উপন্যাস : তোমাকে চাই

লেখিকা : নুসরাত জাহান মিথিলা

পর্ব:১১

 

কিরিস পিছন দিকে চলে গেলে, সব ছেলে কয়টা ওর পিছন পিছন যায়।

কিরিস কদম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে, আর তার চারপাশে ছেলেরা, নানা কথা বলছে কিরিসকে—

ইয়াবি— “আহ,,, চিন্তা করিস না bro পেয়ে যাবি!!”

রিহান— “কিরিস বলনা মেয়েটা কে,,,,,,,”

কাবির— “হ্যাঁ, যার জন্য তোমার মনে মিষ্টি যন্ত্রণা।”

কিরিস কিছু না বলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় লিসির দিকে।

ওইদিকে দাঁড়িয়ে থাকা লিসির মুখে মৃদু হাসি।

তার রূপ যেন কিরিসের চেতনায় ছায়া ফেলে— অদ্ভুত নরম, অথচ দৃষ্টিনিবদ্ধ।

হঠাৎ কিরিস ছেলেগুলোর দিকে এমনভাবে তাকায় যে এক সেকেন্ডে চারপাশ নিস্তব্ধ।

তারপর ঠান্ডা গলায় বলে—

“আম পারতে যাবি।”এই কথা শুনে ছেলেগুলো থমকে যায়, তারপর হঠাৎ চিৎকার করে কিরিসকে জড়িয়ে ধরে।


কিরিস একটু অবাক— ওদের কি কোনোদিন আম পারতে নিয়ে যাই নি যে এত উচ্ছ্বাস?

এই হট্টগোল দেখে মেয়েরা এগিয়ে আসে।

রিহান: “বিশ্বাস হচ্ছে না bro! তুই সত্যি!”

ইশান: “আমি অনেকদিন আম খাইনি রে, ওফফ…”

কাবির: “কিন্তু এখন গেলে তো…”

ইয়াবি: “বাড়ি ফিরতে পারবো না, মামিরা খুঁজবে! যেমনটা সবসময় হয়!”

সুরভী: “আরে আম! এই অসময়ে কোথায় পাবে আম?”

কিরিস (রেগে): “Shut up! সব সময় মুখে কথা... এখান থেকে যাও। আমাদের কাজ আছে।”

এই কথা বলে ওরা কয়টা ছাদের দিকে চলে যায়।

মেয়েরা একে অপরের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে হেসে ফেলে।

আরোবি— “যাক বাবা, জোর কা ঝাটকা না জোরোছে লাগা না ধীরেছে লাগা, What a সমস্যা!”

সুরভী— “Very সমস্যা… বাদ দে তো, চল আমরা গিয়ে পেস্ট্রি খাবো।”

মেয়েদের কাছে এইসব বকা কিছু না— একদম normal বিষয়।

মেয়েরা এক ট্রে ধরে সব পেস্ট্রি নিয়ে আসে, একটা টেবিলে কয়টা বসে, একটা একটা করে সবাই নেয়, এক চামচ মুখে দিয়ে যেন অমৃত স্বাদ লাগে।

সবাই চোখ বন্ধ করে প্রশংসা করতে থাকে কেকের।

জারা— “উম,,, yummy! এত সুন্দর স্বাদ, মানতে হবে!”

তিশা— “আসলে বেশ মজা… লিসি, আর নিবি?”

লিসি— “না, আগে এটা খেয়ে নিই, তারপরে…”

ব্যাচেলর পার্টি এক পর্যায়ে শেষের পথে,

সবাই যে যার মতো খাওয়া-দাওয়া করছে, নাচ-গানের উল্লাস নেই তবুও এক অজানা আনন্দ এখনো বিরাজ করছে পুরো গার্ডেন জুড়ে।

সবাই যে যার মতো এখানে ওখানে খাওয়া-দাওয়া করছে।

ছেলেগুলো উপরে গিয়েছে, তাদের ‘বিশেষ’ আম নিয়ে আলোচনা করতে।

কাবির— “Bro, কোন branded খাওয়াবি ! আগে চাই, ফ্রান্সের ব্র্যান্ড চাই…”

কিরিস— “একটু পরে… সবাই যে যার মতো ঘরে যাক। পরে আমরা যাব। মার্ক ওদিকে সব তৈরি করে রেখেছে। আর মাকে বলেছি এজন্য, তোদের চিন্তা নেই।

আর এটা ধর, তোর বড় ভাই তরফ থেকে ছোট্ট একটা ট্রিট। ঠিক আছে?”

রিহান— “Oh bro, you are best!”

ইয়াবি— “নিচে চল, না হলে ওই মেয়ে কয়টা সব খেয়ে নেবে!”

ছেলেরা নিচে চলে যায়, ওরাও এবার খেতে শুরু করে, মেয়েদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে।

ওদের ভিতরে হালকা গল্প, একটু মারামারি, খুনসুটি চলতে থাকে টেবিলে।

লিসি টেবিল ছেড়ে উঠে যায়, একটু কোল্ড ড্রিঙ্কস আনতে।

যাওয়ার পথে একটা ছেলের সাথে ধাক্কা লাগে।

লিসি কিছু মনে করে না… স্বাভাবিক বিষয়ই মনে করে।

সে কোল্ড ড্রিংকসটা নিয়ে আবার আসে।

আসার পথে আবার সেই একই ছেলেটা লিসিকে ধাক্কা দেয়।

এইবার ব্যাপারটা অস্বাভাবিক লাগে লিসির কাছে।

তবুও বেশি কিছু না বলে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল…

তখন সেই ছেলেটা বারবার লিসিকে ধাক্কা দিচ্ছিল, বাজেভাবে…

বারবার লিসির গা ছোঁয়ার চেষ্টা করছে।

লিসি কিছু বলতে পারছে না— এতো গুলো মানুষের ভিড়ে কী বলবে?

কে কি মনে করবে এই ভেবে লিসি সরে দাঁড়ায়।

কিন্তু উপরে থেকে একজন সব দেখছে… কিরিস।

ঠান্ডা মাথায়, শান্ত দৃষ্টিতে, ভেতরে আগুন।

সে মার্ককে ডাকে, মার্ক তার পাশে এসে দাঁড়ায়।

কিরিস (চোখে আগুন, মুখে ঠান্ডা স্বর)—

“এর কি করা উচিত…?!”

মার্ক বলে—

“মৃত্যুর চেয়ে যদি বড় কোন সাজা হয়ে থাকে, সেটা দেয়া উচিত।”

কিরিস (মুখে শয়তানি হাসি টেনে)—

“তোমার উপর ছেড়ে দিলাম…

তোমার বসের হবু বউয়ের গায়ে হাত দিয়েছে…

তাহলে তার ঠিক যা যা করা উচিত তুমি তাই তাই কর।

আর হ্যাঁ, ফোন লাইনে রেখো।

গার্ডেন থেকে সরাও এই ময়লাকে…

আমি তোমাকে পাঁচ মিনিট দিচ্ছি।”

মার্ক মাথা নাড়িয়ে চলে যায়।

ওই ছেলেটা তখন তার বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছে—

“ওফ… ওই মেয়েটা কি সুন্দর রে! ওর গা তো নয় যেন নরম তুলো… এখানে আরেকটু দাঁড়া, ওকে আবার একটু ছুবো…”

এই বলে ছেলেটা আবার এগোয়।

হঠাৎ করে গার্ডেনে ঢুকে পড়ে অনেক কয়জন,

ওই ছেলেটাকে ঘিরে ধরে।

মার্ক শুধু পকেট থেকে একটা ছোট্ট পিন বের করে, ছেলেটার গলায় ঢুকিয়ে দেয়…

এক মুহূর্তেই ছেলেটা সেন্সলেস হয়ে যায়।

মার্ক ওর হাত আর কাঁধে রেখে, মাজা ধরে হাঁটতে নিয়ে যায়।

একদম কিছুই বোঝা যাচ্ছে না…

মনে হচ্ছে যেন বন্ধুর মতো কাঁধে হাত রেখে গল্প করছে।

উপরে দাঁড়িয়ে থাকা কিরিস, হাতে থাকা ওয়াইনের গ্লাসটা বারবার ঘুরাতে থাকে…

চোখ সরায় না।

মার্ক ছেলেটাকে গার্ডেন থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

এই দৃশ্যটা আবার ছেলেদের মধ্যে ইয়াবি টের পায়—

ইয়াবি— “মানতে হবে bro! তোর জিনিস আসলেই অনেক দামি…

যেটা ছোঁয়ার অধিকার শুধু তোরই আছে।”

রিহান— “কি বলছিস রে তুই?”

ইয়াবি— “কিছু না, তুই আমাকে চিকেন ফ্রাই দে!”

লিসি একটু স্বস্তি ফিল করে,

এখন আর ছেলেটা আসছে না।

একটু চোখ ঘুরিয়ে দেখে— গার্ডেন একদম ফাঁকা সেই দিকটায় আর ছেলেটা ও নেই।

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, এরপর আরোবি কে বলে—

“আমি একটু ওপরে যাচ্ছি, ভালো লাগছে না আমার।

ফাঁকা যাচ্ছি, ঠিক আছে?”

আরোবি— “হুম, ঠিক আছে। যা… কিন্তু চলে আসিস দ্রুত!”

লিসি— “হুম, ঠিক আছে।”

বলে লিসি চলে যায়…লিসি ছাদের উপরে এসে দাঁড়িয়ে আছে।

আকাশটা অনেকটাই ফাঁকা… নরম আলো, মৃদু হাওয়া, নীরব পরিবেশ।

ওর মনে হচ্ছিল, ছাদে একা… একদম একা।

কিন্তু না…

কিছুক্ষণ একা দাঁড়িয়ে থাকার পরে হঠাৎ করে হাওয়াটা কেমন যেন ভারি হয়ে এলো।

মনে হলো… পেছন দিক থেকে কেউ আসছে।

লিসি একটু ঘাড় ঘোরাতে গিয়েও থেমে যায়…

সে, কিরিস।

চুপচাপ সোজা এসে লিসির পাশে দাঁড়ায়।

তার গলার স্বর কঠিন, ঠান্ডা, রাগে ভারি—

“ওই ছেলেটা বাজে ব্যবহার করছিল… সেটা বলা যায় না নাকি? তোমার মুখ নেই? বাজেভাবে তোমার গায় হাত দিচ্ছে আর তুমি সহ্য করছো,লিসি?”

লিসির মুখ নিচু…

হঠাৎ কিরিস ওর হাত ধরে ফেলে।

মুঠোর মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরে।

লিসি— “আমাকে ছাড়ুন! আমাকে ছোঁবেন না! আমাকে একটু একা থাকতে দিন…”

কিন্তু কিরিস তখন আর থেমে নেই…

রাগে, জেদে, … সে লিসির কাঁধ দুটো শক্ত করে ধরে ফেলে—

“বুঝেছি… এখন বুঝি আমি ধরছি বলে রাগ হচ্ছে?

অন্য কেউ ধরলে… খুব ভালো লাগতো, তাই না?”

লিসি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে।

লিসি—

“আমার ভালো লাগছে কিনা, সেটা আমি জানি…

আর আমি আপনাকে কেন বলবো?

আপনার এত অধিকার কোথা থেকে আসে বলুন তো?

আমি আপনার কে?

আপনার বোন তো… তাই না?

আপনার তো আরও অনেক বোন আছে,

তাদের সঙ্গে তো এমন করেন না…

আপনার আর আমার সম্পর্ক কী বলবেন আমায়,,,,

আমার ওপর কেন এই জুলুম করছেন? বলুন তো!”

কিরিস চুপ… কিছু বলে না।

চোখ সরিয়ে নেয়, কিন্তু লিসির হাত ছাড়ে না।

তার দৃষ্টি এমন… যেন সে অসীম কষ্টে আগুন চেপে রেখেছে।

লিসির বলা কথাগুলো যেন নিজের বুকেই গেঁথে নিচ্ছে।

কিরিস আস্তে বলে—

“তাহলে ওটা কি…

ওইখানে, নিচে… আমি যা দেখেছি…

সেটা কি ভুল?

আর তোমার আর আমার সম্পর্ক সেটা আমি নিজেও জানি না কিন্তু এতো টুকু জানি আমি তোমার থেকে দুরে থাকতে পারবো না ?”

এই কথা শুনে লিসির শরীর হিম হয়ে যায়।

সেই মুহূর্তে একবারের জন্য তার মনে পড়ে…

কিরিস…দুরে থাকতে পারবে না এর মানে কি,,, কি চান ওনি?

সে যেন কথার মধ্যে হারিয়ে যায়, গলার স্বর কাঁপতে থাকে।

লিসি (নিঃশব্দে, একটু ঘাবড়ে)—

“এসব কী বলছেন আপনি…

আমি কিছু বুঝতে পারছি না, আমায় ছাড়ুন…”

কিন্তু এর আগেই…

বুঝে ওঠার আগেই… কিরিস এগিয়ে আসে… একটানে লিসিকে নিজের একদম কাছে নিয়ে আসে, লিসি মাজা ধরে,,,,,,

তার ঠোঁট লিসির কাঁপা ঠোঁটের ওপর—

চেপে ধরে। হঠাৎ কিরিস এমন করায় লিসি পুরো অবাক হয়ে যায়,একটা অপ্রস্তুতিকর ঘটনা লিসি তার চোখ বন্ধ করে নাই,,,

কোনো প্রস্তুতি নেই।

কোনো আলো নেই।

শুধু নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস মিশে যায়।

লিসি যখন বুঝে ফেলে কি হচ্ছে, তখন সে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য কিরিসের বুকে ধাক্কা দিতে থাকে,,কিন্তু কিরিসের সড়ার নাম নেই বরং কিরিস আরও শক্ত করে লিসির মাজা,আর লিসির কালো ঘন চুলে মধ্যে হাত দিয়ে তার দিকে এগিয়ে নিয়ে নেয়,,কোন মতেই তাকে ছাড়াতে পারছে না লিসি,, প্রায় এক মিনিট… থেমে থাকে সবকিছু।

হাওয়া থেমে যায়, শব্দ থেমে যায়…

শুধু দুইজন— অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া।

তারপর…

লিসি হঠাৎ নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে।

কিছু বলছে না, কিন্তু চোখে বিস্ময়… অপমান… নিজের উপর ঘৃণা।

লিসির মনের ভেতর তখন শুধু একটাই কথা—

“প্রথম… আমার প্রথম চুম্বন কেউ এভাবে চুরি করে নিল…

এভাবে… চুরি…”

সে পেছন ঘুরে দাঁড়িয়ে পড়ে।

কোনো কথা নেই, কেবল নিঃশব্দে,

নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করছে।

লিসি দাঁড়িয়ে আছে।

পেছন ফিরে তাকায় না…

চোখে জল নেই, কিন্তু ভেতরের সমস্ত কিছু যেন পুড়ে যাচ্ছে।

তার কাঁধ ওঠানামা করছে— শ্বাস ভারী।

সে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থেকে নিচে নামার জন্য পা বাড়ায়।

হঠাৎ লিসি পিছনে টান অনুভব করে,, লিসি পিছন ফিরে তাকায়,দেখে কিরিস তার আঁচলের এক কোনা ধরে রেখেছে,লিসি কিরিসের দিকে তাকাতেই কিরিস একটা দুষ্ট হাসি দিয়ে লিসির আঁচল দিয়ে তার ঠোঁট হালকা করে মুছে নেয়, লিসির ঠোঁটের লিপস্টিক কিরিসের ঠোঁটে লেগে গেছে, কিরিস এবার লিসির আঁচল ছেড়ে দেয়,,,

এবার আর কিছু বলে না,,,

কিরিস দাঁড়িয়ে, একটাও শব্দ করছে না।

সে শুধু তাকিয়ে থাকে… চুপচাপ।

লিসি তার ওড়না টেনে নিজের কাছে নিয়ে চলে যেতে থাকে,, কিরিস তাকে থামায় না।ডাকে না।কিছু বলে না।

কিন্তু তার সেই নীরবতা... যেন হাজারটা কথা চিৎকার করছে।

তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার অপরাধবোধ, আর লিসির মুখে বলা না বলা অভিযোগ—সব যেন তার চোখে গেঁথে থাকে।

লিসি ধীরে ধীরে নিচে চলে যায়…

পা ফেলার শব্দটাও যেন কান ঝালাপালা করে দেয়।

সে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে থমকে যায় একবার।

পেছনে তাকাতে চায়…

কিন্তু নিজেকে জোর করে ঠেলে দেয় সামনে।

না… আর নয়।

নিচে ফিরে এসে কাউকে কিছু না বলে একেবারে রান্নাঘরের দিকে যায়, একটা ঠান্ডা পানি খুঁজে নেয়।

পানি মুখে দেওয়ার আগেই হাত কাঁপতে থাকে…

গ্লাসটা হাত থেকে পড়ে ভেঙে যায়।

সবাই চমকে তাকায়, কিন্তু লিসি মাথা নিচু করে শুধু বলে—

“আমি ঠিক আছি…”

তার গলায় কাঁপা স্পষ্ট।

আরোবি দৌড়ে কাছে আসে—

“লিসি, কি হয়েছে তোর? তুই কাঁদছিস কেন?”

লিসি (মুখ ঘুরিয়ে, ঠোঁট কামড়ে)—

“কিছু না, মাথাটা একটু ধরে গেছে… আমি ঘরে যাবো।”

সে সোজা ঘরের দিকে চলে যায়।

পেছনে তাকায় না।

কারো চোখে চোখ রাখে না।

ঘরের দরজা বন্ধ করেই সে হালকা সরে দাঁড়ায়…

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে।

চোখ লাল, ঠোঁট কাঁপছে, মুখে সেই ছোঁয়ার ছাপ…

সে চুপচাপ নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দেখে—

সত্যিই কি এটা ঘটে গেছে?

এটা কি স্বপ্ন ছিল… না দুঃস্বপ্ন?

অন্যদিকে…

কিরিস এখনো ছাদে দাঁড়িয়ে।

হাওয়া ঠান্ডা হয়ে এসেছে।

তার ফোন বেজে ওঠে।

সে দেখে — মার্ক ফোন দিয়েছে।

মার্ক (লাইনে)—

“বস, ছেলেটাকে গার্ডেন থেকে বের করে এনেছি। ও এখন আমার সামনে বসে আছে, বলুন কি করবো,,,, "

মার্ক লাইন কেটে দেয়।

কিরিস ছাদের কিনারা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে।

তার চোখে তখনও লিসির সেই দৃষ্টিটা…

ভালোবাসার না,

ঘৃণার না,

কোনো অজানা সম্পর্কের দৃষ্টির মতো।

ছাদঁটা একেবারে নিস্তব্ধ। আলো কম, শুধু এক কোণায় নিভু নিভু সাদা আলো জ্বলছে।

কিরিস ধীর পায়ে ঘুরে দাঁড়ায়।

চোখে রক্ত হিম করা এক তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।

রাগ আর গম্ভীরতার মিশ্রণে ভয়ানক গলায় বলে —

"ফোন লাউডে দাও... আর ওর মুখ খুলো।"

মার্ক এক সেকেন্ড দেরি না করে ছেলেটার মুখ খুলে দেয়।

ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ছেলেটি কেঁদে ওঠে —

"আমায় মাফ করুন... আমি আর কোনোদিন এমন করবো না... কারো সাথেই করবো না... প্লিজ... মাফ করুন!"

কিরিস এবার হালকা হেসে ঠান্ডা সুরে বলে —

"মাফ?"

"সেটা আমার ডিকশনারিতে নেই। যে ভুল করবে—সে মরবে।"

তারপর এক মুহূর্তের নীরবতা... যেন আগ্নেয়গিরি ফাটার আগের নিস্তব্ধতা।

হঠাৎ কিরিস ঠান্ডা, তীক্ষ্ণ গলায় বলে —

"তাকে ছুঁয়েছিস?!"

"তুই জানিস, ওর শরীরের ছায়ার উপরও আমার অধিকার।"

"তার ছায়াকেও কেউ ছুঁলে, আমি তার জীবন নিতে এক সেকেন্ডও ভাবি না।"

"আর তুই তো ওকে বারবার বাজেভাবে ছুঁতে চেয়েছিস... তাহলে বল, তোর কী হওয়া উচিত?"

ফোনের ওপাশে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছেলে এবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলে —

"আমাকে মাফ করুন... আমি জানতাম না সে আপনার... আমি জানতাম না..."

কিরিস এবার চোয়াল শক্ত করে বলে —

"জানিস না?"

"তুই কে, আমি জানি। চারটা মেয়ের সঙ্গে রাত কাটিয়ে, পাঁচটার সাথে এখনো খেলছিস।"

"রাস্তায় মেয়েদের ডিস্টার্ব করিস, হেনস্থা করিস।"

"তোর মতো ছেলে পেয়ে তোর বাবা খুশি না, বরং লজ্জিত।"

"আমি তার খুশি ফিরিয়ে দেবো। তোকে মেরে—জ্যান্ত কেটে!"

"না থাকবে বাঁশ, না বাজবে বাঁশি!"

তারপর ধীর, ভয়ানক শীতল গলায় বলে —

"মার্ক... মারো ওকে। তবে মনে রাখবে—কাটবে না একবারেই। জ্যান্ত কাটবে... যেন ওর চিৎকার আমি শুনতে পাই।"

কিরিস ফোনটা লাউডে দিয়ে রেখে দেয়।

পাশে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা মুখে শোনে...

ছেলেটার আর্তনাদ, আর্তনাদের ভেতর করুণ কান্না।

মার্ক একের পর এক আঘাত করে, ছেলেটা চিৎকার করে – যেন দুনিয়ার সমস্ত ভয় এক কণ্ঠে জড়ো হয়েছে।

এদিকে কিরিস?

ছাঁদের রেললিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঠোঁটে এক অদ্ভুত শয়তানি হাসি।

যেন সে কোনও সিম্ফনি শুনছে।

তার চোখ অন্ধকারে চকচক করছে, যেন এই চিৎকারেই তার স্বস্তি। যেন এই আর্তনাদই তার প্রিয় সুর।

কিছুক্ষণ পর সব চুপ।

নিঃশব্দ।

তখন কিরিস ঠান্ডা গলায় বলে —

"ওকে কয় টুকরো করেছো?"

মার্ক উত্তর দেয় —

"৩২টা।"

কিরিস ঠোঁটে হাসি এনে বলে —

"পার্সেল করে ওর বাবার কাছে কুরিয়ায় পাঠিয়ে দিও... আশা করি এবার সে খুশি হবে।"

"মার্ক, এখন ফোন রাখো। রাতে এসো... বাকি হিসেবটা তখন মেলাবো।"

মার্ক লাইন কেটে দেয়।

কিরিস ছাদের কিনারা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে।

তার চোখে তখনও লিসির সেই দৃষ্টিটা…

ভালোবাসার না,

ঘৃণার না,

কোনো অজানা সম্পর্কের দৃষ্টির মতো

ছাদ থেকে ফিরে এসে, লিসি ঘরে ঢুকেই চুপচাপ দরজা বন্ধ করে দেয়।

আলো নিভিয়ে দেয়। জানালা খুলে দেয়।

কোন শব্দ নেই…

শুধু বুকের ভেতর থেকে উঠে আসা কান্না—

নীরব কান্না… নিঃশব্দে, কিন্তু তীব্রভাবে ভাঙা এক মেয়ে।

বালিশে মুখ গুঁজে কান্না চেপে রাখে…

কারো জানার অধিকার নেই, জানার দরকারও নেই।

এক ঘন্টার মতো কেটে যায়…

লিসি চোখ-মুখ ধুয়ে আবার নিচে নামে।

ঘরে এখনো কেউ ঘুমায়নি।

সবার কথাবার্তা, নরম হাসাহাসি চলছে।

সে কিছু না বলে নানুর পাশে এসে চুপচাপ বসে পড়ে।

মির্জা বেগম লিসির দিকে তাকিয়ে বলে—

“কি হইছিল তোর? কেমন করে হঠাৎ উঠে চলে গেলি? মাথা ব্যথা বলেছিলি না… ঠিক আছে এখন?”

লিসি হালকা হাসে—

“হ্যাঁ, কমেছে।”

চুপচাপ একটা গ্লাস ঠান্ডা পানি নেয়…

এক ঢোক, দুই ঢোক… ধীরে ধীরে শেষ করে।

তারপর চোখে একরকমের গভীর দৃষ্টি নিয়ে বলে—

“আচ্ছা নানু, আমি কি কখনো ভাইয়ার সঙ্গে আগে দেখা করেছি?”

মির্জা বেগম অবাক হয়ে ঘুরে তাকায়—

“কেন বল তো? হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”

লিসি— “ভালো করে মনে করতে পারছি না…

কিন্তু ভাইয়া কে প্রথম দিন দেখে মনে হয়েছিল আমি চিনেছি,

কিন্তু ঠিক চিনতে পারিনি…

তাই এখন মাথায় আসছে কথা টা তাই বললাম তোমায়,

আমরা কি আগে কোথাও…?”

মির্জা বেগম হালকা হেসে বলে—

“হ্যাঁ রে… করেছিস।

লিসি আবাক হয়ে বলে —" কি কখন কোথায় কিভাবে,, আর আমার বা মনে নেই কেন,, "

মির্জা —" আরে আস্তে আস্তে, কি করে তোর মনে থাকবে তোর বয়স তো তখন ৫,,,,,।তোর মনে আছে মেঘের বিয়ের কথা?

লিসি—" মনে তো আছে কিন্তু সব মনে নেই এতটুকু জানি যে বিয়ে হয়েছিল,, তাই তাই কি হয়েছিলো "

মির্জা বেগম এবার মুখে একটু মৃদু হাসি নিয়ে বলে —

"তুই তখন ছোট, মাত্র পাঁচ বছর বয়স তোর।

বৃষ্টিতে ভিজছিলি… কিরিসও তখন দেশে ছিল।

তুই তো ওর কোলে উঠে বসে ছিলি,

নামতেই চাচ্ছিলি না। আমি তোকে কাড়াকাড়ি করে ওর কাছ থেকে নামিয়ে এনেছিলাম।

তুই কান্নাকাটি করতেছিলি— ‘আমি ভাইয়ার কাছেই থাকবো’।

সেই বিয়েতে দেখা হয়েছিল প্রথম।”

লিসি স্তব্ধ… একদম স্তব্ধ।

তার দুচোখ বড় হয়ে যায়।

তার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে কথাগুলো।

তাহলে ওনার সঙ্গে আমার আগে ও দেখা হয়েছে সত্যিই …

শুধু ভুলে গিয়েছিলাম…

কিন্তু মনের কোথাও রয়ে গিয়েছিল সেই ছায়া… সেই অস্তিত্ব।

লিসি (আস্তে)— “তাহলে… সত্যি?”

সে কিছু বলছে না, কিন্তু তার মুখের অভিব্যক্তি বলে দিচ্ছে—

সে নিজের ভেতর হারিয়ে গেছে।

রাত বারতে থাকে সবাই একে একে রাতের খাবার খেয়ে নেয়,,তারপর ঘরের সবাই আরেক টু হাসাহাসি আর গল্প করে।

তারপর একে একে ঘুমাতে চলে যায়।

কিন্তু…

লিসি আর মির্জা বেগমের কথাগুলো শুনে নিচু সিঁড়ির ছায়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল কেউ।

কিরিস।

সব শুনেছে…

চোখে লেগে আছে বিস্ময়, যন্ত্রণার গভীর চিহ্ন।

সে কিছু না বলে ধীরে নিজের ঘরে ঢুকে যায়।

দরজা বন্ধ করে দেয় না।

রাত তখন ২টার মতো।

সবাই খেয়েদেয়ে একদম হালকা মুডে আড্ডা দিচ্ছে।

ইয়াবি চোখ টিপে বলে— “Bro, আম পারতে চল, ready?”

কিরিস হেসে মাথা নাড়ে— “চল।”

রিহান— “আবার আম? রাত ২টায়?”

ইশান— “হাহাহা! এই আম তো বুঝে বুঝে পাড়তে হয়।”

কাবির— “এবার whisky, beer,rum, না হলে খাব না, warning দিয়ে রাখলাম!”

কিরিস একটা সাদা BMW-তে সবাইকে তুলে নেয়।

বহিরাগত কেউ নেই— কেবল ওরা ছয়জন।

গাড়ি ঢুকে পড়ে গোপন এক রাস্তায়।

আর কিছুক্ষণ পর সামনে আসে—

“KIRIS PRIVATE LOUNGE”

একটা বিশাল রাজকীয় স্থাপনা।

বাইরে থেকে বোঝা যায় না, ভিতরে কী পরিমাণ লাক্সারি জমে আছে।

মার্বেল ফ্লোর, imported glass wall, Italian crystal lights,

branded liquors – Jack Daniel’s, Macallan, Royal Salute – সব সাজানো।

এক পাশে গেম জোন—

রিয়েল টাইম স্ক্রিনিং, পুল টেবিল, কার্ড রুম, ভার্চুয়াল শুটিং গেম, এক্সট্রিম এক্সপেরিয়েন্স।

অন্য পাশে হালকা পার্টি স্পেস, chilled blue lighting।

ইয়াবি (চোখ বড় করে)— “Bro! তুই কি স্বর্গে নিয়ে এসেছিস আমাদের?”

ইশান— “একবার তো মনে হলো কোনো রাজপ্রাসাদে ঢুকছি।”

কাবির— “চিন্তা নেই, আমি এইখানে মরে গেলেও কষ্ট নাই।”

কিরিস মুচকি হেসে—

“Enjoy tonight boys…

Because tomorrow morning, we all are back to reality.”

🎵ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজে হালকা EDM ও chilled saxophone version of "Perfect"

এক এক করে সবার হাতে কাচের গ্লাস…

Mark এসে গেম চালু করে দেয়।

সবাই নিজের মতো করে মেতে ওঠে— কেউ পুল খেলছে, কেউ রোলেট, কেউ শুটিং গেমে।

কিরিস একটু দূরে গিয়ে বসে…

চোখে আজও লিসির সেই প্রশ্ন—

“আমি কি কখনো ভাইয়ার সঙ্গে দেখা করেছি…?”

সে জানে…

এই বারের রাত কতটা আলাদা।

রাতভর ছেলেদের সেই ‘স্পেশাল পার্টি’র পর সবাই ভোর ৪টার দিকে বাড়ি ফিরেছে।

এখন সকাল আটটা। বাড়ির প্রতিটা কোনায় ছড়িয়ে আছে ব্যস্ততা—

কেউ রান্নাঘরে, কেউ গার্ডেনে, কেউ বা আবার বাড়ির ভিতরে কিছু গোছাচ্ছে।

মেয়েরা যে যার মতো বসে গল্প করছে। এ সময় হঠাৎ—

প্রিয়া (চেঁচিয়ে):

—"আরে কেউ ওদের ডাক তো! সকাল হয়ে গেল, এখনো ঘুমোচ্ছে! নাস্তা করবে না?"

সুপ্রিয়া (একটু ক্লান্ত হেসে):

—"আরও একটু পরে ডাকিস। সব কয়টা তো ভোর বেলায় ফিরেছে।

তুই বরং আরোবিদের বল, হলুদ আনতে। বিকেলে তো ওদের বাড়ি তত্ত্ব দিতে হবে।"

আরোবি (দৌড়ে এসে):

—"মা, লুচির প্লেট কোথায়?"

প্রিয়া:

—"এই নে, আর যা তো গিয়ে হলুদ নিয়ে আয়।"

আরোবি (আড়চোখে):

—"খেয়ে যাই মা, আগে?"

প্রিয়া (হালকা হাসিতে):

—"হ্যাঁ হ্যাঁ, খেয়ে যা।"

আরোবি প্লেট নিয়ে বসলেই,

জারা বলে:

—"আমায় দে, একা একা খাচ্ছিস কেন?"

তিশা (মজা করে):

—"আস্তে ! প্লেট পরে যাবে!"

লিজা:

—"শোন, এখান থেকে চল। চারপাশে বড় বড় মানুষ, নিজেদের ছোট মনে হচ্ছে!"

আরোবি (মুখে লুচি চাবিয়ে):

—"Right কথা। চল গার্ডেনে যাই। ফ্রেশ বাতাস, কেউ নেই। আর থাকলেও আমরা তো গার্ডেনের পেছনে যাবো, বিশাল এলাকা!"

সবাই বেরিয়ে গেলে, লিসি চুপচাপ বসে থাকে। কারো কথায় সাড়া দেয় না।

ওর এমন মন খারাপ দেখে, সুরভী ওর গা ঘেঁষে বসে:

—"কি হয়েছে রে? কাল রাত থেকেই দেখছি মন খারাপ তোর।"

লিসি (চোখ নিচু করে):

—"না, কিছু না। মাথা ধরেছিল… তাই।"

জারা:

—"তাহলে আগে বলবি না! একটা কাজ করি—

তোমরা যাও, আমি মার কাছ থেকে আদা দেওয়া স্পেশাল চা বানিয়ে আনছি!"

সবাই লিসির মুড ফিক্স করতে ব্যস্ত। হাসি, মজা।

ওরা গার্ডেনে বাম পাশের দিকে গিয়ে বসে—

যেখানে আনোয়ার নানা রকম শাকসবজি লাগিয়েছেন। হলুদ গাছও আছে।

আরোবি খাওয়ার প্লেট নিয়ে ঘাসে বসে পড়ে।

চারদিকে গাছের হালকা দোল, ফুলের ঘ্রাণে ভরে আছে বাতাস।

এ যেন স্বর্গের মত এক টুকরো শান্তি।

এমন সময় আনোয়ার ও আনারুল এগিয়ে আসে।

আনোয়ার (হাসি মুখে):

—"তুরা এখানে কী করছিস?"

সুরভী:

—"এমনি বসে আছি। ভিতরে অনেক ভিড় বুঝেছো বড় আব্বু।"

তিশা:

—"আর গার্ডেন তো একদম দারুণ! আর বড় মামি বলেছেন, হলুদ তুলতে হবে।"

আরোবি:

—"বাবা, বড় আব্বু, বলো কোথা থেকে তুলবো? আমরা তুললে তুমি আমাদের হালুয়া বানিয়ে দেবে?"

আনোয়ার (হেসে):

—"ঠিক বলেছিস! আমার শখের জায়গা বলে কথা! ওই পাশ থেকে তুলিস, ভালো হবে। তাই না আনারুল?"

আনারুল (হাসিমুখে):

—"হুম ঠিক। কিন্তু আরোবি তুই গার্ডেনে বসে খাচ্ছিস কেন?

আর লিসির মন খারাপ মনে হচ্ছে মা।"

লিসি (হালকা হাসি):

—"না মামা, ভালো আছি।"

ততক্ষণে জারা হাতে চা নিয়ে এসে বলে:

—"খারাপ থাকলেও থাকবে না, কারণ এই যে লিসির জন্য আমার বানানো আদা দেওয়া দুধ চা!"

তিশা (হাসতে হাসতে):

—"শুরু হয়ে গেল! শুধু লিসির জন্য আনেছিস?"

জারা (হাসি চেপে):

—"না রে! সবার জন্য এনেছি। বাবা, বড় আব্বু— তোমরাও নাও।"

আনোয়ার (চায়ের কাপ হাতে):

—"এই না হলে আমার মেয়ে!

আচ্ছা লিসির কি হয়েছে রে মা?"

লিসি (মুচকি হেসে):

—"আসলে মাথা ব্যথা করছিল মামা।"

আনারুল (চা খেতে খেতে):

—"তাহলে চা খেয়ে নাও মা। ভাইয়া, চলো ওইদিকে বসি। মিঞারা এসেছে দেখছি।"

দুই ভাই দূরে চলে যায়।

লিসির মুখেও এখন একটু হালকা হাসি ফিরে আসে।

আরোবি:

—"তোমরা থাকো, আমি প্লেট রেখে আসছি। দা, বটি আর খুন্তাও আনবো।"

আরোবি চলে যায়।

আর মেয়েরা ছায়ায় বসে আরামে গল্প করে। সবুজ, শান্ত পরিবেশে সময় যেন থেমে গেছে।

ওদিকে ছেলেরা কোনো মতে ঘুম থেকে উঠছে—

চোখে এখনো ঘুম টলমল করছে।

সুপ্রিয়া (হাসিমুখে):

—"এবার তোদের উঠার সময়! নে চা খেয়ে নে, ঘুম পালাবে।"

ইশান:

—"হুম, দাও। কাবির তো এখনো পার্টিতে বসে আছে মনে হচ্ছে!"

কাবির (চায়ে চুমুক দিয়ে):

—"ঠিক বলছিস… ইয়াবি, চল বাইরের দিকে যাই। এখানে খুব ভিড়।"

ইয়াবি:

—"হুম। রিহান, ওঠ রে ও বরের বাচ্চা!"

রিহান (হাঁপাতে হাঁপাতে):

—"আরেহ! আমি এখনো বিয়ে করিনি! তাহলে বাচ্চা আসবে কোথা থেকে আসলো?!"

ইশান (হাসতে হাসতে):

—"উপরে আকাশ থেকে!"

ওদের যেতে দেখে সুপ্রিয়া:

—"আর কিরিস? কাবির, ও তো উঠে নি এখনো?"

কাবির:

—"না না, ভাইয়া তো অনেক আগে উঠেছে। মনে হয় ঘরে কাজ করছে।"

ইয়াবি:

—"মামি, তুমি বরং কিরিসের ঘরে কফি দিয়ে এসো। ও তো এখন খুব ব্যস্ত।"

সুপ্রিয়া কফি বানাতে চলে যায়।

ছেলেরা গার্ডেনের দিকে যায়, মেয়েদের দেখে ওরাও সেখানে বসে।

ইয়াবি (হাসতে হাসতে):

—"হ্যালো লেডিস! একটু চেপে বসো!"

ইশান সোজা গিয়ে বসে জারার পাশে।

জারা:

—"এসে পড়ল গায়ের ওপর! ওই ওখানে বস, বাজে কথা বলবি না!

লিসি খিরায় খাস?"

লিসি (হালকা হাসিতে):

—"হুম, কোথায়?"

জারা উঠে গিয়ে সামনের দিকের খিরার গাছ থেকে খিরা তুলতে শুরু করে।

এদিকে ইশান, জারার রেখে যাওয়া চায়ের কাপ নিয়ে বলে—

ইশান:

—"এই কাপটা দারুণ! কে বানিয়েছে?"

লিজা:

—"সবার কাপ এক রকম, আর চা বানিয়েছে জারা।"

ইশান এবার নিজের কাপ রেখে জারার চা খেতে থাকে।

জারা ফিরে এসে এই দৃশ্য দেখে চোখ গোল গোল করে চিৎকার দেয়—

জারা:

—"গাধা! কার চা খাস?! লিসি, এই দেখ!"

আরোবি বাড়ির ভিতর থেকে দা, বটি আর খুন্তা নিয়ে এল।

আরোবি (হাসতে হাসতে):

—"নাও এবার কাজ শুরু! হলুদ তুলতে হবে—ভবিষ্যতের বউরা, নড়ো!"

মেয়েরা গার্ডেনের মধ্যে হলুদের গাছের দিকে এগোতেই বুঝে যায়—

তাদের পক্ষে ঠিকঠাক তুলে আনা সম্ভব না। হলুদ তো এমন কিছু নয় যে ফুলের মতো ছিঁড়ে নিলেই হবে!

কেউ ঝুঁকে, কেউ কাদায় পড়ে যাচ্ছে— হলুদ একটাও ঠিকমতো উঠছে না।

এই দৃশ্য দেখে লিসি হেসে ফেলে।

লিসি (হালকা মজা করে):

—"আচ্ছা ছাড়ো, আমি তুলছি। পারো না যখন কেন করছো আমি করছি?"

তারপরে এক এক করে সে সমস্ত গাছ উপড়ে তুলে গোড়া থেকে হলুদ আলতো হাতে ভেঙে নিতে থাকে।

তার নিখুঁত, সাবধানে করা প্রতিটা চলন যেন চোখ আটকে রাখার মতো।

আরোবির কাছ থেকে বটি নিয়েই লিসি নিজ হাতে হলুদ কাটতে শুরু করে দেয়।

সবাই গোল হয়ে বসে ওর কাজটা দেখতে থাকে।

সুরভী:

—"বাহ! লিসি, আমরা তো পারিই না এত সুন্দর করে… কিভাবে শিখলি বল তো?"

তিশা (মজা করে):

—"শুধু মুখে শান্ত মেয়ে! কাজে একদম বউ-মেটেরিয়াল!"

জারা:

—"আরে আমরা তো ভাবছিলাম এটা পারবি না,,!"

সবাই হাসছে, মজা করছে।

ছেলেরা গার্ডেনের পাশ থেকে এই দৃশ্য দেখে মুচকি মুচকি হাসছে।

আনারুল আর আনোয়ার পাশেই দাঁড়িয়ে সোহাগি চোখে তাকিয়ে আছে।

আনারুল (আনোয়ারের দিকে চেয়ে):

—"মেয়েটার হাতে যে কী শোভা…! ছেলেরা ও দেখুক— আসল গুণ কাকে বলে।"