উপন্যাস : তোমাকে চাই

লেখিকা : নুসরাত জাহান মিথিলা
পর্ব:১৪

হঠাৎ মনে পড়ে, কিরিসের দেয়া ঘড়িটা! মনে চাইছে না, তবু মুখ গোমড়া করে ওয়ারড্রব থেকে ঘড়িটা বের করে ব্যাগে রাখে।
তারপর ধীরে পা ফেলে সে নামে নিচে।
বাড়ির সামনের প্রাঙ্গণে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। যেন আকাশে রঙিন মেলার ভিড়, চারপাশে সাজে চোখ ঝলসে যায়। সবাই পরেছে একসাথে আকাশি রঙের শাড়ি আর ব্লাউজ।

শুধু একজন আলাদা—লিসি।
তার পরনে সাদামাটা কাজের একখানা আকাশি শাড়ি, সাদা ব্লাউজ। সাজে নেই কোনো জাঁকজমক, তবুও… সে যেন আলাদাভাবে জ্বলছে। যেন চারপাশের আকাশ থেকে একফালি চাঁদের আলো নেমে এসেছে তার গায়ে।
সে সোজা গিয়ে দাঁড়ায় নানুর পাশে।
মির্জা বেগম চেয়ে থাকেন মুগ্ধ হয়ে,
— “আরে আমার নাতনিকে কি সুন্দর লাগছে আজ!”

লিসি হেসে বলে,
— “আমাকে না, তোমাকেই অনেক সুন্দর লাগছে নানু। বলিউডের কুইনের মতো লাগছে তোমাকে।”
মির্জা বেগম হেসে উঠলেন, চোখে আনন্দের ঝিলিক,
সুপ্রিয়া হেসে কাঁধ ঝাঁকান,
— “লিসি, এখন তো ভালো লাগছে, তাই না মা?”

লিসি একটু হাসি দিয়ে উত্তর দিলো,
— “হুম, মামি… ছোট মামি কই?”

প্রিয়া তখন এগিয়ে এসে বললেন,
— “আমাকে তো হঠাৎ খোঁজ! কী ব্যাপার?”

লিসি হালকা বিরক্তি নিয়ে বললো,
— “তুমি যাবে না, তাই তো?”

প্রিয়া মিষ্টি মিষ্টি হেসে বললেন,
— “আরে পাগলি, আমার ছেলের বিয়ে তো! ছেলের বিয়েতে মায়ের বাড়িতে থাকতে হয়! আমার বৌমাকে তোমরা নিয়ে এসো ।”

আরোবি হেসে যোগ করল,
— “হুম মা, চিন্তা করো না, একদম পারফেক্টভাবে নিয়ে আসবো।”

মির্জা বেগম বললেন,
— “আজ আমার সব নাতনি পুতনিকে একসঙ্গে রাজকুমারীর মতো লাগছে।”

সবাই হেসে উঠলো, তখন ছেলেরা এসে বলল,
— ইয়াবি: “আমাদের কেমন লাগছে, নানি?”

মির্জা মুখে হাসি ধরে রাখেননি,
— “একদম রাজপুত্র লাগছে! এবার তো চলে যেতে হবে, নইলে দেরি হয়ে যাবে। আনোয়ার, গাড়িটা ঠিকঠাক করেছ তো? এখনই চল।”

আনোয়ার উত্তর দিলো,
— “হুম মা, রিহান এলে যাবে,, ওই তো আসছে।”

সেই মুহূর্তে রিহান প্রবেশ করল,
সাদা শেরনিতে সেজে, নিখুঁত কাজ করা জামা,
তার বিশাল রূপ দেখে কেউই চোখ সরাতে পারল না।

বাড়ির ভিতরে প্রিয়া দাঁড়িয়ে, হাতে মিষ্টি আর পানি নিয়ে,ছেলেকে মিষ্টি মুখ করিয়ে
স্নেহভরে রিহানের মাথায় হাত দিয়ে বললেন,
— “যা, আমার বাড়ির রানী নিয়ে এসো।”

সবার মুখে ফুটে উঠলো মিষ্টি হাসি।

রিহান সালাম করে বলল,
— “মা, আমি যাচ্ছি তোমার বৌমা আর আমার রানিকে আনতে।”

রিহানের কথা শুনে সবাই হেসে ফেলে। প্রিয়া খুশিতে চোখ দিয়ে জল ছড়িয়ে, এরপর ভিতরে চলে গেলেন। বাইরে সবাই দাঁড়িয়ে গাড়িতে উঠতে শুরু করলো।গাড়িগুলো একে একে সাজানো হয়েছে ফুল দিয়ে, যেন রাজকীয় রথ।
বাড়ির সামনে একে একে এসে থামছে গাড়িগুলো। যে যার মতো করে গুছিয়ে নিচ্ছে নিজের জায়গা— কে কোন গাড়িতে উঠবে, কার সাথে যাবে— সব ঠিকঠাক চলছে যেন একটা যুদ্ধের প্রস্তুতি।

লিসি সামান্য গুছিয়ে নিয়ে বলল,
— “আমি একেই তো উঠবো। আমিও যাবো ওই গাড়িতেই।”

তার কণ্ঠে ছিল মিষ্টি এক জেদ। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাজিনরা হেসে বলল,
— “তাহলে ঠিক আছে, এই গাড়িতেই তো উঠব সবাই! একসাথে না গেলে তো মজাই নেই!”

বিয়ের আনন্দে মুখর উঠোনের এক কোণে রিহান নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। আজ সে নিজেই গাড়ি চালিয়ে যাবে বিয়ের আসরে— যেন এটাই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা।

গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে হালকা একটা স্মিত হাসি দেয় রিহান। পেছনের সিটে তখন বসে আছেন আনোয়ারা আর আনারুল । দু'জনেই একেকজনের পাশে বসে অদ্ভুত শান্তিতে তাকিয়ে আছেন রিহানের দিকে— যেন মনেই হচ্ছে, "এই তো, আমাদের ছেলেটা আজ নিজের সংসার শুরু করতে চলেছে..."

আরেক পাশে, রঙিন সাজে একেকজন গাড়ির দরজা খুলে নিজের জায়গা দখল করছে। কে যাবে কাকে নিয়ে— সেটা ঠিক করে নিচ্ছে যেন সিনেমার একটা দৃশ্য।
হঠাৎ পেছন থেকে কেউ বলল,
— “এই শোনো, আমি কিন্তু সামনে বসবো! পেছনে বসলে মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে!”
— “হাহা! আগে আসলে আগে পাবে! তোরা দেরি করলে আর কিছুই থাকবে না!”

গানের শব্দে মিশে যায় হাসির হুল্লোড় আর কণ্ঠের চিৎকার।

সবার মুখে একটাই রঙ— উচ্ছ্বাসের, বিয়ের আনন্দের, আর অদ্ভুত এক উত্তেজনার।
এই উত্তেজনার মধ্যে সবাই যখন গাড়িতে উঠতে ব্যস্ত তখন হঠাৎ
মির্জা বেগম লিসিকে ডেকে বললেন,
— “তোকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে না, কিরিসের সঙ্গে যেও।”

নানুর মুখে ওই কথা শুনে লিসি থমকে গেলো, মুখে বিরক্তি নিয়ে বলল,
— “আমি যাব না, ওই হিটলার ভাইয়ের সঙ্গে গেলে মারবে, আমি যাব না। নানু, তোমাদের সঙ্গে যাই।”

সবাই হেসে উঠলো, কেউ বুঝতে পারছিল না হাসি হবে নাকি অবাক হওয়া।

ইয়াবি এগিয়ে এসে বলল,
— “My little sister, বড় ভাইকে এভাবে বলতে নেই। তুই কিরিসের সঙ্গেই যা।”

লিসি ঠিক করেছিল যাওয়া, কিন্তু কেন সব সময় তাকে ওই ‘হিটলার’র সঙ্গেই যেতে হয়?

সুপ্রিয়া এগিয়ে এসে বললেন,
— “লিসি, এদিকে আসো মা।”

লিসি এগিয়ে গেলে সুপ্রিয়া মাথায় হাত রেখে বললেন,
— “আমার সোনা মা, তুমি আমাদের সঙ্গে যাবে না কেন? বলো তো। কিন্তু তুমি তো গাড়িতে বেশি সময় থাকতে পারবি না, বমি হবে তো? আমি চাই না আমার মেয়েটার কষ্ট হোক। কিরিস বলেছে, গাড়িতে যাবে, তুমি ওর সঙ্গে যাও।”

লিসি একটু বাচ্চাদের মতো সরল কণ্ঠে বললো,
— “কিন্তু ওই গাড়িই তো, তাই না?”

ইশান হেসে বলল,
— “আরো না, কিরিস তো আমাদের সঙ্গে যাচ্ছে না, মানেই সে কোনো ধামাকা করে যাবে।”

কাবির যোগ করল,
— “ওর সঙ্গে গেলে অসুস্থ হয়ে গেলেও এক মিনিটের মধ্যে চিকিৎসা পেয়ে যাবে। বুঝেছ? যাও, আমার সোনা বোন, না যাও।”

সুপ্রিয়া মমতা ভরা কণ্ঠে বললেন,
— “আর মারবে কার সাহস আছে যে আমার মেয়ের গায়ে হাত দিবে? কিরিস বকলেও তুই আমাকে বলবি, ঠিক আছে? আমিও কি মেরে দেব? যাও সোনা, না তুমি আমার।”

সুপ্রিয়ার কথা শুনে লিসি চুপচাপ বসল। মনে হলো মা থাকলে হয়তো এই কথাগুলো নিজেই বলতো, আজ তাই বলছে সুপ্রিয়া।
এমন একটা মুহূর্তে, সকলের চোখ হঠাৎই আটকে গেলো এক দিকের দরজার দিকে।

কিরিস।
তার পরনে আকাশি রঙের স্লিম ফিট ব্লেজার, ভিতরে ঝকঝকে সাদা শার্ট—বোতাম খোলা, গলায় কোনো টাই নেই। নিচে পরা রয়েছে ম্যাচিং প্যান্ট, একদম নিখুঁত কাটিংয়ে, প্রতিটি ভাঁজে যেন তার ব্যক্তিত্বের ছাপ। পায়ে চকচকে লোফার, চলার সময় কোনো শব্দ নেই, যেন এই মানুষটা কোথাও হেঁটে আসেন না—ভেসে আসেন।

চুল ব্যাকব্রাশ করে রাখা, হালকা সাইড ভলিউম দেওয়া, চোখে কোনো চশমা নেই—কিন্তু চোখ দুটি এতটাই তীক্ষ্ণ, যেন যার দিকে তাকায় তার ভেতরের কথাও পড়ে ফেলতে পারে। মুখে নিখুঁত শেভ, ধারালো জ-লাইন, ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হালকা অভিমান—তাকে যেন ছায়ার মতো করে রেখেছে আরও গভীর।

মেয়েরা নিজেদের মধ্যে চাপা গুঞ্জন শুরু করেছে। কারো ওড়না ঠিক হচ্ছে, কারো ঠোঁটে লিপগ্লস আবারও ছোঁয়ানো হচ্ছে, যেন কেউ যদি একটিবার তাকায়—সে কিরিস হোক।

কিন্তু কিরিসের চোখ আটকে আছে এক নারীর দিকে—লিসির দিকে।

সে পা থেকে মাথা অবধি খুঁটিয়ে দেখল, বুঝতে পারল যে সব জিনিস আসলে কিরিসেরই দেওয়া।

কিরিসকে দেখে ভাইরা এগিয়ে আসল।

ইশান বলল,
— “ওহো, Bro, তোকে তো পুরো ফ্যাশন শোর মডেল মনে হচ্ছে। মেট গালার লাল কার্পেটে হাঁটবি তো?”

ইয়াবি জিজ্ঞেস করল,
— “সব ঠিক আছে তো? কিন্তু তোর হাতে ঘড়ি কোথায়? যা ছাড়া তো তুই বাইরে বেরহোস না।”

কাবির বলে,
— “ভুলে গেলি ভাইয়া। আহা শোন, রিহান কিন্তু ওর গাড়িতে উঠে গেছে, এখন আমরা যাব।”

কিরিস সব প্রশ্নের উত্তর দিল,
— “হুম, এবার যা।”

ইয়াবি আবার বলল,
— “লিসি কিন্তু তোর সঙ্গে যাবে।”

এই কথা শুনে কিরিস একটু ঘাড় ঘোরাল, লিসির দিকে চোখ মেলল, মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে রইল।

ইশান বলে,
— “Bro, তোর ঘড়ি কোথায়? যা গিয়ে নিয়ে আয়।”

কিরিস এবার রাগেই বলে দেয়,
— “তোর ভাবির কাছে আছে।”

বলেই চলে গেল।

ইশান আর কাবির হতবুদ্ধি হয়ে রইল, ইয়াবি হেসে মুচকি হাসি দিলো সে বুঝতে পেরেছে কিরিস কি বলতে চাইছে।
কিরিস সবাইকে গাড়িতে উঠিয়ে দিল।
গাড়ি চলে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

কিরিস বাবার কাছে গিয়ে বলল,
— “রিহান, গ্লাস খুলে দাও।”

রিহান গ্লাস খুলল,
আনোয়ার বলল,
— “বাবা, তুমি যাও, আমি শেষে আসছি।”

আনোয়ার বলল,
— “হুম, সাবধানে আসিস।”

কিরিস উত্তর দিল,
— “হুম, রিহান, যা।”

গাড়িগুলোর ইঞ্জিন গর্জে ওঠে।গাড়িগুলো একে একে বাড়ি থেকে বের হতে লাগল।
রাস্তার মানুষজন হা করে তাকিয়ে আছে—কোন রাজার বিয়ের মেলা যেন চলছে।
গাড়িগুলো একটার পর একটা, একেকটার থেকে আরো সুন্দর সাজানো—সেই দৃষ্টিনন্দন আয়োজন যেন সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখছে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখও যেন ধরে রাখা কঠিন।

সবাইকে সঠিক গাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে, কিরিস চলে আসে লিসির পাশে। চারপাশে কেউ নেই, শুধু তারা দুজন। নিঃসঙ্গ একটা জায়গায়, যেন সময় থমকে গেছে।

লিসি ভেতরে ভেতরে রাগে ফুঁসছে—‘তাকে বারবার কেনো ফাসঁতে হতে হবে? এই গন্ডারের সঙ্গে কেন?’ — কিন্তু মুখে সে কোনো কথা রাখে না।

কিরিস এবার পকেট থেকে ফোন বার করে মার্ককে ফোন দেয়,
— “মার্ক, কতক্ষণ লাগবে?”
মার্ক বলেন,
— “এক মিনিট, বস সামনে থেকে আসছে, দেখুন।”
কিরিস সামনে তাকিয়ে দেখে, একদম ঝকঝকে সাদা রঙের ল্যাম্বরগিনি গাড়ি আসছে। গাড়িটি সোজাসুজি তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।
লিসিও চুপচাপ বসে থাকে, সামনে দিকে তাকায় না।

কিরিস গাড়ির পাশে এসে বলল,
— “লিসি, ওঠো।”

লিসি মাথা তুলে কিরিসের দিকে তাকালো। মুখে কঠিন অভিব্যক্তি,
— “আমি যাব না আপনার সঙ্গে। আমি নানুর সঙ্গে যাব। নানুকে বলুন আমাকে নিয়ে যেতে, না হলে আমি যাব না।”

লিসির এমন বাচ্চাদের মতো জেদ শুনে কিরিস আর এক মুহূর্ত দেরি না করে তার পাশে গিয়ে হাত দিয়ে বলল,
— “চলো, লিসি।”

লিসি ঝোঁক দিয়ে বলল,
— “আমি যাবো না এই চ্যাপা শুটকি গাড়িতে।”

কিরিস একটু বিভ্রান্ত হয়ে বলল,
— “চ্যাপা শুটকি? এটা ল্যাম্বরগিনি গাড়ি, চ্যাপা শুটকি না।”

লিসি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে, মুখে জেদ আটকে,
— “সে যাই হোক, আমি যাবো না এই চ্যাপটা গাড়িতে।”

কিরিস মুচকি হাসি মুখে বলল,
— “তোমার আগের সেই জেদ এখনো যায়নি, আগের মতোই আছে।”

লিসি তার দিকে মুখ তুলে ভাবল,
— সেই জেদ আগে ছিলো মানে কি!সে কি আগেও জন্মেছিল, যে তার আগের জেদ থাকবে!

কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর কিছু না বলে লিসি দাঁড়িয়ে থাকে।
কিরিস কোনো কথা না বলে হঠাৎ লিসিকে কোলে তুলে নেয়।
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ড এগিয়ে এসে গাড়ির দরজা খুলে দেয়।

লিসি পুরো অবাক, কী করলো কিরিস! তবে সে আর কিছু বলল না, ঘাড় নেড়ে সম্মতি দিলো।

কিরিস সাবধানে গাড়িতে বসিয়ে দরজা বন্ধ করে নিজের ড্রাইভিং সিটে চলে গেল।

গাড়ি স্টার্ট হতেই ছাদ খুলে দিলো, যেন আকাশটা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

গাড়ি চলতে থাকে তার গন্তব্যের দিকে। ছাদখোলা ল্যাম্বরগিনি, হালকা বাতাস, শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কোথাও যেন শান্তির খোঁজে যাচ্ছে দুটি মানুষ।
কিরিস চুপচাপ গাড়ি চালাচ্ছে, আর পাশের সিটে বসে আছে লিসি—চুপচাপ, নিরব।
বাতাসে ওর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, শাড়ির আঁচল এক পাশে জানালায় উড়ছে। এক ধরণের শান্ত অথচ অসমাপ্ত অনুভূতি যেন চারপাশে ছড়িয়ে আছে।

হঠাৎ নীরবতা ভেঙে লিসি মুখ তোলে।

— “ভাইয়া... কত সময় লাগবে আমাদের যেতে?”
কিরিস চোখ না তুলে শান্তভাবে বলে,
— “ঠিক জানি না। তবে আমার জানা মতে এখানে থেকে দিনাজপুরের দূরত্ব ৩৫০ কিলোমিটার। আমি যদি ৭০-৮০ স্পিডে চালাই, তাহলে... ৩৫০ ÷ ৭৫ = প্রায় ৪.৭ ঘণ্টা। মানে ৪.৫ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগবে। যদি ট্রাফিক না থাকে, রাস্তা ভালো থাকে, আর বেশি থামতে না হয়। তবে জ্যাম হলে ৬ ঘণ্টাও লাগতে পারে।”

লিসি হা করে তাকিয়ে থাকে কিরিসের দিকে।
— “ভাইয়া, আপনি মুখে মুখে অংক করলেন কীভাবে! আমি করলে তো মাথা ঘুরে যায়।”
কিরিস হালকা হাসে, — “যেভাবে মানুষ করে।”
লিসি মুচকি হেসে বলে,
— “আমার মনে হয় আপনি স্কুলে অংকে ৯৯ পেতেন…”
— “না, একদম না,” বলে কিরিস।
— “কি! তাহলে এই হিসাব—?”
— “কারণ আমি সবসময় ১০০ পেতাম।”

এই কথা শুনে লিসি তাকিয়ে থাকে, চোখে বিস্ময়।

— “আমি তো কত কষ্ট করে ৫০-৬০ পাই। আর আপনি…”
কিরিস কেবল ঠোঁটে মুচকি হাসে।
ঠিক সেই মুহূর্তে লিসির ফোন বেজে ওঠে। ওপাশে গান-বাজনার শব্দ। ফোন ধরে লিসি—
— “হ্যালো?”
আরোবি বলে — “এই লিসি, কি করিস?”
— “বাতাস গুনছি,” বিরক্ত স্বরে বলে লিসি।
— “কি!”
লিসি আস্তে করে ফোনটা পাশে নিয়ে বলে,
— “তোর হিটলার ভাইয়ার সাথে আছি, বুঝলি?”

আরোবি হেসে দেয়।
— “আচ্ছা, রাখছি।”
ফোন কেটে যায়। লিসি আবার চুপচাপ। কিছুক্ষন চুপচাপ থাকার পরে লিসি

— “যদি ৫-৬ ঘণ্টা লাগে, তাহলে তো আমরা দেরি করবো,” বলে লিসি।
কিরিস বলে, — “ওরা পৌঁছে যাবে ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে।”
— “তাহলে আমরা কেনো দেরি করবো?”
— “কারণ আমার গাড়িতে তুমি আছো। নাহলে আমি ৩ ঘণ্টায় পৌঁছে যেতাম।”
লিসি চোখ ছোট করে বলে —মানে কি! আমার জন্য আপনি চালাতে পারছেন না "
কিরিস —" কিছু টা ওরকম "
লিসি চোখ কুঁচকে বসে পড়ে,হালকা রেগে,,
ঠিক তখনই কিরিসের ফোন বেজে ওঠে। বাবার ফোন।
— “হ্যালো?”
— “এই কিরিস, দেখেছিস! সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছি, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটাই বাদ দিয়েছি—মিষ্টি! তুই মিষ্টি নিয়ে আয় রে, সামনে তো কোনো বাজারও নেই।”

— “মিষ্টি মানে?”
— “হ্যাঁ, ভালো দেখে নিয়ে আয়, বেশি করে, কয়েক কেজি।”
আনোয়ার —" হ্যাঁ মিষ্টি,, তুই নিয়ে আয়,, ভালো দেখে নিয়ে আসিস বেশি করে কয়েক কেজি,
কিরিস —" ভালো মিষ্টি, আমি তো মিষ্টিই খায় না তাহলে কি করে নিয়ে আসবো,, আর কয়েক কেজি মানে কতো টুকু,। তাহলে শুন, ৬৭০ কেজি নিয়ে আসবো, কেমন?"

আনোয়ার হেসে বলে—
"আহারে, এই ছেলের কথা! তোর সঙ্গে কি কেউ আছে!?।"

কিরিস—
"হুম, লিসি আছে।"
আনোয়ার —" দে লিসির কাছে দে, তোর মাথায় কেনো এই সহজ কথা ঢোকে না,।

কিরিস ফোন ঘুরিয়ে দেয়। লিসি প্রথমে কিছু বুঝতে না পারলেও কিরিস ইশারা করে ফোনটা কানে দিতে।
— “হ্যাঁ মামা?”
— “এই যে মা, সব কিছু নেওয়া হয়ে গেছে, কিন্তু মিষ্টি নেই। অনেক লোকজন হবে, তুই বুঝে নিস।”
— “চিন্তা কোরো না, আমি দেখছি।”

ফোন রেখে লিসি বলে,
— “চলুন, মিষ্টির দোকানে।”

গাড়ি গিয়ে দাঁড়ায় শহরের অভিজাত এক মিষ্টির দোকানের সামনে।
নেমেই চারপাশের নজর পড়ে তাদের দিকে। লিসি একটু অস্থির হয়ে পড়ে, কিন্তু কিরিস সঙ্গেই থাকে।
দোকানে ঢুকতেই স্টাফরা অভ্যর্থনা জানায়।

লিসি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলে—
— “আপনাদের স্পেশাল চমচম,রসগোল্লা,সন্দেশ,কালোজাম,লাল মোহন,মোহনভোগ,রাজভোগ,পেঁড়া,খিরের চমচম
গোলাপ সন্দেশ,বেকড রসগোল্লা,দুধ জামুন, ছানা সন্দেশ, কেশর বরফি, কাঠবাদামের চমচম, মালাই প্যাড়া, রসমালাই, নলেন গুড়ের রসগোল্লা, আর ঘিয়ের কালোজাম… সবগুলো তিন কেজি করে দিন।”

লিসির এতো বড় মিষ্টি লিস্ট শুনে স্টাফটা মুচকি হাসে পাশ থেকে ক্যাশ কাউন্টারে বসে থাকা ম্যানেজার বলে —“ম্যাডাম আপনি তো দেখছি বেশ ভালো নাম জানেন মিষ্টির, এত ভালো করে তো আমাদের দোকানে স্টাফরাও বলতে পারেনা "
লিসি কিছু বলে শুধু মুখে মুচকি একটা হাসি দেয়, পাশে কিরিস মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লিসির দিকে তাকিয়ে,,

স্টাফরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কিরিস চোখ টিপে বলে—
— “বাহ! শুনে মনে হচ্ছে তুমি জন্মেছো মিষ্টির হাঁড়ির পাশে!”

লিসি হেসে—
— “আমি তো আপনার মতন বিদেশি না, আমি বাংলাদেশি মেয়ে। মিষ্টির উপর আমার স্পেশাল নলেজ আছে!”

কিরিস হালকা হাসে। স্টাফরা একে একে সব মিষ্টি গাড়িতে তুলে দিচ্ছে। কাঁচের কেসের ভেতর যত রকমের রঙ-বেরঙের মিষ্টি সাজানো, সবই যেন লিসির চোখে আনন্দ ঝলক দিয়ে গেলো।
এমন সময় কিরিস গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।
লিসি পিছন থেকে ওর শার্টের কোণা হালকা টেনে ধরে।

— “কি হলো?“
লিসি ঠোঁট কুঁচকে, একেবারে বাচ্চাদের মতো মুখ করে বলে—
"আমি... আমি আইসক্রিম খাবো... !"

তার আদুরে গলায় একটু লজ্জা, একটু আবদার আর পুরোটা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
তার কণ্ঠে যেন শিশুসুলভ আবদার।
কিরিস মুচকি হেসে বলে, — “ঠিক আছে, দাঁড়াও।”
সে পাশের দোকান থেকে তিনটা আইসক্রিম—চকলেট, ভ্যানিলা আর স্ট্রবেরি নিয়ে এসে লিসিকে দেয়।

লিসির চোখ বড় হয়ে যায়—
— “আহা! আপনি জানেন না কতদিন পর কেউ আমাকে এরকম করে আইসক্রিম কিনে দিলো!”
— “ভবিষ্যতে তোমার সব আইসক্রিম আমিই কিনে দেবো।”

লিসি হাসে। কিরিস হাঁটতে থাকে।
গাড়িতে উঠে লিসি শুরু করে আইসক্রিম খাওয়া—চকচকে চকোলেট আইসক্রিম, যেন কোনো অমৃত।
কিরিস একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, মৃদু হাসে, তারপর গাড়ি চালাতে শুরু করে।

গাড়ি চলতে থাকে—
বাতাস উড়ে চুলে-মুখে।
লিসি চোখ বন্ধ করে বলে—

— “এমন দিন যেন শেষ না হয়... এটা যেন সিনেমা না হয়, বাস্তব হয়।”

কিরিস ধীরে বলে—
— “এটা বাস্তব... আর তুমি আমার সিনেমার সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।”

লিসি শুনতে না পেলেও—পেছনে ফেলে আসা রাস্তা যেন বুঝে নেয় কথাগুলো।

গাড়ি এগিয়ে চলে...
একটি স্মৃতিময় সফরের দিকে।
গাড়ি চলতে থাকে নিরবতায় ভরে থাকা রাস্তা জুড়ে...
লিসি জানালার পাশে বসে, মুখ তুলে চেয়ে থাকে বাইরের দিকে। বাতাসে চুল উড়ছে, শাড়ির আঁচল জানালার গা ছুঁয়ে এলোমেলো। গাড়ি চলেছে প্রায় দেড় ঘণ্টা—
একসময় বিরক্ত হয়ে ওঠে লিসি।
চারপাশের নীরবতা, গাছপালার মাঝে ঢেকে থাকা রাস্তা যেন তাকে কেমন ঘিরে ধরছে।
সামনের অংশে গাছপালায় ছায়া পড়েছে, জায়গাটা ফাঁকা, কিছুটা রহস্যময় মনে হয়।
লিসি চোখ মেলেই রাখতে পারছে না—কেন জানি কিছুই আর ভালো লাগছে না।
ধীরে ধীরে সিটে শরীর এলিয়ে দেয়, আর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে।

কিরিস তার দিক থেকে নজর সরায় না...
চোখ পড়ে লিসির ঘুমিয়ে পড়া মুখে।
শান্ত নিঃশ্বাস, নরম মুখ, চোখের কোণে লুকোনো একটা ক্লান্তির রেখা...
কিন্তু ডিস্টার্ব করে না সে, বরং গাড়ি চালাতে চালাতে গভীর মনোযোগে চলে যায় সামনের দিকে আর গাড়িতে হালকা সাউন্ডে বাজতে থাকে —তেরি মেরি,,,,

রাস্তার এক পাশে বাজারের শব্দ কানে আসে। সামনে বাজারের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে আছে মার্ক।
কিরিসের ফোনে কল আসে—

মার্ক: “বস, আমি সামনে আছি... রাস্তার শেষ মাথায়।”
কিরিস: “হুম, ওখানে দাঁড়াও। আমি আসছি।”

গাড়ি বাজার ঘুরে সামনে একটা অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি জায়গায় দাঁড়ায়।
কোলাহলের শব্দ একটু দূরে, গাছের ছায়ায় ঢাকা জায়গাটা তুলনামূলক শান্ত।

গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে মার্ক, হাতে একগাদা ফাইল।
কিরিস আসতেই এগিয়ে আসে সে।

মার্ক: “বস, এখানে সমস্ত ইনফরমেশন আছে যেটার বিষয়ে আপনি বলেছিলেন।”
কিরিস: (গাড়ির স্টিয়ারিং এ হাত রেখে) “কতজন হয়েছে?”
মার্ক: “৫১১ জনের মতো, যারা লিসি ম্যামের সমবয়সী কিংবা একটু বড়।”
কিরিস: “নাম আর পুরো হিস্টরি বলো। একটা কাজ করো—তুমি গাড়িতে ওঠো, তুমি বলতে থাকো, আমি ড্রাইভ করছি।”

মার্ক একটু থতমত খায়...
ল্যাম্বরগিনিতে তো মাত্র দুটো সিট... তাহলে সে কোথায় বসবে?

কিরিস হালকা হেসে নিজের সিট বেল খুলে লিসির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
আলতো করে লিসির সিটবেল খুলে নেয়, তারপর বাচ্চাদের মতো তাকে নিজের দিকে টেনে আনে।
ঘুমের ঘোরে থাকা লিসি কিছুই বুঝতে পারে না।

একদম স্নেহে ভরা অথচ নিজের অধিকারবোধে টইটম্বুর ভঙ্গিতে কিরিস লিসিকে নিজের কোলে বসিয়ে নেয়।
তারপর একহাত দিয়ে লিসিকে বুকের মধ্যে আগলে ধরে।
নিশো ঘুমন্ত লিসি নিজের মতো করে নড়েচড়ে বসে, হাতপা ছড়িয়ে দেয়, আর কিরিসের গলা জড়িয়ে ধরে নিদ্রায় ফিরে যায়।

মার্ক হেসে ফেলে, কিন্তু হাসিটা গিলে নেয়।
এই দৃশ্যটা তার কাছে অদ্ভুত আর অসাধারণ—
কিরিস, সেই রাগী বস, এমন করে কাউকে আদর করছে!

কিরিস এবার নিজের সিটবেল দিয়ে লিসিকে নিজের সাথেই আটকে নেয়, যেন কোনো ঝাঁকুনিতেও সে নড়ে না।
শাড়ির আঁচল, জুতো—সবকিছু খুব যত্ন করে গুছিয়ে দেয়।

কিরিস: “এবার বসো, আর বলো...”

মার্ক দরজা খুলে উঠে বসে।
তারপর একে একে বলতে থাকে সবকিছু—
প্রত্যেকের নাম, ঠিকানা, অতীত, বর্তমান, সব হিস্ট্রি।
কিরিস পুরো মনোযোগ দিয়ে শুনছে, চোখ রাস্তায়, কিন্তু মাথার ভিতর চলছে বিশ্লেষণ।

এভাবে দেড় ঘণ্টা কেটে যায়।

একসময় দূরে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে দেখা যায়।
কিরিস গাড়ির গতি কমায়, মার্ক গাড়ি থেকে নেমে পড়ে।

গাড়ি আবার এগিয়ে চলে...

লিসি এখনও তার বুকে, ঘুমন্ত অবস্থায়, মুখটা কিরিসের বুকে ঠেসে।

তার বুকের ভেতরে আজ অন্যরকম কিছু খেলে যাচ্ছে—
নিজের অস্তিত্বে যেন কেউ স্থায়ী হয়ে বসে গেছে
গাড়ি এগিয়ে চলেছে...
লিসি এখনো কিরিসের বুক জুড়ে ঘুমিয়ে...
তার মুখটা কিরিসের বুকের উপর, নিঃশ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছে বুকে, ঠোঁটের কোমল পরশ টের পাওয়া যাচ্ছে ওর নিজের ত্বকে।

ড্রাইভ করতে করতে কিরিসের চোখ বারবার চলে যাচ্ছে লিসির দিকে।
একটা প্রশান্তি, একটা গভীর শান্ত অনুভূতি বুকজুড়ে।
আলতো করে একহাত দিয়ে ওর মাথায় হাত রাখে, খুব সাবধানে যেন লিসির ঘুম না ভেঙে যায়।

গাড়ির মধ্যে হালকা জ্যাজ মিউজিক বাজছে...
তার মাঝেই ভেতরের সেই চিরচেনা কিরিস—
অন্তরমুখী, রাগী, ঠান্ডা স্বভাবের সেই মানুষটা আজ অন্যরকম।
গাড়ির ভেতর — লিসি ঘুমিয়ে, কিরিস গাড়ি চালাচ্ছে, বাইরের রাস্তা নিস্তব্ধ। কিরিসের চোখ রাস্তায়, কিন্তু মন পুরোপুরি ওর বুকের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটার দিকে...

কিরিস ,মৃদু স্বরে, যেন শুনতে না পায়, এক নিঃশ্বাসে বলে ভালোবাসার একান্ত স্বীকারোক্তি,
*"তুমি এখন আমার বুকে শুয়ে আছো,
এখন বুঝছি—শান্তি জিনিসটা আসলে কেমন
তোমায় কাছে পেলেই সব ভয় চলে যায়,
আর তোমায় হারানোর ভাবনাতেই আমি অমানুষ হয়ে উঠি... কি অদ্ভুত,
তোমার ঘুমন্ত মুখটা দেখলেই
আমার ভেতরের যুদ্ধগুলো থেমে যায়…
বুকের মধ্যে আটকে রাখি, যেন কোনো বাতাসও তোমায় ছুঁতে না পারে কারণ আমি ওই বাতাস কেউ ঘেন্না করি কারণ ও তোমাকে ছোঁতে পারে সব সময় ।
তুমি এই বুকে আছো মানেই,
বাকি দুনিয়াকে আমার দরকার নেই…"*

তারপর চোখ মেলে আবার রাস্তায় তাকায়...
চোখের কোণে আবছা এক কোমলতা খেলে যায়।
কিরিসের হাতটা ওর কোমরে আগলে থাকে
লিসির মাথা ওর কাঁধে এসে আরও একটু হেলে পড়ে।
তবে এবারও লিসি ঘুমেই থাকে...
শুধু ঠোঁটের কোণায় একটা প্রশান্ত হাসি খেলে যায়—
হয়তো স্বপ্নে অনুভব করছে, সে নিরাপদ... এক বুক যত্নে।

গাড়ি সামনের দিকে এগিয়ে চলে...
পেছনে পড়ে থাকে বাজার, কোলাহল, আর সমস্ত পৃথিবী।
কিরিসের এই চলন্ত রাজ্যজুড়ে এখন শুধু একজন—
লিসি।

গাড়ি তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চারপাশে হালকা আলো-আঁধারির খেলা। লিসি ঘুমিয়ে, নিঃশ্বাসের শব্দটাও কিরিসের কানে যেন এক ধরনের সঙ্গীত। তাই আর আস্তে চালানোর প্রয়োজন বোধ করে না সে। গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেয় — রাস্তা গর্জে ওঠে ল্যাম্বরগিনির তীব্র গতিতে।

আর মাত্র এক ঘণ্টা পর…
কিরিস এসে দাঁড়ায় বিয়ের ভেন্যুর সামনে।

সামনে বরের গাড়িগুলো সার বেঁধে দাঁড়িয়ে, কেউ একজন সিগারেট ধরাচ্ছে, কেউ সেলফি তুলছে, কেউ আবার কথা বলছে জোরে জোরে — একদম বিয়েবাড়ির কোলাহল যেন।

কিরিস তার গাড়িটা একটু পিছনে দাঁড় করায়, চোখ রাখে সামনে... তারপর গাড়ির স্টিয়ারিং থেকে হাত সরিয়ে, আলতো করে লিসির কাঁধে হাত রাখে।

atOptions = { 'key' : '54d433499ef19c2030f8c474cd701f4a', 'format' : 'iframe', 'height' : 90, 'width' : 728, 'params' : {} }; tml-br" style="background-color: white; color: #080809; font-family: "Segoe UI Historic", "Segoe UI", Helvetica, Arial, sans-serif; font-size: 15px;" />– "লিসি… লিসি… আমরা চলে এসেছি, ওঠো।"

লিসির কোনো সাড়া নেই।
কিরিস আরও দু-তিনবার ডাকে।

তখনি লিসি একটু নড়েচড়ে উঠে, চোখ খোলার আগেই সে মাথা তোলে — আর আচমকা তার নরম, উষ্ণ ঠোঁট ছুঁয়ে যায় কিরিসের কন্ঠনলীর কাছে। মুহূর্তেই কিরিস কেঁপে ওঠে, শরীরটা শক্ত হয়ে যায়, ঠোঁটে জড়িয়ে পড়ে শুষ্কতা।