সুপ্রিয়ার কথার পর লিসি অজান্তেই চোখ তুলে তাকায় কিরিসের দিকে। Maroon রঙের শার্ট, সামনের দুটো বোতাম খোলা —
যেন ঠিক তার জন্যই তৈরি করা হয়েছে পোশাকটা।
অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছে তাকে।
কিরিস চুপচাপ এসে টেবিলে বসে।
কোনো ভান নেই চোখে-মুখে।
শুধু হাতে একটা পাউরুটি, আর নিখুঁতভাবে বাটার মাখাচ্ছে তাতে।
হঠাৎ, সে জিজ্ঞেস করে —
"রিহান, তুই কি আপেল কেটেছিলি?"
রিহান চমকে না গিয়ে সোজা জবাব দেয় —
"হ্যাঁ, ভালো করে কেটেছি ভাই।"
কাবির হালকা হেসে বলে —
"কিন্তু দানা পেলাম না তো!"
এক মুহূর্ত নীরবতা।
ইয়াবি হালকা হেসে বলে —
"Okay…"
তবে তার গলায় একটা কৌতূহল টনটন করে বাজে।
ইশান তখন এক চুমুক জুস খেয়ে বলে —
"তাহলে অপারেশন সাকসেসফুল?"
কিরিস কোনো আবেগ ছাড়াই বলে —
"রাত ৮টায় খবর শুরু।"
সবার চোখাচোখি, কিন্তু কেউ কিছু স্পষ্ট করে না।
কিছু একটা ঘটছে—কিন্তু কী?
এই আপেল আর দানার আড়ালে যে বিষাক্ত বাস্তব লুকিয়ে আছে,
তা বোঝে শুধু ওরাই।
এদিকে লিজা চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ায় —
"আমার হয়ে গেছে, আরোবি চল!"
মেয়েরা তাড়াতাড়ি খেয়ে উঠে চলে যায়।
সবাই শেষমেশ খাওয়া-দাওয়া সেরে গুছিয়ে নেয়,
কারণ আজ বিয়ের কেনাকাটার দিন।
বাড়ির সামনে,,
সবার ব্যাগপত্র তৈরি।
গাড়িগুলো সামনে দাঁড়িয়ে, শুধু একটা বাদে।
কিরিস সোজা বলে —
"মা, তোমরা আগে চলে যাও। আর কাবির, তোরাও যা।"
আরোবি একটু বিরক্ত হয়ে বলে —
"আরে, লিসিকে তো আসতে দাও!"
কিরিস মাথা নাড়ায় —
"তোমরা যাও। আমি লিসি আর ইয়াবিকে নিয়ে আসছি।"
সবাই কিরিসের নির্দেশে গাড়িতে উঠে চলে যায়।
চুপচাপ হয়ে যায় পুরো জায়গাটা।
গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে...
লিসি নিচে নেমে দেখে সামনে ফাঁকা।
কোনো গাড়ি নেই। শুধু একটা গাড়ি, আর তার গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে কিরিস।
লিসি (অবাক হয়ে):
"সবাই কোথায়? আমাকে না নিয়ে চলে গেল?"
কিরিস ধীর স্বরে বলে —
"ইয়াবি, তুই কি আমাকে দেখতে পারছিস?"
ইয়াবি (হাসি দিয়ে):
"অবশ্যই! কেন তুই কি অদৃশ্য নাকি?"
কিরিস (চোখ সরিয়ে):
"না, লিসি মনে হয় দেখতে পারছে না…"
কথার গভীরে একটা খোঁচা লুকিয়ে ছিল।
ইয়াবি এবার কিরিসের চোখের দিকে তাকায়।
কিরিস একবার চোখ ইশারা করে কিছু বলে।
ইয়াবির চোখ বড় হয়ে যায়।
ইয়াবি (চমকে উঠে):
"তার মানে এই সেই…"
বলতে গিয়েও থেমে যায়।
কিরিসের চোখ বড় হয়ে তাকানোতেই থেমে যেতে বাধ্য হয়।
লিসি কপালে ভাঁজ ফেলে বলে —
"আমি যাবো না!"
ইয়াবি তখন তার কাছে এসে একদম কোমল কণ্ঠে বলে —
"আমার সোনা বোন, চল না। তুই না গেলে নানি আমায় বকে দেবে। আমিও তো যাচ্ছি তোর সাথে…"
লিসি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।
শেষমেশ ইয়াবির অনুরোধে সে গাড়িতে উঠতে যায়।
তখনই পেছন থেকে ভেসে আসে কিরিসের কণ্ঠ —
"আমি কি ড্রাইভার?"
লিসি—" না তো "
গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কিরিস ঠাণ্ডা গলায় বলে —
"তুমি পিছনে বসছো কেন?"
লিসি একটু থমকে গিয়ে বলে —
"ইয়াবি ভাইয়ার সাথে বসি ভাইয়া..."
কিরিস চোখ সরু করে বলে —
"না, বললাম না।"
পাশ থেকে ইয়াবি হালকা হেসে বলে —
"লিসি, তুই সামনে যা। আমি একটু ঘুমাবো এই জায়গায়। এজন্যই কিরিসের গাড়িতে উঠেছি।"
লিসির আর কোনো উপায় থাকে না। সে সামনের সিটে গিয়ে চুপচাপ বসে পড়ে।
কিরিস গাড়ি স্টার্ট দেয়।
গাড়ি চলতে শুরু করেছে ১০ মিনিটের মতো।
সামনে তাকিয়ে থাকা লিসি হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে বলে —
"বলছি, আপনার গাড়িতে কি তেল নেই নাকি?"
কিরিস ভ্রু কুঁচকে তাকায় —
"কেন?"
লিসি হেসে ফোঁস করে —
"মানে আপনি যে গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন... এক রিকশাও আপনার BMW কে ওভারটেক করে দিলো! এই গাড়ির আর মান-সম্মান থাকলো না।"
এই কথা শুনেই কিরিসের চোখে আগুন জ্বলে ওঠে।
সোজা বলে —
"What?! ঠিক আছে লিসি র্সামা, এবার তোমাকে দেখাই BMW কাকে বলে!"
এতক্ষণ চোখ বন্ধ করে বসে থাকা ইয়াবি কেঁপে উঠে —
"Bro, না একদম না! আমি তো ঘুমাতে আসছিলাম!"
কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।
BMW গাড়িটা গর্জে উঠে ঠিক যেন রাস্তায় একটা সিংহের মতো ঝাঁপ দেয়।
ঘড়ির কাঁটার মতো চোখের পলকে সামনে থাকা গাড়িগুলো একেকটা পেছনে সরে যেতে থাকে।
হাইওয়ের লাইনগুলো যেন গিলে খাচ্ছে স্পিডকে।
ক্যামেরা ভিউ:
লিসির চুল উড়ছে, মুখে ভয়, গলার স্বর কাঁপছে।
লিসি:
"আরে বাবা, আস্তে চালান! আমি কি আপনাকে বলেছি স্পিড রেস করতে?"
কিরিস ঠাণ্ডা গলায় বলে —
"তুমি তো বললে! এখন সামলাও নিজেই!"
লিসি:
"এতটাও না! আহ্...!"
ইয়াবি:
"বোন আমার! তুইও ফাঁসলি, আমাকেও ফাঁসলি! ও বাবা কিরিস, আস্তে...!!"
কিরিস কোনো কথা বলে না।
গাড়ি যেন ছুটে চলছে সময়ের থেকেও দ্রুত।
কিরিস ড্রাইভ করছে, তবে তার মুখে সেই স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাসের ছাপ নেই। গাড়ির স্পিড বাড়ছে, ব্রেক কষছে হঠাৎ, যেন মনে হচ্ছে—এই বুঝি এক্সিডেন্ট হবে!
বাকি গাড়িগুলো কেওর সামনে। সবাই থম মেরে বসে আছে।
কিরিস গাড়ি থামিয়ে হঠাৎ দরজা খুলে নেমে এসে বলে—
"আস্তে... এই নে পানি।"
ইয়াবি পাশের ঔষধের দোকান থেকে দৌঁড়ে এসে কিরিসের হাতে একটা প্যাকেট দিয়ে বলে—
—"Bro, এই নে ঔষধ!"
এদিকে পেছনে বসা লিসি কান্নায় ভেঙে পড়েছে। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু, তার কণ্ঠ কাপছে—
"আমি কি অতো জোরে চালাতে বলেছিলাম?"
কিরিস ঠাণ্ডা গলায় বলে—
"ঔষধটা নাও।"
লিসি মাথা নেড়ে, ঠোঁট কাঁপিয়ে বলে—
—"না, না, আমি খাবো না!"
এবার কিরিস হঠাৎ রেগে গিয়ে চোখ গরম করে তাকায়, এক ধমক দিয়ে বলে—
"বলেছি খাও, খেতে হবে!"
ভয়ে সিঁটিয়ে যায় লিসি। আর একটাও কথা না বলে কাঁপা হাতে ঔষধ মুখে দেয়।
কিছুক্ষণ পরে...
সবাই গাড়ি থামিয়ে সেখানে এসে পড়ে।
সুপ্রিয়া ছুটে এসে বলে—
"এই কি হয়েছে লিসির!"
আরোবি তো প্রায় ছুটেই এসে চিৎকার করে—
"ওই কি হয়েছে!"
কিন্তু ইয়াবি হাত তুলে বলে ওঠে—
"চুপ কর তো! ওর গা পাকাচ্ছে, বমি করেছে, এখন ওষুধ খেয়েছে। আর কোনো প্রশ্ন করিস না, প্লিজ।"
আনোয়ার সবার সামনে এসে বলেন—
"কিরিস, তাহলে তুই লিসিকে নিয়ে আয়। আমি আর মা আগে যাই।"
মির্জা বেগম কাছে এসে আদর করে বলেন—
"লিসি, এখন ভালো লাগছে?"
লিসি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।
"তাহলে ভাইয়ার সাথে চলে আয় মা। আমরা আগে যাচ্ছি।"
কাবির পাশ থেকে কিরিসকে ঠাট্টার ছলে বলে—
—"Bro, এটা কি হ্যাপি জার্নি ছিল?"
রিহান ঠোঁট চেপে হেসে বলে—
"I know bro… এটা আমাদের সাথেও একবার হয়েছিল!"
সবার চোখ এবার লিসির দিকে।
রিহান, ইয়াবি, কাবির, ইশান... সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে লিসি এখন ঠিক আছে কিনা।
সবাই গাড়িতে উঠে চলে যায়।
লিসি এখন একা, একটা গাছের নিচে বসে। মুখে অস্থিরতা, এলোমেলো চুল মুখে এসে পড়েছে, বাচ্চার মতো করে চুলগুলো সামলাতে পারছে না।
আর ঠিক তখনই...
কিরিস ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে এসে বলে—
"কমলে... চলো!"
লিসি কিরিসের নির্দেশ শুনেই মাথা নিচু করে উঠে দাঁড়ায়।
কিরিস পেছনে দাঁড়িয়ে পকেট থেকে হঠাৎ একটা গোল্ডেন গাউডার বের করে। তারপর চুপচাপ, নিঃশব্দে লিসির চুলগুলো একত্র করে বাঁধতে শুরু করে।
লিসির চোখ হঠাৎ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়। সে এমন ব্যবহার আশা করেনি।
চুল বাঁধা শেষ করে কিরিস ঠান্ডা গলায় বলে—
—"এবার ভালো লাগছে।"
লিসি একটু চুপ করে থেকে মুখ ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করে—
—"হুম... কিন্তু আপনি আমার চুলে না বলে হাত দিলেন কেন?"
কিরিস এবার ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে—
—"বেঁচে গেছো আমি হাত দিয়েছি। যদি অন্য কেউ দিত... তোমার মাথার চুল একটাও রাখতাম না!"
বলেই সে আগের মতোই কঠিন চেহারায় হেঁটে সামনে চলে যায়।
আর লিসি?
সে দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক আগের জায়গায়... তার চুলে আজ প্রথমবার অন্য কেউ হাত দিয়েছে...
কিন্তু সেই ছোঁয়া কেন জানি না, এত অচেনা অথচ এত আপন মনে হলো!
লিসি ধীরে ধীরে কিরিসের পেছনে পেছনে হাঁটছে। চোখ চলে গেছে একপাশে, একটা কাপল-এর দিকে, যারা খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে রয়েছে।
হঠাৎ—
ঠাস!
লিসির কাঁধ কিরিসের পিঠে ধাক্কা খায়।
"আহ... কেরে!" লিসি ব্যথায় কেঁপে উঠে বলে।
কিরিস ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়ে তার চোখে চোখ রেখে ঠান্ডা গলায় বলে—
"চোখ কোথায় তোমার, লিসি?"
লিসি কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই পাশে দাঁড়ানো সেই মেয়েটা গম্ভীর গলায় বলে ওঠে—
—"দেখে কিছু শিখো! কিভাবে গার্লফ্রেন্ডের যত্ন নিতে হয়!
তুমি তো আমার কোনোদিন চুলও বেঁচে দাওনি, কথা বলব না আমি তোমার সাথে!"
কিরিস এবার হালকা ঠোঁট বাঁকিয়ে লিসির দিকে তাকিয়ে বলে—
—"কি ব্যাপার লিসি শর্মা… তার মানে তুমি আমাকে তোমার…"
লিসি থতমত খেয়ে বলে—
"আরে চুপ করুন!"
কিছুক্ষণ পর...
সবার কেনাকাটা চলছে, কেউ লেহেঙ্গা দেখছে, কেউ গয়না। বউয়ের জন্য আকাশি রঙের লেহেঙ্গা সিলেক্ট করা হয়।
সবার মুখে হাসি, ব্যস্ততা, হইচই।
শুধু লিসি এক কোণে চুপচাপ বসে সবাইকে দেখছে। তার চোখে হাজারো ভাবনা।
তখনই আরোবি লিসির কাছে এসে বলে—
—"এই তুই কিছু কিনবি না?"
"হুম... দেখি," বলে লিসি হালকা হাসে।
ঠিক তখনই আনোয়ার মামা বলে ওঠেন—
—"লিসি মা, এই ব্যাগটা কিরিসের কাছে দিয়ে আয় তো।"
লিসি মুখ গোমড়া করে বলে—
"আমি কেন মামা?"
"সবাই ব্যস্ত ওদিকে।"
ইচ্ছা না থাকলেও, মুখে না করতে না পেরে লিসি কোনো রকমে ব্যাগটা হাতে নেয়।
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে যায়, মনে পড়ে যায়—
"আরে! ও তো জানেই না কিরিস কোথায়!"
নিজের কপালে আলতো করে দু’বার ঠোকায়—
—"বুদ্ধিটা গেল কোথায় আমার!"
সে সুপ্রিয়ার কাছে এসে বলে—
"মামি, ভাইয়া কোথায়?"
সুপ্রিয়া হেসে বলেন—
—"ওই পাশের দোকানে দেখো।"
"কোনটায়?"
সুপ্রিয়া ইয়াবিকে ডেকে বলেন—
"ইয়াবি বাবা, লিসিকে কিরিসের কাছে নিয়ে যাও। আর শোনো লিসি, ব্লাউজের কাপড়টা দেখে নিও!"
ইয়াবি এসে বলে—
"চলো বোন আমার!"
লিসি মুখ বাঁকিয়ে সুপ্রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে—
"তুমি এজন্যই আমাকে পাঠালে, আচ্ছা আমি গেলে কি পাবো মামি?"
সুপ্রিয়া এবার আর নিজেকে সামলাতে না পেরে হেসে ফেলে—
—"হ্যাঁ মা, বলেছে তুই ভালো কাপড় চিনিস। আর তুই যা চাস তাই দিব! এখন যা, নাহলে কিরিস আবার রাগ করবে!"
কিরিসের কাছে গিয়ে ইয়াবি বলে—
—"Bro, এই নে। আর আমি গেলাম মামিদের কাছে!"
এই বলে এক দৌঁড়ে উধাও হয়ে যায়।
লিসি হা করে তাকিয়ে থাকে ইয়াবির সেই দৌঁড়ের দিকে।
কিরিস ঠাণ্ডা গলায় বলে—
—"লিসি, ব্যাগটা দাও।"
লিসি যেন শুনতেই পায় না।
কিরিস এবার গম্ভীর গলায় বলে—
—"লিসি…!"
লিসি এবার মুখ ঘুরিয়ে কিরিসের দিকে তাকিয়ে বলে—
—"এত জোরে ডাকার কি আছে? আমি কি বধির?"
—"অবশ্যই। ব্যাগটা দাও।" কিরিস সংক্ষেপে উত্তর দেয়।
লিসি ব্যাগটা তার হাতে তুলে দেয়।
কিরিস দোকানের দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে যাবে, তখন পেছন ফিরে বলে—
—"আসো নাকি? কোলে করে নিয়ে যাব?"
লিসি লাফিয়ে বলে—
—"না না, আল্লাহ আমাকে বড় বড় দুটো পা দিয়েছেন! আমি একা যেতে পারি!"
এই বলে সে আগে আগে হাঁটতে শুরু করে।
কিরিস তার পেছন পেছন এগোতে থাকে..
হঠাৎ তার ঠিক বিপরীত দিক থেকে এক বয়স্ক ব্যক্তি ঠেলাগাড়িতে কিছু ভারী ব্যাগ নিয়ে আসছিলেন। গাড়ির ভার সামলাতে না পেরে হঠাৎ ব্যালান্স হারিয়ে পড়ে যান!
সেই ব্যাগগুলো ঠিক লিসির পায়ের উপর গিয়ে পড়ে!
—"আআআহ!" লিসি ব্যথায় প্রায় বসে পড়ে। ব্যাগ সরাতে পারছে না, পা যেন অবশ হয়ে গেছে।
কিরিস ছুটে আসে, ব্যাগগুলো সরিয়ে দিয়ে তৎক্ষণাৎ বলে—
—"লিসি! লাগেনি তো? ওঠো!"
কিন্তু লিসি প্রায় চোখে জল এনে বলে—
—"আহ... মনে হয় পা ভেঙে গেলো..."
আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে আসে।
একজন লোক বয়স্ক মানুষটিকে উঠতে সাহায্য করে।
বয়স্ক লোকটি উঠে এসে কাঁপা গলায় বলে—
—"তোমার লাগেনি তো মা? আমি... আমি আসলে সামলাতে পারিনি। ক্ষমা করে দাও আমাকে।"
লিসি ব্যথা সহ্য করে কষ্টের হাসি দিয়ে বলে—
—"না দাদু, আমার তেমন কিছু হয়নি। আপনি ক্ষমা চাচ্ছেন কেনো? আমি ঠিক আছি, হাঁটতেও পারবো ইনশাআল্লাহ। চিন্তা করবেন না।"
কিরিস একপাশে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো শুনে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে।
তার চোখে হালকা প্রশংসার ছাপ, এই মেয়েটি শুধু সুপ্রিয়ার কথার পর লিসি অজান্তেই চোখ তুলে তাকায় কিরিসের দিকে।
Maroon রঙের শার্ট, সামনের দুটো বোতাম খোলা —
যেন ঠিক তার জন্যই তৈরি করা হয়েছে পোশাকটা।
অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছে তাকে।
কিরিস চুপচাপ এসে টেবিলে বসে।
কোনো সুন্দরী না তার সাথে মনটাও সুন্দর
কিছুক্ষণ পর লোকটি চলে গেল, লিসি এখনো ব্যাথা নিয়ে বসে আছে, কিরিসের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ভাইয়া,,,,,,, আমাকে উঠান, নাকি এভাবে বসে থাকবো"
কিরিস হালকা হেসে তার দিকে এগিয়ে আসে,,,
লিসির পায়ে ব্যথা লাগায় কিরিস ঝুঁকে এসে তাকে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয়।
ঠিক তখনই ব্যথায় লিসি কিরিসের বুকের উপর হেলে পড়ে।
কিরিস তাকে শক্ত করে ধরে বলল—
—"এই যে বলছিলে তোমার কিছু হয়নি… আর কে বলেছিল আমার আগে আগে হাঁটতে!"
লিসির চোখে জল চলে আসে। একদম বাচ্চার মতো করে বলে—
—"দেখতে পাচ্ছেন না আমার পায়ে ব্যথা লেগেছে, তার ওপর আবার আমাকে বকছেন!"
এইভাবে কান্না করার শব্দে আশপাশের মানুষজন ওদের দিকে তাকাতে থাকে।
কিরিস কিছু না বলে নিজেকে সামলে নেয়।
সে লিসিকে পাশে থাকা বেঞ্চে বসিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে লিসির পা থেকে জুতো খুলে দেয়।
এরপর পায়ে হাত দিতে যাবে—
লিসি গুছিয়ে বলে—
—"আমার পায়ে হাত দিবেন না!"
কিরিস গম্ভীর গলায় বলে—
—"আমাকে রাগাবে না, যা করছি তা করতে দাও। না হলে এই পাটা আমি সত্যি সত্যি ভেঙে দেবো!"
এই হুমকিতে লিসি আর কোনো কথা বলে না।
কিরিস এবার মনোযোগ দিয়ে লিসির পা দেখে।
ব্যাগগুলো পড়েছিল ডান পায়ের ওপর, সেই জায়গায় ফুলে গেছে, জমে গেছে গাঢ় রক্ত।
কিরিস কপালে হাত রেখে বলে—
—"তোমাকে আমি... এই পায়ের কী অবস্থা করেছো!"
—"আমি করিনি তো!" মুখ ফুলিয়ে উত্তর দেয় লিসি।
—"আর মুখে মুখে তর্ক করো? এক থাপ্পড়ে তোমার ৩২টা দাঁত ফেলে দেবো!"
—"কি! তাহলে তো একটাও থাকবে না! ইশ… কী বাজে দেখাবে!" বলে লিসি আবার মুখে হাত চাপা দিয়ে রাখে যেন নিজেকে সামলায়।
কিরিস এবার একটু রেগে তাকিয়ে বলে—
—"লিসি শর্মা, তোমাকে আমি... এখন চুপ করে এখানে বসো।"
পকেট থেকে ফোন বের করে কিরিস দ্রুত মার্ককে ফোন দেয়—
—"মার্ক, যেখানে আছো শোনো… ওই মলমটা নিয়ে এখুনি আসো!"
ফোন রেখে দেয়।
এদিকে লিসি চেয়ারে বসে পা নাড়াতে নাড়াতে বলছে—
—"ব্যথা করছে ভাইয়া..."
কিছুক্ষণের মধ্যে মার্ক দৌঁড়ে এসে কিরিসের হাতে মলমটা দিয়ে বলে—
—"বস, আপনি যে মলমটার কথা বলেছিলেন…"
কিরিস চুপচাপ মলমটা নিয়ে নিচু হয়ে বসে।
লিসির পা নিজের হাঁটুর উপর তুলে নিয়ে মলম লাগাতে শুরু করে।
লিসি তাকিয়ে থাকে তার দিকে…
হঠাৎ চোখ পড়ে আশেপাশে—
দেখে শুধু সে না, পুরো মলের অর্ধেক মেয়েরা কিরিসকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে!
আর দেখবেই না কেন?
কিরিস পরনে maroon রঙের শার্ট, কয়েকটা বোতাম খোলা, এলোমেলো চুল, গম্ভীর নিরব চোখ—
পুরো একটা walking danger!
মলম লাগিয়ে কিরিস বলল—
"এবার চলো।"
"হু... ম..." বলে লিসি দাঁড়ায়।
কিন্তু পা রাখতেই আবার কষ্টে মুখ বিকৃত হয়ে ওঠে—
"ও মাগো! আমার পা..."
কিরিস ঠাণ্ডা গলায় বলে—
"তোমাকে কি আমি উঠে দাঁড়াতে বলেছিলাম? পাগলি!"
লিসি বসে পড়ে মুখ ফুলিয়ে বলে—
—"না দাঁড়ালে তো হাঁটবো কি! হাত দিয়ে?"
—"আমি কি তোমাকে হাঁটতে বলেছি? উঠো!"
লিসি একটু অবাক হয়ে বলে—
—"কি করবেন আপনি? আমি উঠবো না! আবার ব্যথা পাবো!"
এবার কিরিস রেগে গর্জে উঠে—
—"তোমাকে নিয়ে বাসর করব, উঠো!"
"কি?! পাগল নাকি!"
এই বলতেই—
কিরিস হঠাৎ এক ঝটকায় লিসিকে কোলে তুলে নেয়!
নিচে রাখা লিসির জুতোগুলোও হাতে তুলে নেয়।এক হাতে লিসিকে আর একহাতে লিসির ছিরা জুতো নিয়ে হাঁটতে শুরু করে
লিসি এক হাতে নিজেকে সামলাতে সামলাতে বলে—
—"আহ! আমাকে নামান ভাইয়া! সবাই দেখছে তো! আপনি এক হাতে তুলে নিয়েছেন, ফেলে দেবেন না তো!"
কিরিস চোয়াল শক্ত করে বলে—
—"আর একটা কথা বললে… এই পাঁচতলা থেকে নিচে ফেলে দেব!"
—"কি!! না ভাইয়া, প্লিজ নামান..."
কিরিস এবার লিসিকে নিয়ে মলের ব্যালকনির দিকে এগিয়ে যায়।
—"দিচ্ছি তো ফেলে! আমি বলছি না কেন নামিয়ে দিই?"
কিরিস লিসিকে হালকা দুলিয়ে দুলিয়ে নিচের দিকে দেখায়।
লিসি এবার এক ঝটকায় কিরিসকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে—
—"আহ না ভাইয়া! এখানে পড়ে গেলে আমি মরে যাব তো!"
কিরিস হালকা হেসে বলে—
—"জানি তো… তাই বলছি, আর একটা কথাও বলবে না। একদম চুপ।"
লিসি এবার সত্যি চুপচাপ হয়ে যায়।
তার মুখে কোনো শব্দ নেই, কেবল চোখে একটাই কথা—
"এই লোকটা পাগল... কিন্তু এই পাগলামিতেই কি যেন একটা আছে!"
অন্যদিকে সুরভী, জারা, লিজা ও অন্যান্য মেয়েরা নিজেদের মতো করে মার্কেটিংয়ে ব্যস্ত।
ঠিক তখনই আরোবি রিহানের দিকে ঘেঁষে গিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে—
—"আচ্ছা তোরা সব সময় কিরিস ভাইয়ার সাথে মার্কেটে যাস কেন?"
ছেলেরা একসাথে হেসে ওঠে।
ওদের হাসতে দেখে লিজা একটু বিরক্ত হয়ে বলে—
—"এতে হাসার কি আছে?"
রিহান চোখ টিপে হেসে বলে—
—"আরে, কিরিস ভাইয়ার সাথে আসলে আমাদের বিল দিতে হয় না।
ভাইয়া যেটা পছন্দ করে সেটা নিয়ে ফেলে, দাম না দেখেই বিল মিটিয়ে দেয়!"
জারা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে—
—"এই জন্যই তোরা সব ধান্দাবাজ!"
সুরভী ঠোঁট কামড়ে বলে—
—"সব কয়টা ফকির!"
কাবির—
—"কি! আমরা ফকির?"
লিজা ভ্রু কুঁচকে বলে—
—"হ্যাঁ, অবশ্যই!"
ইয়াবি এবার রসিয়ে বলে—
—"তাহলে ফকির পাড়ায় ভিক্ষা করতে আইছিস কেন?"
ইশান মজা পেয়ে বলে—
—"আহ আহ! কী সুন্দর কথা, সেই ইয়াবি!"
জারা হেসে বলে—
—"আমাদের এখনো অত খারাপ সময় আসেনি, যে ভিক্ষা করতে হবে!"
ওদের এই কথাকাটাকাটি শুনে তিশা সামনে এসে রাগী গলায় বলে—
—"আরে বাবা! এটা বাড়ি না, মার্কেট। ঝগড়া করিস না! আর মামি ডাকছে, সারি পছন্দ করতে আয়!"
সুরভী হেসে বলে—
—"এবারের মতো বেঁচে গেলি, চল!"
আরোবি সবাইকে থামিয়ে বলে—
—"দাঁড়া দাঁড়া… ওই দিকে তাকাও! লিসি কিরিস ভাইয়া… কে কোলে করে নিয়ে যাচ্ছে!"
সবাই একসাথে তাকিয়ে পড়ে সেই দিকে।
সুরভী চমকে বলে—
—"আরে গাধা! লিসি কিরিসের কোলে, না কিরিস লিসির কোলে!"
আরোবি হাসতে হাসতে বলে—
—"হয় লিসি-কিরিস না হয় কিরিস-লিসি… একে অপরের কোলে থাকলেই হলো!"
লিজা—
—"আরে বাদ দে তোর কথা!"
জারা এবার একটু গম্ভীরভাবে বলে—
"আমি কোনোদিন ভাইয়াকে মেয়েদের সাথে এমন করে কথা বলতেও দেখিনি,
আর আজ কোলে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে!"
এমন কথা শুনে ইয়াবি হালকা গলায় বলে—
"আরে! ও তো মেয়ে না!"
সবাই থমকে তাকায়।
কাবির চোখ কুঁচকে বলে—
"পাগল নাকি? লিসি মেয়ে না হলে কী?"
ইয়াবি হেসে বলে—
"মানে… লিসি তো মেয়ে, ঠিকই।
কিন্তু সে আমাদের সবার আদরের ছোট বোন!"
রিহান সাথে সাথে বলে—
"বোন!"
ইয়াবি মাথা নেড়ে বলে—
"হ্যাঁ… আমাদের সকলের ছোট বোন লিসি!"
সুরভী বলে—
"এইভাবে বলো! নাহলে আরোবির মতো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বললে আমাদের কিডনি-ফুসফুস-লিভার সব বের হয়ে আসবে!"
আরোবি—
"আহ! আমার দোষ সবসময়!"
তিশা বিরক্ত হয়ে বলে—
"চল না তোরা!"
এই বলে তিশা পুরো দঙ্গলটাকে টানতে টানতে নিয়ে যায় শাড়ির দিকে।
অন্যদিকে…
কিরিস কোলে লিসিকে নিয়ে ঢুকে পড়েছে একটা অভিজাত দোকানে।
সবার চোখ যেন ছুঁয়ে যাচ্ছে লিসির গায়ে।
লিসি লজ্জায় লাল হয়ে গিয়ে কিরিসের বুকে মুখ গুঁজে দেয়।
কিরিস শান্তভাবে লিসিকে একটায় চেয়ারে বসিয়ে দেয়।
সে তখনও চুপচাপ বসে, মাথা নিচু করে।
ঠিক তখনই দোকানের ম্যানেজার ছুটে এসে বলে—
—"Welcome sir, কেমন আছেন আপনি?"a
কিরিস—
—"ভালো। এই যে… আপনারা মাপ নেন।"
ম্যানেজার ঘুরে দাঁড়িয়ে ডাক দেয়—
—"মায়া! এদিকে আসো। স্যার ও ম্যামের জন্য!"
মায়া চলে আসে।
সে এক ঝলকে বুঝে নেয় পুরো বিষয়টা।
—"Welcome Sir, Welcome Ma'am. How can I help you?"
কিরিস সোজাসাপটা বলে—
—"বউয়ের জন্য কাপড় সিলেক্ট করতে হবে।"
মায়া হেসে বলে—
—"স্যার, মাপগুলো..."
কিরিস পকেট থেকে ব্যাগ বের করে দেয়।
মায়া ব্যাগ হাতে নিয়ে চলে যায়।
কিছুক্ষণ পর সে ফিরে আসে অনেকগুলো আকাশি রঙের কাপড় নিয়ে।
—"এই নিন স্যার, আকাশি রঙের সব latest collections!"
কিরিস লিসির দিকে ফিরে বলে—
"লিসি, কোনটা নেবে? চুজ করো।"
লিসি কাপড়গুলোতে হাত দিয়ে একটার পর একটা দেখতে থাকে—
—"ওইটা দেখি... না না, এটা নয়..."
কিরিস কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করে—
—"কেন?"
লিসি সরল গলায় বলে—
—"এটা পরে গরম লাগবে... আর কাপড়ও তেমন ভালো না!"
কিরিস হালকা হেসে একপাশে তাকায়…
লিসি বেশ কয়েকটা কাপড় দেখে একটার দিকে ইশারা করে বলে—
—"ওইটা দেখি..."
কাপড়ে হাত বুলিয়ে চোখ ছোট করে বলে—
—"এইটা নেবো ভাইয়া, কাপড়টা নরম, মোলায়েম… আর পরলেও বেশ ভালো লাগবে।"
কিরিস মাথা নাড়ে—
—"ঠিক আছে, তাহলে এইটাই সিলেক্ট করছি।"
মায়া এগিয়ে এসে—
—"ওকে স্যার।"
কিরিস এবার নির্দিষ্টভাবে নির্দেশনা দেয়—
—"শুনুন… লেহেঙ্গারটায় হালকা ভারী কাজ করবেন। ব্লাউজে হালকা কাজ রাখবেন, আর ওড়নাটা যেটা শাড়ির মতো পড়বে, তার পারে কাজ থাকবে, ভিতরে না। কালার যেন ফিক্স করা শেডেই থাকে, না বেশি গাঢ়, না বেশি হালকা।"
মায়া আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে—
—"আপনি চিন্তা করবেন না, স্যার। যেমনটা বলছেন, ঠিক তেমনটাই পাবেন। আপনি তো জানেন আমাদের সার্ভিস কেমন!"
তখনই কিরিসের ফোন আসে।
সে ফোনটা রিসিভ করে বলে—
—"মায়া, আপনি সাদা রঙের কাপড়গুলো দেখান।"
মায়া—
—"জি স্যার।"
লিসি একটু মুখ বাঁকিয়ে বলে—
—"সাদা রঙের কোন নেই তো ভাইয়া… তাহলে কি করে নেব?"
কিরিস ফোনে কথা বলতে বলতে বলে—
—"তোমাকে দেখতে বলেছি কোনটা ভালো, সেটা বলো!"
এটা বলেই সে সামনে এগিয়ে যায়।
লিসি পেছন থেকে নিচু গলায় ফিসফিস করে—
—"রাক্ষস কোথাকার!"
তারপর নিজে থেকে এক কাপড় পছন্দ করে রাখে।
মায়া কাপড়টা নিয়ে ভিতরে চলে যায়।
কিরিস ফোনে মার্ককে আদেশের স্বরে বলে—
— "তুমি আমার কালেকশন রুমে যাও।"
— "ডান পাশে দেয়ালের গায়ে 'CHANEL' লেখা সেকশনে গ্লাস ক্যাবিনেট থাকবে।"
— "সেখানে একজোড়া সাদা হিল রাখা আছে, বো-টাই দেওয়া ডিজাইনটা—পিওর লেদার,৫ নম্বর গ্লাস কেসের ভিতরে আছে দেখো ওটাই নিয়ে আসো"
মার্ক—
—"ওকে বস।"
সে কিরিসের ঘরে গিয়ে জুতো নিয়ে আসে।
কিরিস ফোন রেখে লিসির কাছে এসে—
—"কি পছন্দ করেছো?"
লিসি—
—"হুম… ওনি নিয়ে গেছেন।"
তখন মায়া এসে বলে—
—"ম্যাম, আপনার বডির মাপটা যদি দিতেন..."
লিসি চোখ গোল করে, বুকের উপর হাত দিয়ে বলে—
—"আপনি আমার বডির মাপ চাচ্ছেন?! কেনো?"
মায়া—
—"কারণ এটা আপনার ব্লাউজের কাপড় ম্যাম।"
লিসি ভীষণ চমকে—
—"কি?! আমার কোনো ব্লাউজ লাগবে না!"
কিরিস ঠাণ্ডা গলায় বলে—
—"দাদি বলেছে কিনে দিতে, তাই দিচ্ছি। মাপটা দাও।"
লিসি মাথা নিচু করে মনে মনে গজগজ করে—
"নির্লজ্জ, বেয়াদব, বেহায়া লোক কোথাকার! কোথায় কি প্রশ্ন করবে তাও জানে না! আমার বডির মাপ চাচ্ছে?! রাক্ষস একটার!"
কিরিস একপাশে দাঁড়িয়ে বলে—
—"আমার নামে যদি নিন্দা করো, তাহলে বল!"
লিসি চুপ করে বসে থাকে।
কিরিস এবার শান্তভাবে বলে—
—"হাত সরাও। হাত পিছনে রাখো… আমি কিন্তু একবারই বলবো, লিসি!"
লিসি না নড়ায় কিরিস এবার গম্ভীর গলায় ধমক দেয়—
—"সরাতে বলেছি না!"
লিসি বাধ্য হয়ে বুক থেকে হাত সরিয়ে নেয়।
কিরিস তখন একদৃষ্টিতে দেখে নিয়ে বলে—
—"৩৪ সাইজ। ব্লাউজটা পুরো প্লেইন রাখবেন, শুধু হাতায় কাজ দিবেন।"
মায়া হেসে ফেলে, লিসি ড্যাবড্যাব করে কিরিসের দিকে তাকিয়ে বলে—
(মনে মনে) "এ কেরে বাবা! এর ধান্দা ঠিক মনে হচ্ছে না। আসলেই নির্লজ্জ!"
মায়া মাপ নিয়ে চলে গেলে, মার্ক ভিতরে এসে কিরিসের হাতে একটি ব্যাগ দেয়।
কিরিস ব্যাগ থেকে জুতো বের করে, পা ভাজ করে বসে, লিসির দিকে এগিয়ে যায়।
লিসি চমকে—
—"এ কি করছেন ভাইয়া!"
কিরিস—
—"চুপ করে বসে থাকো।"
সে নিজ হাতে লিসির পায়ে জুতো পরিয়ে দেয়।
জুতো পরানো হলে কিরিস উঠে দাঁড়িয়ে বলে—
—"আমি একটু ওদিকে যাচ্ছি, তুমি এখানে থাকো।"
কিরিস চলে গেলে লিসি পায়ের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসে—
—"বেশ সুন্দর তো জুতোটা…
আসলে ভাইয়াকে মাঝে মাঝে দেখে মনে হয় উনি একজন জেন্টলম্যান,
আবার মনে হয় রাক্ষস-বেয়াদব!"
মায়া এসে লিসির কাছে কিছু ব্লাউজ দিয়ে বলে—
—"ম্যাম, এগুলো ট্রায়াল দিন। যেটা আপনার গায়ে ভালো ফিট করবে, সেটা অনুযায়ী আমরা বানিয়ে দেব।"
লিসি হালকা গলায় বলে—
—"হুম… ট্রায়াল রুম কোন দিকে? আপনি যদি আমাকে একটু উঠতে সাহায্য করতেন…"
মায়া আদুরে গলায় বলে—
—"সিওর ম্যাম! আপনি না বললেও করতাম,কারণ স্যার অলরেডি বলে দিয়ে গেছে "
মায়া লিসিক ধরে ট্রায়াল রুমের দিকে নিয়ে যায়,,,

0 Comments