উপন্যাস : তোমাকে চাই

লেখিকা : নুসরাত জাহান মিথিলা
পর্ব – ০১

রায় চৌধুরী বাড়িতে যেন খুশির ঢেউ বয়ে যাচ্ছে।
একদিকে পরিবারের ছেলে রিহানের বিয়ে, আর অন্যদিকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে বড় ছেলে জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরীর দেশে ফেরার খবরে সারা বাড়ি আনন্দে মাতোয়ারা।
বাড়ির প্রতিটি কোণ যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে সুস্বাদু খাবারের ঘ্রাণ, উঠোনে চলছে আলো ঝলমলে সাজসজ্জা, আর লিভিং রুমে আড্ডা জমিয়ে বসেছে পরিবারের প্রাণ—রায় চৌধুরী পরিবারের ভাইবোনেরা।
পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মির্জা বেগম—স্বামী হারানোর পরও ছয় সন্তানকে একা হাতে মানুষ করেছেন। এখনো তিনি দৃঢ় হাতে গোটা পরিবারকে একত্রে বেঁধে রেখেছেন।তাঁর চার মেয়ে—সাবেনা, কাবেনা, মাবেনা, আর আমেনা।
সাবেনার দুই ছেলে এক মেয়ে—ইমাজ, ইশান ও পায়েল।
কাবেনার এক ছেলে দুই মেয়ে—ইয়াবি, তিশা, লিজা।
মাবেনার দুই মেয়ে—নুসরাত ও হিয়া।
আমেনার একমাত্র মেয়ে—লিসি।
মির্জা বেগমের দুই ছেলে—বড় আনোয়ার ও ছোট আনারুল।
আনোয়ার ও সুপ্রিয়ার দুই ছেলে—জিয়ান কিরিস ও কাবির।
আনারুলের আর প্রিয়ার এক ছেলে তিন মেয়ে—রিহান, সুরভী, আরোবি ও জারা।
রিহানের বিয়েতে সব কাজিন একত্র হয়েছে। বিয়ের পাত্রী নুসরাত। কনে পক্ষ ছাড়া প্রায় সবাই চলে এসেছে। লিভিং রুমে কাজিনদের আড্ডা, হাসি-ঠাট্টায় জমে উঠেছে পরিবেশ।
বাড়ির সদস্য সংখ্যা কম নয়—প্রতিটি ঘর, প্রতিটি মন মুখর আজ।

লিভিং রুমে সবাই মিলে বসে গল্প চলছে জমিয়ে। কাজিনদের হাসি আর খুনসুটিতে বাড়ি যেন হেসে উঠছে।
আনোয়ার ভাই সোফা থেকে উঠে জিজ্ঞেস করলেন,
“আনারুল, মা কবে আসবে রে?”
আনারুল জানালেন, “আজ বিকেলেই। সকালে ফোনে কথা হয়েছিল, বলেছে বিকেলেই রওনা দেবে।”
সুপ্রিয়া পাশ থেকে বলে উঠলেন, “তোমার ছেলে—কবে আসছে সে?”
আনোয়ার হালকা হেসে বললেন, “সন্ধ্যা সাতটার দিকে। আর বলেছে—কাউকে যেন না পাঠাই এয়ারপোর্টে। একাই আসবে।”
এই কথায় লিভিং রুমে এক মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে এল, যেন কিরিসের নামেই সবাই একটু সোজা হয়ে বসল।
আড্ডা জমে উঠেছে----------
আরোবি হেসে বলল,
“আরে, কিরিস ভাইয়া বাড়ি এলেই তো আমাদের লে হালুয়া হয়ে যায়। কেউ ঠিকঠাক নিঃশ্বাস নিতে পারি না!”
রিহান সটান হয়ে বসল, “আজকে প্রথম মনে হচ্ছে, তুই আসলেই আমার বোন!”
কাবির মুখ গম্ভীর করে বলল, “তোর কথাটা আজ সত্যিই মনের ভেতর গিয়ে লাগল।”
সুরভী হাসতে হাসতে বলল, “তোরা কিরিস ভাইয়ার বদনাম করছিস, না নিজেদের দুঃখের গল্প শোনাচ্ছিস?”
ইয়াবি দমকে উঠে বলল, “এইবার থাম তোরা, অনেক হয়েছে।”
এমন সময় সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে জারা।
চোখ আটকে যায় ইশানের।
সে হেসে বলে, “এল আমার না-পাওয়া ভালোবাসা।”
আরোবি খিলখিল করে হেসে বলে,
“ভালোবাসা এমনই হওয়া উচিত, ইশান ভাইয়ের মতো—২৯ বার রিজেক্ট হয়েও হাল ছাড়ে না!”
সেই কথা শুনে সবাই হেসে লুটিয়ে পড়ে।জারা এসে সোফায় বসে। কমলা এসে এক গ্লাস দুধ দিয়ে গেল।
ইশান ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসে। জারা ধীরে ধীরে সরে বসে।
জারা চোখ রাঙিয়ে বলে,
“এই ডাক্তার, তোর সমস্যা কী?”
ইশান কাঁধ ঝাঁকিয়ে উত্তর দেয়,
“সমস্যা তুমি। আর তুমি এতো সকালে দুধ খাচ্ছ কেন?”
জারা গাম্ভীর্য ধরে বলে,
“কাল রাতে বাইক রেসে দুই ছেলেকে হারিয়ে বাড়ি ফিরেছি রাত একটা নাগাদ। শরীরটা তো একটু ক্লান্ত, বুঝলে?”
ইশান চেহারায় দুষ্টু হাসি এনে বলে,
“তাহলে তো মামিকে বলা উচিত, তুমি রাত করে বাইরে ঘুরে বেড়াও।”
এই কথা শুনে জারা রেগে গিয়ে ইশানের মুখ চেপে ধরে।
সবাই মজা দেখে হো হো করে হাসে।
আরোবি হঠাৎ বলে উঠল,
“কাবির, মন খারাপ বুঝি? তিশা আসেনি তাই?”
কাবির কপাল কুঁচকে বলল,
“কে বলল আমার মন খারাপ?”
সুরভী বলে,
“বিকেলেই তো চলে আসবে, কিন্তু আমি বেশি এক্সাইটেড লিসিকে নিয়ে!”
লিজা মুচকি হেসে বলে,
“সেই মেঘের বিয়েতে দেখেছিলাম ওকে… তখন কতই না ছোট ছিল!”
🕓 বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, আগমন মির্জা বেগমের
রান্নাঘরে ব্যস্ততা চরমে। সুপ্রিয়া ভাবি কমলাকে ডেকে বললেন,
“কমলা, কিরিসের ঘরটা আবার ঝাড়ু দে, তোর হাতেই পরিষ্কার ভালো হয়।”
ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে ওঠে।
প্রিয়া চেঁচিয়ে বলে,
“আরোবি, কে এসেছে তো দেখ!”
আরোবি দরজা খুলে দেখে মির্জা বেগম দাঁড়িয়ে আছেন। পাশে তিশা। পেছনে দাঁড়িয়ে আছে এক অপরূপ মেয়ে।
আরোবি আনন্দে চিৎকার করে,
“দাদি! এসো এসো ভিতরে!”
সবাই ছুটে এসে দাদিকে বরণ করে নেয়।
আরোবির চোখ হঠাৎ আটকে যায় পেছনের মেয়েটির উপর। ফিসফিস করে বলে,
“ওটা কি… লিসি?”
এক মুহূর্তে সব কাজিন এসে ভিড় করে দরজার কাছে।
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে লিসি—
লাল জামা, টানা টানা চোখ, গায়ের রঙ দুধে আলতা, হাঁটু ছোঁয়া কালো চুলে এক অপার সৌন্দর্য।
সুরভী বিমোহিত হয়ে বলে,
“আমি তো ভেবেছিলাম ও পরীর মতো—কিন্তু এ তো হুর পরী!”
লিজা বলে,
“বাহ! কেউ এত সুন্দর হয়?”
সুপ্রিয়া এসে বলে,
“বাহিরে কেন দাঁড় করিয়ে রেখেছিস? ভেতরে নিয়ে আয়।”
তিশা হেসে ঘরের ভেতর ঢুকে যায়।
কাবির রিহানের কানে কানে বলে,
“আরে, ওকে তো পা পড়তেই দিলি না!”
ঠিক লিসি চৌকাঠে পা দিতেই ছাদ থেকে ঝরে পড়ে ফুল।
লিসি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। একটু ভয়ও পায়।
সুপ্রিয়া রাগ করে বললেন,
“এই কাণ্ড কে করল?”
আরোবি মুখে হাসি চাপতে চাপতে ছেলেদের দিকে ইশারা করে।
কাবির কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে,
“আমি ভেবেছিলাম, লিসি অনেকদিন পর আসছে, একটা সারপ্রাইজ তো দিতেই পারি!”
জারা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
“সারপ্রাইজটা কার জন্য ছিল—লিসির জন্য, না তিশার জন্য—আমরা কিন্তু জানি!”
লিসি মিষ্টি হেসে বলে,
“থাক না, ওনাদের কিছু বলার দরকার নেই। আমি ভয় পাইনি।”
কাবির হেসে বলে,
“তুই তো আমাদের বেস্ট বোন!"
মির্জা বেগম বলেন,
“আর চেনা-জানার কাজটা করেই ফেলো। লিসি তো তোদের ভালোভাবে চেনে না।”
আরোবি বলে,
“এই যে লিসি, আয়, সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।”
লিসির মিষ্টি ব্যবহার, সহজ কথা আর চঞ্চলতা সবাইকে এক মুহূর্তেই আপন করে তোলে।
প্রিয়া স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন,
“সেই মেঘের বিয়েতে দেখেছিলাম তোমায়, বয়স ছিল পাঁচ…”
মির্জা বেগম বলেন,
“এখন তো আঠারো…”
আনোয়ার আবার বলেন,
“মা, তোমায় কতবার বলেছি আমাদের সাথে থাকো, কিন্তু তুমি তো সেই গ্রামের বাড়ি থেকেই নড়ো না।”
আনারুল সায় দিয়ে বলেন,
“হ্যাঁ মা, তোমার একা থাকতে কষ্ট হয় না?”
মির্জা বেগম হেসে উত্তর দেন,
“আমি একা থাকি নাকি? লিসি তো আমার সাথে থাকে। আর এই শহরের ঝামেলা তো আমার সহ্য হয় না।”
সুপ্রিয়া লিসিকে পাশে ডেকে নিয়ে আদর করে মাথায় হাত রেখে বলেন,
“তুমি আমাদের বাড়ি আসো না কেন গো মা?”
লিসি মিষ্টি হেসে বলে,
“ছুটি পেলেই দাদু নিয়ে যান, ছুটি ফুরালেই আবার নানু বাড়ি পাঠিয়ে দেন। আর নানু তো আমাকে কোথাও যেতে দেন না!”
সুপ্রিয়া এবার মির্জা বেগমকে জিজ্ঞেস করলেন,
“মা, আপনি ওকে বাইরে যেতে দেন না কেন?”
মির্জা বেগম এবার চোখে রহস্যময় হাসি এনে বলেন,
“যার জন্য এত বছর আটকে রেখেছি, তার কাছেই একদিন তুলে দেব বলেই রেখেছি...”
লিসি চোখ গোল করে বলে,
“কে সেই শয়তান, যার জন্য তুমি আমায় বেঁধে রেখেছো?”
মির্জা বেগম কিছু না বলে মুচকি হেসে থাকেন।
সুপ্রিয়া বলেন,
“লিসি, তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসো। তিশা, তুমি-ও যাও। মা, আপনি-ও রেস্ট নাও।”
আরোবি বলল,
“লিসি, চল, আমার সঙ্গে আয়।”
বাড়িতে এখন আনন্দ, মায়া, আর একটা অজানা অপেক্ষা—
★England ★
✦ The Mafia King's Empire ✦
লোকেশন: ইংল্যান্ড, লন্ডন – এক গোপন প্রাসাদোপম আন্ডারওয়ার্ল্ড মিটিং হাউজ
ইংল্যান্ডের প্রাচীন প্রাসাদের আদলে তৈরি, গোপন এক অট্রোলিকায় চারটি রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে আছে। চারপাশে শতাধিক কালো ড্রেস, কালো গ্লাভস আর কানে ইয়ারপিস পরা প্রফেশনাল গার্ড। ঘরে থমথমে নীরবতা। কাচের ঝাড়বাতির নিচে বসে আছেন তিনি—
“The Mafia King of UK” — জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী।
হাতে এক বিলাসবহুল ক্রিস্টাল ওয়াইন গ্লাস, রক্তের মতো গাঢ় লাল ওয়াইন ধীরে ধীরে ঘুরাচ্ছেন।
তার সামনে হাঁটু গেড়ে কাঁদছে এক ব্যক্তি, গলায় কাঁপুনি —
“P-please forgive me, Sir! I will never enter your territory again...”
কিরিস ধীরে মাথা তোলে। তার চোখে এক ধরনের শীতল আগুন — যা কেবল নিষ্ঠুরতা বোঝে।
তার ঠোঁটে হালকা ঠান্ডা হাসি।
"Krish never gives a second chance."
— ঠান্ডা গলায় বলে তিনি।
একটা হালকা চোখের ইশারা।
ঠিক পর মুহূর্তেই —
“Bang!”
লোকটির কপালে গুলি। রক্ত ছিটকে পড়ে ওয়াইন রঙের মার্বেল ফ্লোরে।
কিরিস ওয়াইনের শেষ চুমুক নিয়ে বলে—
"Game Over."
তিনি উঠে দাঁড়ান, ধীরে ব্লেজারের বোতাম লাগিয়ে দরজার দিকে হাঁটেন।
বাইরে প্রস্তুত, কালো কালো ২৫টি Rolls Royce গাড়ির কনভয়। সামনে দাঁড়িয়ে প্রধান বডিগার্ড।
একটি Rolls Royce-এর দরজা খুলে, মাথা নুইয়ে অভ্যর্থনা জানায়। কিরিস গাড়িতে উঠে বসেন।
লোকেশনে চেঞ্জ: Ray Chowdhury Mansion, UK – A Billionaire Fortress
২৫টি বিলাসবহুল গাড়ি প্রবেশ করে এক রাজপ্রাসাদের মত হাভেলিতে। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দামী প্রপার্টিগুলোর তালিকায় উপরের দিকে যার নাম —
Ray Chowdhury Mansion.
এই বিশাল প্রাসাদে ঢুকে কিরিস প্রথমে তার ব্যক্তিগত জিম-পুল স্যুটে যান, তারপর স্নান সেরে হোয়াইট টাওয়েল পরে ব্যালকনিতে দাঁড়ান। দূরে সিটি লাইট, হাতে একটা সিগারেট, চোখে এক গভীর বিষণ্ণতা মেশানো শক্তি।
তখনই প্রবেশ করে তার শ্যাডো পার্টনার, সহকারী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড এক্সিকিউটিভ Mark.
"Sir, here are today’s files," — সে একটি ফোল্ডার দিয়ে দেয়।
কিরিস চোখ না তুলেই বলে—
"Rihan gave anything?"
মার্ক বলে—
"Yes Sir. File No. 5 contains it all. Plus, Yabi's shipment details have been uploaded to your encrypted laptop. Kabir’s 45 men neutralized. 2 left."
কিরিস এবার ধীরে তাকিয়ে বলে—
"That’s... efficient."
একটু থেমে আবার বলে—
"And her? What about... her?"
মার্ক এগিয়ে আসে, হাতের ভিতর থেকে একটি ছবি বের করে —
"৪৫৯৪ জন মারা গেছে স্যার, এখন পর্যন্ত। আর এই হচ্ছে তার সাম্প্রতিক ছবি।"
কিন্তু কিরিস ছবি নেন না।
শুধু ঠান্ডা গলায় বলে—
"I don’t need the picture. I’ll see her with my own eyes... this time. The girl worth killing the whole world for... I’m coming, Lisi Sharma ."
তিনি ঘরে হাঁটতে হাঁটতে বলেন—
"Mark, prepare the Falcon Jet. We’re going home."
---
লোকেশন: হিথরো প্রাইভেট এয়ারবেস
আধা ঘণ্টা পর, কিরিস পরিপাটি স্যুট পরে বেরিয়ে আসেন।
হিথরো প্রাইভেট এয়ারবেস ফাঁকা করে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র তার আগমনের জন্য। প্রতিটি নিরাপত্তা বাহিনী তার নিয়ন্ত্রণে।
Rolls Royce এসে থামে প্রাইভেট জেটের সামনে। জেটের গায়ে Ray Chowdhury Family Crest।
কিরিস উঠে যান নিজের Falcon-X Jet এ। সামনে বসে থাকা পাইলট সম্মান জানায়। কিরিস চোখ বন্ধ করে হালকা গলায় বলে—
"Take me to Bangladesh..."
বাংলাদেশ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
আকাশে সন্ধ্যার রং নামছে। ভিআইপি টার্মিনাল থেকে হঠাৎ করেই বেরিয়ে আসে একটি, দুটি নয়—একসাথে পরপর ১৫টি ব্ল্যাক রঙের Rolls Royce Phantom। প্রতিটি গাড়ির গায়ে রায় চৌধুরী পরিবারের রাজকীয় সিল।
পেছনে গাড়ির দরজা খুলতেই, নেমে আসে একটি আগুন রঙের সিগনেচার পা— রোলেক্সে মোড়া কব্জি, কালো ব্লেজারটা কাঁধে ফেলা, সাদা শার্টের বোতাম খোলা, চোখে রোদচশমা—মাথা উঁচু করে এগিয়ে আসে সে।
জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী।
বাংলাদেশের এক নম্বর বিজনেসম্যান। কারো জন্য দাঁড়ায় না, কারো সামনে মাথা নত করে না।
এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে থাকা রিপোর্টাররা মুহূর্তেই তড়াক করে ক্যামেরা তুলে ধরে।
–“স্যার, আপনি দেশে ফিরলেন হঠাৎ করে?”
–“স্যার, আপনাকে ঘিরে গুঞ্জন অনেক…”
কিন্তু কিরিস চোখ তোলে না।
এক ঝলকে চারপাশ দেখে, ঠোঁটে টিকিটিকি হাসি টেনে বলে—
“Lower your lens. I'm not a spectacle.”
চোখ-মুখ শক্ত করে গাড়িতে উঠে পড়ে সে।
রিপোর্টাররা হতবাক। যেন কেউ একটা ঝড় বয়ে গেল।
🚗 গাড়ির ভেতরে বসে, সিগারেট ধরানোর আগেই তার ফোনটা বাজে।
‘Abbu Calling’
ফোনটা রিসিভ করে হালকা ক্লান্ত গলায় বলে,
“আসছি, রাস্তায় আছি।”
ওপাশ থেকে আনোয়ার বলে,
“তুই কই রে? তোর মা পাগল হয়ে যাচ্ছে।”
কিরিস ঠান্ডা গলায় বলে,
“৭টা বলেছিলাম, ৭টাই আসছি।”
হঠাৎ কিরিস চুপ করে যায়। যেন কিছু শুনে রেগে ওঠে। বাবাকে ফোন লাউডে দিতে বলে,,,
–“What is this? দেখছো না আমি বাবার সাথে কথা বলছি? তাহলে ওই ব্যাকগ্রাউন্ডে এত হইচই কেন?”
কথার ভেতরেই তার ভয়ংকর রাগ ঝরে পড়ে।
গাড়ির ভেতরে থাকা দেহরক্ষীরা নিঃশব্দে একে অপরের দিকে তাকায়।
কারণ তারা জানে, কিরিস রেগে গেলে বাংলাদেশ থেমে যায়।
রাস্তায় সিগনালে গাড়ি দাঁড়িয়ে। এক ড্রাইভার বিরক্তি নিয়ে বলে—
“আরে ভাই, এই যে ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে আছি, রাস্তা ফাঁকা করছো কেন?”
ট্রাফিক পুলিশের উত্তর আসে গভীর গলায়—
“আরে বোকা! জানিস না?
বাংলাদেশের এক নম্বর বিজনেসম্যান, জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী দেশে ফিরেছে!
ওই যে দেখ, তার কাফেলা…”
সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার মূল সড়ক দিয়ে পরপর ১৫টি কালো Rolls Royce গর্জন তুলে চলে যায়।
লোকেরা হতবাক। যেন রাজপথে রাজা ফিরে এসেছে।
রাস্তায় সিগনালে গাড়ি দাঁড়িয়ে। এক ড্রাইভার বিরক্তি নিয়ে বলে—
“আরে ভাই, এই যে ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে আছি, রাস্তা ফাঁকা করছো কেন?”
ট্রাফিক পুলিশের উত্তর আসে গভীর গলায়—
“আরে বোকা! জানিস না?
বাংলাদেশের এক নম্বর বিজনেসম্যান, জিয়ান কিরিস রায় চৌধুরী দেশে ফিরেছে!
ওই যে দেখ, তার কাফেলা…”
সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার মূল সড়ক দিয়ে পরপর ১৫টি কালো Rolls Royce গর্জন তুলে চলে যায়।
লোকেরা হতবাক। যেন রাজপথে রাজা ফিরে এসেছে।