মায়া এসে লিসির হাত ধরে ট্রায়াল রুমের দিকে নিয়ে যায়।
ট্রায়াল রুমের ভেতরে বসে লিসি নিজের মত করে ট্রায়াল দিতে দিতে গুনগুন করে—
লিসি: "কত গুলো… কোনো ব্যাপার না, একটা করে পরে দেখি।"
অন্যদিকে দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে কফির কাপ হাতে, চুপচাপ আশপাশ পর্যবেক্ষণ করছিল কিরিস। এমন সময় ফোন বেজে ওঠে। রিহানের নাম ভেসে ওঠে স্ক্রিনে। ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে তড়িঘড়ি করে রিহান বলে ওঠে—
রিহান:
"Bro, তোর ফোন ট্র্যাক করা হচ্ছে! অলরেডি মিস্টার জেমস চলে এসেছে… নীল সাগর… একটুখানি আমাকে ২ মিনিট দে!"
ফোনটা নামিয়ে রাখে কিরিস। চোখ ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখে, কয়েকজন কালো স্যুট পরা লোক তার দিকে এগিয়ে আসছে। ঠান্ডা মাথায় কফির কাপটা এক পাশে রাখে।
কিরিস (শান্ত গলায়):
"Time start now." এই কথা বলেই হঠাৎ দৌড় দেয় কিরিস!
পিছনে ওদের পায়ের শব্দ—
তীব্র গতিতে তাড়া করছে তাকে।
কিরিস পরের তলায় উঠে থেমে দাঁড়ায়। এবার সে আর দৌড়ায় না। বরং দাঁড়িয়ে পড়ায়, লোকগুলো ঘিরে ফেলে তাকে।
একজন বলল:
"Come with us now. You’re done."
কিরিস ঠোঁটের কোণে এক ভয়ংকর শয়তানি হাসি টেনে বলল—
"I am done? No way."
লোকগুলো এবার বুঝতে পারে, কিরিসের পিছনে অনেকজন লোক দাঁড়িয়ে আছে, সবার চোখে আগুন।
কিরিস:
"মার্ক, তুমি দেখো এই গুলোকে।"
তখনই একজন এগিয়ে এসে বলে:
"Hey, you can't do anything, do it all with your spoon, fight us if you dare!"
এই কথাটা শেষ করতে না করতেই—
শ্বাসরুদ্ধ সময়!
একটা চুরি লোকটার গলায় বসে যায়!
চারপাশে রক্ত ছিটকে পরে…
দেহটা মেঝেতে লুটিয়ে পরে।
সাথে সাথেই বাকিরা দুই পা পিছিয়ে যায়।
চুরিটা ছুঁড়েছিল কিরিস নিজে।
সোজা গলায়… এক নিঃশব্দ খুন।
কিরিস (রাগে ঠাসা গলায়):
"Don't you dare challenge me. If I kill you, not a single piece of your body will be found."
আরেকজন সাহস করে এগিয়ে আসে।
কিরিস একহাতে তার গলা টিপে ধরে—
আর এক মোচড়ে গলাটা ভেঙে ফেলে।
লোকটা মাটিতে ছিটকে পড়ে।
কিরিস (মার্ককে):
"জলদি কাজ মিটাও। আমি আমার হাত নোংরা করতে চাই না। নিচে সবাই আছে। দ্রুত করো। আর হ্যাঁ, এখানে যেন কিছু বোঝা না যায়। সব পরিষ্কার করে দেবে।"
মার্ক সম্মতি জানায়।
রুমাল এগিয়ে দেয় কিরিসকে—
"স্যার, আপনি যান। বাকিটা আমার দায়িত্ব।"
কিরিস হাতে রুমাল বেঁধে হাত মুছতে মুছতে নিচে নেমে আসে।
পরবর্তী তলায় নামার আগেই মার্ক সিকিউরিটি দিয়ে পুরো ছয় তলা ফাঁকা করেছিল।
ট্রায়াল রুমে ফিরে…
কিরিস ট্রায়াল রুমের কাছে এসে দেখে, লিসি চুপ করে বসে আছে।
কিরিস:
"সব কেনা শেষ?"
মায়া এসে হাসতে হাসতে:
"Excuse me Sir… নাইম, ব্যাগগুলো নিয়ে আয়।"
এক কর্মী এসে বেশ কিছু ব্যাগ কিরিসের সামনে ধরে।
"স্যার, আপনি যেমনটা চেয়েছিলেন, ঠিক তেমনই আছে। চাইলে চেক করে নিতে পারেন।"
কিরিস:
"তার দরকার নেই। লিসি, চলো।"
লিসি:
"কোথায় গিয়েছিলেন আপনি?"
কিরিস:
"ওইদিকে গিয়েছিলাম।"
কিরিস লিসিকে কোলে তুলতে গেলে—
লিসি (আহ্বান করে):
"না, নিতে হবে না। আমি হাঁটতে পারব।"
কিরিস (চোখ বড় করে):
"মেরে তোমাকে উগান্ডায় পাঠিয়ে দেবো… চুপ করে থাকো!"
এত বলেই লিসিকে কোলে তুলে নেয়।
লিসি:
"আহ! আমি পড়ে যাবো! এক হাতে নিচ্ছেন কেন! আমি ৫৬ কেজি!"
কিরিস:
"হ্যাঁ, কতো ৫৬ কেজি… তা তো বুঝতেই পারছি! ৪০ কেজি হবে কিনা সন্দেহ! আর চুপ করে থাকতে বলিনি আমি?"
লিসি বিরক্ত হলেও নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিরিসের গলা ধরে ফেলে।
কিরিস মুচকি হেসে:
"ব্যাগগুলো দাও।"
এক হাতে লিসি, আরেক হাতে সব ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে চলে কিরিস।
দোকানের স্টাফরা মুচকি মুচকি হাসে।
মলে বাকিদের সাথে
লিসিকে চেয়ারে বসিয়ে কিরিস বলে—
"অনেক ভালো মেয়ে তো মা, তাই পায়ে ব্যথা পেয়েছে।"
লিসি (মুচকি হেসে):
"আমার নিন্দা করছেন না প্রশংসা?"
মির্জা:
"কী করে পায়ে ব্যথা পেয়েছে?"
লিসি (খুব ধৈর্যে):
"নানু, চুপ করো তো… আমি পরে বলব তোমায়!"
কিরিস:
"মা, তোমাদের সব কেনাকাটা শেষ?"
সুপ্রিয়া:
"সব শেষ। শুধু বিয়ের কাঁচা মাল বাকি আছে।"
কিরিস:
"ওগুলো আমি দেখে নেব। তোমরা বাড়ি যাও। যাওয়ার আগে গয়নার দোকান থেকে গয়নাগুলো নিয়ে যেও যেগুলো পালিশ করতে দিয়েছিলে।"
আনোয়ার:
"ঠিক আছে, কিন্তু তোরা যাবি না?"
রিহান (হেসে):
"আরে বাবা! বিয়ে আমার, কিন্তু কেনাকাটা এদের নামে!"
আনারুল (মুচকি হেসে):
"কেন, এখনো কি কেনাকাটা করবে?"
আরোবি (হেসে):
"আমাদের তো এখনো জুয়েলারি কেনা হয়নি!"
প্রিয়া:
"তোর যা আছে তাতেই হয়ে যাবে! আবার কী কিনবি?"
সুরভী:
"আরে মা, তোমরা যাও তো। আমরাও কেনা শেষ করে আসছি।"
ইশান (বিরক্তভাবে):
"কাবির, চল! আমরা বাড়ি যাই। না হলে আমাদের সারা রাত এই শপিং মলেই থাকতে হবে!"
ইয়াবি:
"হুম, সত্যি কথা। মামা, চল!"
জারা (ঠোঁট উঁচিয়ে):
"মনে হচ্ছে আমরা শপিং মল চিনি না! যা তোরা, আমরা একা একা শপিং করব!"
আনোয়ার (সোজাসাপ্টা):
"না, একা তোমাদের এই দুপুরে ছেড়ে দেবো না। কিরিস, তুই এদের সাথে থাক। আর কাবির, তুই আমার সাথে আয়। Mr. সংস্কারের সাথে কথা বলব।"
কিরিস (স্বাভাবিক ভঙ্গিতে):
"ঠিক আছে।"
আরোবি (মুখ বাঁকিয়ে):
"লে হালুয়া! ওই গাদা কয়টা তো ঠিক ছিল, এখন এই সিংহের সাথে যাবে কে!"
তিশা:
"আমার মতে, আমরাও বাড়ি যাই। নুসরাতের মেহেদির ডালা দিতে যাওয়ার সময় কিনে নেব।"
জারা (চোখ টিপে):
"Not a bad idea. যদিও এগুলোতে আমার পতি ইন্টারেস্ট নেই।"
সব মেয়েরা একসাথে বলে:
"আমরাও বাড়ি যাবো। কিন্তু যাওয়ার আগে চুড়ি তো কিনে দাও!"
কিরিস (চোখ পাকিয়ে):
"বাবা, তোমরা যাও। আর তোরা আমার সাথে আয়, চুড়ি কিনে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। ইয়াবি, তুইও আয়।"
ইয়াবি (একটা হালকা হেসে):
"Okay, bro!"
কিরিস সবাইকে নিয়ে এক বাহারি চুড়ির দোকানে ঢোকে।
দোকানের রঙিন আলোয় সাজানো হাজারো চুড়ি!
মেয়েরা তো রীতিমতো আনন্দে বুঁদ হয়ে যায়।
যে যার মতো চুড়ি দেখতে শুরু করে।
লিজা:
"কোনটা রাখবো, কোনটা নেব? এই লিসি, তোর কোনটা পছন্দ হয়েছে?"
লিসি (দ্বিধায়):
"কনফিউজ রে! বুঝতে পারছি না… মনে হচ্ছে সবই নিয়ে নিই!"
সুরভী (চোখ টিপে):
"আরে অনুষ্ঠান অনুযায়ী ম্যাচ করে নে। যে রঙের শাড়ি কিনেছি, সেই রঙের চুড়ি নে!"
লিসি:
"তাহলে ওই থাকে! চুড়িগুলো সুন্দর। ওইগুলোই নিই আমরা!"
৩০ মিনিট ধরে সবাই চুড়ি বেছে নেয়।
শেষে কিরিস নিজেই সবার হাতে প্যাকেট তুলে দেয়।
গাড়িতে সবাইকে উঠিয়ে দেয়।
লিজা:
"আরে কিছু খাবার তো কিনে দাও!"
ইয়াবি (হেসে):
"কেন, তোদের খিদে পেয়েছে?"
আরোবি:
"না,আমরা তো মানুষ না! তাহলে খিদে পাবে কেন?"
ইয়াবি:
"সত্যি কথা বলতে,, আজ রিহান আর কাবির সত্যি কথাই বলেছে!"
আরোবি (রাগে):
"এই ইয়াবি! যদি আমাকে নিচে নামতে হয়, তাহলে তোর চুল এক এক করে টেনে ছিঁড়ে ফেলবো!"
ইয়াবি (হেসে):
"এই না! এখনো আমার একটা গার্লফ্রেন্ড হয়নি। তার আগে আমাকে টাক করে দিবি?"
তখনই কিরিস গম্ভীর গলায় বলে:
"এই নাও খাবার। আর হ্যাঁ, এখান থেকে যেন সোজা বাড়ি যাইস। যদি দেখি অন্য কোথাও গেছিস, বাড়ি এসে কিন্তু সবকটার ঠ্যাং ভাঙবো!"
সবাই গাড়ি নিয়ে চলে যায়।
কিরিস (ইয়াবিকে):
"চল আমার সাথে দোকানে।"
ইয়াবি:
"কী করতে?"
দোকানে গিয়ে কিরিস দোকানদারকে বলে:
"মেরুন রঙের জামা পরা মেয়েটি যে সাইজের চুড়ি নিয়েছে, ওই সাইজে তোমার দোকানে যত রকম চুড়ি আছে সব প্যাক করে দাও!"
ইয়াবি (হেসে):
"এইটা কি ভাবির জন্য?"
কিরিস কিছু বলে না, চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।
দোকানদার একের পর এক চুড়ি প্যাক করে।
প্রায় ১০০–১২০ ডজন চুড়ি একসাথে একটা বড় বক্সে ভরে দেয়।
কিরিস বক্সটা নিয়ে গাড়িতে রাখে।
কিরিস (গাড়িতে উঠে):
"চল, বাকি কাজগুলো শেষ করে আসি।"
গাড়ি চালাতে চালাতে সামনে পড়ে ঘন জঙ্গল।
গাছগাছালির মধ্য দিয়ে রাস্তা চলে গেছে এক পাশে।
একসময় রাস্তার পাশে একটা ক্যাফেতে গাড়ি দাঁড় করায় কিরিস।
কিরিস আর ইয়াবি গাড়ি থেকে নামে।
তখনই দেখা যায়—
রিহান, কাবির আর ইশান আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত!
ইয়াবি (হতবাক হয়ে):
"তোরা না বাড়ি গিয়েছিলিস?"
রিহান (হালকা হেসে):
"কাজ আছে, আসতে তো হবেই!"
কাবির (রিহানের ঘাড়ে হাত দিয়ে):
"তুই পৃথিবীর প্রথম বর, যেকিনা বিয়ের দিনও কাজ করবে!"
রিহান (চোখ টিপে):
"অত খুশি হওয়ার দরকার নেই। তোমারও সময় আসবে!"
সবাই ক্যাফের ভেতরে ঢোকে।
ক্যাফের মালিক কিরিসকে দেখে সম্মান দেখিয়ে বলে:
"Welcome, Boss!"
কিরিস কেবল মাথা নাড়ে।
ক্যাফের একপাশে গিয়ে দেওয়ালে থাকা একটা ইট চাপে।
হঠাৎ করে ইট সরতেই পেছনে একটা দরজা খুলে যায়!
কাবির (চোখ বড় করে):
"আমি জানতাম না দেওয়ালে হাত দিলে দরজা বের হয়!"
ইয়াবি (হাসতে হাসতে):
"আরে, তখন তো চল্লিশ চোরের গুহা দেখিসনি! এখন কিরিসের গুহা দেখে নে!"
রিহান:
"হ্যাঁ, কিরিস হলে সব সম্ভব! চল এবার ভিতরে।"
সবাই ঢোকে ভিতরে।
ভেতরটা আধুনিক, গোপন অপারেশনের ঘর।
এক কোণে একজন লোকের হাত-পা বাঁধা, চোখ-মুখ ঢাকা।
সব বডিগার্ড কিরিসকে দেখেই মাথা নিচু করে স্যালুট দেয়।
গোপন ঘরের অন্ধকারে চাপা আলো।
আকাশের নিচের ক্যাফের গোপন চেম্বারটি গর্জে ওঠার প্রস্তুতিতে।
মার্ক ধীরে এগিয়ে এসে কিরিসের কানে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বলে—
"ওদের একজন, যাকে বাঁচিয়ে রাখতে বলেছিলেন..."
কিরিস আর কিছু বলে না।
চুপচাপ গিয়ে সোজা লোকটার সামনে রাখা চেয়ারে বসে পড়ে।
আঁধারে তার চোখের দৃষ্টি জমাট রক্তের মত।
পাশেই ইয়াবি আর মার্ক দাঁড়িয়ে, টেবিলের উপর রাখা ফাইলগুলো উলটে-পালটে দেখছে।
রিহান ল্যাপটপ খুলে টকটকে নীল স্ক্রিনে সার্ভার লগ ট্রেস করছে।
ইশান তার নিজস্ব বিষের বোতল আর ইঞ্জেকশন নিয়ে বসে, সূচের নিচে আঙুল রেখে ড্রিপ রেট মিলাচ্ছে।
কাবির তার শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে এসে দাঁড়ায় কিরিসের ডানপাশে।
কিরিস ধীরে হাত বাড়িয়ে সামনে থাকা ওয়াইনের বোতল থেকে গ্লাসে ওয়াইন ঢালে।
তারপর গ্লাসটা ঘুরাতে ঘুরাতে ঠাণ্ডা গলায় বলে—
"শুরু করা যাক..."
কাবির এগিয়ে গিয়ে বন্দীর বাঁধন খুলে দেয়।
লোকটা দম নিয়ে ওঠে, নিঃশ্বাস ভারি।
কাবির (হেসে):
"তোর অনেক সাহস, তুই কী করে জানলি আমার ভাই কোথায় আছে?"
লোক (কাঁপা কাঁপা গলায়):
"আমাকে ছেড়ে দাও…"
কাবির (ভ্রু কুঁচকে):
"আরে শালা! তুই তো দেখছি বাঙালি! তাহলে তখন ইংরেজি বলছিলি কেন?"
ইশান (চোখ নামিয়ে):
"আরে ও বাঙালি না ইংরেজি, তাতে তোর কী লাভ?"
কাবির (চোরা হাসিতে):
"ঠিক কথা। বল কে পাঠিয়েছে তোকে?"
কিরিস (ঠাণ্ডা গলায়):
"ইশান, ওকে মেরে দে। ও কিছু বলবে না।"
লোক (চিৎকার করে):
"না না! আমাকে মারবেন না!"
কাবির:
"তাহলে বল, তোকে কে পাঠিয়েছে!"
ঠিক সেই সময় কিরিস পাশে রাখা ছুরি তুলে নিয়ে সোজা লোকটার পায়ে বসিয়ে দেয়!
রক্তের ফোয়ারা আর লোকটার আর্তনাদ ঘর কাঁপিয়ে তোলে।
লোক:
"আহহহ!!!"
রিহান (হালকা ভঙ্গিতে):
"আরে আস্তে! তোর আওয়াজ তো সাউন্ড বক্সের থেকেও জোরে!"
কাবির (চোখ লাল করে):
"বল! না হলে এবার তোকে…!"
লোক (হেঁচকি তুলতে তুলতে):
"বলছি বলছি! নিশি… আমাদের UK খবর দিয়েছিল… উনি একজন হ্যাকার… আমাদের গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করে!"
ইয়াবি ফাইলগুলো উল্টে দেখতে দেখতে থেমে যায়।
চোখ সরু করে বলে—
*"একজন মানুষের ঠিকানা পাওয়া যায়, মানুষের থেকে… আর ফোন থেকে…
তার মানে কিরিস, তোর ফোন হ্যাক করেছে!"
কিরিস (চোখ ছোট করে, ঠাণ্ডা গলায়):
"বাহ, ভালো ইয়াবি…
কিন্তু আমি আগে থেকেই বুঝে গেছি।
এজন্যই তো ফোনটা এখন জঙ্গলে।"
কথা শুনে ইয়াবি হেসে ফেলে।
কাবির (বিস্ময়ে):
"কি! তুই ওই দামী ফোনটা ফেলে দিলি?
আরে সিমটা ফেলে দিলেই তো হতো!"
হঠাৎ!
পাং!!!
গুলির শব্দে ঘর কেঁপে ওঠে।
ধোঁয়ার গন্ধে ঘোলাটে হয়ে ওঠে বাতাস।
কাবির:
"আরে আস্তে! আর একটু হলে তো আমি যেতাম! ভাইয়া, আস্তে!"
লোকটার রক্তাক্ত দেহ ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়ে মেঝেতে।
বডিগার্ডরা চুপচাপ তা টেনে নিয়ে যায়।
রক্ত মোছার শব্দ, গ্লাভসের আওয়াজ ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
রিহান হেডফোনে বসে থাকা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বলে—
"I got it."
তার গলা ভারী হয়ে ওঠে—
"নিশি… রাসির মেয়ে…
অস্ট্রেলিয়ায় থাকে,,,,,, আর ও,,,,,,,,
রিহান হঠাৎ থেমে যায়, আর কিছু বলতে পারে না। হঠাৎ হো হো করে হেসে ওঠে।
কিরিস (চোখ সরু করে):
—"কি হয়েছে? Any problem?"
রিহান মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসে, কিছু না বলে মাথা নেড়ে।
তার এই অদ্ভুত হাসি দেখে এবার কাবির, ইশান, ইয়াবি— সবাই চমকে যায়।
তারা চারজন একসাথে স্ক্রিনের দিকে তাকায়, আর তারপরেই…
ইশান হো হো করে হেসে বলে—
—"আরে ওই ছবিটা দেখি! ওহো bro, তোর বডিটা তো ছবিতে সেই লাগছে—খালি গায়ে একদম model look!"
কাবির থেমে না থেকে যোগ করে—
"ভাইয়া তো ওর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে! সব ছবি আছে ওর কাছে!"
রিহান (মজা করে):
"I’m তো অবাক!"
ইশান (চোখ ছোট করে):
"এটা হ্যাকার কম, ছাইয়া বেশি!"
কিরিস (চুপচাপ):
"পরিষ্কার করে বল।"
ইয়াবি (নিচু গলায়):
—"আরে ভাই, নিশি তোকে পছন্দ করে…"
কাবির (ভুরু নাচিয়ে):
"না না, ভালোবাসে! হার্ট ফাইলে যাচ্ছে!"
কিরিস ঠান্ডা গলায় বলে—
"তাতে কি হয়েছে? এতে তো আমাদের লাভ বেশি। ওর কাছ থেকে সহজে চিপটা নেওয়া যাবে।"
রিহান (চোখ উজ্জ্বল করে):
"You mean সেই চিপটা?
যেটা রুবি পাচারের সময় আমরা নিতে পারিনি?"
কিরিস মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়।
রিহান (উচ্ছ্বসিত হয়ে):
"Broooo! তুই যদি সেই চিপটা এনে দিস, আমি দুনিয়ার সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস হ্যাক করতে পারব!
I LOVE YOU, BRO!"
ইয়াবি (হাসতে হাসতে):
"আসলে তুই জিনিয়াস!"
বাকি কাজগুলো করতে করতে সন্ধ্যা নেমে আসে।
কাজ শেষে ছেলেরা এবার গাড়িতে উঠবে—ঠিক তখন রিহানের ফোন বেজে ওঠে।
ফোনে ওপাশে সুপ্রিয়া—
"তোরা কোথায় রে? সেই কখন থেকে বাড়ির বাইরে! বাড়িতে আয়, দ্রুত!"
রিহান (তাড়াতাড়ি):
—"আরে বড় আম্মু, সব হয়ে গেছে।
পাঁচ মিনিটের মধ্যে চলে আসব!"
কাবির:
"আম্মু ফোন দিয়েছিল… ভাইয়া তুমি গাড়ি চালাও, তাহলে সত্যি পাঁচ মিনিটে পৌঁছে যাব!"
কিরিস:
"মার্ক, তুমি অন্য গাড়িতে যাও। বাকি কাজগুলো শেষ করো, রাতে সব কাজের রিপোর্ট মেইল করে দেবে।"
মার্ক:
"ওকে বস। আপনি কোন গাড়িতে যাবেন, BMW নাকি…"
কিরিস (থামিয়ে দিয়ে):
"না, BMW ঠিক আছে। যেটা বলেছি তুমি সেটা করো।"
গাড়িতে বসতেই ইশান পেছনে ফিরে বলে—
"Bro, আমরা কিন্তু তোর ওই উরাধুরা গাড়ি চালানোর এক্সপেরিয়েন্স ভুলিনি!
তখন আমাদের যা অবস্থা হয়েছিল… আজকে লিসিকেও ওই এক্সপেরিয়েন্স করিয়ে দিয়েছিস!
বেচে গেছে মেয়েটা—বমি পর্যন্ত গেছে, হসপিটালে ভর্তি হতে হয়নি আমাদের মতো!"
কাবির:
"হলোক কথা বলেছিস! আমি ওই দিনের কথা ভুলতে পারবো না!"
কিরিস (ঠোঁট চেপে):
"হয়েছে হয়েছে… চুপ কর এবার!"
বাড়ির দরজার সামনে গাড়ি দাঁড়ায়। বেল বাজানো মাত্রই দরজা খুলে দাঁড়ায়… সুপ্রিয়া।
চোখে রাগের ঝিলিক।
—"তোদের আসতে কত সময় লাগে?"
কাবির (চোরা হেসে):
"মা, পাঁচ মিনিটই তো লেগেছে!"
"তোরা সব কিরিসের পিছনে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? সামনে আয়!"
রিহান (ভোলাভালা গলায়):
"আমার সোনা বড় আম্মু, আর হবে না… এবার গেলে বলে যাব!"
কিরিস (চুপচাপ):
"মা, আমি উপরে গেলাম।"
বলে কিরিস সোজা সিড়িঁ বেয়ে উপরে চলে যায়,কিরিসের এমন করায় ছেলেগুলো হা করে কিরিসের দিকে তাকিয়ে থাকে—
কাবির:
"আমার সোনা না, এমন লুক দিও না!"
ইশান:
"মামি…!"
সুপ্রিয়া (অবশেষে):
"হয়েছে হয়েছে, ভিতরে আয়!"
সুপ্রিয়া দরজার সামনে থেকে সরে দাঁড়ায়।
ছেলেরা একে একে ভিতরে ঢুকে।
ছেলেরা মেয়েদের দিকে তাকালে তাদের চোখে-মুখে দেখে স্পষ্ট—বুঝে গেছে, মেয়েরা ওদের নামে ইতিমধ্যেই নালিশ করে দিয়েছে।
ওরা কোনো কথা না বাড়িয়ে সোজা উপরে উঠে যায় ফ্রেশ হতে।
এই ফাঁকে সুপ্রিয়া রান্নাঘরে ঢোকে।
প্রিয়া ও সুপ্রিয়া দু’জনেই মিলে সন্ধ্যার জন্য চা আর হালকা নাস্তা বানিয়ে আনছে।
স্টাডি রুম থেকে আনোয়ার আর আনারুল কথা বলতে বলতে আসছে।
ওদের মুখে গাঢ় চিন্তার ছাপ।
দুজনই এসে ছোপাতে বসে।
আনোয়ার (চিন্তিত গলায়):
—"জানি না কী হবে... তুই এখন এসব বাদ দে।
সকালে দেখা যাবে।"
আনারুল (কপাল টিপে ধরে):
—"ঠিক আছে, মাথাটা যা ধরেছে..."
এই সময় প্রিয়া ট্রে হাতে এসে—
"এই নাও চা, খাও। দেখবি মাথা ব্যথা কমে যাবে... ভাইয়া, আপনার চা।"
আনোয়ার (হালকা হেসে):
—"একদম ঠিক সময়ে চা টা দিলে।"
মির্জা বেগম এতক্ষণ তাদের দেখে যাচ্ছিলেন।
তিনি সব বুঝে গেছেন।
দুনিয়াতে সবার কাছ থেকে কিছু না কিছু লুকানো গেলেও, মায়ের চোখকে কিছু লুকানো যায় না।
মা-ই তো একমাত্র, যার চোখ সন্তানের মন পড়তে পারে।
মির্জা বেগম চায়ে চুমুক দিয়ে বলেন—
—"কি হয়েছে তোদের?
দুজনকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে।"
আনোয়ার এক দমে সব বলে ফেলে—
—"আর বলো না মা... তোমার মনে আছে না, আনারুল মাঝখানে মিসার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলো—ইমার্জেন্সি ক্যাশ লাগবে বলে।
তখন তো কার্ডও কাজ করছিল না।"
মির্জা (স্মিত হেসে):
—"হ্যাঁ, একবার বলেছিলিস।
আর টাকার কোনো সমস্যা তো নেই, তাই না?"
আনারুল (হালকা স্বরে):
—"মা, টাকার কোনো সমস্যা না।
কিন্তু ওর কাছ থেকে আমরা যে ১ কোটি টাকা নিয়েছিলাম,
সে এখন ২ কোটি টাকা চাইছে।"
মির্জা (চমকে উঠে):
—"কি বলছিস!
তা তোরা তো দিয়ে দে, তাহলে তো ঝামেলা থাকবে না।"
আনোয়ার (গম্ভীরভাবে):
"মা, বললাম তো—টাকার সমস্যা না।
যখন যাবে তখন দিয়ে দেব।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সম্মানের।"
আনারুল:
"হ্যাঁ, মিসা যা লোক...
আর তাছাড়া কাল সকালেই আসতে চাইছে।
এজন্য ভাবছি কী করবো।
টাকা ওকে কালকেই দিয়ে দেব, যেভাবেই হোক।"
আনোয়ার (চিন্তিত স্বরে):
"মা, তুমি এই কথাটা কাউকে বলো না।
কিরিসকে তো একদমই না।
ও এসব জানতে পারলে খুব রাগ করবে।"
মির্জা (মাথা নাড়িয়ে):
—"আচ্ছা ঠিক আছে।
যখন আর কোনো সমস্যা নেই,
তখন কাল উনি এলে একসঙ্গে বসে কথা বলে সব ঠিক করে নেব।"
এদিকে সুপ্রিয়া আর প্রিয়া এসে ছোপাতে বসে।
একটু পরেই ছেলেগুলোও একে একে নিচে নামে।
মির্জা (প্রশ্ন করে):
"বড় বউমা, আলপনা দেওয়ার ব্যাপারে কিছু ভেবেছো?
তোমাকে তো সকালে বলেছিলাম…"
সুপ্রিয়া (হালকা অস্বস্তি নিয়ে):
—"মা, আমরা তো কেউই ভালো আলপনা দিতে পারি না।
আর আমার তো লোক দিয়ে করাতে ভালো লাগে না।
ভাবছি স্ক্রিপ্ট করব নাকি শুধু পুঁতি রাখবো…"
এ কথা শুনে এতক্ষণ নিজেদের মাঝে মেতে থাকা মেয়েগুলোর মন এবার পুরোপুরি বড়দের দিকে চলে আসে।
আরোবি:
"আমরা তো পারি না দিতে…"
সুরভী:
"আমি পারলে অবশ্যই দিতাম,
কিন্তু পারি না তো।"
ঠিক তখনই, গলা উঁচিয়ে সবার সামনে—
লিসি (আত্মবিশ্বাসী হাসি নিয়ে):
"আলপনা দেয়া কোনো ব্যাপার নাকি?
নানু, আমি দিয়ে দেবো।"
মির্জা বেগম এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে হেসে ওঠেন—
—"এই তো, আমি তো লিসির কথাই ভুলে গিয়েছিলাম!
ও কিন্তু খুব ভালো আলপনা দিতে পারে।"
প্রিয়া (সন্দেহের গলায়):
"তাই নাকি?
কিন্তু অত বড় ছাদে সব একা পারবে?"
লিসি (মুচকি হেসে, দৃঢ় গলায়):
"আরেহ! ছোটোমামী, কত বড় উঠোনে আমি একা একাই আলপনা দিয়েছি।
এটা কোনো ব্যাপার না।
আমি দিবো। চিন্তা করো না। ভাইয়ার বিয়েতে আলপনা দিবো না,, তো কার বিয়ে তে দিবো হুম?,,,,, "
রিহান হেসে বলে—
"দেখেছিস, লিসি আমার একমাত্র ভালো বোন!"
কাবির:
—"হ্যাঁ, লিসি… আমার বিয়েতেও কিন্তু তুই আলপনা দিবি!"
আরোবি (হালকা বিরক্ত গলায়):
—"কিন্তু মা, আলপনা দিতে যা লাগবে, সবকিছু কি আনাইছো?"
প্রিয়া (হাত মাথায় ঠেকিয়ে):
—"দেখেছো, সবকিছুর ভিড়ে আমি ওটাকেই ভুলে গিয়েছি।
এখন কে যাবে?
জারা, তুই যা না।
আলপনা তো সকালে দিতে হয়, আর এত সকালে তো দোকান খোলা থাকবে না!"
লিসি (তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করে):
"ছোটোমামী, আপনি জারা আপুকে বলছেন কেন? ভাইয়াদের বলেন।
এখন রাতে জারা আপু একা যাবে কেন?"
আরোবি (হালকা হেসে):
—"শুন লিসি, এখন যদি মা ওদেরকে বলেও, তারপরেও জারা-ই যাবে।
এসব ব্যাপারে ও এক্সপার্ট।
আর তুই জানিস না?
জারা এমনিতেও রাত করে বাড়ি আসে!"
জারা হেসে বলে:
"ওকে মা, আমি যাচ্ছি।
তবে একটা কেকও নিয়ে আসবো, হুম?
আমি গেলাম মা, বাই!"
ঠিক তখন ইশান বলে ওঠে, মুখ করে—
"This is not fair, শাশুড়ী মা!
আমার হবু বউটাকে একা পাঠিয়ে দিলেন?"
জারা দরজার গোরায় দাঁড়িয়ে ঘাড় উঁচিয়ে বলে—
"তোকে তো আমি...
মা! তুমি কিছু বলছো না কেনো?
ও তোমাকে ‘শাশুড়ী’ বলছে!"
প্রিয়া হেসে গলা নামিয়ে বলে:
—"তুই 'হ্যাঁ' বললে তো আমি শাশুড়ি হবই, তাই না?
তাই আগে থেকেই প্র্যাকটিস করছে, তাই না ইশান?"
ইশান লাফ দিয়ে উঠে প্রিয়ার গলা জড়িয়ে ধরে—
"Ohh! You are the best শাশুড়ী মা ever!"
সুপ্রিয়া (হাসি চেপে, বাস্তবতাময় গলায়):
"হয়েছে হয়েছে, জারা…
তুই গিয়ে ভিডিও কল দিবি। আমরা দেখে নেব কোনটা ভালো লাগছে।"
জারা:
—"ওকে, আমি গেলাম।
বাবা, গাড়ি কোন গ্যারেজে রেখেছো?"
আনারুল (চোখ তুলে দেখে):
—"দেখ, আমি বলেছিলাম ২ নাম্বার গ্যারেজে রাখতে। ওখানেই আছে।"
জারা সেখান থেকে বেরিয়ে যায় গ্যারেজে।
বাইক বের করে, হেলমেট পরে বাইকে চেপে বাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়।
ঠিক তখন...
ইশান বলে—
—"আমি-ও গেলাম চৌকি দিতে।
যদি কেউ নিয়ে নেয়!"
আরোবি (তীক্ষ্ণ কণ্ঠে):
—"যা যা, এমনিতেও কেউ তোকে হাত দেবে না।
তবুও না হয় একটু আশাবাদী হলি।"
ঘরের সবাই হেসে ওঠে, আবার নিজেদের কথাবার্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই...
উপরের দিক থেকে ভেসে আসে ধীর পদধ্বনি।
কিরিস ল্যাপটপ হাতে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামছে।
সুপ্রিয়া থমকে যায়।
ছেলেটা নিচে এসেছে?
তাঁর মনে পড়ে—
এই ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই অন্যরকম।
সবাই মিশে থাকলেও কিরিস নিজেকে গুটিয়ে রাখে।
লিভিং রুমে বসে থাকা, গল্পে অংশ নেওয়া—
কিরিসের ক্ষেত্রে বিরল।
তবুও, আজ সে এসেছে।
এটাই অনেক।
সুপ্রিয়া কিরিসের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে—
"কফি দেবো নাকি?"
কিরিস, এক চেহারায়, এক কণ্ঠে, ছোট্ট ‘হুম’ বলে মাথা নাড়ে।
তারপর এক দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে বলে—
—"আর বাবা...
চাচু, কথা আছে—এদিকে আসো।"
ঘরের হালকা হাসির আবহ এক মুহূর্তে ভারী হয়ে আসে।
সবাই বুঝে যায়—
কিছু একটা গুরুতর কথা হতে চলেছে।
সুপ্রিয়া উঠে কফি বানাতে চলে গেলেন।
আনোয়ার আর আনারুল উঠে পাশে থাকা হালকা দূরের ছোপাতে গিয়ে বসলো।
কিরিস নিজের হাতে ল্যাপটপটা টেবিলে রাখে।
কিরিস (ঠাণ্ডা গলায়):
"এবার বলো, কি করতে চাও?"
আনোয়ার (কিছুটা মজা করে):
—"কি আর করবো!
তুই তো বললি, যা করার তুই-ই করবি।
আমরা তো আছি শুধু সাপোর্টের জন্য!"
কিরিস (মাথা নিচু করে একটু গম্ভীর ভঙ্গিতে):
"সেটা না।
শোনো, আমি সব ফিক্স করে ফেলেছি।
তোমরা একবার দেখে বলো, আর কিছু চাও কি না।"
এই বলে কিরিস ল্যাপটপ খুলে একটা ভিডিও চালায়।
ভিডিওটায় বিয়ের আয়োজন—ঘরের সাজানো, বাইরের স্টেজ, মেহেদির ডালা, গেট ডেকোর, সাউন্ড সিস্টেমসব কিছু অ্যানিমেশন আকারে প্ল্যানিং করা।
ভিডিওটা দেখে আনারুল চোখ গোল করে বলে—
—"আর কি চাইবো বলো!
যা ভেবেছিলাম তার চাইতেও ভালো।
তাই না ভাইজান?"
আনোয়ার (হেসে হেসে মাথা নাড়ে):
—"হ্যাঁ, একদম।
আর কিছু দেখাবি?"
কিরিস মাথা নাড়িয়ে "না" জানায়। কিরিস (পরিকল্পনা ধরে স্পষ্ট গলায়):
—"কাল সকালে বাড়ি সাজানোর লোক চলে আসবে।
বাইরের কাজ আর ভিতরের সব দেখে নেবে।
কাল তো সবাই রঙ খেলার আয়োজন করছে,
তাছাড়া রাতে আবার ব্যাচেলর পার্টি—
তাই না, রিহান?"
রিহান ও ছেলেরা একসাথে মাথা নাড়িয়ে উত্তর দেয়।
মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েরা—শুরু হয় রায় চৌধুরী পরিবারের জমজমাট টকঝাল মজা:
আরোবি (উচ্ছ্বসিত ভঙ্গিতে):
—"আরে বাড়িতে প্রথম কারোর বিয়ে!
পুরো ফাটিয়ে দেবো—এই গোটা এলাকায় মানুষ হা করে দেখবে।
তাই না, কিরিস ভাইয়া?"
কিরিস (হালকা মুচকি হেসে):
—"একদম।
মানুষ দেখলে যেন বলে না পারে, বলতে হয়—
‘এটা রায় চৌধুরী পরিবারের বিয়ে!’"
রিহান (ঠাট্টা করে):
—"আমাকে ধন্যবাদ দে।
আমার জন্যই তোরা এত মজা করতে পারছিস।"
সুরভী (চোখ চুলকে):
—"তোকে ধন্যবাদ কেন দেবো?
তুই না করলে তো এই বাকি কয়টা আছে, কি করতো তারা?"
ইয়াবি (অভ্যেস মতো মেয়েদের খোঁচাতে):
—"আরে বাবা, আমাদের দিকে হাত দিচ্ছিস কেন?
তোরা তো সব বুড়ি হয়ে যাচ্ছিস!
তোদের আগে বিয়ে করা উচিত!"
তিশা (আবেগে বলে):
"ভাইয়া, আমি বুড়ি হয়ে যাচ্ছি?"
ইয়াবি (চটপট সাফাই দিয়ে):
—"আরে!
তুই তো আমার বোন!
তোর গায়ে টানলাম কবে?
আমি তো ওদের বলেছি!"
লিজা (গম্ভীর গলায়):
"ভাইয়া, এটা ভালো না!"
আরোবি (চোখ টিপে মুচকি হেসে):
"সব বুঝি আমরা।
তুই আমাদের বলছিস,
কিন্তু বলার আগে দেখে নিবি তো!
তোর দুই বোনও তো আমাদের মধ্যে!"
ইয়াবি (হাত জোড় করে):
"আমার ভুল হইছে, আমার মা!
এইবার চুপ কর!"
সুপ্রিয়া কফির কাপ হাতে, সঙ্গে একটা ছোট বাটিতে কিছু বাদাম নিয়ে কিরিসের দিকে আসছেন।
এই বাড়িতে একটাই জিনিস আছে যা কিরিস কোনওদিন পরিবর্তন করেনি—
তার মায়ের হাতের কফি।
অন্য কারোর হাতে বানানো কফির ঘ্রাণও তার পছন্দ নয়।
সুপ্রিয়া আসছেন ধীরে ধীরে, মুখে একরাশ মমতা, একরাশ শান্তি।
সেই শান্তিময় মুহূর্তে...
ঘরের সবাই একবার থেমে যায়।
সুপ্রিয়া কফি আর বাদামের ছোট একটা বাটি এনে কিরিসের সামনে রাখলেন।
কিরিস, মায়ের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো।
তখনই কফির কাপটা হাতে তুলে নিয়ে এক চুমুক দিয়ে বলল—
কিরিস (ভালোবাসা ভরা গলায়):
"তোমার মতো করে কফি বানাতে এই পৃথিবীতে আর কেউ পারে না…"
সুপ্রিয়া, বাদামের বাটি থেকে বাদাম নিয়ে খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে চোখ সরিয়ে বললেন—
সুপ্রিয়া (আড়ালে আবেগ লুকিয়ে):
"হয়েছে… আর কমপ্লিমেন্ট দিতে হবে না!
তুই যে আমার হাত ছাড়া কারোর হাতের খাস না…
এইটাই তো আমার বড় জ্বালা!
বিয়ের পরে কি করবি তাই ভাবি মাঝে মাঝে…"
সুপ্রিয়া বাদামের খোসা ছাড়িয়ে ছেলের গালে সযত্নে তুলে দেন।
ঘরের সেই দৃশ্য…
লিসি মুখ চেপে আলতো করে হেসে ফেলে।
তার হেসে ওঠা চোখে পড়ে আরোবির, সে চট করে বলে—
আরোবি:
"হাসছিস কেন হুম?"
"তুই ভাইয়ার খাওয়া দেখে হাসছিস!"
লিসি (হাসতে হাসতে):
"হুম...
এত বড় হয়ে গেছে,
তাও নিজের হাতে খেতে পারে না!"
সুরভী (জ্বলজ্বলে চোখে বলে):
—"আরে বড় আম্মু তো ওকে এমন করে খাওয়ায়!
বাড়ি এলে ওর আদর-যত্নের জন্য আমরা বাকিরা আদরের অভাবে মরি!"
আরোবি (হেসে ফেলে):
—"আর তাছাড়া ভাইয়া বড় আম্মু ছাড়া
আর কারোর হাতের খেলে বমি হয়!"
লিসি (চমকে উঠে):
—"কি?!
তার মানে ভাইয়া যদি অন্য কারোর হাতের কিছু খায়, তাহলে বমি করবে?
তোমাদের হাতের খেলেও?"
আরোবি:
—"তেমন না…
বাইরের কারোর হাতে খেলে…
আর আমাদের হাতের খায়, কিন্তু অল্প…
বেশি খায় না।"
লিসি (ভুরু কুঁচকে):
—"তার মানে ওনি বাইরের খাবার খেতে পারেন না?"
আরোবি (হেসে হেসে):
—"আরে পাগল! তা না।
ওকে কেউ গালে তুলে ভাত বা ভারি কিছু খাওয়ালে
ও খেতে পারে না।
আর বাকি রান্না অন্য কেউ করলেও খেতে পারে।"
সুরভী (একদম সোজা করে দিয়ে):
—"অত ঘুরিয়ে না বল…
কিরিস গালে তুলে শুধু বড় আম্মুর হাতের খায়,
অন্য কারোর হাতের খেতে পারে না।
আর কফিও শুধু বড় আম্মু বানালে খায়।"
লিসি (দম ফাটিয়ে হাসি চেপে):
—"ও বুঝেছি…
কিন্তু এটা বাজে স্বভাব!"
কাবির (মজা করে বলে):
—"একটু পরে ডিনারের সময় দেখবি,
মা ভাইয়াকে খাওয়াবে।
তুই সরাসরি দেখে নিবি!"

0 Comments