁচটা আলোর প্রতিফলন না দিয়ে বরং আলোকে শোষণ করছে।
এই একটুখানি চশমা,
তাকে শুধু স্মার্ট বানায় না, বরং মনে হয় —
“এই লোক চোখের পেছনে একটা দুনিয়া লুকিয়ে রেখেছে,
যেটা শুধু তাকালেই বোঝা যায়, কিন্তু কেউ পৌঁছাতে পারে না।”
এরপর মেয়েরা আসে।
সবার গায়ে বিভিন্ন রঙের লেহেঙ্গা, কেউ গর্জিয়াস, কেউ কিউট।
তবুও… এতসব রঙের মাঝে চোখ আটকে যায় এক জায়গাতেই।
লিসি।
একদম সাদা লেহেঙ্গা পরা, স্নিগ্ধ রূপে যেন রাতের গার্ডেনে নেমে আসা একটা পরী।
তার খোলা চুল, কানে ঝুমকা, ঠোঁটে হালকা গোলাপি টিন্ট—সব মিলিয়ে এক অন্য জগতের রূপ।
চারপাশে যার চোখ পড়ে, সে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।
সব মেয়েরা কথা বলছে, হাসছে, খাচ্ছে, কিন্তু লিসি… সে যেন একটা নিঃশব্দ আলোয় জ্বলছে।
সুরভী হেসে বলে—
আর যাই বলিস লিসি, আজ তোকে একদম পরী লাগছে!"
জারা মুখ টিপে—
"ছাড়ো তো তোমার পরী, আমি তো এই লেহেঙ্গা সামলাতেই পারছি না!"
ইশান এগিয়ে এসে বলে—
"আমি তো আছি, সামলে দেই!"
সবাই হেসে ওঠে।
কাবির তিশার পাশে দাঁড়িয়ে বলে—
"আজ তোমাকে আগের চেয়েও বেশি সুন্দর লাগছে।"
তিশা একটু লজ্জা পায়, মুখ নামিয়ে বলে—"থ্যাংকস..."
আরোবি হেসে বলে—
"ওই! আবার শুরু হলো প্রেম!"
রিহান—
"কেন? তোর আফসোস হচ্ছে?"
আরোবি—
"মরে গেলেও না! তবে শোন, আজকে কিন্তু স্টেজে কাপল ডান্স হবে, এখনই শুরু কর না হলে পরে পাবি না!"
ইশান হেসে আরোবির গালে হালকা চিমটি কেটে বলে—
"কি সুন্দর কথা মনে করিয়ে দিলে!"
এই কথার মাঝে হঠাৎ এক স্থানীয় মেয়ে এগিয়ে এসে বলে—
"সুরভী, তোর ভাইয়ের নাম্বার টা দিবি?"
সুরভী ভ্রু কুঁচকে—
"কোন ভাইয়ের? এখানে তো সব কয়টাই বুক!"
মেয়ে হেসে—
"আরে কিরিস ভাইয়া’র!"
সুরভী আঁতকে উঠে—
—"ওরে বাবা! যদি ও শুনে আমি নাম্বার দিয়েছি, তাহলে আজই আমার শেষ দিন!"
মেয়েটা মুখ গোমড়া করে চলে যায়।
লিসি লক্ষ্য করে, শুধু এই মেয়েটি না, আশেপাশের প্রায় সব মেয়েরাই কিরিসকে দেখেই উন্মাদ হয়ে উঠছে।
কেউ একে অপরকে ঠেলে দিচ্ছে, কেউ তাকিয়ে থেকে চোখ ফিরাতে পারছে না।
আর পাগল হবে নাই বা কেন?
এই লোকটার চেহারা আর অভিজাত ভাব—একেবারে রাজপুত রাজা মনে হয়।
আজকের ব্ল্যাক শার্টে আবার উপরের দুই-তিনটা বোতাম খোলা, যার ফলে মেয়েদের দৃষ্টি ঠিক যেন আটকে যাচ্ছে বুকের দিকে—বুকের শিরদাঁড়া সোজা করা রুক্ষ সৌন্দর্যে।
যদি রাগী না হতো, তবে হাজারটা প্রেমিকা হয়ে যেত তার।
কিন্তু সে কারো দিকে তাকায় না, কথা তো দূরের কথা।
সে শুধুই দূর থেকে তাকিয়ে থাকে... এক পরীর দিকে।
সব সাজগোজ, আলো আর হাসি-মজার পর এবার শুরু হয় আসল ব্যাচেলর পার্টি!
স্টেজে উঠে আসে ইয়াবি, হাতে মাইক্রোফোন, মুখে দুষ্টু হাসি, চোখে টুকটুকে এক্সাইটমেন্ট—
ইয়াবি:
"Ladies and gentleman, attention please!"
"আজকের এই ব্যাচেলর পার্টি আয়োজন করা হয়েছে আমাদের সকলের প্রিয় রিহানের জন্য! কারণ আগামী দিনগুলোতে সে আর ব্যাচেলর থাকছে না, মানে… সে আর single না, mingled হয়ে যাচ্ছে! হ্যাঁ, পরশু ওর বিয়ে!"
"আর এই জাঁকজমক পার্টিটার আয়োজন করেছেন আমাদের রায় চৌধুরী বাড়ির সবচেয়ে রাজার মতো পুরুষ, আমাদের বড় ভাই কিরিস! তাই, সবাই একবার না, দুইবার না, একটা জোরে, জোরদার, গর্জে ওঠা হাততালি হয়ে যাক কিরিস ভাইয়ের জন্য!"
পুরো গার্ডেন যেন কেঁপে ওঠে তালি আর চিৎকারে!
ইয়াবি আবার মাইকে—
"আজকের এই পার্টিতে হবে উড়াধুরা গান আর নাচের ধামাকা! শুরুটা করবে এই পার্টির সবচেয়ে স্পেশাল পারফর্মাররা— আমাদের পিচ্চি সদস্যরা!"
স্টেজ ভরে যায় ছোট ছোট কিউট কিউট বাচ্চাদের নাচে। কেউ গায়ে রঙ, কেউ মাথায় টুপি পরে টুকটুক করে নাচছে আর সামনের দর্শকেরা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।
আরামদায়ক সোফা আর রঙিন আলোয় ভরা সেই স্টেজ ঘিরে বসে আছেন বড়রা, কেউ গল্পে, কেউ স্মৃতিতে।
স্টেজে আবার ইয়াবি, এবার আরও উত্তেজিত স্বরে বলে—
"এবার পারফর্ম করতে আসছি আমি আর আমার বোন লিজা! সঙ্গে থাকবে আরও চমক, কিন্তু সেটা এখন বলবো না— প্লিজ ডিজে, প্লে দা মিউজিক!!"
DJ PLAY!!
গানের বিট বাজতেই উত্তেজনার ঝড় বয়ে যায় পুরো গার্ডেনে। সবাই তাকিয়ে থাকে স্টেজের দিকে।
লিসি, আরোবি, জারা একসাথে বসে, পাশে রিহান আর সুরভী, সামনের সোফায় কাবির, লিজা, তিশা।
রিহান: "হায়রে আমার কপাল! একটা পার্টনার নেই আজ, কী দুঃখ…"
আরোবি: "তোর মুখে ঠাট্টা পড়ুক! বিয়ে করতে যাচ্ছিস তুই— এখন আফসোস করছে পার্টনার নেই!"
সুরভী: "তুই যদি আমার কয়েক বছরের ছোট হতিস, এখন তোকে একটা ঠাস করে মারতাম!"
রিহান: (হাসি মুখে) "আহা! এটা তো আমার বোনের ইচ্ছে, নে মার— বোনের হাতে মার খাওয়ার আলাদা মজা আছে।"
সবাই হেসে ওঠে! ঠিক সেই সময় বাজতে থাকে পার্টির থিম সং—
"এই মনের রেডিও যদি হঠাৎ কেউ চালায়, ঘরেতে বসে কি আর থাকা যায়..." 
স্টেজে উঠে আসে ইয়াবি আর লিজা, তাদের সঙ্গে আরও বন্ধু-বান্ধব!
একসাথে নাচে সবাই, গানের তালে তালে পুরো পরিবেশ জমে ওঠে।
ক্যামেরাম্যান ক্যাপচার করে একেকটা স্মরণীয় মুহূর্ত— ঝলমলে আলো, হাসি, দুষ্টুমি।
জারা দাঁড়িয়ে ছিলো আরোবির পাশে, আপন মনে।
হঠাৎ ইশান পিছন থেকে আসতে থাকে চুপিচুপি।
লিসি সেটা দেখে কিছু বলতে যাবে, ইশান চোখে ইশারা করে— "চুপ!"
আরোবিও সব বুঝে যায়।
ঠিক তখন ইশান জারাকে ধরে ফেলে!
হঠাৎ এমন আচরণে জারা ভয় পেয়ে যায়—
ইশান কোনো মতে জারাকে টেনে স্টেজে তোলে।
সবাই দেখতে পাচ্ছে তাদের!
"দেখবি ঠিকই জিতে নেব একদিন তোকে,
তুই দেখবি আমি সোনা হবো তোর নলকে…"
জারার চোখে রাগের আগুন! সে গর্জে ওঠে, কিন্তু ইশানের হাল ছাড়ার নাম নেই।
নাচে টানে, আর জোরাজুরিতে শেষমেশ জারা রাজি হয়।
গান চলতে থাকে—
(মিউজিক বিট)
এইবার তিশা আর কাবির স্টেজে উঠে যায়।
সবাই একে একে একসাথে পারফর্ম করে:
ইশান, জারা, তিশা, কাবির, ইয়াবি, লিজা— একসাথে গানের শেষ লাইনে নেচে ফেলে এক দারুণ ক্লোজিং পারফর্মেন্স!
গানের শেষে গার্ডেন জুড়ে প্রচণ্ড করতালি!
সবাই খুশি, সবাই মজা পেয়েছে।
লিসি আর আরোবি তো হাসতে হাসতে কাঁদে—
কারণ, জারা নাচের শেষে বলেছে,
"এইবার তোকে ঠিক মেরে উসুল করে নেব!"
আর জারা সত্যিই শুরু করে ইশানকে মারধর!
ইশান (হাসতে হাসতে):
"উফ! আমি তো পৃথিবীর সবচেয়ে লাকি মানুষ! বিয়ের আগেই বউয়ের হাতে মার খাচ্ছি! মারো সোনা, অভ্যাস তো করতে হবে!"
জারা:
"তুই ডাক্তারের বাচ্চা! এমন মার মারবো— নিজেকে চিনবি না। চিকিৎসা তো দূরে থাক, তুই তো তখন দাঁড়াতেও পারবি না!"
সবাই হেসে গড়াগড়ি—
আর কিরিস দূর থেকে এই উন্মাদনা, মজার, উষ্ণ মুহূর্তগুলো নীরবে দেখছে, তার ঠোঁটের কোণে এক অম্লান হাসি।
ওদের টুকটাক ঠেলাঠেলি আর মারামারি দেখে সবাই হেসে কুটি কুটি, তখনই রিহান হেসে আরোবিকে উদ্দেশ্য করে বলে —
“দেখলাম তো, আমার সব বোনেরাই তো নাচলো! তোরা বাদ যাবি নাকি? হুঁ?”
সুরভী হাত উঁচিয়ে বলে —
—“সত্যি বলতে কী, আমি একা নাচবো না! যখন সবাই মিলে নাচবে, তখন আমিও নাচবো। আর তাছাড়া, লিসি আর আরোবি তো কাল রাত ধরে প্র্যাকটিসই করে যাচ্ছে! তোরা দুটো তো রীতিমতো প্রোফেশনাল হয়ে গেছিস।”
আরোবি চোখ টিপে লিসির দিকে তাকায়, তারপর বলে —
“চল, আমার বোন!”
বলে, একহাত লিসির আর একহাত নিজের তালি দিয়ে দুজনে একসাথে উঠে পড়ে।
এদিকে সুরভী মাইক হাতে নিয়ে ঘোষণা দেয় —
“এবার স্টেজে আসছে আমার দুই জানের বোন — লিসি আর আরোবি!”
তাদের নাম শুনেই ভিড় জমে স্টেজের সামনে, সবার চোখে জ্বলে ওঠে উত্তেজনার ঝলক। লিসির নাম শুনে কিরিসও চোখ তুলে তাকায় স্টেজের দিকে।
দুজনেই স্টেজে উঠে দাঁড়ানো মাত্র চারদিকের আলো যেন হঠাৎ ওদের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। ওদের সৌন্দর্য, কনফিডেন্স আর একসাথে দাঁড়ানোর অভিজাত ভঙ্গিমা মুহূর্তেই দর্শকদের নজর কাড়ে।
এদিকে লিজা নেচে ক্লান্ত হয়ে একপাশে বসে খেতে খেতে ওদের নাচ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাকিরাও — সবাই, প্রত্যেকটা কাজিন স্টেজের দিকে তাকিয়ে আছে টানটান উত্তেজনায়।
তখন কিরিস তার নির্জন কোণ ছেড়ে উঠে আসে স্টেজের একদম সামনে, তার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষ জায়গায় বসে পড়ে। কিরিস ভিড়ের ভেতর থাকতে চায় না — তার মতো মানুষ একা থাকতেই পছন্দ করে।
ইয়াবি তৎক্ষণাৎ উঠে এসে তার পাশে বসে।
এর মধ্যেই মার্ক ‘ড্রিংকিং জোন’ থেকে এক গ্লাস ওয়াইন নিয়ে আসে, পরিপূর্ণ সম্মানের সাথে সেটা কিরিসের হাতে তুলে দেয়।
কিরিস ওয়াইনের গ্লাস ঘুরাতে ঘুরাতে চোখ রাখে স্টেজের দিকে — এই ভিড়ে বসে থেকে, সামনে বসে ওয়াইন খাওয়া সবার পক্ষে অসম্ভব হলেও কিরিসের পক্ষে নয়। কারণ সে যে ‘কিরিস রে চৌধুরী’ — তাকে নিয়ে কেউ কিছু বলার সাহসই করে না। সবাই জানে, সে কী জিনিস।
♬ গান শুরু — আলো পড়ে স্টেজে
"বলছি তোমায় শুনে যাও,
একটু পলক ফেলে যাও
সকাল, দুপুর, সন্ধ্যেটা
সঙ্গী-সাথী করে নাও..."
লিসির পরনে সাদা লেহেঙ্গা, আর আরোবির গায়ে ঝলমলে হলুদ রঙের। দুজনেই যেন মঞ্চ আলো করে রাখে।
কিরিস একপ্রকার এক্সপেক্টই করেনি যে, লিসি এত চমৎকার নাচতে পারে!
তার ঠোঁটে এক শয়তানি হাসি খেলে যায়... ঠিক সেই মুহূর্তেই লিসির সঙ্গে চোখে চোখ পড়ে যায়।
এভাবে যদি তাকিয়ে থাকে, তাহলে নাচ বিগড়ে যাবে — মনে মনে বলে কিরিস, আর লিসি ঠিক তখনই চোখ ফিরিয়ে নেয়, মুখে এক টুকরো লাজুক হাসি নিয়ে নাচ চালিয়ে যায়।

0 Comments