উপন্যাস : তোমাকে চাই

লেখিকা : নুসরাত জাহান মিথিলা
পর্ব:১৬

সবাই যার যার জায়গা থেকে দোয়া করছে, চোখে মুখে খুশির ছাপ।
আজ নুসরাত আর রিহানের ভালোবাসা পূর্ণতা পেল—
এই বিয়ের মধ্য দিয়ে তাদের স্বপ্ন সত্যি হলো।

এমন হইহুল্লোড়, এমন উচ্ছ্বাসে মেয়েরা আর ছেলেরা মিলে ফিসফিস করে কিছু একটা ভাবছে।
হঠাৎই ইয়াবি স্টেজে উঠে আসে, মাইক হাতে—
"আহেম! Excuse me, everybody! Attention please!"
"আজ অবশেষে রিহানের বিয়ে হয়ে গেছে! এখানে উপস্থিত গুরুজন ও বড়দের কাছে আমরা ছোটরা কিছু বলতে চাই। আমরা সবাই মিলে ছোট্ট একটা মজার আয়োজন করেছি। আশা করি, আপনারা কিছু মনে করবেন না..."
"বিয়ের আগে থেকে এখন পর্যন্ত সবকিছুই ছিল নাচ–গানে ভরপুর, তাই যদি বিয়ের সময় নাচ না হয়, সেটা তো হয় না! তাই আমরা সবাই মিলে একটা ছোট্ট পারফরম্যান্স করব এখন!"
তার কথা শেষ হতেই—সারা হল চিৎকার আর উল্লাসে ফেটে পড়ে!
নুসরাত আর রিহানও হেসে ফেলে।
মেয়েরা স্টেজে উঠে নুসরাতকে নিয়ে নেয় নিজেদের দলে, আর ছেলেরা রিহানকে নিয়ে নেয় নিজেদের দলে।
রিহান বরের টুপি খুলে রাখে।
কিরিস?
সে কোনো নাচ-গানে নেই। একটু দূরে দাঁড়িয়ে, চোখ মেলে দেখছে... যেন কিছুর অপেক্ষায়।
স্টেজ আলাদা—
সাউন্ড বক্স থেকে বাজে চড়া বিটে গান।
🎶 Bole chudiyaan, bole kangna
Haye main ho gayi tera sajna
Tere bin jiya nahi lagda, main te margaiya
Le ja le ja, dil le ja
Le ja le ja soniye le ja
(Repeat)♬
মেয়েদের দিকে পড়ে স্পটলাইট।
নুসরাত দাঁড়িয়ে আছে পিছন ফিরে, অন্য মেয়েরা তার পাশে একে একে দাঁড়িয়ে যায়।
গানের বিটে একসাথে নাচ শুরু করে সবাই।
একেকটা স্টেপ যেন চিত্রকর্ম—ক্যামেরাম্যান ক্যাপচার করছে প্রতিটি মুহূর্ত।
বউ হিসেবে নুসরাত এতটা সুন্দর লাগছে যে, সবাই তাকে দেখছে, নুসরাতের পরে যদি কারোর দিকে সবাই তাকায় তাহলে সেটা লিসি,,
কিন্তু...
কিরিসের চোখে একটাও ভুল নেই।
এই মেয়েদের ভিড়েও তার চোখ ঠিকঠাক খুঁজে নিচ্ছে লিসিকে।
🎶 Oooooooooo... aaahhh...
Bole chudiyaan, bole kangna
Haye main ho gayi teree sajna
Bole chudiyaan, bole kangna
Haye main ho gayi teree sajna
Tere bin jiya nahi lagda, main te margaiya
এবার পালা ছেলেদের।
স্টেজে উঠার আগে তারা মেয়েদের কাছ থেকে ওড়না নিয়েছিল—
গলায় জরিয়ে, একদম হৃতিক রোশন স্টাইলে নাচতে শুরু করে!
মেয়েরাও তাল মিলিয়ে সাড়া দেয়।
গানের মূল কলি আসে—
সবাই বর-বউকে ঘিরে ঘুরতে থাকে, গোলাপের পাপড়ি ঝরে পড়ছে আকাশ থেকে।
তারপর বর আর বউ তাদের আসনে চলে যায়।
তারা বসে বসে দেখে পুরো পারফর্মেন্স, হেসে হেসে একে অপরের চোখে তাকায়।
নাচ শেষ, হাততালির ঝড়।
সবাই মুগ্ধ…
এই বিয়েতে যেন আনন্দের কোনো সীমা নেই।
বিয়ের পরের খাওয়াদাওয়া শুরু হয়—
বুফে সিস্টেমে সবাই যে যার মতো খাবার নিচ্ছে।
কে কোথায় দাঁড়িয়ে, কে বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে খাচ্ছে—একটা জমজমাট উৎসব যেন।
বড়রা বর-বউয়ের পাশে এসে দোয়া করে, উপহার দেয়।
– রিহানকে জামাই হিসেবে শাশুড়ি-মামি আংটি দেয়।
– নুসরাতকে দেওয়া হয় নেকলেস, হার, সোনার চেইন।
সবাই হাসিখুশি, দেশে-বিদেশে থাকা আত্মীয়রা যেন একসাথে মিলেছে এই দিনটাতে।
এক কোণে মেয়েরা গল্প করছে। এর মধ্যে সবাই হঠাৎ করে একজন ডাকায়,,
আরোবি বলে:
— "লিসি, তুই এখানে একটু দাঁড়া। আমরা আসছি।"
লিসি একপাশে দাঁড়িয়ে থাকে।
আশপাশ বেশ ফাঁকা—সবাই বর-বউয়ের আশেপাশে।
লিসি আপন মনে দাঁড়িয়ে আছে, হঠাৎ তার পেছনে পায়ের শব্দ।
সে ফিরে তাকায়—একটা অচেনা ছেলে।
শাওন
—"হাই, আমার নাম শাওন।"
লিসি (কিছুটা অবাক হয়ে):
—"হাই… আমি তো আপনাকে ঠিক চিনলাম না।"
শাওন:
—"চিনবেন না। আমি কনে পক্ষের। কিন্তু আপনাকে নাচ করতে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি… আপনি অসাধারণ নাচেন।"
লিসি (ভদ্রভাবে):
—"ধন্যবাদ…"
শাওন:
—"আপনি কি সিঙ্গেল?"
লিসি:
—"হুম… কিন্তু কেন?"
শাওন (গম্ভীরভাবে):
—"তাহলে শুধু ধন্যবাদে হবে না। সত্যি বলতে, আপনাকে দেখে ভালোবেসে ফেলেছি।"
লিসি (অবাক হয়ে):
"—ভালোবাসা?"
শাওন:
—"হ্যাঁ। যদি আপনার নাম্বারটা পেতাম… একটু কথা বলতে চাই… প্লিজ একটা সুযোগ দিন আমাকে।"
লিসি:
—"না মানে, এসব ঠিক না। আমি এসবে জড়াতে চাই না।"
শাওন:
—"বিশ্বাস করুন, আমি জীবনে কখনো এমন অনুভব করিনি। আপনি চাইলে এখনই কিছু না করুন… একটু হাত ধরতে পারি প্লিজ?"
লিসি কিছুটা বোম্বের মতো— সে জীবনে অনেক প্রপোজাল পেয়েছে কিন্তু
এতটা স্পষ্ট প্রপোজ কেউ তাকে কখনো করেনি।
সে বলতেই যাচ্ছে—
— "না শুনুন, থাক…!"
ঠিক তখনই—
পেছন থেকে একটা শক্ত হাত এসে পড়ে শাওনের ঘাড়ে।
যেভাবে ধরে, মনে হয় হাড়ই গুঁড়িয়ে যাবে!
শাওনের ঘাড়ে রক্ত জমাট বাঁধার মতো অবস্থা, চোখে ভয়।
সে ফিরে তাকায়…
একজোড়া লাল চোখ…
কিরিস।
তার চোখে আগুন। ঠাণ্ডা গলায় বলে—
— "বিবাহিত মেয়েদের দেখে এমনটা করা যায় না। ওর হাজবেন্ড আছে।"
লিসি তাকিয়ে থাকে কিরিসের দিকে, নিঃশব্দে।
শাওন আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না, দৌড়ে চলে যায়।
এরপর...
কিরিস (চোখে তীব্র রাগ):
—"এখন বুঝি প্রেম করতে ইচ্ছে করছে তোমার? খুব সাধ জেগেছে প্রেম করার? আমি দেখাচ্ছি তোমায়… দাঁড়াও।"
লিসি (কাঁপা গলায়):
—"না ভাইয়া, আপনি যেটা ভাবছেন সেটা না… প্লিজ, শুনুন—"
কিরিস (চিৎকার করে):
—"চুপ করো একদম! কী শুনবো? নিজের চোখে দেখলাম! চুপ করে আমার সঙ্গে আসো!"
সে লিসিকে টেনে নিয়ে আসে ভেন্যুর বাইরে, গাড়ি পার্কিং এর ফাঁকা জায়গায়।
চারপাশ ফাঁকা, কেউ নেই।
লিসি ভয়েতে কাঁপছে—কিরিসের এই রূপ সে আগে কখনো দেখেনি।
তার মুখে কোনো কথা নেই। গলা শুকিয়ে এসেছে।
হঠাৎ কিরিস এগিয়ে আসে—
তাদের মাঝখানে ভয়ংকর এক নিরবতা।
এক ধরণের দমবন্ধ করা নীরবতা, চারপাশে কোলাহল থাকলেও এখানে যেন ঘড়ির কাঁটাও থেমে গেছে।
কিরিস দাঁড়ায় ওর সামনে।
আরো কাছে… আরো…
হঠাৎ এক ঝটকায় লিসির ডান হাতটা নিজের দিকে টেনে নেয় কিরিস।
তার গলায় হালকা কাঁপুনি, তবুও ঠাণ্ডা স্বরে বলে—
—“কেউ জানে না… কেউ দেখছে না… এই মুহূর্ত শুধু আমার।”
লিসির চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
সে কিছু বলতে চায়… কিন্তু কিরিসের চোখে এমন এক দাবি, এমন এক ভয়ংকর নীরব গর্জন…
যার সামনে কোনো শব্দ টিকে না।
হঠাৎ কিরিস মাথা নিচু করে… এক সেকেন্ড থামে…
...তারপর নিজের ঠোঁট রাখে লিসির ঠোঁটে।
না, এটা কোনো নরম চুমু নয়।
এটা তীব্র, গভীর, রুদ্ধশ্বাস কিস।
এমন কিস, যেন কিরিস বলছে—
“তুমি শুধু আমার। এই ঠোঁট, এই নিঃশ্বাস, এই শরীর—সব, সব আমার।”
লিসি প্রথমে চমকে ওঠে, কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার হাত কিরিসের বুকে উঠে আসে—
আঁকড়ে ধরে।
চারপাশে গাড়ির হর্ন, কোলাহল, হেঁটে যাওয়া মানুষের ছায়া—
কিন্তু তারা যেন একটা আলাদা জগতের মধ্যে।
এই চুমুটা নিরবতা ভেঙে দেয় না, বরং সেই নীরবতাকেই তীব্র করে তোলে।
হঠাৎ—
একটা আওয়াজ আসে দূর থেকে, কারও পদচিহ্ন...
কিরিস সঙ্গে সঙ্গে লিসিকে দেয়ালের দিকে ঠেলে, নিজে দাঁড়িয়ে যায় তার সামনে—
এমনভাবে, যেন কারও চোখেও কেউ কিছু বুঝতে না পারে।
কিরিস তখনো চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ফেলছে।
লিসি থমকে আছে, কিন্তু তার গাল লাল হয়ে উঠেছে, বুক ধকধক করছে।
কেউ নেই আশেপাশে...কাউকে আসতে না দেখে
ধীরে চোখ মেলে লিসি।
ভারি শ্বাস নিচ্ছে এখনও।
চোখ খোলার পরই দেখে, কিরিস তার একদম সামনে... মাথা নিচু, মুখ তার মুখের খুব কাছাকাছি।
লিসি ভয়ে, লজ্জায় পুরো ঘেমে একাকার।
কিন্তু এমন অবস্থাতেও সে অসম্ভব আকর্ষণীয় লাগছে।
কিছুক্ষণ আগের সেই চুমু...
তাতে লিসির গাল যেন টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে।
ব্যস! এই সুযোগ আর ছাড়ে না কিরিস।
আবারও ঠোঁটে ঠোঁট—
এক ঝটকায় মিলিয়ে দেয় নিজেকে!
লিসি চমকে ওঠে।
এই তো একটু আগেই...
এখনও ঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারছে না, তার উপর আবার...!!
নিচু হয়ে কিস করতে কিরিসের অস্বস্তি হচ্ছিল।
ঘাড়ে হালকা একটা টান অনুভব করতেই লিসিকে কোমর ধরে তুলে নেয় নিজের কাছে, দুজনে একদম মিশে গেছে,,লিসি শ্বাস নেওয়া বুক উঁচু নিচু হচ্ছে আর এই সংস্পর্শে পরছে আবার কিরিসের বুকে তাতে সে আরো বেসামাল
লিসি নিশ্বাসই নিতে পারছে না যেন!
চোখ জ্বলছে... হাত দুটো নিস্তেজ হতে শুরু করেছে।
পিঠে জোরে ধরে রেখেছে কিরিস। কিরিস নিজের পিঠে লিসির হাত হালকা হয়ে আসার একটু ঘাবড়ে যায়।
হঠাৎ লিসির নিঃশ্বাস একদম আটকে যায়!
কিরিস নিজের মুখ তোলে।
লিসির মুখ পুরো লাল—
আর নিঃশ্বাস নেই যেন!
কিরিস ভয় পায়, ঝট করে ছেড়ে দেয় তাকে।
লিসি হাপরের মতো এক নিশ্বাস নেয়... মনে হচ্ছিল দম বন্ধ ছিল এতক্ষণ!
কিরিস একটু ঘাবড়ে যায়।
নিজের উত্তেজনায় নিজেই অবাক।
বুঝে ওঠার আগেই ঝট করে লিসিকে জড়িয়ে ধরে।
...মিনিট পাঁচেক!
লিসি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
তারপর রাগে বড় বড় চোখে তাকায় কিরিসের দিকে।
লিসি:
— “আমাকে মানুষ মনে হয় না আপনার? এত কষ্ট দিচ্ছেন কেন! একটু হলে তো আমি মরে যেতাম, শ্বাস বন্ধ হয়ে!”
কিরিস (ঠোঁট কামড়ে):
— “ও... এখন বুঝি কষ্ট হচ্ছে? আমারও শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছিল, যখন ওই ছেলেটা তোমার হাত ধরতে চাইলো! বুঝতে পেরেছ?”
লিসি (রাগে কাঁপতে কাঁপতে):
— “আপনি চান কী? এর মানে কী?”
কিরিস (চোখে আগুন নিয়ে):
— “কিছু না। শুধু... তোমাকে চাই।
তোমার নিঃশ্বাস, তোমার চোখ, তোমার শরীর...
সবকিছু আমার চাই!”
লিসি (চোখ গরম করে):
— “আপনার আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই যে আপনি এমন করতে পারেন! ভাই-বোনের সম্পর্কে এরকম মানায় না, ভাইয়া!”
কিরিস (ঠোঁটের কোণে হাসি):
— “একটু আগে যেমন তোমার কষ্ট হচ্ছিল, আমারও হচ্ছিল...
মিশন সাকসেসফুল!”
লিসি (বিরক্ত গলায়):
— “আপনি এমন করছেন কোন অধিকারে? আপনি আমার বর না, বয়ফ্রেন্ডও না!”
কিরিস এবার একটু শান্ত গলায় বলে:
কিরিস:
— “তাই বলছো? মানে তুমি চাও আমি তোমার বর বা বয়ফ্রেন্ড হই... তাই তো?”
লিসি (চোখ বড় বড় করে):
— “আমি কখনো বলিনি! আপনি বলবেন আমায়??”
কিরিস (ঠাণ্ডা স্বরে):
— “তাহলে আমি কী?
তাই বুঝতে চাও না?
ঠিক আছে... আজ থেকে আমরা ডেট করছি।
তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড, আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড!”
লিসি (রেগে):
— “কি বলছেন এসব? লোকে কী বলবে!! আপনি... আপনি বেয়াদব!”
কিরিস (কানে ফিসফিস করে):
— “হুম... বিশন বেয়াদব, শুধু তোমার জন্য, লিসি শার্মা।”
লিসি (চোখ বন্ধ করে):
— “কি... আঃ আপনি... সরুন! কেউ দেখে ফেলবে!”
কিরিস (গভীর কণ্ঠে):
— “হুম...”
কিরিস সরে দাঁড়ায়।
লিসি যাওয়ার জন্য ঘোরে।
কিরিস:
— “তাহলে ঠিক রইলো...
আজ থেকে আমরা প্রেম করছি, লিসি শার্মা!”
লিসি (ঝট করে):
— “দূরে যান! মরেন গিয়ে!”
কিরিস শুধু মুচকি হাসে।
লিসি চলে গেলে, কিরিস নিজের ঠোঁটে আঙুল ছোঁয়ায়...
চোখে সেই চেনা দুষ্টু হাসি।
ভিতরে ঢুকতেই...
আরোবি (দৌড়ে এসে):
— “কই ছিলি রে? তোকে খুঁজে মরছি!”
লিসি (লজ্জা চেপে):
— “ওই... একটু বাইরে গিয়েছিলাম...”
হিয়া (পেছন থেকে):
— “তুই লিসি না? আয় চল, সি-ফুড পড়েছে! আরোবি, আয় আয়!”
সবাই মজা করছে।
কিন্তু লিসি এখনও ভেতরে কাঁপছে।
মনে পড়ছে সেই কিস... সেই মুহূর্ত।
ওদিকে কিরিস আবারো সবার মাঝে মিশে গেছে।
কিন্তু তার চোখে...
একটা প্রখর জ্বলন্ত আগুন।
সন্ধ্যা নেমেছে ধীরে ধীরে।
বিয়ের আনন্দে আলো ঝলমল পুরো বাড়ি।
কারো হাতে খাবার, কেউ ছবি তুলছে, কেউ শাড়ির আঁচলে ঠাণ্ডা বাতাস নিচ্ছে...
আর লিসি?
সে জানে, আজ তার জীবনে এক ভয়ংকর সত্যি জন্ম নিয়েছে—
একটা অধিকারী অনুভব, যেটা সে চাইলেও অস্বীকার করতে পারছে না... এখনো সেই মুহূর্তের কথা মনে করলেই আবারো শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তার।
কিরিস ভেন্যুর উপরে দাঁড়িয়ে নিচের সবকিছু দেখছে
এই সময়—
কিরিসের ফোন বেজে ওঠে
তূর্য ফোন করছে—স্কুল লাইফ থেকে বন্ধুত্ব, ইংল্যান্ডে থাকা পর্যন্ত সাথেই ছিল।
– “ভাই, আমি আসছি না বিয়েতে কিন্তু god promise রিসেপশনে আসবো, একটু অসুবিধা হয়েছে… তুমি কি আমাকে একটা জায়গা থেকে ড্রপ করে দেবে? বাসায় যেতে হবে।”
কিরিস চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর শুধু বলে:
– “ঠিক আছে। তুই লোকেশন পাঠা। আমি যাচ্ছি।”
কিরিস নিচে নামল মা-বাবার কাছে।
সুপ্রিয়া, আনোয়ার, মির্জা বেগম ওখানে বসে আছেন।
আনারুল পাশে।
কিরিস বলল—
– “একটা পুরনো বন্ধু ফোন করেছে। ওর সমস্যা, ড্রপ করে দিতে হবে। আমি এখান থেকে ওকে নামিয়ে সোজা বাসায় চলে যাবো।”
সুপ্রিয়া ভ্রু কুঁচকে বলে:
– “তুই যাবি… আর লিসিকে কে নিয়ে যাবে?!”
কিরিস শান্ত গলায়:
– “যাবো তো... কিন্তু ও আমার সঙ্গে যাবে না। ওর নিজের সিদ্ধান্ত “ওর ইচ্ছা থাকলে যাবে, না থাকলে এখানেই থাকুক।”
সুপ্রিয়া রাগে বলে:
– “তোর এই উদাসীনতাই একদিন তোর গলায় ঝুলবে! এত রাত করে কোথায় নিয়ে যাবি? ও তো বমি করে মরে যাবে।”
আনোয়ার হেসে বললেন:
– “তুই গম্ভীর ভাব নিয়া থাকিস সব সময়। বুঝে কথা বল।” ”
সুপ্রিয়া বিরক্ত হয়ে বলে—
– “এই ছেলেটাকে কে বোঝাবে! এত দূরের রাস্তা আমাদের সাথে গেলে, মেয়ে যদি বমি করে তো মরে যাবে… আমি চাই না এমন হোক। আনোয়ার, ওকে কিছু বলো!”
আনোয়ার হালকা হেসে:
– “লিসি কোথায়? ওকে ডাক ডেকে নিয়ে যা।”
লিসি তখন মেয়েদের সঙ্গে বসে তিশা আর হিয়ার সঙ্গে খুনসুটি করছিলো।
কেউ মেহেদি দেখাচ্ছে, কেউ রং তুলছে হাতে।
মির্জা বেগম ডাকলেন—
– “ঐ লিসি মা, একটু এদিকে আয় তো!”
লিসি এগিয়ে এলো—চোখে একটু অভিমান জমে আছে।
সামনে এসে বললো—
– “জ্বী নানু?”
মির্জা—" কিরিস ওর ওর বন্ধু কে এগিয়ে দিতে যাচ্ছে! "
লিসি—" হুম তাই আমি কি করবো! "
সুপ্রিয়া—" ও ওখান থেকে সোজা বাড়ি যাবে,, এখানে আর আসবে না তাই তুই ওর সাথে যা নাহলে আমাদের সাথে যেতে হবে "
লিসি —" তাহলে তোমাদের সাথে যাবো "
সুপ্রিয়া—" না তুই বমি করবি আর আমি চাই না তোর কষ্ট হোক,,, কিরিসের সাথে যা,,, আর মাবেনার সাথে দেখা করেছিস"
লিসি—" হুম কিন্তু আমি যাবো না ভাইয়ার সাথে আর "
এর মধ্যে আনোয়ার —" আমার কথা শোনো যাও,,, "
লিসি হালকা রাগে ঠোঁট ফুলিয়ে বলে:
– “আমি তো রেগে যাচ্ছি! আমি যাচ্ছি না!”
একটা রাগি রাজকন্যার মত ভঙ্গি।
এই সময় কিরিস এসে দাঁড়ায়:
– “তোমার এই নাটক এখানেই শেষ। সময় নাই।”
লিসি:
– “আমি কারও সঙ্গে যাবো না।”
কিরিস ঠাণ্ডা গলায়:
– “তাহলে আমি যাচ্ছি। আমারও ড্রামা দেখার টাইম নাই।”
বলেই ঘড়ি দেখে পেছন ফিরে হাঁটতে থাকে।
ও বাইরে গিয়ে দাঁড়ায়, রাগে টইটুম্বুর—হাতে ঘড়ি দেখছে, মুখ শক্ত।
ঠিক তখনই কিরিস সামনে দাঁড়িয়ে বলে—
– “আর কতক্ষণ সময় নিবি?”
লিসি দাঁড়িয়ে থাকে—তারপর আচমকা ব্যাগ ছুড়ে কিরিসের পিঠে মারে—
– “ঠিক আছে, নিয়ে যাও। কিন্তু কথা দিচ্ছি, বমি করলে তোমার গাড়িতে!”
কিরিস মুচকি হেসে:
– “তুই বমি করলে আমি খুশি হবো!”
বলে লিসির ছুরে মারা ব্যাগ হাতে নেয়,, লিসি আগে আগে গটগট করতে করতে গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে বসে,,
কিরিস গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে সিট বেল বেঁধে নেয়,, লিসির দিকে ব্যাগটা দিয়েতেই লিসি ছো মেরে নিয়ে নিজের কাছে রেখে দে,,, কিরিস গাড়ি স্টার্ট করে
ল্যাম্বরগিনির টপ খোলা, বাইরের বাতাস ধীরে ধীরে লিসির চুল উড়িয়ে দিচ্ছে।
সে একদম বাচ্চার মতো গুটি-মুটি হয়ে বসে আছে সিটে, পা তুলে নিয়েছে, শাড়ির আঁচল পা জড়িয়ে আছে।
এক হাতে ফোন, অন্য হাতে ব্যাগের স্ট্র্যাপ ধরে ফোনটা টিপছে—অভিমানে চোখ ছোট ছোট করে রেখেছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে যেন অপেক্ষা করছে...
কিরিস গাড়ি চালাচ্ছে একদম নিজের মতো করে—নীরব, গভীর, চোয়ালে হালকা টান।
তবে মাঝে মাঝে একঝলক চোখ চলে যায় লিসির দিকে—যেন সব অভিমান পড়তে পারছে ওর চোখে।
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর কিরিস হঠাৎ জিজ্ঞেস করে,
– “ঘুরতে যাবে?”
লিসি চোখ তোলে, কিরিসের দিকে এক ঝলক তাকিয়ে নিচু গলায় বলে—
– “কি বলছেন আপনি?”
কিরিস এবারও চোখ সড়ায় না রাস্তায় থেকে, ঠান্ডা গলায় জবাব দেয়—
– “জিজ্ঞেস করছি ঘুরতে যাবে কিনা।”
লিসি চোখ ছোট করে ফোনে আবার তাকায়, তবে এবার ফোনের স্ক্রিনের দিকে না—আসলে নিজের রাগ সামলানোর চেষ্টা করছে।
একটু বাদেই বলে—
– “না যাব না। অনেক অভিমান।”
কিরিস —" আরে চলো,, আমাদের প্রথম ডেট তাই একটু ঘুরি আসি,, '
কিরিসের মুখে ডেটের কথার শুনে লিসি রেগে বলে —" বললাম তো যাবো না,,, "
কিরিস ও এবার নিজের রাগ গাড়ির উপর দেখিয়ে
গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয় কিরিস।
লিসি চুপ।লিসি এমনি তেই ভয় করছিলো তারপর আবার কিরিসের এই জোরে গাড়ি চালানো লিসির চুল মুখে আসছে কোনমতে সামলাতে পারছে না তার লম্বা চুল এত জোরে গাড়ি চালাচ্ছে চুলগুলো মুটি শুদ্ধ করে ধরে রেখেছে হালকা অভিমানে মুখ নিয়ে কিরিসের দিকে তাকিয়ে বলে —" আস্তে চালান ভাইয়া,, ভয় করছে "
লিসির এই কথা শুনে কিরিস সামনের দিকে চোখ রেখেই বলে—
" ঘুরতে গেলে তবে গাড়ির জোর কমাবো,, যাবে নাকি,,,এভাবে গাড়ি চালাবো'
কিরিসের কথায় অভিমানটা যেন একটু নরম হয়।
আবার কিছুক্ষণ পর ধীরে বলে—
– “একটা জায়গার নাম বলেন তো... যেখানে খুব সুন্দর পরিবেশ... শান্ত নদী থাকে পাশে... মানুষ কম থাকে।”
কিরিস একটুও না তাকিয়ে বলে—
– “নীলভূমি।”
লিসি: “নীলভূমি?”
কিরিস: “শহর থেকে একটু বাইরে... নদীর ধারে একটা প্রাইভেট জায়গা...
শান্ত... ঠান্ডা... আর আমাদের ছাড়া অনেকেই থাকবে।”
লিসি আর কিছু বলার আগেই তারা পৌঁছে যায় গন্তব্যে।
কিরিস ধীরে গাড়িটা দাঁড় করায় এক নিরিবিলি পার্কিং এলাকায়।
চারপাশে অনেকেই তাকিয়ে আছে—ল্যাম্বরগিনি দেখে তাকাবে না?
গাড়ি থেকে নামতেই চোখে পড়ে একটা জাদুর মতো জায়গা।
সামনে হালকা আলো, লোকজন তেমন নেই, সন্ধ্যার ছায়ায় পুরো এলাকা ঘিরে আছে একধরনের শান্ত রহস্য।
ছোট ছোট কয়েকটা খাবারের স্টল, দূরে একটা বাজারের মতো…
কোলাহল এখান পর্যন্ত পৌঁছায় না।
একটু যেন স্বপ্নময়!
লিসির রাগ, অভিমান—সব ভুলে যায় যেন!
ধীরে সামনে এগিয়ে যায় সে।
আর কিরিস পিছনে…
নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে দৌড়ে যায় লিসির দিকে।
কিরিস (পিছন থেকে ডাকে):
— “আস্তে, না হলে পড়ে যাবে!”
লিসি (হেসে):
— “আরে পড়বো না! আসেন আপনি!”
সামনে গিয়ে থেমে, ঘাড় ঘুরিয়ে কিরিসের দিকে তাকায় সে।
চোখে দুষ্টু হাসি।
“আজ একখান শিক্ষা দিমু এই মানুষটারে! এমন জ্বালামু, আর কোনোদিন আমায় নিয়ে ঘুরতে আসার সাহস করবে না!” — মনে মনে ভাবে লিসি।
কিরিস পাশে এসে দাঁড়ায়।
কিরিস:
— “কি হয়েছে? এভাবে দেখছো কেন?”
লিসি:
— “আপনি অনেক লম্বা।”
কিরিস কিছু না বলে মুচকি হাসে।
হঠাৎ লিসি চোখ সরায় দূরের একটা ঝালমুড়ির দোকানের দিকে।
আঙুল তুলে বলে—
লিসি (চোখ চকচক করে):
— “ঝালমুড়ি খাব ভাইয়া!”
কিরিস (ভুরু কুঁচকে):
— “না, ওসব ভালো না। তেল-ঝাল... পেট খারাপ করবে।”
লিসি (চোখ সরিয়ে):
— “আমি খাবো! আমি কি আপনার মতো যে একটু ঝাল খেলেই পেট খারাপ হবে?”
কিরিস:
— “না মানে... আমি বলছি না—”
লিসি (রেগে গিয়ে):
— “বললাম না, আমি খাবো! কিছু জানি না!”
কিরিস (কঠোর গলায়):
— “না, একদম না।”
কিরিস একটু সামনে এগিয়ে যায়।
পেছনে তাকিয়ে দেখে—
লিসি নেই!
দ্রুত চারপাশে তাকায়...
তারপর নিচে তাকিয়ে দেখে—
মাটিতে বসে আছে লিসি!
না, না—শুধু বসা না।
পুরোপুরি বাচ্চাদের মতো হাঁটু গেঁড়ে বসে, মুখ ফুলিয়ে, ফুপি ফুপি কান্না করছে!
একটা হাত দিয়ে চোখ মুছে, আরেক হাতে আঁচল টেনে মুখ ঢেকে রেখেছে।
লিসি (ফুঁপিয়ে):
— “আহ্... আমি ঝালমুড়ি খাবো... না দিলে আমি যাবো না... আমি রাগ করেছি...!”
এই কান্না দেখে আশপাশে কয়েকজন থেমে তাকায়।
আর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটা মেয়ে, যেকোনো পাঁচ-ছয় বছর বয়স হবে...
হাতের আইসক্রিম ফেলে দিয়ে হাঁ করে তাকিয়ে আছে লিসির দিকে!
বাচ্চা মেয়েটা (অবাক হয়ে):
— “আপু তুমি বড় হয়ে গেলে কান্না করো কেন...? আমিও তো ছোট, আমি তো এত জোরে কান্না করি না!”
লিসি এবার ওর দিকে তাকায়, আরও বেশি করে মুখ ফুলিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলে—
লিসি (হলকা কণ্ঠে কান্না করে):
— “ওই বুড়ো লোকটা... আমাকে ঝালমুড়ি কিনে দিচ্ছে না...!”
বাচ্চা মেয়েটা (আবারও অবাক হয়ে):
— “বু...বুড়ো?”
এদিকে কিরিস সেটা শুনেই হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।
কিরিস (মনে মনে গম্ভীর স্বরে):
“বুড়ো...??!!
বুড়ো বললো আমাকে? ঝালমুড়ি কিনে দিলাম না বলে আমি বুড়ো হয়ে গেলাম??!”
তার চোখে ক্ষণিকের জন্য রাগ, অপমান আর চমক সব একসাথে।কিরিস মনে মনে ভাবছে —
"আমি এই হাত দিয়ে খুন করেছি, চোখের সামনে বিস্ফোরণ হয়েছে, বোমা ডিসঅর্ম করেছি এক মিনিট আগে। তখন তো নার্ভাস লাগেনি...
আজ একটা মেয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে বলে আমার বুকের ভিতর ঝড় উঠছে কেন?"
সাথে সাথে সে আবার চোখ ফেরায় লিসির দিকে। লিসি মুখ ফুলিয়ে, দুঃখি চোখে তাকিয়ে আছে — পুরোটাই নাটকীয় স্টাইলে!
তার ঠোঁটের কোণে একটুকরো হাসি। চোখ সরাসরি লিসির দিকে, একেবারে গভীরে তাকিয়ে —— “আচ্ছা ঠিক আছে , উঠে দাঁড়াও।
চলো, খাওয়াই তোমাকে ঝালমুড়ি—
তোমার বাচ্চাদের মতো কান্না তো আর সহ্য হয় না!”
লিসি মুখটা একটু নামিয়ে ফেলে।
হঠাৎ এক চোখে তাকায় কিরিসের দিকে, তারপর...
ঝট করে কান্না বন্ধ করে বলে:
— "চলেন!"
এতক্ষণ ধরে যে কান্না, সেটার একটুও চিহ্ন নেই আর!
কিরিস অবাক হয়।
আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছোট্ট মেয়েটা এবার নিজেই ফিসফিস করে বলে—
বাচ্চা মেয়েটা (নিজের মা’কে ডেকে):
— "মা... আমিও ঝালমুড়ি খেতে কান্না করবো! ঐ আপু তো পেয়েছে না হলে ওই আপুর মতো আমারও একটা বুড়ো লোক এনে দাও৷, "
বাচ্চাদের মুখে তার মা এমন কথা শুনে থেকে কোনমতে নিয়ে আসে তাকে।
ঝট করে দাঁড়িয়ে পড়ে।
দৌড়ে আগে যেতে যায়...
কিন্তু...
সামনে থাকা ছোট একটা ইটে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে বসে!
জুতা ছিঁড়ে যায়!
তবুও নিজে নিজেই সামলে নেয় সে।
কিরিস এবার রাগী চোখে তাকিয়ে বলে—
কিরিস (দম চেপে):
— “বলেছিলাম আস্তে হাঁটো! এত লাফালাফি করো কেন তুমি! ছিঁড়ে গেল তো জুতা! যদি পড়ে যেতে?”
লিসি কিছু না বলে মুখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে মুচকি হাসে...
কারণ, এইটুকুই তো চাইছিল সে—
লিসি পায়ের ছেঁড়া জুতো খুলে একপাশে রাখে। সে জানে, ওই জুতো আর পরা যাবে না।
চোখের পাতায় হালকা ধুলো, মনটা যেন হেঁটে যাচ্ছে অজানা কোনও ভালোলাগার দিকে।
চুপচাপ এগিয়ে যায় ঝালমুড়ির দোকানের দিকে।
কিরিস এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, শুধু লিসির দিকেই তাকিয়ে। চোখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।
লিসি দোকানে গিয়ে বলে—
—"একটা ঝালমুড়ি দেন, মামা। বেশি ঝাল দিয়েন।"
মামা মাখাতে মাখাতে জিজ্ঞেস করে —
—"আপার সাথের ভাইটারে দিবো নাকি আলাদা করে?"
লিসি হেসে বলে —
—"ওনি খায় না এসব, ওনার জন্য না।"
মাখানো হলে, মামা বাড়িয়ে দিতে গেলে লিসি বলে —
—"মামা, এক মিনিট দাঁড়ান, আমি আসছি।"
সে ঝট করে কিরিসের কাছে এসে দাঁড়ায়।
—"এই শোনেন, ২০ টাকা দেন তো। আর এই ব্যাগটা নেন।"
কিরিস কিছু না বলে চুপচাপ ব্যাগটা হাতে নেয়।
—"২০ টাকা... ওয়ালেটে আছে, বের করে নাও।"
লিসি চোখ ছোট করে তাকিয়ে বলে —
—"কি করে নেবো! আপনি দেন না, সময় নষ্ট হচ্ছে!"
কিরিস হালকা ভ্রু কুঁচকে বলল —
—"তুমি চলো, আমি দিয়ে দিচ্ছি।"
লিসি আবার ঝালমুড়ির দিকে হাঁটে, আর কিরিস ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে যাওয়া ছেঁড়া জুতোটা তুলে নেয় হাতে।
সাথে লিসির ব্যাগ, যেন একটা রাজকীয় দায়িত্বের ভার।
সে এগিয়ে গিয়ে টাকা দেয়।
মনে মনে ভাবে —
“এমন না যে আমার কাছে ২০ টাকার খুচরা থাকে, কিন্তু লিসির জন্য আজ ক্যাশ আনতে হয়েছে। মার্ককে বলে এনেছি, কারণ এই দোকানে তো Black Card চলবে না।”