সারারাত ধরে প্র্যাকটিস করা নাচ এখন যেন প্রাণ হয়ে উঠেছে। লিসি ও আরোবি — দুই আত্মা এক শরীর হয়ে প্রতিটি মুভমেন্ট, প্রতিটি স্টেপ একসাথে পারফর্ম করছে।
দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে — এক সেকেন্ডের জন্যও চোখ সরাতে পারছে না কেউ।
পরবর্তী গান শুরু —
"Ho Avi Gai Raat, Ane Bhulo Badhi Baat
Prem Ni Aa M ausam Che, Ab Aao Mere Paas
Rah Jaao Mere Saath, Prem Niya Mausam Che
Mil Jaaye Mujhko Agar Saath Tera
Toh Bhoolu Main Saara Jahaan..."
“Chogada Tara...
Chabeela Tara...
Rangeela Tara...”
এবারও দুজন একের পর এক নিখুঁত এক্সপ্রেশন, একসাথে টার্ন, ঘুরে দাঁড়ানো — যেন পেশাদার কোরিওগ্রাফি।
সবার দৃষ্টি আটকে আছে স্টেজের উপরে, হাততালি বন্ধ হয় না।
নাচ শেষে জোর তালি পড়ে চারপাশে, কেউ কেউ উঠে দাঁড়িয়েও তালি দেয়।
আরোবি দৌড়ে এসে রিহানের পাশে বসে হাসতে হাসতে বলে —
রিহান চোখ বড় করে বলে —
“পুরাই অস্থির! আমি তো ভিডিও করে রাখলাম নিজের ফোনে — বারবার চালাবো এখন!”
এরপর আরও কিছু মেয়ে স্টেজে উঠে পড়ে নাচের জন্য।
স্টেজ ধীরে ধীরে জমজমাট হতে থাকে।
এই ফাঁকে, কিরিস একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। কাঁধে হাত রেখে গভীর চিন্তায় নিমগ্ন — তারপর একসময় তাকিয়ে বলে —
“ইয়াবি, এখানে আয়! ওদেরও নিয়ে আয়।”
ইয়াবি চমকে ওঠে।
এইভাবে ডাকা মানেই নিশ্চয়ই কোনো কাজ আছে। কারণ কিরিস কখনও হুট করে ডাকেনা।
সে ছেলেদের দিকে তাকিয়ে ইশারা করে ডাকে।
ইশান মুখটা বাঁকিয়ে বলে —
“উফ্! আবার কাজ! বিয়েবাড়িতেও শান্তি নেই। কে আর কবে কিরিসের সামনে না করেছে!”
কাবির কাঁধে হাত রেখে বলে —
“চল ব্রো! থাকলেও তো করতে হবে — কারণ আমরা যে কিরিস ভাইয়ের ভাই।”
সবাই একে একে এসে কিরিসের সামনে দাঁড়ায়। পাশে দাঁড়িয়ে আছে মার্ক, আর গাছতলায় নিরবদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইয়াবি।
স্টেজে যখন লিসি-আরোবির নাচ শেষ, চারদিক জ্বলে উঠেছে উচ্ছ্বাসে — ঠিক তখন কিরিস একপাশে গিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে দাঁড়ায়।
ছেলেগুলো তখনও ভয় নিয়ে অপেক্ষা করছে, নিশ্চয়ই আবার কোনো "সিক্রেট অপারেশন" পড়লো হাতে।
কিরিস একবার সবাইকে চোখ বুলিয়ে দেখে।
তারপর ঠাণ্ডা গলায় বলে —
“তোদের আজ থেকে কিছু করতে হবে না"। বিয়ে উপলক্ষে তোদের ছুটি,বিয়ের পরে তোরা আবার কাজ করিস,এনজয় কর শুধু। আর বাকি কাজ সব আমি সামলে নেব।”
এই কথা শুনে চারজন যেন বজ্রাহতের মতো একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে!
ইয়াবি বিস্ফারিত চোখে বলে—
“তুই... তুই কি সত্যি বলছিস? আমি স্বপ্ন দেখছি না তো?”
কাবির সাথে সাথেই ইশানকে ঠেলা দিয়ে বলে—
“দোস্ত, আমাকে একটু চিমটি কাট তো!”
ইশান হেসে বলে—
“চিমটি না, তুই পুরো লাফ দে! কিরিস ভাই এমন কথা বলতেও পারে!”
চারজনই এমন খুশিতে টইটম্বুর হয়ে ওঠে যেন এখনই ফুলে ফেটে যাবে!
পকেট থেকে হিরোদের মতো একে একে সানগ্লাস বের করে, একই সাথে চোখে পরে... তারপর তাদের আলাদা সাইট মোছার ভঙ্গিতে, কাঁধ দুলিয়ে, হিরোওয়ালা এক্সপ্রেশন দিয়ে মঞ্চের দিকে এগোতে থাকে — যেন এটাই তাদের এন্ট্রি দৃশ্য কোনো বলিউড মুভির!
রিহান তখন সবার সামনে এসে চিৎকার করে—
“এই ডিজে! গান লাগা... এবার দেখাবো বর কীভাবে নাচে!!”
DJ তখন "কালা চশমা" গানের বিট ছেড়ে দেয়—
♬♬♬ কালা চশমা জাচদা অ্যাে!! ♬♬♬
গান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই স্টেজে উঠে পড়ে রিহান, ইশান, কাবির আর ইয়াবি — চারজন যেন একেকটা সুপারস্টার।
তাদের নাচ — উরাধুরা পাগলাটে, একেকটা মুভমেন্টে মঞ্চ কাঁপে।
কেউ মাথা ঘুরিয়ে চশমা ঠিক করে,
কেউ জুতো ছুঁড়ে ছুঁড়ে নাচে,
কেউ DJ স্ট্যান্ডে উঠে স্লো মোশনে কোমর দোলায়,
আর কেউ নাচতে নাচতে প্যান্টের পকেট থেকে রুমাল বের করে মাথায় বেঁধে পুরা সালমান খান মুডে চলে যায়!
এই পাগলামি দেখে মেয়েরা একেবারে হেসে গড়াগড়ি —
লিজা বলে — “এই পাগলগুলোকে কে থামাবে আজ?”
আরোবি লাফ দিয়ে বলে — “এদের কি কুকুর কামড়াই দিচ্ছে, নাকি পাগল হয়ে গেছে !”
সুরভী হাসতে হাসতে কাঁদে — “জারা, তিশা দেখ! এরা একেকজন পুরো নাটক হয়ে গেছে!”
তিশা বলে — “এই এন্টি-সিরিয়াস গ্যাংকেই আমি ভালোবাসি রে!”
এদিকে কিরিস দূর থেকে মাথা নাড়িয়ে মুচকি হেসে বলে —
“what is this, এদের বলাটাই ভুল হয়েছে... কী যে পাগল!”
ক্যামেরা তখন ওদের চারজনের ওপরে — ঘামছে, নাচছে, হাঁপাচ্ছে, আবার হাসছে —
আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে —
♬ Tenu kala chashma,
Tenu kala chashma, jachde aev
Jachde ae gore mukhde te ♬
এটা শুধু নাচ না এটা হচ্ছে ভাইয়েরা মিলে জীবনের সবচেয়ে মজাদার রাতটা জিতে নেওয়ার মিশন!
বাড়ির উঠোনের এক পাশে সাজানো চেয়ারে বসে আছেন পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ এবং গৃহিণীরা —
প্রিয়া, সুপ্রিয়া, মির্জা বেগম এবং শাশুড়িমা সহ আরো কয়েকজন।
চারপাশে আলো, শব্দ, উৎসবের গন্ধ, আর তাদের মধ্যে চলছে এক চিরচেনা, চুপিচুপি আলাপ —
কে কার বৌমা, কে কাকে পছন্দ করলো, কে কোন ঘরে আসছে...
তখনই এক মহিলা পান খেতে খেতে বলে ওঠে—
“সুপ্রিয়া, তোমার ছোট বৌমা তো চিনি। মেয়েটা খুব আদবকায়দার, হাসিখুশি… একটুও অবাক হইনি জানো ও তোমার ছোট বৌমা হবে জেনেও, বেশ ভালো তিশা মেয়েটা,
আর প্রিয়ার কথা না বললেই নয় — ওতো এই বউমা পেয়ে গেল, আর একদিন পরে ওর ঘরে ওর বউমা থাকবে
কিন্তু রায় চৌধুরী বাড়ির আসল বড় বৌমা? হ্যাঁ রে মা, ওকে আমরা কোনোদিন দেখতে পাবো না নাকি?”
এই কথায় চারপাশে হালকা হাসির ঢেউ ওঠে।
সুপ্রিয়া একটু গম্ভীরভাবে, যেন ভিতরটা চাপা দিয়ে বলে—
“তোমাদের কী বলি... আমি নিজেই জানিনা, আমি কোনোদিন আমার বড় বৌমার মুখ দেখে মরতে পারবো কিনা!
আমার ছেলেটা এমন, ওকে সামলাবে কে বলো?”
এবার আরেকজন একটু কৌতূহলী চোখে বলে—
“আচ্ছা, ওই যে আরবির পাশে একটা মেয়েকে দেখলাম… সাদাটে রঙ, চোখে কাজল, চুল এত লম্বা — ওটা কি তোমার বড় বৌমা?”
এই প্রশ্নটা শুনে সুপ্রিয়ার চোখে যেন একটু স্তব্ধতা নামে।
চোখের ভেতর কোথাও যেন ধ্বনি তুলে কিছু একটা খোঁজে —
"বড় বৌমা?"
বিশ্বাসই করতে পারে না, কথাটা এত সহজে কেউ বলে ফেললো!
পাশের এক মহিলা খিলখিলিয়ে হেসে বলে—
“বটেই তো! মেয়েটা তো কম সুন্দরী না! বরং আমি বলি, পুরো বাড়িতে ওটাই সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে!”
“আর তোমার ছেলেও তো কম সুন্দর না মা সুপ্রিয়া!”
এবার পাশ থেকে আরেকজন মিষ্টি গলায় বলে ওঠে—
“বিশ্বাস করো সুপ্রিয়া, যদি ওই মেয়েটাই তোমার বড় বৌমা হয়... তাহলে ওদের বাচ্চাগুলোও হবে একদম রসগোল্লার মতন — মিষ্টি আর সুন্দর!”
এই কথায় মির্জা বেগম এমনভাবে হেসে ওঠেন যেন শত বছরের রসগোল্লা মঞ্চে নেমে এসেছে!
“ঠিক বলেছো! কী বলো সুপ্রিয়া?”
এবার আবার আরপক জন বলে —
" তার মানে তুই আমাদের না জানিয়ে কিরিসের বিয়ে দিয়েছিস,
এই কথায় কেউ কিছু বলেনা, সবাই হাসছে
সুপ্রিয়া একটু হেসে, আবার একটু চুপ করে যায়।
এক মুহূর্ত সে কিছু ভাবে —
এক চিমটি খুশি, এক চিমটি দ্বিধা।
সুপ্রিয়ার পাশে প্রিয়া বসে বলে—
"তাহলে আমার বড়জা টা এবার বড় বউমা পেয়ে গেল,"
সুপ্রিয়া কিছু না বলে মুখে একটুকরো মিষ্টি হাসি আনে, চোখ ঘুরিয়ে দূরে তাকায়।
আর দূরে দাঁড়িয়ে আছে কিরিস।
একদম নিঃশব্দ, এক কোণে।
কাঁধে হাত গুঁজে, মুখ গম্ভীর, চোখ ঠান্ডা।
তারপর লিসির দিকে তাকায়, সে বেশ সবাই সাথে হেসে কথা বলছে, সবার সঙ্গে মজা করছে,,
ঠিক তখনই পাশে থাকা শুভ্রা এক দম দিয়ে বলে—
“উফ্! কিসের দিকে তাকিয়ে আছো তুমি! ওদিকে তো ছেলেরা একদম হাপিয়ে নিচে পড়ে আছে!”
নাচ, লাফালাফি, হিরো স্টাইল পারফর্ম করে ছেলেরা এবার একে একে নিচে নেমে পড়ছে।
রিহান প্রথমে বলে—
“ভাইরে ভাই... আর পারছি না! মনে হচ্ছে এখনই কিডনি বের হবে!”
ইশান বসে পড়ে,শার্টের বোতাম খুলে—
“আমার তো মনে হয় জিমে গেলেও এমন ঘামতাম না... রিহান, কনফার্ম কর, ড্যান্স শেষ, হ্যাঁ?”
কাবির পাশ থেকে বলে—
“ড্যান্স শেষ হইলেও এই বিয়ে শেষ না!
ইয়াবি দম ধরে রাখে আর বলে—
“আজকের রাতটা তো পুরো ‘তরুণদের স্বাধীনতা দিবস’ ছিল রে!”
“সত্যি, কাজ নেই, দায়িত্ব নেই, শুধু মজা — ধন্যবাদ কিরিস ভাই!”
পাশে দাঁড়িয়ে কিরিস তখনও চুপচাপ, ওয়াইন হাতে, চোখে এক ঝলক হাসি।
কারো দিকে না তাকিয়ে শুধু একবার গম্ভীর কণ্ঠে বলে—
“এক্সট্রা এনার্জি তো এখন দেখাই দিছিস, কাল সময়মতো তৈরি থাকিস... লাফিয়ে নাচা না, বিয়ে ঠিক মতো শেষ করিস।”
এই কথা শুনে সবাই হেসে ওঠে।
নাচের ধুমধাম, হুল্লোড়, আর আনন্দে ভরে উঠেছিল চারপাশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই একটু একটু করে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ে। কে কোথায় বসেছে, কারো ঘাম ঝরছে, কেউ পানি খাচ্ছে, কেউ হাওয়া নিচ্ছে। কিছুক্ষণ চুপচাপ মুহূর্ত, নিঃশব্দে হাঁপানো হাসির রেশ।
এই ভিড়ের মাঝেই এক কোণে দাঁড়িয়ে ইয়াবি, কাবির আর ইশান নিজেদের মধ্যে গুছিয়ে নিচ্ছিল একটা গোপন পরিকল্পনা।
ইশান (চোখ টিপে) — “তুই ঠিক করেছিস তো তোর স্টেপটা? ভুল করলে কিন্তু ভাইয়ার সামনে মানসম্মান খেয়ে ফেলবি!”
কাবির (হালকা ঘামে ভেজা কপাল মুছতে মুছতে) — “চিন্তা করিস না, ভাইয়ার জন্য জেতা-পাগলামি দুই-ই চলবে আজ!”
ইয়াবি (হাত উঁচিয়ে তালি দিয়ে) — “Attention please everyone!”
চারদিকের গুঞ্জন এক মুহূর্তে স্তব্ধ। সবাই তাকায় তার দিকে।
ইয়াবি (হাসতে হাসতে মাইক্রোফোন হাতে স্টেজে উঠে) —
“আজকের রাতটা একটু স্পেশাল। কারণ আমাদের প্রিয় ভাই রিহানের বিয়ে হতে চলেছে!
আর সেই খুশিতে, আমরা তিন ভাই— আমি, কাবির আর ইশান— একটা ছোট্ট উপহার নিয়ে এসেছি ওর জন্য।
This is for you, bro! Just for you.”
এই বলে সে এক পাশে সরে যায়, কাবির মাইক্রোফোন হাতে নেয়।
কাবির (গম্ভীর ভঙ্গিতে, কিন্তু মুখে দুষ্টু হাসি) —
“তুই সবসময় আমাদের বলতি, ‘তোমরা আমার জন্য কিছু করো না!’
আজ আর না— কারণ এই মঞ্চটা আজ শুধু তোর জন্য!”
ইশান দ্রুত পেছন থেকে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক চালু করে।
Kudiyan de dil utthe rule karaange
Ehi bazaararan vich phaili hai hawa
To daange romeo de love da record vi.............
(একসাথে ছেলেরা, ভাইয়ের জন্য এক ঝাঁক আনন্দ আর এনর্জি নিয়ে পারফর্ম করতে শুরু করে।)**
সবার চোখ তাদের দিকেই। মা, খালা, ছোট ভাই, মেহমান, এমনকি রিহান নিজেও চমকে তাকিয়ে থাকে।
তিন ভাইয়ের পায়ের তালে তালে স্টেজ কাঁপে। নাচের মধ্যে কখনো মজার স্টেপ, কখনো চমকানো একসাথে ঘুরে যাওয়া, মাঝেমাঝে রিহানকে তাক করে হাসি ছুঁড়ে দেওয়া— পুরো পরিবেশে যেন একটা ঝড় উঠলো।
রিহানের মুখে একটুকরো প্রশংসার হাসি। সে চেয়ারে বসে, হাততালি দিতে দিতে বলে—
রিহান (হাসতে হাসতে) — “তোমরা পাগল! But I love you guys!”
পেছনে বাজে— “Hum yaaron bigde hain dil apna sharecf bada,,,,
Make Some Noise For The Desi Boys!
1,2,3,Go,,,,
English tohumke dilki rhythm de maare jamm jamm ke Desi Boys,,,,,,,
এরপরে আরেকটাগান বাজে যেটা শুনে রিহান এক প্রকার লজ্জায় পরে যায় কাণর এটা রিহানে প্রিয় গানের মধ্যে একটা, আর এরা তিন জন এই গানে নাচবে ভাবলেও রিহানের লজ্জা করছে, মেয়েরা তো গান শুনে আর ওদের ডান্স স্টেপ দেখে হেসে গড়াগড়ি সবকটা একে অপরের ঘাড়ে পড়ে যাচ্ছে হাসতে হাসতে আর তাদেরকে চিয়ার্স করছে চালিয়ে যাও ভাইয়েরা সুন্দর হচ্ছে এরকম বিভিন্ন প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে আশপাশ থেকে তারা চায় তিনজন তো উদ্যমে নাচ্ছে,,,,
গানটা হলো, ------"Gentleman "
Allanggamolla wae hwakkeunhaeya haneungeonji
Allanggamolla wae malkkeumhaeya haneungeonji,,,,,,,,,,
এরপরে লাইনের ডান্স স্টেপ দেখে সবাইতো চারপাশ থেকে হয়েই লোড করতে শুরু করে দিয়েছে ওহো ওহো সেই সুন্দর হচ্ছে,,,,,,,
লাইটা হলো,,,,,,,,,
Ah Ah Ah Ah~ I’m a...
Ah Ah Ah Ah~ I’m a...
Ah Ah Ah Ah~ I’m a
mother father gentleman,,,,,
তাদের এই উরাধুরা নাচ শেষ করে ওরা নিচে নামে,,,,,
ঘাম, হাসি, ক্লান্তি—সবকিছু মিলিয়ে একধরনের প্রশান্তি ছড়াচ্ছে।প্রায় ১ ঘন্টা মতো বিশ্রাম নিয়ে ছেলেরা ও বাকিরা, আবার চিল মুডে ফিরে আসে, তাদরে সমস্ত ক্লান্ত দুর হয়ে যায়,সবাই নিরবে ঠান্ডা বাতাসে বসে গল্প করছে,
তখনই হঠাৎ রিহান মজা করে বলে—
—"দ্যাখলি তোরা, আমাদের নাচ! পারবি তোরা এমন?"
মেয়েরা হেসে হেসে দমে যায় না একটুও।
জারা বলে—
"আমরা যা পারি... তার সামনে তোরা কিছুই না!"
সুরভী বলে—
"চল দেখি এবার! যেই না বলে দিলে, স্টেজে তুলেই ছাড়বো!"
ইশান হাসতে হাসতে বলে—
"আচ্ছা! দেখা যাক তাহলে... চল স্টেজে, মেয়ে বনাম ছেলে — আজ রাতটা যুদ্ধের!"
কথা কাটাকাটি করতে করতে বেধে যায় ছেলে মেয়েদের মধ্যে দন্ত, এবার সবাই নাচের চ্যালেন্স এর জন্য প্রস্তুত
স্টেজে দুই পাশে ভাগ— এক পাশে ছেলেরা, এক পাশে মেয়েরা।
চারপাশে উত্তেজনা, হাততালি, উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে পুরো বিয়ের গার্ডেন।
বড় স্টেজ — আলো আর স্পটলাইটে ভরে ওঠে।
সব বয়সী অতিথিরাই চোখ রাখে সেখানে — কেউ হাততালি দেয়, কেউ মোবাইল বের করে ভিডিও করতে ব্যস্ত।
এদিকে আনোয়ার একপাশে দাঁড়িয়ে বলে—
"সুপ্রিয়া, সবাই অনেক ক্ষণ ধরে বসে আছে, মা চাচিদের ঘরের ভিতরে নিয়ে যায়,সবার খাবার দিয়ে দাও অনেক রাত হলো, চলো আমি যাবো,,,, দোস্ত চল ।"
এরপর একে একে আনোয়ার আনারুলের বন্ধু রা সবাই উঠে চলে যায়, প্রিয়া কিছু বলতে গেলে মির্জা বলে —"আমরা গিয়ে রেস্ট নি এরা এখানে থাকুক, মজা করতে দাও এবার চলো সবাই "
সুপ্রিয়া, মির্জা বেগম সহ অনেক বড়রা ধীরে ধীরে উঠে যায়, কিন্তু উৎসাহী অনেকে থেকে যায়।
আর পুরো তরুণ দল?
তারা তো একাই একশো!
এবার শুরু হয় নাচের দন্ত, সবাই ফুল এনার্জি নিয়ে দাড়িশে আছে প্রথমে মেয়েদের পক্ষ থেকে প্রথম গান বাজে — ‘চিকনি চামেলি’!
♬
"Bichhoo mere nana badi zehereeli ankh maare kamsin kamariya saali ik thumke se lakh maare(ll)..."
♬
স্টেজে মেয়েদের এক্সপ্রেশন, হিপ স্টেপ, চুল দোলা —
ছেলেরা রীতিমত চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।
ইশান রিহানের পাজা ধরে বলে—
—"ভাইরে ভাই... আমার জারা কি নাচ রে!"
রিহান হেসে গড়াগড়ি—
—"এইটা দেখে তো শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে!"
লিসি, জারা, সুরভী, তিশা, আরোবি — প্রত্যেকের স্টেপে এক ধরণের কিলার গ্রেস। ছেলেরা তো সবাই একে অপরের ঘারের উপরে পরে যাচ্ছে মেয়েদের এই উুরাধুরা নাচ দেখে,,
তাদের সাজপোশাক, আলোর খেলা, ছেলেদের মাঝে পাগলামি!
এদিকে কিরিস একপাশে বসে — চোখ তার লিসির ওপরই।
সে নাচছে, তালে তালে ঘুরছে, হাসছে,
আর হঠাৎ ওড়না একটু সরতেই মসৃণ কোমর আর সাদা পেটের ঝলক...
কিরিস চোখ সরাতে পারে না।মনে মনে ভাবে সে যদি স্টেজে থাকতো তাহলে লিসির এই রুপ দেখে কি করত সে নিজেই জানে না, হয়তো নিজেকে সামলাতে পারতো না, আবার হঠাৎ হঠাৎ
ভিতরে ভেতরে কিরিসের মনে হচ্ছে, কেউ যেন তার জিনিসের দিকে তাকাচ্ছে —
"তাকে দেখবে কেউ? কেন?"
লিসিও বুঝতে পারছে সে দেখছে, কিন্তু দেখার ভান করছে না।
বারবার চোখ সরিয়ে নিচ্ছে কিরিসের দিক থেকে।
মেয়েদের নাচ শেষ। এবার ছেলেদের পালা।
বাজে একদম বিখ্যাত বিট —"Badtameez Dill "
Paan main pudina dekha,
Naak ka nageena dekha,
Chikni Chameli dekhi,
Chikna kameena dekha......
♬
রিহান, ইশান, কাবির, ইয়াবি স্টেজে ঝাঁপ দেয়।
তাদের নাচ — স্টেপ, পাগলামি, কোমর দোলা, একদম মাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে,
পাশের মেয়েরা হাত চেপে হাসছে।
সবার হাসি, চিৎকার, হাততালি —
এই দ্বন্দ্ব যেন রঙে রঙে, গানে গানে গড়ে ওঠে। এবার শেষ মুহুর্তে সব দন্ধ শেষ করে সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে পরে আর শেষে সবাই মিলে ‘উরাধুরা’ মিশ্র নাচ — একসাথে!
♬ "Let the music play...Let's Nacho"....... ♬
চোখে আনন্দ, মুখে হাসি, মন ভরে যায় যেন।
কিন্তু… কিরিস এবার চুপচাপ উঠে যায়।
একটু দূরে দাঁড়িয়ে তার চোখে এক অজানা রাগ আর দুর্বলতা।
কেন? কারণ সে কিছুই বলতে পারে না, শুধু দেখতে পারে।
ছেলেরা স্টেজ থেকে নেমে গেছে।
সবাই এখন নিচে বসে জিরিয়ে নিচ্ছে।
কেউ কোল্ড ড্রিংকস খাচ্ছে, কেউ বাতাসে বসে গল্প করছে।
তখনই রিহান ইয়াবির কানে কিছু ফিসফিস করে বলে।
ইয়াবি একদম দাঁড়িয়ে বলে—
"এইটা তো একদম ফাটাফাটি আইডিয়া! ভাই আমি বলছি, এটা করতেই হবে!"
তখনই ইয়াবি মাইক হাতে নিয়ে বলে—
"এই যে... এতক্ষণ নাচ-গান হলো। এবার একটু শান্ত কিছু হোক না?আর রাত ও অনেক হয়েছে তাই আমরা সবাই এই ব্যাচেলার পার্টি এবার শেষ করবো,,,,,,, শান্ত কিছু বলতে আমাদের মাথা আসে গান so একটা সুন্দর গান শুনে আমরা এই পার্টি শেষ করবো! আর গান গাওয়ার জন্য ডাকা হচ্ছে আজকের রাতের হিডেন সুপারস্টার... আমাদের বড় ভাই কিরিসকে!"
এই নাম শুনে সবাই চমকে যায়।
লিসি অবাক, তিশা তাকায়,
রিহান চিৎকার করে—
"ভাইয়া, আজকে মাইকে আপনি! প্লিজ!!"
কিরিস কিছুটা অবাক। সে গান জানে, গিটার বাজাতে পারে, কিন্তু কখনো গেয়েছে না এইভাবে।
সে একটু থামে, তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়…
সবার একটাই চাওয়া—
“কিরিস গান গাবে!”
কিন্তু কিরিস দাঁড়িয়ে আছে এক কোণে, চোখে তীব্র এক নিরাসক্ততা।
কারো অনুরোধে কিছু আসে যায় না ওর,
এমনকি রিহান, ইশান, ইয়াবি, কাবির সবাই একসাথে মিলে বলে—
"ভাইয়া প্লিজ! একবার গা গান... তুই জানিস না তোদের এই গলার জন্য আমরা কতো গর্ব করি!"
ইশান তো চিৎকার করে এমন বললো যেন চৌদ্দগুষ্টি ডাকছে—
"এই ভাইয়া! একটা গান গাইতে এত অ্যাটিটিউড? এই যে এই! আমাদের হাউসের বিয়ে, এইটাই শেষ রাতে একটা গান শুনতে চাই!"
কাবির " তুই গাবিনা মানে তোর চোদ্দগুষ্টি গাবে "
কাবিরের কথায় কিরিস ঠান্ডা গলায় বলে —" তাহলে গা তোরা! আমায় বলছিস কেনো"
রিহান—" আরে না কাবির মজা করছে, তুই আমার জন্য অন্তত গা আমার বিয়ে তো আর বারবার হবে না একবারই হবে, প্লিজ গা,"
কিরিস কিছু বলে না সে তার কথায় অটুট
এদের চেঁচামেচি দেখে চারপাশে হাসির রোল উঠেছে,
কিন্তু কিরিস নীরব।
এক পা সামনে না।
এই হট্টগোলের মাঝেই একটু পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা লিসি ফিসফিস করে বলে—
—"গান গাইতে পারে না, এটা তো বলবে না।
মানুষের সামনে ধমক দিতে, ভয় দেখাতে পারে ঠিকই — গান গাওয়ার সময় চুপসে যায়?"
তার স্বর ছিল ফিসফিস, কিন্তু
কিরিস ঠিকই শুনে ফেলে।
তাদের মাঝখানে কোনো শব্দ ছিল না, কোনো শব্দের দরকারও ছিল না।
সে ধীরে ধীরে লিসির দিকে এগিয়ে আসে...
সোজা চোখের সামনে মুখ এনে বলে—
"তুমি বলেছো আমি পারি না?"
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা লিসি হেসে বলে—
"আহা! আমি তো কিছু বলিনি!
কিরিস —" মনে মনে বলছো "
লিসি—" মনে মনে বললে আপনি শুনতে পাবেন কি করে!?"
কিরিস মুখে একটা শয়তানি আর মুচকি হাসি টেনে বলে
"লিসি সার্মা মনে বলে লাভ নেই, কারণ তোমার মনের রাস্তা এই কিরিস রায় চৌধুরীর মনের ভিতর দিয়ে গেছে,,,,,,
লিসি চোখ বড়ো বড়ো করে কিরিসের দিকে তাকায়, তাদের দু'জনে এই কথা শুধু তাদের দুজনের মাঝে থাকে আশপাশের লোক শুধু দেখেছে কিরিস আর লিসি কথা বলছে কিন্তু কি বলছে সেটা শুনতে পায় নি,,,,এবার
কিরিস আর একটাও কথা না বলে, সোজা এগিয়ে যায়...
স্টেজে উঠছে কিরিস।
এক হাতে গিটার তুলে নেয়,
স্টেজে একসাথে স্পটলাইট পড়ে তার উপর —
গার্ডেনের মাঝখানে যেন সময় থেমে যায়।
আলোর ফোকাসে কিরিসের চোখে এখন একচিলতে গভীরতা,
নিঃশব্দে গিটারটা কোলে তোলে।
ততক্ষণে DJ সব বন্ধ করে দিয়েছে।
চারপাশ নিঃশব্দ।
কিরিস এবার এক নিঃশ্বাসে বলে—
—"এই গানটা আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে গাইছি না।
আমি শুধু আমার মনের কথাটা বলছি।
শুধু চেয়েছিলাম, কেউ শুনুক আর যার বুঝার সে বুঝুক।"
♪টাল মাটাল মনটা কিছু তোমায় বলতে চাই,,,,♪
♪ বেসামাল ভাবনা গুলো তোমায় ছুঁতে চায়,,,, ♪ (ll)
♬ আমি শুধু চেয়েছি তোমায়,,, ♬ (llll)
♪ না লেখা চিঠি গুলো মন পাহারায়,,, ♪
♪ ♪ ♪ ♪,,,,,,,,,,,,,,,,
তার গলার সুর যেন মঞ্চ কাঁপিয়ে না তুলে,
চুপিসারে মানুষের হৃদয় ভিজিয়ে দেয়।
প্রত্যেকটা শব্দ যেন গিটার স্ট্রিং ছুঁয়ে কাঁপে —
আর সেই মৃদু কম্পনে লিসির মুখে ছায়া পড়ে —
সে থেমে যায়, চুপ করে কিরিসের দিকে তাকায়।
লিসির চোখে তখন বিস্ময়, মুগ্ধতা, আর…
কোনো অজানা তীব্র টান।
সেই কিরিস, যাকে সবাই ভয় পায় —
আজ তার কণ্ঠে প্রেমের এক অচেনা আকুতি।
গান চলতে থাকে…
♪ কতদিন ভেবেছি শুধু দেখবো যে তোমায়।
ক্লান্তহীন তুমি ছিলে আমার কল্পনায়
সেই ছবি উঠল ভেসে চোখের ই পাতায়,,, ♪
চারপাশের সবাই নিঃশব্দ।
রিহান ফিসফিস করে ইশানকে বলে—
—"ভাই... ভাইটা আমাদের যা শোনাল… আমি প্রেমে পড়ে গেলাম!"
তিশা জারা লিজা মুখে হাত চেপে ধরে —
"ওয়াও... এত সুন্দর গলার অধিকারী ছিল!"
গান শেষ। নিঃশব্দ চারপাশে হাততালি।
কিন্তু কিরিস কিছু বলে না,
সে উঠে দাঁড়ায়, গিটার নামিয়ে রাখে...
চোখে একবার শুধু লিসির দিকে তাকিয়ে চলে যায় পিছন দিকে।

0 Comments