পরের দিনের পোগ্রামের প্রস্তুতি চলছে...
সবার মনোযোগ অন্যদিকে —
সুপ্রিয়া আর প্রিয়া রান্নাঘরে, আনোয়ার, আনারুল আর মির্জা গল্পে মশগুল, কিরিস নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত।
এদিকে ঘন্টা খানিক পর, দরজায় শব্দ —
জারা আর ইশান একসাথে ঘরে ঢোকে।
জারার চোখ রাগে টকটকে লাল। আর ইশান দাঁত কেলিয়ে হাসছে!
জারার হাতের সাথে ইশানের হাত বাঁধা!
তিশা হেসে বলে —
—"একি অবস্থা তোদের! হাত বাঁধা কেন?"
ইশান কেক আর রঙের ব্যাগ টেবিলে রেখে নাটুকে ভঙ্গিতে বলল —
কথা শেষ করতে না দিয়েই
জারা পেছন থেকে এক লাথি মারল ইশানের পায়ে!
ইশান হোঁচট খেয়ে সোপাতে পড়ল আর সঙ্গে সঙ্গে জারাও হাত বাঁধা অবস্থায় গিয়ে ওর গায়েই পড়ে গেল!
ততক্ষণে আশেপাশে কেউ বড় ছিল না —
মির্জা ঘরে তেল মালিশ করছে,
আর বাকিরা (কিরিসসহ) দূরে বসে নিজেদের কাজে ব্যস্ত।
ওখানে শুধু ভাই-বোনেরা ছিল।
ইশান মুচকি হেসে বলল —
—"ও মা! তুই যদি আমার কোলে বসতেই চাস, এভাবে লাথি মেরে বসার দরকার ছিল না তো!"
জারা ধমকে উঠল —
—"কুকুরের বাচ্চা! আমার হাত খোল! আজ যদি তোকে চাঁদের দেশে পাঠিয়ে না দিই!"
—"এই লিসি! হাত খোল! এরা সবাই বসে বসে দেখবে?"
লিসি এগিয়ে গিয়ে হাতের বাঁধন খুলে দিল।
জারা সঙ্গে সঙ্গে ইশানের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে একটা ঘুষি মারে!
ইশান দুহাত জোড় করে বলে —
—"ও আমার হবু শ্বশুর আব্বা, তোমার মেয়ে আমাকে মেরে ফেললো!"
সবাই একসাথে ওদের দিকে তাকিয়ে চুপ!
আনারুল ধমকে উঠে বলল —
—"জারা! এসব কি অসভ্যতামি? মারছো কেন ওকে?"
জারা গলা চড়িয়ে বলল —
—"বাবা! তুমি তো ওর পক্ষ নিচ্ছো! আমি আদেও তোমাদের আসল মেয়ে তো?"
ইয়াবি জারাকে পাশে বসিয়ে হেসে বলে —
—"চুপ কর তো, বাদ দে... আগে শোন আমরা কালকে কি করবো!"
ইয়াবি ওদের ঠান্ডা করে, কাল কি কি করবে সেই সমস্ত প্ল্যান ঠিক করে নিচ্ছে, এভাবে প্রায় এক ঘন্টার মতন ওরে গল্প করে
একটু পর সুপ্রিয়া এসে সবাইকে রাতের খাবারের জন্য ডাক দেন।
সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে।
ইশান একপাশে বসে বলে —
—"এই নাও কেক আর রঙের বস্তা...
বাবা! এই রং কেনার জন্য আমায় পুরো ঢাকা শহর ঘুরিয়ে ছাড়লো!"
প্রিয়া ব্যাগ গুলো নেয়।
মির্জা বেগম বলেন—
—"লিসি, কাল সকালে ছাদে গিয়ে এগুলো দিয়ে দিবি।"
লিসি— "ঠিক আছে নানু।"
এবার সবাই নিজেদের মতন খেতে থাকে
সবাই খাওয়ায় মন দিলেও, লিসির চোখ কিরিসের দিকে...
দেখে সুপ্রিয়া কিরিসকে ভাত মেখে খাওয়াচ্ছে!
এই দেখে লিসি হকচকিয়ে যায়।
আরোবি পাশে পানি বাড়িয়ে দেয়—
—"এই লিসি কি হইছে? এই নে পানি!"
পানি খেয়ে লিসি আবার কিরিসের দিকে তাকায়,
দেখে কিরিসও ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।
চোখে চোখ পড়তেই লিসি লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেয়।
✦ রাতের খাবার শেষে সবাই যে যার ঘরে চলে যায়।
আরোবির ঘরে মেয়েরা গোল হয়ে বসে গল্প করছে।
সুপ্রিয়া এসে ওদের মাঝে কেক দিয়ে যায়।
জারা খুশিতে বলে —
—"Thanks বড় আম্মু! এটারই তো অপেক্ষায় ছিলাম!"
সুপ্রিয়া হেসে বলে —
—"হুম... দ্রুত ঘুমিয়ে পড়িস। বেশি রাত জাগিস না যেন।"
বলে সুপ্রিম চলে যায়,মেয়েরা এবার গোল করে বসে সকালে কি করবে নিয়ে আলোচনা করতে থাকে,,
সুরভী— "এই লিসি, কালকে কত সকালে উঠবি?"
লিসি— "মনে হয় ৪:৩০ টার দিকেই।"
আরোবি— "এত সকালে কী করবি?"
তিশা— "আরে সকাল সকাল না দিলে, পরে বসে বসে দুপুরের ঠাট্টা পড়া রোদ খাবে!"
লিজা— "ঠিক কথা! এই লিসি, শোন তুই শাড়ি পড়ে আলপনা দিবি।"
লিসি— "কেন? জামা পরলে সমস্যা?"
লিজা— "আরে তা না, শাড়ি পড়লে তোকে মানাবে! আর আলপনা আর শাড়ি—একদম পারফেক্ট কম্বিনেশন। তুই শাড়ি পড়িস।"
সুরভী— "হ্যাঁ, আমার লাল পাড়ের সাদা শাড়িটা পরিস। বেশ মানাবে তোকে।"
জারা— "এমনিতেই ভাইয়ার বিয়ের সব ভিডিও করা হবে। তুই যদি শাড়ি পরে আলপনা দিস, আর সেটা ভিডিও হয়, তাহলে দারুণ লাগবে। একদম শুরু থেকেই পারফেক্ট! কাল সকালে আমি ভাইয়ার কাছ থেকে ক্যামেরা নিয়ে আসব!"
আরোবি— "মানে কাল সবাইকে লিসির সঙ্গে সকাল সকাল উঠতে হবে, তাই না?"
সবাই একসাথে— "হুম!"
সবার এত উৎসাহে লিসি রাজি হয়ে যায় শাড়ি পরে আলপনা দিতে।
তারপর মেয়েরা যার যার রুমে চলে যায়।
আরোবি আর লিসি একসাথে ঘুমায়।
রাত গভীর...
সবাই যখন ঘুমিয়ে, তখনও কিরিসের ঘরে আলো জ্বলছে।
রাত ১টা পর্যন্ত চুপচাপ নিজের কাজ করে কিরিস ঘুমায়।
রাত পেরিয়ে ক্ষীণ আলো জানালায় পরছে
...
সকাল ৫টার কাছাকাছি।
লিসি উঠে গেছে।
কোন কোন রং দিয়ে আলপনা দেবে—সব গুছিয়ে নিচ্ছে সে।
পাশে বসে থাকা আরোবি মুখ চাপা দিয়ে বলে—
—"সত্যি বলছি, এত সকালে আমি কখনোই উঠিনি!"
এক এক করে বাকিরাও উঠে পড়ছে।
জারা— "আমি বুঝি না এত নিয়মের কী দরকার!"
লিজা— "চল তো ছাদে।"
জারা— "হুম।"
লিসি— "তোমরা একটু ছাদে ঝাড়ু দিয়ে দাও। আমি পুরো ছাঁদ জুড়ে আলপনা দিব।"
জারা— "ওকে, চল লিজা।"
সুরভী— "আমি যাচ্ছি, এই নে রঙের বাটিগুলো—নিয়ে চল সবাই!"
লিসি হাত ধুয়ে ফিরে এলো।
আরোবি ফিসফিসিয়ে বলে—
—"এই তিশা, চল ক্যামেরা নিয়ে আসি… আর সেই সাথে কাবিরের ঘুমটাও হারাম করি!"
তিশা— "যাচ্ছি বাবা…
লিসি, ঘরে বেডের উপর শাড়ি আর সবকিছু রেডি করে রেখেছি, তুই গুছিয়ে নে, আমরা ক্যামেরা নিয়ে আসি।"
লিসি— "আচ্ছা, কিন্তু দ্রুত আসবা!"
লিসি ঘরে গিয়ে শাড়ি পরতে শুরু করে...
লাল পাড়ের সাদা শাড়ি।
হাতে লাল রেশমি চুড়ি।
খোলা চুল, হাঁটু ছোঁয়া।
হালকা কাজল, ঠোঁটে মিষ্টি গোলাপি লিপস্টিক।
একটা শান্ত, স্নিগ্ধ সাজ।
যেন ভোরের আলোতে নিজেই এক আলপনা!
এইদিকে আরোবি আর তিশা এসে পৌঁছায় কাবিরের দরজায়।
অনেকবার ডাকাডাকি করেও দরজা খুলছে না।
হঠাৎই আরোবির মাথায় শয়তানি বুদ্ধি আসে—
—"তিশা, তুই শুধু চুপ করে থাকবি…"
আর তারপর হঠাৎ কাবিরের দরজায় কান্নাভেজা কণ্ঠে—
—"এই কাবির… তিশার খুব খারাপ লাগছে… মনে হয় আর বাঁচবে না… দরজা খুল ভাই…"
এক মিনিটও যায় না, দরজা হুতুস করে খুলে যায়।
কাবির: "তিশার কী হইছে! আমার তি... শা!"
আর তখনই তিশা আর আরোবি মুখ চাপা দিয়ে হাসতে থাকে।
কাবির: "আরে আরোবি! মিথ্যা বলার একটা সীমা থাকা দরকার!
তিশা, তোমার কিছু হয়নি তো?"
তিশা হেসে বলে— "আরে আমার কিছু হয় নি? আমি তো তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি দেখো!"
আরোবি— "তোকে ভালোয় ভালোয় ডেকেছি কতবার… উঠলি?"
তিশা— "চলো ক্যামেরা দাও।"
কাবির শান্তভাবে— "ক্যামেরা আমার কাছে নেই। যেটা আছে ওটা নষ্ট হয়ে গেছে ভাইয়াকে আনতে বলে ছিলাম, কিন্তু আমি এখনো নেয়নি ভাইয়ের কাছ থেকে ভাইয়ের কাছেই আছে , ওটাই আনো। আমি তো এখনও ফ্রেশ হইনি, তোরা আমার ঘুম একদম উড়িয়ে দিলি।"
আরোবি— "এইবার কে যাবে কিরিস ভাইয়ার ঘরে?
ও এখনো উঠেছে কি না কে জানে!"
কাবির— "আমার ভাই তো তোদের মতো না… ভোরে উঠে Morning walk করে গেছে । দেখ এতক্ষণে উঠেই পড়েছে!"
তিশা আর আরোবি কিরিসের ঘরের দিকে হাঁটতে থাকে।
আর অন্যদিকে লিসি সেজে রেডি হয়ে ছাদে যেতে বের হয়।
একই সময়ে কিরিস বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছে।
সিঁড়ির শেষ ধাপে পা রাখতেই তার চোখ পড়ে বামদিকে হেঁটে যাওয়া লিসির দিকে।
সাদা শাড়ি, খোলা চুল, হাতে রং আর চুড়ির ঝনঝনানি।
লিসি ধীরে ধীরে চলে যায়, আর কিরিস দাঁড়িয়ে দেখে…
নিজেই মনে মনে বলে ওঠে—
—"তেজ আছে বলতে হবে… না থাকলে এই কিরিসের চোখে আটকাতো না।"
অন্যদিকে কিরিসের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তিশা আর আরোবি উঁকি মারছে।কিরিস কিছু না বলে চুপিচুপি ওদের পাশে দাঁড়িয়ে,,
কিরিস এসে পিছন থেকে বলে—
—"কি হয়েছে? এভাবে উঁকি মারছিস কেন?"
আরোবি— "ভাইয়া আছেন কি না দেখছি…"
কিরিস ভ্রু উঁচিয়ে— "কি দরকার ভাইয়ার কাছে?"
তিশা— "এই এতো প্রশ্ন করো না, ভাসুরের কাছে ক্যামেরা নিতে এসেছি!"
কিরিস হেসে— "ভাবি, আমি তো তাহলে তোমাদের পিছনেই!"
ওরা দুজন পিছনে তাকিয়ে কিরিসকে দাঁড়িয়ে দেখে ভ্রু তোলা চোখে।কিরিস কে হঠাৎ পিছনে দেখে ওরা দুই জন তো ভয় পেয়ে যায়,
আরোবি হেসে— "আহা!তুই এখানে! আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম!"
তিশা— "আমার তো জানটাই যাওয়ার জোগাড়!"
কিরিস— "কি করবি ক্যামেরা দিয়ে?"
আরোবি— "লিসি আলপনা দেবে। ভিডিও করব। দাও না, না হলে ও তো ছাদে কাজ শুরু করে ফেলবে!"
কিরিস— "তোরা যা, আমি নিয়ে আসছি।
ফ্রেশ হয়ে নিই আগে।"
আরোবি— "দ্রুত আসবে কিন্তু!"
কিরিস ঘরে চলে গেলে,
আরোবি আর তিশা চলে যায় ছাদে।
ওখানে কাবির আগে থেকেই দাঁড়িয়ে—
—"কই ক্যামেরা?"
তিশা— "তোমার ভাই আনছে!"
এইদিকে লিসির মুখ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে।
আরোবি ঠাট্টা করে বলে—
—"কখন দিবি আলপনা রে লিসি?"
লিসি— "এই তো... সব গুছিয়ে ফেললাম, এখন দিবো।"
একটু পরেই কিরিস ছাদে আসে—
এক হাতে ক্যামেরা, আরেক হাতে ল্যাপটপ ও ফুলের মালা!
সবাই চমকে তাকায়!
কাবির— "ভাইয়া… তুই ফুলের মালা কার জন্য এনেছিস?"
কিরিস কোনো জবাব না দিয়ে এগিয়ে যায় লিসির দিকে।
ফুলের মালাটা তুলে ধরে বলে—
—"এই নাও… মাথায় দাও।"
লিসি একদম থমকে গেছে।
বাকিরাও অবাক।
কিরিস হাসে—
—"কি হয়েছে? মা দিতে বলেছে। ধরো।"
লিসি ফুলের মালাটা হাতে নেয়।
লিজা— "দে, আমি পরিয়ে দিচ্ছি।"
লিজা লিসির মাথায় ফুলের মালা পরিয়ে দিলে—
একদম পারফেক্ট লাগতে শুরু করে ওকে।
সেই সময়েই ছাদে চলে আসেন সুপ্রিয়া।
হাতে ট্রেতে করে চা, কফি আর স্ন্যাকস।
জারা— "ওরে বড় মা! তুমিও উঠে পরেছো?"
সুপ্রিয়া— "আমার ছেলে-মেয়েরা ভোরে উঠে কাজ করবে আর মা ঘুমাবে?
তার উপর আজ তো বিয়ের ঘর, কাজের শেষ নেই!
নে তোরা... এখান থেকে চা নিয়ে নে।"
চোখ পড়ে লিসির দিকে।
মুচকি হেসে কিরিসের দিকে তাকায়।
সবাই চা নিয়ে নিচ্ছে।
আরোবি—
—"লিসি, আগে চা খেয়ে মুড ঠিক কর, তারপর আলপনা দিবি।"
লিসি চা নিতে গেলে চোখে পড়ে পাশে রাখা কফির মগ।
তিশা পাশে থেকে খোঁচায়—
—"লিসি, কিরিসকে দিয়ে আয়!
বেশি ভাবিস না, আমরা সবাই তোকে ওর কাছেই পাঠাবো।"
ছাদের একপাশে কিরিস বসে আছে।
একটা আরামদায়ক সোফায়, মাথার উপরে ছাওনি দেওয়া,
পাশেই ইয়ার কুলার ফ্যান ঘুরছে ধীরে।
ল্যাপটপ খুলে নিশ্চিন্তে বসে আছে সে।
লিসি কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
তারপর ধীরে ধীরে কফির মগটা তুলে নেয় হাতে।
পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় কিরিসের দিকে।
তার পায়ের শব্দে কিরিস মুখ তুলে তাকায়...
...আর সেই দৃষ্টিই আটকে যায়।
সাদা শাড়িতে লিসি, মাথায় ফুলের মালা, হাতে রঙের ছোঁয়া,
কফির মগ হাতে নিয়ে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
কিরিস নিজের চোখ আর ফেরাতে পারে না।
তার মনে হয়—
এই মেয়েটাই তার জীবনের অর্ধাঙ্গিনী।
এই মেয়েটাই যেন আজ তারই জন্য সাজানো একটা সকাল নিয়ে এগিয়ে আসছে।
একটা নিঃশব্দ অনুভূতি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে…
কেউ কিছু বলে না।
লিসি এগিয়ে যায় কিরিসের কাছে...
—"ভাইয়া, আপনার কফি।"
কিরিস লিসির হাত থেকে মগটা নিয়ে, ধীরে ধীরে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ওকে দেখে।
এত কাছ থেকে, এত গভীরভাবে দেখে...
যেন তার চোখে আটকে গেছে সময়।
লিসি লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেয়,
চুপচাপ ওখান থেকে চলে যায়।
তারপর শুরু হয় লিসির আলপনার কাজ।
আট করে শাড়ি পরে বসে গেছে ছাদের মাঝখানে।
নিজস্ব বুদ্ধিতে হাতে তুলে নিচ্ছে রঙ, তুলির ছোঁয়ায় আঁকছে নানা চিত্র।
ছাদের থামে বসে বাকিরা সবাই তার কাজ দেখছে।
আর এক কোণে, ছায়া ঢাকা নরম সোফায় বসে
কিরিস ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে কফির মগে চুমুক দিতে দিতে তাকিয়ে আছে—শুধু তাকিয়ে... লিসির দিকে।
সকালের হালকা বাতাসে লিসির সামনের চুল গুলো দুলে উঠছে,
সূর্যের মিষ্টি আলো তার মুখে পড়তেই একটা অদ্ভুত আলোকচ্ছটা তৈরি হয়।
কিরিস মনে মনে ভাবে—
"অর্ধাঙ্গিনী... বললে ভুল হবে না।
তবে এখনও হয়নি।"
এই ফুরফুরে বাতাস, মৃদু রোদ, কফির গন্ধ আর সামনে বসে থাকা সেই মেয়ে…
সব কিছুই যেন কিরিসের নিঃশব্দ ভালোবাসার অংশ।
প্রায় এক ঘণ্টা পরে বাকিরা একে একে ছাদ থেকে চলে যায়।
শুধু আরোবি, সুরভী আর কাবির বসে আছে লিসির আশেপাশে।
হঠাৎই কাবিরকে অনেক মনোযোগে লিসির আলপনা দেখা দেখে
কিরিস একটু জোরে বলে—
—"কাজে যদি এত ফোকাস করতিস, তাহলে আজ আমার জায়গায় তুই থাকতিস।
ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী দেখছিস? এখানে কথা আছে।"
কাবির হেসে বলে—
—"আরে ভাইয়া, মানুষের তো সেই স্বভাব।
যেটাতে ফোকাস করা উচিত, সেটাতে না করে
যেটাতে না করাই ভালো, সেটাতেই করে!"
আরোবি সঙ্গে সঙ্গে বলে—
—"That’s a good point!
যেমন, পড়াশোনায় ফোকাস করা ভালো,
কিন্তু আমরা করি মোবাইলে…
তাই না সুরভী?"
সুরভী কিছু না বলে শুধু হেসে
বুড়ো আঙুল উঁচু করে দেখায়।
এদিকে কাবির গিয়ে বসে কিরিসের পাশে, ওরা দুজন কথা বলতে থাকে।
আর দূরে, সকালের আলোতে বসে
লিসি নিঃশব্দে আঁকতে থাকে তার স্বপ্ন... তার আলপনা।
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে,
লিসির আঁকা শেষ হয়।
সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়,
আর তার পেছনে পড়ে থাকে—
রঙে মিশে যাওয়া একটা ভোরবেলা,
আর কেউ একজনের চোখে আটকে যাওয়া ভালোবাসা...
লিসি আলপনার শেষ টুকরোটা আঁকা শেষ করে উঠে দাঁড়াতেই…
আরোবি হালকা করে ওর পিঠে একটা চাপড় মেরে বলে—
—"সাবাস! এই না হলে আমার শিষ্য!"
সুরভী চট করে বলে—
—"তোর শিষ্য হলো কিভাবে? তুই কি নিজে আলপনা দিতে পারিস?"
আরোবি রাগী সুরে—
—"আরে দিতেই না পারি, লিসিকে পানি এগিয়ে দিয়েছি,
ও যা যা বলেছে সেটা করেছি, তাই আমি মাস্টার!"
কাবির হেসে বলে—
—"এই শুনে তো মনে হচ্ছে,
লিসি না… আরোবিই শিষ্য, লিসি মাস্টার!"
সবাই হেসে ওঠে,
কেবল কিরিস এক কোণ থেকে সিরিয়াস লুকে তাকিয়ে থাকে কাবিরের দিকে।
সেই চোখে এমন চাপা কড়াভাব থাকে,
যেটা দেখে কাবির সঙ্গে সঙ্গে আবার ‘কাজে মন’ দেয়।
লিসি একটু চুপ করে দাঁড়িয়ে বলে—
—"শেষ পর্যন্ত শেষ হলো…
বেশি সুন্দর হয়নি, তাই না?"
সুরভী এগিয়ে এসে—
—"কে বলেছে?
যে দেখবে, সে পছন্দ না করে পারবে না।"
আরোবি—
—"অবশ্যই সুন্দর হয়েছে!
তুই পুরো ছাদে দিয়েছিস, রঙ, ডিজাইন… সব কিছু পারফেক্ট!"
ঠিক তখনই তিশা আর সুপ্রিয়া ছাদে চলে আসে।
তিশা চমকে উঠে—
—"Wow! কী সুন্দর লাগছে!
লিসি, আসলেই তুই ট্যালেন্টেড।"
সুপ্রিয়া এক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে বলে—
—"আমি তো খেয়ালই করিনি!
খুব সুন্দর হয়েছে, লিসি।"
লিসি— "Thank you, মামি…"
সুপ্রিয়া এবার ছেলেদের দিকে তাকিয়ে একটু জোরে বলে—
—"কিরিস, নিচে চলে আয় খেতে…
তোর বাবা তোকে ডাকছিল, গার্ডেনে খেয়ে যেতে বলেছে।
রোদ বেড়েছে, গরম লাগছে।
কাবির, তুইও আয়!"
এদিকে লিসি দাঁড়িয়ে আছে, কোমরে হাত দিয়ে।
তিশা খেয়াল করে—
—"কী হয়েছে? এভাবে মাজায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?"
লিসি—
—"না কিছু না… অনেকক্ষণ বসে ছিলাম তো, একটু ব্যথা করছে।"
সুপ্রিয়া চট করে বলে—
—"দেখেছো মেয়ের কাণ্ড!
মাঝে ব্যথা করছে, বলছে না!
আমি তো বলেছিলাম—একনাগাড়ে বসে বসে দিতে যাস না,
না হলে মাজা-পা-মাথা… সব ব্যথা করবে!"
লিসি—
—"তেমন কিছু হয়নি মামি…"
সুপ্রিয়া চোখ ছোট করে—
—"চুপ করো! হাঁটতে পারবি তো?"
লিসি সোজা হয়ে উঠে—
—"অবশ্যই!"
সুপ্রিয়া—
—"হেঁটে দেখা তো দেখি!"
আরোবি—
—"আরে বড় আম্মু, এ তুম কেয়া কারতা হে' !"
সুপ্রিয়া—
—"আরোবি তুই চুপ কর!"
লিসি মুখে কিছু না বললেও ভিতরে জানে…
এতক্ষণ পায়ের ব্যথা সহ্য করেই সে আলপনা দিয়েছে।
এখন গড গড করে হাঁটা অসম্ভব…
তাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।
সুপ্রিয়া মুচকি হেসে বলে—
—"পারবি না! আমি জানি…
এখন তুই এই ছাদেই দাড়িয়ে থাকবি!"
লিসির চোখে হালকা জলের ঘনত্ব তৈরি হয়…
আজ যেন মনে পড়ে যায়—
"মা যদি থাকতো,
তাকেও এমন করে বলতো বুঝি…"
লিসি মুখ নিচু করে বলে—
—"আমি চলে যাবো মামি…
সুরভী, আরোবি আপুরা তো আছে।"
সুপ্রিয়া এবার একটু কড়া হয়ে—
—"হবে না। এখন যা বলছি, তাই করবি।
ঘরে গিয়ে শাড়ি বদলে আয়।
কিরিস!
তুই লিসিকে ঘরে নিয়ে যা।
আর বাকি সবাই নিচে খাওয়ার টেবিলে আয়।
যদি দেখি একজনও কম…
তাহলে আজকে আমি কাকে কী করব, সেটা তোরা জানিস না!"আর আমি নিজেও জানি না, চলে আয় নিচে সব-কয়টা "
সুপ্রিয়া বেশ ধমকের সুরে বলে যা বলার, তারপর নিচে চলে যায়।
তার গলার কণ্ঠে আদর আর রাগ একসঙ্গে ছিল।
তারপর বাকি সবাইও একে একে যেতে থাকে…
লিসি একা ফেঁসে যায়। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।
সুরভী—
—"নিচে চল, না হলে মনে হচ্ছে আজ না গেলে একটা মারও নিচে পড়বে।"
আরোবি—
—"ঠিক কথা, সব আমাদের পিঠেই পড়বে।"
কাবির—
—"কথা বলিস না, চল। ভাইয়া তুমিও দ্রুত এসো…
লিসি, you too.
লিসির মনে মনে জ্বলে ওঠে এক চাপা অভিমান—
"আমি কেন এই রাক্ষসের হাতে পড়ি?
মামি ভাবছে এই গোটা বাড়িতে শুধু উনিই নিষ্পাপ ব্যক্তি…
তাই আমার মতো ছোট মানুষকে এত বড় রাক্ষসের হাতে তুলে দিয়েছে!"
সবাই চলে গেলে কিরিস এগিয়ে আসে।
লিসি দাঁড়িয়ে, চোখ নামিয়ে—
—"কিছু করতে হবে না। আমি একা চলে যাবো।"
কিরিস ঠান্ডা গলায় বলে—
—"লিসি সার্মা… কি ভুলে গেছে সেদিনের কথাগুলো?
না কি আমিই আবার মনে করিয়ে দেবো?"
লিসির মুখ থমথমে। সে কিছুই বলে না।
একবার তাকায়, চোখ নামিয়ে নেয়।
কিরিস এগিয়ে—
—"আমি যা করছি, তাই করতে দাও।"
লিসি এবার চোখ বড় করে তাকায়—
—"কি করবেন আপনি?"
কিরিস ঠোঁটের কোণে হালকা তাচ্ছিল্যের হাসি এনে বলে—
—"তোমাকে তুলে এই ছাদের থেকে ফেলে দেবো।"
লিসি থমকে—
—"কি আজব মানুষ রে বাবা…
আগেও তো শপিংমল থেকে ফেলতে চেয়েছিলেন,
এবার বাড়ির ছাদ!"
কিরিস ঠান্ডা গলায়, গম্ভীর হয়ে—
—"একটা কথা বললে,
আমি সবাইকে বলে দেবো ওই রাতের কথা…"
এই কথা শুনে, লিসির চোখ বিস্ফোরিত। নিঃশ্বাস ভারী।
সে বুঝে গেছে, হাওয়া গরম। এখন চুপ থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।
তারপর নিজের গলা শক্ত করে বলে—
—"আপনি এমন কেন?
আমার সঙ্গে এমন করেন কেন?
আমি তো আপনার কোনো ক্ষতি করিনি!"
তখনই কিরিস একবার তাকায়, চোখে আগুন-ঠান্ডা একসঙ্গে… তারপর ধীরে বলে—
—"তুমি আমার কোনো ক্ষতি করো নি, লিসি…
তুমি শুধু একটা ভুল করেছো…
আমার চোখে পড়েছো।
আর এখন তুমি আমার।
চাইলেও পালাতে পারবে না।"
লিসি চমকে ওঠে—
—"কি…??"
কিরিস তাকিয়ে থাকে।
—"কিছু না। এবার চুপ করো।"
হুট করে কিরিস লিসিকে কোলে তুলে নেয়!
লিসি—
—"আরেহ! কি করছেন?
আপনাকে শুধু বলেছে আমাকে ঘরে পৌঁছে দিতে…
কোলে করতে বলেনি!"
কিরিস —
—"পড়া চালের ভাত খেয়ে মানুষ হয়েছো!
নামিয়ে দিলে ঠপাশ করে পড়ে যাবে।
গায়ে তো কোনো অস্থি-সস্তি নেই, চুপ থাকো।"
কিরিসের কণ্ঠে হালকা ধমকের সুর ছিল,
আর তার চোখে এক অদ্ভুত শান্ত-দম্ভ।
লিসি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে চুপ করে যায়।
মুখে আর কথা নেই।
সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পাশের আয়নাতে নিজেদের প্রতিবিম্ব পড়ে।
কিরিস চোখ সরাতে পারে না।
লাল পারের সাদা শাড়িতে লিসি, হাতে রেশমি চুড়ি…
এই দৃশ্য যেন এক নববধূকে কোলে করে নিচ্ছে সে।
কিরিসের ঠোঁটে চাপা হাসি—
এই দৃশ্যটা সে দেখতে চায় বারবার।
কিন্তু দুরে একজোড়া চোখ সবটা দেখছে।
চোখে অভিমান, ক্ষোভ আর না বলা কিছু।
সে আর কেউ নয়…
স্বয়ং আনোয়ার।
কিরিস লিসিকে ঘরের ভেতর নামিয়ে দেয়।
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে হুমকি সুরে বলে—
—"আমি প্রেমিক না যে তর্ক শুনে হেসে উড়িয়ে দেবো।
আমি কিরিস রায় চৌধুরী।
আমার সামনে মুখ খুললে জবাব পাবে…
কিন্তু সেটা তোমার পছন্দ হবে না।"
লিসি কিছুটা রাগ, কিছুটা জেদ নিয়ে—
—"হ্যাঁ হ্যাঁ জানি!
আপনি আবার প্রেমিক!
কখনো হবেনও না!
আর আমি একটু পরে যাবো,
রিহান ভাইয়ার বন্ধু ডাকছিল তাই।
আপনি যান, আমি চেঞ্জ করবো।"
ঘরের ভেতর মুহূর্তেই হিমশীতল পরিবেশ।
কথা নেই… কেবল এক থমকে থাকা বাতাস।
কিরিস ধীরে ধীরে দরজা থেকে এগিয়ে আসে…
একদম কাছে…
লিসির পাশে দাঁড়িয়ে, চোখে চোখ রাখে।
চোখে হাজার কথা, ঠোঁটে একটাও না।
কিরিসের এমন ব্যবহার, সেই ঠান্ডা চোখ… আর সহ্য হয় না লিসির।
মুখটা শক্ত করে, ভেতরে জেদ নিয়ে বলে বসে —
লিসি:
– “আপনার সব কিছুই আপনাকে ঘিরে কেন?
আপনি যা বলেন, সেটাই সঠিক?
আমি কি আপনার চাকর? না বন্দি?”
কিরিস থেমে যায়।
তারপর ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসে।
চোখে কোনো রাগ নেই, বরং ভয়ংকর ঠান্ডা।
কিরিস (নিচু গলায়):
– “তুমি বুঝি ভুলে যাচ্ছো আমি কে?”
– “আমি কিরিস রায় চৌধুরী।
এই নামটা শুধু বিজনেসের না, ভয়-এর প্রতীক।”
লিসি কথা বলতে চায়, কিন্তু…
কিরিস এক হাত তুলে তাকে থামিয়ে দেয়।
– “তুমি যদি আমার মুখে কথা বলো…
তাহলে আমি তোমার মুখ থেকে ভাষা কেড়ে নেবো।”
– “এই মুখ দিয়ে আমাকে উত্তর দেওয়ার আগে…
মনে রেখো —
আমি কাউকে কথা শেষ করতে দিই না,
যদি সেটা আমার বিরুদ্ধে যায়।”
লিসি দাঁড়িয়ে থাকে, স্থির হয়ে।
চোখে ভয় নেই, কিন্তু শ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে।
কিরিস এগিয়ে আসে আরও কাছে,
গলার কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে —
– “তুমি আমার নিয়ন্ত্রণে আছো, লিসি।
আর আমি যে কাউকে হাসিয়ে দখলে নিই না…
ভয় দেখিয়ে নিই।
তুমি ব্যতিক্রম না।”
এরপর সে একটু সরে দাঁড়ায়।
– “আর একটা শব্দ বললে…
তোমার জেদ ভাঙবো এমনভাবে,
মনে থাকবে আজীবন।”
কিরিস পেছন ফিরে ধীরে ধীরে চলে যায়।
লিসি দাঁড়িয়ে… আপন মনে, দাঁতে দাঁত চেপে—
লিসি (চোখে প্রতিবাদ):
– “ভয় পাই ঠিকই…
কিন্তু একদিন মুখের ওপর বলে দেবো —
আপনি যা ভাবেন, আমি ঠিক তা না।”
– “আপনার চোখে আগুন থাকে…
কিন্তু আমি আগুনে পুড়বো না,
একদিন আমি সেই আগুন নিভিয়ে দেবো।”
ঠিক তখনই ঘরে ঢোকে আরোবি।
হাতে খাবারের প্লেট।
আরোবি:
– “টেনটেনা!
তোমার জন্য মৌকুফ করে এনেছি তোমার সকালের খাবার।
বড়মা বলেছে তোর পায়ে ব্যথা, তাই নিচে যাওয়া লাগবে না।
খেয়ে গুছিয়ে পরিপাটি হয়ে নিচে আয়।"
আরোবির কথা শুনেও কোনো সাড়া নেই লিসির মুখে।
আরোবি:
– "কি হয়েছে?
এমন মুখ গুমরা করে বসে আছিস কেন?"
লিসি চোখ সরিয়ে—
– “আমার এখন ভাইয়াকে গালি দিতে ইচ্ছে করছে।”
আরোবি হেসে—
– “দে! যদি গালি দিলে খুশি হস,
তাহলে একবার কেন, বারবার দে।
তুই বল কোথাও কম হলে আমি বাড়িয়ে দেবো।
বল… শুনি।”
লিসি এবার বড় একটা শ্বাস নেয়।
তারপর এক নিঃশ্বাসে বলে—
– “ওই মানুষটা কি কোনো মানুষ নাকি রোবট?”
– “একবার না হেসে একঘেয়ে মুখে কথা বলে কিভাবে?”
– “হুমকি দিলো এমনভাবে, মনে হলো
একটু পরেই মাথার ওপর বুলডোজার চালাবে!”
– “আমি নাকি তার অধীনে?
কেরে বাবা! এতো রেগে থাকে কেন!”
– “কেমন যেন… বিজনেসম্যান না, হিটম্যানের মতো লাগে!”
– “চেহারা ভালো তো কী হইছে?
ভিতরে তো একদম বরফ!
না বরফ না…
বরফের মধ্যেও আগুন লুকানো!”
– “যদি কোনোদিন মুখের ওপর বলে ফেলি —
‘আপনার ভয় পাই না!’
তখন দেখি উনি কী করে!”
লিসি রেগে রেগে বলে যায়,
আর শেষের দিকে ঘন ঘন শ্বাস নেয়।
আরোবি পাশে পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলে—
– “আরে বাস!
তুই তো দেখছি, বদনাম করতে পারিস একদম পারফেক্ট"
লোকেশন : রায় চৌধুরী বাড়ির গার্ডেন
গার্ডেনের এক পাশে বসে আছেন আনোয়ার, আনারুল আর মির্জা বেগম।
ওদের সামনে বসে পান চাবাচ্ছে মিসা।
তার পাশে তার ছেলে—পায়ের উপর পা তুলে বিশাল ভাব নিয়ে বসে আছে।
মিসা, পান চিবিয়ে হঠাৎ তুতলা কণ্ঠে বলে—
– “দেখছেন তো চাচি…
আমি তো শুধু বলেছি আমার টাকাটা ফেরত দিতে…
আর উনি আমার নামে আপনার কাছে বদনাম করছে!”
আনারুল ঠান্ডা গলায় উত্তর দেয়—
– “দেখুন, আপনার সাথে ঝামেলা করার আমার কোনো ইচ্ছে নেই।
আপনি আমাদের বিপদের সময় সাহায্য করেছিলেন—
এই জন্য আমি আজীবন আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ।”
আনোয়ার মাথা নেড়ে বলে—
– “হ্যাঁ, এবং আপনি যখনই টাকা চাইবেন,
আমরা তখনই ফেরত দিতে চেয়েছি।
তখন তো আপনি নিজেই বলেছিলেন—
টাকা আমাদের কাছেই গচ্ছিত থাকবে,
প্রয়োজন হলে আপনি নিয়ে নেবেন।”
মিসা থেমে গিয়ে পান ছেটায়।
তারপর কপট দুঃখী গলায়—
– “হ তো বলেছিলাম…
কিন্তু কি করব বলুন,
শয়তান মন ভালো কাজে সায় দেয় না!”
এই সময় মির্জা বেগম, লাঠি হাতে নিচে ঠুকিয়ে গম্ভীর গলায় বলেন—
মির্জা:
– “আপনার টাকা এখনই দেওয়া হবে।
আপনার জন্য ভালো হয় — টাকা নিয়ে সসম্মানে এখান থেকে চলে যান।
বিয়ে বাড়িতে আমি কোনো ঝামেলা চাই না।”
মির্জা এবার আনোয়ারের দিকে তাকান।
মির্জার চাহনিতে স্পষ্ট হুকুম।
আনোয়ার এক মুহূর্ত দেরি না করে বলেন—
– “কাবির!”
কাবির তখনই দৌঁড়ে আসে গার্ডেনের দিকে।

0 Comments