উপন্যাস : তোমাকে চাই

লেখিকা : নুসরাত জাহান মিথিলা

পর্ব:০২

রায় চৌধুরী বাড়ির লিভিং রুমে সন্ধ্যার আলোয় জমে উঠেছে গল্পের আসর। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসে আছে সকলে। হঠাৎ লিসি মুখ ঘুরিয়ে পাশে বসা আরোবির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কে আসবে বাড়িতে? সেই আসা থেকেই তো শুধু শুনছি তার গুণগান!”
আরোবি এক চুমুক চা খেয়ে কাপটা নামিয়ে রেখে মুচকি হেসে বলে,
“কে আবার? The one and only... The big son of the family—জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী।”
চুলের একপাশ সরিয়ে ক্লাসি ভঙ্গিতে পেছনে ফেলে কথাটা শেষ করে আরোবি।
আরোবির মুখ থেকে এমন নাম শুনে কাবির চোখ বড় করে বলে,
“আরে বোন, আস্তে বল! এমনভাবে বললে তো আমার কিডনি বের হয়ে যাবে!”
ইশান মজা করে বলে,
“চিন্তা করিস না, আমি তো আছি! ভোমর দিয়ে সেলাই করে দেব।”

সবাই হেসে ওঠে। ইয়াবি বলে,
—“হ্যাঁ, একদম পার্মানেন্ট মৃত্যু!”
সবাই যখন হাসির রোল তুলছে, তখন সুরভী ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে,
— “বড় আব্বু তো বলেছিল ৭টায় আসবে। ৭টা বাজতে মাত্র এক মিনিট বাকি!”
ঠিক তখনই—
টং টং!
বাড়ির গেট বেল বাজে।
সুপ্রিয়া দ্রুত উঠে গিয়ে দরজা খোলে, আর দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেকে দেখে চোখ জলে ভরে ওঠে। কণ্ঠ কেঁপে ওঠে,
“কিরিস... আমার সোনা ছেলে...!”
সুপ্রিয়া কিরিসকে বুকে জড়িয়ে ধরে। এতদিন পর ছেলেকে দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না—কান্নায় ভেঙে পড়ে।
কিরিস তার মা’কে বুকে চেপে ধরে শান্ত গলায় বলে,
“কাঁদছো কেন মা? আমি তো চলে এসেছি। চুপ করো, আমার সোনা মা, তুমি চুপ করো...”
ভেতরে ঢুকলে আনোয়ার বলে,
“কেমন আছিস বাবা?”
কিরিস মাথা নিচু করে বিনয়ের সাথে বলে,
— “ভালো আছি। তুমি কেমন আছো, বাবা?”
আনোয়ার মুচকি হেসে মাথা নাড়ে। তখনই কিরিস চারপাশে তাকিয়ে বলে,
“আর কেউ ভালো-মন্দ জানতে চাইলে না করো। মা, আমি উপরে যাচ্ছি।”
প্রিয়া হালকা রাগে বলে,
“উপরে যাবি কেন? আগে কিছু খেয়ে নে!”
এই সব কথার ফাঁকে, লিসি—আলগা চুলে, নরম আলোয় মোড়ানো চোখে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কিরিসের দিকে।
তার চোখে পড়ছে—
৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এক পুরুষ, পেশীবহুল শরীরের গঠন, যেন কোনো ভাস্কর্যের মতো নিখুঁত।
ধোঁয়াটে চোখ—তীব্র আকর্ষণে ভরা।
ফর্সা ত্বকে কালো স্যুট, কাঁধে ব্লেজার, হাতে রোলেক্স ঘড়ি।
ঘন কালো চুলের প্রতিটি স্ট্র্যান্ড যেন পরিপাটি পরিকল্পনায় গড়া।
তার চোখে তাকালেই এক অদ্ভুত টান অনুভব করে লিসি। যেন চোখে চোখ রাখলেই ডুবে যাবে এক গভীর পুকুরে।
হঠাৎ কিরিস চোখ ফিরিয়ে তাকায় লিসির দিকে।
মুহূর্তেই মির্জা বেগম বলে উঠেন,
“কি ব্যাপার ডার্লিংকে ভুলে গেলে নাকি?”
কিরিস সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটতে হাঁটতে বলেন “No way! কিরিস কখনো তার ডার্লিংকে ভুলতে পারে?”
তিনি মির্জা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন।
“আমার পারিশ্রমিক কই, দাদুভাই?” — মির্জা বেগম হাসতে হাসতে বলেন।
কিরিস মুচকি হেসে বাইরে দাঁড়ানো মার্ককে ডাকেন।
মার্ক ভেতরে এসে একটি বাক্স কিরিসের হাতে দেন। কিরিস বাক্সটা খুলে মির্জা বেগমের দিকে এগিয়ে বলেন,
“আমার ডায়মন্ডের মতো ডার্লিংয়ের জন্য ডায়মন্ডের নেকলেস।”
মির্জা বেগম আনন্দে অবাক হয়ে বলেন,
“এত দামি জিনিস আনলে কেন রে বাবা?”
“তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে দামী গিফটকে এত যত্ন করে রেখেছো… তার কাছে এটা কিছুই না, ডার্লিং।” — কিরিসের চোখে ভালোবাসা।
পেছন থেকে জারা বলে ওঠে,
“তা ভাইয়া, সত্যি ডায়মন্ড আনছো নাকি মজা করছো?”
মার্ক সলিড গলায় বলে,
“ম্যাডাম, এটা কোহিনূর হিরা দিয়ে তৈরি।”
বাড়ি জুড়ে বিস্ময়!
এতেই শেষ নয়—একজন বডিগার্ড ভেতরে এসে দুটো লাগেজ নামিয়ে রাখে। কিরিস একটি আনোয়ারের হাতে দিয়ে বলে,
“বাবা, এখানে সব কিছু আছে। যার জিনিস, তার নামে লেবেল করে দেওয়া—দিয়ে দিও সবাইকে। মা, আমি এখন একটু ফ্রেশ হয়ে নিচে আসছি।”
সুপ্রিয়া পিছু ডেকে বলেন,
“কিছু খেয়ে যা না!”
কিরিস বলে,
“পরে খাব, এখন শুধু ফ্রেশ হবো।”
ছোপাতে বসে মেয়েরা ফিসফিস করে কথা বলছে আর হাসছে, কেউ আবার চোখের ইশারায় কথা বলছে,এই দেখে
হঠাৎই পাশ থেকে ইশান বলে ওঠে—
“তুরা কি ফিসফিস করতেছিস, হ্যাঁ?”
আরোবি তাকে পাশ কাটিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলে—
“কিছু না। আর তোদের জানলেও কি লাভ?”
এই বলে সে মুখ ফিরিয়ে কিরিসের দিকে তাকায়।
তার চোখে একটা মিষ্টি খুনসুটির ঝিলিক—
“ভাইয়া, তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি উপরে গেলাম। এই লিসি, চল!”
আরোবি হাঁটতে শুরু করে। লিসিও পেছনে পেছনে হাঁটতে যাবে ঠিক তখনই...
কিরিস — নামটা কানে পড়তেই ছেলেটি আলতো মাথা তোলে।
চোখ যায় লিসির দিকে। সে পেছন ঘুরে হাঁটছে, তার হাঁটু ছুঁই ছুঁই কেশ, ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠছে।
এক মুহূর্ত থেমে থাকে কিরিসের দৃষ্টি।
তীব্র ঠাণ্ডা চোখে সে তাকিয়ে থাকে...
...আর হঠাৎই সেই মুহূর্তে লিসির পা পিছলে যায়!
“আহ!” — একটা কাঁপা আর্তনাদ ভেসে আসে।
রেলিং ধরতে গিয়েও হাত পিছলে যায়।
সবাই স্তব্ধ।
ঠিক সেই মুহূর্তে—
এক ঝলকে সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসে কিরিস।
এক হাতে কোমর, আরেক হাতে মাথা ধরে টেনে নেয় নিজের বুকের মধ্যে।
এক মুহূর্তের জন্য সবাই নিচ থেকে তাকিয়ে আছে হতবাক হয়ে—
যেন লিসিকে হারিয়েই ফেলত সবাই।
লিসি চোখ বন্ধ করে ফেলেছে।
তার ঠোঁটের কাছাকাছি কিরিসের নিঃশ্বাস।
তার মাথা বুকের কাছে।
কিরিস তাকিয়ে আছে লিসির মুখে। একদম নিঃশব্দ।
লিসি ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকালে—চোখে চোখ পড়ে।
চোখে এমন গভীরতা... যেন শতাব্দী পেরিয়ে তাকিয়ে আছে দুজন।
সেই মুহূর্তে আর কিছু নেই—না ভয়, না রাগ, না লজ্জা।
শুধু তারা দুইজন। আর এক মুহূর্ত।
লিসি আস্তে আস্তে চোখ খুলে...
...চোখে চোখ পড়ে কিরিসের সাথে।
তারা একে অপরের চোখ থেকে চোখ সরাতে পারছে না।
চারপাশের শব্দ হঠাৎ ফিরলে, সুরভী চিৎকার করে—
“এই গাদা, এখনো হাত লম্বা করে রেখেছিস কেন!”
আরোবি হাত বাড়িয়ে লিসিকে ধরতে গিয়েছিল, কিন্তু ভয়ে তখন থেকে এখনো হাত বাড়িয়ে রেখেছে।
আরোবি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলে—
“আরে হ্যাঁ! আমি তো ধরতে গিয়েছিলাম, তারপর সব থেমে গেল দেখে হাতও থেমে গেছে।”
লিসি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়।
আরোবির কথায় তাদের চোখের মিলন থেকে দুজনের হুঁশ ফেরে।
লিসি আলতো স্বরে বলে—
“Thanks ভাইয়া...”
কিরিস কিছু বলবে, কিন্তু গলায় কিছু আটকে যায়।
মির্জা বেগম তড়িঘড়ি করে দাড়িয়ে বলে—
“তুই ঠিক আছিস তো, লিসি?”
লিসি মাথা নাড়িয়ে বলে—
— “হ্যাঁ নানু, আমি ঠিক আছি।”
সুপ্রিয়া দম নিয়ে বলে—
— “দেখলে তো! ভাগ্যিস কিরিস ছিল। নাহলে তো জানি না কি হতো!”
প্রিয়া রেগে বলে—
— “আর তোরা একটু সাবধানে চলতে পারিস না! যদি পড়েই যেত?”
আরোবি হাসতে হাসতে বলে—
— “আরে মা! পড়েনি তো! যা হবার ছিল হয়ে গেছে, এখন উপরে যাই।”
আরোবি হেসে বলে—
— “লিসি তুই চল!”
আরোবি আর মেয়েরা উপরে চলে গেলে...
কিরিস এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
সে তাকিয়ে আছে নিজের হাতে, যেন কিছু একটা অনুভব করছে—
...তার স্পর্শে কিছু ছিল, যেটা সে আগে কখনও অনুভব করি নি, কি সেটা! সেই ভাবনায় মগ্ন কিরিস
ঠিক তখনই মার্ক এসে বলে—
— “বস, চলুন।”
কিরিস যেন হঠাৎ বাস্তবে ফিরে এসে বলে—
হুম চলো
কিছুক্ষণ পর কিরিস ওর রুমে চলে আসে। রুমে ঢুকে কিরিস বলল—
— “মার্ক, তুমি এখন যাও।”
মার্ক মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল।
কিরিস দরজাটা টেনে বন্ধ করে দেয়।
তার চোখ ঘরের দিকে।
...সেই পুরোনো টেবিল, সেই কলম, সেই বিছানা...
...সবকিছু এখনো আগের মতই আছে।
ঘরের ভিতর এত বছর পরেও কেউ কিছু নাড়ায়নি।
...মা ঠিক রেখে গেছে, যেমন ছিল—তেমনই।
কিরিস আর দেরি না করে ফ্রেশ হতে চলে যায়
ঘড়িতে তখন ঠিক রাত ৮টা।
রায় চৌধুরী ভিলার লিভিং রুমে সবাই গল্প করছে, কেউ হাসছে, কেউ চায়ের চুমুকে মুখ ঢেকেছে যেন খিলখিলিয়ে না হেসে ফেলে।
অন্যদিকে—
ডাইনিং টেবিলের কাছে বসে আছেন কিরিস।
সামনে তার মা সুপ্রিয়া আর চাচি প্রিয়া দুজনে মিলে তাকে আদর করে খাইয়ে দিচ্ছেন।
সুপাত্রে করে ভরা মাছ-মাংস-ভর্তা।
আর পাশে কাবাব, মুরগির ঝোল, খাসির রেজালা...
প্রিয়ার আদুরে কণ্ঠ—
— “এইটা খা, … এটা তো তোর পছন্দের!”
কিরিস একটু বিরক্ত মুখে বলে ওঠে—
— “মা, আমি আর খাবো না।”
সাথে সাথেই সুপ্রিয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে—
— “এইটুকু খেয়ে নে, না খেয়ে কী করে উঠবি?”
কাবির পাশে বসে ভেতরে ভেতরে জ্বলতে জ্বলতে বলে—
— “মা, আমাদেরকেও একটু দাও না! সব খাইয়ে দিচ্ছো বড় ছেলেকে!”
সুপ্রিয়া হেসে কিরিসের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে—
— “তোরা তো বাড়িতেই থাকিস! আমার এই ছেলে কি বাড়ি থাকে!... এখন না খাওয়ালে আর কবে খাওয়াবো?”
এমন পারিবারিক মায়া-মমতার ভেতরেই...
📞 ট্রিং ট্রিং!
কিরিসের ফোন বেজে ওঠে।
সে ফোনটা রিসিভ করে, এক মুহূর্ত কথা শুনে চুপচাপ রেখে দেয়।
তারপর গলা শক্ত করে বলে—
“মা, আমার একটু কাজ আছে। আমি যাচ্ছি।
আর এই এত চেচামেচি... আমার একদম ভালো লাগছে না।”
সে উঠে দাঁড়ায়। মুখ গম্ভীর, চোখে রাগ জমে আছে।
সুপ্রিয়া দ্রুত বলেন—
— “আরে দাঁড়া! তোর কফিটা তো নিয়ে যা!”
কিরিস পেছন না ঘুরেই বলে—
— “আমি উপরে যাচ্ছি। কফিটা উপরে পাঠিয়ে দিও।”
সুপ্রিয়া ইতিমধ্যে কফি বানানো শেষ প্রায় শুধু কপি কাপে ঢালতে বাকি,এই সময়েই সুপ্রিয়ার হাত থেকে কাপ নামতে না নামতেই...
একটা শান্ত কণ্ঠ লিভিং রুমের কোলাহল ঠেলে বলে ওঠে—
— “আপনি তো নিজেই নিয়ে যেতে পারেন ... আরেকটু বসুন না, কফিটা তো প্রায় বানানো হয়ে গেছে...”
লিসি!
সে একদম সরলভাবে কথাটা বললেও...
কিন্তু কথাটা যেন কিরিসের বুকে আগুনের ফুলকি ছুঁড়ে দিল।
সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী ঘুরে তাকায়। চোখে তীব্র রাগ। ঠোঁট চেপে কথা বলে—
“তুমি কফি নিয়ে আসবে।
তুমি বাদে যদি আর কেউ আমার ঘরে আসে,
তাহলে তার আমি কী হাল করবো—
সেটা আমি নিজেও জানি না।”
চারপাশটা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল। সবার মুখ থমথমে।
আর কিরিস এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে উঠে চলে গেল উপরের দিকে।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর সেই নীরবতা ভাঙে আরোবি স্বাভাবিক হয়ে বলে
— “আজ তুম গেয়া রে, লিসি মামুনি! কি দরকার ছিল এমন কথা বলার?”
লিসি নিচু গলায় বলে—
— “আমি তো Just বললাম… আর উনি রেগে গেলেন!”
এইবার শুরু হয় ঠাট্টা...
লিজা বলে — “এইতো টিজার… টেলার মাত্র!”
সুরভী হেসে — “পিকচার আভি বাকি হে!”
ইশান থিয়েট্রিকাল ভঙ্গিতে — “মেরি বোন...”
সুপ্রিয়া রাগ সামলিয়ে বলে—
— “তোরা চুপ করবি?”
তারপর স্নেহের ভঙ্গিতে লিসির দিকে তাকিয়ে বলে—
— “তোমার যাওয়ার দরকার নেই, লিসি। কমলা, তুই যা!”
তখনই পিছন থেকে কমলার ভয়েস—
— “ও বাবা গো! তোমার পোলা কি বললো দেখনি? আমি গেলে তো মনে হয় আমাকে কমলা লেবুর মত চিপে খেয়ে নিবে!”
ঘরজুড়ে হালকা হাসির ঢেউ বয়ে যায়।
মির্জা বেগম পাশে এসে সুপ্রিয়ার কানে বলে—
— “আহা বউমা, লিসিকেই যেতে দাও। ও কিছু বলবে না। বরং কমলা গেলে ও তো পাল্টে কমলালেবু মতো খেয়ে ফেলবে!”
লিজা হেসে বলে—
— “হ্যাঁ, তুই না গেলে আবার ঝড় শুরু হবে।”
ইয়াবি দুষ্টু হেসে — “আমার মিষ্টি বোন, তুই যা।”
জারা — “একদম, কিছু হবে না। ভাইয়া তোকে কিছু বলবে না।”,
সবার মুখে একই কথা,
একই অনুরোধের ভিড়ে ক্লান্ত হয়ে অবশেষে লিসি উঠে দাঁড়ায়।
সে মুচকি হেসে বলে—
— “আচ্ছা বাবা, আমি যাচ্ছি। এত ভয় পাওয়ার তো কিছু নেই...”
জারা তড়িত বলে ওঠে—
— “না না! একদম কিছু নেই, তুই যা!”
কফির কাপটা হাতে নিয়ে লিসি ধীরে ধীরে উপরের দিকে পা বাড়ায়।
হঠাৎ মাঝপথে থেমে গিয়ে পেছন ফিরে বলে—
— “নানু, আমি তো ভাইয়ার ঘরটা চিনি না...”
আরোবি হাসতে হাসতে হাত উঁচিয়ে দেখিয়ে দেয়—
— “ওই যে, একেবারে শেষ ঘরটা!”
লিসি মাথা নাড়িয়ে হাঁটতে শুরু করে।
দেখা যায় কাপের কাঁচা ধোঁয়া উঠছে আর তার হাঁটার সঙ্গে এক অজানা ধুকধুক মিলছে।
সে থেমে দাঁড়ায় সেই ঘরের দরজার সামনে।
একটু নিঃশ্বাস টেনে ধীরে ধাক্কা দেয়...
— ঠক ঠক...
দরজায় টোকা...
...কোন সাড়া নেই।
সাহস করে ধীরে ধীরে দরজার হাতল ঘোরায়—
দরজা খুলে যায়।
ঘরের ভেতরে ঢুকে লিসির চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়।
চারপাশে সাদা আর অলিভ রঙের মৃদু আভা, সব কিছু যেন অদ্ভুত রকমের পরিচ্ছন্ন, মসৃণ, চকচকে।
আলোকচ্ছটার মাঝে যেন একটা রহস্যময় সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।
প্রতিটা জিনিস— টেবিলের পেনস্ট্যান্ড, বুকশেলফ, পারফিউমের বোতল—
ঠিক যেখানে ছিলো, সেখানেই আছে।
লিসির মনে পড়ে যায়, কফি!
সে ধীরে সামনে রাখা টেবিলে কফির কাপটা রাখে।
পেছন ফিরে হাঁটতে গিয়েই...
ঠাস!
কোন এক শক্ত পিলারের সাথে মুখোমুখি ধাক্কা খায়!
— “আহ!”
তার ঠোঁট থেকে অস্ফুট শব্দ বের হয়।
আর তখনই সেই গম্ভীর রাগী কণ্ঠস্বর ভেসে আসে—
“তোমার চোখ নেই?”
লিসির শ্বাস আটকে যায়।
তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিরিস চোখ রাঙিয়ে বলে—
আছে তো!
“মুখে মুখে তর্ক করছো?”
“না তো...”
“আবার?
By the way... মনে পড়ে, তুমি একদিন আমাকে কী বলেছিলে?”
লিসি অবাক হয়ে কপালে ভাঁজ ফেলে—
— “কই আমি তো কিছু বলিনি?”
কিরিস ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসে।
এক পা, দুই পা, তিন পা…
“তুমি বলেছিলে... মনে করো!”
লিসি ভয় পেতে শুরু করে।
সে এক পা করে পিছাতে থাকে।
চোখের দৃষ্টি সরালেও, কিরিসের চোখে শুধু এক অদ্ভুত আগুন আর ব্যথা।
“আপনি… আপনি এমনভাবে এগোচ্ছেন কেন?”
“তোমাকে কাঁচা চাবিয়ে খাবো বলে।”
“কি——?? এগোবেন না আপনি!”
এইটুকু বলতেই, লিসি পিছলে যায়।
হঠাৎই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে যাচ্ছিল সে...
...কিন্তু দ্রুত কিরিস হাত বাড়িয়ে তাকে ধরে ফেলে।
এক হাতে লিসির কোমর, অন্য হাতে মাথা, যেন পুরোপুরি আগলে রাখে।
কিন্তু ভারে নিজেও সামলাতে না পেরে
সে লিসিকে নিয়ে সোজা পড়ে যায় বেডের উপর!
মুহূর্তের জন্য সময় থেমে যায়।
দুইজনের মুখ এতটাই কাছে যে, নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে আঘাত লাগে।
লিসি চোখ বন্ধ করে ফেলে।
আর কিরিস?
সে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে লিসির দিকে।
তার চোখে বিস্ময়, মুগ্ধতা আর না বলা এক আবেগ।
তখনই লিসি ফিসফিস করে বলে—
— “আহ... উঠুন... আমার কোমর...”
এই কথায় কিরিস যেন হঠাৎ বাস্তবে ফিরে আসে।
সে তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ায়।
লিসিও লজ্জায়, ভয় আর অদ্ভুত ঘাবড়ানো অনুভব নিয়ে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ায়।
একটাও শব্দ না করে...
...সে দৌড়ে দরজা দিয়ে নিচে নেমে যায়।
আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী এক কোণায় দাঁড়িয়ে থেকে মুচকি হেসে ফিসফিস করে বলে—
“এটা তো সবে শুরু, লিসি শর্মা...”
এদিকে লিসি এক দৌড়ে নিচে চলে আসে।
মুখে তার একটা চাপা অস্থিরতা। চোখে-মুখে লালিমা, যেন দম বন্ধ হয়ে আসছিল কিছুক্ষণ আগেও।
সবাই তখন লিভিং রুমে বসে আড্ডায় মগ্ন।
আর হঠাৎ লিসিকে এভাবে দৌড়ে আসতে দেখে চারদিক থেকে প্রশ্ন ছুটে আসে—
আরোবি ভ্রু কুঁচকে বলে—
— “তোকে কিছু বলেছে?”
জারা তাড়াতাড়ি বলে ওঠে—
— “তোকে বকেছে নাকি?”
কাবির একটু ভয় পাওয়া মুখে বলে—
— “...মেরেছে বল!”
লিসি থেমে দাঁড়িয়ে গভীর শ্বাস নিয়ে হালকা গলা খাঁকারি দেয়।
চোখ নামিয়ে কেবল একটা কথাই বলে—
— “না... কিছু বলেনি।”
একটু থমকে যায় সময়।
তখনই সুপ্রিয়া মুচকি হেসে বলে—
— “দেখেছো, আমি বলেছিলাম— আমার ছেলে অতটাও খারাপ না!”
লিসি জোর করে মুখে একটুখানি হাসি আনে।
কিন্তু চোখে সেই মুহূর্তের ঝলক যেন কিছু একটা বলে যায়। কথা চেপে বলে
— “হুম...”
এমন সময় আনোয়ার সোফায় হেলান দিয়ে বসে জানতে চায়—
— “ইয়াবি, তোমার মা আসবে কখন?”
ইয়াবি চিপস খেতে খেতে প্যাকেটটা এক পাশে রাখে, আর একটু বিরক্ত সুরে বলে—
— “আর বলো না মামা... আমরা সবাই তো চলে এসেছি।
মা বললো, খালামনির সঙ্গে থাকবে"
বিয়ের দিন ঠিক এসে যাব।’”
ইশান এক গাল হেসে বলে—
— “আমারও সেই সেম ঘটনা!
নিজেদের মধ্যে বিয়ে হলে যা হয় আর কি...! "
জারা ঠোঁট উল্টে বলে—
— “এই জন্যেই আমি বলেছি— আমি নিজেদের মধ্যে বিয়ে করবোই না!”
জারার এমন কথা শুনে মেয়েরা হেসে ওঠে।
একটানা ফিসফিস, চাপা হাসি ছড়িয়ে পড়ে ঘরজুড়ে।
ইশান নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে—
— “তাহলে আমার কী হবে?!”
জারা চোখ কুঁচকে বলে—
— “আমি কী করে জানবো? গাদা একটা!”
ইশান হঠাৎ সোফায় উঠে গম্ভীর হয়ে বসে—
— “তাহলে আজ থেকে আমি কাউকে চিনি না!
ঠিক আছে মামা, আমি নিজেদের লোক না।
আমি এখন বাইরের লোক। outsider!”
সবার মুখ থমকে যায় এক মুহূর্ত, তারপরেই আবার হো হো করে হাসির ঝড় বয়ে যায়!
তখনই জারা বলে—
— “ঈশান তালুকদারের বাচ্চা! তোকে আমি জ্যান্ত চিবিয়ে খাব!”
ইশান চমকে গিয়ে বলে—
— “আরে! আমাদের তো বিয়েই হয়নি!
তাহলে বাচ্চা কোথা থেকে আসলো?!”
জারা রেগে কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক তখনই
পেছন থেকে আনারুল একটু কেশে বলে —
— "এখানে বড়রাও আছে, একটু আস্তে?"
আনারুলের কথায় জারা আর ইশান দুজনেই থেমে যায়।
চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বসে পড়ে।
আর এই দুই বেয়াদবের হাল দেখে বাকিয়া মুচকি মুচকি হাসতে থাকে।
হাসি থামিয়ে এবার মির্জা বেগম গলা খাঁকারি দিয়ে বলেন—
— “আমার মেয়েরা ঠিক করেছে ওখানেই থাকবে,
না হলে মাবেনা একা সামলে কিছু করতে পারবে না।"
মির্জা বেগমের এমন কথা শুনে আনোয়ার মাথা নাড়িয়ে বলেন—
— “তা তুমি একদম ঠিক বলছো।
ওদের সাহায্য ছাড়া সামলানো মুশকিল হবে।”
ইয়াবি পাশে বসে রিহানের দিকে তাকিয়ে বলে—
— “তুই চিন্তা করিস না ব্রো! আমরা তো তোর সাথেই আছি!”
কিন্তু রিহান তখনো চুপচাপ, ফোনের স্ক্রিনে চোখ গেঁথে বসে আছে।
এই দেখে কাবির একটু কৌতূহলী হয়ে বলে—
— “তুই ফোনে কি দেখছিস রে? দে তো দেখি!”
কাবির ঝুঁকে ফোনটা নিতে গেলে
চোখ পড়ে রিহানের স্ক্রিনে — যেখানে সে নুসরাতের সঙ্গে চ্যাট করছে।
এক গাল হাসি নিয়ে কাবির বলে—
— “আরে বাহ! রোমিও!”
সুরভী পাশে বসেই বলে ওঠে—
— “কি ভালোবাসা রে বাবা!
আর মাত্র কয়টা দিন!
তাও তোর সহ্য হচ্ছে না?!”
এই কথা শুনে রিহান একটু লজ্জা পায়,
কিন্তু মুখে কিছু বলে না…
আর সবাই আবার হেসে ওঠে।
রান্নাঘর থেকে প্রিয়া চিৎকার করে বলে—
— “সবাই খেতে আসো!”
তার কথার সাথে সাথে মির্জা বেগম নিজের চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলেন—
— “অনেক হয়েছে এবার, সবাই খেয়ে নাও চলো!”
মির্জা বেগমের কথায় সবার ছোপা আড্ডা ভাঙে।
ছেলেমেয়েরা হইহই করে উঠে ডাইনিং টেবিলের দিকে যায়।
ডাইনিং টেবিল ফুল হাউস।
গরম গরম খাবারের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ঘরে।
এর মধ্যে একটু পরে ধীরে ধীরে নিচে নামে কিরিস।
তার হাঁটার ভঙ্গিমা এতটাই স্টাইলিশ, যেন প্রতিটি পা-তে অ্যাটেনশন!
সে এক ঝলক চারপাশ দেখে, তারপর চুপচাপ গিয়ে বসে... লিসির ঠিক সামনের চেয়ারটায়।
লিসি চোখ নিচু করে খাচ্ছে।
কিন্তু সে অনুভব করছে, তার দিকে অনবরত কেউ তাকিয়ে আছে।
সেই কেউ আর কেউ না, জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী!
প্লেটের ভেতরে চামচ ঘোরানোর মাঝেও কিরিসের চোখ আটকে আছে লিসির মুখে।
লিসি যেন এক অদ্ভুত সমস্যায় পড়ে গেছে।
না পারছে কিছু বলতে, না পারছে এভাবে তাকানোটা সহ্য করতে।
এই টেনশনের মধ্যে হঠাৎই ফাটায় দেয় আরোবি।
খেতে খেতে গুনগুনিয়ে বলে—
— “চোখে চোখে কথা বলো
হৃদয়ে রাখো হৃদয়,
এই মনের ভাষাতে
হয়ে যাক না প্রণয়...”
আরোবির এমন হঠাৎ প্রেমের গান শুনে সুরভী রেগে বলে—
— “তোর কি লুল্লু-ভুতে কামড়েছে যে খেতে বসে গান গাইছিস?”
সুরভীর কথা শেষ হওয়ার আগেই রিহান বলে—
— “হতেও পারে! কারণ লুল্লু তো ওর বর!”
সেই কথায় চারপাশে হাসির ঝড়।
আরোবি টমেটোর মত লাল হয়ে যায়।
হাসি-আড্ডার এই মাঝেই হঠাৎ করে লিসি বলে ওঠে—
— “আহ!”
সবাই চমকে উঠে!
আনোয়ার গম্ভীর গলায় বলে—
— “কি হলো লিসি? কিছু হয়েছে?”
মির্জা বেগম চিন্তিত মুখে বলেন—
— “কি হয়েছে তোদের, বল তো!”
লিসি একটু কাঁচুমাচু হয়ে গলায় কাঁপন এনে বলে—
— “কিছু না, মনে হয়… মশা কামড়েছে।”
তার এমন বলায় এবার আরোবি একদম সরাসরি গলা বাড়িয়ে বলে—
— “হ্যাঁ, বিশাল বড় মশা!
তাই না লিসি?”
লিসি এবার মুখ লুকিয়ে ফেলে নিজের চুলে।
আর কিরিস মুখ নিচু করে হেসে ওঠে — চোখে এক অপার্থিব মায়া।
আরোবি গান গেয়েছিল বলে সবার নজর পড়ে ওর দিকে।
এবার কিরিস তাকায় সরাসরি আরোবির দিকে।
কিরিসের চোখে সেই গভীর, ভয়ংকর, ঠান্ডা দৃষ্টি।
আরোবি সঙ্গে সঙ্গে মুখ ঘুরিয়ে নেয়, মনে মনে বলে—
"ভাইয়া আমারে গিলে ফেলবে মনে হয়!"
এদিকে লিসি পড়েছে এক অন্য বিপদে।
সবার মাঝে বসে থাকা মেয়েটা কোনোভাবেই খেতে পারছে না।
কেন?
কারণ কিরিস টেবিলের নিচ দিয়ে তার পা চেপে ধরে রেখেছে।
একহাত দিয়ে চামচ ঘোরাচ্ছে, আর পা দিয়ে একটা নরম অথচ হিংস্র দখল।
লিসির শ্বাস আটকে আসছে, গলার নিচে ঘাম জমে উঠেছে—
কিন্তু কারও কিছু বলার সাহস নেই তার!
সবাই খাওয়ার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এমন সময় আনোয়ার গম্ভীর গলায় বলে—
— “কাল সকালে সবাই মার্কেট করতে যাবো। কিরিস, আমি তোমার কাছ থেকে এবার কোনো এক্সকিউজ শুনবো না। তোমার আমাদের সঙ্গে যাওয়া লাগবে।”
কিরিস ধীরে চামচটা নামিয়ে রেখে বলে—
— “ঠিক আছে, যাবো। আর বাবা, আপনাকে আর ছোট চাচুকে Mr. সংস্কার দেখা করতে বলেছে বিকালে।”
আনারুল মাথা নেড়ে বলেন—
— “আগের দিনের প্রজেক্ট-এর ব্যাপারে, তাই না?”
— “হুম।” — কিরিস সংক্ষেপে উত্তর দেয়।
এবার লিজা খুশিতে বলে—
— “তার মানে আমরা ফাইনালি মার্কেট করতে যাচ্ছি!”
আর এই কথা শুনে সবাই একসাথে চেঁচিয়ে ওঠে—
“Yeeessssss!!!”
কিন্তু চিৎকারেই আবার বিপদ!
কিরিস টেবিল চাপড়ে রেগে ওঠে—
— “Oh shut up! এত চিৎকার করার কিছু নেই। আর ভুলেও যেও না, আমি কিন্তু তোমাদের সঙ্গে যাচ্ছি।”
তারপর চেয়ারে ঠেলে উঠে দাঁড়ায়—
— “মা, আমার খাওয়া শেষ। আমি ঘরে যাচ্ছি।”
সুপ্রিয়া চিন্তিত গলায় বলে—
— “আররে! তুই তো কিছুই খেলি না…”
ঠিক উঠার আগেই কিরিস তার গায়ের ব্লেজারটা তুলে নেয় আর…
লিসির পায়ে টেবিলের নিচ থেকে জোরে খামছে দিয়ে যায়!
ব্যথায় লিসি মুখ চেপে ধরে বসে পড়ে, তবুও মুখ ফুটে কষ্ট বেরিয়ে আসে—
— “আহ মাগো... আমার পা…”
আরোবি ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে বলে—
— “আবার মশা, তাই না?”
লিসি ব্যথা সামলে গলা নিচু করে বলে—
— “হুম…”
মুহূর্তটা যেন পায়ের স্পর্শে আগুন ছুঁয়ে গেলেও, কাউকে বলা যাবে না।
সবার রাতের খাওয়া শেষ।
যে যার রুমে চলে যায় ঘুমোতে।
আর লিসি যায় আরোবির রুমে।
ঘরে হালকা আলো জ্বলছে।
আরোবি বেডে হেলান দিয়ে বসে ফোন ঘাটছে,
আর লিসি আয়নার সামনে বসে তার কোমর ছোঁয়া লম্বা চুলে বিলি কাটছে।
কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর,
লিসি আচমকা চুল আঁচড়ানো থামিয়ে বলে—
— “আরোবি আপু, তুমি আমাকে কালকে পুরো বাড়িটা ঘুরিয়ে দেখাবে তো?”
আরোবি হেসে বলে—
— “তুই আমাকে এমন করে বললে না, আমি চাঁদ এনে দিতাম!”

লিসি মুখ নিচু করে মুচকি হাসে।